ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৩৯
অবন্তিকা_তৃপ্তি
পরদিন সকাল ৮:২০, কাব্যদের ফ্ল্যাট!
কুহু শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়েছে। ভার্সিটিতে যাওয়া লাগবে আজ। আজ শেষদিন, তারপর পুজোর বন্ধ দিবে। কুহু বেরিয়ে আসতেই কাব্য ড্রয়ার থেকে একটা খাম এনে কুহুর হাতে ধরিয়ে দিল। কুহু খাম হাতে নিয়ে তাকালো কাব্যের দিকে। কাব্য ওর দৃষ্টি বুঝে জবাব দিল———-‘খুলে দেখ। বাকিটা গোসল করে এসে এক্সপ্লেইন করছি।’
বলে কাব্য বাথরুমে ঢুকে গেল। কুহু ভ্রু কুচকে এবার খামটার দিকে তাকালো। তারপর টাওয়াল একপাশে রেখে খাম খোলা শুরু করল। খাম থেকে বেরিয়ে এলো একটা সুন্দর নোট, আর দুটো বিমানের টিকিট।
কুহু বিমানের টিকেটটা দেখলো, ঢাকা টু সিলেট ফ্লাইট! আজকের রাতের সময় দেখাচ্ছে টিকিটে, রাত ১০টা !
কুহু তখনও কিছুই বুঝেনি। ও সেভাবেই টিকিট রেখে নোট খুলে দেখলো। সেখানে গুটিগুটি অক্ষরে লেখা——
—ভাইয়া ও ভাবি. . .
হানিমুন টিকেট তোমাদের জন্যে!
এনজয় ইউর হানিমুন পিরিয়ড!
From,
Snigdho…
Extra: ভাবি, প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড। এটা আম্মুর আইডিয়া, আমার নিজস্ব না। তবে আমি হ্যাপি.. এনজয়!
নোটটাকে শেষঅব্দি পড়ার পর, বেচারি কুহু হা হয়ে গেল একদম, ফ্যালফ্যাল করে টিকেটদুটোর দিকে চেয়ে আবার চিঠির দিকে তাকালো। এটা. .হানিমুন টিকেট? লজ্জায় এবং অস্বস্থিতে কাঠ হয়ে এলো কুহুর সর্বাঙ্গ।
পরপর নিজেকে সামলে নিয়ে, কঠিন মুখে টিকিটদুটো আগের মতো খামের ভেতর ঢুকিয়ে টেবিলের উপর ময়লা ফেলার মতো ছুড়ে ফেলল। আরাম করে এরপর স্নিগ্ধের চিঠি নিয়ে বিছানার উপর বসে অপেক্ষা করতে লাগল কাব্যের আসার।
কুহুর সন্দেহ হচ্ছে, এ হানিমুন নামক নাটকটার পেছনে নিশ্চয়ই কাব্য ভাইয়েরই হাত। সারাক্ষণ বড়মার ভদ্র সেজে থাকা পুত্র যে ঠিক কয়টা অসভ্য; এবং ধুরন্দর সেটা তো আর কেউ না জানুক; কুহু জানে। নিশ্চয়ই কিছু একটা পাকাচ্ছেন আবার, আসুক গোসল সেরে- চেপে ধরে জিজ্ঞেস করবে।
দেখা গেল কাব্য বেশ দেরি করে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো চুল ঝাড়তে ঝাড়তে। কুহুকে বিছানার উপর বসা দেখে হঠাৎ হাসলো, কুহু তখন নখ কামড়ে ধরে ভাবছে কিচভু— দেখিওনি কাব্য বেড়িয়েছে। কাব্য মৃদু হেসে মাথা দুদিকে ঝাড়া দিয়ে চুল এলোমেলো করে ফেলল; তারপর ধীর পায়ে উদোম শরীরে, স্রেফ টাওয়াল কোমরে বেধে রেখে এগিয়ে এসে কুহুর মুখের দিকে ঝুঁকে এলো।
কুহু ভাবছিল; কাব্য ওর নাকে আলতো করে আঙুল দিয়ে টোকা দিতেই কুহু সম্বিত ফিরে পেয়ে চকিতে তাকালো সামনে। সাথেসাথেই কাব্যের নাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে গেল, ফ্যালফ্যাল চোখে কাব্যের দিকে তাকাতেই, কাব্য মাথা নিচু করে ঝাঁকিয়ে চুলের পানির ঝাড়লো সোজা কুহুর মুখের উপর।
শীতের ঋতুতে, কাব্যের ভেজা চুলের ঠান্ডা পানির ঝটকা এসে চোখেমুখে ছিটিয়ে পড়তেই কুহু শিউরে উঠে চোখ খিছলো——-‘কি হচ্ছে কি এসব? ভিজে যাচ্ছি আমি।’
কাব্য শুনে, মজা নিয়ে আবারও মাথা ঝাকিয়ে পানির ঝটকা কুহুর উপর ছিটিয়ে দিতে দিতে হেসে উঠলো। কুহু তাকিয়ে দেখলো হাসিটুকু। কাব্যও আর জ্বালালো না মেয়েটাকে, কুহুর নাকের উপর আলতো করে আঙুল দিয়ে টোকা দিয়ে বললো——‘নাক রেড হয়ে আছে।’
বলে আবার মৃদু হেসে কুহুকে ছেড়ে আয়নার দিকে চলে গেল, উল্টোপাল্টা বলল না কিছুই। ওদিকে কুহু সাথেসাথেই নাক হাত দিয়েছে—- লাল? নাক লাক হবে কেন?
কাব্যের দিকে আয়নায় তাকাতেই, কাব্য ভ্রু উচালো। থতমত খেয়ে গেল তাতে কুহু, ভুলে গেল একটু আগের করা কাব্যের অত্যন্ত ছোট একটা সুন্দর স্বামী-স্ত্রী ধরনের রোমান্টিক আচরণ।
আয়নার সামনে দাড়িয়ে কাব্য, কুহু এবার যন্ত্রের ন্যায় বলল——-‘টিকিটদুটো কিসের, জানেন?’
কাব্য আলমারির দিকে এগুতে এগুতে যেন কিছুই জানে না, ওভাবে অবুঝ কণ্ঠে বললো——-‘কীসের?’
কুহু থামলো,ভীষন অপ্রস্তুত হচ্ছে বেচারি। কাব্য আলমারি থেকে টিশার্ট খুঁজতে খুঁজতে মগ্ন থেকে আবার জিজ্ঞেস করল——‘হু? বললি না কিসের?’
কুহু আমতা-আমতা কণ্ঠে বলার চেষ্টা করলো——-হা. .হানি—মুন!’‘
বাকিটা বলতেও পারলো না কুহু তার আগেই কাব্য টিশার্ট হাতেই কুহুর দিকে ঘুরে বলে—-‘হা হা হা হানি কি? হানিমুন, ওয়ান ওয়ার্ড; ইজি ওয়ার্ড টু স্পেল।’
কুহু থতমত খেয়ে গেল কাব্যের এমন কথাতে, ইতস্তত করে বললো ——-‘হ্যাঁ, ওই হানিমুন। কথা হচ্ছে, আমি যাচ্ছিনা। বড়মাকে ম্যানেজ করুন আপনি। কিভাবে করবেন আমি জানিনা।’
কাব্য টিশার্ট নিয়ে সেটা গায়ে জড়াতে জড়াতে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো——-‘আই কান্ট, সরি।’
কুহুর খুব গায়ে লাগলো যেন কথাটা, বললো——-‘কান্ট মানে? এটা এই হা হা . .হানিমুনের নাটক করার আগে ভাবলেন না কেন?’
কাব্য আবার শুধরে দিল——‘হচ্ছে না, ভালো করে ট্রাই কর। হানিমুন, honey—moon! আর কান্ট মানে আমি পারব না। আমার বিয়েটা আমি বাইরের কারোর কাছে হাসির পাত্র বানাতে পারব না, আম্মুও সেক্ষেত্রে একজন বাইরের মানুষ আমার কাছে। আই রেসপেক্ট দিস ম্যারেজ, তুই না করলেও।’
বলে কাব্য শান্ত দৃষ্টি কুহুর দিকে ছুড়ে আয়নার সামনে গিয়ে পারফিউম দিল গায়ের উপর। কুহুর মনে হলে কাব্যের দেওয়া পারফিউম ওর নাকে মুখে ঢুকে গেছে— এত বেশি দিয়েছে, খেয়ে ফেললেই তো পারে পুরো ইম্পোর্টেড বোতল।
কুহু বিছানায় বসা এখনো; কাব্যের দিকে ঘুরে বসে বললো———‘আপনি তাহলে এই ড্রামা শুরু করলেন কেন? কে বলেছে হানিমুনের প্ল্যান করতে?’
কাব্য পারফিউমের বোতল টেবিলের উপর রাখতে রাখতে আয়নায় কুহুর দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে জবাবটা সোজাসাপটাই দিল——-‘প্ল্যান? আমি এসব হানিমুনের প্ল্যান করিও নি, চাইওনি এখন। ইনফ্যাক্ট আমাদের সম্পর্ক ঠিক না করা অব্দি আমি এতদূর যেতামই না। এটা আম্মুর আইডিয়া।’
শেষের কথাটা কাব্য ভীষণ ক্যাজুয়ালি বলে চুল ব্যাক ব্রাশ শুরু করলো। কুহু হা হয়ে গেল ওদিকে, ভীষণ ইতস্তত করে বললো——-‘বড়মা. . .এসব ! ছি! এটা কেমন অকওয়ার্ড।’
কাব্য ব্রাশ রেখে দিল এক সাইডে। ফোন হাতে নিয়ে কিছু একটা করতে করতে জবাব দিল———‘কিছু করার নেই।আম্মু বাধ্য হয়েই এসব করেছে। এটা আম্মুর ফল্ট না।’
কাব্য কথা বলতে বলতে নিচের ঠোঁট এর কোনা দাঁতের ফাকে কামড়ে ফোনে জরুরি কিছু ঘাটছিলো। কুহু এবার বলল——‘বড়মাকে সামহাও মানা করা যায়না? বা ইনডাইরেক্ট কোনো ক্যান্সেল প্ল্যান।’
কাব্য ফোনে তখনো ব্যস্ত, বিড়বিড় করল আপন মনে——-‘প্ল্যান. . এসব কাজে ডিরেক্ট প্ল্যানই করার হাসবেন্ড তো আমি এটলিস্ট নই।’
কুহু ভ্রু কুচকে কাব্যের এই বিড়বিড় করে বলা কথা শুনতে চাইলো যেমন। কাব্য হয়তবা সেটা বুঝতে পেরে গেছে, ও সাথেসাথে পরপর কুহুর দিকে ফিরে ভীষণ শান্ত স্বর নিয়ে বললো——-‘আম্মু কষ্ট পাবে কুহু। এন্ড আম্মু আমার বিয়ের ব্যাপারে খুবই সেনসিটিভ, ইউ নো দ্যাট। উল্টাপাল্টা ভেবে বসবে।’
কুহু যে জানে যে— শামিমার আচরণ এমন। আসলেই কাব্য-কুহুর এই বিয়েটা নিয়ে দিনরাত শামিমাকে টেনশন করতে দেখা যায়। এখনো কুহুর কানের কাছে শামিমা রোজ হাদিস শোনান। যেমন:
‘আল্লাহ মেয়েদেরকে কাছে স্বামীর মর্যাদা উঁচু করেছেন।’
‘স্বামী ডাকলে ফিরিয়ে দিলে ফেরেশতারা সারারাত ওই স্ত্রীর গোনাহ লেখেন।’
‘স্বামী রহমত একজন স্ত্রীর জন্যে। স্বামী খুশী থাকলে, আল্লাহ খুস থাকেন।’
কুহু জানেনা— এই হাদিসগুলোর সত্যতা কতটুকু। আজকাল তো ফেসবুকে ইসলামের হাদিসগুলো বদলে ভিন্নভাবে বলা হচ্ছে। তবুও শামিমার এস হাদিস বলার কারণ—- শুধু কাব্য, স্নিগ্ধ স্রেফ আদরের হলে কাব্য— যে কিনা শামিমার কলিজা!
কুহু তাই এতসব ভেবে মিইয়ে গিয়ে নিচু স্বরে বলল——‘আমি এখন কি করতে পারি ? আমাদের সম্পর্ক ওমন নয় আপনি জানেন। আমি এসবে যেতে পারব না।’
কাব্য এগিয়ে এলো, ফোনটা লক করে টেবিলের উপর রাখতে রাখতে বলল—-‘এটা কেন ভাবছিস— আমরা স্বামী স্ত্রী হয়ে যাচ্ছি সিলেট? ঘুরার জন্যেও তো যেতে পারি। সিলেট তো তোর যাওয়া হয়নি; ওখানে দারুণ জায়গা আছে দেখবার।’
কুহু বাকা চোখে তাকালো——-‘তবুও আমি. . আমি যাচ্ছিনা।’
কাব্য এবার ভ্রু বাকালো——‘কেন? ভরসা নেই নিজের উপরে?’
কুহু থতমত খেয়ে গেল, পরপর কঠিন মুখ বানিয়ে তীরের ন্যায় জবাব ছুড়লো—‘হু? হ্যাঁ, আছে, অবশ্যই আছে। কিন্তু আমার আপনার উপরে ভরসা নেই মূলত।’
কাব্য নিজের স্বভাববসত ডান ভ্রুটা উচালো ——-‘এক বিছানায় শুয়েও ভার্জিন আছিস; আর আমিই কিনা ভরসার যোগ্য না।’
পরপর কাব্য সিলিংয়ের দিকে চেয়ে বড্ড আফসোস করে ডাকল——‘খোদা, এই মেয়েরে কে মাটি দিয়ে বানাইসো?’
পরপর মাথা নামিয়ে কুহুর দিকে তাকালো, কুহু ভ্রু কুচকে কাব্যের দিকে চেয়ে ছিলো। কাব্য এবার এগুলো ধীর পায়ে।
এসে সোজা কুহুর সামনে মেঝেতে হাটুগেরে বসে কুহুর গোলগাল মুখটার দিকে তাকালো—- যে এখন রক্তিম হয়ে আছে। রাগে নাকি লজ্জায় কে জানে! কাব্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো হা করে। পরে কুহুর দিকে মাথা তুলে বলে গেল——-‘আমাদের দুজনেরই টাইম দরকার, রাইট? একসাথে একটা আলাদা পরিবেশে গেলে তোর মন ফ্রেশ হবে। ঊর্মিকে আদৌ পাব কিনা. . জানিনা আমি। মেইবি শুনেছি লন্ডনে ও। আমি তবুও প্রুভ আনার ট্রাই করে যাচ্ছি। কিন্তু কুহু যে বিয়েটা হয়েই গেছে- সেটাকে কেন অস্বীকার করছিস? হু? প্রুভ যদি না আনতে পারি. . তুই আমার বউই থাকবি। হয়তো একসাথে থাকতে থাকতে তোর রাগও একদিন ঠান্ডা হবে। তবুও কেন তাহলে আমি প্রুভ খুঁজছি? রিজন- তোর মনের সংশয়টা যেন একেবারে চলে যায়। প্রুভ না দিলেও, উই আর স্টিল হাজবেন্ড-ওয়াইফ কুহু। আই থিঙ্ক তুই এটা মানিস। হানিমুন মানেই যে ওসব স্বামী স্ত্রী টাইপ সম্পর্ক হতেই হবে— এটা কোথাও লেখা নেই। আমরা দুজন কিভাবে ওই টাইমটা ইউটিলিয়াজ করছি— ওনলি ইট ম্যাটারস। রাইট?’
কুহু তাকিয়ে রইলো কাব্যের দিকে।
কাব্য কথা বলার সময়— এতক্ষণ ভীষণ মনোযোগী বক্তার মতো কুহুর সামনে বলে গেছে। কপালে দুটো ভাঁজ, ঠোঁট নড়ছে কথা বলার ফাকে।
হঠাৎ করেই; একদম আচমকা স্বামী কাব্যের ভেজা-স্নিগ্ধ মুখটুকু স্ত্রী কুহুকে টানছে ভীষণ। ব্রাশ করার পরেও ভেজা চুল কয়েকটা কপালের উপর ছড়িয়ে আছে,স্ত্রী কুহুর ইচ্ছে করছে হাত বাড়িয়ে স্বামী কাব্যের অবাধ্য চুল সরিয়ে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে। হয়তবা কুহু অন্যমনস্ক হয়েছিলো, বা কুহুর মনে হঠাৎ, ইচ্ছের বিরুদ্ধে পুরনো প্রেমিকা সত্তা উথলে উঠেছিল কোনোভাবে—- তাই তো কাব্যের চুড়ান্ত ইগোওয়ালি, অভিমানী-জেদী বউটা ওকে অবাক করে দিয়ে নিজের ফিনফিনে চুরি পড়া হাতটা বাড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় কাব্যের কপালের ভেজা চুল সরিয়ে দিলো।
সাথেসাথেই কাব্য থেমে গেল, কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল ওর। একপ্রকার তাজ্জব-আহাম্মক হয়ে কুহুর দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকালো ও। তারপর যখন কুহুর আরেকটা হাত কাব্যের বা গালে চেপে ধরে থামল, কাব্য হতভম্ব নজরে মাথাটা হালকা কাত করে ওই চেপে ধরা হাতটা দেখল।
কাব্যের বুকটা কাপতে শুরু করল আবার— কাব্য খেয়াল করেছে— এটা যতবার কুহু ওর আশেপাশে থাকে— ততবার কাব্য এই বিশ্রী য ন্ত্রণাটা উপলব্ধি করে। ওর এখনো শুরু হয়েছে— হৃদযন্ত্রের লাব- ডাব, তারপর আবার লাব-ডাব, আবার. . আবার লাব— ডাব; আব. . লাব-ডাব।
আস্তে আস্তে কুহুর আরেকটা হাত কাব্যের আরেক গালে এসে যখন থামল, কাব্যের বোধ হলো ওর শ্বাসটাই আটকে আসছে। ও কুহুর দিকে চেয়ে থেকে চুড়ান্ত আশ্লেষে বিড়বিড় করল——‘ক. . কুহু! তুই. . .! এটা. ..’
কুহু শুনেও না, নিজের মধ্যেই নেই কুহু। কি করছে, কেমন করে ছয় মাসের যন্ত্রণা ভুলে কাব্যকে নিজে থেকে ছুয়ে ফেলল- কেউ জিজ্ঞেস করলে উত্তর মিলবে না।
কারণ যে ভালোবেসেছে, সেই বিবেক হারিয়েছে। ভালোবাসার সাথে বিবেকের কোনো লেনদেন নেই।
কাব্য হুডেড বিলাই চোখদুটো কুহুর দুহাতের দিকে একবার চেয়ে দেখে, তাকালো কুহুর মুখের দিকে। কুহু তখন কাব্যের দুই গালে হাত রেখে কাব্যের চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে, পলিক ফেলছে না। আর কাব্যর হুডেড আইজ কুহুর দুই চোখে; নাকে তারপর ঠোঁটে এসে ঠেকেছে। কাব্য এবার নিজেও কুহুর কোমর চেপে ধরে কুহুর সমান হতে একটু উঠে হাঁটু গেড়ে বসলো।
দৃশ্যটা এমন—-
কুহু বিছানায় বসা; কাব্য মেঝেতে হাটুগেরে ওর সামনে বসা। কাব্যের দুই হাত কুহুর কোমরে; কুহুর দুই হাত কাব্যের দুই গালে চেপে ধরা। কুহু ছোট-ছোট শ্বাস ফেলতে ফেলতে ঘোরের মধ্যে কাব্যের ঠোঁটের দিকে এগুচ্ছে। কাব্যও ভুলে গেছে আশপাশ। একটু একটু করে নিজেও কুহুর অধরের দিকে এগুচ্ছিলো। দুজনের স্বাসপ্রশাস যখন চুড়ান্তে, কাব্য তখন আচমকা,হঠাৎ সামান্য উঁচু হয়ে কুহুর দুপাশ ধরে কোমর টেনে এনে. . ওর ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দিল! কুহু সাথেসাথেই, কাব্যের টিশার্ট আঙুলের মুঠোয় খামচে ধরে দুই চোখ খিছে নিলো শক্ত করে, জোরালোভাবে।
চলবে
এই পর্বে যদি আজকের রাতের মধ্যে ৬ হাজার রিয়াক্ট, বা বেশিবেশি গল্প নিয়ে বড় কমেন্ট আসে আপনাদের— তাহলে
আগামীকাল আরেকটা পর্ব দিব কাব্য-কুহুময়।
আবার বলছি— আগামীকাল সকাল সকাল কিন্তু পর্ব ৪০ দিয়ে দিব— শর্ত পূরণ করলে। পেইজের ড্যাশবোর্ডে রেড লাইট জ্ব লে গেছে, ফার্স্ট নিড টু ফিক্স দিস।
রেগুলার দিব এখন থেকে, যদি আপনারা শর্ত পূরণ করতে পারেন আজকের।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, ডেনিম জ্যাকেট
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৬
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৭