ডেনিম_জ্যাকেট —- পর্ব ৩৬
অবন্তিকা_তৃপ্তি
~ ১৮+ এলার্ট~
কাব্য একটানে কুহুকে উঠিয়ে ফেলল। আচমকা আক্রমণে তাল সামলাতে না পেরে কুহু ঠিক আছড়ে পড়ল কাব্যের বুকের উপর। দু’হাত ঠেকল কাব্যের বুকের দু’পাশে। কাব্য কুহুকে একহাতে জড়িয়ে, অন্যহাতে ওর ওড়নাটা গলা থেকে টেনে আলগোছে ফেলে দিল মেঝেতে।
কুহু হতবম্ব হয়ে মুখ ঘুরিয়ে একবার দেখলো মেঝেতে অবহেলায় পরে থাকা ওর শরীরের ওড়না, পরপর মুখ ঘুরিয়ে কাব্যের দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো। কুহু এইমুহূর্তে কাব্যের হুডেড চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, কুহুর দু’ শীর্ণকায় হাত তখন কাব্যের বুকে দুপাশে ঠেসে রেখেছে, ওর হাতের সোনার ভারি চুড়ি রিনঝিনি শব্দ তুলছে তখনও।
কিন্তু. . কিন্তু কাব্যের বুক লাফাচ্ছে হঠাৎ, আবারও সেদিনের মতো। কাব্য একবার নিজের বুকের মধ্যে ঠেসে রাখা কুহুর মসৃন, মখমলে হাতটার দিকে তাকাল, পরপর মাথা তুলে তাকালো কুহুর কুঁচকানো চোখের দিকে।
চোখ তো নয়, যেন কাতিলানা! কাব্যের বুকের ধারকান বেড়ে গিয়ে চুড়ান্তে উঠল, ওয়ান থার্টি ওভার নাইনটি মিলিমিটার অফ মার্কারি! কুহুও শুনতে পায় সে হার্টবিটের শব্দ; লাভ-ডাভ!
কুহু তাকালো কাব্যের বুকের বা পাশে, পরপর অস্বস্তিতে আস্তে করে ওপাশ থেকে হাতটা সরিয়ে নিতে চাইলে— কাব্য খোপ করে ওর হাতটা চেপে ধরে বুকের সাথে আরও শক্ত করে মিশিয়ে নিলো, কুহু চমকে তাকালো কাব্যের হুডেড নেশালো চোখের দিকে।
কাব্য মাথা দুদিকে ধীরে নাড়ালো, অর্থাৎ হাতটা যেন না সরায় কুহু!
কাব্যের এ ধরণের এক্সপ্রেশনে কুহুর হরমোন হঠাৎ বেহায়া হয়ে ছুটেছে উর্ধ্বে! কুহুর বুকের ধারকান বেড়ে চুড়ান্তে তখন!
কাব্য সেভাবেই কুহুর চোখে চোখ রেখে আলগোছে ধীর হাতে কুহুর পরনের আনারকালি জামায় হাত রাখলো; সঙ্গেসঙ্গে কুহুর চোখ খিছে উঠে সাথেই কাব্যের হাত খোপ করে চেপে আটকে দিল।
কাব্য থেমে গেল সাথেসাথেই, কুহু চোখ খুলে তাকালো। ঠোঁট কাঁপছে ওর! এ ধরনের ঘনিষ্টতা ও চায়না, একদমই না।
কিন্তু কুহুর হরমোন, ওর আবেগ— সেসব কুহুর বাধা মানতে এত নারাজ। কাব্য একটুখানি কাছে এলেই কুহুর মাথা আউলে যাচ্ছে বারবার, রাগ ধরে রাখা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।
কাব্য কুহুর দিকে ভ্রু উঁচিয়ে কিছু একটা ইশারা করতেই কুহু নিজেকে সামলে, কম্পিত কণ্ঠে নিজেকে রুড দেখাবার ভান করে থমথমে কণ্ঠে বলতে শুরু করে— ‘এভ. . এভাবে না! আমি দু’কাপড় পরে আস. . আসছি বাথরুম থেকে।’
কাব্য সেভাবেই ডিপ ভয়েজে হিসহিসালো——‘হু? দু কাপড় আমিও পড়াতে পারি, ইফ ইউ ওয়ান্ট! হু?’
শেষের কথাটা কুহুর কানের কাছে ফিসফিসালো কাব্য। এ যাত্রায় কুহুর বোধ হলো— ওর শ্বাস আটকে মরেই যাবে, গায়ের সমস্ত লোম দাড়িয়ে গেছে রীতিমত!
কাব্য হঠাৎ কুহুর এসব থরথর করে কাপুনির মধ্যে আচমকা চোখ বুজে কুহুর ডান কানের লতি কামড়ে ধরল দাঁতের ফাকে, সাথেসাথেই কুহু চমকে উঠে আচমকা গায়ের জোরে ধাক্কা দিয়ে বসলো কাব্যকে।
কাব্য পিছিয়ে গেল দু কদম; স্লিপারের সাথে মেঝের ঘর্ষণে শব্দ তুলল। পিছিয়ে যেতে যেতে কাব্য হাসলো; দুষ্টু-অশ্লীল হাসি সেটা। যা দেখামাত্রই কুহুর মেজাজ খারাপ হলো, আঙুল উঁচিয়ে শাসিয়ে উঠে বললো——-‘দূরে. . দূরে হ্যাঁ? লুচ্চামি আমার সাথে না, ওকে? ডিল কি ছিলো, ভুলে গেছেন?’
কাব্য ডিলের কথা মাথায় আসতেই চোখ উল্টে হতাশ শ্বাস ছাড়লো, মাথাটা নেড়ে স্বীকার করার চেষ্টা করে বলল——‘ব্রেইন এখনো শার্প আছে আমার, ভুলিনি-‘
কুহু পৈশাচিক শান্তি পেল; মাথা নেড়ে বলল—-‘গুড! এখন আমি যাব বাথরুম থেকে দু কাপড় পরে আসব। আর আপনি. . শুনছেন? রুমের সবগুলো লাইট নিভিয়ে,পর্দা আটকে চোখে ওড়না দিয়ে বন্ধ করে চুপ করে দাড়িয়ে থাকবেন। শাড়ি পড়াতে বলেছি, আমার ফায়দা তুলতে না, বোঝা গেছে?’
কুহুর কথার মাঝখানে হঠাৎ বাইরে থেকে গানের শব্দ এলো;
~~‘Darta jaha humse
hum tohse darte hain’~~
পারফেক্ট টাইমিং এ. পারফেক্ট গান! স্নিগ্ধকে একটা মাইর দিতে হবে, অসময়ে এসব ফাজলামি গান প্লে করার জন্যে।
‘শুনেছেন আপনি?’ — কুহু আবার জিজ্ঞেস করল!
কাব্য তড়িৎ তাকাল কুহুর দিকে; পরপর মাথাটা নিচু করে আলগোছে নারিয়ে বললো——‘বয়রা না আমি; সবটাই শুনেছি।’
‘বেটার!’’—– কুহু মাথা নেড়ে কাব্যের দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে দু কাপড় বের করে বাথরুমে চলে গেল।
কুহু ওয়াশরুমে যেতেই কাব্য কিরমির করে উঠলো রাগে, ঘরে বন্ধ দরজার ভেতর বউকে ছুতে পারছে না কোনো এক ফালতু কারণে— অথচ ও যেখানে নির্দোষ!
খোদা কোন মুসিবতে ওকে ফেলে দিলেন— অবশ্য এই মসিবত কাব্যের নিজের তৈরি করা; তাই কাউকে ইচ্ছেমতো দোষারোপ অব্দি করতে পারছে না।
যাই হোক! ভদ্র-সুপুরুষ নায়ক শাহরিয়ার সিদ্দিক কাব্য নিজের ঘাড়ত্যাড়া হাঁটুর বয়সী স্ত্রীর কথামত সবটা কাজ করে রাখলেন। বাতি নেভানোর পর রুমটা এখন কেন যেন ভৌতিক দেখাচ্ছে ভীষণ। কাব্য একবার পুরো রুমে চোখ বুলালো।
রুম দেখতে দেখতে হঠাৎ মনে পড়ে গেল— একটু আগের দৃশ্য! কুহুর কানের লতিতে ওর ঠোঁট ছুয়ে ছিলো, কাব্য সেটা মনে করতেই হঠাৎ কপালে পাশে আঙুল চেপে মাথাটা নিচু করে নিশব্দে হেসে ফেললো, জোস ফিলিংস ছিলো সেটা।
পরপর নিজের সামলে; কাব্য ও কুহুর মেঝেতে পড়ে থাকা ওড়না চোখে লাগানোর জন্যে উঠাতেও হঠাৎ কি মনে করে— কাব্য ওড়নাটা ছুড়ে ফেললো অন্যপাশে। ওড়নাটা কাবার্ড এর সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়লো। কাব্য মৃদু হাসলো; রহস্য হেসে কুহুরই আরেকটা শিফনের ওড়না বেঁধে নিল চোখে। এই শিফনের ওড়নাতে বাইরের রোদের আলোতে ঝাপসা দেখা যাচ্ছে সবটা।
ভদ্র-সভ্য উপন্যাসের নায়ক কাব্য এবার হাসলেন, নিতান্তই এক দুষ্টু হাসি।
কুহু অনেকক্ষণ পর বেরুলো বাথরুম থেকে, সাবধান থাকতে গায়ে একটা বড়সড় শাল জড়িয়ে বেরিয়েছে। বাথরুম থেকে বেরুতেই কাব্যের চোখ ওরনায় বাধা দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলো, তাড়াহুড়োতে আর খেয়াল নেই— কাব্যের বদলে ফেলা অন্য ওড়নার দিকে।
কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে কাব্যের সামনে দাঁড়াতেই; কাব্য অন্ধের মতো হাত বাড়িয়ে ওকে ছুঁলো— আসলে অভিনয় বলা চলে।
কুহু একবার কাব্যের চোখের সামনে হাত বাড়িয়ে বলল—-‘কয়টা আঙুল বলেন?’
কাব্য বড়ই বেচারার ন্যায় জবাব দিল—-‘দুটো।’
অথচ কাব্য স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে— পাঁচটা আঙুল। কুহুকে অবশ্য সেটাতেই বড্ড আশ্বস্ত হতে দেখা গেল— মেয়েটা বড়ই বোকা কিনা।
কাব্য এবার আরেকটু বেচারার মতো নিজেকে প্রকাশ করে সোজা হাত বাড়িয়ে কুহুর শরীর থেকে শাল ফেলে দিল। কুহুর বুকটা একবার কাপলো কেন যেন। নিজের দু-কাপড়ে মোড়ানো দেহের দিকে চেয়ে মাথা তুলে কাব্যের ওড়নায় বেঁধে রাখা চোখের দিকে তাকালো— বুকটা ঢিপঢিপ করছে কেন এমন?
কাব্য আগেপিছে কোথায় না ছুয়ে সোজা কুহুর কোমরে হাত রাখতেই; আচমকা কুহু লাফিয়ে উঠলো; কাব্যও সাথেসাথেই হাত সরিয়ে নিলো—-‘কি হলো?’
কুহু ঢোক গিললো, কাব্যের দিকে চেয়ে ইতস্তত হয়ে বলল—— ‘কী কী… এভাবে ছুবেন না, খবরদার!’
কাব্য ভ্রু কুচকালো, ওড়নার আড়ালেই কুহু হয়তবা সেটা বুঝলো। কাব্য বিরক্ত হয়ে বলল—— ‘শাড়ি পরলে ছুঁতে হবে, নো অপশন।’
কুহু ইতস্তত হয়ে জবাব দিল—— ‘ন. . না! না ছুঁয়ে ভদ্রভাবে শাড়ি পরাবেন।’
‘ওকে!’ —- কাব্য বাধ্য হয়েই মাথা নাড়ল।
ধীর পায়ে কুহু আবার এগিয়ে এলো। কাব্য শাড়ি পরানো শুরু করল। কুহুর কোমরে-গায়ে-বাহুতে কাব্যের হাত স্পর্শ করছে, অথচ কুহু কিছুই বলতে পারছে না, দাঁতে দাঁত চেপে- শাড়ি পড়ালে এসব হয়, বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে দাড়িয়ে থাকছে। বেচারি বুঝেওনি— উপন্যাসের সুপুরুষ নায়ক, যে কিনা এখন একজন অশ্লীল-দুষ্টু স্বামী, তার পক্ষে ভদ্রভাবে শাড়ি পড়ানো অসম্ভব ব্যাপার।
শাড়ি পরানোর ফাঁকে কাব্য এবার আঁচল টেনে দিল কুহুর বুকের উপর, আঁচল কাঁধে ফেলার সময় কাব্য হঠাৎ কুহুর কানের লতিতে চুমু খেলো, পরপর সাথেসাথেই সরে গেল অবশ্য। কিন্তু এবার কুহু খ্যাকিয়ে উঠল——‘কাব্য ভাই.. অতিরিক্ত হচ্ছে কিন্তু এইবার।’
‘কাব্য. . ভা-ই-ই?’ —কাব্য ভ্রু বাকালো।
কুহু থতমত খেয়ে গেল, নিজের শুধরে সাথেসাথে বললো—-‘সেই যাই হোক, বেশি হচ্ছে কিন্তু। আপনার আচরণ আমার কাছে সুবিধার লাগছে না। কানে চুমু খাওয়ার সাথে শাড়ি পড়ানোর কি সম্পর্ক?’
কাব্য অবাক হওয়ার চেষ্টা করল——‘চুমু? আমি আবার কখন চুমু খেলাম? তুই কি দাড়িয়ে দাড়িয়ে ডে ড্রিম করছিস? তাও আবার আমাকে নিয়ে এসব অশ্লীল ড্রিম?আস্তাগফিরুল্লাহ!’
কুহু বোকা হয়ে গেল, বললো—-‘মানে এখন. . আপনি—!’
কুহুকে পুরো কথা বলতে না দিয়ে কাব্য ওকে থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে আদেশ ছুড়লো——‘শুসস! কনসেনট্রেট!’
কুহুর বুলি থেমে গেলো। কুহু কি করবে? ও কি সত্যিই স্বপ্ন দেখেছিল? ইয়াক! এসব আবার কেমন স্বপ্ন!
কুহু বোকার মতো ভাবতে থাকলো। কুহু বারবার দূরে সরে যাচ্ছিল, কাব্য ওকে এবার হঠাৎ কোমর ধরে টেনে নিজের সামনে আনল— এ যাত্রায় চমকে উঠলো যেন কুহু। কাব্য শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে হালকা হেসে হঠাৎ করে বিড়বিড় করে একটা কথা ছুঁড়লো—-‘উমম. .কোমরের খাঁজটা মারাত্মক গভীর! ইম্প্রেসিভ!’
‘কি বললেন?’— কুহু শুনতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলো ভ্রু কুঁচকে।
‘হু? কিছু না।’ ——কাব্য সাথেসাথেই গম্ভীর মুখে জবাব দিল।
কুহুর সন্দেহ তবুও থেকে গেল যেন। কাব্য ভাই এর মুখের অভিব্যক্তি দেখে মনে তো হচ্ছিলো— খুব অশ্লীল কিছু বলেছেন।
কাব্য নিজের মতো এবার আস্তে করে কুহুকে শাড়ির কুচি ঠিক করে নিলো। শাড়ির কুচি গোঁজার সময় কুহু কি মনে করে তাড়াহুড়ো করে কাব্যের থেকে কুচিগুলো কেড়ে নিয়ে গুঁজে দিল পেটিগোটে। কাব্য ভ্রু উঁচিয়ে কুহুর তাড়াহুড়ো করে করা এই কাজ দেখল আবছা আবছা, পরপর অল্প হাসলো—কুহু বেচারির জন্যে আজকের ডোজ হয়তবা একটু বেশিই হয়ে গেছে। ভয় পেয়ে গেছে বেচারি।
কুহু আঁচল ঠিক করছে, কাব্য পাশে থেকে কৌতুক স্বরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল—— ‘আপনার হাসবেন্ড কি এখন তার চোখের পর্দাটা সরাবে? অনুমতি দিবেন?’
কুহু বাতি জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাড়িয়ে আনমনে শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে জবাব দিল—— ‘হুঁ।’
বলে কাব্য ওড়না খুলে লম্বা করে এক শ্বাস নিয়ে কুহুর দিকে চেয়ে বিতৃষ্ণা নিয়ে বলল——‘আমার নজরের হেফাজত করে অনেক বড় গোনাহের থেকে বাঁচিয়ে দিলি। তোর তো জান্নাতের রাস্তা ক্লিয়ার।’
কাব্যের এমন কথাতে ভ্রু বাকিয়ে তাকালো কুহু; পরপর মুখ ঘুরিয়ে আয়নায় চেয়ে বিরক্ত হয়ে জবাব দিল——‘ডিল মোতাবেক আমি এখনো আপনার বউ নই, মন থেকে অন্তত। তাই নজর এন্ড হাত দুটোই হেফাজতে রাখবেন, হু?’
কাব্য চোখ কুঁচকে কুহুর দিকে তাকিয়ে রইলো; যেন কুহুকে ওর ওই ডিলের সাথেই যদি কাচা খেয়ে ফেলা যেত।
কাব্য এরমধ্যে রেডি হয়ে নিয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকবার কাব্যের দরজায় টোকা পড়েছে; বাকিরা বাইরে অপেক্ষা করছে বর-কনের জন্যে। কাব্য তৈরি হয়ে জুতোও পরে নিয়েছে, কুহু এখনো মুখে মেকআপ দিচ্ছে। কাব্য বেচারা অল্প একটু জায়গা পেয়েছে আয়নার সামনে রেডি হবার জন্যে— পুরো রুমেই এখন বলতে গেলে কুহুরই রাজত্ব।
কাব্য তৈরি হয়ে একবার কুহুর দিকে তাকাল—-‘শেষ তোর?’
কুহু চোখে কাজল লাগাতে লাগাতে জবাব দিল—-‘দশ মিনিট লাগবে।’
‘আমি যাচ্ছি তাহলে, আয় আস্তে আস্তে। তাড়াহুড়ো করে মেকআপ খারাপ করার দরকার নেই, হু।’ —— কাব্য কথাটা বলতে বলতে ঘড়িটাও পরে নিলো।
রুম থেকে বেরিয়ে যাবার আগে কাব্য দরজার সামনে এসে হঠাৎ পেছন ফিরে একবার কুহুর দিকে তাকাল—— ‘কুহু? একটা কথা ছিল।’
কাজল হাতে কুহু পিছনে ফিরে তাকালো! কাব্য কুহুর দিকে চেয়ে, অল্প হাসলো, পরপর কুহুর চোখের দিকে চেয়ে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল—— ‘তোর শরীরের সবগুলো তিল একদম পারফেক্ট জায়গায় আছে, স্পেশালি বাম পাশের কোমরের তিন ইঞ্চি নিচে একটা লাল তিল—! উফ, একদম মারাত্মক!’
কাব্যের শেষের কথাটা ভীষণ অশ্লীল শোনাল কুহুর কানে। কুহু হতবম্ব ভাব কাটিয়ে উঠার আগেই কাব্য ওর ডান চোখটা টিপে কুহুর দিকে দুষ্টু হাসি ছুড়ে বেরিয়ে গেল। ওদিকে কুহু বোকার মতো নিজের কোমরের দিকে চেয়ে আবার কাব্যের যাওয়ার দিকে তাকালো।
——————-
মাছ-কাটা এবং বাকিসব ফটোসেশন করতে করতে রাতটাই পেরিয়ে গেছে, আগত মেহমান যে-যার বাড়ি ফিরে গেছেন। কুহুর আব্বু-আম্মু এসেছিলেন উপহার, মিষ্টি নিয়ে। উনারাও চলে গেছেন। যত হোক- কুহু নিজের শশুরবাড়ি আছে এখন। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা উচিত, অন্তত এ কদিন। সন্ধায় যখন কবিতা এ কথা বলেন—শামিমা তো কবিতার এ ধরনের কথাতে তো হাসতে হাসতে ব্যাকুল,অথচ কবিতা কিনা আজ বিকেলে এসেও চা খেয়ে গল্প-গুজব করে গেছেন।
কাব্যদের ফ্ল্যাটে ড্রইং রুমে সোফায় বসে আছে কাব্য, ওর হাতে মোবাইল, সেটাই ঘাটছে বসেবসে। তার পাশে কুহু কুশন কোলে চেপে সেটায় হাত ঠেসে বসে আছে। স্নিগ্ধ-মহু-মুবিন মেঝেতে গিফট নিয়ে বসেছে। শামিমা রান্নাঘরে আনোয়ার সিদ্দিকের জন্যে চা বানাচ্ছেন;কাব্যের বাবা মাত্রই রুমে গিয়ে চা চেয়েছেন।
কুহু–কাব্য, দুইজনেই আজ প্রচুর গিফট পেয়েছে। স্নিগ্ধ, মহু, মুবিন বসে বসে মেহমানদের আনা গিফট প্যাকেট খোলা শুরু করলো একে একে। কাব্যের পাশে কুহু বসে আগ্রহ নিয়ে গিফটগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ এই গিফটগুলোতে তারও অনেক ভাগ আছে। কাব্যের শশুরবাড়ির গিফট খুলছে স্নিগ্ধ, আর বিবরণ দিচ্ছে কী গিফট দেওয়া হয়েছে।
‘ভাইয়ার জন্যে এটা, আরং-এর পাঞ্জাবি।’
স্নিগ্ধ কাব্যের দিকে পাঞ্জাবিটা মেলে ধরল।
কাব্য ‘হু; দেখেছি,সুন্দর।’ — বলে আবার ফোনে মশগুল হয়ে যাচ্ছে।
‘এটা কুহু—সরি আমাদের ভাবির, মেইবি জামদানি শাড়ি।’ —-স্নিগ্ধ কুহুর দিকে একটা শাড়ি এগিয়ে দিল।
কুহু শাড়িটা ছুয়ে দেখল, আসলেই বেশ সুন্দর নীল রঙের শাড়ি., ওর মুখে উচ্ছাস ফুটে উঠে।
স্নিগ্ধ সবার গিফট খুলে খুলে দেখিয়ে দিল। শেষ একটা গিফট প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে এল আরেকটা আপত্তিকর কাপড়। স্নিগ্ধ সেটা দেখমাত্রই চমকে তাকালো নিজের ভাইয়ের দিকে। কাব্য তখনও ফোনের দিকে ব্যস্ত।
কুহু ফ্যালফ্যাল করে কাপড়টা দেখে পরপর চোরের মতো মুখ লুকিয়ে ফেললো আলগোছে। স্নিগ্ধ আহাম্মক হয়ে পরপর মুখ টিপে হাসল, শুনিয়ে শুনিয়ে বললো——‘ভাইয়ার জন্যে শশুরবাড়ি থেকে আন্ডারওয়্যার পাঠিয়েছে। ব্র্যান্ড এর, এন্ড ভাইয়ের ফেভরেট কালার ব্ল্যাক।’
‘হু, দেখেছি: সুন্দর!’ —- বরাবরের মতো মুখস্ত জবাব আনমনে ফোনে চেয়ে থেকে থেকে বললো কাব্য।
কুহু হা হয়ে সাথেসাথেই তাকালো কাব্যের দিকে। বেচারি এমন নির্লজ্জতা আশা করেনি, ওদিকে স্নিগ্ধও চুড়ান্ত বিস্ময় নিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকালো।
‘এত্ত ভালো লেগেছে? বাহ ভাই।’ —-নিজেকে সামলে কৌতুক করে স্নিগ্ধ কাপড়টা ছুড়ে দিল কাব্যের সোজা মুখের উপর। কাব্যের মুখের উপর সেটা পড়তেই কাব্য বিরক্ত হয়ে সেটা সরিয়ে দিল মুখের উপর থেকে। তারপর জিনিসটা দেখে বিরক্ত-রেগে গিয়ে স্নিগ্ধের দিকে তাকাল।
স্নিগ্ধ এমন একটা ভাব করল যেন সে এসবের কিছুই জানে না———— ‘শশুরবাড়ি থেকে এসব দেওয়া হয় শুনেছিলাম। সো টেইক ইট ইজি ভাই। সাইজ মিলেছে কিনা জানিও; বদলেও দেওয়া হবে। ডোন্ট ওরি।’
বলে স্নিগ্ধ রাক্ষসের মতো হাসতে থাকলো। বেচারা কাব্য ভীষণ অসস্তিতে পরে গেছে সম্ভবত। ও কুহুর দিকে তাকাল আড়চোখে; কুহু মুখ টিপে হেসে ওর দিকেই লুকিয়ে লুকিয়ে তাকিয়ে দেখছে।
বেচারা কাব্য লজ্জায় পরে গেল, কুহুকে লুকিয়ে সাথেসাথেই কাপড়টা কুশন দিয়ে লুকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল——‘আমার ঘুম আসছে: আমি রুমে যাচ্ছি।’
বলেই দেখা গেল ফোন নিয়ে উঠে যাচ্ছে কাব্য। যাবার আগে কাব্য শামিমার কাছে রান্নাঘরে গেল। মায়ের কানের কাছে কি যেন ফিসফিস করল কে জানে। শামিমা কুহুর দিকে চেয়ে হালকা হেসে কাব্যকে কি যেন উত্তর দিলেন; কাব্য মায়ের কপালে হালকা করে চুমু খেয়ে নিজের রুমে চলে গেল।
কুহু পুরোটাই দেখলো সোফায় বসেবসে। কাব্য রুমে যেতেই শামিমা এসে বাচ্চাদের এখনও ড্রইং রুমে পড়ে থাকতে দেখে বকা লাগালেন। বিশেষ করে কুহুর দিকে চেয়ে বললেন——‘কুহু? রুমে যা মা। কাব্য ঘুমিয়ে যাবে। হু? দেখ ওর কি লাগে।’
ও. . তাহলে এই ব্যাপার! এটাই বলা হচ্ছিলো বড়মাকে? কাব্যের শিয়াল বুদ্ধি দেখে কুহুর খুব একটা অবাক হয়তো হলো না। ও কোনো কথা না বলে চুপচাপ কুশন ঠিক করে উঠে গেল কাব্যের রুমের দিকে। কুহু যেতেই ড্রইং রুমে ওদের গল্পের আসর ভেঙে গেল।
কাব্য রুমের সোফাতে বসে তখনো ফোন দেখছে, বেশ মনোযোগ দিয়ে কারোর সাথে চ্যাট করছে। কুহু রুমে এসেছে আধা ঘণ্টা হবে। রুমে এসে বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়েও এসে গেছে— কাব্যের চ্যাটিং এখনো শেষ হচ্ছে না। একপর্যায়ে কুহু আয়নায় চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে গম্ভীর কণ্ঠে বলল——‘ঊর্মি আপু নাকি?’
কাব্য ফোনের থেকে মাথা তুলল, ভ্রু কুচকে— ‘হু?’
‘ঊর্মি… ঊর্মির আপুর সাথে কথা বলছেন?’ — কুহুর ভীষণ স্বাভাবিক স্বর। যেন এগুলো হবারই ছিলো; এতে কুহু যে কিনা এখন কাব্যের স্ত্রী, তার কিচ্ছু আসে-যাবার নয়।
কাব্য কুহুর দিকে কিছুক্ষণ ওভাবেই তাকিয়ে রইল, কুহু আয়নায় তখনো স্বাভাবিক মুখভঙ্গি করে চুল আঁচড়াচ্ছে। কুহুর এমন ফালতু-ফাজলামি প্রশ্নে কাব্য ভীষণ রাগলো ভেতরে ভেতরে, কিন্তু এই রাগ কুহুকে দেখালো না ইচ্ছে করেই। কাকে দেখাবে আর কেনই দেখাবে?
কাব্য কিছুক্ষণ চুপচাপ কুহুর দিকে তাকিয়ে থেকে তারপর উঠে এসে ফোনটা ওভাবেই কুহুর হাতে একপ্রকার জোর করে ধরিয়ে দিয়ে বলল——‘নিজেই চেক করে শিউর হয়ে নে, হু?’
বলে একমুহূর্ত কুহুর সামনে না থেকে সোজা হনহন করে টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। কুহু ফোনটার দিকে ভীষণ বিরক্তি নিয়ে তাকালো এইবার। ধরবে না ধরবে না বলেও ফোনটা হাতে তুলে নিল, নিয়ে কাব্যের সম্পূর্ণ চ্যাটিং হিস্ট্রি দেখল।
কাব্য সোশাল মিডিয়ায় তেমন বন্ধু নেই। কারোর সাথে বিশেষ কথা বলেও না।তানিমের সাথে গতকাল কথা হয়েছে; স্রেফ দুটো মেসেজ পাঠানো হয়েছে তানিমের নম্বরে। আর স্নিগ্ধের সাথে কথা হয়েছে— বাসর ঘরের ডেকোরেশন নিয়ে। গ্যালারি ভর্তি অজস্র বিল্ডিং এর মডেলের চিত্র-ছবি, আর নিজের কয়েকটা ট্রিপ এর গ্রুপ ফটো।
হঠাৎ একটা ছবিতে চোখ আটকে গেল কুহুর। এটা . . এটা তো ও, কুহুই। বাসর রাতে কাব্যের বুকের উপর হা করে ঘুমিয়ে থাকা কুহুর ছবি। ভিডিও একটা সামনে এলো; যেখানে দেখা যাচ্ছে কুহু কোলবালিশ বিছানা থেকে ফেলে নিজে এগিয়ে এসে কাব্যের বুকে ঘুমাচ্ছে, ভিডিওর থেকে কাব্যের মুখ টিপে হাসি শোনা যাচ্ছে।
ভিডিও করতে করতে কাব্য ক্যামেরার পেছনে ফিসফিস করে লো ভয়েজে হেসে হেসে বলছে—-‘কে এলো এখন? হু? কে এলো? উমম! আরে আস্তে, হু. . আমার ঘুম কেড়েছিস তো কি হয়েছে- তুই ঘুমা; শান্তিতে ঘুমা— আমি একটুও মাইন্ড করিনি আমার বুকে ঘুমাচ্ছিস বলে। হু? ঘুমা, উমম!’
লজ্জা পেয়ে গেল কুহু। ভেবেছিল ছবিটা নিয়ে কাব্যের সাথে ঝগড়া করবে, কিন্তু ভিডিও দেখে সেটা আর করা হচ্ছে না। বলারই দরকার নেই— কুহু এই ভিডিও দেখেছে। নাহলে কাব্য যেভাবে নির্লজ্জ আর ধুরন্দর হয়েছে— না জানি কুহুকে কতটা কথা শোনায়। কথা শোনানোর জন্যেই হয়তোবা ভিডিও করেছে, শেয়ানা লোক।
কুহু এবার হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে কাব্যের রিসেন্ট চ্যাট হিস্ট্রি দেখলো। এতক্ষণ ‘Abir’ – নামে কারোর সাথে কথা বলছিল কাব্য। কুহু উপরের মেসেজ দেখল- abir নম্বরে ঊর্মি লেখা মেসেজ শো করতেই ভ্রু কুচকে এলো কুহুর। ও আর সাতপাঁচ না ভেবে মেসেজ অপশনে ঢুকে মেসেজ পড়া শুরু করল।
কাব্য-আবির নামক ছেলের কথার ধরন এমন;
: একটা এড্রেস পাঠাচ্ছি; ওইটায় চেক করে জানা
: ওকে

( 12:30 AM, wednesday)
: গিয়েছিলাম, পাইনাই। যোগাযোগ নেই ওখানের কারোর সাথে।
: fuck!!!
: বুঝতেসি না আমি, তোর বিয়ে হওয়ার পর এখনো তুই ঊর্মিকে কেন খুঁজতেসস? ওরে এখন কি দরকার তোর? পরকীয়া তো করার মতো ছেলে তুই না। তাহলে?
: ব্লান্ডার যা করার বিয়ের আগেই করে ফেলেছি: এখন আমার সংসার ভেসে যাচ্ছে।
: মানে? কুহু ঝামেলা করতেসে নাকি এখনো?
: yeah!
: কেন? ওরে বলিস নাই তুই যে এখন এসব কিছু তোর নেই?
: প্রবলেমটা অন্য জায়গায়। বাদ দে, আরেকটা ফোন নাম্বার দিচ্ছি। ট্রেস করে আপডেট জানা।
: দে।
: 018*9
:দুদিন লাগবে:জানাচ্ছি। আর হ্যাঁ: বাসর রাইতের জন্যে শুভকামনা। যদিও বুঝতেসি না— আজ বিড়াল মারতে পারবি কিনা। তবুও বেস্ট অফ লাক!
- কাব্যের রিপ্লাই নেই।
( 11:25AM , thursday)
: NO UPADATE, নম্বর বন্ধ!
: fuck! খুব চালাক এই সাইকো!
: ওর ডক্টরের সাথে যোগাযোগ করসস?
: yeah, NO UPDATE!
: কই গেল এ? তুই ভাই খুঁজে খুঁজে এসব অতি চালাক প্রবলেমগুলা কই থেকে আনিস।
: leave it… I’m getting mad! damn! I WILL JUST
M-URDER THIS PSYCHO… for sure!
: মাথা ঠান্ডা কর! মা র্ডার করবি কেন? তোর কাছে আরও উপায় আছে, রাইট? রিমেম্বার?
: yeah! but where is SHE?
: আমিও বুঝতেসি না। তুই একবার উনার সাথে দেখা করে আয়।
: NO WAY! pagol tui?
: আরে লাভ আছে। একবার কুহুকে অন্তত এটা ফিল করা যে- তোর সব কথা মিথ্যা না। উনাকে দেখলে, উনার সাথে কথা বললেই কুহু অন্তত একটু হলেও তোকে ভরসা করা স্টার্ট করবে। Try it buddy!
: fine!
: কুহুকে একবার মিট করা আমাদের সাথে। আমাদের সাথে কথা বললে আমরা একটু ম্যানেজ করার ট্রাই করি?
: NOT NOW. . kuhur mood valo na ekhn!
: ভাই কুহু এমন কবে থেকে হয়ে গেল? ও আগে কত সফ্ট ছিলো। তুই দেখ নিজেকে. . তুই কুহুকে একটা কথা বলার আগে ভাবছিস কুহু কি ভাববে, কি রিএকশন দিবে। Thats IMPRESSIVE! 😂
: impressive? daily soap cholche amar life e. dramatic serial life…!
: বউই তো। সমস্যা নাই, মেয়ে মানুষের রাগ ভাঙ্গতে কয়েকদিন এনাফ। তাও বিয়ে করেছিস, বউদের রাগ দ্রুত ভাঙে।
: HELL..yeah!
( 1:05 AM, friday)
এরপরে আর কোনো চ্যাট নেই। ব্যাস, মেসেজ এটুকুই। কুহু পুরো মেসেজ পড়ে কিছুটা থম হয়ে থাকল। তাহলে কাব্য ভাই ঊর্মি আপুকে খুঁজছেন।
চ্যাটে মনে হলো — ঊর্মি আপুর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু — তবুও কাব্য-কুহুর সমস্ত কথা সবার আগে উনি কিভাবে জেনে ফেলত? তারপর কাব্য-ঊর্মি আপুর একসাথে এতগুলো ছবি— এসব? এত এত প্রশ্নে কুহুর মাথাটা ভনভন করতে লাগল।
কাব্য বেরুল বেশ সময় নিয়ে। কুহু ফোনটা তখনো হাতে নিয়ে বসে গভীর চিন্তায় বিভোর। কাব্য কুহুকে এভাবে থম হয়ে বসে থাকতে দেখে, এগিয়ে চুল মুছতে মুছতে বলল——‘সন্দেহ গেছে?’
কুহু সম্বিত ফিরে পেল; আলগোছে ফোনটা রেখে দিল টেবিলের উপর। তারপর কাব্যের দিকে ফিরে স্বাভাবিক স্বরে বলল——‘কালকে কার সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাবেন?’
কাব্য বারান্দায় টাওয়াল মেলে দিয়ে এসে ফোনটা টেবিলের উপর থেকে নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতে দিতে জবাবে দায়সারা ভাবে বলল——‘আছে একজন।’
‘আমি জানতে চাইছি কে সে?’ —— কুহু বিরক্ত হলো; উঠে এসে কাব্যের সামনে এসে দাড়ালো।
‘কালকেরটা কালকে দেখা যাবে।’— কাব্য জবাব দিল।
‘কি রহস্য পাকাচ্ছেন আপনি?ঊর্মি আপু কোথায় আপনি সত্যি জানেন না? নাকি আবার দুজন মিলে নতুন কোনো ফন্দি আটছেন আমার জন্যে? হু?’ —-দেখা গেল কুহু বলতে বলতে আবার উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে।
কাব্য ওর দিকে এবার পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালো।কুহুর চোখ-মুখ মারাত্মক কুঁচকানো। কাব্য বেচারা হতাশ শ্বাস ফেললো এ যাত্রায়। পরপর কুহুর হাতটা টেনে ওকে হঠাৎ বিছানায় ফেলে দিল।
কুহু খ্যাকিয়ে শাসিয়ে উঠবার আগেই কাব্য বাতি নিভিয়ে দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরে ভীষণ শান্ত স্বরে জবাবটা দিল————‘বেচে দিব, এটার ফন্দি আটছিলাম আপনার ঊর্মি আপুর সাথে মিলে, মাথামোটা একটা। স্লিপ নাও, নো মোর বুলশিট থোট. .! আজকের জন্যে মোর দ্যান এনাফ বুলশিট কথা চিন্তা করা হয়েছে: আর না।’
কুহু কিছু বলতে যাবে; কাব্য এবার চোখ রাঙিয়ে শাসিয়ে উঠল——‘হুসস, চোখ বন্ধ বলেছি না?’
চলবে
আজকের পর্বে ৭ হাজার রিঅ্যাকশন আসবে? সবাই কমেন্ট করে যাবেন তো আজ; আমি রিপ্লাই দিব আপনাদের!
পাঠক অস্থির হবেন না। রেগুলার হচ্ছি আমি! এখনের একেকটা ধামাকা পর্বগুলো দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করছি। রেডি টু কল মি এ রোমান্টিক লেখিকা😎
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, ডেনিম জ্যাকেট
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৭
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৯