পর্ব – ৭ (ছেলেরা নিজ দায়িত্বে পড়ুন।🙂)
ডার্কসাইডঅফ_লাভ
দূর্বা_এহসান
“কোনোদিন সুযোগ পেলে আপনার ওই বেয়াদবটাকে কেটে গাছে ঝুলিয়ে রাখবো”
বিড়বিড় করে বলছে তরু। জ্বরে চোখ খুলতে পারছে না। কথা স্পষ্ট না। যেন নিজের সঙ্গেই কথা বলছে। জ্বরের ঘোরে শব্দগুলো একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কথার ভেতরের রাগ স্পষ্ট।
মৃন্ময় তার পাশে বসে কানের কাছে মুখ নিয়ে আছে। মাত্রই ওয়াশরুম থেকে এনে পেইন কিলার খাইয়ে শুয়ে দিয়েছিল তরুকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বর উঠে গেছে। ঠান্ডায় পুরো এক টা রাত পানিতে থাকলে জ্বর আসবে না?তরুর এমন উল্টাপাল্টা কথা শুনে ভ্রু কুচকে যায় মৃন্ময়ের।
তরুর মুখ থেকে আবার অসংলগ্ন কথা বেরোচ্ছে। এই মেয়েটা তো সাধারণত এমন না। সহজ, শান্ত, খুব হিসেব করে কথা বলে। আজ জ্বরের ঘোরে যেন অন্য কেউ কথা বলছে।
মৃন্ময় হালকা করে জিজ্ঞেস করে,
“তাহলে তোমার ভবিষ্যতের কি হবে?”
উত্তর আসে সঙ্গে সঙ্গে। কোনো থামাথামি নেই।
“ভবিষ্যতের মাইরে বাপ।রাম দা চিনেন রাম দা? ওটা দিয়ে কাটতাম।”
ঝট করে সোজা হয়ে বসলো মৃন্ময়।সহজ সরল মেয়ে এসব কি বলছে।পাগল হয়ে গেলো নাকি।
রাম দা!লাইক সিরিয়াসলি। গ্রামের দিকে যেটা দিয়ে গাছ কাটা হয়, বাঁশ চেরা হয়। সেই দার কথা বলছে তরু। শুধু বলছে না, ব্যবহার করার কথাও বলছে।
মৃন্ময় ঢোক গিলে আলগোছে সরে গেলো তরুর থেকে। বাইরে বরুণ অপেক্ষা করছে।বেরোতে হবে তাকে।কিন্তু এই জ্বরে রেখে যায় কিভাবে?
মৃন্ময় কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইল। তরু আবার অঘোরে ঘুমিয়ে পড়েছে। মৃন্ময় বুঝতে পারছে না এই শান্ত মেয়েটার ভেতরে এত জেদ আর রাগ কোথায় লুকিয়ে ছিল।
বাইরে থেকে বরুণের অস্থির গলা শোনা যাচ্ছে, “মৃন্ময়, দেরি হয়ে যাচ্ছে! গাড়ি রেডি।”
মৃন্ময় উঠে গিয়ে দরজার কাছে দাঁড়াল। বরুণকে দেখে ইশারায় চুপ করতে বলে ফিসফিস করে বলল, “তরুর অবস্থা ভালো না। জ্বরের ঘোরে ও উল্টাপাল্টা বকছে। ওকে এই অবস্থায় ফেলে যাওয়া ঠিক হবে না।”
বরুণ ভ্রু কুঁচকে ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল। তারপর নিচু স্বরে বলল, “কিন্তু আমাদের যেতেই হবে। মিটিংটা মিস করলে সব ভেস্তে যাবে। “
মৃন্ময় একবার ফিরে তাকাল তরুর দিকে। তরু তখনো ঘুমের ঘোরে হাত দিয়ে যেন কাউকে আটকানোর চেষ্টা করছে। মৃন্ময় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বরুণকে বলল, “তুই যা, আমি আসছি। তবে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসি। ওর জ্বরের ওষুধের ডোজ বাড়ানো দরকার কি না জানা দরকার।”
সে পকেট থেকে ফোন বের করে ডাক্তারের নম্বর ডায়াল করতে যাবে, ঠিক তখনই তরু ঘুমের ঘোরে আবার বলে উঠল, “পালাতে পারবেন না… পালানোর জায়গা নেই।”
মৃন্ময় কিছু বুঝে উঠার আগেই তরু চোখ খুললো।দুম করে মৃন্ময়কে টেনে নিলো।তাল সামলাতে না পেরে ওর উপরেই পড়লো।
“আপনার সাহস বেড়ে গেছে তাইনা?এক কালে আমার কথায় উঠবস করতেন আর এখন আমাকেই কষ্ট দেন। দাঁত ভেঙে দিবো একদম বেয়াদদ্দপ মানুষ”
চোখ বড় বড় করে তাকালো মৃন্ময়। এ যে দুবছর আগের তরু। যখন নিজের কথায় নাচাতো মৃন্ময়কে।
সম্পর্কের শুরুর দিকে মৃন্ময়কে একদিন দেরিতে এসেছিল তার কাছে।সেজন্য কি নাকানি চুবানি খাইয়েছিল তরু তাকে।
সেদিন ছিল বছরের সবচেয়ে গরম দিন। তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তরুর সাথে লাঞ্চ ডেট ছিল। মৃন্ময় তার দামী রোলস রয়েস নিয়ে বের হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু মাঝপথে হুট করে তার এক বিদেশি ক্লায়েন্টের কল আসে। সেই কল রিসিভ করে কথা বলতে বলতে মাত্র পাঁচ মিনিট দেরি করে ফেলে সে।
মৃন্ময় যখন পৌঁছালো, দেখল তরু রাস্তার ধারে কড়া রোদে ছাতা মাথায় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ লাল হয়ে গেছে রাগে। মৃন্ময় গাড়ি থেকে নেমে স্যরি বলার আগেই তরু হাত তুলে থামিয়ে দিল।
তরু শান্ত গলায় বলল, “মৃন্ময় আবরার খান, আপনার পাঁচ মিনিটের দাম যদি পাঁচ কোটি টাকা হয়, তবে আমার এই পাঁচ মিনিটের রোদে পোড়ার দাম আপনার পুরো সম্পত্তি দিয়েও শোধ হবে না। এখন ওই যে সামনে ইলেকট্রিক পোলটা দেখছেন? ওখানে গিয়ে একদম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। আমি যতক্ষণ আইসক্রিম খেয়ে ফিরছি না, আপনি এক চুল নড়বেন না।”
মৃন্ময় আকাশ থেকে পড়ল।
“তরু, আমি! মানুষ দেখছে তো!”
তরু চোখ বড় বড় করে বলল, “মানুষ দেখছে? তাহলে তো আরও ভালো! সবাই জানুক যে সময়জ্ঞান না থাকলে প্রভাবশালী হয়েও লাভ নেই। যান! নাকি দাঁত ভেঙে দেব?”
মৃন্ময় অসহায়ের মতো সেই তপ্ত রোদে পোলটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। তার বডিগার্ডরা আড়ালে গিয়ে মুখ চেপে হাসছে। পুরো বিশ মিনিট তরু তাকে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে আয়েশ করে এসিতে বসে আইসক্রিম খেল। শেষে মৃন্ময়ের মুখ যখন টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে, তখন তরু এসে বলল,
“বেয়াদব! এবার থেকে মিটিং করবেন ঘড়ি দেখে, আর আমার কাছে আসবেন সময়ের আগে। চলেন এবার।”
সেই স্মৃতি মনে আসতেই মৃন্ময় বর্তমানে ফিরে এল। সামনে তরু এখনও রেগে ফুঁসছে। তরু গর্জে উঠল, “কী হলো? চোখ বড় বড় করে কী ভাবছেন? ওই যে রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম, সেটার শোধ তুলছেন এখন আমাকে কষ্ট দিয়ে? আপনার সাহস তো কম না!”
বলতে বলতেই তরু মৃন্ময়কে নিচে ফেলে তার উপর উঠে বসলো।দুই হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো তার গাল। মৃন্ময় হতবাক হয়ে চেয়ে রইলো।
“এই ঠোঁট দিয়েই তো আমাকে কামড়েছেন তাইনা?”
মৃন্ময় আমতা আমতা করে বলল, “হ্যাঁ”
“চুপ”
তরু কামড়ে ধরলো মৃন্ময়ের নিচের ঠোঁট। এতটাই জোরে যে মনে হচ্ছিল এক্ষনি ছিঁড়ে নিবে।কিন্তু তার এই কামড়ে কি আর মৃন্ময়ের কিছু হলো? উল্টো সে মজাই নিচ্ছিলো ওর এহেন উল্টাপাল্টা কাজে।কয়েক মিনিট পর ছাড়লো তরু।শরীর কাপছে কিন্তু ক্রোধ কমছে না একটুও।
“শার্ট খুলুন।সব খুলুন।”
“তোমার হাত নেই?”
“আছে”
“তাহলে নিজে খুলে নিচ্ছো না কেন?”
উস্কে দিতে শুরু করলো তরুকে মৃন্ময়। তরুও রেগে নিজে থেকেই টেনে টেনে শার্ট খুলে নিল।
“এখানে,এখানে ব্যথা দিয়েছেন আমাকে।”
“হ্যাঁ তো?”
“আমিও দিবো”
“দেওয়ার মতো নেই তো কিছু”
“আছে তো”
দুই হাতে মৃন্ময়ের চেস্টের দুই দিকে ইশারা করে বললো। ঠোঁট কামড়ে হাসলো মৃন্ময়।তরু রেগে গেলো ওকে হাসতে দেখে। হাত দুখানা রাখলো বুকে।জোরে চেপে ধরে নিজে হেসে বলল,(🌚)
“এবার হাসুন “
নখ বসিয়ে দিচ্ছিল তরু। মৃন্ময়ের হাসি থেমে গেলো।রক্ত বের করে ছাড়বে নাকি? এ কেমন জুলুম? মৃন্ময় এটা হাজারবার করতে পারে তরুর সাথে,কিন্তু তরু কেন করবে?
“ছাড়ো “
“না ছাড়বো না।আচ্ছা এগুলো এত ছোট কেন?”
“হোপ,কিরকম প্রশ্ন।ছেলে মানুষের আবার কেমন থাকে?”
“একটু বড় হলে সুবিধা হতো।ধরতে পারতাম মুঠোয়”
কপালে হাত দিলো মৃন্ময়।চোখ ঢেকে রাখলো।ভিষন রকমের হাসি পাচ্ছে।তরু চালিয়ে যাচ্ছে তার কাজ।হাতের শক্তি বারাচ্ছে।তবু একটুও ব্যাথা দিতে পারছে না।
এদিক তার এসব কাজে ধীরে ধীরে কন্ট্রোললেস হয়ে পড়ছে মৃন্ময়।ঠোঁট কামড় নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।তরুর যা শরীরের কন্ডিশন তাতে কিছু করতে চাইছে না।কিন্তু তরু তো তাকে নিয়ন্ত্রণে থাকতেই দিচ্ছি না।
“এটাকেও খুলুন”
প্যান্টের দিকে ইশারা করে বললো তরু।চমকে উঠে বসলো মৃন্ময়।
“কিহ”
“ধূর “
নিজের কাজ নিজেই করলো তরু।চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকাচ্ছিল সেদিকে।চোখের দৃষ্টি বলে দিচ্ছে কিছু একটা হতে চলেছে। হাত উচু করলো তরু।মৃন্ময় সেদিকে তাকালো।ফল কাটা ছুরিটা তরুর হাতে। বেড সাইডের টেবিলের দিকে তাকালো ।সেখানে ফলের মধ্যে ছুরিটা নেই।
“এবার কোথায় পালাবেন মিস্টার মৃন্ময় অ্যান্ড লিটল মৃন্ময়”
শয়তানি হেসে তরু একবার ছোট মিয়ার দিকে আরেকবার মৃন্ময়ের দিকে তাকালো। তারপর শূন্যে তুললো ছুরিটা।বোঝা যাচ্ছে টার্গেট ছোট মিয়া🙂
মৃন্ময় চিৎকার করে উঠলো।তার আত্মা বেরিয়ে যাবে যেন শরীর থেকে।
“নায়ায়ায়া”
চলবে….. (2k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব আসবে)
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৩
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ গল্পের লিংক
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ২
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৭
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৩(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
প্রিয়া আমার গল্পের লিংক
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব – ২
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৪