পর্ব— ৯
ডার্কসাইডঅফ_লাভ (১৮+ এলার্ট কঠোরভাবে 🚫)
দূর্বা_এহসান
কিংকর্ত্যবিমূঢ় হয়ে এখনো তরুর দিকে ঝুঁকে মৃন্ময়। কি হলো এটা!মৃন্ময়ের চোখের পলক স্থির হয়ে আটকে গেল। গালের ওপর শীতল আঠালো স্পর্শটা ধীরে ধীরে গড়িয়ে নামছে, কিন্তু তার শরীর যেন পাথরে পরিণত হয়েছে। মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো এই আকস্মিক অপমানের সংকেত পাঠাতে গিয়েও কোথায় যেন জট পাকিয়ে ফেলল। সে কি রাগ করবে? নাকি চিৎকার করে উঠবে? নাকি থাপ্পড় বসিয়ে দেবে এই হাসিমুখের মেয়েটার গালে?
তরু তখনো হাসছে। সেই হাসিটা এতটাই অকৃত্রিম যে দেখলে মনে হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কোনো কাজ সে এইমাত্র সম্পন্ন করেছে। তার দুপাটি সাদা দাঁত ঝকঝক করছে, চোখে সেই চিরচেনা সারল্যের ঝিলিক। অথচ এই চোখের ভাষা পড়তেই তো মৃন্ময় বারবার ভুল করে। কিছুক্ষণ আগেও এই চোখ দুটোকে তার কাছে নিস্পাপ মনে হয়েছিল, ঠিক সেই পুরনো তরুর মতো। যে তরু বৃষ্টির শব্দ শুনলে বারান্দায় দৌড়ে যেত, যে তরু তুচ্ছ কারণে অভিমান করে গাল ফোলাত।
মৃন্ময় পকেট থেকে রুমাল বের করে খুব ধীরগতিতে মুখটা মুছল। সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তরুর হাসিটা এবার একটু ফিকে হয়ে এল, কিন্তু তার চাউনি এখনো স্থির।
মৃন্ময় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না।সাভাবিক ভাবেই মেনে নিলো।
মৃন্ময়ের এই অস্বাভাবিক শান্ত থাকাটা যেন তরুর হাসিকে মুহূর্তেই কেড়ে নিল। সে হয়তো আশা করেছিল মৃন্ময় চিৎকার করবে, হয়তো প্রবল রাগে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাবে অথবা অন্ততপক্ষে তাকে দুকথা শুনিয়ে দেবে। কিন্তু মৃন্ময় শুধু রুমালটা ভাঁজ করে পকেটে রাখল, যেন কিছুই হয়নি।
মৃন্ময় একটু ঝুঁকে নিচু স্বরে বলল,
“খুব আনন্দ পেয়েছ?”
তরু এবার একটু কুঁচকে গেল। তার চোখে যে দুষ্টুমি ছিল, সেখানে এক চিলতে ভয় বা বিভ্রান্তি উঁকি দিল। সে বিড়বিড় করে বলল,
“রাগ করোনি?”
“রাগ করার মতো কি কিছু করেছ?”
মৃন্ময় আলতো করে তরুর অগোছালো চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিল।
“তুমি তো ঠিক আগের মতোই আছ, তরু। সেই যেবার আমাদের বাগানে কাদা মেখে আমার শার্ট নষ্ট করে দিয়েছিলে, সেদিনও তুমি এভাবেই হাসছিলে। আজ শুধু কাদার বদলে অন্য কিছু। তাতে আমার তরু তো বদলে যায়নি।”
তরু স্তব্ধ হয়ে গেল।ঠোঁট দুটো কাঁপতে শুরু করল। যে দেয়ালটা সে নিজের চারপাশে তুলে রেখেছিল।অন্যকে আঘাত করে নিজেকে বাঁচানোর দেয়াল।সেটা যেন মৃন্ময়ের এই ক্ষমাসুলভ শীতলতায় হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে।
তরু চিৎকার করে উঠল,
“আমি আপনাকে ঘৃণা করি, শুনতে পাচ্ছেন? ঘৃণা করি!”
তার এতক্ষন করা উদ্ভট কাজগুলো মেনে নিলেও এটা মানতে পারলো না মৃন্ময়।ব্যাস আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। মুহূর্তের মধ্যে তার ভেতরের সব ধৈর্য শেষ হয়ে গেল। হঠাৎ করে খুব গায়ে লাগলো কথাটা। এতক্ষণের তরুর কাজেও যা হয়নি তা এবার হলো। সে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে তরুর গালে জোরে চড় বসালো। শব্দটা ঘরের ভেতর পরিষ্কার শোনা গেল।
তরুর মাথা একপাশে ঘুরে গেল।দুষ্টুমি মুহূর্তেই উধাও। অবাক হয়ে সে মৃন্ময়ের দিকে তাকিয়ে রইলো। বুঝতে পারেনি হয়তো এমন কিছু হবে।মৃন্ময়ের রাগ চোখে-মুখে স্পষ্ট।
“কী বললি?”
তার গলার স্বরেই বোঝা যায় সে কতটা রেগে আছে।তরু কিছু বলতে যাবে, কিন্তু মৃন্ময় তাকে থামিয়ে দিলো।
“একটা কথাও বলবি না।তুই যদি সুস্থ থাকতিস, আমি এতক্ষণে তোকে…”
কথা শেষ করার আগেই হঠাৎ করে তরুর শরীরটা ঢিলে হয়ে এলো। তার চোখের পাতা ভারী হয়ে বন্ধ হয়ে গেল। মাথা কাত হয়ে পড়লো।
মৃন্ময় প্রথমে ভাবলো, আবার নতুন কোনো নাটক। সে নাম ধরে ডাকলো। গালে হালকা চাপ দিলো। কোনো সাড়া নেই।
সে দ্রুত ধরে ফেললো তরুকে, শুইয়ে দিলো ঠিক করে। কপালে হাত রাখতেই বুঝে গেল জ্বর বেড়েছে। খুব গরম।ড্রয়ার খুলে থার্মোমিটার বের করলো। মুখে ঢুকিয়ে দিলো। পাশে দাঁড়িয়ে থাকলো, চোখ সরালো না।সংখ্যাটা উঠতেই সে একটু থমকে গেল।
মৃন্ময় ধীরে শ্বাস নিলো। রাগ এখনো আছে, কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হয়েছে দুশ্চিন্তা। সে বিছানার পাশে বসে তরুর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো। এতক্ষণ আগের ঝগড়াটে মেয়েটাকে এখন খুব শান্ত লাগছে।
“এতক্ষণ এত শক্তি ছিল।আর এখন এমন হয়ে গেলি?”
তরুর হাতটা ধরে রাখলো সে। হাতটা ঠান্ডা। নিজের অজান্তেই আঙুলগুলো শক্ত হয়ে এলো।
“জ্ঞান ফিরুক শুধু”
প্রচন্ড রাগে অস্থির লাগছে মৃন্ময়ের। তিলে তিলে কষ্ট দিতে একে সে খুঁজে বের করেছিল।কিন্তু কিছু মুহূর্তের জন্য আবারও একই রকম দুর্বলতা তাকে ঘিরে ফেলেছিল।
নিজেকে সামলালো মৃন্ময়। যে মেয়ে তার কঠিন সময় ছেড়ে যেতে পারে সেই মেয়েকে কিভাবে ভালবাসতে পারে সে? পারে সে?
সেই ঘরটায় এসেছে মৃন্ময়। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুধু তরুর ছবি। একটু একটু করে সাজিয়েছিল সে এই ঘরটা। সবাই যেখানে মৃন্ময়কে হার্টলেস হিসেবে জানে তখন এই মৃন্ময়ই এক মেয়ের পিছে পাগলের মত ঘুরতো।দিন নেই রাত নেই,সব একাকার করে তরুকে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে মৃন্ময়।একটু এগিয়ে গিয়ে একটা ছবি বের করে।অর্ধ কাপড়ে তরু। পেট নাভি সব স্পষ্ট।ভেজা শরীর।যেকোনো পুরুষকে আকৃষ্ট করতে এতটুকুই যথেষ্ঠ। হাতে ধরে রাখা শাড়ী।
ছবিটা দেখেই চোখ বন্ধ করলো মৃন্ময়। অদ্ভূত। একটা মাত্র ছবিই তাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে ভিতর থেকে।তাহলে সেদিনের বাস্তবতা কতটা ভয়ানক ছিল।
সেদিন প্রথমবার মৃন্ময় এর সাথে তরু খান বাড়িতে পা দিয়েছিল। পুরো বাড়ি জুড়ে শুধু দুটো মানুষের অস্তিত্ব ছিল। শুধুই মৃন্ময় আর তরু।
পুরো দিনটা স্বপ্নের মতো কেটে যায় তাদের। সবসময় গম্ভীর থাকা মৃন্ময় মজে যায় তরুর দুষ্টমিতে।তরুর হঠাৎ বায়না ধরায় রান্নাঘরে যেতে বাধ্য হয় সে।সেইদিন প্রথম এমনটা হয়েছে। যে হাতে গান থাকতো সেই হাতে তরু তুলে দিয়েছিল খুন্তি। হাসি মুখেই মেনে নিয়েছিল মৃন্ময়।
রান্নার মাঝে দুষ্টুমির এক পর্যায়ে তরুর শরীরে হালকা গরম পানি পড়ে যায়।এতে তরুর কিছু না হলেও মৃন্ময়ের জান যেনো বাড়িয়ে যাচ্ছিল।মুহূর্তেই তরুর শরীর থেকে শাড়ির আঁচল সরিয়ে দেয় সে।পেটের কাছের পানি মুছতে শুরু করে।একই সাথে ফু দিচ্ছিল।তরু অবাক হয়ে দেখছিল সবটা।
দুই হাতে কোমর চেপে ফু দিচ্ছিল মৃন্ময়।তরু চোখ বন্ধ করে ফেলে।
“ঠিক আছো তুমি?জ্বলছে?”
বলতে বলতে তরুর পানে তাকায় মৃন্ময়।ওর চোখ বন্ধ দেখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কারণ ভাবতে লাগে।পেয়েও যায় কারণ।
বাকা হাসি ফুটে উঠে মৃন্ময়ের ঠোঁটের কোণে।দুই হাতের চাপ শক্ত হয়।আলতো করে নাভিতে চুমু দেয়। শিউরে উঠে তরু। মৃন্ময়ের চুল খামচে ধরে শক্ত করে।
“আহ্”
নাভীর ঠিক মাঝ বরাবর কয়েকটা চুমু দিল। জিহ্ব ছোঁয়াতেই তরু কেঁপে উঠল।
“উম্ম, সোনা, তোমার নাভির গভীরতা… লিটল মৃন্ময় ভুল রাস্তায় না আবার চলে যায়”
তরুর কান গরম হয়ে এলো। সে সরতে চাইলো। মৃন্ময় উঠে দাড়ালো।এক ঝটকায় রান্নার সব জিনিস সরিয়ে ফেললো। মেঝেতে পড়ে সেগুলো ঝনঝিনিয়ে শব্দ তুললো। তরুকে দুই হাতে তুলে বসিয়ে দিলো।দুই দিকে পা ছড়িয়ে দিয়ে মাঝে দাড়ালো মৃন্ময়। হাত দুটো দেয়ালে চেপে ধরে ঠোটগুলো নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো।নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তরুর। সে দুই পায়ে মৃন্ময়ের কোমড় জড়িয়ে ধরে। কিস ব্যাক করে সমান তালে। হাত ছেড়ে দেয় মৃন্ময়।
তরুর উরুতে দুই হাত রেখে শাড়ী ধীরে ধীরে উপরে তুলতে শুরু করে। ঠোঁট ছেড়ে গলায় নিমে আসে মৃন্ময়।
“আহ্, ছা ছাড়ুন মৃন্ময়।”
“নাহ্।এই অবস্থায় তোমাকে ছাড়লে মরে যাবো আমি”
কামড় বসালো তরুর গলায়।তারপর বুকে চলে এলো। ব্লাউজের বোতাম কটা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ফেললো।উন্মুক্ত হলো ফর্সা শরীরে কালো ইনার।চোখ ধাঁধিয়ে গেলো মৃন্ময়ের। সে পাগলের মত চুমু দিতে শুরু করলো।
কোমরের কাছে শাড়ী তুলে এনেছে মৃন্ময়।দুই উরু শক্ত হাতে ধরে রেখেছে।তরুর পায়ের বাধন ধীরেধীরে শক্ত হচ্ছে। বেসামাল ভাবে মৃন্ময় চুমু দিয়েই যাচ্ছিল।তরু এবার শক্ত করে বুকে চেপে ধরলো মৃন্ময়কে।
“থামুন প্লীজ।এসব উচিত না”
তরুর বুকের ভাঁজে শক্ত করে চেপে রাখা মৃন্ময়ের মুখ। নিশ্বাস ছেড়ে মৃন্ময় বললো,
“কিচ্ছু অনুচিত না।থামতে পারবো না এখন।”
তরু আরো শক্ত করে চেপে ধরলো তাকে।
“পারবেন।পারবেন।প্লীজ ভাবুন,এসব উচিত না”
কথা জড়িয়ে যাচ্ছে তরুর।তবুও চেষ্টা করছে মৃন্ময়কে থামাতে। যতটা পারলো শক্ত করে চেপে রাখলো মৃন্ময়কে। কতটা বেসামাল হয়ে গেছে সে বুঝতে পারছে। মৃন্ময়ের কোমর পায়ে জড়িয়ে রাখায় বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
তরু মৃন্ময় এর মাথায় কয়েকটা চুমু খেলো। মরিয়া হয়ে উঠলো তাকে সামলাতে। শাড়ী কোমরে উঠানো,উন্মুক্ত ব্লাউজহীন বুক, আর সেই বুকেই চেপে রাখা মৃন্ময়।এরকম অবস্থায় কিভাবে আটকাবে মৃন্ময়কে।
দুজনকে সাভাবিক অবস্থায় আনার জন্যই হয়তো কলিং বেলটা বেজে উঠল।বুঝে গেলো মৃন্ময়ের বাবা মা এসেছে।
ছবিটা হাত থেকে নামিয়ে আবার দেয়ালে রাখলো মৃন্ময়। সারা বাড়িতে সিসিটিভি লাগানো। সেখানে থেকেই এই একটা ছবি দেয়ালে রেখেছিল সে।সেদিন তরু তাকে সামলে নিয়েছিল।ওই অতটুকু পর্যন্তই।মেয়েটা যেমন তাকে বেসামাল করতে পারে, তেমনই সামলাতে পারে।
চলবে……
(২k হলে নেক্সট পার্ট আসবে।)
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১০
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ২
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৪
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৭
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৬
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৫
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৭
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৭
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৪