জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২৪
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
আদ্রিস হেটে রুমের দিকে আসছিল। আজ তাকে ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছে। এত যুদ্ধ এত মারামারি করেও আদ্রিস কখনো ক্লান্ত হয়নি। কিন্তু আজ সে ক্লান্ত। কারণ এরা ছিল আদ্রিসের পরিবার। আদ্রিসের নিজের পরিবার।
আদ্রিস এলোমেলো পায়ে হেঁটে রুমে চলে যায়।
রেভেন দাঁড়িয়ে ছিল আদ্রিতার পাশে। আদ্রিস রুমে এলে রেভেন গিয়ে আদ্রিসকে ধরে বসে। আদ্রিসকে দেখে মনে হচ্ছে সে পড়ে যাবে যে কোন মুহুর্তে।
“বস।”
“আমি ঠিক আছি।”
“আপনি সত্যি ঠিক আছেন?”
“হ্যা।”
আদ্রিস হেঁটে যেতে যেতে বলে,
“যাবার সময় সব লাইট বন্ধ করে দিবি৷
পরের শত্রু হলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে না, ওটা শুধু একটা অপারেশন।
কিন্তু যখন শত্রু নিজের পরিবার হয়,
তখন ট্রিগার টানার আগে হিসাব করি না।
হিসাব করি কতটা মানুষ আমি হারাচ্ছি।”
আদ্রিসের কথা গুলো শুনে আজ রেভেনের নিজেকে বেশ লাকি বলে মনে হচ্ছে। ছোট থেকেই তার মনে হতো কেন মম ড্যাড নেই তার৷
কিন্তু আদ্রিসকে দেখে মনে হচ্ছে না থাকাটাই ভালো।
কখনো মা বাবা সন্তানের ভালো করার নামে তাদের জীবনের আলো এবং খুশিটা কেড়ে নেয়।
রেভেন পুরো ঘরটা অন্ধকার করে চলে যায়।
আদ্রিস কম্ফোর্টের নিচে এসে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে।
আদ্রিতার সাথে তার এক ইঞ্চি পর্যন্ত দুরত্ব নেই।
আদ্রিতার ঘাড়ে নাক গুঁজে। সেখানে একটা মিষ্টি ভ্যানিলা ডেজার্টের ঘ্রাণ পায় আদ্রিস।
এই ঘ্রাণটা শুধু তার। তার ব্যক্তিগত ঘ্রাণ।
আদ্রিস, আদ্রিতার ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে হটাৎ করেই কামড় দিয়ে বসে।
আদ্রিতা ঘুমের মাঝেই কেঁপে ওঠে। আদ্রিতার শরীরের কম্পন অনুভব করে আদ্রিস মাথা তুলে তাকায়। পুরো রুমটা অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। আদ্রিতার মুখশ্রী কেমন দেখাচ্ছে তাও দেখা যাচ্ছে না। আদ্রিস ফোনের ফ্লাস অন করে।
আদ্রিতা চোখ খিচে নেয়।
আলোর থেকে সরে যেতে চায়। কিন্তু আদ্রিস ওর কোমড় জড়িয়ে নিজের দিকে টানে।
আদ্রিতা এবার হালকা করে চোখ খুলে।
মৃদু আলোতে আদ্রিসের মুখশ্রী স্পষ্ট।
“কি হয়েছে?”
ঘুম ঘুম স্বরে সেই কথাটা আদ্রিসের কানে কোন মধুর ধ্বনি হিসাবে বেজে উঠল।
আদ্রিস, আদ্রিতার কপালের সে স্থানে চুমু খায় যেখানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
“আদ্রিতা৷”
“হু?”
“তোর একটাই কাজ সেটা হলো আমার পাশে থাকা। আদ্রিস খানের বুকের পা পাশে নিজের অবস্থান দৃঢ় করা। বাকি দুনিয়া আমি দেখে নেব। “
আদ্রিতা সে কথার অর্থ বুঝতে পারল কিনা বোঝা গেলনা। কিন্তু আদ্রিসের চোখে নিজের জন্য ভালোবাসা দেখতে পেল।
সে ভালোবাসা ঠাই হীন সমুদ্রের ন্যায়।
একবার নেমে গেলে কুল খুঁজে পাবেনা।
ওই ভালোবাসার সমুদ্রেই ডুবে যেতে হবে।
আদ্রিস, ধিরে আদ্রিতার হাতের আঙ্গুলের ভাজে নিজের আঙ্গুল গুলো নিয়ে নেয়।
আদ্রিতাও ঘোরের ভেতর চলে গিয়েছে।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আঁকড়ে ধরে।
আদ্রিতার শরীরে বিদ্যুৎ তরঙ্গ বয়ে গেল। শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গিয়েছে।
এক অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে তার। আদ্রিস, আদ্রিতার হাত বিছনার সাথে শক্ত করে চেপে ধরে রাখে।
আদ্রিতাকে নিঃশ্বাস টুকু নেওয়ার সময় দেয়না।
আদ্রিতা যখন নিঃশ্বাস নিতে স্ট্রাগল করছিল তখনই তাকে ছাড়ে আদ্রিস। আদ্রিতা ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে।
আদ্রিস, আদ্রিতার ঠোঁটে বৃদ্ধা আঙ্গুল ছোঁয়ায়।
“এত টুকতে টায়ার্ড হয়ে যাচ্ছিস? আমাকে সামলাবি কি করে?”
আদ্রিতা পিট পিট করে তাকিয়ে আছে। আদ্রিস মৃদু হাসে। মোবাইলের ফ্লাস বন্ধ করে আদ্রিতাকে বুকে টেনে নেয়।
আদ্রিতাও বিড়াল ছানার মত আদ্রিসের সাথে লেপ্টে যায়।
“কিটেন ইউ ফিল কম্ফোর্ট ইন মাই আর্ম?”
আদ্রিতা উত্তর দেয়না। আদ্রিসও আর কিছু বলেনা।
আসরাফ খান রুমে বসে আছে। মাধবী বেগম পাশে। দু’জনই নিশ্চুপ। কেউ কোন কথা বলছে না৷
মাধবী বেগম নিরবতা ভেঙে বলেন,
“সে দিন মেয়েটাকে মেনে নেওয়া উচিত হয়নি আমাদের।”
“ঠিক বলেছো। কে জানত দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পুসছি। সেই সাপ বড়ো হয়ে আমাদের ছোবল দিবে।”
অতীত,
আদ্রিসের বয়স তখন ১০ বছর। এক গ্রীষ্মের ছুটিতে সবাই গিয়েছে পার্কে ঘুরতে।
দিনটা ছিল উজ্জ্বল পরিষ্কার একটা আবহাওয়ার দিন।
আসরাফ খান, মাধবী বেগম, প্রিয়া, আদ্রিস তার সাথে মিশু অনামিকা বেগম শহ নেওয়াজ খানও ছিল।
ওরা গ্রাম থেকে এসেছিল।
পার্কে বাচ্চাদের খেলতে দিয়ে সব বড়রা একটা জায়গায় আসন পেতে বসেছে।
নানান খাবারের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে।
আদ্রিস, তখন প্রিয়ার সাথে খেলতে খেলতে পার্কের অন্য সাইডে চলে আসে।
ওটা ছিল একটা বাগানের এড়িয়া। বড় বড় গাছে ঘেরা একটা জায়গা।
আদ্রিস হটাৎ কাউকে না দেখতে পেয়ে বুঝতে পারে সে ভুল জায়গায় চলে এসেছে। আদ্রিস তখন ফেরার জন্য পা বাড়াবে এমন সময় শুনতে পায় বাচ্চাদের স্ট্রেচারের ভেতর একটা বাচ্চার কান্নার শব্দ। আদ্রিস প্রথম ভয় পেয়ে যায়৷ কিন্তু আদ্রিস ছোট থেকেই স্ট্রং ছিল তাই কৌতুহল থেকে সে এগিয়ে যায় সে দিকে। স্ট্রেচারে উপর পর্দা দেওয়া ছিল। আদ্রিস সেটা সরিয়ে দিতে দেখতে পায় একটা ১ মাসের বাচ্চা। পরনে বেবি পিংক রঙা সুন্দর একটা ড্রেস। বাচ্চাটার হাতে সোনার ব্রেসলেট।
বাচ্চা টাকে দেখেই মনে হচ্ছে কোন সনামধন্য পরিবারের বাচ্চা।
কিন্তু বাচ্চাটার কান্নার শব্দ আদ্রিসের ভেতর অন্য এক অনুভুতির জন্ম দিয়েছিল। আদ্রিস বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নেয়। আদ্রিসের কোলে গিয়ে বাচ্চাটা কান্না থামিয়ে দেয়।
বাচ্চাটা আঙ্গুল মুখ দিয়ে আদ্রিসের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আদ্রিস, বাচ্চাটার কপালে চুমু খায়।
এরপর কিছু একটা ভেবে হাতের ব্রেসলেট টা খুলে নিজের পকেটে রাখে।
এরপর বাচ্চাটাকে কোলে নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরে যায়। আসার সময় স্টেচার টাও সে দুরে একটা ডোবায় ফেলে দেয়।
ছোট্ট আদ্রিস কি ভাবছিল সে নিজেও জানেনা। ওর মনে শুধু একটা জিনিস এসেছিল বাচ্চা টা ওর সাথে থাকবে। ওর বাড়িতে ওর কাছে।
আদ্রিস যখন মায়ের কাছে বাচ্চা টাকে নিয়ে যায় তখন মাধবী বেগম অবাক হয়। সাথে সাথে সবাই জড়ো হয়ে যায়।
“আদ্রিস বাচ্চা টাকে কোথায় পেয়েছো?”
“ওই খানে একজন ফেলে রেখে গেছিল। খুব কান্না করছিল চাচি।’
অনামিকা বেগম, হাত বাড়ায়।
” আমাকে দেও আদ্রিস।”
আদ্রিস দিয়ে দেয় মাধবী বেগমের কোলে বাচ্চা টাকে।
“আসরাফ বাচ্চা টা কে? তুমি পুলিশ কল করো।”
“হ্যাঁ আমি দেখছি।’
কিন্তু আদ্রিস চাইছিল না পুলিশ বাচ্চাটার ঠিকানা খুঁজে পাক।
আদ্রিসের জিদে বাচ্চাটাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশকে বলার পরেও বাচ্চাটার কোন ঠিকানা পাওয়া যায়না। আদ্রিস বাচ্চাটার হাতের ব্রেসলেট টা কাউকে দিয়েছিলনা। পুলিশ কেও না।
যখন বাচ্চাটার কোন পরিবার পাওয়া গেলনা তখন আদ্রিস বায়না করে তাকে রেখে দিতে। কিন্তু মাধবী বেগম রাখবেন না।
তখন অনামিক বেগম বাচ্চাটাকে নিজের কোলে নিয়ে নিলেন। এবং আদ্রিস তার নাম রাখল আদ্রিস।
আদ্রিস সে দিন আদ্রিতাকে কোলে নিয়ে বলেছিল,
” আদ্রিতা আদ্রিতা আদ্রিতা। আদ্রিসের, আদ্রিতা।”
সবাই সে দিন আদ্রিসের কথায় হেসেছিল।
কিন্তু আজ!
বর্তমান,
“সে দিন বোঝা উচিত ছিল। আদ্রিস বলেছিল আদ্রিসের, আদ্রিতা।”
“তুমি চিন্তা করোনা মাধবী আমার কাছে সুন্দর একটা প্লান আছে।”
“এবার কি করবে?”
“এমন কিছু যেটা করলে সাপ মরবে লাঠি ভাঙবে না।”
“যেমন?”
আসরাফ খান বাঁকা হাসলেন,
“আদ্রিস ভুলে গিয়েছে আমি ওর বাবা। ওর ভেতর এই ইন্টেলিজেন্সি আমার থেকেই এসেছে।”
“দেখো ইতে বিপরীত না হয়ে যায়।”
“কোন বিপরীত নেই। আদ্রিস আমার উপর বন্দুক উঠিয়েছে ওই মেয়ের জন্য। আমি মুখ বুজে সব সহ্য করব না।”
“সাবধান।”
ওদিকে এনাদের দু’জনের কথা বাহির থেকে কেউ শুনে ফেলে। ওরা খেয়াল করার আগেই সে স্থান ত্যাগ করে।
ঐশী নিজরে রুমে এসে বিছনায় বসে পড়ে,
মিশু কাপড় ঠিক করছিল। ঐশীকে ভাবনায় মগ্ন দেখে এগিয়ে আসে,
“ঐশী কি হয়েছে?”
“আদ্রিতা, তোমার আসল বোন না তাইনা আপু?”
হটাৎ ঐশীর মুখে এমন প্রশ্ন শুনে মিশু অবাক হয়।
“মানে?”
“সত্যি করে বলো। আদ্রিতা তোমার আপন বোন নয়। ওকে আদ্রিস কুড়িয়ে পেয়েছিল পার্কে?”
“হুম সত্যি এটা৷”
“আদ্রিতা জানে এটা?”
“সেটা জানিনা আমি কখনো বলিনি “
ঐশী বাঁকা হাসে,
“আমার আজ অনেক খুশি লাগছে আপু। ওই কুড়িয়ে পাওয়া রাস্তার মেয়েটা কোন দিন আমার বরাবর আসতে পারবে না। ওকে নিচু দেখানোর আরও একটা কারণ পেয়ে গেলাম।”
“এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না ঐশী। আজ আদ্রিস ভাইয়ার একশন দেখেছো?”
“তুমি কি ভাবছো? মামনি ওগুলো সব ওভাবে রেখে দিয়েছে। কাল আদ্রিতাকে দিয়েই ওই গুলো পরিষ্কার করাবে মামনি।’
” তোমায় কে বলল?”
” বিশ্বাস না হলে লিভিং রুমে গিয়ে দেখোই না।”
মিশু, হাতের কাজ ফেলে লিভিং রুমের দিকে দেখে। সত্যি ঠিক তেমনই আছে যেমন আদ্রিস করে গিয়েছিল।
মিশু রুমে চলে আসে।
“কি দেখলে?”
“দেখলাম।”
“খুব একটা খুশি না মনে হচ্ছে? “
“আসলে কেন জানিনা মনে হচ্ছে আদ্রিস ভাইয়া সব ধ্বংস না করে দেওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ থামবে না।”
“মানে?’
” সাবধান ঐশী। কাল কিন্তু ভাইয়া থ্রেট দিয়েছে।”
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২