ওরাহৃদয়েররঙচেনেনা
পর্ব সংখ্যা [৩]
আফিমের পুরো নাম শাফায়াত আফিম মির্জা। আগাগোড়া একটা বখাটে ছেলে। এ পাড়ার ও পাড়ার ছেলেদের সাথে সে ঘুরে বেড়ায়, সিগারেট খায়, মেয়েদের টিজ করে। এ ছাড়া তার আর কোনো কাজ নেই। অনার্স কমপ্লিট করে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পর সে আর ভার্সিটিতে যায়নি। অথচ পড়াশোনায় সে ছিল দুর্দান্ত। প্রতিটি ক্লাসে তার রোল হতো এক। পড়াশোনার পাশাপাশি জেনারেল নওলেজ ছেলেটার বেশ ভালো ছিল। তুখোড়, মেধাবী ছেলেটা বাজে আড্ডায় জড়িয়ে পুরোপুরি মাস্তান হয়ে গেছে। আড্ডায় তার বেশভূষা দেখলে বোঝাই যাবে না সে ধনী ও আদর্শ পরিবারের সন্তান। আফিমের বাবা ঢাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। দেশের বিভিন্ন জেলায় তার রেস্টুরেন্ট আছে, রয়েছে অসংখ্য দোকান। এছাড়া আফিম প্রচণ্ড রাগী, একরোখা, জেদি স্বভাবের ছেলে। তার সাথে লাগতে এলে কারো রক্ষে নেই। কারো সাথে কথা কাটাকাটি হলে আফিম কোনো বাছ বিচার না করেই হামলে পরে, দলবল সহ আক্রমণ করে বসে। অন্যান্য এলাকার বখাটেগুলোও আফিমের নাম শুনলে ভেজা বেড়াল হয়ে যায়, টু শব্দটিও করে না। তবে আফিম এসব নিজের এলাকায় করে না। তাকে তার এলাকার সকলে ভালো, ভদ্র ছেলে বলেই জানে।
আফিম আরো একটি সিগারেট ধরিয়েছে। তার সতর্ক, তুখোড়, খেয়ালি দৃষ্টি মৃত্তিকার পানে। মেয়েটা কাঁপছে থরথর করে, ফ্যাকাশে হয়ে আছে বদন। ওড়নার প্রান্ত খসে পরছে কাঁধ বেয়ে। লজ্জায়, ঘৃণায় গা গুলিয়ে আসে মৃত্তিকার। কম্পিত কণ্ঠে সে বলে ওঠে,
“- হয়তো পরিবারে মেয়ে নেই বলেই এতটা বেয়াদব হতে পেরেছেন”।
নরম স্বরেও সূঁচালো কথাটা বলে ওঠে মৃত্তিকা। বলার পর ভয়ে শীতল শিহরণ বয়ে যায় মেরুদণ্ড বয়ে। বলতে দেরি, আফিম এগিয়ে আসতে দেরি করল না মোটেই। তড়াক করে সে এগিয়ে এসে সিগারেটের ধোঁয়া ছেঁড়ে দিল মৃত্তিকার মুখে। বিষাক্ত, কঠোর ধোঁয়ায় নাক কুঁচকে ফেলে মৃত্তিকা। ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। কেবল তার চোখজোড়া দেখতে পায় আফিম। মুখ গোল করে ফের ধোঁয়া উড়িয়ে বলে,
“- ঘরে মা-বোন থাকলেই কি? বউ তো নেই”।
মৃত্তিকার কথা বলার রুচিই হারিয়ে যায়। দৃঢ় কণ্ঠে সে বলে,
“- এরকম ছেলে আর যাই হোক, কারো স্বামী হওয়ার যোগ্যতা রাখে না”।
কথাটা বলা মাত্রই চোয়াল শক্ত হয়ে আসে আফিমের। গলা ও ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠে। ভয়ে ঢোগ গিলে মৃত্তিকা। নড়চড় থেমে যায় তার। আফিমের সাথের ছেলেগুলো এবারে ক্ষেপে ওঠে। তেড়ে আসে মৃত্তিকার দিকে। খসে পরা ওড়নার প্রান্ত কেড়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়াতেই আফিম ছেলেটির হাত ধরে ফেলে। রাগী চোখে তাকায় ছেলেটির দিকে। মৃত্তিকার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কোনো কিছু না ভেবে সে পিছু ফিরে ছুটে পালায়।
আফিম মৃত্তিকার প্রস্থান দেখে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে রূঢ় স্বরে বলে,
“- বলেছি না গায়ে হাত দিবি না?”
ছেলেটি তীব্র রাগে ফেটে পরে। বলে,
“- তোকে কি বলল দেখলি না? ওই মেয়ের কত বড় সাহস”?
আফিম নরম হয়। ধীর কণ্ঠে বলে,
“- কি যেন নাম? মৃত্তিকা, মৃত্তিকাকে আর কোনো রকম হেনস্তা করবি না। ও আমার সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলেছে না? ওর ব্যবস্থা আমি নিজেই করবো”।
সমস্বরে হেসে ওঠে বাকিরা। আফিমের রাগ, তেজ সম্পর্কে সবারই জানা। তারা ধরে নিয়েছে মেয়েটি এবার মরবে, কেউ মেয়েটিকে বাঁচাতে পারবে না। আজ পর্যন্ত কেউ আফিমের সাথে রাগমিশ্রিত কণ্ঠে কথা বলেনি। এত জেদি ছেলেটা, বড় ছোট কিছুই মানে না। মতের অমিল হলেই মারধোর করে ফেলে রাখে রাস্তায়। বেকার, ভবঘুরে বলা চলে তাকে। তার সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলে যে মেয়ে, তাকে অন্তত সুখে থাকতে দেবে না আফিম।
অটো করে ইয়াসিনদের বাড়ি অর্থাৎ ধানমন্ডি এসে নেমে পরল মৃত্তিকা। দুরুদুরু বুক কাঁপছে। গত দুদিন ধরে তার সাথে সবকিছু খারাপ হচ্ছে। কোনো কিছুই ভালো লাগছে না আর। কোনো কিছুতেই স্বস্তি নেই বিন্দুমাত্র।
মৃত্তিকা বাড়িতে ঢুকতেই বরাবরের মতো ইয়াসিনের মা ইয়াসমিন দরজা খুলে দেয়। চমৎকার হেসে সে মৃত্তিকাকে ঘরে ঢুকতে বলে। মৃত্তিকা বরাবরের মতো গদগদ হয়ে উঠতে পারে না। হাসি আসে না মন থেকে। মলিন হেসে সে ঢুকে যায় তানভির রুমে। তানভি পড়ার টেবিলে বসে আছে। মৃত্তিকাকে দেখেই সে সালাম দেয়। বিনিময়ে সালামের উত্তর নিয়ে বিপরীত চেয়ারে বসে পরে মৃত্তিকা। মৃত্তিকার ঘর্মাক্ত, মায়াবী মুখ দেখে হাসে তানভি। মৃত্তিকাকে তার পুতুল পুতুল লাগে। টানা টনা চোখ মেয়েটার, মাথা ভর্তি ঘন চুল। তার ত্বক খানিক হলদেটে, উজ্জ্বল। মাঝে মাঝে সব ভুলে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে তানভির। সাদামাটা, সাধারণ মেয়েটিকে এভাবেই অপরূপা লাগে।
“- ভাবি, তুমি জানো ভাইয়া কতবার এ ঘরে এসে ঘুরে গেছে? তোমাকে না দেখলে তার যে কি অবস্থা হয়, তুমি যদি জানতে”?
মৃত্তিকা তাচ্ছিল্য করে হাসে। আগে এসব শুনলে খুব ভালো লাগতো, লজ্জায় মূর্ছা যেত সে। এখন আর খুশি লাগছে না। বরং কথাগুলো তেঁতো, বেহুদা মনে হচ্ছে। গা জ্বলে যাচ্ছে এসব শুনে। মৃত্তিকা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,
“- আমি আর পড়াতে আসবো না তানভি। তোমাকে নতুন টিচার খুঁজতে হবে”।
ভ্রু কুঁচকে ফেলে তানভি। বলে,
“- কি বলছো ভাবি? আসবে না কেন”?
মৃত্তিকা ভারি অবাক হয় এই ভেবে যে ইয়াসিন কাউকে এখনো কিছু জানায়নি। কেন জানায়নি? কি চাইছে ইয়াসিন?
“- আমি তোমাকে এ কথা জানাতেই এসেছি। আমি আর পড়াবো না তোমাকে”।
তাদের কথার মাঝেই ঘরে আসে ইয়াসিন। তাকে দেখে উঠে দাঁড়ায় মৃত্তিকা। কাঠিন্যতা দেখা দেয় তার অভিব্যক্তিতে, চোখ-মুক শক্ত করে ফেলে সে। কাঁধের ব্যাগ শক্ত করে চেপে ইয়াসিনের পাশ দিয়ে চলে যেতে নিলে ইয়াসিন এক হাতে আটকায় মৃত্তিকাকে। বোনের সামনে হুলস্থুল না করে মার্জিত, বিনয়ী কণ্ঠে বলে,
“- তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে মৃত্তি। আমার ঘরে চলো”।
ইয়াসিন মৃত্তিকার হাত ধরে ফেলে। মৃত্তিকা এক ঝটকায় ঝারি দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় নিজের হাত। দাঁতে দাঁত পিষে ক্ষুব্ধ হয়ে বলে,
“- তোমার সাথে আমার কোনো কথা নেই”।
ভাই আর ভাবির মাঝেকার দ্বন্দ্ব বুঝতে পেরে তানভি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। মৃত্তিকা তখনই গর্জে ওঠে। কাঁধের ব্যাগটা টেনে ছুঁড়ে মারে বেখেয়ালে। ইয়াসিনের কলার দু হাতের মুঠোয় চেপে ধরে হিংস্র, আক্রমণাত্মক কণ্ঠে চেঁচিয়ে বলে,
“- হায়েনা একটা, নরখাদক। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়ে তোমার শান্তি মেলেনি? আমার হাত ধরতে এসেছো কোন সাহসে?”
ইয়াসিন রাগে না চট করে। মৃত্তিকাকে বোঝাতে সে নরম স্বরে বলে,
“- মৃত্তি, ওটা এমন কিছুই না। তুমি যা ভাবছো তা কিন্তু আমাদের মাঝে হয়নি”।
ঘৃণায় গা জ্বলে ওঠে মৃত্তিকার। ইয়াসিনের কলার ছেড়ে দিয়ে বলে,
“- লজ্জা করে না তোমার এসব বলতে? ওইদিন আমি যদি শপিং করতে না যেতাম, তাহলে কোনোদিন তোমার এই আসল রূপ দেখতে পেতাম না। তোমার লজ্জা লাগে না ইয়াসিন? রুহ কাঁপে না? একটা মানুষকে দিনের পর দিন ঠকিয়ে, তাকে ভেঙেচুরে দিতে তোমার বুক কাঁপে না? এতটাই নোংরা তোমার মন”?
ইয়াসিন ধৈর্য ধরে রাখতে পারে না। এবার সে নিজেও চেঁচিয়ে ওঠে। ঝাঁঝ মেশানো কণ্ঠে বলে,
“- না লজ্জা করে না। এখনকার জেনারেশনে এসব কমন মৃত্তি। দু বছরে তুমি আমাকে তোমার হাত ধরতে দাওনি ঠিক করে, চুমুও দাওনি, কখনো জড়িয়ে ধরোনি। এমনকি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সময়, সেই সময়টুকুও তুমি দাও না আমায়। রুবি তোমার চেয়ে আলাদা, তার মানসিকতা আধুনিক, ও তোমার মতো আঁটসাঁট হয়ে থাকে না, সংকীর্ণ মনোভাবের নয় ও। না চাইতেও ও আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে”।
অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে রয় মৃত্তিকা। বুক জ্বলে ওঠে মেয়েটার। শ্বাস আটকে আসে বারবার। হা করে সে তাকিয়ে থাকে ইয়াসিনের দিকে। আপনা-আপনি গাল ভিজে ওঠে তপ্ত নোনা পানিতে। লাল হয়ে ওঠে চোখ। বক্ষ নিদারুণ শূন্যতায় হাহাকার করে ওঠে। ইয়াসিন এতটা বদলে গেল? এসব ছুতো কেউ কি করে দিতে পারে?, মৃত্তিকা সংকীর্ণ মানসিকতার মেয়ে? হাত ধরতে দেয়নি বলে, চুমু খায়নি বলে, আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেনি বলে তার ভালোবাসা মিথ্যে? সে গভীর চোখে ইয়াসিনকে দেখে, বিপদে পাশে থাকে, সর্বদা সবকিছুতে অনুপ্রাণিত করে, সাহস জোগায়, ইয়াসিনের ভালোমন্দের খেয়াল রাখে। এসবে বুঝি ভালোবাসা নেই? ইয়াসিন তার ভালোবাসাকে প্রশ্নের মুখে দাড় করাচ্ছে? হিসেব নিচ্ছে সবকিছুর।
মৃত্তিকার গর্জন থেমে যায়। নাক টানে সে। হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে চোখ মুছে আলতো হেসে বলে,
“-, সম্পর্কের শুরুতেই আমি বলেছিলাম ইয়াসিন, আমি প্রেমিকা হতে চাই না, গলে গলে পরা, হাত ধরা, চুমু খাওয়া এসব আমার দ্বারা হয় না। আমি সহজে কোনো ছেলের কাছে ঘেঁষতে পারি না। তুৃমি সব জেনে বুঝেই আমাকে তোমার জীবনে গ্রহণ করেছিলে। মজার কথা হলো তুমি এক সময় বলেছিলে আমার ওই কথাগুলোই নাকি তোমার আমার প্রেমে পরার প্রধান কারণ। আমার বাস্তবিক জ্ঞান, পুরোনো চিন্তাভাবনাই নাকি তোমাকে আকৃষ্ট করে। আর এখন কি বলছো? আমি সংকীর্ণ?
থতমত খেয়ে ইয়াসিন রাশভারি স্বরে বলে,
“- সময় বদলায়, মনোভাবও বদলায়। দু বছর আগের কথা ধরে বসে থাকলে হয় না। আমারও কিছু ডিমান্ড আছে, সেসব ফুলফিল না করলে আমি আটকে থাকবো কি করে”?
ফিক করে হেসে ফেলে মৃত্তিকা। দু হাত উঁচিয়ে তালি দেয় শব্দ করে। হাসতে হাসতে সে মেঝেতে লুটিয়ে পরে। তার হাসিতে হতভম্ব হয়ে যায় ইয়াসিন। ভাবে আঘাত পেয়ে মেয়েটা পাগল হয়ে গেল না তো? ইয়াসিন এক হাঁটু গেড়ে বসে। সে নিজেও মানে মৃত্তিকা কতটা ভালো মেয়ে, কতটা সুশীল স্বভাবের। মৃত্তিকার মতো মেয়ে বর্তমানে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু এরকম মেয়ের সাথে সংসার করা গেলেও প্রেম করা যায় না। লবন ছাড়া তরকারির মতোই মনে হয়। সম্পর্ক মানে প্রেম থাকবে, রস থাকবে, ছোঁয়া থাকবে, ঘনিষ্ঠতা থাকবে এসবই তো। সম্পর্কে যদি কেবল প্রাণ খোলা কথা,
দেখা, আর হৃদয়ে ভালোবাসা থাকে তবে তা প্রাণহীন, বিস্বাদ লাগে। রুবির সাথে সে যতই ঘনিষ্ঠ হোক, মৃত্তিকার দেহ তাকে চঞ্চল করে তোলে। কোমল ত্বক, সুন্দর গড়ন, ধনুকের ন্যায় বাঁকানো দেহ সবই নজর কাড়ে। তাই তো রুবির সাথে গোপনে সম্পর্কে জড়ালেও বিয়ে সে করতে চেয়েছে মৃত্তিকাকে। কিন্তু মৃত্তিকা যে এভাবে সবটা জেনে যাবে ভাবতেই পারেনি ইয়াসিন। মেয়েটা তার প্রেমে পাগল, তবুও ব্যক্তিত্ব দৃঢ়। সারাজীবন পবিত্র হয়ে থাকা মেয়েটি অপবিত্র মানুষের দ্বারে আসবে না কস্মিনকালেও।
মৃত্তিকার গাল ছোঁয়ার জন্য হাত ওঠাতেই মৃত্তিকা চোখ পাকিয়ে তাকায়। এতক্ষণ উন্মাদের ন্যায় হাসতে থাকা মেয়েটি হঠাৎ করেই রাগে কাঁপতে থাকে। রক্তাভ চোখ জোড়া গাঢ় হয়ে ওঠে মেয়েটার। তীক্ষ্ণ, তীব্র স্বরে সে চেঁচিয়ে বলে,
“- খবরদার, ওই নোংরা হাত দিয়ে আমাকে ছোবার চেষ্টা করবে না। যে হাত দিয়ে পরনারীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত বুলিয়েছো, সে হাত আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না”।
বিরক্ত হয় ইয়াসিন। বলে,
“- তো কি চাও তুমি? বিয়ে করবে না আমায়”?
“- না”।
“- একটা ছোট্ট ভুলের জন্য বিয়েটা ভেঙে দেবে? তোমার বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পরবে, তোমার ভাবি জানতে পারলে কি করবে ভেবেছো? এতদূর এসে বিয়ে ভাঙলে মানুষ তোমায় ভালো চোখে দেখবে ভেবেছো”?
হাসে মৃত্তিকা। বলে,
“- তোমার ওসব ভাবতে হবে না। জীবন যেহেতু আমার, আমাকেই ভাবতে দাও।”
উঠে দাঁড়ায় মৃত্তিকা। শরীর টলতে থাকা ওর। যাবার আগে ইয়াসিনের মাকে সবটা বলে দেয় সে। রেগে ছেলের গালে দুটো চড়ও বসিয়ে দেয় ইয়াসমিন। গেট পেরিয়ে বের হতেই পিছন থেকে ইয়াসিন বলে,
“- তুমি এটা ঠিক করলে না মৃত্তি। আমি ইয়াসিন কথা দিচ্ছি, দু দিনের মধ্যে রুবিকে বিয়ে করবো। আর প্রথম কার্ডটা তুমিই পাবে”।
রুহ্ কেঁপে ওঠে মেয়েটার। যন্ত্রণায় বুক ছিঁড়ে যায়। এই ইয়াসিনকে সে চেনে না। এই মানুষটা কি করে তার ভালোবাসার মানুষ হয়? মানুষ চিনতে এতটা ভুল কি করে করল মৃত্তিকা? পিছু ফিরে ইয়াসিনকে শেষবারের মতো দেখে নেয় মৃত্তিকা। আলতো হেসে বলে,
“- বেশ, আমি আসবো”।
রুবি মেয়েটা সুন্দর। তার দেহের গঠন মারাত্মক। মৃত্তিকার সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন বেশ কয়েকবার রুবির সাথে দেখা হয়েছে ইয়াসিনের। যেহেতু একই ভার্সিটিতে পড়ে ওরা, ইয়াসিন মৃত্তিকাকে পৌঁছে দিত। রুবি ফোন কলে ইয়াসিনের সাথে কথাও বলেছে মৃত্তিকার পাশে বসে। তখন কি বুঝতো রুবি আর ইয়াসিনের মনে অন্য কিছু থাকবে? মৃত্তিকার মন ও মস্তিষ্কে মন্দ বলে কিছু নেই। তার চোখে সবই ভালো। ইয়াসিন রুবিকে শালী বলে ডাকতো, রুবি দুলাভাই বলে সম্বোধন করতো। এসব সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিতো। ইয়াসিনের প্রতি যতটা বিশ্বাস, ভরসা ছিল, ততটাই ছিল রুবির প্রতি। মেয়েটার সাথে অনেকটা সময় কাটিয়েছে সে। একত্রে কতশত সিনেমা দেখেছে ওরা, পড়াশোনায় একে অপরকে সবরকম সাহায্য করেছে। সেই রুবি এমনটা করবে মৃত্তিকা ভাবতে পারেনি। মাস দুয়েক আগে থেকে ইয়াসিনের ফোন ব্যস্ত দেখায় অনেকটা সময়। মৃত্তিকা সন্দেহ করেনি, প্রশ্ন করলে সাজিয়ে গুছিয়ে উত্তর দিয়েছে ইয়াসিন। তখনো ভাবতে পারেনি ইয়াসিনের ব্যস্ততার কারণ তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবী রুবিনা হক।
বাড়িতে ফিরে মৃত্তিকা তার মা-বাবার ঘরে গিয়ে বসে। মৃত্তিকার বাবা বাড়ি নেই, দোকানে গেছেন। মৃত্তিকার মা বসে ইরহামের সাথে লুডু খেলছে। মৃত্তিকা মায়ের পাশে এসে বসে। জড়িয়ে ধরে মায়ের পিঠ। বলে,
“- তোমাকে একটা কথা বলার আছে মা”।
খেলা থেকে মনোযোগ সরিয়ে মৃত্তিকার মা হাসিমুখে বলে,
“- এত ক্লান্ত লাগছে কেন তোকে? চোখ-মুখের এই দশা কেন”?
মৃত্তিকা হাসে মায়ের বিচলিত কণ্ঠ শুনে। গলায় কান্নারা আটকে থাকে। বারবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে মৃত্তিকা। মলিন স্বরে বলে,
“- আচ্ছা মা, তুমি আমায় কতটুকু ভালোবাসো”?
“- ভালোবাসা পরিমাপ করার যন্ত্র থাকলে দেখিয়ে দিতাম”।
“-, যদি জানতে পারো ইয়াসিনের সাথে আমার বিয়েটা হচ্ছে না, খুব মন খারাপ হবে তোমার”?
আঁতকে ওঠে মৃত্তিকার মা। বলে,
“- এসব কি বলছিস”?
“- ঠিকই বলছি। রুবির সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে ইয়াসিন। আমি ওদের চুমু খেতে দেখেছি”।
বলার সাথে সাথেই মৃত্তিকার মা চমকে ওঠেন। বিস্ফোরক হয় ঘরটায়।
“- কি বলছিস এসব? আল্লাহ্!
“- ওরা দুজন মিলে আমাকে ঠকিয়েছে। দু দিনের মধ্যে ওরা বিয়েও করে ফেলবে”।
“- এখন তোর কি হবে মৃত্ত? রুবি এইসব করতে পারল? ওকে আমি নিজ হাতে খাইয়েছি, মেয়ে বলে ভেবেছি ও কিভাবে করল? সবাই জানে তোর বিয়ে ইয়াসিনের সাথে। এখন আমরা কি করবো”?
মৃত্তিকা শান্ত কণ্ঠে বলে,
“- কেউ কারো ভাগ্য কেড়ে নিতে পারে না। আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছি মা। এ ভুলের শাস্তি আমাকে এখন পেতে হচ্ছে।
দু হাতে মোনাজাত তুলে মৃত্তিকার মা বলে,
“- আল্লাহ্ তোমার কাছে ফরিয়াদ, ওই মেয়েকে তুমি সুখ দিয়ো না। আমার মেয়ের সুখ, সাধনা যে কেড়ে নিয়েছে সে যেন পচতে পচতে মরে”।
মৃত্তিকা ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে। মায়ের বুকে মুখ থুবড়ে দাপিয়ে কাঁদে। তাদের কান্নায় কেঁদে ফেলে ইরহামও। জাহানারা এসে সবটা জেনে হতভম্ব হয়ে যায়। বিয়েটা ভাঙায় সে বড়ই নারাজ হয়েছে তা বুঝে যায় মৃত্তিকা।
হাসপাতালের বেডে আধশোয়া হয়ে আছে শান্ত। বেডের পাশে চেয়ার টেনে বসেছে রূপক। শান্তর দিকে পা দিয়ে বেডের একপাশে শুয়েছে আফিম। আরেকটি বেডে দু পা ফাঁক করে শুয়ে শুয়ে চুইংগাম চিবোচ্ছে রায়ান। শান্ত বিরস চোখে তাকিয়ে আছে সকলের দিকে। কেউ ফোন স্ক্রল করছে, কেউ প্রেমিকার সাথে কথা বলতে ব্যস্ত। এদিকে সে হাত পা ভেঙে, গলা কেটে বসে আছে, সেদিকে কারো হেলদোল নেই। ফিনাইলের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জানালা দিয়ে শীতল বাতাস ঘরে প্রবেশ করছে। করিডোরে পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
বন্ধুদের থেকে পাত্তা না পেয়ে শান্ত ধমকে বলে,
“- তোদের সমস্যা কি? আমাকে দেখতে এসে নিজেরাই রোগীর মতো শুয়ে আছিস। আমি কেমন আছি অন্তত জিজ্ঞেস কর”।
রূপক কান থেকে ফোন সরিয়ে বলে,
“- তুই কেমন আছিস তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। কথা খরচ করবো কোন দুঃখে”?
শান্ত দাঁতে দাঁত পিষে। জোরে কথা বলতে নিতেই তার গলায় টান পরে। চামড়া ছিলে গেছে তার। পাশের এলাকার রুদ্র নামের এক ছেলে তার দলবল নিয়ে আফিমদের এলাকায় চাঁদাবাজি করতে এসেছে। বিষয়টা আফিমের কানে পৌঁছাতেই রাস্তার মাঝেই রুদ্রকে মারতে থাকে আফিম। স্থান, কাল ভুলে একের পর এক আঘাত করে রুদ্রকে। কোনো রকম ভয় না করে লাঠি হাতে তুলে নেয় সে। রুদ্রর দল আফিমের দিকে এগুতেই রূপক, রায়ান প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে ছুটে যায়। কোনোদিন মারামারি না করা শান্ত নামের শান্ত ছেলেটি আফিমকে বাঁচাতে ঢুকে যায় গোলমালে। অগত্যা বিপক্ষ দলের হাতে মার খেয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এতকিছু করার পরেও আফিমের মাঝে কৃতজ্ঞতার রেশ নেই।
“- তোর জন্য কতটা কষ্ট পাচ্ছি, দেখছিস”?
গা ছাড়া ভাবে উত্তর দেয় আফিম,
“-, দেখতেই তো এলাম”।
“- তাহলে ফোনে কি করছিস? এসে থেকে দেখছি শুয়েই আছিস”।
আফিম চট করে উঠে বসে। বলে,
“- আমি আজকে হাসপাতালে তোর সাথে থাকবো”।
রূপক সাথে সাথে ফোন রেখে বলে,
“-, পাগল হয়েছিস? তোর বাপ আমাদের মাথা খারাপ করে দেবে”।
“- ব্লক করে দে”।
রায়ান বলে ওঠে,
“- এসব ঠিক করছিস না আফিম। আঙ্কেল রেগে যাবে”।
“- তার রাগের কেয়ার করি আমি”?
শান্ত নত স্বরে বলে ওঠে,
“- আঙ্কেলের সাথে তোর বনে না কেন রে? আঙ্কেল তোকে অনেক ভালোবাসে। আমার তো বাপই নেই আর তুই পেয়েও মূল্য দিচ্ছিস না”।
“- সে আমার কথা শোনে না, আমি তার কথা কেন শুনতে যাবো”?
ইয়াসিন তার কথা রেখেছে। সবার প্রথমে বিয়ের কার্ড মৃত্তিকার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। বিয়ের কার্ডে জ্বলজ্বল করছে ইয়াসিন আর রুবির নাম। মৃত্তিকা জানতে পেরেছে বিয়েতে ইয়াসিনের পরিবারের সবার মত আছে। রুবির বাবা কানাডায় থাকেন। বাড়িঘরের অবস্থা বেশ ভালো। মৃত্তিকার মতো দুঃখ দুর্দশা নেই রুবির, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তাড়াও নেই। সর্বোপরি রুবিকে সবার পছন্দ হয়েছে। জানার পর আরো এক চোট কাঁদে মৃত্তিকা। ইয়াসিনের মা-বাবা তো মৃত্তিকাকে পছন্দ করতো, একদিনের মাঝেই পছন্দ বদলে যায় কি করে?
বাড়ির সবার মন খারাপ। মৃত্তিকার ভাবি আজ সারাদিন চেতে আছে। ইরহামকে আজ ইচ্ছে করেই মৃত্তিকার কাছে আসতে দেয়নি জাহানারা। মেহমেত অফিস থেকে ফেরার পর জাহানারা সব বলেছে। আরো কতগুলো কথা বানিয়ে বানিয়ে বলেছে। মেহমেত টু শব্দও করেনি। সে বউ পাগল মানুষ, জাহানারাকে ভালো বেসে বিয়ে করেছে সে। স্ত্রীর সব কথা সে মানে। মৃত্তিকা আড়ি পেতে শুনেছে সব। জাহানারা বলেছে মৃত্তিকার জন্য অন্য ছেলে দেখতে। এভাবে কতদিন আর তার ভরনপোষণ চালাবে মেহমেত? বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে মৃত্তিকার, এদিক ওদিক টিউশনিতে যায়, কখন কি হয়ে যায়। আবার কার সাথে জড়িয়ে পরে। ইয়াসিনের মতো ছেলের জন্য যে মেয়ে পাগল হতে পারে, সে অন্য ছেলের সাথেও জড়িয়ে যেতে পারে।
সব শুনে স্তব্ধ মৃত্তিকা। আড়ি পাতার স্বভাব তার নেই। তবুও সে জানতে চায় সবার মনোভাব। ভাবির কটু কথা সে গিলে নেয় ঠিকই, কিন্তু বড় ভাইয়ের নত কণ্ঠ তাকে আহত করে।
বিয়ে আজ রাতে। সন্ধ্যায় সাজগোজ করতে ব্যস্ত হয়ে পরে মৃত্তিকা। মিষ্টি রঙের কাতানের শাড়ি পরে সে। চোখে কাজল, মুখে পাউডার, ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টক পরে সে। পিঠে ছড়িয়ে দেয় ঘন চুলগুলোকে। জাহানারা তাকে দেখে মুখ বাঁকায়। কোমরে হাত রেখে বলে,
“- তোমার কি লজ্জা করে না মৃত্তিকা? হবু বরের বিয়ে খেতে যাচ্ছো। বিয়ে ভাঙায় তোমার মনে দুঃখ কষ্টের রেশও দেখতে পাচ্ছি না”।
মৃত্তিকা আয়না থেকে নজর সরায়। গাল দুটো ফের ভিজে ওঠে। আলতো করে গাল ঘষে বলে,
“- কান্নাকাটি করে কি হবে ভাবি? বিয়েটা কি আটকে থাকবে”?
“- তাই বলে তুমি বিয়ে খেতে যাবে? আমি হলে কোনোদিন বাড়ি থেকে বের হতাম না”।
মৃত্তিকা হাসে। বলে,
“- তুমি হলে কি করতে জানি না।, কিন্তু আমি তো আমিই। আমাকে বাঁচতে হবে আমার বাবার জন্য, মায়ের জন্য। আমি আটকে গেলে তাদের জীবন ও থমকে যাবে”।
শাড়ির আঁচল গুছিয়ে, কিছুটা সেজেগুজে মৃত্তিকা ইয়াসিনের বলা কমিউনিটি সেন্টারে আসে। খুব দ্রুত বিয়েটা হওয়ায় বাড়িতে আর আয়োজন করেনি ওরা। কমিউনিটি সেন্টার খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, অনেক অতিথি এসেছে। মৃত্তিকা আসার পথে একটা শাড়ি কিনেছে দু হাজার টাকা দিয়ে। যতই হোক বান্ধবী আর বয়ফ্রেন্ডের বিয়ে বলে কথা, উপহার না নিয়ে আসা যায়? মৃত্তিকাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। সচরাচর সে সাজগোজ করে না। হঠাৎ করে সাজায় তাকে অত্যন্ত আবেদনময়ী দেখাচ্ছে। ফর্সা ত্বক হওয়ায় ঠোঁটে লাল লিপস্টিক মানাচ্ছে খুব।
কমিউনিটি সেন্টারটি দূর থেকেই চোখে পড়ছে। আলো দিয়ে সাজানো জায়গাটা। বড় ফটক, ঝকঝকে আলো আর রঙিন ব্যানারে লিখে রাখা বর-কনের নাম। ফটকের দু’পাশে ফুলের তোড়া আর আলোর সাজ, যেন অতিথিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত একটি আলোকোজ্জ্বল প্রবেশদ্বার।
ভেতরে ঢুকতেই প্রশস্ত হলঘর। চকচকে মেঝে, উঁচু ছাদ আর সারি সারি সাজানো চেয়ার। দেয়ালজুড়ে ঝুলছে নরম আলো, রঙিন কাপড় আর ফুলের মালা। কোথাও সাদা আর সোনালি থিম, কোথাও লাল-সবুজের ছোঁয়া। মৃত্তিকার ঠোঁট কেঁপে ওঠে তিরতির করে। বুকের ভিতরটা জ্বলে ওঠে। ইয়াসিনের পাশে হাস্যজ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে রুবি। পরনে ভারি লেহেঙ্গা, মুখে দামী প্রসাধনী। মৃত্তিকাকে দেখে মেয়েটা হেসে ওঠে। তার সুখ দেখে মৃত্তিকার বুকের ভেতর চিনচিন করে ওঠে। আচমকা গা গুলিয়ে আসে মৃত্তিকার। বমি পায় খুব ওয়াক ওয়াক করে সেন্টার থেকে ওয়াশরুমের দিকে ছুটতেই শক্তপোক্ত শরীরের সাথে ধাক্কা খায় মৃত্তিকা। খেই হারিয়ে ফেলে সে। আচমকা গলগল করে বমি করে দেয় সম্মুখের মানুষটির শার্টের বুকের অংশে। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে মৃত্তিকার। ঘোলাটে, অস্পষ্ট চোখে দানবীয় শরীরের সুদর্শন পুরুষটিকে দেখে মৃত্তিকা হেলে যায়। অস্ফুট স্বরে “ আফিম” নামটি উচ্চারণ করে পিছনে হেলে পরলেই তার কোমল উদর চেপে ধরে আফিম। প্রথমবার নারীর শরীরে আঙুল ছোঁয়াতেই চিত্ত চনমনে হয়ে ওঠে ছেলেটার। বিদ্যুতের ঝটকা খায় সে। জিভ দিয়ে শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে ডাকে,
“- অ্যাই মেয়ে, ওঠ।”
মৃত্তিকা জ্ঞান হারায়নি। মাথা ঘুরে গেছে। আবছা আবছা আফিমকে দেখে সে। ফের গলগল করে বমি করে দেয় আফিমের গায়ে। মুখ কুঁচকে ফেলে আফিম। মেয়েলী সুঘ্রাণ ধামাচাপা পরে বমির তিক্ততায়। পরণের কালো ব্লেজারটি নষ্ট হয়ে যায় আফিমের। চট করে দামী ব্লেজারটা গা থেকে খুলে ছুঁড়ে মারে সে। পাজোকোলে তুলে নেয় মৃত্তিকাকে। কমিউনিটি সেন্টারের একটি রুমের দিকে মৃত্তিকাকে তুলে এগিয়ে যেতে যেতে পেছনে থাকা রূপককে বলে ওঠে,
“- ডাক্তার ডাক, এই মেয়ে চিৎপটাং হলো কি করে জানা লাগবে। জলদি যা”।
বন্ধুর আদেশ পেয়ে রূপক আর রায়ান সেন্টার থেকে কিছুটা দূরের ফার্মেসির ডাক্তারকে নিয়ে আসতে যায়। গুটিকয়েক লোকের দৃষ্টি পরে আফিমদের দিকে। বাকিরা হাসিমজায় ব্যস্ত। রুবিদের কাছে এ ঘটনা পৌঁছায়নি। আফিম রুমের একটি বড় চেয়ারে বসায় মৃত্তিকাকে। প্রথমবার নারীর দেহে স্পর্শ করায় তার হৃদপিণ্ড দ্রুত গতিতে ছুটছে, চনমনে হয়ে উঠেছে দেহ। আড়চোখে মৃত্তিকার দিকে তাকায় আফিম। বলতে দ্বিধা নেই মেয়েটি সুন্দর, মাত্রাতিরিক্ত সুন্দর। টকটকে লাল লিপস্টিক দেওয়ায় ঠোঁট জোড়া মারাত্মক লাগছে। আফিম তার বুকের পা পাশে হাত চেপে ধরে। হৃদপিণ্ডের ধরফরানি দেখে তার নিজেরই বিরক্ত লাগছে পুরে শরীর শকড খেয়েছে মনে হচ্ছে। ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে বুক চেপে ধরে রাখে আফিম। বারংবার নজর পরে সুন্দরী রমণীর মুখশ্রীতে। কয়েক দফা ঢোগ গিলে ছেলেটা সম্মোহনী কণ্ঠে বলে ওঠে,
“- সাধেই কি বলে শাড়িতে নারী? জীবনে বহুত মেয়ে মানুষ দেখেছি। এ মেয়ের মতো রূপ কারো নেই। একেবারে আগুন সুন্দরী”।
চলবে?
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ
নোটঃ গল্পটা খুব সাদামাটা হবে। একদম বাস্তবিক। আর পেজে সাত হাজার ফলোয়ার্স হলে পর্ব কালই আসবে। তাই একটু🤌
Share On:
TAGS: ওরা মনের গোপন চেনে না, বৃষ্টি শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১১
-
ওরা মনের গোপন চেনে না গল্পের লিংক
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ১০
-
ওরা মনের গোপন চেনেনা পর্ব ৬
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ৪
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ৫
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ২
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ৯
-
ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ৭+৮