Golpo ডিফেন্স রিলেটেড মেজর ওয়াসিফ

মেজর ওয়াসিফ পর্ব পর্ব ২৭


লেখনীতেঐশীরহমান

পর্ব(২৭)

ধারা শুয়ে পড়ার পরপরই টের পায় বিছানার ওপাশটাতে ওয়াসিফ শুয়ে পড়েছে। এ ঘরের পুরোটা অন্ধকার থাকলেও ড্রেসিং টেবিলের উপর ছোট চার্জার লাইটটা জ্বলছে এবং তার আলো সামান্য এসে পড়েছে বিছানায়। ওয়াসিফ শুয়ে পড়েছে টের পেতেই ধারা আস্তে করে শাড়ির আঁচলটা মুখ থেকে সরিয়ে পিটপিট করে তাকিয়ে দেখে, লোকটা ওপাশ ঘুরে শুয়েছে। এবার মুখ থেকে শাড়ির আঁচল পুরোটা সরিয়ে ধারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে তার আগোচরে সেই মানুষটাকে।

এই লোকটার সবকিছুই যেনো অন্য রকম, কোনো কিছুতেই কারো সঙ্গে মিলমিশ নেই। আবছা আলোয় ধারা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। আর্মি ছাঁটে চুলগুলো পেছন থেকে এমন ভাবে ছাটা মাথার চামড়া পরযন্ত চোখে ফুটে ওঠে। কি সুন্দর সবকিছুতেই মানিয়ে যায় লোকটাকে। শ্যামলা মুখটার অদলে এক গম্ভীরতা ফুটে ওঠে সবসময়। লোকটার উচ্চতা, গায়ের ঐ শ্যামলা রঙটা, উঁচু গলায় কথা বলা সবকিছুই ঝড় তুলেছিলো ষোড়শীর মনে। আর আজ! লোকটার পাশে শয়ন করেও, হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গেলে কোথা থেকে যেনো এক টুকরো দুঃখ এসে ভার করে সেই মনে। মন ডেকে বলে, স্বার্থপর পুরুষ কাছে ডাকতেই যেতে নেই তার কাছে। রয়ে সয়ে নিজের ঠাট ধরে রাখতে হয়। ওতো সস্তা বানাতে হয়না নিজেকে।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই লম্বা দম নেয় ধারা, আলগোছ পাশ ঘুরে চোখ দুটো বন্ধ করে নিতেই সারাদিনের ক্লান্তিরা এসে ভীড় জমায় ওর দুচোখের পাতায়।


গোলাপ আর রজনীগন্ধার মিশেলে এ ঘরটা সেই সন্ধ্যা রাতেই সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে গিয়েছিলো ধারা। সেই ফুল দিয়ে সাজানো খাটের মধ্য বিন্দু হয়ে বসে আছে লুইপা। অফিশিয়াল একটা ফোন শেষ করে বারান্দা থেকে সামির ঘরে ঢুকলো সবে।

বিবাহ পরবর্তী এই সময়টুকুতে সামির খুব চেষ্টা করছে নিজেকে নরমাল রাখতে। পুরুষ মানুষ, মেয়েদের মতো লজ্জা করলে কি চলে? লজ্জা পাওয়া ওটা তো মেয়েদের অধিকার। ঘরে ঢুকে গলাটা সহজ করে সামির বলে।

‘ নেটওয়ার্কে বড্ড ডিসটার্ব করলো, আপনারা নিশ্চয় প্রতিনিয়ত এটাতে ভোগেন’

তিন কবুল বলার পর থেকে লুইপা আর কাঁদেননি কোনো পর পুরুষের জন্য। ও বরাবরই শক্ত ধাছের মেয়ে, তবুও কেনো যে সেদিন ঐ মহাপাপ করতে যাচ্ছিলো? এখন ও কথা ভাবলেও নিজের উপর রাগ লাগে ওর। নিজেকে সহজ রেখে সামিরের কথার জবাব দেয়।

‘ জি আমাদের এখানে নেটওয়ার্কের অবস্থা অনেক খারাপ। একটু ঝড়, বৃষ্টি হলেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না ‘

সামির তাকিয়ে দেখে তার নব বধূকে। দোপাট্টা এখন আর মাথায় নেই তবে শাড়ির আঁচল তুলেছে মাথায়। উজ্জ্বল শ্যামলা চেহারায় খয়েরি রঙের জামদানি শাড়িটা বেশ চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। সামির আরো নিখুঁত ভাবে তাকিয়ে দেখে গোলগাল হাত দু’টো তে ওর মায়ের সোনার বালা জোড়া কি উজ্জ্বল হয়ে ওর চোখে পড়ছে। সময় নিয়ে সামির দেখতে থাকে তার অপরুপা বৌ কে, যাকে বলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা।
আচমকাই লুইপা মাথা তুলে চাইতেই দুজনের চোখের দৃষ্টি এক অপরের সঙ্গে মিলিত হয়। লুইপা চট করে মাথা নুইয়ে ফেলে। সামির সামান্য হেঁসে বুক ভরে দম টেনে মনে মনে বলে।

‘ ধন্যবাদ স্যার! আপনার বোন চমৎকার একটি ফুল, আমার মরুভূমির মতো জীবনে অতি চমৎকার ফুল হয়ে থাকবে আজীবন, আমি রেখে দেবো তাকে ফুল করে ‘

সামিরের স্থির দৃষ্টিতে নড়েচড়ে বসে লুইপা, লজ্জারা উড়ে এসে ওকে ঝাপটে ধরে। নিজেকে সামলে লুইপা বলে।

‘ সকালে চলে যাবেন, এই রাতটুকু ঘুমিয়ে নিন’

‘ আগামী সপ্তাহে আপনাকে নিতে আসবো। বিয়ে করে বৌ দূরে রাখা আমার পছন্দ না, আমি রাখবো না’

লুইপা চুপচাপ শোনে সে কথা, সামির উঠে এসে বিছানার ডানপাশে আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে পড়ে। বলে।

‘ ঐটুকু আলো থাকুক, নেভাতে হবেনা, শুয়ে পড়ুন লুইপা’

লুইপা ডানপাশে গুটিশুটি হয়ে শুয়ে পড়তেই সামির বলে।

‘ এরাতে আপনাকে উপহার কিছু দিতে পারিনি, আপনি কিন্তু মাইন্ড করবেন না। আসলে এ মাসের স্যালারি পুরোটাই খরচ হয়ে গেছে। আপনাকে নিয়ে যখন কটেজে তুলবো, কটেজের প্রথম রাতে আপনার উপহার আপনি বুঝিয়া পাইবেন। কারণ কটেজের প্রথম রাতও আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, ঐখানে আমাদের ছোটখাটো সংসার জীবনের সূচনা হবে’

লুইপা ভীষণ মনোযোগ দিয়ে শুনলো কথাগুলো, জবাবে কিছুই বললোনা। তবে ওর কাছে এই মানুষটাকে ভীষণ সহজ মনে হচ্ছে। ওর কেনো জানি না মনে হচ্ছে ভবিষ্যতে এই লোকটার সঙ্গে ওর অতি দারুণ একটা সংসার হতে চলেছে।

এরপর সামির একটা হাত বাড়িয়ে রাখলো বিছানার মাঝ বরাবর, লুইপার উদ্দেশ্যে বললো।

‘ সংসার বড্ড জটিল একটা জায়গা, এখানে আমাদের হতে হবে সহজ, আমরা যতো সহজ হবো ততই সংসার নামক জায়গাটার জটিলতা কমবে। লুইপা! আপনি চাইলে বাড়িয়ে রাখা হাতটা ছুঁতে পারেন এবং সেটা খুব সহজ এবং নির্বিঘ্নে ‘

লুইপা মৃদু আলোয়া তাকিয়ে দেখে সামিরের বাড়িয়ে রাখা হাতটা। লোকটা মোটেও ওর দিকে তাকিয়ে নেই। সোজা সটান হয়ে শুয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। লুইপা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে ওর কাঁপতে থাকা হাতটা সামিরের হাত ছুঁতেই সামির হাতটা আলগোছে নিজের হাতে আয়ত্তে নিলো। এবং অদ্ভুত ভাবে লুইপা টের পেলো ওর হাত এখন আর কাঁপছে না, একটুও খারাপ লাগছেনা এই পুরুষটার ছোঁয়া। বরং মনে হচ্ছে এখানেই ওর শান্তি মিললো বুঝি। আস্তে করে সামির বললো।

‘ ঘুমিয়ে পড়ুন লুইপা, অনেক ধকল সামলেছেন আজ’

লুইপা ঘুমালো কি না কে জানে? তবে সামির ঘুমোয়নি। ওভাবে বৌয়ের হাতটা চেপে রেখে চোখ বন্ধ করতেই ওর চোখে ভাসে সেই দৃশ্য।

ওরা আজ অফিশিয়াল কাজে রাঙামাটি গিয়েছিলো, সেখানে হঠাৎ স্যারের ফোনকল। স্পষ্ট কন্ঠে কোনো রকম ভণিতা ছাড়াই স্যার বললেন।

‘ সেদিন না বলেছিলে ভদ্র সভ্য একটা মেয়ে পেলে বিয়ে করবে?আরিয়ানকে নাকি মজা করে বলেছিলে স্যারের একটা বোন হলে মন্দ হয়না’

স্যারের মুখে ঐটুকু কথা শুনেই গলা শুকিয়ে এসেছিলো সামিরের। আরিয়ানের উপর রাগে ফেটে পড়ছিলো, কেনো ওর সব কথা স্যারকে বলতে হবে। তবে পরপরই ওয়াসিফের কন্ঠ শুনে ও থ হয়ে ছিলো মিনিট খানেকের বেশি। যখন স্যার বলেছিলো।

‘ আমার বোনকে বিয়ে করতে হলে আজই চলে এসো। তোমার সামর্থ্যে যা আছে তাই নিয়ে এসো, তবে এখনি এসো, আজই এসো’

ঐ মুহূর্তে সামির যে ঠিক ছিলো এটাই অনেক, ওর সঙ্গে কি হচ্ছে না হচ্ছে বুঝে ওঠায় আগেই যেনো চমৎকার একটি অধ্যায় ঘোষিত হলো ওর জীবনে।


দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে আসছে, ঘুম ভাঙলো ওয়াসিফের। ঘুম ভেঙে বাম পাশে ঘুরতেই আচমকা চোখ আঁটকে গেলো এক অপার্থিব সৌন্দর্য নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা নিষ্পাপ মুখটার দিকে। গায়ের শাড়িটা এলোমেলো হয়ে আছে বুকের উপর থেকে। নারীদেহের সৌন্দর্যে ভীষণ ভাবে আঁটকে গেলো এক কঠোর মনের পুরুষের চোখ জোড়া। ওয়াসিফ চোখের পলক ফেলে দ্রুত চোখ সরিয়ে তাকায় অন্য দিকে। ঠোঁট কামড়ে হেঁসে ফেলে পুনরায় তাকায় ধারার দিকে। মেয়েটা ঘুমিয়ে গেলে যে এভাবে পুরোটা এলোমেলো হয়ে যায় একথা কে জানে?

ওয়াসিফের চোখ জোড়া ধারার ঘুমন্ত মুখটার দিকে স্থির রেখেই ওয়াসিফ এগিয়ে এসে ঝুঁকে সামান্য। খুব কাছ থেকে বৌয়ের সরলতা টুকু দেখতে থাকে চুপচাপ। ঘুমন্ত গভীর শ্বাস মুখে লাগছে ওয়াসিফের। ওভাবেই তাকিয়ে থাকে এক দৃষ্টিতে কতক্ষণ যে দেখলো মেজর শাহেদ ওয়াসিফ তার এক রত্তি বৌকে তার হিসেব নেই। আচমকা ই ওয়াসিফ হেসে ফেলে নিঃশব্দে। কপাল, মুখের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চুলগুলো কে আলগোছে আঙুলে সরিয়ে দিতে দিতে ওয়াসিফ বলে।

‘ এতটুকুন একটা শরীর, তাতে এতো রাগ, অভিমান, জেদ কোথায় থাকে’?

ঘুমন্ত ধারা একথার জবাব দিতে পারলোনা তবে শরীর নাড়িয়ে একটু নড়লো, ওয়াসিফ বৌয়ের ওমন নড়ে ওঠায় এক চুলও সরলো না, ওভাবেই ঝুঁকে রইলো সরল মুখটার দিকে।
ওভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিভে আসা চোখদুটো আচমকাই আঁটকে গেলো চিকন পাতলা ঠোঁট জোড়ার দিকে। গোলাপি আভায় ফুটে উঠেছে, বড্ড টানছে ওয়াসিফ কে। ততক্ষণে ওয়াসিফ চোখ সরিয়ে ঢোক গেলে।
এখানে নিষিদ্ধ শব্দ আসেনা, পবিত্র সম্পর্কে নিষিদ্ধতা আসে না কখনোই। তবে মেজর শাহেদ ওয়াসিফ এভাবে বৌয়ের অগোচরে ঠোঁটে চুমু খাওয়াটাকে বড্ড বেমানান হিসেবে দেখছে। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে বড্ড অসহায় বানিয়ে রেখেছে। ওয়াসিফ খুব করে চাইলো সরে যেতে তবে কোনো এক অদৃশ্য বলের কাছে হার মানে মেজর শাহেদ ওয়াসিফ পরপর চারটে চুমু বৌয়ের ঠোঁটে খেলো। এবং শেষ চুমুটা সময় নিয়ে পুরোটা আবেগ মিশিয়েই খেলো।

এবং বিপত্তি তখনই বাঁধলো যখন ওয়াসিফ মাথা তুলে চাইলো এবং দেখলো ধারা কড়া চোখো ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।

সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন বইটই এ। এখনো ডিসকাউন্ট চলছে। ৭৫ টাকার ইবুকটি কিনতে পারবেন মাত্র ৪৫ টাকায়। ই-বুক ক্রয় লিংক ও কিভাবে কি কিনবেন তার ভিডিও কমেন্ট বক্সে দেওয়া হলো।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply