পদ্মপ্রিয়া
পর্ব_৬
ঈশিতারহমানসানজিদা
লোভ রক্তের সম্পর্ক কেও ছিন্ন করে, লোভে পড়ে মানুষ পাপের কথা ভুলে যায়। ভুলে যায় আখিরাতের কথা, হাশরের ময়দানের বিচারের কথা। তারা হয়তো জানে না মন ভাঙা মানুষের সেজদা আল্লাহ কবুল করে না। রক্তের সম্পর্কের অমর্যাদা করলে কি ভয়ানক পরিণতি হবে তা বুঝলে হয়তো একাজ কেউই করতো না।
আমরা শুধু মানুষ কে কষ্ট দিতেই জানি, অথচ একটুখানি ভালোবাসা দিলে পৃথিবীতে শুধু ফুল ফুটতো, কাঁটা হতো তার উপমা। নূরের মতো ফুলের অনেক উপমা আছে হয়তো কিন্তু সে উপমা চাইলেই তার ভাই হতে পারত। পারত বোনকে আগলে রাখতে, সম্মান, সমাজের কথা ভেবে কাছের মানুষ কেই পর করে দিয়েছে। পৃথিবীতে ক্ষণিকের শান্তির জন্য নিজের মেয়েকেও বলিদান দিতে চাইছে। মানুষের মাথা কাজ না করলে হুটহাট ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সাহারার জন্য একটি ছেলে দেখেছে সাইমন, দেখতে ভদ্রলোক মনে হয়। বিদেশের একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে চাকরি করে, বিয়ের পর বউ নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিবে। এমনটাই কথা হয়েছে। শুধু কি তাই, ঘটা করে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে, পছন্দ হলে রিং পড়িয়ে রেখে যাবে।
হঠাৎ বাবা মায়ের এমন সিদ্ধান্তে স্তব্ধ সাহারা, প্রতিবাদ করার সময়টুকু পেলো না। মা তো খিটখিটে, বাবার সাথে তো কথা বলার সাহস নেই। সে আপাতত রাশেদ সাহেবের বুকে মাথা রেখে কাঁদছে। হেঁচকি তুলে ফেলেছে কাঁদতে কাঁদতে। পাশেই নূর অপরাধির মতো দাঁড়িয়ে আছে, রেহানা বেগম ছেলের কাজে মহা বিরক্ত। এখনই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার এতো তাড়া কিসের? সে কিছুটা ধেড়ে গলায় বললো, ‘ছেলেটার মাথাটা একেবারে গেছে, মেয়ের বয়স কত? এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার দরকার কি? আমাদের কি কম আছে, যে খাওয়া পড়ার সমস্যা হবে।’
রাশেদ সাহেব নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন,’সেটা তোমার ছেলেকে বলো, ওর গোবর ভরা মাথায় যে কিছু নেই তা আমার চেয়ে ভালো কে জানে। ও তো নিজের মেয়েকে বিয়ে দিতে চাইছে না, চাইছে আমার ছোট মেয়েকে বাড়ি থেকে সরাতে যাতে ওর হাতে ব্যবসা তুলে দেই।’
‘পুরোপুরি না দাও, শেয়ারে নিতে পারো তো। তাহলে এত তাড়াতাড়ি মেয়েটাকে বিয়ে দিতে চাইতো না। তাছাড়া তোমার মেয়ে এত বড় ব্যবসা কিভাবে সামলাবে? আজ বাদে কাল ওরও বিয়ে হবে, জামাই যদি কাজ করতে না দেয়? তারচেয়ে ভাইয়ের সাথে শেয়ারে থাকুক, সাইমন তো ওকে ফেলে দিবে না।’ রেহানা কঠোর দৃষ্টি দিলেন নূরের দিকে,’তুমি বাবাকে বোঝাও, নাহলে তোমাদের দু’জনের জন্য ওর লাইফ নষ্ট হবে।’
এবার রাশেদ সাহেব রেগে গেলেন,’আমি চোখ বুজলে তোমরা সবাই মিলে আমার মেয়েটার সাথে কি করবে তা ভালো করেই জানা আছে। বেঁচে থাকতে কত কিছু দেখেছি, ব্যবসাটা আমি নূরকেই দিব। তোমার ছেলে যত ফাঁদ পাতুক, আমাকে আটকাতে পারবে না। আমার মেয়ের জন্য আমি আছি, এমন পাত্রের হাতে তুলে দিব যে ওকে সম্মান করবে, ওর কাজের সাথি হবে।’
রেহানা কথা বলেন না, আজকাল তার কথা বলতে ভালো লাগে না খুব একটা। একা একা থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। রাশেদ সাহেব সাহারা কে উদ্দেশ্য করে বলে,’তোর বাবার কথা ছাড়, ওকে আমি সামলে নিব। তোকে আমি দেখে শুনে বিয়ে দিব, দাদু ভাইয়ের উপর ভরসা আছে তোর?’
সাহারা মাথা তুলে তাকায়, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলে,’কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা দাদুভাই। পড়াশোনা করতে চাই, চাকরি করতে চাই।’
হতাশার নিঃশ্বাস ছেড়ে রাশেদ সাহেব বলেন,’আমি তোর বিয়ে আটকাতে পারব না, তোর বাবা আমার কথা শুনবে না। কিন্তু একটা ভালো পাত্র ঠিক করে দিতে পারি। যেখানে তুই পূর্ণ স্বাধীনতা পাবি। এবার তুই বল কি চাস? ভালো মন্দের পার্থক্য আশা করি বুঝিস।’
নূর বাবার পাশে বসে বললো,’মাম্মামের লাইফ শেষ হতে দিও না আব্বু, তুমি একটা ভালো ছেলে দেখো।’
সাহারার মন খারাপ কমে না। সে চুপচাপ রুম ছেড়ে বেরিয়ে যায়। নূর ওর পেছন পেছন যায়। হাত টেনে ধরে বলে,’এভাবে কেঁদো না প্লিজ, আমার খারাপ লাগছে। তোমার হাসি সুন্দর অনেক।’
‘কি করব বল? এভাবে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া দেখতে পারব না।’
‘আব্বু তো বলেছে সে ভালো পাত্র দেখবে, নামাজ পড়েছো?’
মাথা এপাশ ওপাশ দুলিয়ে না বোঝায় সে। নূর ঠোঁট উল্টে বলে,’নিজের মনের কথাগুলো তাকে না বললে সমাধান করবে কিভাবে? আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে সে কখনোই ফিরিয়ে দেয়না। নামাজের সময় হয়ে গেছে। তুমি নামাজ পড়ো আমিও যাই। অনেকগুলো অর্ডার জমে আছে। দেরি হলে আব্বুকে কথা শুনতে হবে।’
সাহারা মাথা নাড়ে, তার কান্না কমে এসেছে। নূরের কথা মেনে সে নামাজে দাঁড়ায়। হুট করেই কেমন শান্তি অনুভব করে সে। ভীষণ ভালো লাগা শুরু করে।
নূর নামাজ শেষে কোরআন পড়তে পারে না আজ। আজমাঈনের বাড়ির কাজ ধরে, আসবাবপত্র, রং, লাইটিং এর ডিজাইন গুলো সিলেক্ট করতে হবে। যদিও পুরোটা শেষ করতে পারবে না তবুও যতটুকু সম্ভব শেষ করবে।
ফোনে সূরা আর রহমান চালিয়ে দিয়ে কাজে মন দিলো সে। ঘুমাতে ঘুমাতে বেশ দেরি হলো। প্রায় তিনটা বাজতে চলছে, একেবারে তাহাজ্জুদ পড়ে ঘুমালো। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস আছে ওর, ফজরের নামাজ পড়ে আগে ছাদে যায় সে, প্রতিদিন ভোর হতেই আসে। এই ছাদ ওর শান্তির জায়গা। চারিপাশে নানা ধরনের গাছ। লাল, হলুদ গোলাপ, হাজারি গোলাপ, অর্কিড, কাঠগোলাপ সহ আরো নানা রকমের গাছ। সে বিশেষ ভাবে এগুলোর যত্ন নেয়। সকাল বিকাল দুই বেলা গাছের পরিচর্যা করে। ছাদের এক কোণায় বেশ বড়সড় একটি চৌবাচ্চা রয়েছে, সেখানে কিছু পদ্মফুল ফুটে আছে। দেখলেই হাসি ফোটে নূরের মুখে। তার সবচেয়ে পছন্দের ফুল এটা। এদের স্পেশালে ভাবে যত্ন করে সে।
যখন বৃষ্টি হয়, নূর ছুটে আসে ছাদে, টিপটিপ করে বৃষ্টির পানি যখন চৌবাচ্চায় পড়ে তখন পানির সাথে সাথে পদ্মপাতা গুলো দুলে ওঠে, পানির ঢেউ এসে দুলিয়ে দেয় তাদের। দেখতে বড়ই ভালো লাগে। নূরের খুশি আর ধরে না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে চোখে পলক ফেলতে ফেলতে উচ্ছাসিত হয়ে দেখে সে। ভাবে কতই না সুন্দর সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি, যতই দেখে ততই মুগ্ধ হয়। গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে কিছু গাছের পাতা কেটে দিলো সে। তারপর ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো, সকালের বাতাস তার ভীষণ পছন্দের। বেশিক্ষণ থাকা হলো না, অনুপমার ডাকে তাকে নিচে নেমে আসতে হলো।
নীচতলায় দুটো বেডরুম, একটা রাশেদ সাহেব ও রেহানার আরেকটা অনুপমা ও সাইমনের। বাকি অংশে রয়েছে বিশাল ড্রইংরুম, কিচেন ও স্টোররুম। দোতলায় চারটে রুম, সিঁড়ি বেয়ে উঠলে পরপর রুমগুলো। নূর একদম শেষের রুমে থাকে তার পাশের রুমটা সাহারার। অনুভবের পাশের রুমটা গেস্ট রুম, যদিও এই বাড়িতে তেমন গেস্ট আসেনা।
নূর দ্রুত নিচে নেমেছে। অনুপমা দু’জন মেইড কে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে কি কি রান্না করতে হবে। সে নিজে রান্না ঘরে যায়না বছর ছয়েক হলো। আগে রান্না করলেও এখন তার ভালো লাগে না। এই বয়সে এসে রূপচর্চায় মন দিয়েছে। নূর কে দেখেই সে বলে উঠলো,’আজ সাহারা কে দেখতে আসবে জানো নিশ্চয়ই?’ উত্তর শোনার প্রয়োজন বোধ করলো না, ‘তুমি ওদের সাথে কয়েকপদ রান্না করো, তোমার কিছু কিছু রান্না ভালো। কয়েক রকমের জুস রেখো, বোরহানি রাখবে।’
নূর হাল্কা মাথা নাড়ে। অনুপমা বলে,’আমি গিয়ে দেখি সাহারা উঠেছে কিনা। ওনারা দশটার মধ্যে চলে আসবে। আগে নাস্তা রেডি করে ফেলো সবাই।’
না বললেও নূর নিজেই কাজে হাত লাগাতো, তাছাড়া অনুপমা কখনো নূরকে রান্নার কথা বলে না। ওর রান্না খেয়েও কখনো প্রশংসা করে না। আজ যেহেতু বলেছে, একটু বেশি সময় নিয়ে রান্না করবে সে। আমের শরবত এবং লাচ্ছি বানিয়ে চট জলদি ফ্রিজে রেখে দিলো সে, তারপর স্ন্যাকস বানালো। রাশেদ সাহেব এলেন, রান্না ঘরে উঁকি দিয়ে বলেন,’কিরে মা তুই এই সকাল সকাল রান্নাঘরে? মাদ্রাসায় যাবি না?’
নূর ঘাড় ফেরায়,’আলিম পরীক্ষা শেষ আব্বু, এখন তো ফাজিল এ পড়ছি, শুরুর দিকে কোন প্যারা নেই। আজ মাম্মামকে দেখতে আসবে। এতটুকু সাহায্য তো করতেই হবে বলো।’
‘ওহ আচ্ছা, আমার ওষুধ দিয়ে যা তো। তোর মা নাকি চোখে দেখে না, লেখা পড়তে পারেনা। কি মুশকিল!’
নূর হাসে,’তুমি যাও, আমি আসছি। আর হ্যাঁ বিকেলে ডক্টরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। আজ কোথাও যাবে না।’
‘ফারিন ফোন করেছিল, আগের প্রজেক্টের কাজ শেষ। ওদের বেতন দিতে হবে। সবকিছু বুঝিয়ে দিতে হবে।’
‘সে কাল দিবে, আগে শরীর ঠিক হোক তারপর। যদি কারো ইমার্জেন্সি টাকার দরকার হয় ফারিন আপু দিয়ে দিবে। আমি কথা বলে নেব।’
তিনি বুঝলেন যে মেয়ের সাথে কথায় পারা যাবে না। নীরবে প্রস্থান করেন। চলতে চলতে ভাবেন, গভীর ভাবনা আসে মাথায়। একটা মেয়েকে পরিপূর্ণ নারী হিসেবে তৈরি করতে পারে তার মা। নূরকে তিনিই ছোটবেলা থেকে মানুষ করেছেন, তবে একজন মেয়েকে কিভাবে বাহিরের মানুষের সাথে চলতে হয়, শ্বশুর বাড়ির সকলের মন জয় করতে হয়, মানুষের সাথে কিভাবে মিশতে হয় এটা মেয়েকে শেখাতে পারেননি। তিনি নিজেও জানেন না। এ নিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ঝামেলা না হয়। কেননা নূর অতিরিক্ত কোলাহল বা মানুষজন পছন্দ করে না। তাদের মধ্যে যেতে অস্বস্তি হয়, মেয়ের ভালো মন্দ বুঝবে এমন পরিবার কোথায় পাবেন তিনি? এসব ভাবনায় দিনরাত মগ্ন থাকেন। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বারবার একই দোয়া করেন, তার মেয়ে যেন ভালো ঘর পায়। এখন বাকিটা আল্লাহর উপর ছেঁড়ে দিয়েছেন।
তবে তার ছেলেটা মানুষ হলো না, মেয়ের জন্য একটা ভোঁদড় মার্কা ছেলে দেখেছে। অলরেডি সব খোঁজ খবর নিয়ে ফেলেছেন তিনি। ছেলের যৌথ পরিবার, বিয়ের পর এত মানুষের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না সাহারা। তাছাড়া এখনও তেমন বয়স হয়নি। ওই পরিবারে প্রতি নিয়ত ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকে এমনকি ছেলেটাও তেমন সুবিধার নয়। দশ বছর ধরে বিদেশে থাকে। ওখানেই পড়াশোনা করে চাকরি করছে। ছেলে সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নিতে পারেননি তবে লোক লাগিয়েছেন। এই বয়সে এসেও এতসব দায়িত্ব নিতে হচ্ছে তার।
নূর সর্ষে ইলিশ আর গরুর মাংস রেঁধে কাজ সমাপ্ত করেছে, তার রান্না শেষ হয়েছে এগারোটায়। বাকি রান্না মেইড দুজন সমাপ্ত করবে। বাড়িতে মেহমান আসলেই নূর কেমন গুটিয়ে যায়। রুমের দরজায় খিল এঁটে বসে থাকে। মেহমান যেহেতু আসেনি তাই নূর তাড়াতাড়ি রুমে চলে গেল। গোসল করে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে চুপচাপ প্রজেক্টের কাজ করতে বসলো। হুট করেই চোখ গেল ড্রেসিং টেবিলের উপর পড়ে থাকা ডায়মন্ড রিং এর দিকে। আসার পর থেকে এভাবেই ফেলে রেখেছিল। হাতে পরাও হয়নি, হঠাৎ করেই অন্যমনস্ক হয়ে গেল নূর। খাটের সাথে হেলান দিয়ে স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। ম্যাকবুকটা পাশে রেখে মাথা নোয়ায়। জীবনটা বড় একঘেয়ে হয়ে গেছে, বাসায় থাকতে থাকতে আরো বেশি হয়েছে। মাদ্রাসায় তার কোন বন্ধু নেই, বাকি মেয়েরা নিজেদের মতো করে আড্ডা দেয়, মজা করে। ও চুপচাপ একা একা বসে থাকে। নূরের এই একাকীত্ব যে ভয়ানক, এভাবে চললে ও কি কখনো স্বাভাবিক ভাবে কারো জীবন সঙ্গী হিসেবে কাটিয়ে দিতে পারবে? এমন কতশত ভাবনা মনে দোলা দিয়ে যায়। হঠাৎ করেই দেখলো ওর সামনে আজমাঈন দাঁড়িয়ে আছে, হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে ঠোঁটে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে আছে। হাতে তার সেই ডায়মন্ড রিং। মুহূর্তেই চমকে ওঠে নূর, চোখের পলক ফেলে সোজা হয়ে বসে। নাহ কেউ নেই, হ্যালুসিনেশন হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ এমন কেন হলো? দুহাতে মাথা চেপে ধরে সে।
তখনই দরজা ধাক্কা দিলো কেউ। এসির মধ্যেও দরদর করে ঘামছে নূর। হাত দিয়ে মুখের ঘাম মুছে দরজা খুলতেই অনুভবের মুখটা ভেসে এলো। হাঁসি মুখে বললো,’আপুকে দেখতে এসেছে ফুপি, ছেলেটা অনেক স্মার্ট। অনেকেই এসেছে। চলো লুকিয়ে ওদের কথা শুনি।’
‘না বাবু, এভাবে কথা শুনতে হয়না। তাছাড়া কি হবে তা তো পরেই জানা যাবে। বিয়ে তো লুকিয়ে হবে না।’
‘কি কি জিজ্ঞেস করে তা শুনবে না? ক’দিন পর তোমাকেও তো দেখতে আসবে। চলো চলো।’
এক প্রকার জোর করেই নূরকে নিয়ে গেল অনুভব। সাবধানে সিঁড়ি বেয়ে নেমে দেওয়ালের আড়ালে লুকায়। সাহারাকে এখনো আনেনি। নাস্তার পর্ব চলছে, চারজন মহিলা এবং তিনজন পুরুষসহ মোট সাতজন। এর মধ্যে একজন ছেলের বাবা ও কাকা আরেকজন ছেলে। মা, চাচি, মামিরাও এসেছে। সাহারা আসার পরেই সবাই নড়েচড়ে বসল। বেচারি সাহারা ভীষণ অপ্রস্তুত, হাত পা কাঁপছে। রেহানা উপস্থিত, নাতনির পাশে বসে আছেন।
এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসা পর্ব, পড়াশোনা থেকে শুরু করে আরবি পড়া কতদূর এবং সূরাও বলে শোনাতে হয়।
লোকগুলো ভীষণ সেকেলে টাইপের, আজকাল এসব কেউ জিজ্ঞেস করে নাকি। রাশেদ সাহেব বসে আছেন চুপ করে। অনুপমাকে খুব একটা উৎসাহিত দেখা গেল না পাত্রপক্ষ দেখে। বোঝা যাচ্ছে তার পছন্দ হয়নি। তবে সাইমন বেশ খাতির যত্ন করতেছে। সব শেষে সাহারাকে ঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার পর রাশেদ সাহেব মুখ খোলেন,’আপনাদের ছেলে তো বিদেশে থেকে পড়াশোনা করেছে তাই না?’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, পড়াশোনায় খুবই ভালো। ছোট থেকেই পড়ার প্রতি ঝোঁক। ছেলের আমার সোনার টুকরো, একদম খাঁটি।’ ছেলের মা কথাটি বলেন।
রাশেদ সাহেব মৃদু হাসলেন,’তা কোন দেশে থাকে যেন?’
এবার ছেলে নিজেই জবাব দিলো,’কানাডা।’
‘তুমি যে ওখানে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করেছিলে তা কি তোমার পরিবার জানে? কাগজপত্র ঠিক হওয়ার পর আবার ব্যাচেলর লাইফে ফিরে এসে এখন বিয়ে করছ, কথাটা তো আমাদের আগে বলোনি।’
উপস্থিত সবাই কেমন ঠান্ডা হয়ে গেল। ছেলে চুপ করে বসে রইল, বাকি আত্মীয়রা আর কথা বলতে পারলো না। রাশেদ সাহেব সাইমনকে কড়া গলায় বলেন,’খোঁজ খবর না নিয়েই বাড়িতে নিয়ে এলি? আর একটু দেরি করা যাচ্ছিলো না? ছেলে বড়লোক বা লেখাপড়া হলেই হয়না, মানুষ হতে হয়।’
কিছু সময় অতিবাহিত হলো, পাত্রপক্ষ চলে গেছে। বাসার ড্রয়িং রুমে মিটিং বসেছে। বাবার রাগকে উপেক্ষা করে সাইমন বলে,’আমি তো দেখে শুনেই বিয়ে দিতাম তাই না? দেখতে আসলেই তো বিয়ে হয়ে যায়না।’
রাশেদ সাহেব বলেন,’তুমি কি করবে তা তো জানা আছে আমার। আমার কথা তো শুনবে না, মেয়ের বিয়ে দিবেই। ঠিক করেছি আমি আমার নাতনির বিয়ের পাত্র খুঁজব। আশা করি এতে দ্বিমত করবে না।’
নূরের আর কিছু শুনতে ইচ্ছে করলো না। দ্রুত রুমে ফিরে এসে ল্যাপটপ ওপেন করলো। মেইল বক্সে নোটিফিকেশন এসেছে। ইনবক্সে যেতেই আজমাঈন শিকদার আইডি জ্বলজ্বল করে উঠলো। আঁতকে ওঠে নূর। ঘুরে ফিরে এই ছেলেই কেন আসে? আগে কখনো এমন হয়নি তো!! হচ্ছে কি ওর সাথে!!
চলবে,,,,,
Share On:
TAGS: ঈশিতা রহমান সানজিদা, পদ্মপ্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩
-
পদ্মপ্রিয়া গল্পের লিংক
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৪
-
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৫