#মেজর_ওয়াসিফ
#লেখনীতে_ঐশী_রহমান
পর্ব (৩৭)
আলমারি থেকে গতবারের প্রথম বিয়ের শাড়িটা সামনে মেলে নিয়ে বসে ধারা। শাড়িটা গাঢ় টকটকে লাল বেনারসি। ধারা’র মনে পড়ে, মানুষটার সঙ্গে প্রথম বিবাহের দৃশ্যটুকু। হালকা রঙের একটা ম্যারম্যারে থ্রি পিচ পরে রেজিস্ট্রি খাতায় সাইন করে তিন কাবুলের বৌ হলো সেবার, জেদের বশে ওয়াসিফের সেই কিনে আনা বিয়ের এই বেনারসি শাড়িটা গায়ে ওঠেনি সেবার।
শাড়ি টার প্রতিটা ভাজ খুলে আলতো ছুঁয়ে দেখতে থাকে। শাড়ি টার রঙ,কারুকাজ দুটোই খুব চমৎকার। মানুষটার পছন্দ বরাবরের ন্যায় এবারও সেরা মনে হলো ওর কাছে। ধারা করলো কি? শাড়িটা নিয়ে সোজা উঠে গেলো আয়নার সামনে। গায়ের সঙ্গে পেচিয়ে রেখে সময় নিয়ে দেখতে থাকে নিজেকে। ওর গায়ের ফর্সা রঙের সঙ্গে শাড়ির রঙটা বেশ মানানসই। ও যখন পুরোপুরি শাড়ি গায়ে পেচিয়ে ধরে নিজেকে দেখতে ব্যস্ত তখনই ফোন কানে চেপে ওয়াসিফ ঘরে ঢোকে। বিছানার উল্টো পিঠে ঘুরে বসে মিনিট চারেক সময় নিয়ে ফোনালাপ শেষ করে বেড সাইড টেবিল থেকে গ্লাস তুলে পানি খেতেই ধারা জিজ্ঞেস করে।
‘ আজ না হয় আমি লাল পড়লাম, আপনি কি পড়বেন’?
পানিটুকু কোনোরকম শেষ করে ওয়াসিফ ঘুরে বসে, ধারা এখনো শাড়িটা গায়ের সঙ্গে পেচিয়ে ধরে রেখে ওয়াসিফের দিকে তাকিয়ে আছে জবাব শুনতে। ওয়াসিফ ওকে নিষ্পলক তাকিয়ে দেখে বলে।
‘ সাদা পাজামা, পাঞ্জাবি পড়ি? মানাবে না তোর শাড়ির সঙ্গে ‘?
ধারা জবাব দেওয়ার আগে কল্পনা করে দেখলো বিষয়টা। পরপর মাথা উপর, নিচ ঝাকিয়ে বলে।
‘ খুব মানাবে। আপনাকে সুন্দর লাগবে’
ওয়াসিফ সামান্য হেঁসে ফেলে হাত বাড়িয়ে ডেকে বলে।
‘ তোকেও খুব সুন্দর মানাবে, এদিকে আয়, ডিম দুটো ছিলে রেখে গেছিলাম, খেয়েছিস ঐ দুটো’?
ধারা ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে বসে স্বামীর পাশে, মুখটা কুঁচকে ফেলে বলে।
‘ ডিমে গন্ধ, খেতে পারিনি। লোপাকে ধরে খাইয়ে দিয়েছি’
বৌয়ের সহজ স্বীকারোক্তি শুনে ওয়াসিফ তাকিয়ে থাকে কতক্ষণ পর বলে।
‘ গন্ধ! ডিমে ঐ একটুআধটু গন্ধ থাকে, তাই বলে তুই খাবিনা’?
‘ চেষ্টা করেছি তবে খেতে পারিনি’
‘ আচ্ছা, কাল থেকে গন্ধ নাকে গেলে নাক বন্ধ করে হলেও খাবি ওকে? খেতেই হবে, না খেলে চলবে কিভাবে ‘?
ধারা শাড়ির নকশা মনোযোগ দিয়ে দেখতে দেখতে বলে।
‘ আচ্ছা সব খাবো, তবে দুধ আর ডিমটা দেবেন না, বিরক্ত লাগে, গন্ধ নাকে গেলে বমি পায়’
ওয়াসিফ ঔষুধের বক্স ঘাটতে ঘাটতে বলে।
‘ ঐ দুটোই বেশি করে খেতে হবে। আচ্ছা তুই গতকাল দুপুরে আয়রন ট্যাবলেট খাসনি’?
‘ আপনি তো দেননি, আমারও মনে নেই ‘
ওয়াসিফ চোখ ছোট করে তাকিয়ে থাকে গোলগাল মুখের দিকে, মনে মনে ভীষণ হতাশ ওয়াসিফ, এই মেয়েটাকে ও আগামী দিনগুলো কার ভরসাতে রেখে যাবে যেখানে ও নিজেই এতো উদাসীন?
শাড়ির নকশা থেকে চোখ উঠিয়ে ধারা তাকাতেই দেখে ওয়াসিফ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটার রাগ হলো টের পেতেই বললো।
‘ মনে না থাকলে আমার কি দোষ? আচ্ছা সরি, এরকম আর হবেনা, ঠিকঠাক খাবো ঔষুধ, এরপর আর ভুল হবে না’
ওয়াসিফ কোনো কথা বলেনা, ধারা মিনমিন করে বলে।
‘ কি হলো? রাগ করলেন’?
‘ না, খুব খুশি আমি’
ধারার বুঝতে পারে লোকটা ভীষণ বিরক্ত ওর উপর। একটানে ওয়াসিফের কোলের উপর থেকে ঔষুধের বক্সটা টেনে নিজের কোলে রেখে বলে।
‘ আমারটা এরপর থেকে আমি বুঝেশুনে খাবো, আপনি প্লিজ বিরক্ত হবেন না। আমারই দোষ হয়েছে, আমি মেনে নিলাম’
ওয়াসিফ একটুও অবাক হয়না ধারার এই নমনীয়তায়। কারণ গত দেড়বছরে মেয়েটার সেই একরোখা স্বভাব পাল্টে অনেকটা নমনীয়তা ভর করেছে আচার-আচরণে। তবে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে এখনো ভীষণ জেদ ধরে তবে ওয়াসিফ কিছু বললে বা করতে বললে তা মানে, শোনে।
ওয়াসিফ একটু এগিয়ে বসে হাত দুটো টেনে ধরে রেখে অনুরোধের সুরে বোঝায় বৌ কে।
‘ আমি তোর প্রতি কখনোই বিরক্ত হয়নি, ওটা আমার মধ্যে আসেনা কখনো, আর কখনো আসবেও না। সামান্য ভুলভাল কাজে চোখ মুখ শক্ত করে দুটো কথা বলি কারণ পরবর্তীতে ঐ ভুলটা তুই আর না করিস এইজন্য। তারমানে এই নয় যে আমি তোর প্রতি বিরক্ত। একটু নিজের যত্ন, নিজের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালন করা আমাদের নিজেদেরই দায়িত্ব। ওকে’?
ওয়াসিফের কথা শেষে ধারা জবাব দেয়, ‘ জি, নিজের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালন করবো, আপনার আদেশ আমার মনে থাকবে’
‘ এটা আদেশ নয়, এটা অনুরোধ ‘
‘ আচ্ছা সরি, ভুল হয়েছে, এটা আপনার অনুরোধ। আমি আমার ভুল সংশোধন করে নিলাম’
ধারার এই বারবার সরি বলা, এতো সুন্দর করে নিজের ভুল মেনে নেওয়া, এই মুহূর্তে ওয়াসিফ একটু কনফিউজড। আচ্ছা এইটা কি হরমোনাল ব্যালেন্সের জন্য এমন হচ্ছে? গর্ভকালীন সময়ে এতোটাও পরিবর্তন হয় নাকি মেয়েদের? পরপর ওয়াসিফ মনে মনে ভাবে, এতোসব ও কিভাবে জানবে? বিয়ে তো জীবনে এই একটাই করেছে, বাবাও এই প্রথম হচ্ছে, বৌয়ের প্রেগনেন্সি জার্নি এইবারই চোখের সামনে দেখছে, কি কি পরিবর্তন হয় না হয় এবার নোটিশ করে রাখলেই হবে পরবর্তী তে কাজে আসবে। নিজের ভাবনা চিন্তা থেকে বেরিয়ে ওয়াসিফ বলে।
‘ একটা জিনিস এনেছি, দেখাই তোকে’?
‘ কি’?
‘ওয়েট’
ওয়াসিফ উঠে গিয়ে পেপারে মোড়ানে বেশ মোটাসোটা সাইজের বক্স এনে আবার বসলো ধারার মুখোমুখি। একে একে পেপার সরিয়ে, বাক্সের মুখ মেলে ধরতেই অপেক্ষারত ধারা মুখ বাড়িয়ে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে।
‘ এগুলো কি’?
‘ ফটো ফ্রেম’
‘ কার’?
‘ বাচ্চাদের’?
‘ কাদের বাচ্চা ‘?
‘ জানিনা’
‘ তাহলে এনেছেন কেনো’?
ওয়াসিফ ছবি গুলো সাবধানে বিছানায় একেকটা করে রাখতে রাখতে বলে।
‘ এগুলো ঘরের চারিপাশের দেয়ালে টাঙিয়ে দেবো, ওদের দেখবি সবসময় ‘
এই আইডিয়া ওয়াসিফের না, ডাক্তার আফরোজার কথাতে ওয়াসিফ এই কাজটা করেছে। এই বাচ্চা দের ছবিগুলো মেলে এখন ওয়াসিফেরও ভালো লাগছে দেখতে। ধারা একেকটা ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে বলে।
‘ এখানে তো সব মেয়ে বাবুর ছবি, ছেলে বাবুর ছবি কই’?
এতোক্ষণ হাসি হাসি করে রাখা মুখটা চুপসে যায় ওয়াসিফের। আজকে ফোন কলে ম্যাম বলেছিলো, “মুমতাহিনার যা মানসিক কন্ডিশন, বেবি বাচ-বিচারে ও কিন্তু যেকোনো একটাকে নিয়ে জেদ ধরতে পারে, হয়তো ছেলে নয়তো মেয়ে। এর উল্টো হলে ও হয়তো খুশি হতে পারবেনা, ওর রাগ হবে, জেদ হবে। তবে তুমি একটু ম্যানেজ করে নিও ওয়াসিফ, তুমি বোঝালে আশা করি ও বুঝবে”
ওয়াসিফ ধীর কন্ঠে বলে।
‘ মেয়ে বাবু পছন্দ হচ্ছে না ‘?
ধারা একেকটা ছবি নাড়িয়ে চাড়িয়ে দেখতে দেখতে বলে।
‘ হবে না কেনো?’
‘ তাহলে ছেলে বাবুর ছবি খুঁজছিস কেনো’?
ধারা তাকায় ওয়াসিফের দিকে, বলে।
‘ আমার কি মেয়ে বাবু হবে, ডাক্তার কি মেয়ে বাবুর কথা বলেছে’?
‘ এতো তাড়াতাড়ি তো ছেলে না মেয়ে তা তো বলা যায় না ‘
‘ তাহলে কি বুঝে শুধু মেয়ে বাবুর ছবি আনলেন? ছেলে বাবুর ছবি আনলেন না কেনো’?
ওয়াসিফ এবার স্পষ্ট করে বলে ওঠে।
‘ আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে আমাদের প্রথম সন্তান মেয়েই হবে’
‘ আমার তো মনে হচ্ছে ছেলে হবে’
‘ এমন মনে হওয়ার কারণ ‘?
‘ জানি না, মনে হলো তাই বললাম। আচ্ছা আপনার কি পছন্দ ছেলে না মেয়ে’?
‘ দুটোই। আল্লাহ খুশি হয়ে যা আমাকে দেবেন আমি তাতেই খুশি। শুধু আল্লাহর নিকট চাই তুই আর বেবি সুস্থ থাক, তোরা ভালো থাক’
ওয়াসিফ আর ধারা’র কাছে জিজ্ঞেস করে না ওর কি পছন্দ। যদি জেদ ধরে বসে, ছেলে তো ছেলে, মেয়ে তো মেয়ে। দরকার নাই জিজ্ঞেস করার। আপাতত ওয়াসিফ চুপ থেকে পর মুহূর্তে বলে।
‘ ছবিগুলো টাঙিয়ে দি’?
‘ দিন’
ধারার থেকে পজেটিভ জবাব পেতে আঁটকে রাখা দম ফেলে ছবি গুলো সাবধানে তুলে দেয়ালে সেট করার কাজে লেগে পড়ে। ওয়াসিফ একেকটা ছবি সেট করছে আর ধারা বিছানায় গালে হাত দিয়ে বসে তা দেখছে। মাঝে মধ্যে বলছে, ‘ ওটা ওর পাশ থেকে একটু সরিয়ে লাগান, এতো কাছাকাছি না’
______________________
গ্রামের এদিকে আবার মানুষের গড়া কিছু নিয়মকানুন আছে, যেমন গর্ভবতী মায়েদের গায়ে হলুদ ছোঁয়ানো, বাইরে উঠানে নামিয়ে গোসল এসব করা যায় না। ওয়াসিফের এই বিষয় গুলো তে এতোসব মাথা ব্যথা নেই। বড়োদের জোরাজোরি মেনে এবাড়ির ছোট সদস্য গুলো চুপচাপ হলুদের ফাংশন বাদ দিলো। তবে মেহেদী অনুষ্ঠান হবে ছোটখাটো।
লোপা,লুইপা, শাহেনূর ওরা কেনাকাটা শেষে বাড়িতে ফিরেছে সন্ধ্যার একটু আগে।
আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার জুমা বাদে বিবাহিত দম্পতি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে।
কোনোরকম কেনাকাটা সেরে এসেই গোসল সেরে ওরা সবাই হাতে হাতে দোতলার খোলা বারান্দা মেহেদী অনুষ্ঠানের জন্য সুন্দর মতো ডেকোরেশন করে ফেলেছে। সামির এসে পৌছালো মাগরিবের পরপরই। আরিয়ান এবার আসতে পারেনি ওর ছুটি হয়নি। এবাড়ির পুরুষ দুই কর্তা বাবুর্চি দের দেওয়া লিস্ট নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্য বেরিয়েছে, বাড়ির বড়ো জামাই আপ্যায়নে আপাতত ওরা তিন জা ভীষণ ব্যস্ত। সামির শাশুড়ীদের সাথে ভালোমন্দ কথা সেরে দোতলায় উঠে দেখে লুইপা গাধা ফুলের মালা গাথায় সম্পূর্ণ মনোযোগ ঢেলেছে, সামির আর ডাকেনা বৌ কে, চুপচাপ চলে যায় ঘরে। আপনার লম্বা একটা শাওয়ারের প্রয়োজন।
ধারার দুই ক্লাসমেইট এরিনা আর জুই মিলে ওকে সুন্দর মতো মেহেদী রঙের একটা সিল্কের শাড়ি পরিয়ে দিলো বাঙালিয়ানার স্টাইলে। ঐ যে আগেরকার দিনের মেয়ে -বৌরা যেমন পড়তো ঠিক তেমন। দু’হাত ভর্তি করে শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে চুড়ি পরালো। মাঝ বরাবর সিঁথি কেটে পেছনে খোপা করে তাতে রজনী গন্ধার মালা গুজলো। এসব ফুলগুলো শাহীন এনেছে আসার পথে। পাথরের সব স্টাইলিশ গহনা, যা পুরোপুরি শাড়িটার সঙ্গে সুন্দর মতো মানিয়ে যায়, ওসব ও একে একে পরিয়ে দিলো। সাজগোছ শেষ করে ওরা দু’জন এগিয়ে নিয়ে দাঁড় করালো আয়নার সামনে, জিজ্ঞেস করলো।
‘ দেখতো মন মতো হয়েছে কি না?’
ধারা নিজেকে দেখে নিয়ে বললো।
‘ লিপস্টিকের রঙটা কেমন ম্যারমেরে লাগছে, খয়েরী টা লাগিয়ে দে’
এরিনা, জুই একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করে বলে।
‘ ঐ রঙটা শাড়ির সঙ্গে মানাবে না, ক্ষ্যাত লাগবে’
ধারা মৃদু ধমকে ওঠে, বলে।
‘ চোপ, বিয়ে আমার, তোদের কারোনা। যেভাবে বলবো সেভাবে সাজাবি আমাকে। লিপস্টিক ঐটা দে’
ওরা আর কথা বাড়ায়না, লিপস্টিক মুছে ওর পছন্দ মতোই দেয়, তাতে বিশেষ খারাপ লাগছেনা, সুন্দর লাগছে, ফর্সা রঙের সঙ্গে যে কোনো রঙই ভীষণ মানানসই।
ওরা ধারাকে তৈরি করে নিয়ে চুপচাপ বসে থেকে নিজেদের মতো গল্প করতে থাকে। দোতলার ওপাশের বারান্দা থেকে মৃদু শব্দে মেহেদী অনুষ্ঠানের গান বাজছে।
শাহীন ক্যামেরা হাতে ঘরে ঢুকেই ধারার দিকে ফোকাস রেখে বলে।
‘ পোজ দে, বয়সের চেয়ে ছোট বোন ওরফে বড়ো ভাবী’
ধারা বেশ গম্ভীরতা নিয়ে বলে ওঠে।
‘ কথা বার্তা ঠিক করো ছোটো ভাইয়া, ডোন্ট কল মি ছোটো বোন, অনলি কল মি ভাবি, বড়ো ভাবি’
ধারার ওমন বেরসিক কথা শুনে হতভম্ব হয়ে ক্যামেরা হাতে দাড়িয়ে রইলো শাহীন। এদিকে এরিনা আর জুই হেঁসে একেকটার গায়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। শাহীন ওদের হাসি দেখে বিরক্তি নিয়ে বলে।
‘ এতো হাসবেন না, দাঁত গুলো সব খসে পড়ে যাবে, পরে আর বিয়ে হবে না’
ওকথা শুনে এরিনা হাসি থামিয়ে মুখে ভেঙছি কেটে ওপাশে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে। এদিকে জুই হেঁসে ই যাচ্ছে।
দরজার কাছে দাড়িয়ে লুইপা মেহেদীর ঢালা হাতে মুখ বাড়িয়ে উঁকি দিয়ে বলে।
‘ সবকিছু রেডি, ওকে নিয়ে এসো তোমারা’
__________
পাশে রাখা দন্ডায়মান ছোটো বক্সটি থেকে গান বাজছে, ধারার দুটো হাত দখল করে নিয়েছে এরিনা আর লুইপা। অর্গনিক মেহেদী গুলোও শাহীন এনেছে ঢাকা থেকে। লুইপা ওকে মনে করিয়ে করিয়ে দিয়েছে সবকিছুর জন্য। নয়তো ও ছেলে মানুষ ওর কি এসব অভিজ্ঞতা আছে নাকি? ধারা যখন দেখলো ওর দুটো হাতের এপিঠ ওপিঠ মেহেদীর কারুকাজে ভরে উঠছে ও তখন আস্তে করে বলে।
‘ তোমারা যে দুটো হাতেই মেহেদী দিয়ে দিচ্ছো, আবার বলছো সারারাত রাখতে, আমি রাতে ভাত খাবো কিভাবে ‘?
লুইপা কাজ থামিয়ে ওর দিকে চেয়ে বলে।
‘ তোর দুটো হাতে মেহেদী দিচ্ছি, তোর বরের দুটো তো খালি থাকবে, ভাইজান কে বলবি তোকে খাইয়ে দিতে’
‘ সে তো ব্যস্ত, দেখছো না উঠানে দৌড়াদৌড়ি করছে’
‘ দৌড়াদৌড়ি করে যখন ঘরে আসবে তখন বলবি’
পাশ থেকে এরিনা বলে ওঠে।
‘ আচ্ছা আপু, একটা কাজ করলে কেমন হয়? ওরা তো আবার ও বিয়ে করছে, একেবারে প্রথম দিনের মতো আমেজ ধরে রাখতে ওদের হাসবেন্ড ওয়াইফ কে আজ আলাদা আলাদা ঘরে পাঠিয়ে দি’?
ধারা কিছু বলেনা, লুইপা এরিনার দিকে একপলক তাকিয়ে নকশা আঁকতে আঁকতে বলে।
‘ ক্ষেপেছো তুমি? ভাইজান চড়াবে ধরে সবকটাকে, আমার ওতো সাহস নেই বাবা। তোমার সাহসে কুলালে তুমি প্রস্তাবটা রাখো গিয়ে তার কাছে’
লোপা বলে।
‘ ও এরিনা আপু, ওসবের দরকার নেই আপু, দাওয়াত খেতে এসেছো, ভালো মতো খেয়েদেয়ে কাল চলে যেয়ো।’
এরিনা চুপসে যায়, এদের ভাই আসলে অন্য গ্রহের মানুষ। ওরা যে ছোটরা মজার ছলে কিছু করবে তার উপায় নেই।
ঘন্টা দেড়েক সময় লাগলো ওদের টোটাল দুহাত ভর্তি মেহেদী ডিজাইন তুলছে। এর মধ্যে চমৎকার একটি বিষয় হচ্ছে ধারা ঘুমিয়ে পড়েছে, ধারার যখন ঘুমঘুম পাচ্ছিলো লোপা গিয়ে একটা বালিশ এনে মাথার নিচে দিতেই ধারা ঘুম। ওর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে জুই বলে ‘ জীবনে এই প্রথম কোনো কনে কে দেখলাম যে মেহেদী দিতে দিতে ই ঘুমিয়ে গেলো’
লুইপা এবার লোপাকে মেহেদী পরাতে পরাতে বলে।
‘ ওর শারীরিক অবস্থা তো তোমরা জানো, তারউপর ও কনসিভ করলো, ঘুম পাওয়ারই কথা ‘
‘ জি, আপু’
‘ তোমরা এবার এক কাজ করো, যার যার হাতে মেহেদী পড়ে ফেলো, ওর ঘুম ভাঙলে নাহয় তখন গ্রুফ ছবি আর ভিডিও করে নেবো’
_________
রাত দশ-টা বেজে গেলেও ধারার ঘুম আর ভাঙেনা। ওরা সবাই যার যার হাতে মেহেদী পরে ধারার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। শাহীন ও তাই, টুল পেতে বসে, ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে কতক্ষণ বসে থেকে বললো।
‘ ওর যা সিঙ্গেল ছবি হয়েছে ওতেই হবে, তোরা কি কেউ ছবি তুলতে চাস? তুললে তাড়াতাড়ি, আমারও ঘুম পাচ্ছে। আগামীকাল বহুত কাজকর্ম আছে ‘
ওরা যখন সবাই দোতলার রেলিঙের সঙ্গে যে যার মতো ছবি তুলতে মনোযোগী তখন আচমকা শাহীনের চোখ পড়তেই চেচিয়ে ওঠে।
‘ ভাইজান এদিকে তাকাও’
ওয়াসিফের পাজাকোলে তখন ঘুমন্ত ধারা, যার মেহেদী পরা দুটো হাত এলিয়ে রাখা ওয়াসিফের বুকের সঙ্গে। ভাইয়ের ডাকে পেছনে ঘুরে দাঁড়াতেই শাহীন পটাপট কয়েকটা ছবি তুলে ফেলে বললো।
‘ বেস্ট মোমেন্ট অফ দ্যা ডে, যাও এবার ‘
ওয়াসিফ সামান্য হেঁসে বলে ‘ ছবিগুলো সুন্দর মতো রাখবি, ওগুলো দিয়ে আমি এ্যালবাম করবো, যখন চাইবো দিবি’
‘ ওকে’
ওয়াসিফ আর দাড়ায় না, ঘুমন্ত বৌকে নিয়ে আলগোছ শুইয়ে দেয় বিছানায়। রাজ্যের ঘুমেরা যেনো গভীর ভাবে লেপ্টে আছে ঐ সুন্দর মুখখানাতে।
Share On:
TAGS: ঐশী রহমান, মেজর ওয়াসিফ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ২১
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১২[ ২য় অংশ]
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৩৪
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৯
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৩
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৭
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৩
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ২৫
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৫
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৩১