#নূর_এ_সাহাবাদ
#jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৫২
শীতের সকাল। চারপাশে সাদা কুয়াশায় ঢাকা। উঠানের গাছ গুলোতেও শিশির জমে আছে। আশে পাশের বাড়ি গুলোতে মোরগ ডাকছে। আবিদ সেই ভোর থেকেই ব্যস্ত হয়ে তৈরি হচ্ছে। পছন্দের পাঞ্জাবি টাই খুজে পাচ্ছে না। ওদিকে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। পাঞ্জাবি যাও পেল চিরুনি পাচ্ছে না। পুরো ঘরময় হাঁটাহাঁটি করছে।
খাটে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিল রত্নপ্রভা। ভ্রু কুচকে তাকালো ওর দিকে।
“কি ব্যাপার? সকাল সকাল এমন লাফাচ্ছেন কেন?”
আবিদ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবির হাতা ঠিক করতে করতে বলল
“আজ মহলে অনেক কাজ শাহজাদি।”
“কীসের কাজ?”
“আল্লাহ রহম করেছেন না? ভাবি আর ছোট শাহজাদি সুস্থ আছে। তাই জমিদার বাবু আজ অনেক গুলো মহিষ আর ছাগল জবাই করাবেন। পুরো রাজ্যে মাংস বিলি হবে। গরীবদের খাবার দেওয়া হবে। এজন্য জলদি যেতে হবে।”
রত্নপ্রভা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো।
তারপর ধীরে বলল
“ও…”
আবিদ তখন চিরুনী পেয়ে তা দিয়ে চুল আচড়াতে আচড়াতে তাড়াহুড়ো করছে। এমন সময় হাত ফসকে চিরুনীটা ধপ করে পড়ে গড়িয়ে চলে গেল খাটের নিচে।
“ধুররর।”
বিরক্ত হয়ে নিচু হলো আবিদ। খাটের নিচে অন্ধকার। হাত ঢুকিয়ে চিরুনী ধরতে গিয়েই থেমে গেল সে। কপাল কুঁচকে এদিক ওদিক তাকালো।
খাটের একেবারে কোণায় একটা ছোট কাঠের বাক্স। গতকালও কি এটা ছিল? আবিদ ভ্রু কুচকে বাক্সটা টেনে বের করলো। রত্নপ্রভার বুক ধক করে উঠলো বাক্স টা দেখে। মুহূর্তেই মুখের রং একটু ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“ও…ওটা আবার ধরছেন কেন?”
আবিদ অবাক হয়ে তাকালো।
“কেন? আপনার নাকি?”
“হ্যা…মানে… পুরোনো কিছু জিনিস।”
আবিদ ততক্ষণে বাক্সটার ঢাকনা খুলে ফেলেছে।
খুলতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। ভেতরে সারি সারি কাঁচের শিশি। কোনোটায় নীল তরল। কোনোটায় লাল। আরেক পুটলিতে আবার শুকনো গুঁড়ো। আবার কিছুতে অদ্ভুত কালচে পদার্থ। আবিদ একটা শিশি হাতে তুলে নিয়ে অবাক গলায় বলল
“এগুলো কিসের?”
রত্নপ্রভার গলা শুকিয়ে এলো।
“ওগুলো… ওষুধ।”
“এত রকম?”
আবিদ আরেকটা শিশি তুলে আলোয় ধরলো। “এই গন্ধটাও কেমন অদ্ভুত…”
রত্নপ্রভা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশিটা নিয়ে নিলো। “আপনি এসব বুঝবেন না। পুরোনো জিনিস।”
আবিদ এবার পুরোপুরি কপাল কুঁচকে তাকালো তার দিকে।
“শাহজাদি… আপনি এসব কোথায় পেলেন?”
রত্নপ্রভা দ্রুত শিশিগুলো আবিদের হাত থেকে নিয়ে নিলো। তারপর তাড়াহুড়ো করে একটার পর একটা আবার কাঠের বাক্সে ভরতে লাগলো।
হাত কাঁপছে অনবরত। কিন্তু মুখে সেটা প্রকাশ হতে দিল না। ঢাকনাটা বন্ধ করে খাটের নিচে ঠেলে দিতে দিতে বলল
“এত প্রশ্ন করার কী আছে? মেয়েদের কিছু জিনিস থাকে।”
আবিদ এখনও দাঁড়িয়ে আছে। চোখে স্পষ্ট সন্দেহ।
“শাহজাদি, এগুলো সাধারণ ওষুধ মনে হলো না আমার।”
রত্নপ্রভা এবার বিরক্ত হয়ে তাকালো।
“আপনি কি এখন হেকিমও হয়ে গেলেন?”
আবিদ চুপ করে যায়। রত্না জোর করে স্বাভাবিক গলায় বলল
“যান এখন। আমি খাবার বাড়ছি।”
সে উঠে খাবার দিতে যাবে তখনই আবিদ নিচু স্বরে বলল
“আজ খাবার খাব না”
রত্নপ্রভা থামলো।
“মানে?”
“জমিদার বাবু বলেছেন সবাই যেন মহলেই সকালের খাবার সাড়ে । আজ অনেক আয়োজন।”
তার গলায় অদ্ভুত গাম্ভীর্য। আগের মত হাসিখুশি লাগছে না তাকে। পাগড়িটা ঠিক করে দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে আবার থামলো সে। একবার পিছনে তাকালো রত্নপ্রভার দিকে।
“আর হ্যা…কিছু প্রয়োজন হলে আম্মাকে বলবেন। একা একা বের হবেন না”
কথাটা বলেই বেরিয়ে গেল আবিদ। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ হতেই কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো প্রভা। তারপর দ্রুত গিয়ে দরজা আটকিয়ে দিলো। বুকের ভেতর ধুকপুক করছে। তড়িঘড়ি করে খাটের নিচ থেকে বাক্সটা বের করলো আবার। ঢাকনা খুলতেই সারি সারি শিশিগুলো দেখা গেল। রত্নপ্রভা একটা একটা করে হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো। কোনোটা ভেঙেছে কিনা। কোনোটা কমেছে কিনা। সব ঠিক আছে দেখে যেন একটু শান্ত হলো।
তারপর একটা ছোট কালচে তরল ভর্তি শিশি তুলে নিলো। শিশিটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো স্থিরভাবে। ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠলো। বাইরে থেকে আবিদের মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো
“মা রত্না? তুমি খাবে না?”
প্রভা চট করে শিশিটা আঁচলের ভেতর লুকিয়ে ফেললো। তারপর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মুখে বাইরে বেরিয়ে এলো। রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো বৃদ্ধা মহিলা সকালের খাবার গুছাচ্ছে। রত্না মিষ্টি গলায় বলল
“আমি দিচ্ছি মা, আপনি বসুন।”
ভদ্রমহিলা হাসলেন।
“আহা, আমার মেয়েটা কত লক্ষি।”
প্রভা নিচু হয়ে খাবারের বাটিটা হাতে নিলো।
চারপাশে একবার তাকালো। কেউ নেই। আবিদের মা হাত ধুতে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আঁচলের আড়াল থেকে শিশিটা বের করে কয়েক ফোঁটা তরল মিশিয়ে দিলো খাবারে। তারপর চামচ দিয়ে ভালো করে নেড়ে দিল। মুখে তখনও শান্ত হাসি।
যেন কিছুই হয়নি।
খাবার খাওয়ার পর উঠানে বসে কিছুক্ষণ রোদ পোহাচ্ছিল আবিদের মা। শীতের নরম রোদ। হালকা বাতাস বইছে। ভদ্রমহিলা উলের শালটা গায়ে আরও ভালো করে জড়িয়ে নিলেন। রত্নপ্রভা পাশে বসে শান্ত মুখে সুতা ছাড়াচ্ছিল। কিছুক্ষণ পরই মহিলা কপালে হাত দিলেন।
“আরে… মাথাটা কেমন ঘুরছে যেন…”
রত্নপ্রভা সঙ্গে সঙ্গে তাকালো।
“কি হয়েছে মা?”
“জানি না রে… চোখে কেমন ঝাপসা লাগছে…”
কথা বলতে বলতেই শরীরটা ঢলে এলো তার।
রত্না দ্রুত ধরে ফেললো।
“চলুন ভিতরে গিয়ে শুয়ে পড়ুন।”
ভদ্রমহিলা আর তেমন কিছু বললেন না। মনে হচ্ছে হঠাৎ করেই খুব ক্লান্ত লাগছে। রত্না তাকে ধরে ধীরে ধীরে কক্ষে নিয়ে গেল। খাটে শুইয়ে দিতেই মহিলা চোখ বন্ধ করে ফেললেন।
“একটু ঘুমালে ঠিক হয়ে যাবে বোধহয়…”
রত্নপ্রভা মাথার কাছে বসে মৃদু স্বরে বলল
“হ্যা, আপনি ঘুমান।”
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলেন তিনি। রত্নপ্রভা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো তার দিকে। তারপর উঠে দাঁড়ালো। নাহহহ ঘুমিয়ে গেছে। বাইরে গিয়ে চারপাশ দেখে নিলো। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ। আবিদ তো মহলে। এই সুযোগটাই দরকার ছিল তার। দ্রুত কক্ষে ফিরে খাটের নিচ থেকে কাঠের বাক্সটা বের করলো। বাক্সটা হাতে নিয়েই আলমারি খুলে কালো বোরখা বের করলো। মাথা থেকে পা পর্যন্ত নিজেকে ঢেকে ফেললো। মুখেও নিকাব টেনে নিলো সাবধানে।
শুধু চোখদুটো দেখা যাচ্ছে এখন। শেষবারের মত ঘরের দিকে তাকালো সে। তারপর বাক্সটা শক্ত করে বুকে চেপে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে।
****
সাহাবাদ মহল আজ উৎসবের নগরী। চারপাশে মানুষের কোলাহল। বড় বড় হাঁড়িতে রান্না হচ্ছে মাংস। মহিষ জবাই হচ্ছে। ছাগল কাটছে কসাইরা। প্রাসাদের বাইরের বিশাল প্রাঙ্গণে লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে প্রজারা। সবার মুখে আনন্দ। হাতে আবার কাপড়ের থলে। আজ সাহাবাদে অভাবী মানুষ কেউ খালি হাতে ফিরবে না। বাকের শাহ্ নিজে দাঁড়িয়ে সব তদারকি করছেন। বয়স হলেও আজ মুখে আলাদা জ্যোতি। মাঝে মাঝে এটা ওটা দেখিয়ে বলছেন
“ওই বৃদ্ধ লোকটার ঝুড়িতে আরেকটু দাও। ওদিকে বাচ্চা বেশি, ওদের ভাগ বাড়িয়ে দাও।কেউ যেন খাবার ছাড়া না যায়।”
প্রজারা দূর থেকে দোয়া দিচ্ছে।
“আল্লাহ ছোট শাহজাদী কে দীর্ঘ জীবন দিক। আল্লাহ সাহাবাদ রক্ষা করুক।”
মহলের ভেতরেও উৎসবের আবহ। দাসীরা নতুন কাপড় পরে ঘুরছে। করিডোরে আতরের গন্ধ। চারপাশের সকলের মুখে হাসি। অনেকদিন পর যেন এই মহল একটু প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
অন্দরমহলের বড় কক্ষে আধশোয়া হয়ে বসে আছে মেহেরুন্নেসা। কোলে ছোট্ট শিশুটি। সাদা নরম কাপড়ে জড়ানো। একদম তুলোর পুতুলের মত লাগছে তাকে। বাইজিদ পাশে বসে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে। তার বিশাল শক্ত হাতের এক আঙুল শক্ত করে ধরে রেখেছে ছোট্ট শিশুটি। মেহেরুন্নেসা তা দেখে মৃদু হেসে বলল
“দেখেছেন? আপনার হাত ছাড়ছে না।”
বাইজিদ নিচু হয়ে মেয়ের কপালে চুমু খেল।
তারপর শান্ত গলায় বলল
“ছাড়বেও না। এ যে আমার কলিজা।”
তখনই বাকের শাহ্ কক্ষে প্রবেশ করলেন।
মুখভর্তি হাসি। এসেই নাতনির দিকে তাকিয়ে বললেন
“ কি করছে আমার দাদু? শোনো, নাম ঠিক করা হয়েছে।”
মেহেরুন্নেসা চোখ তুলে তাকালো।
“কি নাম আব্বাজান?”
বাকের শাহ চোখে মুখে উপচে পড়া আনন্দ নিয়ে বললেন
“জান্নাত।”
মেহেরুন্নেসার চোখ ভিজে উঠলো।
“জান্নাত…”
বাইজিদ নামটা আস্তে করে আবার বলল। তারপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে উঠলো। “আমিও আগে থেকে এই নাম ই ঠিক করে রেখেছিলাম। বলো মেহের? একদম ঠিক নাম। এ আসার পর থেকেই তো মনে হচ্ছে আমাদের জীবনে জান্নাত নেমেছে।”
বাকের শাহ্ মশকরা করে বললেন
“হুমমম। এখন আমার দেওয়া নাম তুমি নিয়ে যাবে? ওটি হচ্ছে না”
সাহাবাদ মহলে এখন সবচেয়ে আদরের মানুষ একটা ছোট্ট প্রাণ। জান্নাত। সারাদিন তাকে ঘিরেই যেন পুরো মহল ঘুরছে। সবচেয়ে বেশি পাগলামি করছে সুনেহেরা। সকাল হলেই ছুটে আসে।
দাসীদের ওবদি ধমকে দেয়
“এই এই সাবধানে ধরো। আমার বাবুকে কষ্ট দিও না। কি যে করে না এরা।”
মেহেরুন্নেসার পাশে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে বাবুর দিকে। কিন্তু সমস্যা একটাই। সে কোলে নিতে ভয় পায়। এত ছোট্ট মানুষ! মনে হয় হাত ফসকালেই পড়ে যাবে। একদিন খুব সাহস করে কোলে নিতে গিয়ে এমন কাঁপাকাঁপি শুরু করলো যে পাশ থেকে মাহাদি হেসে ফেলেছিল।
সেদিন থেকে মাহাদির সাথে কথা বলে না। আর দাঁড়িয়ে কোলেও নেয় না। পালঙ্কে বসে দুই হাঁটুর ওপর আলতো করে রাখে। আর সারাক্ষণ বকবক করে।
“বাবু তুমি এত ছোট কেন হ্যা? এই হাত দেখো তো… ওমা আঙুল গুলো দেখো… ভাবি, আল্লাহ , এত সুন্দর বাচ্চা আমি জীবনে দেখি নাই। আমার মত হয়েছে বলো?”
জান্নাত সত্যিই অসম্ভব সুন্দর হয়েছে। গায়ের রং দুধের মত ফর্সা। শীতের সকালের রোদের মত নরম আভা পুরো মুখে। মাথাভর্তি নরম চুল।
কপাল ছোট্ট। নাকটা টিকালো। আর চোখ দুটো একদম বাইজিদের মত গভীর। তবে রংটা মেহেরুন্নেসার মত । মনে হয় চোখে মধু মিশে আছে। যখন তাকিয়ে থাকে, মনে হয় বোঝে সব।
ঠোঁট দুটো ছোট্ট গোলাপের পাপড়ির মত।
কাঁদলেও মিষ্টি লাগে।
হাসলে তো পুরো রাগোল্লা লাগে। আর সবচেয়ে সুন্দর হলো তার গাল। একটু চাপ দিলেই লাল হয়ে যায়। সুনেহেরা প্রায়ই গাল টিপে বলে
“তুমি কিন্তু বড় হয়ে একদম আমার মত হবে”
বাইজিদ পাশে বসে মুচকি হেসে বলে
“আগে হাঁটতে শিখুক। তারপর তোর মত ঘোড়া চালাবে।”
সুনেহেরা গাল ফুলায়
“আমি ঘোড়া চালানোর কথা কখন বললাম? আমি তো বললাম আমার মত দেখতে হবে”
জান্নাত তখন ছোট্ট ছোট্ট হাত নাড়ায়। মাঝে মাঝে বাবার আঙুল শক্ত করে চেপে ধরে। তখন বাইজিদের মত শক্ত মানুষটাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে নিঃশব্দে। সুনেহেরা আজও পালঙ্কের ওপর পা মুড়ে বসে আছে।
কোলের ওপর ছোট্ট জান্নাত। আগের মত ভয় ভয় করছে না এখন আর। আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেছে। জান্নাতের ছোট্ট হাতের মুঠোয় নিজের আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে সে। আর সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাটা শক্ত করে ধরে ফেললো আঙুলটা। সুনেহেরা সাথে সাথে খিলখিল করে হেসে উঠলো।
“ভাবি দেখেছো? দেখেছল? এটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে।”
মেহেরুন্নেসা আয়নার সামনে বসে চুল আচড়াচ্ছিল। হেসে বলল
“কী ভালো লাগে?”
“এই যে বাচ্চারা কিছু হাতে দিলেই শক্ত করে ধরে ফেলে। মনে হয় ছাড়বেই না। ওমা দেখেন না কেমন আঁকড়ে ধরেছে আমায়।”
সুনেহেরা এবার নিজের ওড়নার কোণা দিলো জান্নাতের হাতে। সাথে সাথে সেটাও মুঠো করে ধরে ফেললো ছোট্ট মেয়েটা। সুনেহেরা যেন আনন্দে আত্মহারা।
“আহহহ আল্লাহ। আমার বাবুটা এত মিষ্টি কেন?”
মেহেরুন্নেসা তাকিয়ে মৃদু হেসে ফেললো।বহঠাৎই মেহেরুন্নেসার মুখের হাসিটা একটু ম্লান হলো।
চিরুনীটা ধীরে নামিয়ে রেখে বলল
“আপা…”
“হুম?”
“সেদিন… বাবুকে কে নিয়ে গেছিল?”
প্রশ্নটা শুনেই চুপ হয়ে গেল সুনেহেরা। মুহূর্তের মধ্যে হাসিখুশি মুখটা চুপসে গেল। চোখের ভেতরের আলো নিভে গেল যেন। জান্নাতের ছোট্ট হাতটা তখনও তার আঙুল ধরে আছে। সুনেহেরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর মুখ নামিয়ে বলল
“আমার মা…”
মেহেরুন্নেসার বুক কেঁপে উঠলো।
“মারজান বেগম?”
সুনেহেরা তিক্ত হেসে ফেললো।
“ওনাকে মা বলতে এখন ঘেন্না লাগে ভাবি। আমি নিজের চোখে দেখেছি। দাইমা ওর লোক। বাবুকে মৃত বাচ্চার সাথে বদল করে দিচ্ছিল।”
মেহেরুন্নেসার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সুনেহেরা দাঁতে দাঁত চেপে বলল
“ও চাইছিল তেমার সন্তান যাতে বাঁচতে না পারে। সাহাবাদের উত্তরাধিকার শেষ হয়ে যাক।”
মেহেরুন্নেসা নিঃশব্দে জান্নাতের দিকে তাকালো।
এত ছোট্ট একটা বাচ্চা, তাকেও ছাড়ে নি তারা।
সুনেহেরা চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল “আমি এখনো বুঝি না… একজন মা কীভাবে এমন হয়”
***
রাতের অন্ধকার পুরোপুরি মহলে নামেনি মহলপ। এই সময়ই প্রবেশ করল মিরান। চাদরের রঙটা একটু চটে গেছে। তার হাঁটার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে কিছু খুঁজছে। মেহেরুন্নেসা পালঙ্কের পাশে বসে ছিল জান্নাতকে নিয়ে। মিরানকে দেখেই একটু উঠে দাঁড়ালো।
“এসেছো?”
মিরান মাথা নত করল।
“হ্যাঁ সম্রাজ্ঞী।”
তার চোখ একবার কেবল শিশুটার দিকে গেল।
জান্নাত তখন ছোট্ট আঙুল নেড়ে কারও দিকে তাকিয়ে আছে। মেহেরুন্নেসা নরম গলায় বলল
“কোল নেবে?”
মিরান এর চোখ জোড়া চিকচিক করে উঠলো। হাত বাড়াতে গিয়েও মাঝপথে থেমে গেল। মুখ শক্ত হয়ে এলো। মাথা নেড়ে বলল
“না।”
মেহেরুন্নেসা অবাক হয়ে তাকালো।
“কেন?”
মিরান চোখ নামিয়ে বলল
“আমি খুনি। রাজ্যের নামকরা অপরাধী সম্রাজ্ঞী। আমার হাতে এই শিশুকে দিলে, যদি আমার ছোঁয়ায় কোনো কলঙ্ক লাগে?”
কথাটা শুনে মেহেরুন্নেসা মৃদু হাসলো। তারপর শান্ত, দৃঢ় গলায় বলল
“যে অন্যায় থামায় তাকে কেউ কলঙ্ক বলে না মিরান। দুষ্টের দমন কখনো হত্যা নয়।”
মিরান কিছু বলল না। কিছুক্ষণ নীরবতার পর সে ধীরে এগিয়ে এলো। এবার আর হাত সরালো না।
জান্নাতকে আলতো করে কোলে তুলে নিল। শিশুটা সঙ্গে সঙ্গে খিলখিলিয়ে হেসো উঠলো। কি বুঝলো কে জানে। মিরানের চোখে বিস্ময়। যেন এতদিনের বরফ একটু গললো। সে এক হাত দিয়ে নিজের পকেট থেকে ছোট্ট একটা বস্তু বের করল। নীলচে চকচকে একটা লকেট। আলো পড়তেই সেটা যেন ভেতর থেকে জ্বলে উঠছে।
মেহেরুন্নেসা কৌতূহলী হয়ে বলল
“এটা কী?”
মিরান ধীরে বলল
“এটা বিরল এক ধাতব শিলা।”
সে আঙুলের মধ্যে ঘুরিয়ে দেখালো।
“এটা পাওয়া যায় খুব গভীর পাহাড়ের গুহায়, যেখানে সূর্যের আলো কখনো পৌঁছায় না। একে বলে নীল অবসিডিয়ান।”
মেহেরুন্নেসা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলো। মিরান তা দেখে হেসে বলল
“এটা খুব শক্ত, কিন্তু ভেতরটা কাচের মত মসৃণ। আলো পড়লে নীল আগুনের মত ঝলক দেয়। আমাদের দেশে খুব অল্পই আছে। রাজাদের গোপন ভাণ্ডারে রাখা হয়।”
সে আলতো করে লকেটটা জান্নাতের ছোট্ট হাতে গুঁজে দিল।
“এটা ভবিষ্যত সম্রাজ্ঞীর জন্য।”
জান্নাত তখন সেটাকে শক্ত করে ধরে ফেলেছে।
মিরান নিচু গলায় বলল
“যেন সে মনে রাখে, অন্ধকার যতই গভীর হোক, ভেতরে আলো থাকতেই পারে।”
মিরান বেশিক্ষণ আর থাকলো না। জান্নাতকে একবার শেষবারের মতো তাকিয়ে দেখে সে ধীরে মাথা নত করল।
“সম্রাজ্ঞী, আমি যাই।”
মেহেরুন্নেসা শুধু মাথা নাড়লো। বাইরে আজও প্রজাদের খাবার বিতরণ চলছে। কিছুক্ষণ পরই দরজায় পায়ের শব্দ শোনা গেল। বাইজিদ ঢুকলো। ক্লান্ত কিন্তু শান্ত মুখ। বাইরে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকে প্রজাদের খাবার দেখাশোনা করেছে। কাপড়েও ধুলো-ময়লা। চোখে সন্তুষ্টি।
মেহেরুন্নেসার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো।
“আজ কেউ খালি হাতে ফেরেনি। আমাকেও ফেরাবেন না মহারাণী”
মেহেরুন্নেসা মুচকি হেসে ধমক দিল
“চুপ করুন অসভ্য লোল। যান আগে হাতমুখ ধুয়ে আসুন”
বাইজিদ হাত মুখ ধুয়ে এসে মেহেরুন্নেসার পাশে বসে জান্নাতকে কোলে নিতে গেল।
“এখন আমার পালা আমার মেয়েকে একটু আদর করার।”
সে আলতো করে শিশুটাকে কোলে তুললো। সঙ্গে সঙ্গে তার ভ্রু কুঁচকে গেল। জান্নাতের ছোট্ট মুঠো শক্ত করে কিছু একটা ধরে আছে। বাইজিদ একটু ঝুঁকে দেখে নিল। একটা নীলচে চকচকে লকেট। আলো পড়তেই ভেতর থেকে হালকা নীল ঝিলিক উঠছে। সে অবাক হয়ে বলল
“এটা কী?”
তার চোখ মেহেরুন্নেসার দিকে উঠলো।
“এটা কোথায় পেল?”
মেহেরুন্নেসা শান্ত গলায় বলল
“মিরান দিয়েছে।”
বাইজিদের চোখ একটু সরু হলো।
“মিরান?”
তার কণ্ঠে জড়তা। মেহেরুন্নেসা মাথা নেড়ে বলল
“হ্যাঁ। ও এসেছে আজ। খুব বেশি সময় ছিল না।”
বাইজিদ লকেটটা হাতে নিয়ে একবার ঘুরিয়ে দেখল। নীল আলোটা তার আঙুলে পড়ে হালকা ঝিলিক দিচ্ছে। জান্নাত তখনও নির্ভাবনায় আঙুল নাড়াচ্ছে। বাইজিদ ধীরে মেয়ের কপালে চুমু খেল।
তারপর নিচু গলায় বলল
“এই মিরানেরও কোনো গোপন পরিচয় আছে মেহের।”
মেহেরুন্নেসা কপাল কুচকে বলল
“মানে?”
বাইজিদ লকেট টা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে বলল
“এটা আমার মায়ের লকেট। ছোট আম্মার পিতা এটা আরব দেশ থেকে এনে দিয়েছিল তাদের দুই জা কে। এই লকেট মিরানের কাছে কোথ থেকে এলো?”
কেমন হয়েছে জানাইও। আর সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করিও
#নূর_এ_সাহাবাদ
#jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৫২ (খ)
সারারাত একদম ঘুম হয়নি মেহেরুন্নেসার। জান্নাত রাতটায় অনেক জ্বালিয়েছে। কিছুতেই শান্ত হচ্ছিল না। কোলে নিলেও কাঁদে। শুইয়ে রাখলে আরও বেশি কাঁদে। কখনো দুধ খাচ্ছে আবার হঠাৎ মুখ কুঁচকে কান্না জুড়ে দিচ্ছে। শেষ রাতের দিকে তো মেহেরুন্নেসার চোখ লাল হয়ে উঠলো ক্লান্তিতে। বাইজিদ কয়েকবার বলেছিল আমায় দাও।
কিন্তু মেহেরুন্নেসা দেয় নি। বলেছে
“একে আপনি সামলাতে পারবেন না। আমিই পারছি না”
অবশেষে ফজরের পর একটু শান্ত হলো জান্নাত।
দুধ খেয়ে বাবার বুকের কাছে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো ছোট্ট মেয়েটা। মেহেরুন্নেসা তখন ক্লান্ত শরীরে আধশোয়া হয়ে আছে।
চোখ খুলে রাখার শক্তিও নেই।
বাইজিদ মাথায় হাত বুলিয়ে বলল
“এবার তুমি ঘুমাও।”
মেহেরুন্নেসার চোখ ভর্তি ঘুম। তবুও নিস্তেজ স্বরে বলল
“না বাবু আবার উঠলে কান্না করবে”
“আমি আছি।”
মেহেরুন্নেসা কিছু বলতে গিয়েও পারলো না।
চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এলো। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো। বাইজিদ অনেকক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলো স্ত্রী আর মেয়ের দিকে। তারপর খুব সাবধানে জান্নাতকে কোলে তুলে নিল।
ছোট্ট শরীরটা নরম কাপড়ে মোড়ানো। ঘুমের মধ্যেই বাবার জামা মুঠো করে ধরেছে সে। বাইজিদ মৃদু হেসে কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলো।
সকালের ঠান্ডা বাতাস। বাগানে শিশির জমে আছে। ফুলের পাপড়িতে ছোট ছোট পানির ফোঁটা। বাইজিদ ধীরে ধীরে হাঁটছে পাথরের পথ ধরে। বুকের সাথে আলতো করে চেপে রেখেছে জান্নাতকে। মাঝে মাঝে নিচু হয়ে দেখছে মেয়েটা ঠিকঠাক আছে কিনা। প্রহরীরা দূর থেকে এ দমশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। তারপর তারা একজন আরেকজন কে দেখাতে লাগলো। সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে।এই সেই বাইজিদ? যে যুদ্ধক্ষেত্রে সাক্ষাৎ রণদেবতা, যে একা দশজনের সামনে দাঁড়িয়ে যায়? সেই মানুষটা আজ নিজের শিশুকে বুকে আগলে বাগানে হাঁটছে। যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস ধরে রেখেছে।
একজন বৃদ্ধ প্রহরী মৃদু হেসে পাশে দাঁড়ানো আরেকজনকে বলল
“দেখেছিস? মানুষটার ভেতর এত মায়াও আছে।”
আরেকজন বলল
“সম্রাজ্ঞীর শরীর টরীর খারাপ করলো কিনা কে জানে। নাকি ঘুমোতে দিয়েছে বোধহয়।”
বাইজিদ কথাগুলো শুনেও কিছু বললো না। শুধু নিচু হয়ে জান্নাতের কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। শিশুটা ঘুমের মধ্যেই একটু নড়লো। কিছুক্ষন
হাটলো ফুলের বাগানের মধ্যে দিয়ে যাওয়া পাথুরে পথটাতে। হঠাৎ মেয়ের দিকে চোখ যেতেই দেখলো ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে আছে। বাইজিদ হাঁটা থামালো। চোখ সরু করে বলল
“একি তুমি ঘুমাচ্ছো না? কি দেখছো ওভাবে তাকিয়ে?”
কে জানে বুঝছে কিনা সে বাবার ভাষা। ডাগর ডাগর চোখে তাকিয়ে আছে। বাইজিদ পুনরায় চুমু দিতে গেলে শিশু শরীরের ঘ্রাণ তার নাকে লাগে। সুগন্ধি তেল আর গরুর দুধের ঘ্রাণ মিশে এক অদ্ভুত সুন্দর ঘ্রাণ তার বাচ্চা টার গায়ে। ঘণ পাপড়ি যুক্ত চোখ, পাতা ঝাপটাতেই যেন পুতুলের মত লাগে তাকে। আচমকা বাইজিদ এর কোল থেকে ছো মেরে বাচ্চা টা কেড়ে নিলো সুনেহেরা। বাইজিদ আঁতকে উঠলো একদম। অবাক চোখে তাকাতেই দেখলো সুনেহেরা রাগী চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। বাইজিদ কিছু বলার আগেই সুনেহেরা খ্যাক খ্যাক করে উঠলো
“মাথা টাথা কি গেছে নাকি তোমার? বয়স কি বাতাসে হচ্ছে হ্যা? এই ভোর বেলা কুয়াশা চারিদিকে, এখনো রোদ ওঠেনি। এর মধ্যে এতটুকু বাচ্চা কে তুমি কোন আক্কেলে বাইরে বের করেছো? ঠান্ডা লেগে যাবে না ওর?”
বাইজিদ ছোট করে বলল
“ও ঘরে কাঁদছিল খুব। মেহের সারা রাত এমনিতেই ঘুমাতে পারেনি। তাই….”
বাইজিদ থ হয়ে তাকিয়ে রইলো। আসলেও তো, কথাটা ভুল বলেনি সুনেহেরা। এই শীতের মৌসুমে এত সকালে বাচ্চা টাকে বাইরে আনা তার ঠিক হয়নি। সুনেহেরা নিজের গায়ের শালটাও জান্নাতের গায়ে জড়িয়ে বকবক করতে করতে ভিতরে যাচ্ছে
“এদের কারও খেয়াল ই নেই তোর প্রতি। দেখেছিস? ওনার বউ এর ঘুম ভেঙে যাবে বলে মেয়েটাকে বাইরে নিয়ে এসেছে। থাকবই না এই মহলে। আজই আমি আমার মেয়ে নিয়ে চলে যাব। তোর বাবা তোকে ভালোবাসে না রেএএএ। ভালোবাসে তার বউ কে”
ভিতরে এসে দাসীদের দিয়ে গরম পানি করিয়ে আনলো। উষ্ণ গরম পানিতে নরম কাপর ভিজিয়ে সেটা নিঙরে পানি ফেলে সেই ভেজা কাপড় দিয়ে জান্নাতের হাত মুখ মুছিয়ে দিল। উষ্ণ গরুর দুধ বাটিতে করে এনে চামচ দিয়ে তা খাওয়ালো। ফের মুখ মুছে দিয়ে থুতনি কয়েকটা চুমু খেল। খিলখিল করে হেসে উঠলো বাচ্চা টা। নরম চাদরে মুড়িয়ে বুকের সাথে মিশিয়ে বৈঠক জুড়ে হেটে হেঁটে ঘুম পাড়িয়ে দিলো জান্নাত কে। ঘুমিয়ে গেছে টের পেতেই নিজের কক্ষে গিয়ে পালঙ্কে মেয়েটাকে বুকে নিয়ে শুয়ে পড়লো। আরেকটা চাদরে ঢেকে নিলো নিজেকেও। মা মেয়ে তে জব্বর একখানা ঘুম হবে।
****
ভোরের আলো তখন ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। পথঘাট কুয়াশায় ঢাকা। ঠান্ডা বাতাসে গায়ের চাদর আরও শক্ত করে জড়িয়ে নিল রত্নপ্রভা।
সারারাতের ক্লান্তিতে পা যেন অবশ হয়ে আছে।
অবশেষে ওষুধ ভর্তি বাক্সগুলো জাহাজে তুলে দিয়ে ফিরেছে সে। নদীর ঘাট থেকে বাড়ি পর্যন্ত আসতে আসতে বারবার চারপাশ দেখেছে। কেউ অনুসরণ করছে না তো? কেউ দেখলো না তো?
বুকের ভেতর ধুকপুকানি এখনো থামে নি। নিজেদের ছোট্ট দালানটার সামনে এসে থামলো।
চারপাশ নিস্তব্ধ। আবিদের মা এখনো ঘুমিয়ে থাকার কথা। আর আবিদ? রত্নার ঠোঁটে হালকা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটলো। ওর খাবারে নিজের হাতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিল সে। বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে বোধহয়। আজ তো মহল ছুটি। ঘুমোক। দরজাটা খুলে ভেতরে ঢুকতেই আচমকা থমকে গেল রত্না। মুহূর্তেই মুখের রং উধাও। খাটের পাশে সটান হয়ে বসে আছে আবিদ।
চোখ দুটো স্থির। মুখ গম্ভীর। চোয়াল শক্ত করে বসে আছে। মনে হচ্ছে রত্নার অপেক্ষা তেই ছিল।
রত্নপ্রভার বুক ধক করে উঠলো। হাতের আঙুল ঠান্ডা হয়ে গেল মুহূর্তেই। এ…এটা কীভাবে সম্ভব?
সে তো নিজে ওষুধ মিশিয়ে সেটা খাইয়েছে! তাহলে লোকটা উঠলো কীভাবে? আবিদ তার দিকে তাকালো। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল
“কোথায় গেছিলেন শাহজাদি?”
রত্নপ্রভা কয়েক সেকেন্ড কথা বলতেই পারলো না। মনে হচ্ছে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
তবুও নিজেকে সামলে মুখে বিরক্তির ভাব এনে বলল
“এত সকালে জেরা শুরু করলেন কেন? আমি কি বাইরে যেতে পারি না?”
আবিদ চোখ সরালো না।
“প্রশ্নের উত্তর দিন।”
রত্না চাদর খুলতে খুলতে বলল
“খুব সকালে ঘুম ভেঙেছে। আর ঘুম আসছিল না। তাই বাইরে গেছিলাম।”
“তাই বলে সারারাত?”
কথাটা শুনে রত্নার হাত থেমে গেল। জড়তা সামলে নিয়ে বলল
“আপনি কি আমার পেছনে পাহারা বসাবেন নাকি? না তাহলে আরকি কখন গেছিলাম? কোথায় গেছিলাম সব জানতেন। আমি সারারাত কেন বাইরে থাকতে যাব? আমি তো সকালে…”
আবিদ ধপ করে উঠে দাঁড়ালো। চোখ মুখ অসম্ভব কঠিন।
“ছলনা করবেন না শাহজাদি। আপনি মাঝরাতে বেরিয়েছেন। আর এখন ফিরলেন। একটা মেয়ে মানুষ সারাটা রাত নির্দ্বিধায় কি করে বাইরে থাকতে পারে বোঝান আমায়। আপনি হতে পারেন শাহজাদি। কিন্তু আপনি আমার স্ত্রী। আমার তো এটা জানা উচিত। বলুন।”
রত্নপ্রভার বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো। তবুও ঠোঁট শক্ত করে বলল
“তাহলে? আপনি কি আমার চরিত্র নিয়ে সন্দে…”
“কথা ঘোরাবেন না”
আবিদ কয়েক পা এগিয়ে এলো।
“এতদিন আমি কি কিছু জানতে চেয়েছি শাহজাদি? আমি তো জানার অধিকার রাখি নাকও?”
রত্না এবার চোখ তুলে সরাসরি তাকালো তার দিকে।
“না। রাখেন না। আমার যথেষ্ট বয়স আর বুদ্ধি হয়েছে এবং আমি শত্রু প্রতিহত করতে অস্ত্র চালনাও জানি। তাই যেখানেই গেছি, ভেবে চিন্তেই গেছি”
আবিদ কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
তারপর নিচু স্বরে বলল
“আপনি আমার সাথে সংসার না করলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন যেহেতু আমরা স্বামী স্ত্রী। তাই আমাকে আপনার কৈফিয়ত দিতেই হবে। সে আপনি যত বড় বীর ই হন না কেন”
রত্নপ্রভা চুপ করে আছে। নেওয়াজ মাথার চুল খাচমে ধরে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। হঠাৎ বলল
“গত রাতের খাবারটা আমি খাই নি।”
মুহূর্তেই জমে গেল রত্নপ্রভা। পেছন ফিরে তাকালো সাথে সাথে। আবিদের চোখ স্থির। প্রভা অবিশ্বাস এর সুরে বলল
“কি?”
“আপনি যেই খাবারে ওষুধ মিশিয়েছিলেন, সেটা আমি খাই নি।”
রত্নার গলা শুকিয়ে এলো। আবিদ আবার বলল
“অনেকদিন ধরেই আপনার ওপর নজর রাখছিলাম আমি।”
“আমার ওপর নজর?”
“হ্যাঁ।”
“সাহস তো কম না আপনার।”
আবিদ এবার একটু কষ্টের হাসি দিলো।
“সাহস না। বাধ্য হয়েছি।”
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
“রাতের পর রাত আপনি বাইরে যান। লুকিয়ে কিসের বাক্স সরান। অচেনা লোকজন আসে। আজ আবার জাহাজ পর্যন্ত গেলেন।”
রত্নার মুখ শক্ত হয়ে উঠলো।
আবিদ নিচু গলায় বলল
“কেন করছেন এসব?”
“……”
“কেন অঙ্কুরকে সাহায্য করছেন?”
এইবার যেন আগুন জ্বলে উঠলো রত্নার চোখে।
“আমায় জেরা করছেন?”
“উত্তর চাইছি।”
রত্না ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল
“একজন শাহজাদিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলছেন আপনি?”
আবিদের চোয়াল শক্ত হলো। তারপর তীক্ষ্ম স্বরে বলল
“আমি কোনো শাহজাদিকে কিছু বলছি না। আমি আমার স্ত্রীকে বলছি। আমার স্ত্রী এত বড় অন্যায় করছে। তাকে শাসন করার অধিকার আমার আছে।”
রত্না তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো।
“শাসন?”
“হ্যাঁ শাসন।”
আবিদের গলায় আজ প্রথমবার কঠোরতা।
“আপনি জানেন অঙ্কুর কে। সে কত মানুষ হত্যা করেছে জানেন। তারপরও তাকে সাহায্য করছেন?”
রত্না দাঁতে দাঁত চেপে বলল
“ওসব আপনি বুঝবেন না।”
“তাহলে বুঝান আমায়।”
রত্নার চোখ ভিজে উঠলো হঠাৎ। কিন্তু রাগে গলা আরও কাঁপলো।
“সবাই শুধু অঙ্কুরকে দোষ দেয়। কেউ কখনো আমার কথা বুঝতে চায় না।”
আবিদ থেমে গেল। রত্না কাঁপা কাপা গলায় বলল
“আমি যাকে ভালোবেসেছি, তাকে এভাবে মরতে দিতে পারবো না।”
আবিদের মুখের রং বদলে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলো সে। তারপর ভাঙা গলায় বলল
“তাহলে… এতদিনেও আপনার মনে আমার জন্য একটুও জায়গা না হওয়ার কারণ এটা? একজন অপরাধী পাপী নরপিশাচ কে….? ছিহহ শাহজাদি ছিহহহ”
রত্নপ্রভা চোখ নামিয়ে নিলো। আবিদের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠছে। এতদিন ধরে যাকে নিজের স্ত্রী ভেবে আগলে রাখতে চেয়েছে, তার হৃদয়ে এখনো অন্য একজনের নাম। তবুও নিজেকে সামলে বলল
“আপনি বুঝতে পারছেন আপনি কী করছেন? এই ওষুধগুলো দিয়ে কত মানুষের ক্ষতি হতে পারে?”
রত্না বিরক্ত হয়ে বলল
“আমায় জ্ঞান দিবেন না।”
“আমি জ্ঞান দিচ্ছি না। আপনাকে এবং দুনিয়ার মানুষ কে বাঁচাতে চাইছি।
আবিদের গলা আচমকা উঁচু হয়ে গেল। রত্না থমকে তাকালো। আবিদ কপালে হাত বুলিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। তারপর নিচু স্বরে বলল
“এই যে মানুষ গুলোর ক্ষতি করছেন না? এদের অভিশাপে শেষ হয়ে যাবেন আপনি”
কথা শেষ করতে পারলো না।
রত্নপ্রভা চোখ ফিরিয়ে নিলো। হঠাৎই তার কপাল কুঁচকে গেল। ঘরের চারপাশ যেন দুলছে। এক হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো। আবিদ ভ্রু কুঁচকে বলল
“কি হয়েছে?”
রত্না উত্তর দিল না। দুই পা এগোতেই শরীরটা টলে গেল।
“শাহজাদি!”
ধপ করে পড়ে যাওয়ার আগেই আবিদ ঝাঁপিয়ে ধরে ফেললো তাকে। রত্নপ্রভার চোখ বন্ধ। শরীর নিস্তেজ। আবিদের বুক ধকধক করতে লাগলো।
“শাহজাদি! শুনতে পাচ্ছেন?”
কোনো সাড়া নেই। সে তাড়াতাড়ি কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলো। বারবার মুখে পানি ছিটালো।
“রত্না রত্না চোখ খুলুন।”
কোনো উত্তর নেই। আবিদ বেশ ভয় পেয়ে গেল।
দ্রুত বাইরে ছুটে বেরিয়ে চিৎকার করে তার মা কে ডাকলো।
“আম্মা! আম্মা, রত্না অসুস্থ। ওর কাছে এসো আমি হেকিম ডাকছি”
দৌড়ে এলো আবিদের মা
“জলদি হেকিম ডাকো!”
কিছুক্ষণের মধ্যেই এক বৃদ্ধ হেকিম এসে
পৌঁছালো। আবিদ উৎকণ্ঠিত হয়ে পায়চারি করছে। হেকিম নাড়ি দেখলো। কিছুক্ষণ পরীক্ষা করলো। তারপর ধীরে মুখ তুলে তাকালো। আবিদ তাড়াতাড়ি বলল
“কি হয়েছে? উনি ঠিক আছেন তো?”
বৃদ্ধ হেকিমের মুখে মৃদু হাসি ফুটলো।
“ভয়ের কিছু নেই।”
আবিদ হাঁফ ছাড়তে গিয়েও থেমে গেল।
হেকিম শান্ত গলায় বলল
“মাশাআল্লাহ। আপনি বাবা হতে চলেছেন।”
মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল আবিদ।
“কি?”
“উনি গর্ভবতী।”
কথাটা শুনে আবিদের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে রত্নপ্রভার দিকে তাকালো। নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা। আবিদ বিছানার পাশে বসে আছে। চোখ এখনো রত্নপ্রভার দিকেই স্থির। মনে হচ্ছে এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না।
তার সন্তান? তার আর রত্নার সন্তান। হেকিম চলে গেল। এমন সময় দরজার বাইরে থেকে আবিদের মা তাড়াহুড়ো করে ঢুকলেন। মুখে দুশ্চিন্তা ছিল এতক্ষণ।
“কী বললো হেকিম?”
আবিদ কেমন করে তাকালো মায়ের দিকে। খুব নিচু শব্দে বলল
“আম্মা…তুমি দাদি হতে চলেছো।”
আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন ভদ্রমহিলা। দুহাত তুলে বলে উঠলেন
“আলহামদুলিল্লাহ!”
চোখ মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো।এগিয়ে এসে রত্নপ্রভার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
“আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ… আমার ঘরেও তাহলে ছোট্ট পায়ের শব্দ আসবে।”
তার চোখ ভিজে উঠলো আনন্দে। আবিদ চুপচাপ বসে আছে। মা এবার তার দিকে তাকিয়ে বললেন
“এভাবে বসে আছিস কেন? এটা তো অনেক বড় সুখবর! জমিদার মহলে খবর পাঠা জলদি। বাকের শাহ্ শুনলে কত খুশি হবেন!”
আবিদ কিছু বললো না প্রথমে। দৃষ্টি আবার রত্নপ্রভার দিকে চলে গেল। মেয়েটা এখনো অচেতন। মুখটা ফ্যাকাশে। আবিদ ধরা গলায় বলল
“হ্যাঁ… খবর দিতে হবে।”
হাত বাড়িয়ে রত্নপ্রভার হাতটা নিজের মুঠোয় নিল। সে এখন তার সন্তানের মা। রত্নপ্রভার জ্ঞান ফিরতে সময় লাগলো। চোখ খুলতেই মাথাটা ভার লাগলো তার। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইলো স্থির হয়ে। তারপর সব মনে পড়তেই ধপ করে উঠে বসলো। তারমানে সে যা সন্দেহ করেছিল তাই? দুহাতে নিজের চুল খামচে ধরলো। না না অন্য কারো সন্তান গর্ভে অঙ্কুরের সামনে দাঁড়াবে কি করে সে? আবিদ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। রত্নার নড়াচড়া টের পেয়ে এগিয়ে এলো।
“কেমন লাগছে এখন?”
রত্না কোনো উত্তর দিল না। বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে গেলেই আবিদ তাড়াতাড়ি বলল
“আরে সাবধানে।”
রত্না হাত সরিয়ে দিল।
“আমায় ধরবেন না।”
আবিদ থেমে গেল। তারপর নিচু গলায় বলল
“হেকিম এসেছিল।”
রত্না ঠান্ডা চোখে তাকালো।
“জানি।”
“আম্মা তো খুব খুশি।”
রত্নার ঠোঁটে তিক্ত হাসি ফুটলো।
“খুশি হওয়ার কিছু নেই। এই সন্তান আমি চাই না।”
মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল আবিদ।
“কি বললেন?”
রত্নার চোখ জোড়া আগ্নেয়গিরি হয়ে আছে।
“আমি এই বাচ্চা রাখবো না।”
আবিদের বুক ধক করে উঠলো। সে দ্রুত বিছানার কাছে এসে বলল
“কি সব যা তা কথা বলছে?”
রত্না রাগ নিয়ে তাকালো।
“কেন বলবো না? আমাদের মধ্যে কোনো ভালোবাসা ছিল? কেবল মাঝরাতের আকাঙ্খার ফল এই সন্তান। যখন খুব করে নিজের পুরুষত্ব জেগেছে। তখন ছুয়েছেন আমায়। সেই ছোয়ার ফল আমি দুনিয়ায় আনতে চাই না। ”
কথাটা ছুরি হয়ে বিঁধলো আবিদের হৃদপিণ্ডে।
“ও কোনো ছোঁয়াছুঁয়ির ফল নয়। আমরা বিবাহিত বৈধ স্বামী-স্ত্রী। মুখ সামলে কথা বলুন”
রত্না চোখ ফিরিয়ে বলল
“যেই সম্পর্ক জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার ফল আমি চাই না।”
আবিদ অসহায়ের মত বলল
“কিন্তু বাচ্চাটার তো কোনো দোষ নেই।”
“আমি কিছু জানি না।”
“রত্না…”
“না!”
সে এবার কাঁপা গলায় বলল
“আমি এই সন্তান জন্ম দিব না। যেভাবেই হোক নষ্ট করে ফেলবো।”
আবিদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তার গলা কেঁপে উঠলো।
“এমন করবেন না। দয়া করুন শাহজাদি। আপনি আমাকে ভালো না বাসলে সমস্যা নেই। কিন্তু বাচ্চাটাকে পৃথিবীতে আসতে দিন।”
রত্না শক্ত গলায় বলল “না।”
আবিদ এক পর্যায়ে পায়ে ধরার প্রস্তুতি নিলো
“দয়া করুন শাহজাদি। আমি ওকে চাই। আমার অস্তুিত্ব, আমার অংশ কে আমি চাই। আপনি দেখেন না শাহজাদা যখন তার কন্যা কে কোলে নিয়ে হেঁটে বেড়ায় তখন কত সুন্দর আর সুখময় লাগে সেই দৃশ্য। আমিও সেই সুখ অনুভব করতে চাই।”
“আমি চাই না।”
আবিদের চোখ ভিজে উঠলো। সে কোনোদিন এত অসহায় বোধ করে নি।
“একবার ভাবুন ও আমাদের রক্ত…”
রত্না মুখ ফিরিয়ে নিলো। দাঁতে দাঁত পিষে বলল
“এত সুখ আবার আমার পোষায় না”
আবিদ ঘৃণিত কন্ঠে বলল
“আসলে ওই পিচাশ দের সাথে মিশে আপনারও বিবেক বোধ হারিয়ে গেছে। নয়তো কোনো মা তার গর্ভের সন্তান এর ব্যাপারে এত নিষ্ঠুর হতেই পারে না। অপরাধী দের সাথে মিশে মিশে মাতৃত্বের সুখও আপনার কাছে অসহ্য মনে হচ্ছে”
“আবিদ”
ধমকে উঠলো রত্না। চোখ জোড়া দেখে মনে হচ্ছে গিলে খাবে আবিদ কে। আবিদ ও ক্রোধ নিয়ে বলল
“চ্যাচাবেন না। তাহলে আমাকে বাধ্য হতে হবে আপনার গলা নিচু করার ব্যাবস্থা করতে। আপনি যদি বাচ্চার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন… আমি সম্রাজ্ঞীর কাছে বিচার দিব।”
রত্নার চোখ বড় হয়ে গেল।
“আপনি সাহস তো কম না”
আবিদ এর চোখ জোড়া ভয়ংকর রকম লাল হয়ে গেছে। বরাবরের শান্ত পুরুষটা কি ভয়ানক রুপ ধরেছে। শক্ত কন্ঠে বলল
“সাহসের দেখেছেন কী? খালি আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি হোক। আর কি ভাবছেন আপনার ভাই জমিদার বলে আমি ভয় পাব? তাদের জ্ঞান আছে, তারা বিচারক। বিচারে কোনো আপন পর নেই। আপনি আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি করলে তার উপযুক্ত শাস্তি পাবেন। কথাটা ঘটে ঢুকিয়ে নিন। এই যে আমি মহলে যাচ্ছি, যদি এরপর এক পা বাড়ির বাইরে যান। ঠ্যাং ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখবো”
সবাই একটু বেশি বেশি কমেন্ট করিও। যাতে অন্যদের কাছেও পৌঁছায়। কেমন হইছে বলিও
Share On:
TAGS: জান্নাতুল ফেরদৌস, নূর এ সাহাবাদ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৭
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৩১
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৩৯ এর প্রথমাংশ
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৪০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল ৪২ এর প্রথমাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৬
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ২১ এর প্রথমাংশ