#ডেসটেনি [ ২৬]
#সুহাসিনি_মিমি
ঝড়ের বেগে কালো মারসিটিজটা ছুটছে। বাইরে তখনো ঝুম বৃষ্টি। উইন্ডশিল্ডের উপর একের পর এক আছড়ে ভারী বর্ষণ। ওয়াইপার সেগুলো সরিয়েও, সামলাতে পারছে না ঠিকঠাক।স্টিয়ারিংটা শক্ত করে ধরে আছে তাজধীর। চোয়াল শক্ত। চোখদুটো ভয়ং কর ঠান্ডা। এতটাই ঠান্ডা যে সেটা দেখলে যে কারও বুক অব্দি কেঁপে কেঁপে উঠবে। গাড়ির ভেতরটা থমথমে। বারবার মাথায় একটাই দৃশ্য ঘুরে ফিরে আসছে তার। ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রিয়ন্তী,আর ওর উপর অভিরাজের সেই চাহুনি।
ভাবতেই স্টিয়ারিংয়ের উপর আঙুলের চাপ আরও শক্ত হয়ে উঠল তাজধীরের। চোখের পাশে রগগুলো ফুলে উঠল স্পষ্ট। আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিলটা ক্লোজ করার কথা ছিল। যেই ডিলটার জন্য গত পুরোটা রাতদিন এক করে কাজ করেছে সে। অথচ এখন সেই বিষয়টার প্রতিও বিন্দুমাত্র আগ্রহ লাগছে না কেন যেন! কারণটা নিজেও বুঝতে পারছে না। আর সেটাই আরও বেশি বিরক্ত করে তুলছে তাকে।
গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিলো আরও।কিছুক্ষণের মাঝেই কালো মার্সিডিজটা এসে থামল বাড়ির সামনে।গাড়ির দরজা খুলেই একটানে নেমে পড়ল তাজধীর।বাইরে বৃষ্টির পানি এখনো পড়ছে টুপটাপ। কয়েক সেকেন্ডেই ভিজে গেল কাঁধের একপাশ। কিন্তু সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই আজ তার। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে কলিংবেল চাপতেই কাজের মেয়ে রিনা দৌড়ে এসে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলেই থমকে যায় মেয়েটা।তাজধীরের মুখের অবস্থা দেখে ধড়ফড় করে সরে দাঁড়ায় একপাশে। লোকটার চেহারা এমনিতেই গম্ভীর। কিন্তু এই মুহূর্তে আরও ভয়ং কর লাগছে কিনা!
রিনা মেয়েটা সরে দাঁড়াতেই হুড়মুড় করে ভিতরে ঢুকে তাজধীর। বড় বড় কদমে সোজা পা বাড়ায় সিঁড়ি ধরে। ড্রয়িংরুম পেরিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে নিতেই রান্নাঘরের পাশ থেকে বেরিয়ে এলেন মোহনা।ছেলেকে অসময়ে দেখে চিন্তিত কণ্ঠে ডেকে উঠেন তিনি,
“আযান? এসে পড়লি যে? শরীর খারাপ লাগছে নাকি? এইজন্যই বলি টাইমমতো খেয়ে নিতে। আয় বাবা, খাবার রেডি করাই আছে। খেয়ে নে এসে।”
উত্তর করল না তাজধীর। থামল না।তাকালো না অব্দি।দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে চলে গেলো।
মোহনা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। আবার ডাকলেন,
“আযান? কি হইসে বাবা?”
এবারেও উত্তর এলোনা কোনো। পরমুহূর্তেই ওপরতলা থেকে “ঠাস!” করে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ ভেসে এলো শুধু।চমকে উঠলেন মোহনা।কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন একইভাবে। অতঃপর কুচকালেন কপাল।
“কিছু হইসে নাকি খালাম্মা? ভাইজান এমনে ঘুমরা মুখ কইরা রাখসে কেন হঠাৎ?”
রিনার প্রশ্নে চিন্তিত বদনে সোফায় বসলেন মোহনা। বুকের ভেতরটা অজানা দুশ্চিন্তায় ভরে উঠছে।ছেলেটা তার এমনিতেই কথা বলে কম। সবকিছু নিজের ভিতরেই চেপে রাখে। তবে শতকিছুতেই তার কথার উত্তর না দিয়ে উল্টো চলে যাওয়া মানুষতো তার ছেলে না। মোহনার বুক ধকধক করে উঠল হঠাৎ। নিজের মনেই বিড়বিড় করে বললেন তিনি,
“আল্লাহ খাইর করুক, কি হইলো ছেলেটার হঠাৎ?”
:
:
:
দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়ার আগ মুহূর্ত।বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে অবশেষে বাড়ি ফিরেছে পাভেলরা। বাইরের বৃষ্টি অনেক আগেই থেমে গেছে। তবে আকাশটা ঢেকে আছে ভারী মেঘের আস্তরণে।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুষ্ঠান শেষে ভীষণ ক্লান্ত সকলেই।বাড়িতে ঢুকেই প্রিয়ন্তী হাঁফ ছাড়ল ছোট্ট করে। গাউনটা সামলে উঠে গেল সোজা নিজের থাকার রুমটায়। মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে ওর।
ওদিকে পাভেল আর মিতালীও নিজেদের রুমে ঢুকল।
“উফফ! আজকে আর এক পা চলার শক্তিও আমার অবশিষ্ট নাই!”
শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলল পাভেল। সবসময়ের মতো উত্তরটা দিলোনা মিতালী আজ।মুখটা কেমন গম্ভীরই আছে এখনো।পাভেল সেটা খেয়াল করল না অবশ্য। সরাসরি তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকল ফ্রেশ হতে।মিতালী আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়াল।গায়ের শাড়িটা পাল্টাতে হবে। হাঁসফাঁস লাগছে, অসস্তি ও হচ্ছে বেশ। কাবার্ড খুলতেই চোখ গেল ভেতরের এক কোণায়।সেখানে অতি যত্নে একটা বড়সড়ো শপিং ব্যাগ রাখা।ব্যাগটা এতটাই দৃষ্টিনন্দন আর এলিগ্যান্ট যে চোখ এড়ানো সম্ভব না। চকচকে অফ-হোয়াইট প্যাকেজিং, উপরে সিলভার এমবস করা ব্র্যান্ডের নাম ও লিখা। নামটা অস্ফুট শব্দে বারকয়েক আওড়াল মিতালী।
আশ্চর্যে রীতিমতো থমকে, চমকে উঠল মেয়েটা।
সরু হয়ে এলো চোখদুটো। এই ব্র্যান্ডটা তার অচেনা না মোটেও। বরং খুব ভালো করেই চেনে।এই ব্র্যান্ডের একটা ড্রেস কিনতেও সর্বনিম্ন লাখের কাছাকাছি তো লাগেই। বিয়ের পরপর এসব ব্রান্ডের জামা পড়া বাদ দিয়েছে মিতালী। বিয়ে না, পাভেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকেই নিজের চালচলন পোশাক আসাকে যথেষ্ট পরিবর্তন এনেছে। ব্যাগটা তার নয় সিউর, তাহলে কি এটা প্রিয়ন্তীর ড্রেসের ব্যাগটা? পাভেল সত্যি নিজ থেকে কিনে দিয়েছে বোনকে? তবে ব্যাগ এখানে রেখে শুধু ড্রেস দিবে কেন?আর দিলেও সেটা ওর কাছ থেকে হাইড’ই বা করবে কেন? মাথায় একের পর এক প্রশ্ন কিলবিল করে উঠল। ব্যাগটা উল্টেপাল্টে খুলে দেখল।ভিতরের টিস্যু পেপারগুলো এখনো সুন্দর করে ভাঁজ করা।
মানে খুব সম্প্রতি কিছু রাখা হয়েছিল এখানে। তখনই বেরিয়ে এলো পাভেল।
ভেজা চুল মুছতে মুছতে তৌয়ালে ছুড়ে মারলো মিতালীর উপর। এতেও স্ত্রীর কোনো রিয়েকশন না দেখে কপাল কুঁচকে এগিয়ে এলো। মিতালী এখনো দাঁড়িয়ে আছে ঠাই। মিতালীর হাতে ব্যাগটা দেখে খানিকটা থমকায় পাভেল।অপ্রস্তুত হয়ে পরে বেশ। মিতালী প্রশ্ন করে সোজা,
“এই ব্যাগটা কোথা থেকে আসল পাভেল?তুমি এনেছো?”
থমকানো গলায় প্রত্তুত্তর করে পাভেল,
“কোনটা এটা?কেন প্রিয় তোমায় কিছু বলেনি? বিয়েতে যেই ড্রেসটা পড়েছে সেটাই ছিল এটায়!”
“তুমি কিনেছো?”
মিতালীর সরাসরি প্রশ্নে কুন্ঠায় যায় পাভেল। সংকোচ নিয়ে জানায়,
“এভাবে জেরা কেন করছো, আজব!”
“এখানে জেরা কোথায় পেলে তুমি? এই ব্র্যান্ডের জিনিস তুমি কোনোদিন কিনোনি। কিনতেও পারবে না আমি জানি। তাহলে?এটা এলো কোথা থেকে?”
পাভেলের মুখ শক্ত হয়ে এলো কিঞ্চিৎ।
“কি বলতে চাইছ কি তুমি ?”
“আমি জানতে চাইছি সকালে প্রিয়ন্তীর ড্রেসটা কে পাঠিয়েছে?”
পাভেল প্রথমে চোখ সরিয়ে নিলে। খুব করে চাইলো বিষয়টা আপাতত নিজের মধ্যেই রাখতে।গলায় জোর দিয়ে বলল তাই,
“আরেহ এত কিছু ভাবছ কেন? একটা ব্যাগই তো!”
“আমি আবারও জিজ্ঞেস করছি, প্রিয়ন্তীর ড্রেসটা কে পাঠিয়েছে?”
পাভেল এবার বুঝল এড়িয়ে গিয়ে লাভ হবে না।কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে ছোট করে বলল,
“অভিরাজ ভাই।”
“কিহ!”
“অভিরাজ ভাই পাঠিয়েছে।”
“তোমার ওই বিজনেসফ্রেন্ড,উনি?”
“হুম।”
“সে কেন প্রিয়ন্তীকে এত দামি ড্রেস গিফট করবে?”
কপাল গুটিয়ে কয়েক স্তর ভাজ করে প্রশ্ন করে উত্তরের আশায় রইলো মিতালী।পাভেল শুকনো হেসে বলল,
“অভিরাজ ভাই এমনই। উনার কাছে এগুলো কোনো ব্যাপারই না।”
“কোনো ব্যাপার না মানে?”
মিতালীর গলায় এবার স্পষ্ট সন্দেহ ফুটে উঠলো।
“পাভেল, তুমি কি বুঝতে পারছ এই ড্রেসটার দাম কত? কয়েক লক্ষ্য টাকা!”
“আরে বাবা, উনার লাইফস্টাইলই আলাদা। তোমাকে তো বলেছি আগে থেকেই!”
“তাই বলে প্রিয় কে কেন দিবে উনি ?”
পাভেল এবার বিছানায় গিয়ে বসল। চেষ্টা করল বিষয়টা ইজি করতে।নিরক্ষেপ গলায় ব্যক্ত করল,
“তুমি ওভারথিংক করছো। উনি এমনিতে খুব জেনারাস মানুষ। আমাদের বিয়েতেও তো নিজে আসতে পারেননি, কিন্তু তোমার জন্য গিফট পাঠিয়েছিলেন মনে নাই?”
মিতালী থামলো খানিকটা।মনে করার চেষ্টা করল। বিয়েতে অনেক গিফট উঠলেও মস্তিষ্কে জোড় দিয়ে মনে পড়ল অভিরাজ একটা গলার নেকলেস গিফট করেছিল স্বর্ণের।কিন্ত বন্ধু বলে সম্মোধন করার ক্ষেত্রে সেই বন্ধুর বিয়েতে এমনটা গিফট করা নরমাল। তবে তাই বলে বন্ধুর বোনকে এতো দামি ড্রেস গিফট করবে কেন?
“বন্ধুর বিয়েতে গিফট পাঠানো আর একটা অবিবাহিত মেয়েকে আলাদা করে এভাবে ড্রেস পাঠানো এক কথা না পাভেল।”
পাভেল এবার কপাল চুলকালো বিরক্ত মুখে।
“আরে বাবা! এত সিরিয়াস হওয়ার কি আছে?”
“কারণ বিষয়টা আমার কাছে নরমাল লাগছে না।”
“তোমার কাছে নরমাল লাগছে না মানেই অস্বাভাবিক না।তুমি হয়তো অভিরাজ ভাইকে ঠিকভাবে চেনো না, তাই এরকমটা বলছো। উনি একটু আলাদা টাইপের মানুষ। যা মনে হয় তাই করেন। কাউকে পছন্দ হলে গিফট দেন, হেল্প করেন। এর মধ্যে অন্য কিছু খুঁজে বের করার দরকার কি?”
থেমে গেল মিতালি। কথাটা যুক্তিযুক্ত।তবুও একটা খচখচ ভাব এসে ধরছে। মিতালী উপর থেকে দেখেছে প্রিয়ন্তী আর অভিরাজ কে তখন। একসঙ্গে দুজন ছাউনির নিচে গল্প আড্ডায় মশগুল ছিল। তবে আশ্চর্য হয়েছে এই ভেবে তাতেও পাভেলের বিন্দুমাত্র আপত্তিজনক কিছু দেখেনি। বরং মিতালী নিজ থেকে প্রিয়ন্তীকে আনতে যাওয়ার কথা বললে সুকৌশলে এড়িয়ে গেছে পাভেল তখন।
***
রুমে কথাবার্তা শেষ হলেও মিতালীর মাথা থেকে বিষয়টা নামল না পুরোপুরি। পাভেল তখন ফোন হাতে নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সুযোগ বুঝে আলমারি থেকে একটা সুতির থ্রি-পিস বের করল মিতালী। শাড়িটা খুলে ফ্রেশ হয়ে কাপড় বদলে নেমে এলো নিচে। ড্রয়িংরুমে বসে টিভি দেখছিলেন মোহনা বেগম। মিতালীকে নামতে দেখে রিমোটটা পাশে রেখে বললেন,
“কিছু করে দিবো মা? খাবি? জুস্ করে দেই এক গ্লাস?”
“লাগবেনা আম্মু। “
বলেই আসে পাশে তাকালো মিতালী।বাড়িটা কেমন শান্ত হয়ে আছে। মিতালী এসে সোফার একপাশে বসল। কয়েক সেকেন্ড ইতস্তত করে অবশেষে জিজ্ঞেস করল,
“আম্মু ভাইয়া কোথায়? ভাইয়া আসেনি?”
মোহনা বেগম সঙ্গে সঙ্গে কপাল কুঁচকে তাকালেন।
“তখন তোর গিফট নিয়ে গেলো, বলল কাজ আছে ইম্পরট্যান্ট সেটা শেষ করে বাড়ি ফিরবে। তবে এসে পড়ল সঙ্গে সঙ্গেই। বললাম খাবে কিনা, কোনো কিছু না বলে হনহন করে চলে গেল উপরে। দরজাটাও শব্দ করে লাগিয়ে সেইজে ঢুকেছে আর বের হওয়ার নামগন্ধ নেই!”
“ভাইয়া কি কোনো কারণে রেগে আছে আম্মু?”
“কেন বলতো?”
“কেন তুমি জানোনা? ভাইয়া কোনো কিছু নিয়ে রেগে থাকলে বা অতিরিক্ত হাইপার হয়ে গেলে দরজা খুলে না? দেখো গিয়ে আসা থেকে ওয়ার্কআউট করছে হয়তো। মাথা ঠান্ডা, আর টায়ার্ড না হওয়া অব্দি এই দরজা খুলবে না, ভুলে গেছো সেসব?”
মোহনা বেগম মৌন রইলেন। কারণ কথাটা মিথ্যে না।
বয়স আর ওষুধের প্রভাবে আজকাল সবকিছুই ভুলে বসেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাজধীরের এই অদ্ভুত স্বভাব’টা আছে। প্রচণ্ড রেগে গেলে বা ভিতরে কিছু চেপে বসলে নিজেকে একদম গুটিয়ে নেয় ছেলেটা। কারও সঙ্গে কথা বলে না। দরজা বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরে থাকে একা। ভেবেছেন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়তো পাল্টে যাবে এই স্বভাব। বেশ কয়েক বছর যাবৎ এরকম কিছু লক্ষ্যও করেন নি তেমন। শেষবার স্বামী মা রা যাওয়ার পর কিছুদিন সবার থেকে কেমন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল ছেলেটা তার । তবে আজ আবার কি হলো কে জানে।
***
মেঘলা আকাশে নেমে আসছে গোধূলি। সারাদিনের টানা বৃষ্টির পর চারপাশের আবহাওয়াটা কেমন শীতল হয়ে আছে। বাতাসে এখনো ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ ভাসছে। বাড়ির ছাদটাও পানিতে থকথকে। ছাদের টবভর্তি গাছগুলো থেকে পানি সরিয়ে দিচ্ছে মিতালী। রেলিংযে রাখা ধোয়া উঠা চায়ের কাপ। কাজের মেয়ে রিনা চা বানিয়ে দিয়ে গেছে একটু আগেই। কিছুক্ষণ পর পায়ের শব্দ তুলে ছাদে উঠে এলো প্রিয়ন্তীও।মিতালী আসার সময় প্রিয়ন্তীর দরজায় নক করে এসেছিলো। ছাদে আসবে কিনে জানতে চেয়েছিলো।
“উফফ! কী সুন্দর ওয়েদার!”
বলতে বলতেই এসে দাঁড়ালো রেলিংয়ের পাশে।
মিতালী হেসে বলল,
“সারাদিন বৃষ্টি দেখেও তোমার শখ মিটেনি?”
“বৃষ্টি কখনো বেশি বেশি লাগে নাকি আবার! সারাদিন কেন, সারাবছর লাগিয়ে বৃষ্টি হলেও আমার মন্দ লাগবেনা!”
“সেটা আমি জানি।চা খাবে?”
“উহু! এগুলা কি গাছ ভাবি?”
“এগুলা লিলি ফুল। তুমি চিনোনা?”
“চিনি তবে নাম জানতাম না।”
বলেই প্রিয়ন্তী এদিক ওদিক তাকালো। এরপর হুট্ করেই গলা ঝেড়ে খানিকটা কৌতূহল নিয়ে বলেই উঠল,
“উনি গান ও শুনেন নাকি ভাবি?”
প্রিয়ন্তীর প্রশ্নে আড় চোখে চেয়ে মিতালী উত্তর করল ফটাফট,
“ভাইয়ার কথা বলছো? একটু আকটু শুনে। তবে বাংলা গানটাই শোনে শুধু। বিশেষ করে ঐযে একটা সিঙ্গার আছেনা? তানভীর ইভান? ভাইয়া উনার গানটাই শোনে সবসময়। বিশেষ করে যখন ভাইয়ার খুব বেশি মন খারাপ থাকে সেসময়টায় প্রায়-ই ভাইয়ার রুম থেকে ছেলেটার গানের শব্দ পাওয়া যায়। কেন বলোতো?”
“না এমনি! উপরে উঠার সময় শুনতে পেলাম তাই আরকি জিজ্ঞেস করলাম।”
কিছুক্ষন পর মিতালী চলে গেলে প্রিয়ন্তী ও নেমে আসে নিচে। ছাদ থেকে নেমে করিডোর ধরে আসতে নিতেই তাজধীরের ঘর বরাবর পাড় হতেই ভিতর থেকে শুনতে পায় গানের সঙ্গে গুন গুন করে গাওয়া পুরুষালি কিছু কোমল শব্দ….
“তুমি ছাড়া শূন্য শুন্য লাগে,
ঠোঁটে আসে নাম তোমার বারেবারে,
বোঝাই কাকে এ কেমন ব্যথা,
তুমি বড় প্রিয়, আমার প্রিয়….
চলবে….
আগামীকাল ঈদ উপলক্ষে সারপ্রাইস পার্ট চাই একটা? ধামাকা হবে আগামীকাল, ধামাকা। তাহলে এটায় বেশি বেশি রেসপন্স করুন
Share On:
TAGS: ডেসটেনি, সুহাসিনি মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেসটিনি পর্ব ৫
-
ডেসটেনি পর্ব ১৩
-
ডেসটেনি পর্ব ১১
-
ডেসটেনি [ সারপ্রাইজ_পার্ট ]
-
ডেসটেনি পর্ব ১
-
ডেসটেনি পর্ব ১২ (দ্বিতীয় অংশ)
-
ডেসটেনি পর্ব ২২
-
ডেসটেনি পর্ব ২৭+সারপ্রাইস পর্ব
-
ডেসটেনি পর্ব [ ২১-দ্বিতীয় অংশ)
-
ডেসটেনি পর্ব ১২ (প্রথম অংশ)