Golpo কাজরী

কাজরী পর্ব ৩৯ +৪০


কাজরী-৩৯ +৪০

সাবিকুননাহারনিপা

আল্পনা নিউজ দেখে খবরটা জানলো। সমস্ত শরীর কাঁপছে। আল্পনা চিৎকার করে ডাকলো,

“বাবা…. বাবা….!”

বাসায় তখন একজন হেল্পিং হ্যান্ড আছে। তিনি ছুটে এলেন।

“আপা আল্লাহকে ডাকেন। “

আল্পনা ভয়ে কাঁপছে। সমস্ত শরীর ভিজে গেছে ঘামে। ম্যানেজার চাচা এসে আল্পনাকে বলল,

“আপনি রেডি হয়ে স্কয়ারে আসেন। আমি এখন যাচ্ছি। চাচাকে স্কয়ারে আনা হইছে। “

আল্পনা নিজেকে ধাতস্থ করতে সময় নিলো। হেল্পিং হ্যান্ড খালা বললেন,

“আপামনি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে নেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। “

আল্পনা তাই করলো। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। ঘুরে ফিরে একই ঘটনা, একই দৃশ্য ওর জীবনে কেন ফিরে আসে! কেন ওর সব হারিয়ে যায়!

আল্পনা কাছের কাউকে পায় না এই সময়। কেউ নেই, নিজেকে সামলে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে একাই রওনা হয়।


কাজরীকে খবর টা দিলো ইশান। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেছিল,

“একটা দু:সংবাদ আছে কাজরী। ভয় পেও না, আমি আছি। “

কাজরী বুঝতে পারে নি। ওর জন্য দু:সংবাদ! বুকের ভেতর কেমন যেন করছিল। প্রশ্ন করার সুযোগ পেল না। ইশান বলল,

“তোমার বাবার উপর হা*মলা করেছে কারা যেন? স্কয়ারে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ আমাদের এক্ষুনি বেরোতে হবে। “

কাজরীর চোখে দ্বিধা। কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। বিস্ময়ে ঠোঁট ফাঁকা হয়ে আছে। অস্ফুটস্বরে বলল,

“বাবা!”

“চেঞ্জ করে নাও। আমাদের বেরোতে হবে। “

কাজরী চোখে, মুখে অসংখ্যবার জলের ঝাপটা দেয়। যখন ভীষণ খারাপ লাগে তখন এই টোটকা কাজে দেয়। আজ কোনো কাজ হলো না। বুকের ভেতর চাপা ব্যথা। কাজরী তো জানে আখতারউজ্জামান ওর জন্মদাতা নয়। ও’কে বড় করেছে। প্রথম যখন জানতে পারলো নিজের পরিচয়ের ব্যাপারে সেদিন প্রবল ঘৃনা অনুভব করেছিল। কাজরীর গলায় বাষ্প জমে। অবশ হয়ে আসে। ইশান ডাকে,

“কাজরী.. কাজরী… হারি আপ। “

কাজরীকে সঙ্গে নিয়ে ইশান বেরিয়ে যায়। শিরিন ইশানকে বললেন,

“ডোন্ট ওরি, আমিও আসছি। “

ইশান মায়ের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায় একবার। প্যালেস থেকে বেরোনোর সময় নিশানের সঙ্গে চোখাচোখি হয়। ইশান এই মুহুর্তে ঠান্ডা মাথায় হাসপাতালে পৌছাতে চায়, কোনো ঝামেলা চায় না।


আখতারউজ্জামান বেঁচে আছেন। তাকে যারা আ*ক্রমন করেছিলেন তাদের উদ্দেশ্য ছিলো একেবারে শেষ করে দেয়া। তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। হাসপাতালে পৌছানোর পর কাজরীর আল্পনার কথা মনে পড়লো। এখন কী অবস্থায় আছে আল্পনা! এমনিতেই ও ভীষণ সংবেদনশীল। কাজরী শক্ত ধাচের হলেও নিজেকে সামলাতে পারছে না, আল্পনা তো ভেঙে পড়েছে। ভাবতে ভাবতেই কাজরী আল্পনার দেখা পেল। কাজরী কয়েক কদম এগিয়ে যায়, আল্পনা আতঙ্কিত হয়ে আছে। উদভ্রান্তের মতো তাকিয়ে আছে। হাসপাতালের করিডোর অবধি এসে যেন জমে গেছে। কাজরী এগিয়ে যায়, দুহাত বাড়িয়ে দিতেই আল্পনা এসে জড়িয়ে ধরে। ভেঙেচুরে কাঁদতে থাকে। কাজরী নীরব, নিশ্চুপে অশ্রু বিসর্জন দেয়। কাল কথা হয়েছিল ওর সঙ্গে। কল রিসিভ করে বেখেয়ালে বলল,

“বাবা আপনি ঠিক আছেন? “

আখতারউজ্জামান খুব শান্ত গলায় বলেছিলেন,

“হ্যাঁ মা। আমি ঠিক আছি। “

কাজরী অবাক হয়ে যায়। সচেতন ভাবে ও তাকে বাবা ডাকে না। অথচ আপনাআপনিই ডেকে ফেলল। কাজরী খুব নরম গলায় কথা বলেছিল। ভেবেছিল এই সপ্তাহের শেষে একদিন দেখা করে আসবে। কিন্তু আজ দেখা হলো। মানুষটা অচেতন হয়ে আছেন। ব্যথায় কুকড়ে যাওয়া মুখটা দেখে ওর হৃদয় ব্যকুল হয়। কাছে গিয়ে যদি একটু ছুঁয়ে দিতে পারতো।


“ডক্টর কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন। তারপর ডিসিশন নেয়া হবে যে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হবে কী না!”

কাজরী চোখ মুছে ফেলল। ওর ডানদিকে আল্পনা বসে আছে হাত ধরে। ইশান ওর মাথায় হাত রেখে বলল,

“বি স্ট্রং কাজরী। “

“বাবার সঙ্গে যারা ছিলেন তারা ঠিক আছে। রাকিব, আশরাফ আঙ্কেল, আর অন্য একটা ছেলে। এই তিনজনের কী অবস্থা? “

“ওদের কোনো আপডেট পাওয়া যায় নি। “

“বেঁচে আছে কী না সেটা তো….

ইশান মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলল,

“ওরা পালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ওরাই এই সুযোগ করে দিয়েছে।”

কাজরী বিস্মিত গলায় বলল,

“কী?”

আল্পনাও চোখ তুলে তাকালো। আশরাফ আঙ্কেল কতো বিশ্বস্ত কর্মচারী। এক যুগেরও বেশী সময় ধরে আছেন। রাকিব ছেলেটার ভাই আগে বাবার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন। ব্যাংকের কাগজপত্র থেকে ব্যক্তিগত চাবির গোছা যার হেফাজতে থাকতো। তার মৃত্যুর পর রাকিবকে রেখেছিলেন। কর্মচারী কখনো পরিবারের একজন হয় না একথা সত্যি, কিন্তু আখতারউজ্জামান এর কর্মচারীরা একেকজনের পরিবারের মানুষের মতোই ছিলো।

ইশান ও’কে আশ্বস্ত করে বলল,

“আমি দেখছি। “

“এটা তরফদার পরিবারের কাজ। তারা অনেকদিন ধরে লেগে ছিলেন বাবার পিছনে। “

“জানি। এই বিষয়ে আঙ্কেলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। “

কাজরীর কপালে সূক্ষ্ম ভাজ। এই সময়ে ইশানকে প্রশ্ন করা ঠিক হবে না ভেবে চুপ করে রইলো। তবে আখতারউজ্জামান ইশানের সঙ্গে কথা বলেছেন এই ব্যাপার টা ওর কাছে কী ইচ্ছে করেই গোপন করেছিল!

একটা রাত খুব দীর্ঘ সময় মনে হলো সকলের। কাজরী, আল্পনা, ইশান ছাড়াও এশনা ওদের সঙ্গে আছে। শিরিন এসেছিলেন, কিছু সময় থেকে চলে গেলেন। আল্পনাকে বলেছিলেন,

“ধৈর্য্য রাখো। এই মুহুর্তে এছাড়া আর কিছু বলার নেই। “

তিনি কাজরীকে কিছু বললেন না। ও কিছু আশাও করে নি। ভদ্রতার খাতিরে তিনি এখানে এসেছিলেন। নাহলে তার তো নিজের লোকেদের জন্যই ইমোশন নেই।

ইশান এক মুহুর্তের জন্যও বসে নি। অস্থিরভাবে পায়চারি করছে। ফোন কল করে সবকিছু রেডি রাখছে। ডক্টর বলামাত্রই যেন দেশের বাইরে নিয়ে যাবে। কাজরী এই মুহুর্তে কিছু ভাবতে পারছে না। মাথা ফাঁকা হয়ে আছে। একাগ্রচিত্তে প্রার্থনা করছে মানুষটা যেন বেঁচে থাকেন। চোখের সামনে অসংখ্য দৃশ্য চলচ্চিত্রের মতো ভেসে ওঠে। শৈশবের সেইসব দিন, বুক পেতে আগলে রাখতেন ও’কে।

কাজরী ভাবে, এই মানুষটা সারাজীবন সেই অর্থে সুখের মুখ দেখেন নি। অসুস্থ স্ত্রী, কন্যা, পালিতা কন্যা সবার কথা ভেবেছেন। আর নিজের দু:খ, কষ্ট, অভিমান চেপে রেখেছেন নীরবে।

দীর্ঘ রজনীর পর সকাল হয়। ডাক্তার জানান রোগী ঠিক আছেন এখন। শরীরের নাজুক অংশ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি বলে এই যাত্রায় বেঁচে ফিরলেন। তবে প্রচুর রক্তপাত, জখমের কারণে তাকে চিকিৎসক এর আন্ডারে থাকতে হবে দীর্ঘসময়।

কাজরী ইশানকে বলল,

“তুমি চলে যাও এশনাকে নিয়ে। আমি আর আল্পনা থাকি। “

ইশান ওর হাত ধরলো। বলল,

“তুমিও চলো, ফ্রেশ হয়ে আসবে। ডক্টর কনফার্ম করলো তো ভয়ের কিছু নেই। তোমরা ফ্রেশ হয়ে আসবে। “

“আমি থাকব এখানে । তুমি আল্পনাকেও নিয়ে যাও। বাসায় তো আর কেউ নেই…. ও’কে তোমাদের সঙ্গে নিয়ে যাও। “

ইশান রাজি হলো না কাজরীকে একা রেখে যেতে। এশনার সঙ্গে আল্পনাকে পাঠালো।

আখতারউজ্জামান এর জ্ঞান নেই। তিনি অচেতন হয়ে শুয়ে আছেন। কাজরী পাশে বসলো। আলতো করে হাত রাখলো হাতের উপর। কাজরী অনেকবার তাকে সতর্ক করেছিল। তিনি হালকা ভাবে নিয়েছেন সবসময়। তার নাকি কিছু হবে না। তার কেউ ক্ষতি করবে না। অথচ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হলেন কাছের মানুষের দ্বারা। কাছের মানুষ ভাবনা তো ওর! আসলে বেইমানী যারা করেছে তারা তো কখনো এই মানুষটাকে কাছের মানুষ ভাবে নি।

ইশান ওর হাত ধরলো এসে। নরম গলায় বলল,

“এখন চলো। অনেক কাজ আছে তোমার। রেস্ট নেয়ার প্রয়োজন আছে। “

কাজরী এবার আর কিছু বলল না। আখতারউজ্জামান এর ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা হলো। তিনি কাজরীকে বললেন,

“আল্পনাকে তোমার কাছে রাখো মা। ও আসলে নিরাপদ না এখন। “

“হুম। বাবা কী আপনাকে কোনো সন্দেহের কথা বলেছিল? মানে কারও কাছ থেকে হু*মকি পাচ্ছিল এমন। “

“এটা তো সহজ বিষয় মা। তরফদার রা ছাড়া আর কে করবে!”

কাজরী এই বিষয়ে আর কিছু বলল না। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে পারছে না, ও অস্থির হয়ে পড়ছে রীতিমতো। অপেক্ষায় আছে কখন বাবার জ্ঞান ফিরবে, কখন সবটা শুনতে পাবে।


শিরিন অস্থিরভাবে পায়চারি করছেন। নিশানকে তিনি নিজে ডেকেছেন, ঘরের দরজায় কড়া নেড়েছেন তবুও ছেলেটার কোনো সাড়া পান নি। কী কঠিন সময় অপেক্ষা করছে অথচ ও নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। শিরিন দেখতে পেলেন এশনা আল্পনাকে নিয়ে ঢুকছে। মেয়েকে বেশ ক্লান্ত লাগছে। শিরিন প্রায়ই এশনার উপর বিরক্ত হয়। সবকিছুতে সে ভাই, ভাবীর পাশে থাকে। ওর লন্ডনে যাবার ব্যাপারে শিরিন জিজ্ঞেস করেছিলেন একদিন। এশনা নির্লিপ্ত গলায় বলল,

“আপাতত এখানে থাকব। আমি চলে গেলে আমার ভাই ভীষণ একা হয়ে যাবে। “

আমার ভাই শব্দটা খট করে কানে লাগে। শিরিন স্বাভাবিক গলায় বলেন,

“প্যালেসে এতো মানুষ থাকতেও তোমার ভাই একা? বোকা বোকা কথা বলছ তুমি এশনা।”

“ভাইয়া আরেকটু সেটল্ড হয়ে নিক। আর তোমার তো কোনো প্রবলেম এর কারণ হচ্ছি না তাই না?”

“আমি আগেও এমনভাবেই তোমাকে নিয়ে ভাবতাম, কেয়ার করতাম। “

“এখন আর ভেবো না তো। ভয় লাগে। তুমি আমাদের কারোর জন্য ভাবো এটা ভুল। শুধু নিজেকে আর নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবো। “

মেয়ের সঙ্গে শিরিনের একটা ভালো সম্পর্ক ছিলো। অন্তত মুখে মুখে জবাব দিতো না। কড়া গলায় কথা বলা কিংবা চোখ রাঙানি দেখলে চোখ নামিয়ে নিতো। এখন মেয়ের চোখে বিরক্তি, বিতৃষ্ণা দেখেন। শিরিন এতোকিছুতেও ক্লান্ত হন না। হতাশ ঠিকই হন, তবে সেটা প্রকাশ করতে চান না।


নিশান ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট ঘরে আনিয়ে খেয়ে নিলো। সকালের প্রথম কফিতে আয়েশ করে চুমুক দেবার পর পর ই মায়ের ডাক পেল। শিরিন সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন,

“তুমি কাজরীর বাবাকে মা*রতে চাইছ?”

নিশান বিস্মিত হলো কিংবা ভান করলো। বলল,

“না। বুঝতে পারছি কেন এই অভিযোগ আমার উপর চাপাতে চাইছ। টাকা আমি ভিন্ন কারণে নিয়েছি। তোমাকে সেই কারণ বলব না। “

শিরিন চাপা গলায় বললেন,

“ইশান তোমাকে ছাড়বে না। আর তুমি আমার ক্ষ*তি করার জন্য এতো নিচে নামলে?”

নিশান অদ্ভুত হাসি দিয়ে বলল,

“আমি যা কিছু করেই নিচে নামি। তোমার মতো নিচ হতে পারব না। এই দিক থেকে তুমি একদম টপ ফ্লোরে বিলং করছ। বাই দ্য ওয়ে, আমাকে নিয়ে খেলা বন্ধ করো। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। “

শিরিন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন যেন আখতারউজ্জামান বেঁচে থাকে। নাহলে সবদিক থেকে তিনি বিপদে পড়বেন।


দুটো দিন কেটে যায়। আখতারউজ্জামানের জ্ঞান ফিরে আসে। তিনি ঘোলাটে দৃষ্টিতে তাকান। চোখ খুললেই দেখতে পান পরিচিত প্রিয় দুটো মুখ। তিনি চোখ বন্ধ করে ফেলেন। কাজরী বাবার পাশে থাকে, আল্পনাকে পাঠিয়ে দেয় বাসায়। ও এখন চৌধুরী প্যালেসে আছে। কাজরী এখন শক্ত আছে। সুবর্ননগর উত্তাল হয়ে আছে রীতিমতো। কতো মানুষ যে আসে দেখা করতে। কাউকে দেখতে দেয়া হয় না। নিশান এলো দুদিন পর। যে সময়ে ইশান হাসপাতালে ছিলো না। কাজরীকে বলল,

“সেন্স ফিরেছিল? কিছু বলতে পেরেছে? “

“সেন্স ফিরলেও কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলো না। “

“জানি এটা সঠিক সময় নয়, তবুও বলে রাখা দরকার। “

কাজরী জিজ্ঞাসু চোখে তাকালো। নিশান বলল,

“এটা শিরিন চৌধুরীর কাজ।”

কাজরী বিস্মিত হয়। বিড়বিড় করে বলে,

“শিরিন চৌধুরী…! “

“হ্যাঁ। “

“এটাই কী তোমার গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিলো যেটা আমাকে বলতে চেয়েছিলে?”

“হ্যাঁ।”

কাজরী তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো। নিশান ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। ও কী আদতে কাজরীকে বিশ্বাস করাতে পারছে। তবে ওর সন্দেহ সত্যি হয়। কাজরী বিশ্বাস করে নি। নিশানের কথা বলার ধরনে এমন কিছু ছিলো যেটা ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে নি। কাজরী ধৈর্য্য ধরে চুপ থাকলো। ইশানকেও কিছু জানালো না। তবে নিশানের হসপিটালে আসার খবর শুনে ইশান প্রশ্ন করলো,

“নিশান যে বিষয় নিয়ে ডিসকাস করতে চাইছিল সেটা কী তোমাকে বলেছে?”

“হ্যাঁ। “

“কী বিষয় ছিলো? “

“ইশান এখন মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। এই সিচুয়েশনে আমি কোনো ধরনের ঝামেলা চাইছি না বলে কথাটা তোমাকে জানাই নি। নিশান সরাসরি বলল যে তোমার মা বাবার এই অবস্থার জন্য দায়ী। তিনি সবকিছুর মূলে আছেন। “

“এটা যদি ও আগেই জেনে থাকে তাহলে তোমাকে কেন বলল না?”

“এক্সাক্টলি। এই কারণে আমি ও’কে বিশ্বাস করিনি। শিরিন চৌধুরীকে যে আমি বিশ্বাস করি তেমন না। কিন্তু ও পরিস্থিতির এডভান্টেজ নিয়ে একটা দ্বন্দ সৃষ্টি করতে চাইছে। “

ইশান মাথা নাড়লো। কাজরীকে বলল,

“নিশানকে বিশ্বাস কোরো না। ওর জন্য যতটুকু সিমপ্যাথি দেখিয়েছ সেটা এনাফ। ও ভ*য়ংকর কী না সেটা বুঝতে পারছি না। তবে ওর মধ্যে বিবেকবোধ কম। “

কাজরী অস্ফুটস্বরে বলল,

“আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না, কাউকে না। এক্সেপ্ট ইউ!

ইশান জানতে পারলো কোপা মোসাদ্দেক কে নিশানের টাকা দেবার কথা। এগারো মাস আগে কোপা মোসাদ্দেক কে দশলাখ টাকা ক্যাশে দেয়া হয়েছিল। টাকা পাবার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই সুবর্ননগরে সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। কোপা মোসাদ্দেক এর আগে দশ, বারোদিন সুবর্ননগর ছিলো। চৌধুরী বাড়ির আশেপাশে, বাজারের বিভিন্ন দোকানে দেখা গেছে।

ওয়াজেদ চৌধুরী এই ব্যাপারে জানতেন না। জানলে কো*পা মোসাদ্দেক পুরো টাকা পেতে এতো অপেক্ষা করতেন না। নিশান নিজে এই কাজ করেছিল কেন? কিসের উদ্দেশ্যে! আল্পনার হবু বরকে মেরে ওর কী লাভ! এই ধরনের বিষয় আলাদাভাবে হ্যান্ডেল করতেন মিস্টার চৌধুরী। নিশানকে দিয়ে করানোর প্রশ্নই আসে না। তাহলে কার বুদ্ধিতে, কি কারণে ও এমন করেছিল!

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply