কাজরী পর্ব ৩৬+৩৭
সাবিকুননাহারনিপা
আখতারউজ্জামান এর ধানমন্ডির বাসায় তরফদার সাহেব এসেছেন। তাকে নিমন্ত্রন করা হয় নি, নিজের তাগিদে হাজির হয়েছেন। চামুচে করে পায়েশ মুখে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলছেন আয়েশি ভঙ্গিতে।
“বয়স হইছে তো বেয়াইসাব, এখন ঘরের মানুষজন চিনি খাইতে দেয় না একদম। পায়েশ টা মজা হইছে। কে রাঁধছে? আল্পনা মা?”
আখতারউজ্জামান শক্ত মুখে বসে আছেন। তার সবসময় এর সঙ্গী জাহিদকে ইশারায় যেতে বললেন।
পায়েশ শেষ করে তরফদার সাহেব বললেন,
“কিছু ভাবলেন?”
আখতারউজ্জামান জেনেও ভনিতা করে প্রশ্ন করলেন,
“কোন ব্যাপারে? “
“বিয়ের ব্যাপারে। আকদ টা হয়ে যাক। ঘরের মহিলারা চাইতেছে। “
আখতারউজ্জামান স্বাভাবিক গলায় বললেন,
“না, আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না। “
তরফদার সাহেব হাসলেন। ভদ্রলোককে হাসলে অন্যরকম দেখায়। মাথায় টুপি, জোব্বা ধরণের পোশাক পরিহিত লোকটাকে মানুষ কম শ*য়তান বেশী মনে হচ্ছে এখন।
“এসব কী বলেন বেয়াইসাব। আপনি গ্রহণ করবেন না কেন? আল্পনার বিয়ে আমার ঘরের ছেলের সঙ্গেই লেখা আছে।”
“দেখুন তরফদার সাহেব, যা ঘটেছে তাতে আমার কোনো হাত নেই। আপনি জেদের বশে এমন কিছু করতে চাইছেন যেটা আমার মেয়ের জন্য শুভ নয়। আমি সেটা মানছি না। “
“আপনি না মানলে কেমনে হবে? থানা, পুলিশ, উকিল, মোক্তার টাকা খাওয়ায়ে বন্ধ রাখছেন। আমি তো কিছু বলিনাই। আর আমি আপনার কাছে কী চাইছি? টাকা, সম্পদ তো চাই না। আল্পনা মা আমার ঘরের বউ হবে। আমার স্ত্রী অন্তত ছেলের দু:খ ভুলতে পারবে আল্পনাকে দেখে। “
“তরফদার সাহেব শুনুন ভালো করে৷ আপনার ছেলের করুণ মৃত্যুতে আপনি শোকে আছেন বলে আমি আপনার সঙ্গে কঠোর হই নি। আমি অবুঝ শিশু না যে আমাকে আপনি যা বলবেন সেটা বিশ্বাস করে বসে থাকব। আপনি আমাকে চিনেন নাই এখনো। “
তরফদার সাহেবের মুখ টা এখন কঠিন ধরনের। আখতারউজ্জামান শান্ত গলায় বললেন,
“আপনি আজকের পর আমার বাসার ত্রিসীমানায় আসবেন না। যদি এরপরও অন্য কিছু ভাবেন তাহলে যে ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন সেই ক্ষমতার সদ্ব্যবহার আমি নিশ্চয়ই করব। “
আখতারউজ্জামান আর কোনো ভদ্রতা দেখানোর প্রয়োজন মনে না করেই উঠে গেলেন। তরফদার সাহেব বাতাস ছাড়া বেলুনের মতো চুপসে গেলেন। তার অন্যতম সাহস হচ্ছেন শিরিন চৌধুরী। তার উস্কানিতেই এতোটা চোখ রাঙানি দেখাতে পারছেন। চৌধুরী ম্যাডাম নিশ্চয়ই অন্য কোনো বুদ্ধি তাকে এই ব্যাপারে দিবেন। শিরিন চৌধুরীর চাওয়াতেই তিনি এই প্রস্তাব রেখেছিলেন নাহলে তার ক্ষততে প্রলেপ লাগানোর পরিবর্তে এই মেয়েকে ঘরের বউ করার কথা ভাবতেন ই না।
কাজরী আজ যে রঙের শাড়িটা পরেছে সেটা ইশানের পছন্দের রঙ। অনেক দিন আগে একবার এই রঙে দেখে চোখ সরু করে বলেছিল,
“কালারটা তোমাকে মানিয়েছে। এটা আমার পছন্দের কালার। এরপর এভয়েড করবে। “
কাজরী তারপর পার্পল কালারের বিভিন্ন কালেকশনের শাড়ি সংগ্রহ করেছিল ইশানকে বিরক্ত করার জন্য। আজ কাবার্ড নিজ ইচ্ছেতেই পরলো।
আয়নায় কাজরী নিজেকে দেখছিল। সত্যিই রঙটা ও’কে মানায়। এশনা পরশুই বলল,
“ভাবী সুন্দর হয়ে গেছ। মাঝখানে স্ট্রেসে ছিলে বোধহয়। রোগাও হয়েছিলে ভীষণ। এখন মনে হয় ওয়েটও গেইন করেছ!”
কাজরী বিভিন্ন এঙ্গেলে নিজেকে দেখলো খুটিয়ে খুটিয়ে। জিমে জয়েন করতে হবে আবারও। জিমে রেগুলার না হলেও হেলদি খাবার খায়, ইয়োগা করে। নিজেকে প্রচন্ডরকম এটেনশন দেয় কারণ ও ভাবতো অন্যের এটেনশন এর প্রয়োজন নেই। এখন কাজরী একটু বদলেছে। নিজে টের পায়। ওর মধ্যের সফট ভার্সন টা’কে খুঁজে পেয়েছে। ইশানের ক্রেডিট অস্বীকার করার উপায় নেই। কাজরী এখন যে সময়টা পাড় করছে সেটা একদম অন্যরকম একটা সময়। বহুকাল বাদে ও স্ট্রেস ফ্রী সকাল শুরু করতে পারছে। ইশানের বাহুঢোরে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোতে পারছে। ইন ফিউচার ওর জীবনে কী হবে, না হবে সেটা নিয়ে ভাবতেও চাইছে না। সবকিছু থেকে মুক্ত রেখে উপভোগ করছে এই সময়টুকু।
ইশান প্রচন্ডরকম ব্যস্ত সময় পাড় করছে এখন। তবুও কাজরীকে আলাদাভাবে এটেনশন দিতে ভুল করছে না। ইশানের সহজ স্বীকারোক্তি, আমার তোমাকে ভালো লাগে, তোমার সঙ্গও ভালো লাগে। যেকোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে হেজিটেশন ফিল হয় না। নিজেকে অন্যরকম ভাবে তোমার কাছে উপস্থাপন করার কোনো চাপও নেই। আমি কেমন ছিলাম, এখন কেমন আছি সবকিছু তোমার সামনে মেলে ধরতেও দ্বিধা নেই। ইজ ইট লাভ? অর সামথিং এলস?
কাজরী জবাব দেয় নি। বিস্ময়ে অভিভূত হয় নি, এমনকি মুগ্ধও হয় নি। এমন অনুভূতি শেয়ার এর আগেও কেউ কেউ করেছিল। ও পোলাইটলি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইচ্ছে হয় নি কারোর জীবনে জড়াতে। বরং জটিলতা চুজ করেছিল নিজ ইচ্ছায়। ইশান ব্যতিক্রম একজন। অনেকের ভাষ্যমতে ইশানকে জেন্টলম্যানের কাতারে ফেলা যায় না। প্রচন্ড বে*য়াদব এবং অন্যের ইমোশনের রেসপেক্ট করতে জানে না। এইসব বিষয় ইশান একসেপ্ট করে। কাজরীকে ইমপ্রেস করার জন্য নতুন কিছু করছেও না যেগুলো ওর স্বভাববিরুদ্ধ আচরণ। তবে ইশান বদলেছে সেটা অন্য জায়গায়। দায়িত্ববান হবার চেষ্টা করছে। ম্যানিউপুলেট না হয়ে নিজের স্টেটমেন্টে অটল থাকছে। ইশানের এই বোল্ড পার্সোনালিটি ও’কে এট্রাক্ট করেছে।
কাজরী নিজের ফিলিংস শেয়ার না করলেও ওর এক্সপ্রেশন প্রমাণ করে যে ইশানকে ও আর অপছন্দ করে না। প্রবলভাবে না হলেও অনেকটা ভরসা ও ইশানকে করতে পারে। একই বেডরুম শেয়ার করে একটা ব্যাপার ভালোভাবে অনুভব করেছে যে ইশান ওর ক্ষতি করবে না। নানান উপায়ে ভয় দেখিয়ে দূর্বল করার চেষ্টা করলেও শেষ অবধি ক্ষতি কিছু করতো না।
দরজায় মৃদু আওয়াজ হলো। কাজরী তাকালো। এশনার গলা পাওয়া যায়।
“ভাবী? আসব?”
“হ্যাঁ আসো। “
কাজরী শাড়ির আঁচল টা ঠিক করে নিলো। এশনা ঘরে ঢুকে ও’কে সাজে দেখে প্রশ্ন করলো,
“তুমি বাইরে যাবে? “
“হ্যাঁ… তোমার ভাইয়া গাড়ি পাঠালো….
এতো এক্সপ্লেইন করার দরকার না থাকলেও বলতে গিয়ে ওর একটু অস্বস্তি হলো। টিপিক্যাল আচরণ হয়ে যাচ্ছে। সচেতন হতে হবে। ইশান ওর হাজবেন্ড, স্বাভাবিক সম্পর্ক হলে সেটা নিয়ে এতো অস্বস্তি হবারও কিছু নেই।
“বড় ভাইয়া তোমাকে খুঁজছিলো। সকালে বলেছিল কিন্তু আমি ভুলে গেছি। “
“আচ্ছা। এখনই যাব?”
“হ্যাঁ প্লিজ। মনে হচ্ছে জরুরী কিছু বলবে। “
“ঠিক আছে এশনা। আমি দেখছি। “
“এনিওয়ে, তোমাকে ভালো লাগছে। এটা কী ভাইয়ার ফেভারিট কালার?”
কাজরী হালকা স্বরে বলল,
“জানিনা তো। আমি তো নিজের পছন্দসই পোশাক পরি। “
এশনা হাসলো। প্রথম প্রথম কাজরীকে ওর ভালো লাগে নি। বড্ড বেশী তর্ক করতো, কিন্তু বাবার চলে যাবার পর এশনাকে সামলেছে কাজরী। নিয়মিত মেডিসিন নেওয়া, খাওয়া দাওয়ার দিকে খেয়াল রাখার কাজগুলো করেছে। যদিও এশনার মায়ের ধারণা কাজরী যা কিছু করে তার পিছনে বড় কোনো উদ্দেশ্য থাকে। তবে এশনার ওরকম মনে হয় নি। কোনটা দায়িত্ব থেকে করা, আর কোনটা কর্তব্য থেকে করা সেটা টের পাওয়া যায়।
“এশনা? কিছু বলবে? “
এশনা হাসলো। বলল,
“তুমি ভালোই। এতোটা ভালো আশা করি নি। “
কাজরী হেসে ফেলল। বলল,
“তোমাকে ওভাবে পর্যবেক্ষণ করিনি তো তাই কমপ্লিমেন্ট দিতে পারছি না। তবে তুমি ভাইদের কেয়ারিং বোন। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। “
“থ্যাংকস ফর ইওর কমপ্লিমেন্ট। “
এশনা চলে যাবার পর কাজরী ঘড়িতে সময় দেখলো। ইশান টেক্সট করলেই বেরিয়ে যাবে। এই ফাঁকে নিশানের সঙ্গে দেখা করতে গেল।
নিশান নিজের ঘরের রিডিং টেবিলে একটা বই খুলে বসে আছে। ইংরেজি নভেল A Thousand Splendid Suns। বইটা খোলা থাকলেও ওর দৃষ্টি দেয়ালের বাটারফ্লাই শোপিসে।
“নিশান? কেমন আছ এখন?”
নিশান ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। কাজরী দরজার বাইরে দাঁড়িয়েই প্রশ্নটা করলো।
“ভেতরে আসো কাজরী। “
“তুমি আমাকে খুঁজছিলে? কিছু বলবে? “
“হ্যাঁ একটা ব্যাপারে ডিসকাস করার ছিলো। “
“বলো। “
নিশান ইতস্তত করলো। কাজরীর কাঙ্ক্ষিত হোয়াটসঅ্যাপ টেক্সট এসে গেছে। এখন নিশানের আলাপে আগ্রহ নেই। তবুও অপেক্ষা করছে।
“কী বলবে নিশান?”
কাজরীকে ব্যস্ত মনে হওয়ায় বলল,
“জরুরী কিছু না। পরে শুনলেও হবে। তুমি মেবি বেরোবে। “
“হ্যাঁ। কিন্তু তুমি বলতেই পারো। দশ মিনিট সময় আমি তোমাকে দিতেই পারি। “
“যাও তুমি কাজরী। “
কাজরীর সতর্ক চোখে নিশানের অস্বস্তি ধরা পড়লো। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নোটিস করে বুঝলো একটা কিছু অসুবিধে আছে। কিন্তু ওর হাতে সময় নেই। ইশান টেক্সটের রিপ্লাই না পেয়ে কল করেছে। ইশানকে আপসেট করতে চাইলো না বলে নিশান কে বাই বলে বেরিয়ে এলো।
বাড়িটা একটু শহর থেকে দূরে। নিরিবিলি জনমানবহীন পরিবেশে। কাজরী বাড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল,
“এটা কার বাড়ি?”
“বাবার! উঁহু, এখন তো আমাদের। আমি প্রায়ই ভুলে যাই যে তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। “
কাজরী ইশানের উদাস গলায় বলা কথাগুলো খেয়াল করলো না। সন্ধ্যে নেমে গেছে। কাজরী ভেবেছিল সারপ্রাইজ টা একটু অন্যরকম হবে। ইশান গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। গেট খুলে দিতে একজন বয়স্ক লোক এসেছেন। দ্রুত গতিতে গেট খুলে দিচ্ছেন। কাজরীর নার্ভাস লাগছে। কপাল ঘামছে। ইশান ওর হাত ধরে বলল,
“চলো কাজরী। “
বাইরে থেকে দেখে অস্বস্তি হচ্ছিলো ভেতরে ঢুকে সেটা প্রায় কেটে গেল। সবগুলো বাতি জ্বালিয়ে দেবার পর একটু ভয় কমেছে। ভেতরের রুমগুলো সুন্দর করে ডেকোরেট করা আছে। ঘরের মেঝে, দেয়ালগুলো পুরোনো নয়। নতুন করে টাইলস লাগানো হয়েছে। দোতলা বাড়ির সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে বেডরুম খুঁজে পেল।
কাজরী ঘরে ঢুকেই ইশানকে প্রশ্ন করলো,
“তুমি এখানে প্রায়ই আসো। “
“হ্যাঁ। মেজাজ খারাপ হলে আসি। “
“একা?”
ইশান ঘাড় ঘুরিয়ে কাজরীকে এক পলক দেখলো। ঠোঁটের স্মিত হাসিটা আড়াল করে বলল,
“না। বান্ধবীদেরও নিয়ে এসেছি।”
কাজরীর কপালে ভাজ পড়লো। দেয়ালে বেলজিয়ামের আয়নায় স্পষ্ট ইশান কাজরীর বিরক্ত হওয়া মুখ দেখলো। ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করলো না। স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। আজ ডিনারে ভাত, ডাল, ভর্তা, দেশি চিকেন এসব থাকবে। তুমি অন্যকিছু খেতে চাইলে ম্যানেজার কে বলে দাও। উনি ব্যবস্থা করে দিবেন। “
বাড়িতে ম্যানেজার বলে যে আছে তাকে কাজরী দেখেছে। ও ঘরটা ঘুরে দেখলো। ঘরে অল্পকিছু ফার্নিচার আছে। তবে দেয়ালে শেল্ফ ভর্তি বইও আছে অনেক।
কাজরী ইশানের এই সারপ্রাইজ পছন্দ করে নি। যদিও ওদের সম্পর্কে দূরত্ব কমে এসেছে। তবুও সুইজারল্যান্ড এর সেই ঘটনা মনে পড়ে গেল। ভিলায় অল্প কিছু স্টাফ ছিলো, ইশান বাড়াবাড়ি রকমের মজা করেছিল। সেই ঘটনা মনে পড়লে কাজরী আজও শিউরে ওঠে।
ইশান বেরিয়ে এলো তাড়াতাড়ি। ভেজা চুল চুইয়ে পানি পড়ছে ফোঁটায় ফোঁটায়। কাজরীর বিরক্ত মুখ দেখে মনে মনে হাসলো।
“ফ্রেশ হয়ে এসো কাজরী। “
“এখানে কেন এসেছি আমরা?”
ইশান হেসে বলল,
“পছন্দ হচ্ছে না পরিবেশটা?”
“একটু বেশী নিরিবিলি…
ইশান এক ঝটকায় কাজরীকে নিজের দিকে টেনে নিলো। কাজরী চোখ বন্ধ করে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইশান তাকিয়ে আছে। ফিসফিস করে বলল,
“কাজরী তুমি আমাকে ভয় পাও? সিরিয়াসলি? কেন?”
কাজরী চোখ খুলল। ইশান ওর কতো কাছে! চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। কাজরী কঠিন গলায় বলল,
“না পাই না। “
ইশান আগের মতোই ফিসফিস করে বলল,
“ভয় পাওয়া ভালো তো। তুমি যদি আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় পাও তাহলে সেটা ভালো। “
কাজরীকে বিভ্রান্ত দেখালো। ইশান ওর গালে সময় নিয়ে চুমু খেয়ে বলল,
“আমি তোমার ক্ষ*তি করব এই ধরনের ভয় পাওয়া খারাপ। ফাইনালি আমি নিজেকে কারোর বলে ভাবতে পারছি। আই উইল বি এ গুড হাজবেন্ড, আই প্রমিজ ইউ। “
ইশান কাজরীর একটা হাত মুঠোর ভেতর নিয়ে কথাটা বলল। কাজরী তাকিয়ে আছে। ইশান ও’কে দেখছে ঘোরলাগা চোখে। সময় কেটে যায়, দুজন দুজনের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। ইশানের হাত চলে যায় কাঁধের কাছে শাড়ির পিনের দিকে। কাজরী চোখ বন্ধ করে ফেলে।
“এতো টাকা দিয়ে তুমি কী করবে? “
“দরকার আছে। “
“কিসের দরকার? “
“সেটা আমি বলব না।”
শিরিন বিচলিত হলেন। তিনি নিজের ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছেন প্রতিনিয়ত। নিশান এখন তার সব মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“নিশান সত্তর লক্ষ টাকা! এতো টাকা তোমাকে দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। “
“উঁহু এসব বললে হবে না। টাকাটা আমার লাগবে। পুরোটা ক্যাশে দিলে ভালো হয়। তবে সমস্যা থাকলে ব্যাংক ট্রান্সফার করবে। “
“তোমার মনে হয় এতো টাকা দেয়ার মতো এবিলিটি আমার এখন আছে। আমি যদি এখন এতোটাকা তোমাকে দেই তাহলে ইশান আমাকে জেরার মুখে ফেলবে। তখন আমি কী বলব?”
“প্রোপার্টি বিক্রি করে ফেলো। রাজশাহীতে তোমার একটা প্রোপার্টি আছে না? ওটার মার্কেট প্রাইস সাড়ে পাঁচ কোটি হবে। ওটা বিক্রি করে তুমি টাকা দিও। সত্তর লক্ষ না, পুরোটাই দিয়ে দাও। “
“তোমার সাহস দেখে আমি স্তম্ভিত। আমি বুঝতে পারছি না, তুমি কী করতে চাইছ?”
শিরিন রাগে, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। নিশান শান্ত কিন্তু ইস্পাতের মতো কঠিন।
“নেক্সট উইকের মধ্যে টাকাটা তুমি আমাকে দিবে। নাহলে আমি প্রেস কনফারেন্স করে তোমার বিষয় টা সবাইকে জানাব। “
“কী?”
“হ্যাঁ। তোমার অসুবিধে হবে না অবশ্য। লাইম লাইট পাবে ভালো। তবে তোমার ছেলেমেয়ের খুব সাফার করবে। আমি এনজয় করব ব্যাপার টা। “
শিরিনের চোখে আগুন জ্বলছে রীতিমতো। নিশানের আচরণ এমন হিংস্র দেখে তিনি অবাক হচ্ছেন। কথার ধরন ইশানের মতো হলেও ওর মধ্যে হিং*স্রতা আছে।
“এখন যাও তুমি। “
“টাকাটা কবে পাচ্ছি? “
“আমি জানাব। “
“যদি রাজশাহীর প্রোপার্টি বিক্রি করো তবে পুরো টাকাটা ট্রান্সফার করে দিও। “
শিরিন স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এমন থ্রেটের সুরে কথা বলছে নিশান। কী ব্রিলিয়ান্ট, ইন্টিলিজেন্ট ছেলে তার। সবসময় স্বপ্ন দেখেছেন ছেলে বড় কিছু করবে, চমৎকার সবকিছুতে নাম জ্বলজ্বল করবে। অথচ একটা ঘটনা সব পাল্টে দিলো। নিশান যে সুরে কথা বলছে তাতে শিরিন যদি আরও শক্ত হতেন ও সম্ভবত শিরিনকে এবার সত্যিই গলা টিপে মে*রে ফেলতো।
তবে শিরিন এবার একটা কাজ করলেন তার স্বভাববিরুদ্ধ। পুরো ঘটনা জানালেন ইশানকে। দুই ছেলের কাউকেই তিনি এখন ভরসা করেন না। তবে নিশান যে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেছে এটা ভবিষ্যতে চলতেই থাকবে। মুড়ির মতো টাকা উড়াবে। তাই লাগাম টা শুরুতেই টানতে চাইলেন। ইশানকে আরও একটা মেসেজ দিয়ে রাখলেন। আজকাল একটু বেশীই নিশান কাজরী ভক্ত হতে শুরু করেছে। বিষয়টা ইশানের জন্য খারাপ হতে পারে।
কেরানীগঞ্জ এর কো*পা মোসাদ্দেক নামে এক লোককে নিশান টাকা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় তাকে চল্লিশ লাখ দিয়েছে। আরও টাকা দিতে হবে। কিন্তু কী এমন কাজের জন্য এতো টাকা খরচ করছে নিশান?
চলবে…..
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ১০
-
কাজরী পর্ব ১৬
-
কাজরী পর্ব ১
-
কাজরী পর্ব ৪১+৪২
-
কাজরী পর্ব ২৫
-
কাজরী পর্ব ৫
-
কাজরী পর্ব ৭
-
কাজরী পর্ব ৪
-
কাজরী পর্ব ২৬
-
কাজরী পর্ব (৩০+৩১)