#আমি_তোমার_হতে_চাই
#পর্ব_৭
#সুরভী_আক্তার
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ
)
সীমান্ত সম্ভার শপিং কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝ বরাবর সেন্ট্রাল অ্যাট্রিয়ামে চলন্ত সিঁড়িতে নিজের ভার সঁপে দোতলা থেকে নিচ তলায় নামছে নীলয় ।
কানে নতুন একটা এয়ার পড । মূলত এটাই কিনতে এসেছিলো মার্কেটে । বাজে দুপুর দুটোর এপাশ ওপাশ । সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে সেই সকাল আটটায় । যে এয়ারপড টা সাথে ছিলো,, সেটা হারিয়ে ফেলেছে কোথাও । এই একটা জিনিস না হলে এক দন্ডও চলে না ওর । এখন নতুন কেনা এই এয়ারবাডস টা কানে গুজে ফোনে একটা গান চালিয়ে দিলো । সেই তালে গুনগুন করতে করতে নিচে নেমে আসলো ।
খাঁজ কাটা সিঁড়ি থেকে নেমেই নতজানু হয়ে সামনে পা বাড়াতে গেলে বেখেয়ালে যুবক ধাক্কা খেলো কিছু একটার সাথে ।
সে অটল, ধাক্কা লেগেও দানবীয় শরীরটা স্থানচ্যুত হয়নি বিন্দুমাত্র । তবে উল্টো দিকের অনুচ্চ জনা এই বলিষ্ঠ দেহির সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়তে পড়তেও বেঁচে গেলো বোধহয় ।
তাৎক্ষণিক তড়াক করে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো নীলয়ের পানে । চিকন গলা তুঙ্গে তুলে খেই খেই করে উঠলো….
” হেয়য় ইউ,,, চোখে কি নেবা পড়েছে ? দেখে চলতে পারেন না ?
এক রাশ বিরক্তি নিয়ে সামন পানে চোখ তুললো নীলয় । ছিমছাম গোছের ঠিক যেনো এক রণচন্ডি দাঁড়িয়ে ।
চোখে মুখে রুষ্টতা । ফুঁসছে রাগে । এর আগে কি বললো পরিষ্কার শুনতে পায়নি যুবক । এ বেলায় কান থেকে এয়ারপড খুলে মেয়েটাকে আপাদমস্তক পরখ করলো । ঠোঁটের কোণ কামড়ে শুধালো আয়েশি গলায়…..
” হোয়াট ?
” আজব ! এদের মার্কেটে ঢুকতে দেয় কে ? অসভ্য, বখাটে কোথাকার । মেয়ে দেখলেই গায়ে পড়তে ইচ্ছে করে, তাই না ?
এই পুঁচকে মেয়েটার ঝাঁঝ দেখে এবারে তেতে ওঠে যুবক….
” হেয়য়য় পেটিট লেডি,,, ফু দিয়ে উড়িয়ে দেবো একদম । ঝাঁঝ দেখাচ্ছো কাকে, হ্যাঁ ? কে অসভ্য, বখাটে ? কে গায়ে পড়েছে তোমার ? আমি উড়ে গিয়ে ধাক্কা মেরেছি তোমায় ? নাকি তুমি যেচে এসে আমার গায়ে পড়লে ? ডিসগাস্টিং ওমেইন । সরো চোখের সামনে থেকে ।
যুবকের চড়া কন্ঠে পাল্টা ঝাঁঝ দেখে হতভম্ব হয় সামনের ঊনবিংশী রমনী । আশপাশের গুটি কয়েক মানুষ চলার পথে তাকালেন ওদের দিকে ।
মেয়েটা নীলয়ের পানে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থেকে পরক্ষণে ওষ্ঠ উল্টালো । কুমিরের কান্না ধরলো মেকি গলায়…..
” আপনি আমাকে ধমকালেন কেনো ? আমি কিন্তু চেঁচিয়ে লোক জড়ো করবো । সবাইকে বলবো, আপনি আমাকে ইভটিজিং করেছেন ।
অসন্তুষ্টিতে মুখে চ সূচক শব্দ উচ্চারণ করে যুবক । মাড়ি খিচে গলা চেপে ধমকায়….
” হোয়াট দ্যা হেল,,, ভয় পাই আমি তোমায় ? তুমি জানো আমি কে ? দেড় ব্যাটারি কুঁদুলে কোথাকার । বেকার টাইম ওয়েস্ট না করিয়ে ভাগো এখান থেকে ।
বলতে বলতে কানে এয়ারপড গুঁজে মেয়েটাকে পাশ কাটাতে গেলো যুবক । অমনি পথরোধ করে দাঁড়ালো রমনী । পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে ভর করে শরীর উঁচিয়ে তর্জনী তুলে খেকিয়ে উঠলো….
” হোয়াট ? আমি কুঁদুলে ? এই লোক,,, কুঁদুলে মানে কি হ্যাঁ ? আপনার সাহস কি করে হয় আমাকে উল্টো পাল্টা বলার ? পাবলিক ডেকে সিনক্রিয়েট করে গন ধোলাই খাওয়াবো বলে দিলাম ।
মেয়েটার বাড়াবাড়ি অসহ্য লাগলো নীলয়ের নিকট । পথে বাগড়া দেওয়ায় আরো তপ্ত ঝাড়ি মারলো এবার….
” শাট আপ,,, তখন থেকে দেখছি গায়ে পড়ে ঝগড়া করার পাঁয়তারা করছো । প্রবলেম কি তোমার ? লাগতে আসছো কেনো আমার সাথে ? দেখো মেয়ে,, রাগিও না আমায় । সরো চোখের সামনে থেকে ।
ঊনবিংশী চমকে পিছিয়ে আসে ।
ঠোঁট ভেঙে কেঁদে ওঠে চাপা স্বরে । একেই সকাল থেকে কান্না পাচ্ছে তার । শরীর ঝিমঝিম করছে । চক্কর কাটছে মাথা ।
আকস্মিক ওর ক্রন্দনে ভ্যাবাচ্যাকা খায় নীলয় । আশপাশের মানুষজন অনেকক্ষণ ধরেই এসব দেখতে দেখতে এ বেলায় কয়েকজন এগিয়ে আসলেন ত্রম্ভ পায়ে । পরিস্থিতি বিগড়ে যেতেই ভড়কায় যুবক ।
ঠোঁট ভিজিয়ে মেয়েটাকে বলে চাপা গলায়….
” এই ক্ষ্যাপী,, কান্না জুড়লে কেনো ? চুপ করো । লোকে ভুল ভাববে আমাদের নিয়ে ।
এর মধ্যেই কয়েক জন এগিয়ে এসে দাপট দেখিয়ে তোরজোর শুরু করলেন ।
” কি হয়েছে ভাই ? অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি আপনাদের কাহিনী । দেখে তো মনে হচ্ছে না একে অপরের পরিচিত বলে । ভরা বাজারে একলা মেয়ে পেয়ে জ্বালাতন করছেন ? এতো এতো মানুষের ভিড়ে একটা মেয়েকে হ্যারাস করতে বুক কাঁপে না ? আপু,, উনি কি ডিস্টার্ব করছেন আপনাকে ?
” এক্সকিউজ মি,,, আমি ওনাকে ডিস্টার্ব করতে যাবো কেনো ?
নীলয়ের কথা শেষ হতেই মেয়েটা মুখ খুললো….
” উনি ডিস্টার্ব করেন নি আমায় । আপনারা আসতে পারেন ।
ঝামেলা নেই বুঝে নিজেদের মাঝে বিড়বিড় করতে করতে একে একে চলে গেলেন সবাই । মেয়েটা ফিকড়ে উঠে হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছলো । নীলয় বললো না আর কিছু । চোখ উল্টিয়ে গায়ে পড়া মেয়েটাকে পাশ কাটিয়ে যেতে গেলে মেয়েটা ডাকলো আহত গলায়….
” ভাইয়া !
সচকিতে থেমে যায় যুবকের উদ্যত কদম । ঘাড় ফিরিয়ে চায় সে । মেয়েটা ওষ্ঠ উল্টেই বলে মিনমিন করে….
” খিদে পেয়েছে !
চোখ কুঁচকে সরু হয় নীলয়ের । অস্ফুটে বলে….
” হোয়াট ?
” ভীষণ খিদে পেয়েছে । চলুন রেস্টুরেন্টে খেতে যাই । বিল আপনি দেবেন ।
আশ্চর্য হয় যুবক । মেয়েটা ছটফট করে কাছে এসে সিক্ত গাল মুছে বলে…..
” আমার কাছে টাকা নেই আজ । সকাল থেকে কিচ্ছু খাইনি । খিদে পেয়েছে ভীষণ ।
” তো আমি কি করবো ?
” আপনি এখন খাওয়াবেন আমায় ।
” কিসের দায় পড়েছে আমার ?
” পাবলিকের থেকে বাঁচালাম আপনাকে । যদি কথা না শোনেন, তাহলে আবার মানুষ জড়ো করে পিটুনি খাওয়াবো বলে রাখলাম । এবার বলুন, আপনি কেলানি খাবেন, নাকি আমাকে ভালোমন্দ কিছু খাওয়াবেন ! বড্ড খিদে পেয়েছে বললাম তো । এমন কেনো আপনি ! পকেটে টাকা নেই ? গরীব আপনি ? দেখে তো মনে হচ্ছে না ! চলুন,, কিছু একটা খাবো । খিদে সহ্য করতে পারি না আমি ।
আশ্চর্যে কিংকর্তব্য বিমূঢ় বনে যায় যুবক । এ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লো সে ?
এই মেয়েটার মাথার তার কাঁটা, নাকি মাথা টাই নষ্ট ? সে বুঝতে পারে না কিছু ।
তার আগেই মেয়েটা নির্দ্বিধায় ওর ডান হাতের কব্জি চেপে ধরে মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসলো । পদে পদে কেবলই স্তম্ভের ন্যায় পা বাড়ালো নীলয় ।
মার্কেটের বাইরেই একটা রেস্টুরেন্টে ঢোকে ওরা । ঢুকেই চেয়ার টেনে বসে পড়ে রমনী । আহম্মক বনে দাঁড়িয়ে রয় নীলয় । মেয়েটা চোখ তুলে বলে বড্ড সাবলীল ভাবে….
” দাঁড়িয়ে আছেন কেনো ? বসুন ।
খেতে হবে না । আমি খাবো, আর আপনি বিল দেবেন । আমার পেট ও ফাঁকা, আর পকেট ও ।
চেয়ে থেকেই ধপ করে বসলো যুবক ।
ওয়েটার ডেকে অর্ডার দিলো মেয়েটা । ক্ষণিকেই বিরিয়ানি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, আর সফট ড্রিংকস হাজির হলো টেবিলে । অমনি খাবারে হামলে পড়লো রমনী ।
নীলয় মুখ বিকৃত করে ফেলে । মেয়েটাকে দেখে বেশ সচ্ছল মনে হচ্ছে । পড়নে ভালোই সচ্ছল পোশাক । উজ্জ্বল শ্যামলা হলেও আদল সুন্দর বেশ । অনেকটাই সুন্দর বলা চলে । এই মেয়ের সাথে এমন ব্যাবহার ঠিক হজম হলো না । এ নিশ্চয়ই তার কাঁটা । নয়তো গায়ে পড়া কোনো এক অভদ্র, বখাটে মেয়ে ! তবে চেহারা সুরতে মোটেও তেমন মনে হচ্ছে না । যাই হোক, ঝামেলা বাড়াতে চাইলো না নীলয় । কেবল পালাতে পারলেই বাঁচা যায় এই পাগলের থেকে । সেই মোতাবেক সে চুপচাপ চোখ ফিরিয়ে বললো ভারী গলায়….
” তুমি শান্তি করে খাও, আমি বিল দিয়ে চলে যাচ্ছি । সময় নেই আমার । কাজ আছে ।
” উঁহু, চুপচাপ বসে থাকুন এখানে । আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে না আপনি কাজ বাজ করেন বলে ! ঢের অযথা সময় আছে হাতে । বসে থাকুন ।
” এইইইই তুমি কি পাগল ? ক্ষ্যাপী কোথাকার ! চেনা নেই জানা নেই,, এ কি ধরনের ব্যাবহার তোমার ?
খাওয়ার মাঝে ফিক করে হাসলো রমনী । কথা গুলো বিশেষ পাত্তা দিলো না । একটু থেমে বললো শান্ত গলায়…
” ইউ নো ভাইয়া,, আজ দুই সেপ্টেম্বর, আমার বার্থডে ।
নীলয় চোখ কুঁচকে ফেলে । জোর পূর্বক বলে রাগ চেপে…
” খুব ভালো,, হ্যাপি বার্থডে ! হয়েছে এবার ?
” উঁহু, শুধু বার্থডে নয় ।
আজ আমার রেসাল্টের ও ডে । উচ্চ মাধ্যমিকের রেসাল্ট বেরিয়েছে আজ । আমার ও বেরিয়েছে ।
চোখ দুটি আরো কুঁচকে আসলো নীলয়ের ।
দৃষ্টি প্রখর করলো সে । মেয়েটার আদলে কাঁদো কাঁদো ভাব ফুটেছে । সে নিজে থেকেই বললো খাওয়া থামিয়ে…
” জানেন,,, আমি ফেইল করেছি এক বিষয়ে ।
বলেই নাক টানলো । টুপ করে পানি ঝড়লো চোখ হতে । নড়েচড়ে ওঠে নীলয় । ঢোক গিলে পাগল মেয়েটার কথায় সিরিয়াস হয়….
” মানে ?
” মানে, আমার বায়োলজিতে ফেইল এসেছে ।
রেসাল্ট দেওয়ার পর কাউকে না বলে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম । খেয়ে বেরোই নি । এখানে একটু আগে ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করেছি । কিপ্টের বাচ্চা কিচ্ছু খাওয়ালো না আমায় । কাছে টাকা নেই । ফোনটাও রেখে এসেছি ঘরে । খিদে পেয়েছিলো ভীষণ । তাই আপনাকে ডিস্টার্ব করলাম । স্যরি ভাইয়া । আসলে আমি খিদে সহ্য করতে পারি না । মাথা গরম হয়ে যায় ।
নীলয় বাকি কথা তোয়াক্কা করলো না ।
” তুমি স্টুডেন্ট,, আই মিন আজ রেসাল্ট বেরিয়েছে তোমার ! আর ফেইল করেছো ? সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছো বললে,,, বাড়িতে জানে না কেউ ?
” ফেইল করেছি, এটা সবাই জেনে গেছে ।
” আর তুমি ? তোমার খোঁজ জানে না ? সবাই তো টেনশন করবে !
” করুক টেনশন । আমার লজ্জা লাগছে সবার সামনে যেতে । বাড়ি ঠান্ডা হোক, তারপর ফিরে যাবো । ততক্ষণ খিদে সামলাতে পারতাম না । থ্যাংক ইউ,, আপনি বিলটা দিয়ে আসুন ।
আশ্চর্য হয় যুবক ।
এই অচেনা মেয়েটার এমন অদ্ভুত সহজ আচরণ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না সে । কি অদ্ভুত মেয়ে !
কথা বাড়ায় না নীলয় । এই ঝামেলা থেকে পালাতে পারলেই বাঁচা যায় । সে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে কাউন্টারে গিয়ে বিল মিটিয়ে দিলো । আরেকবার ফিরে চাইলো পেছনের পাগল মেয়েটার পানে ।
আগের অবস্থানে না এসে চটজলদি ডোরের দিকে হাঁটা ধরলো পালানোর পথ খুঁজে । দুয়েক কদম এগোনো মাত্রই ডাক পেলো কানে……
” নীলয় ভাইয়া,, আবারো থ্যাংক ইউ ।
ঝট করে পিছে চায় বাউন্ডুলে যুবক । দৃষ্টি তড়াক হয় অবিশ্বাসে । এই মেয়ে তার নাম জানলো কি করে ? নীলয় ভাইয়া বলেই তো ডাকলো । কিন্তু সে তো নিজের বলে নি এই মেয়েকে ! তাহলে জানলো কি করে ?
হতভম্ব হয়ে তড়তড় করে তেড়ে আসলো সে ।
” এই মেয়ে,,, তুমি আমার নাম জানলে কি করে ?
মেয়েটার খাওয়া শেষ ।
শেষে সফট ড্রিংকস পুরোটাই ঢকঢক করে গিলে নিলো । উঠে গিয়ে হাত ধুয়ে আসলো । থামলো না আর । পার্স তুলে নিয়ে বাইরের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে বললো অধর চওড়া করে….
” আজ আসি ভাইয়া । আবার দেখা হবে । আর আপনি খুব ভালো । থ্যাংক ইউ ।
” হেয়য়য় স্টপ,,, নাম জানলে কি করে তুমি আমার ? আমি তো তোমাকে আমার নাম বলিনি !
মেয়েটা ঠোঁট টিপে হাসে…..
” আপনি বলেন নি । তবে আমি জানি । আরো অনেক কিছুই জানি আপনার বিষয়ে । কিভাবে জানি তা বলবো না । বললে আপনি এক্ষুনি আমাকে বিনা টিকিটে উগান্ডা পাঠিয়ে দেবেন ।
বিব্রত হয়ে দাঁত কিড়মিড়িয়ে উত্তপ্ত ধমক দেয় নীলয়….
” শাট আপ । কে তুমি, হ্যাঁ ? এতক্ষণ ধরে ড্রামা করলে আমার সাথে ? চেনো কি করে আমায় ? গায়ে পড়ে মিথ্যে অভিনয় করলে কেনো এতক্ষণ ? নাম কি তোমার ?
মেয়েটা ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে মিষ্টি হাসে….
” আমি #আইরাত_জাহান_অথৈ । এতক্ষণ ধরে মোটেও ড্রামা করিনি । বিশ্বাস করুন,, যা বলেছি সত্যিই ।
” আমাকে চেনো কি করে ?
যুবকের কটমট স্বর । অথৈ ঢোক গেলে । পিছিয়ে বলে….
” আবার কোনো একদিন দেখা হলে তখন বলবো ! আজ আসি ভাইয়া,, আল্লাহ হাফেজ !
” এই ক্ষ্যাপী দাঁড়াও । আমার প্রশ্নের উত্তর দাও আগে ! কিভাবে চেনো তুমি আমায় ?
মেয়েটা শুনলে তবেই তো ।
ছটফট করে ভো দৌড় লাগালো । সুইং ডোর খুলে বেরিয়ে গেলো রেস্টুরেন্ট থেকে ।
হতভম্ব হয় নীলয় । তেড়ে গিয়েও ধরতে পারে না এই মেয়েকে ।
কে এই মেয়ে ? বাপের জন্মে এই নামের কাউকে চেনে না সে । তাহলে মেয়েটা ওকে চিনলো কি করে ?
,,,
ভূমি ভার্সিটিতে যায়নি আজ ।
সাড়ে তিনটের দিকে সোজা খান বাড়িতে এসেছে । ভেতরে ঢুকে ড্রইং রুমেই সবাইকে একসাথে পেলো সে । টিভির পর্দা খুলে অধীর আগ্রহ নিয়ে স্ক্রিনের পানে চেয়ে আছেন সকলে । বাড়ির প্রত্যেকটা স্টাফ সহ দিশা, ওয়াহিদা খান, তারাও আছেন ।
ভূমি কপাল কুঁচকে এগিয়ে যায় । সবাই এতো মনযোগ দিয়ে কি দেখছে ? নিঃশব্দে পাশে দাঁড়িয়ে টিভির দিকে তাকালো সে । লাইভ নিউজ দেখানো হচ্ছে । গ্রীন রোডে নির্বাচনের আগে এই প্রথম যৌথ সমাবেশ বসেছে আজ । দশ আসনের সব প্রার্থীরা উপস্থিত সেখানে ।
সেই সমাবেশ টাই লাইভ আকারে প্রচার করা হয়েছে টেলিভিশনে ।
ওয়াহাজ খানও উপস্থিত সেখানে । মূল মঞ্চের একদম মাঝ বরাবর বড় আসনে স্বভাব সুলভ দাম্ভিক ভঙ্গিতে বসে আছেন তিনি । তার মর্যাদা একটু বেশিই বোধহয় । নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে পাশে কেউ বক্তৃতা দিচ্ছেন । ভূমি প্রখর নেত্রে এক ঝলক দেখেই বুঝতে পারে সব । নজর বুলিয়ে দেখার মাঝেই চোখে পড়ে, নাভিদ ইশরাক নামক সেই লোকটাও উপস্থিত আছেন এই জনসভায় । মঞ্চের বেশ কতকগুলো চেয়ারের মাঝে ডান পাশের একটি চেয়ারে বসে আছেন তিনি । ওয়াহাজ খান আর তার মধ্যে আরো তিন জন বসে আছেন ।
ভূমি কপাল কুঁচকে ফেলে । দোটানা দূর হয় কিছুটা । হয়তো লোকটা সত্যিই বলেছিলেন । দুজনের মাঝে দ্বন্দ্ব নেই হয়তো ।
মাথা থেকে আজগুবি চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রমনী । উৎসুক হয়ে বলে…..
” আসসালামুয়ালাইকুম নানু,,, ভালো আছেন ?
চকিতে তাকালেন ওয়াহিদা খান ।
” ওয়ালাই কুমুস সালাম । এসে গেছো তুমি ? বসো,, নিউজ দেখো । ওয়াহাজ কে দেখাচ্ছে টিভিতে ।
ভূমি ফের তাকায় । দিশা বিরক্তি নিয়ে উঠলো এবার । ওয়াহাজ খানকে বরাবর টিভিতে দেখানো হয় । পার্লামেন্টের কত বক্তৃতা শোনা হয়েছে তার । রমনী মুখ সিটকে বললো….
” একটু আগে মামার বক্তৃতা শেষ হয়েছে । এসব ভুজুং ভাজুং আর দেখতে পারবো না আমার । আমি ঘরে গেলাম নানু । ভূমি,, চল….
মিহাজ সহ ওরা তিনটে মিলে উপরে উঠে যায় ।
মিহাজের বিছানায় চিৎপটাং হয়ে শুয়ে ফোন হাতে নিলো দিশা । মুখখানি অবসন্ন তার । কিছু একটা নিয়ে খচখচ করছে ভেতর ভেতর । টিভিতে মনযোগ দিয়ে যাকে খুঁজেছে, তার টিকি টিও পায়নি ।
ভূমি মিহাজ কে পড়তে বসিয়ে ওর কাছে আসে । শুধোয় মোলায়েম কন্ঠে…..
” হোয়াট হ্যাপেন্ড,, দিশা ? ভার্সিটি যাসনি তুই ও ?
” উঁহু !
” কেনো,, কি হয়েছে ?
ইনোসেন্ট মুখে ভূমির দিকে তাকায় রমনী । কাছ ঘেঁষে আসে । উবু হয়ে কোলো মাথা রেখে বলে…..
” আমি বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছি, ভাই ! ইদানিং কিচ্ছু ভালো লাগছে না !
” কিন্তু কেনো ?
” কারন একজনকে ভালো লেগে গেছে আমার । তাকে ভালো লাগার পর ফেঁসে গেছি । আর পারছি না ! ভীষণ ছটফট লাগছে !
তাজ্জব বনে যায় ভূমি । আহম্মক বনে শুধোয়…..
” ও মা,, তোর আবার কাকে ভালো লাগলো ? কি বলছিস এসব ?
মুখো ভঙ্গিমা কাঁদো কাঁদো হয় দিশার । সে খামচে ধরে বিছানার একাংশ । মিনমিন করে….
” জাওয়াদ সাহেবকে ভালো লাগে আমার ! শুধু ভালো নয়, ভীষণ ভালো লাগে । ইউ নো,, দিস ইজ দ্যা ফার্স্ট টাইম, আই অ্যাম ফিলিং দিস ওয়ে ফর সামওয়ান । ওনাকে দেখার পর থেকেই পাগল হয়ে গেছি আমি । আগে কখনো কোনো ছেলেকে ভালোই লাগে নি । হঠাৎ করে ঐ গম্ভীর লোকটাকে ভালো লেগে গেলো কি করে বলতো ? ওনাকে ভালো লাগার পর উনি ব্যাতীত আর কিচ্ছু ভালো লাগছে না আমার । ওনাকে সেই প্রথম দেখা থেকেই পাগল পাগল লাগছে । আগেও নানু বাড়িতে আসতাম, তবে তাকে চোখে পড়েননি কখনো । কিন্তু সাত মাস আগে আমার সাথে কি থেকে কি হয়ে গেলো, আমি নিজেও বুঝতে পারছি না ।
এ কেমন অনুভূতি, বলতো ? কি ভীষণ উচাটন !
দৃষ্টি বৃহৎ করে ভূমি । ওকে ঝাঁকায়…..
” ওও মাই গড, দিশা ! ইউ হ্যাভ ফলেন ইন লাভ ! রিয়েলি ? তার মানে অরিধ ভাইয়াকে সত্যি সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছিস তুই ?
দিশার মুখখানি স্বল্প লাজে রাঙা হয়ে ওঠে । মুখ নামিয়ে নেয় সে । উঠে বসে হাত কচলে বিড়বিড় করে….
” আই ডোন্ট নো,,, বাট আই ওয়ান্ট হিম ! ওনাকে ভাবতে গিয়ে হার্টবিট বেড়ে যায় আমার । আর ওদিকে উনি,, উনি তো ফিরেও তাকান না আমার দিকে । কি করবো বলতো ? কাল থেকে আর দেখা হয়নি ওনার সাথে ! দিনে তাকে এক ঝলক না দেখলে শান্তি হারাম হয়ে যায় আমার ।
মেয়েটার কন্ঠে অসহায়ত্ব ফুটলো ।
ভূমি বিচলিত হয় । ভীষণ খুশি লাগে ওর । ছটফট করে বলে…..
” তুই নিজের অনুভূতি সম্পর্কে বলিস নি ওনাকে ?
” বললেই বা কি ? উনি বোঝেন সব । তবুও আমাকে এড়িয়ে চলেন সবসময় । আচ্ছা ভূমি,, আমি কি সুন্দর নই ? ওনার বউ হওয়ার জন্য পারফেক্ট নই আমি ? উনি কেনো তাকান না আমার দিকে !
ভূমি সিরিয়াস হয় । ভার গলায় বলে….
” আমি যতদূর অরিধ ভাইয়াকে দেখেছি, তাতে বুঝেছি উনি জেন্টলম্যান । আর পাঁচটা ছেলেদের মতো গায়ে পড়া নন । ওনাকে একটু বোঝ আগে । উনি কেমন কি পছন্দ করেন, তেমন করে ওনার সামনে নিজেকে রিপ্রেজেন্ট কর । দেখবি, ওনার থেকে রেসপন্স পাবি ।
ভাবুক হয় দিশা ।
ভূমি কথা শেষ করতে না করতেই মিহাজ ডেকে উঠলো । ডাক পেয়ে রমনী এগোলো সেদিকে ।
খানিকক্ষণের মধ্যেই বাড়িতে ওয়াহাজ খান ফিরে আসেন সমাবেশ শেষে ।
হাতে একটা শপিং ব্যাগ । ওয়াহিদা খান তখনো ড্রইং রুমে বসে আছেন ছেলের অপেক্ষায় । ছেলে ফিরতেই মুখে উজ্জ্বল হাসি ফুটলো তার । ওয়াহাজ খান এসে বসলেন মায়ের পাশে । দীর্ঘ এক দম ছাড়লেন অতঃপর । ছেলেকে দেখেই উদগ্রীব হয়ে জানতে চান ভদ্রমহিলা….
” জনগনের মতিগতি কেমন বুঝলে, ওয়াহাজ ?
তার ছেলে খানিক হাসেন…..
” কি আর বুঝবো, মা ? তাদের বোঝা হয়ে গেছে আমার । তারাও আমাকে বোঝেন যথেষ্ট । আপাতত চিন্তা মুক্ত থাকুন ।
” চিন্তা মুক্ত থাকি কি করে বলতো ? তোমাকে বললাম রাজনীতি টা ছাড়ো এবার, শুনলে না আমার কথা । ভয় হয় আমার !
” কিসের ভয় মা ? আমি তো কোনো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে নেই । বরং নিজ সীমান্তে অনৈতিকতা দূর করার প্রয়াস চালাই । সমস্ত ঝামেলা ঝঞ্ঝাট এড়িয়ে চলি বরাবর । আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন । এবারের নির্বাচন ও শান্ত ভাবেই সম্পাদন হবে । আর এবারেও আমি আমার পদ ছাড়ছি না ।
ওয়াহিদা খান সন্দেহ নিয়ে বলেন…..
” এতোটা নিশ্চিত হচ্ছো কি করে ?
” কারণ নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখি আমি । আর জনগণ আমার প্রতি ।
কথা টুকু বলেই মুচকি হাসলেন । প্রসঙ্গ পাল্টালেন পরক্ষণে । হাতের প্যাকেটটা মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন…..
” এই যে আপনি যা আনতে বলেছিলেন, এনেছি । কিন্তু এটা দিয়ে কি করবেন ?
ঝটপট প্যাকেট টা হাতে তুলে নিলেন ভদ্রমহিলা । মৃদু হেসে বললেন….
” আগে আমাকে কুড়ি হাজার টাকা দাও ।
বিপরীতে কারন শুধোলেন ওয়াহাজ খান । সাথে ক্যাশ নেই । তৎক্ষণাৎ মায়ের আদেশ পালন করে সিঁড়ি ডিঙিয়ে ঘরে থেকে টাকা বের করে নিয়ে আসলেন । বীনা বাক্যে টাকাগুলো দিয়ে দিলেন মায়ের কাছে ।
পাশে বসলেন আবার । কফি দিয়ে যাওয়া হয়েছে । মগ হাতে চুমুক বসালেন ভদ্রলোক ।
ওয়াহিদা খান গলা উঁচিয়ে দিশাকে ডাকেন । মেয়েটা করিডোরে বেরোতেই হাঁক ছেড়ে বলেন, যেনো ভূমিকে সাথে নিয়ে এক্ষুনি নিচে নেমে আসে ।
আদেশ মোতাবেক তাই করলো দিশা । ক্ষণিকের মধ্যেই ভূমিকে সাথে নিয়ে নিচে নেমে আসলো ।
ওয়াহিদা খান ভূমির হাত টেনে নিজের পাশে বসান । ছেলের নিয়ে আসা প্যাকেট টা তুলে দেন ওর হাতে ।
ঠিক বুঝে ওঠে না রমনী । নির্বোধের ন্যায় শুধোয়…..
” এটা কি নানু ?
” দেখো ভেতরে কি আছে ।
ভূমি কৌতুহলী হয়ে প্যাকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা রিটেইল বক্স বের করলো । অমনি ছানাবড়া হলো রমনীর আঁখি যুগল । আইফোন সিক্সটিন এর একটা মোবাইল বক্স । এতো দামী জিনিস হাতে নিয়ে ছ্যাত করে ওঠে রমনী । ছিটকে এক কদম পিছিয়ে বসে । দিশাও তাজ্জব ।
ওয়াহিদা খান হেসে বললেন…..
” এই ফোনটা তোমার জন্য । তোমার ফোনটা তো নষ্ট হয়ে গেছে, ওটা আর ঠিক করার প্রয়োজন নেই । এটা চালাবে আজ থেকে ।
হতভম্ব রমনী জড়বুদ্ধতা কাটিয়ে তাৎক্ষণিক নাকোচ করে…..
” এ কি বলছেন নানু ? এই আইফোন আমার ?
” হ্যাঁ, তোমার । ওয়াহাজ এনেছে ! পছন্দ হয়েছে ?
মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে মেয়েটার ।
ওয়াহাজ খান তৎক্ষণাৎ ধারালো দৃষ্টিতে তাকান মায়ের দিকে । চোয়াল খিচলেও কন্ঠ নরম রেখে বলেন…..
” এটা তার জন্য আনিয়েছেন, আপনি ?
” হ্যাঁ । ওর জন্যই ।
ভূমি, আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না । এই ফোনটা নেবে তুমি । আর এই নাও,, এখানে তোমার এই মাসের টিউশনি ফি আছে ।
মূর্ত রমনীর হাতের মুঠোয় টাকা গুলো গুঁজে দিলেন তিনি । চকচকে বিশ খানেক হাজার টাকার নোট ।
আকাশ ভেঙ্গে পড়ে সহজ মেয়েটার মাথায় ।
” নানু,, এতো গুলো টাকা ? আমার তো মাস শেষ হতে এখনো দিন দশেক আছে । আর ফি এতো কেনো ? কুড়ি হাজার ! এতো টাকা বা ফোন, কোনটাই নিতে পারবো না আমি । মিহাজকে পড়ানোর জন্য মাস শেষে আমাকে জাস্ট সাত হাজার টাকা দিলেই হবে । আমি জানি, ওটাও বেশি । কিন্তু….
” হোয়াট ! শুধু সাত হাজার টাকা ? তাও বেশি তোমার কাছে ?
” হ্যাঁ নানু,,, আমার কেবলই ঐ টাকাটাই প্রয়োজন । এতো লাগবে না আমার । আমি পরিচিত বলে স্বজনপ্রীতিও করতে হবে না ।
কথা টুকু শেষ করে নিজের জন্য সাতটে নোট রেখে বাকি টাকা গুলো ওয়াহিদা খানের হাতে গুঁজে দিলো রমনী । ফোনটাও সরিয়ে রাখলো পাশে ।
” আব্বু টাকা পাঠিয়েছেন । আমি আমার ফোন রিপেয়ার করতেও দিয়েছি । এটার কোনো প্রয়োজন নেই আমার ।
মেয়েটার সটান জবাব ।
ওয়াহিদা খান অপ্রস্তুত হলেন ।
” কিন্তু ভূমি,, গুরুজন হিসেবে আমি এটা উপহার দিচ্ছি তোমায় ?
” এতো দামী উপহার আমার জন্য নয় । স্যরি নানু,, আমি ওটা নিতে পারবো না । আমি তো সাধারণ,, তাই অসাধারণ কিছুকে এড়িয়ে চলি । প্লিজ নানু,,, জোর করবেন না ।
মেয়েটার মলিন কন্ঠ । অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে সে ।
চটজলদি কেটে পড়তে চাইলে ওয়াহিদা খান নরম গলায় বললেন…..
” আমার কথা শুনবে না তুমি ?
মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে চায় । মুখে ব্যাথিত ছাপ । গুরুজন হিসেবে তার মুখের উপর কথা বলতে গলায় বাঁধছে বড্ড । কিন্তু সে এসব নিতে পারবে না । ঋণি হতে পারবে না কারোর কাছে । দোনামোনা করে রমনী ।
ওয়াহাজ খান তীক্ষ্ণ গলায় বাণী ছোড়েন হাওয়ায়…..
” দিশা,,, তাকে ফোনটা দিয়ে দাও । আমার মায়ের কথা অমান্য করার হিম্মত পায় কোথায় সে ? তাকে উপহার দেওয়া হচ্ছে,, মূল্য বিচার করতে বলা হয় নি !
” কিন্তু মামা…..
” শাট আপ স্টুপিড গার্ল, জবান সামলে কথা বলো । ফার্দার মামা বলে ডাকলে জবান থেকে মা ডাক টাই মুছিয়ে দেবো । আমি তোমার মামা নই,, মাইন্ড ইট !
তপ্ত ঝাড়িতে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে রয় রমনী । ওয়াহাজ খান আর থামলেন না । উঠে গটগট করে প্রস্থান করলেন ।
দিশা ফোনটা তুলে আবারো ভূমির হাতে ধরিয়ে দেয় । শান্ত হয়ে বলে…..
” এতো হাঁকপাক করছিস কেনো বলতো ? নানু কত্ত ভালোবেসে দিচ্ছেন তোকে । না করিস না প্লিজ । নানুর খারাপ লাগবে ।
মেয়েটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে কাষ্ট হাসে ।
ওয়াহিদা খান বাকি টাকা গুলো বাড়িয়ে দিয়ে কিছু বলার আগেই হকচকিয়ে গলা তোলে….
” আমি আর টাকা নিতে পারবো না, নানু । প্লিজ,, আমাকে অপ্রস্তুত করবেন না ।
,,,,,,
মাঝে দিন কয়েক কেটেছে ।
ইদানিং ধানমন্ডিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হচ্ছে বেশ । চারদিক প্রচার প্রচারণা আর জনগনের মিছিলে বুঁদ থাকে সর্বদা । দিশাকে ড্রাইভার নিয়ে আসেন রোজ । মাঝে মাঝে শহরের অবস্থা বেগতিক হলে ওয়াহাজ খান অরিধ কে পাঠিয়ে দেন ওর ভার্সিটিতে । এই ছেলেটাকে বড্ড ভরসা করেন এমপি সাহেব ।
আজও তাই । ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে অরিধ কে পেয়েছে রমনী ।
এখন বাড়ি ফিরছে দুজনায় । লোকটা গুরুভার হয়ে ড্রাইভ করতেই ব্যস্ত । দিশা প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে আড়চোখে তাকাচ্ছে যুবকের দিকে । এই লোক পাশে থাকলে চোখ বাধ্যতা ভুলে অবাধ্য হয়ে যায় আপনা আপনি ।
গলা শুকিয়ে আসে । কি দর্শনধারী রূপ তার ।
দিশা আড়চোখে তাকানোর মাঝেই টুং টাং আওয়াজ তুলে যুবকের ফোন বেজে ওঠে ।
এক হাতে স্টিয়ারিং সামলে তাৎক্ষণিক ফোন হাতে নেয় অরিধ । অগত্যা মুচকি হাসির দেখা মেলে ওষ্ঠপূটে । বিলম্ব হীন কানে ফোন ঠেকায়….
” হ্যালো !
ওপাশ থেকে কেউ কিছু বললো । বায়না করলো বোধহয় !
অরিধ প্রত্যুত্তর করে তার…..
” এক্ষুনি ? কিন্তু আমি তো খান বাড়িতে যাচ্ছি,, বনু । ওখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে যা চাও, তাই নিয়ে আসবো তোমার জন্য । হবে না ? মিনিট বিশেক লাগবে শুধু !
ওপাশের জন হাল ছাড়লো না ।
যা চায়, তা এক্ষুনি লাগবে তার । অরিধ ওষ্ঠ কামড়ে খানিক ভাবে । অতঃপর সায় দেয়……
” আচ্ছা,, আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি । অপেক্ষা করো…
বলেই গাড়ি ঘোরালো । পথ ধরলো উল্টো । এতক্ষণে প্রসঙ্গ খুঁজে পায় দিশা । ছটফক করে জিজ্ঞেস করে…..
” এদিকে কোথায় যাচ্ছেন ?
” আমার বাড়ি !
হতচকিত হয় রমনী । নড়েচড়ে বলে….
” আমাকে নিয়ে ?
” কিছু প্রয়োজন আছে,, এক্ষুনি মেটাতে হবে । জাস্ট যাবো আর আসবো । আপনাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবো তারপর । চিন্তা করবেন না ।
” আপনি সাথে থাকলে চিন্তা করিও না কখনো ।
কথা টুকু আওড়িয়ে এক চিলতে হাসলো রমনী । ওপাশ থেকে উদ্বেগ পাওয়া গেলো না আর ।
পথিমধ্যে ফুলের দোকানের সামনে গাড়ি থামিয়ে বেশ কিছু ফুল কিনে নেয় অরিধ । পাশের শপ থেকে আরো কিছু কিনে নেয় । অতঃপর পরের বার গাড়ি থামে একটি দোতলা বাড়ির সামনে । বেশ পুরনো রংচটা একটি বাড়ি । শ্যাওলা জমেছে দেয়ালে । অনেকদিন রং করা হয় না বোধহয় ।
দিশা জানালা ভেদে চোখ উঁচিয়ে অবাক লোচনে দেখে নেয় বাড়িটা । উঁচু প্রাচির ছাপিয়ে ভেতরটা দেখা যাচ্ছে না । এটাই তবে অরিধ জাওয়াদের বাড়ি ? রংচটা হলেও বাইরে থেকে বাড়িটার নকশা বেশ সুন্দর ।
অরিধ গাড়ি থামিয়েই নামতে নামতে ভারী গলায় বলে…..
” আপনি এক মিনিট বসুন,,, আমি এক্ষুনি আসছি !
” সে কি, আমাকে রেখে যাবেন ? ভেতরে যেতে বলবেন না আমায় ?
অপ্রত্যাশিত ভাবে তাকালো অরিধ । বাড়িতে বিয়ে কাল । টুকটাক আয়োজন আছে আজ । মেয়েটার মুখের উপর না করতে পারলো না সে…..
” যাবেন ভেতরে ?
উপর নিচ মাথা নাড়ায় রমনী । আরেকটু ভাবে যুবক । জিভ দিয়ে অধর চুবিয়ে বলে পরক্ষণে…..
” আচ্ছা,,, চলুন !
নিমিষেই গদগদ হলো রমনী ।
গেইট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলো ওরা । বাগানে বরযাত্রির জন্য সাদামাটা ভাবে টুকটাক ভেন্যু সাজানো হয়েছে । দিশা অবাক চোখে দেখে ।
অরিধের পিছু নিয়ে সদরের সামনে থামে । কড়া নাড়ার আগেই দিশার পানে এক ঝলকের জন্য দৃষ্টি তাক করে যুবক । মেয়েটার পড়নে একটি সাদা থ্রি পিস । গলায় ওরনা আছে । সে দৃষ্টি সংযত করলো । ধীরুজ স্বরে বললো চোখ নামিয়ে…..
” বাড়ির ভেতরে ঢোকার আগে মাথায় ওরনা টা টেনে নিন একটু !
চট করে ফিরে চায় রমনী । মুখ ফসকে শুধোয়…..
” কেনো ?
” কারন ওরনা শুধু বুকে নয়, মাথায় থাকাও জরুরি । আর আমার বাড়িতে অশালীন ভাবে চলাফেরা করে না কেউ । আমার মা একেবারেই পছন্দ করেন না এসব । আপনাকে এভাবে দেখলে ভুল ধারণা করতে পারেন তিনি । আমি চাইছি না তেমন কিছু হোক ।
আজকের পর্বটা বেশ বড় । চটজলদি রেসপন্স করবেন প্রিয়রা ! 
#চলবে……
Share On:
TAGS: আমি তোমার হতে চাই, সুরভী আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আমি তোমার হতে চাই পর্ব ৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৮
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৮৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫১
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৮৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৮০
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৯৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০( প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
আমি তোমার হতে চাই পর্ব ৪