#আসবো_ফিরে_আবারো
#পর্ব_৮০
#সুরভী_আক্তার
হসপিটালের করিডোরে ত্রম্ভ পায়ে ছুটছে বেপরোয়া যুবক । অবস্থা হাঁসফাঁস । শ্বাস উঠেছে গলায় । কপালের ধারে বিন্দু বিন্দু ঘাম । শুকিয়ে আসছে গলা ।
করিডোরের শেষ প্রান্তে দুইশত ছয় নম্বর কেবিনের সামনে চেনা কয়েক মুখাবয়ব দেখে খানিক ছ্যাঁত করে উঠলো । বাড়ালো পায়ের গতি । থামলো কেবিনের সামনে ।
” মাহির,,,, হোয়াট হ্যাপেন্ড ? মিনি,,, মিনি কোথায় ?
কম্পিত তার কন্ঠ ।
মাহির চকিতে চায় । সাথে রিসাও । ভেজা জবজবে রমনীর আঁখি কার্নিশ । গাল বেয়ে অঝোরে পানি গড়ানোর দাগ স্পষ্ট । রৌদ্র কে দেখা মাত্রই তার কান্নার বেগ হু হু করে বাড়লো ।
হাঁটুতে কনুই ঠেসে দুহাতের তালুতে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে উঠলো । রৌদ্র তেড়ে যায় । হাঁটু মুড়ে বসে তার সামনে…..
” রিসা,,, কি হয়েছে মিনির ? কাঁদছো কেনো তুমি ? বলো আমায় ।
” রৌদ্র,,, মিনি ঠিক নেই । আমি জানি না ওর কি হয়েছে ! একটু আগেও তো খেলছিলো আমার সাথে । ও হাসছিলো । সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে হুট করেই অজ্ঞান হয়ে গেছে । তুমি কিছু করো প্লিজ । ডক্টর এখনো বেরোচ্ছেন না । দেখো না আমার মেয়েটার কি হয়েছে । ও ছাড়া আমার আর কোনো সম্বল নেই রৌদ্র । আমি বাঁচবো না ওর কিছু হয়ে গেলে । তুমি প্লিজ আমার মেয়েটাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও । দেখো না কি হলো ওর ।
মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে অস্থির হয়ে আওড়ায় এসব ।
রৌদ্র ফেরে মাহিরের দিকে । রৌদ্রের আহত প্রশ্ন সূচক চাহনির অর্থ বুঝে মাহির গলা নামিয়ে বোঝায়….
” ডক্টর এখনো বের হননি,বস । বেরোলেই জানতে পারবো ।
মিনিট কয়েকের মাথায় ডক্টর বেরিয়ে আসেন কেবিন হতে । মিনির হার্টে যে ফুটো আছে । সেটার বদৌলতে বাচ্চাটার জীবন সংকটে প্রায় । অতিরিক্ত হাসতে পারে না । দম ফুরিয়ে যায় । ছোটা ছুটি করতেও পারে না স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতো । শ্বাস কষ্টে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়ে যায় । কাঁদতে পারে না সেই ছোট বেলা থেকে ।
মিনিকে যথেষ্ট আগলে রাখে রিসা । বাইরের জগতের সাথে তার আলাপন কম । আর পাঁচটা বাচ্চার মতো স্বাভাবিক নয় সে । তাকে খুব যত্ন করে আগলে রাখতে হয় ।
তবুও আজ হঠাৎ কি হলো কে জানে । ঠিক ছিলো তো সে । আগে কখনো এভাবে হুট করে জ্ঞান হারায় নি ।
ডক্টর বেরিয়ে এসে ভালো কিছু শোনালেন না ।
মিনির হার্টের ফুটো খুব একটা বড় নয় । সার্জারির প্রয়োজন নেই । তবে সেটাকে এভাবে হেলাফেলা করাও ঠিক হচ্ছে না । পরবর্তীতে সংকট বাড়বে বই কমবে না । বয়স বাড়ার সাথে সাথে জটিল পর্যায়ে যেতে পারে আরো । এমনিতেও মিনির বয়স সবে পাঁচে পড়েছে । এই জটিলতার কারণেই বয়সের তুলনায় হেলথ গ্রোথ হয়নি সেভাবে । মাঝে মাঝে খুব ঝিমিয়ে যায় শরীর । খেতে পারে না । আরো দূর্বল হয়ে পড়ে । শ্বাস কষ্ট উঠলে বিপত্তি সৃষ্টি হয় ।
সবকিছু থেকে পরিত্রানের জন্য ওপেন হার্ট সার্জারি না করেও নন সার্জিক্যাল প্রসিডিউর মাধ্যমে ওর চিকিৎসা সম্ভব ।
মিনির স্বাস্থ্যের বিবেচনায় ডক্টর শোনালেন,, এবারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াটাই শ্রেয় ।
মিনির জ্ঞান নেই আপাতত । ডক্টরের কথা গুলো শোনেনি রিসা । হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকেছে । রৌদ্র মনযোগ দিয়ে শুনলো সবটা । অতঃপর সেও পা বাড়ালো ভেতরে । বেডের উপর ছোট্ট নিথর দেহ খানা নিস্পন্দ হয়ে পড়ে আছে । এগিয়ে যায় রৌদ্র । আলগোছে পাশে বসে ।
কি সুন্দর নিষ্পাপ মায়বি মুখ শিশুটার ।
যুবক আহত চোখে তাকিয়ে রয় । অপর পাশেই ফুঁপিয়ে কাঁদছে রিসা ।
রৌদ্র আলগোছে মিনির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় ।
ঝুঁকে ঠোঁট নামিয়ে নরম চুমু আঁকে বাচ্চাটার কপালে । ঠোঁট ভেঙে মিষ্টি হাসে । বড্ড মায়া জমেছে এই শিশুটার উপর । অথচ রক্তের কোনো টান নেই । বিনি সুতোর টানে রৌদ্র জড়িয়ে গেছে ওর সাথে । বেছে নিয়েছে কতই না ছলনার পথ । কিন্তু এই ছল চাতুরির ফল কি হবে শেষে ? রৌদ্র জানে সে ঠিক করেনি । জেনে শুনে ভুল পথে এগোচ্ছে এখনো । অবিরাম এগোতে এগোতে মাঝপথে পৌঁছে গেছে । পিছু ফিরতে গেলে হাজার বিপত্তি ঘটবে । সব ঠেকাতে হবে ওকে । তবে এক এক করে । একসাথে সবকিছু সামলানো দায় হয়ে পড়বে ভীষণ ।
রৌদ্র মিনির পানে নিষ্ক্রিয় চোখে চেয়ে রয় দীর্ঘ সময় । অতঃপর ডাকে…..
” রিসা, বাইরে চলো । তোমার সাথে কথা আছে আমার ।
বাইরে বেরোয় দুজনে । করিডোরের ওয়েটিং ডেস্কে পাশাপাশি বসে । সাথে মাহির ।
রৌদ্র খানিক চুপ থেকে তাকায় রিসার দিকে…..
” শোনো রিসা, বাচ্চাদের মতো প্যানিক করবে না একদম । তুমি যথেষ্ট বুঝদার । অবুঝ হচ্ছো কেনো তাহলে ? যা বলছি মনযোগ দিয়ে শোনো,,, ডিভাইস ক্লোজারে মিনির কোনো ক্ষতি হবে না । কাঁটা ছেড়া বা ঝুঁকি নেই এখানে । মিনির হার্টে খুব সামান্য ফুটো আছে । বাচ্চা মানুষ, এটার ধকলই সামলে উঠতে পারে না । বড় হতে হতে এটা খারাপ পর্যায়ে যেতে পারে ।
এবারে আমাদের সিরিয়াস ভাবে নেওয়া উচিত ব্যাপারটা । ডক্টর বলেছেন, যদি আমরা চাই তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তিনি ইন্টারভেনশন করবেন । তুমি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো ।
রিসা আলগোছে চোখ তুললো । ভেজা ভেজা মাতৃ চক্ষু ।
” মিনি ভয় পাবে ! প্যানিক করবে । তুমি জানো মিনি কেমন, যদি কিছু হয়ে যায় ?
” হবে না । আমরা আছি তো । এই সমস্যা টা ধরে রাখতে চাইছো তুমি ? বাচ্চাটা সাড়ে তিন বছর ধরে এই অসুস্থতা বয়ে বেড়াচ্ছে ।
” কিন্তু রৌদ্র…
” উঁহু, কোনো কিন্তু না । ভরসা করো না আমায় ? আগামী সপ্তাহে লন্ডন থেকে ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট আসবেন । আমি আছি রিসা , ডোন্ট ওয়ারি । মিনি কিছু বুঝতেই পারবে না ।
” আর কতদিন রৌদ্র, আর কতদিন থাকবে তুমি ? মিনির অপারেশন হয়ে গেলে আমি আর অপেক্ষা করবো না । আমি ওকে সব জানিয়ে দেবো !
” কি জানাবে ?
” যা সত্য !
” তারপর ?
” তোমাকে আর আটকে থাকতে হবে না এই গন্ডিতে, যথেষ্ট করেছো তুমি আমাদের জন্য ।
” মেয়েকে সামলাতে পারবে একা ?
রিসা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো । চোখ ফিরিয়ে নিলো ।
” শিখে নেবো ! মাহির আছে । আর হ্যাঁ, বিজনেস তোমারই থাকবে । বিপাকে পড়লে না হয় পাশে দাঁড়িও । সেটা আমার বন্ধু হিসেবে । আমাদের ঝামেলায় তোমার জীবনের অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে । মেঘাকে আর আঁধারে রেখো না । আমি ওর সাথে দেখা করতে চেয়েও পারছি না তোমার জন্য । ওকে এখন সব বলে দেওয়া উচিত । ও তো মিনির মতো বাচ্চা নয়, যে গাল ফুলিয়ে অভিমান করবে । আমাদের এই অবস্থা জানার পর ওর ভুল বোঝার কথা নয় ।
” ও আমাকে ভুল বুঝবে না কখনো !
” তাহলে বলে দিচ্ছো না কেনো ?
” ছয় তারিখের অপেক্ষায় আছি । সেই দিনটা কেটে যাক । এদিকে মিনির অপারেশন ও হোক । তার পর তোমাদের মুখোমুখি করবো । ইভারা তোমাকে চেনে । ও বুঝবে সবটা । আই ট্রাস্ট হার ।
,,,,,
রৌদ্র বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত দশটা বেজেছে । মিনির জ্ঞান ফিরে আসার পর ফিরেছে একেবারে ।
ঘরে চুপচাপ শুয়ে আছে মেঘা । পা টিপে ঘরে ঢোকে রৌদ্র । একবিংশী কে শুয়ে থাকতে দেখে জিভে কামড় বসায় । ঘাড় ডলে শুষ্ক ঢোক গিলে একটু এগোয় । ডাকে মিনমিনে ঠান্ডা গলায়…..
” ইভারা ?
ডাক কানে পড়তেই ঝট করে উঠে বসলো মেঘা । তড়াক হলো চাহনি ।
” এসেছেন আপনি ! এতো দেরি হলো কেনো ?
” একটু হসপিটালে গেছিলাম সুইটহার্ট !
” সে কি, কেনো ? আপনি ঠিক আছেন ? কি হয়েছে আপনার ?
” আমার জন্য না ।
” তাহলে ?
” অন্য কারনে যাওয়াটা দরকার ছিলো ।
তুমি ঘুমোও নি এখনো ?
” আপনি না ফেরা অবধি ঘুমোতাম আমি ?
রৌদ্র মুচকি হাসলো । পড়নের শার্টের বোতাম গুলো একটা একটা করে খুলে ছুড়ে মারলো সেটাকে । শাওয়ারে ঢুকবে এখন । তার আগে কয়েক ধাপ এগিয়ে রমনীর কপালে ভেজা পরশ আঁকলো । আঁখি লতার ধারে অধর নামিয়ে ঠান্ডা স্বরে বললো…..
” লাভ ইউ ।
সরে এসে পা বাড়ালো ওয়াশ রুমের দিকে । তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করলো মেঘা….
” আমরা দেশে ফিরবো কবে ?
” উমমম,, এখানেই থেকে যাই ?
চোখ সরু করে মেঘা ।
” সত্যিই ?
” একদম । থেকে গেলে মন্দ হয় না ।
” ভালোও হয় না । সারাদিন একলা থাকি আমি । সে খেয়াল রাখেন ? এখানে এসে ভুলে যাচ্ছেন আমায় । কমে যাচ্ছে ভালোবাসা ।
” আচ্ছা ? ভালোবাসা কমে যাচ্ছে বুঝি ?
কতটুকু কমেছে বলে দিও । পুষিয়ে দেবো, শাওয়ার নিয়ে আসি আগে ।
লোকটার টিটকারী স্বর । ওষ্ঠপূটে দাঁত বসানো । মেঘা চোখ কুঁচকে খেইখেই করে উঠলো……
” বেহায়া, নির্লজ্জ, অসভ্য রাইনো মুখো । বেশি বোঝেন আপনি ।
” সভ্য মেয়ে । কম বোঝো তুমি । আসছি ওয়েট, এসে বোঝাচ্ছি ।
,,,,
মাঝে আরো দুটো দিন কেটেছে ।
সে রাতের পর শাফাহ্ আর ইয়াশের সাথে কথা বলে নি সেভাবে ।
নিজের মতো আছে সে । যুবক টুকটাক কিছু প্রশ্ন করলে না তাকিয়ে বাজখাঁই গলায় উত্তর করছে কেবলমাত্র । হসপিটাল থেকে ইয়াশ ফিরলো সন্ধ্যার পর । বেড রুম, লিভিং রুম, কোথাও নেই শাফাহ্ । ইয়াশের অনুপস্থিতির সুযোগে পাশের ঘরটায় ঢুকেছিলো বেশ কবার । গোটা ঘর দেখেছে । তেমন আহামরি কিছু নেই । কেবলই দেয়াল জুড়ে শতশত ছবি আটকে রাখা ।
শাফাহ্ খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখায় নি সেসবে । বিকেলের পর লাউঞ্জে এসে বসেছে । সেখান থেকে নড়েনি আর । এখন সন্ধ্যা । বাড়িতে আসা মাত্রই ইয়াশ আন্দাজ করে লাউঞ্জের দিকে পা বাড়ায় । কাছাকাছি যেতেই রিনরিনে গুনগুন স্বর কানে বাজে । পুলের ধারে বসে পানিতে পা ডুবিয়ে ভাঙা ভাঙা গলায় একলা একা গুনগুন করছে চঞ্চলা রমনী…..
“ তোমার আমার প্রেম, আমি আজও বুঝিনি ।
ঐ চোখের চাওয়াতে প্রেম আজও দেখিনি ।
দূরে তবু দূরে সরে থাকতে পারিনি ।
কাছে এসে কেনো কাছে আসতে পারিনি,,
আমি আজও বুঝিনি,,, আমি আজও বুঝিনি ।
তোমার আমার প্রেম, আমি আজও বুঝিনি ।
গানের সাথে ছলাৎ ছলাৎ করে পা নাড়াচ্ছে পানিতে ।
ইয়াশ ভ্রু গুটায় । মনযোগ দিয়ে তার চিকন কন্ঠের সুর শোনে । ডিপলি বোঝার চেষ্টা করে একেকটা শব্দের অর্থ ।
ক্ষণিকেই তার বুক চিরে দীর্ঘ শ্বাস পড়ে ।
মিনিট কয়েক চুপটি মেরে দাঁড়িয়ে থেকে পা বাড়ায় । গলা খাঁকারি দিয়ে আভাস দেয় নিজের উপস্থিতির । তবে মেয়েটার মাঝে উদ্বেগ দেখা গেলো না । না সে চকিতে ফিরে চাইলো ।
ইয়াশ এবারে ফোঁস করে দম ছাড়ে । হাতে কতকগুলো শপিং ব্যাগ, আরো কিছু একটা । বাড়িতে ফেরার পথে কিছু কেনাকাটা করতে মার্কেটে গেছিলো ।
সে রমনীর পাশে বসে নিজেও পা নামায় পুলের পানিতে । ব্যাগ গুলো রাখে পেছনে । আড়চোখে মেয়েটার হাবভাব পর্যবেক্ষণ করে সেথা হতে একটা প্যাকেট বাড়িয়ে শাফাহ্’র কোলে রাখে নিঃশব্দে ।
এ বেলায় রমনীর কিঞ্চিত পরিবর্তন আসলো । কপালে তিক্ত ভাঁজ ফেলে তড়াক করে চাইলো কোলের পানে । কোলের উপর একটা মোবাইল বক্স চোখে লাগলো । অমনি ধড়ফড়িয়ে উঠলো রমনী । দ্রুত সেটাকে হাতে তুলে উল্টে পাল্টে দেখতে লাগলো । খুশিতে ভরে উঠলো তার চঞ্চলা মুখাবয়ব । অবিশ্বাসে ঝট করে ইয়াশের পানে ফিরলো । সন্দেহ কাটাতে উদগ্রীব হয়ে বললো…..
” মেঘার ভাইয়া,,, এটা ফোন ? আমার জন্য ?
ইয়াশ কেবলই মাথা দোলায় । চিকচিক করে ওঠে মেয়েটা । ওর খুশিকে দশগুণ বাড়িয়ে দিয়ে একটা টকটকে লাল গোলাপের বুকে ওর দিকে বাড়িয়ে দিলো তপ্ত যুবক ।
তা দেখা মাত্রই শাফাহ্ স্তম্ভিত হয়ে যায় । চোখ কপালে ওঠে তার । ফোন রেখে মুখ ফাঁক করে একটানে ছিনিয়ে নেয় ফুলের বুকে । দ্রুত নাক ডোবায় নরম পাপড়িতে । সর্বাঙ্গে কাঁটা দেয় তার । কতদিন পর সে ফুল ছুঁয়ে দেখছে । কম্পন উঠলো নমনীয় শরীরে । জ্বল জ্বল করে উঠলো নয়ন জোড়া । সে চোখ তুলে অস্ফুটে উচ্চারণ করলো…..
” এগুলো ও আমার জন্য ?
” হু । ওয়ান মানথ অ্যানিভার্সারি গিফট । দেরি হয়ে গেলো দিতে দিতে ।
অগত্যা চুপসে এলো মেয়েটার আমুদে মুখাবয়ব । আঁধার নামলো মুখ জুড়ে । পিছিয়ে গেলো সে । ফুলের বুকে,ফোন দুটোই ইয়াশের দিকে ঠেলে দিলো ।
বিপরীতে মুখ ঘুরিয়ে কন্ঠ তুঙ্গে তুলে আওড়ালো….
” চাইনা আমার কিছু !
ইয়াশ মৃদু হাসে তার অভিমান দেখে । গলা তুলে লোভ দেখায়…..
” শপিংয়ে গেছিলাম,,, এতো এতো শপিং করে নিয়ে আসলাম কার জন্য ? একবার দেখে নাও সব ঠিক আছে কি-না ! পছন্দ হয় কি-না দেখো ।
আবার ফিরলো মেয়েটা । নিজেকে ধাতস্থ করতে পারলো না । ভেংচি কেটে পেছনের ব্যাগ গুলোর মধ্য থেকে একটা ব্যাগ টেনে নিলো । ঢং করে মুখ ভোঁতা করে ব্যাগের ভেতর হাত ঢোকালো ।
ভেতরের কাপড় টা বের করা মাত্রই আহম্মক বনলো সে । কয়েকটা টিশার্ট এই ব্যাগে । তাও ইয়াশের সাইজ অনুযায়ী । থ বনে গেলো মেয়েটা । চোখ কচলে আবার তাকালো । দ্বিতীয় ব্যাগটা টেনে দেখলো সেটাতে ট্রাউজার ।
মেয়েটা তব্দা খেয়ে ইয়াশের দিকে তাকায়, তাৎক্ষণিক ভ্রু নাচায় লোকটা ।
সবটা বোধগম্য হওয়া মাত্রই ফোঁস করে ওঠে চঞ্চলা রমনী । ঝেড়ে ফেলে দেয় ব্যাগ গুলো…..
” আপনি একটা বিটকেল । তাইতো বলি, এতো ভালো তো নন আপনি । লোভ দেখাচ্ছেন আমায় ?
” ওমা, শপিং পছন্দ হয়নি ?
” চুপ করুন, কথা বলবেন না আমার সাথে । চলে যান এখান থেকে ।
” এটা আমার বাড়ি । কোথায় যাবো আমি আমার বাড়ি ফেলে ?
” তাহলে আমিই চলে যাচ্ছি । থাকুন আপনি এখানে ।
” তুমিও তো আমার । কোথায় যাবে তুমি আমাকে ফেলে ।
রমনী উদ্যত হতে গিয়েও থেমে গেলো । গাল ফুলিয়ে মুখ বাঁকালো । মনে মনে গজগজ করলো রাগে । ফিরেও চাইলো না যুবকের পানে । ইয়াশ হেলে তার অন্ধকারাচ্ছন্ন মুখাবয়ব দেখে খানিক ভারী গলায় বলে..
” আসলেই শপিং পছন্দ হয়নি ? এভাবে মুখ কালো করে বসে আছো কেনো স্টুপিড ! তাকাও আমার দিকে ।
সহসা ভেসে আসলো প্রত্যুত্তর….
” আমি রাগ করেছি আপনার উপর ।
” আচ্ছা, তাহলে রাগ ভাঙানোর জন্য কি করতে হবে আমায় ?
শাফাহ্ তড়াক করে ইয়াশের দিকে ফেরে ।
” যা করতে বলবো করবেন ?
” করলে যদি রাগ ভাঙে, তাহলে করাই যায় ।
” তাহলে এক কাজ করুন,,, আমার মাথায় কয়টা চুল আছে গুনে দেখান ! যদি গুনতে পারেন, তাহলে রাগ ভেঙে যাবে ।
ইয়াশ তব্দা খেয়ে চোখ বড় বড় করে চাইলো । কি বলে এই মেয়ে ? সে সহসা ঝাড়ি মারলো….
” মার খাবে স্টুপিড । মাথা ঠিক আছে তোমার ?
” একদম ঠিকাছে ! যদি আমার রাগের কদর করেই থাকেন, তাহলে এখন সেই রাগ ভাঙানোর দায়িত্ব আপনার ।
তপ্ত যুবক মাড়ি খিচে নেয় । চোখ সরু করে অগ্নি দৃষ্টি পাত করে । পরক্ষণে কিছু একটা ভেবে শিথিল করে মুখাবয়ব । বাঁকা হেসে ঠোঁট টিপে বলে…
” আচ্ছা কাছে এসো, গুনে দেখি কটা চুল আছে তোমার মাথায় ।
শাফাহ্ যেনো বোকা বনে গেলো যুবকের সহজ ব্যবহারে । হার মানলো না তবুও । কাছে গিয়ে বসলো পিঠ ফিরিয়ে । ইয়াশ ঠোঁট কামড়ে হাসি চাপে, বোকা রমনীর চুলের ভাঁজে হাত ডুবিয়ে দু সেকেন্ডের মাথায় হাত সরিয়ে নেয় । বলে ঝটপট…..
” তোমার মাথায় এক লক্ষ্য সাতচল্লিশ হাজার পাঁচশ সত্তর টা চুল আছে ।
শাফাহ্ যেনো বুদ্ধিহারা হয়ে গেলো ওর কথায় । পিছু ফিরে বিস্ফোরিত চোখে ভ্যাবলার মতো চাইলো ।
” এটা আমার মাথার চুলের হিসেব, নাকি বাংলাদেশের ক্ষেত্রফল ?
” তোমার মাথার চুলের হিসেব । একটা একটা করে গুনেছি , বিশ্বাস না হলে নিজে গুনে দেখো ।
হতবুদ্ধি হয়ে গেলো মেয়েটা । বিস্ময়ে স্তব্ধ হলো দৃষ্টি । ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল বোকার মতো । ওর মুখের এমন কিংকর্তব্য বিমূঢ় আকৃতি দেখে ভীষণ হাসি পায় ইয়াশের । কোনো রকমে হাসি আটকায় সে ।
” এবার রাগ কমেছে ? নাকি আরো কিছু করতে হবে ?
যুবকের চালাকি ধরা মাত্রই ফোঁস করে উঠলো রমনী । দুহাতে মৃদু ধাক্কা দিলো যুবকের বুকে । অকস্মাৎ অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে গেলো চোখ সম্মুখে । তার আলতো ধাক্কার টাল সামলাতে না পেরে পেছন দিকে পেছানো মাত্রই অসাবধানতাবশত হুট করেই ঝপাত করে পুলের পানিতে হুবড়ি খেয়ে পড়লো তপ্ত যুবক ।
কনকনে পানি ছিটকে এলো রমনীর শরীরেও । আকস্মিক ঘটনায় জড়বুদ্ধ হলো শাফাহ্ । তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ালো । সে তো আলগোছে ধাক্কা দিয়েছে, এই লোক এতো দূর্বল জানা ছিলো না । এটুকু ধাক্কার টাল ও সামলাতে পারে নি । মেয়েটা ছটফট করে উঠলো । তখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে যুবক । ঢেউ খেলে ধারে কম্পন উঠলো । সে ভড়কে গিয়ে চিকন গলায় ডাকলো…..
” মেঘার ভাইয়া,,, আপনি ঠিক আছেন ? আমি স্যরি, আমি ইচ্ছে করে ধাক্কা দেইনি । আপনি পড়ে যাবেন ভাবিনি ।
পুলের ঢেউ ওঠা কম্পিত পানি ধীরে ধীরে স্থির হয় । চাতক হয়ে চেয়ে রয় রমনী । যুবকের হোদিশ নেই । চকচকে পানির নিচে তার দেহ দেখা যাচ্ছে । তবে স্থবির সে দেহ । নড়ছে না । উঠছেও না উপরে । মেয়েটা ছ্যাত করে ওঠে । হাঁটু গেড়ে দ্রুত বসে । পানির নিচে তাকিয়ে ডাকে ভয়ে ভয়ে…..
” কি হলো, উঠুন ! আমি সত্যিই ইচ্ছে করে আপনাকে পানিতে ফেলিনি । ভুল করে হয়ে গেছে । উঠে আসুন প্লিজ ।
ওপাশে নীবর । সাঁড়া শব্দ নেই । মেয়েটা আতঙ্কে চুপসে যায় । শিউরে ওঠে লোমকূপ । মুখ শুকিয়ে শুষ্ক ঢোক গিলে আবার ডাকে….
” মেঘার ভাইয়া,,, মজা করবেন না প্লিজ । আমার ভয় করছে । এইই,, কি হলো আপনার ? দেখুন, আমি রেগে নেই । ও তো মজা করছিলাম আমি । আপনি এমন বাজে ইয়ার্কি করবেন না প্লিজ । উঠে আসুন বলছি ।
তবুও সাড়া নেই । দেহ উপরে ভাসলো খানিক ।
চঞ্চলা রমনী কুল পায় না । ভয়ে শুকিয়ে আসে বক্ষস্থল । কেঁদে ফেলার দশা । সে আর কিছু ভাবলো না । পা নামিয়ে নিজেও পুলে নামার প্রস্তুতি নিলো । সাড়ে ছয় ফুটের গভীরতা পুলে । পানি টইটুম্বুর । শাফাহ্ উচ্চতায় পাঁচ ফুট হবে । সাঁতার ও জানা নেই । পুলে নামা মাত্রই অতল জলে হকচকিয়ে গেলো । সর্বাঙ্গ তলিয়ে গেলো নিচের দিকে । যেনো পুলটা গ্রাস করে নিলো তাকে । সে নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না । ইয়াশ কে টেনে ধরার আগেই চুবলো পানিতে । হাত পা দাপিয়ে ছটফট করলো ।
উপর নিচ হয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে একনাগাড়ে । শরীর অবশ হয়ে আসছে কনকনে পানিতে । ছোড়াছুড়ি করার মাঝেই মাথা উঁচিয়ে জবানে কথা ফোঁটায়…..
” মেঘার ভা…..
পুরো বাক্য শেষ হয় না । ফের তলিয়ে যায় নিচে । ঠিক দম বন্ধ হয়ে আসার আগেই একটা শক্ত পোক্ত হাত জড়িয়ে নিলো রমনীর লতানো কোমর । তাকে পুরোপুরি পেঁচিয়ে নিয়ে ভেসে উঠলো পানির উপর ।
মেয়েটা হাঁপিয়ে গেছে । হাঁসফাঁস করছে তখন । পানির উপরে উঠতেই বুক ভরে দম টানলো । চোখ মেলে সামনে তাকাতেই ঝাপসা চোখের সামনে তপ্ত যুবকের মিটিমিটি মুখখানা দেখে ঠোঁট ভেঙে ফুঁপিয়ে উঠলো রমনী । তারা উভয়েই সুরক্ষিত, এটা বোধগম্য হতেই কান্না বাড়লো ।
” এইইই টুকটুকি,, কি হলো ?
মেয়েটাকে সে বুকের কাছে চেপে ধরেছে । ভাসছে দুজনায় । রমনী ফিকড়ে ওঠে । ইয়াশের মশকরা বুঝে এলোপাথাড়ি বেশ কয়েক আঘাত বসায় তার শক্ত বাহুতে । অতঃপর সহজ ভাবে গলা জড়িয়ে বলে ধরা গলায়…..
” আপনি খুব খারাপ । এসব নিয়ে মজা করে কেউ ? যদি আপনার কিছু একটা হয়ে যেতো ?
” আমার চিন্তা করছো ? তুমি পানিতে নামতে গেলে কেনো ! যদি নিজের কিছু একটা হয়ে যেতো ?
” আপনার জন্যই তো নেমেছি ! রাক্ষুস কোথাকার । ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন আমায় ।
ইয়াশ মিটিমিটি হাসে । শুধোয়…..
” ভয় ও পাও ? আমাকে হারানোর , নাকি ডুবে যাওয়ার ?
” আপনাকে হারানোর ভয় পেতে বয়েই গেছে আমার । আমি ভয় পেয়েছি, কারন আমি সাঁতার জানি না । এখন উপরে তুলুন আমায় !
” পারবো না । এখানেই ছেড়ে দিই ? যখন আমাকে হারানোর ভয় নেই মনে, তখন ডুবে যাও তুমি । যে মনে আমাকে হারানোর ভয় নেই, সেই মন আর মনের অধিকারিনী পানিতে ডুবে যাক ।
আঁতকে ওঠে শাফাহ্…..
” এই না প্লিজ,, আমি সত্যিই সাঁতার জানি না ।
” ডোন্ট ওয়ারি, আমি তো জানি । আছি আমি, ভাসিয়ে নেবো তোমায় । তার আগে একবার ডোবাবো শুধু ! ডুববো দুজনায় ।
” খবরদার না । আপনি জানেন, আপনি একটা রাক্ষস ! ছাড়ুন আমায় !
কাঁদো কাঁদো হয়ে ছোড়াছুড়ি করলো শাফাহ্ । ইয়াশ ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে….
” সত্যিই ছাড়বো ? ছাড়লেই ডুবে যাবে ।
লোকটার ক্রুর বাক্যে রমনী আঁতকে ওঠে । দ্রুত দৃঢ় করে হাতের বাঁধন । কান্না ভুলে তপ্ত যুবকের গ্রীবাদেশ আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে শঙ্কিত হয়ে আওড়ায়…..
” এইইই না ,, ছাড়বেন না প্লিজ, ডুবে যাবো আমি !
যুবক দেখলো তার ভীত ভেজা মুখাবয়ব । ওষ্ঠপূট প্রসারিত করে বাঁকা হাসলো সে । ঠোঁট নামিয়ে ফিসফিস করলো…..
” ডুবে যাওয়ার এতো ভয় ? তাহলে তো তোমাকে ডোবাতে হয় ।
মেয়েটা আঁতকে ওঠে পুনরায় । একেই হাবুডুবুতে পানি খেয়েছে খানিক আগে । হাঁসফাঁস লাগছে এখনো । আবার ডুবলে নির্ঘাত দম কুলোবে না । সে বাঁচার তাগিদে লোকটার ভেজা বুকে সেপ্টে লুকালো । খুব শক্ত করলো হাতের বাঁধন ।
” প্লিজ মেঘার ভাইয়া, এমনটা করবেন না । দম বন্ধ হয়ে যাবে আমার ।
রমনীর এহেন শক্ত আলিঙ্গনে যুবক শুষ্ক ঢোক গেলে । বাড়ে তার হৃদস্পন্দন । দুটো ভেজা শরীর লেপ্টে রয়েছে একে অপরের সাথে । ভাসছে জলে । ইয়াশের কেমন অস্বাভাবিক লাগে হঠাৎ করে । সে চোখ খিচে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে । নিজের হাতের বাঁধন খানিক আলগা করে হিসহিসিয়ে বলে..
” একটা শর্তে এমনটা করবো না !
” ক…..কি ?
শাফাহ্ কে আলগা করলো সে । মুখোমুখি হয়ে চোখে চোখ রাখলো । দৃষ্টিতে ঘোর তার । কপালে ভাঁজ । সন্ধ্যার নিয়ন আলোয় আলোকিত লাউঞ্জ । উক্ত আলোয় তার সূচালো নজর আটকালো রমনীর ভেজা ভেজা ওষ্ঠযুগলে । গোলাপ বর্ন দৃষ্টিকাড়ক অধর যুগল কাঁপছে তিরতিরিয়ে । ঠান্ডায় শিউরে গেছে রমনীর অনুচ্চ ছিপছিপে তনু ।
ইয়াশ পরপর শুষ্ক ঢোক গেলে অধরের পানে চেয়ে আওড়ায়….
” চোখ বন্ধ করো !
” কেনো ?
” দম বন্ধ করবো তোমার !
” মানে ?
” ডোবাবো না, ডুববো খানিক ।
” কি বলছেন, উপরে তুলুন আমায় ! ঠান্ডা লাগছে । প্লিজ!!
নাছোড়বান্দা যুবক হার মানলো না । দৃষ্টি গভীর করে চাপা স্বরে বলল…..
” উঁহু, ক্লোজ ইউর আইস !
কথাটুকু আওড়িয়ে আর অপেক্ষায় থাকলো না ।
নিজে থেকে কথা মেনে চোখ বোজার সুযোগ দিলো না মেয়েটাকে । খেই হারিয়ে ক্ষণিকেই অভাবনীয় কান্ড ঘটালো । ঠোঁট নামিয়ে আঁকড়ে ধরলো রমনীর ভেজা তুলতুলে অধর জোড়া ।
চট করে বিদ্যুৎ বেগে ঝটকা খেলো শাফাহ্ । স্তম্ভিত হয়ে গেলো পুরোপুরি । যুবকের গলা জড়িয়ে ধরা হাত দুখানি ঢিলে হয়ে খসে পড়লো ।
ওদিকে তপ্ত যুবক চোখ বুজে নিয়েছে সাচ্ছন্দে । এদিকে মেয়েটা হাঁসফাঁস করে উঠলো । শক্তি খাটিয়ে দুহাতে ঠেলতে চাইলো তাকে । তবে পারলো না । খাটলো না তার ক্ষীণ জোর । বরং তার বিরোধের বিরুদ্ধে যুবকের কতৃত্ব বাড়লো । সে আরো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিলো রমনীকে । ডুবতে চাইলো মিঠে অধরের অতলে ।
শাফাহ্’র অত্যাধিক ছটফটানি ব্যাঘাত ঘটালো তার কাজে । সে একটু থেমে বিরক্তি নিয়ে বললো…..
” কাম অন,,,, ডোন্ট মুভ । পানিতে ফেলে দেবো নয়তো ।
( বেদ্দপ, এসব পড়তে নেই । ষিহ্
)
একটু ছাড় পেতেই হাঁসফাঁস করে উঠলো শাফাহ্ ।
লম্বা লম্বা শ্বাস টানলো বার দুয়েক । ইয়াশ ঘোরের বশে ফের অগ্রসর হতেই দুহাতে নিজের মুখ চেপে ধরলো শাফাহ্ ।
,,,,,
মেহেরের মিসক্যারেজ হয়েছে গত রাতে । সেই থেকে হসপিটালে ভর্তি সে । নাওয়া খাওয়া ছেড়ে যেমন শরীর টা দূর্বল করেছিলো, সেই দূর্বল শরীরটা আরেকটা প্রাণকে বহনের জন্য উপযুক্ত ছিলো না একেবারেই । হঠাৎ করেই অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে গেছে । যা কারোর ধারনাতেও ছিলো না । যে নতুন সদস্যের আগমনের বার্তা পেয়ে মেতে উঠেছিল কাবির ম্যানশন, সে-ই নতুন সদস্য কে আর দেখা হলো না কারোরই ।
মেহেরের শরীরে হিমোগ্লোবিন কম ছিলো । তার উপর ব্লাড লস হয়েছে অনেক । হসপিটালে তিন দিন রাখা হবে ওকে । আলাদা করে ব্লাড দেওয়া হচ্ছে । সবে এক দিন কেটেছে । আজ দ্বিতীয় রাত ।
মেয়েটা মানতে পারেনি এসব । নিজেকে দুষে যাচ্ছে কাল থেকেই । একেই দূর্বল , তার উপর আরো বেশি ঝিমিয়ে পড়েছে । শরীর ফ্যাকাশে ।
কাঁদতে কাঁদতে ফুরিয়েছে চোখের জল ও ।
কাল রাতে শুভ্রর পাশাপাশি মিনারা বেগম ছিলেন হসপিটালে । আজ শাহিনা কাবির আছেন ছেলে বউমার সাথে । কেবিনে দুটো বেড, লম্বাটে সোফা একটা ।
রাত্রি বাজে বারোটা । দ্বিতীয় বেডে একটু শরীরটা এলিয়ে দিতে না দিতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন শাহিনা কাবির ।
শুভ্র আধশোয়া হয়ে আছে সোফায় । ঘুমোয় নি । চোখের উপর আড়াআড়িভাবে হাত রেখে চোখ বুজে রেখেছে কেবলই ।
মেহের ঘুমোচ্ছিলো । আকস্মিকই তার ক্ষীণ গলার ডাক শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠলো যুবক…..
” মেহের !
ছুটে গেলো । মেয়েটা পিটপিট করে চোখ খুলেছে । শুভ্র ধড়ফড়িয়ে ওর শিয়রে বসে । রমনীর বাম হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে বিচলিত হয়ে বলে….
” কি হয়েছে মেহের ! ঘুম ভেঙ্গে গেছে ? ক্ষিদে পেয়েছে ? কিছু খাবি ?
মেয়েটা নিগুড় লোচনে চেয়ে দেখে যুবকের ছটফটানি । অতঃপর আলতো মাথা নাড়ায় । শুভ্রর শুকনো মলিন মুখখানা দেখে বুক ফেটে কান্না আসে তার । ছেলেটা কতই না খুশি ছিলো । বিন্দুমাত্র যত্নের অভাব রাখে নি গত কদিনে । এক পা বাড়িয়েও চলতে দেয়নি মেহের কে ।
অথচ কি থেকে কি হয়ে গেলো । কাল থেকে শুভ্র কেমন মিইয়ে গেছে । লক্ষ্য করেছে মেহের । সবসময় এর ওর আনাগোনায় শুভ্রর সাথে কথাও বলা হয় নি একান্তে ।
এখন সুযোগ পেতেই মেয়েটা ফুঁপিয়ে উঠলো । পানি ঝড়লো বাঁ চোখের কার্নিশ বেয়ে !
” আ’ম সরি ।
” কেনো ?
” আমার দোষ । আমার জন্যই আমাদের বেবি নষ্ট হয়ে গেছে ।
” মেহের, এতে তোর দোষ কোথায় ?
” তুমি খুব কষ্ট পেয়েছো তাই না ? রেগে আছো আমার উপর । কিন্তু বুঝতে দিচ্ছো না !
শুভ্র আলগোছে ওর চোখের কার্নিশ মুছিয়ে দিলো । ভারাক্রান্ত মুখে হাসি টানলো বহু কষ্টে…
” উঁহুম । রাগ,, আর তোর উপর ? কোন সাহসে আমি তোর উপর রাগ করবো ? হ্যাঁ , তবে কষ্ট পেয়েছি একটু । কিন্তু ডোন্ট ওয়ারি । তুই তো ঠিক আছিস । তুই হলেই চলবে আমার ।
” শান্তনা দিচ্ছো ?
” না । তুই এতো ভাবছিস কেনো হ্যাঁ ? নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ কর । এটা হওয়ারই ছিলো । এমনিতেই তোর হেলথ কন্ডিশন ভালো নয় । আমাদের আগে বোঝা উচিত ছিলো এটা । সো হোয়াট,,, এবারে আর ভুল হবে না । যা হওয়ার হয়ে গেছে । আবার আসবে আমাদের বেবি ।
মেহের ছলছল চোখে তাকিয়ে রয় । কার্নিশ ভেজে পূণরায় । শুভ্র একই ভাবে আবারো ওর চোখ মুছিয়ে দেয় । মাথায় হাত রেখে স্মিথ হেসে বলে……
” ঘুমা !
” আমার এখানে থাকতে ভালো লাগছে না মোটেও । বাড়ি যাবো কবে আমরা ?
” কাল বা পরশু !
মেহের উঠে বসার চেষ্টা করলো । তড়িতে বাঁধা দিলো শুভ্র….
” উঠছিস কেনো ?
” শুয়ে থাকতে ভালো লাগছে না । আর কত ঘুমাবো ?
পিঠ পিছে বালিশ দিয়ে ওকে আধশোয়া করে বসালো শুভ্র । আবার শুধালো…..
” খিদে পেয়েছে ? ফল কেটে দিই ?
” উঁহু । তুমি ঘুমাও এখন । অনেক রাত হয়ে গেছে । নিজের অবস্থা দেখেছো ?
” তুই একলা জেগে থাকবি, আর আমি ঘুমাবো আরাম করে ? তার চেয়ে বরং…..
শুভ্রর মুখ থেকে পুরো বাক্য খসলো না । তার আগেই দরজা খোলার শব্দ হলো । এতো রাতে ডক্টর রাউন্ডে আসবেন না আর । আসবেন একেবারে সকালে । দরজা লক করা হয় নি ভেতর থেকে । এই অসময়ে কারোর উপস্থিতির আভাস পেয়ে কিঞ্চিত বিরক্ত হয়ে চকিতে তাকালো শুভ্র ।
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সটান যুবকের মুখশ্রী চোখে লাগতেই ধড়ফড় করে উঠলো বক্ষস্থল । আঁখি যুগল বৃহৎ হলো নিমিষেই ।
পাশ থেকে মেহের আওড়ালো অস্ফুটে….
” ভাইয়া !
পরক্ষনেই শুভ্র…..
” সায়ান !
দরজা চাপিয়ে ভেতরে ঢোকে যুবক । ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিত হাসি ।
সে সোজা এগিয়ে এসে বেডের পাশে দাঁড়ায় । তাকায় বোনের দিকে । পাশে বসে মৃদু স্বরে বলে…..
” এখন কেমন আছিস বনু ?
ওর কথায় অগত্যাই ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো মেহের আর শুভ্র । রমনীর চোখ ছাপিয়ে গাল ভিজতে দেরি হলো না । চোখে অবিশ্বাস । শুভ্র উঠে দাঁড়ায় । হাত বাড়িয়ে সায়ানের বাহু টেনে দাঁড় করায় ওকে । ভরা চোখে ছেলেটাকে আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে । হুবড়ি খেয়ে টেনে নেয় বুকে ।
” সায়ান, এটা তুই ? তুই কোথায় ছিলি এতো দিন ? কোথায় না খুঁজেছি তোকে ! এভাবে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছিলি কোথায় ? তুই পাগল হ্যাঁ ? আমাদের কারোর কথা একটা বারও মাথায় আসলো না তোর ?
বন্ধুর এলোমেলো অবস্থা দেখে সায়ান ওর পিঠে হাত রেখে মুচকি হাসে । অবশ্য বেলায় অবেলায় মুচকি হাসিটা লেগেই থাকে তার ঠোঁটের কোণে । ঠান্ডা স্বরে বলে সে…..
” যার কথা মাথায় থাকে, তার কথা আলাদা করে মাথায় আনতে হবে কেনো ? ভুলিনি তোদের । নিরুদ্দেশ হইনি । হলে ফিরে আসতাম না । লুকিয়ে ছিলাম, তাই খুঁজে পাসনি ।
সহজ স্বীকারোক্তি তার । শুভ্র ওকে ছাড়লো । উঁচু জবানে শাহিনা কাবিরের ঘুম হালকা হয়েছে মুহুর্তেই । উঠে বসতেই সায়ান কে দেখে আঁতকে উঠলেন তিনি ।
সায়ান মেহেরের দিকে ফেরে ।
বোনকে কাঁদতে দেখে এগিয়ে যায় । পাশে বসতেই ধেয়ে এলো মেহের । আছড়ে পড়লো ভাইয়ার বুকে । কেঁদে উঠলো শব্দ করে । অভিযোগ উগড়ে দিলো বিরামহীন…..
” ভাইয়া,,, তুমি খুব নিষ্ঠুর ! আমাদের চিন্তা একটুও করো না তুমি । কোথায় ছিলে এতো দিন ? একদিন, দুদিন নয়, মাস পেরিয়েছে । একটা বারও ভাবলে না আমাদের কথা ?আমরা দোষ করেছিলাম বুঝি তোমার কাছে ? করিনি তো, তাহলে আমাদের এভাবে শাস্তি দিলে কেনো ? আম্মু আব্বু কারোর কথা ভাবলে না একবারও ? আম্মুর কি অবস্থা হয়েছিল ভেবে দেখেছো ? একটা বারও নিজের খবর জানানোর প্রয়োজন বোধ করলে না ? কোথায় ছিলে এতো দিন ?
বোনের আহাজারির পরিপ্রেক্ষিতে সায়ানের মিঠে শান্তনা…..
” মেহের, তুই না অসুস্থ । এভাবে কাঁদলে ক্ষতি হবে বনু । তোর অসুস্থতার কথা শুনে ছুটে আসলাম । আর সেই তুই কিনা নালিশ করছিস আমার নামে ? কে বললো আমি তোদের চিন্তা করিনি, সবার চিন্তা মাথায় ছিলো আমার । আর ছিলো বলেই আস্ত আছি এখনো ।
এই দেখ, আ’ম অল ওকে । তোর ভাইয়া একদম ঠিক আছে । ফিরে এসেছে সে ।
মেহের হেঁচকি তুলে ফিকড়ে ওঠে । সায়ান হাত বুলিয়ে দেয় ওর মাথায় । দম ফেলে বুক চিরে ।
শুভ্র সূচালো দৃষ্টিতে পরখ করে সায়ান কে । পড়নে টানটান পোশাক । বেশ পরিপাটি । ওর এমন প্রসাধনী অদ্ভুত লাগলো শুভ্রর কাছে । দৃঢ় কন্ঠে জানতে চাইলো….
” বললি না তো, কোথায় ছিলি এতদিন ? কোথা থেকে আসলি ?
” ছিলাম কোথাও একটা !
” কোথায় ?
ঘাড় ঘোরায় সায়ান ।
” বুঝে নে ।
শুভ্রর মুখাবয়বে বদল আসে অবিলম্বে ।
রাত টুকু পেরিয়ে সকাল হতেই হসপিটালে ভিড় জমে সবার । সায়ান রাতে হসপিটালেই ছিলো ।
মিনারা বেগম ছুটে এসেছেন ছেলের কথা শুনে । ভোর ভোর এক দফা কান্নাকাটি হয়ে গেছে । এখন বাজে সকাল আটটা । মেহেরের ব্লাড প্রয়োজন ছিলো । ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নেওয়া হয় নি আজ । সায়ান নিজে বোনকে রক্ত দিয়েছে । কাল সকালে মেহের কে ছাড়া হবে হসপিটাল থেকে ।
কাবির পরিবার থেকেও সবাই এসেছেন সকাল সকাল । কেবিনে ভিড় জমেছে । মিনারা বেগম এক মুহুর্তের জন্য ছেলের হাত ছাড়ে নি আর । ছেলেকে নিয়ে একেবারে বাড়ি ফিরবেন তিনি । সায়ান টুকটাক প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও গায়ে মাখিয়ে উত্তর করছে না । এখনো অবধি কারোর চোখে চোখ রেখে কথাও বলে নি ।
কথা বলাবলির মাঝে শাহিনা কাবিরের ফোন বেজে উঠলো শব্দ তুলে । তিনি স্ক্রিনে না তাকিয়ে তড়িঘড়ি করে ফোন রিসিভ করে ঠেকালেন কানে…..
তাৎক্ষণিক ওপাশ থেকে ভেসে আসলো চিকন রিনরিনে ডাক….
” আম্মু !
ফোনের লাউড ছিলো । কেবিনে উপস্থিত সবার কানেই পৌঁছেছে সে ডাক । চকিতে চাইলেন সকলে ।
শাফাহ্ কে ফোন কিনে দেওয়া হয়েছে থেকেই ক্ষণে ক্ষণে ফোন করে ঐ মেয়ে । মেহেরর কথা সেও জেনেছে । শুভ্রর ফোনে হাজার বার ফোন করলেও শুভ্র রিসিভ করে না । তাই এখন ডিরেক্ট শাহিনা কাবিরের ফোনে কল লাগায় । আজও তাই ।
সবাই হকচকিয়ে শাহিনা কাবিরের দিকে তাকিয়েছেন । কেবল শুভ্র ব্যাতীত । সে উল্টো ঝট করে দৃষ্টিপাত করলো সায়ানের দিকে । ছেলেটা চাতকের ন্যায় সবার মতোই শাহিনা কাবিরের দিকে চোখ তুলেছে ।
ভদ্রমহিলা সবার দৃষ্টিতে থতমত খেলেন । সায়ানের উপস্থিতিকে গ্রাহ্য করে দ্রুত লাউড কমাতে গেলে বাঁধা দিলো সায়ান….
” আন্টি,, লাউড স্পিকারেই থাক । শুনি একটু ওর কন্ঠ । কতদিন শুনি না ।
আহত হলো সবাই । ওপাশ থেকে শাফাহ্ ডেকে যায়…
” হ্যালো আম্মু । শুনতে পাচ্ছো না ? মেহের আপু কেমন আছে আম্মু ? ভাইয়া কে আজও ফোন করলাম, ধরলো না । তুমি বলো, কেমন আছে আপু ?
” এখন ভালো আছে ।
” আপু খেয়েছে ? শোনো, আপুকে বেশি বেশি করে খাওয়াবে । যত্ন নেবে কেমন ? আমি একটু ভিডিও কল দিই ?
” এখন না । কি করছিস তুই ?
প্রশ্ন শুনে শাফাহ্ মুখ টিপে ফিক করে হাসলো । সে এখন কিচেন কেবিনেটের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আছে । পাশেই ইয়াশ । রান্না বান্নার প্রস্তুতি চলছে । অনেক হেঁয়ালি পনার পর আজ রান্না শিখবে রমনী ।
সে উত্তর করলো হাসি ভরা কন্ঠে…..
” আমি ? আমি তো কিচেনে বসে আছি । জানো আম্মু,, মেঘার ভাইয়া রান্না করবে এখন । হি হি….
মেয়েটা হেসে উঠলো । পাশ থেকে ইয়াশ ধমকায়….
” শাট আপ স্টুপিড,, তুমি রান্না করবে আজ ।
” এহহ্,পারবো না আমি ।
” তোমার ঘাড় পারবে । শিখিয়ে দিচ্ছি তো । নেমে এসো, পরে কথা বলবে ।
দুজনের কথোপকথন শুনলো সবাই ।
শাফাহ্ ফোনে বললো….
” আচ্ছা আম্মু, আমি পরে আবার কল দেবো কেমন ? এখন রাখি ।
সে ফোন কেটেছে । কান থেকে ফোন নামিয়ে সায়ানের দিকে তাকিয়েছেন শাহিনা কাবির । সাথে সবাই । ছেলেটা স্বাভাবিক । হেসে শুধালো…..
” ও সুখে আছে, তাই না আন্টি ?
উত্তর নেই কারোর মুখে । সবার নীরবতায় শব্দ করে হাসে সায়ান । শুভ্র মাড়ি খিচে বলে কিয়ৎ কাল বাদ…
” সেটা তোর থেকে ভালো আর কে জানে ! দেখে এসেছিস তো ? বাস্তবতায় ফিরে আয় এখন । তোর মতো একটা ছেলের কাছে একটা সামান্য মেয়ের জন্য এতোটা পাগলামো আশা করা যায় না ?
তাৎক্ষণিক শান্ত ছেলেটা অগ্নি দৃষ্টিপাত করলো শুভ্রর দিকে । উঠে দাঁড়িয়ে আকস্মিকই চোয়াল খিচে ক্ষুব্ধ হলো…..
” শাট আপ শুভ্র । রাগাবি না আমায় । ও তোদের কাছে সামান্য মেয়ে হতে পারে । তবে আমার কাছে নয় । আমার কাছে ও অসামান্য একমাত্র রমনী । যাকে আমিইই ভালোবেসেছি । খবরদার সামান্য বলে ছোট করবি না ওকে । আর ভুলে যাস না, যাকে সামান্য বললি, সে তোরই ছোট বোন ।
একটু থেমে রাগ দমিয়ে গলা নামিয়ে বললো…..
” আম্মু বাড়ি চলো !
শেষ বাক্য উচ্চারণ করে গটগটিয়ে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে ।
প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শব্দ । অসুস্থতা নিয়ে লিখতে গিয়ে হাঁপিয়ে গেছি । দুটো পর্ব লিখে শেষ করতে পারলাম না । এটাই অনেক বড় । পড়ে ফেলুন । রেসপন্স পূর্ণ করবেন ঝটপট । 
#চলবে……….
Share On:
TAGS: আসবো ফিরে আবারো, সুরভী আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭০
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭১+৭১
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৭৭
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩৯
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৮৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪৪