Golpo romantic golpo আসবো ফিরে আবারো

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১০( প্রথমাংশ+শেষাংশ)


#আসবো_ফিরে_আবারো 

#পর্ব_১০ [ প্রথমাংশ ]

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ ) 

সকালে ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসেছে শুভ্র আর আহিয়ান । মেঘা নিচে নেমেই হাস্যোজ্জ্বল মুখে ওদের সাথে বসতে বসতে হাসি মুখে দুজনের উদ্দেশ্যেই বললো….

” গুড মর্নিং, ভাইয়া আর জিজু । 

আহিয়ান মাথা তুলে মুচকি হাসলো । উত্তরে বললো….

” গুড মর্নিং মেঘা । 

প্লেট উল্টে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ারে খেতে বসলো মেঘা । বোল থেকে একটা পরোটা আর কিছুটা সবজি তুলে নিয়ে ডাকলো….

” মনি , আমার অমলেট দিয়ে যাও । 

শুভ্র চোখ তুলে তাকালো । খাওয়ার মাঝে প্রশ্ন করলো…

” টুকটুকি উঠেছে ? 

” না ভাইয়া , ও তো ঘুমোচ্ছে । আজ আর ডাকিনি । পায়ের যা অবস্থা । ভার্সিটিতে তো যেতে পারবে না । ডেকে কি করবো ? ঘুমাক ও ! 

খেতে শুরু করলো মেঘা । আদ্র নিচে নামে নি এখনো ‌‌। ঘর হতে বেরোতেই রৌদ্রের মুখোমুখি হয়েছে ও । রৌদ্র ও উঠে পড়েছে ঘুম থেকে । নিচে নামবে ও নিজেও । দুই ভাইয়ের মধ্যকার নিরর্থক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ কারোর সাথে কথা বললো না । চোখে চোখ মিলতেই রৌদ্র চোখ ফিরিয়ে নিলো আগে । আদ্র এই কদিনে যা কথা বলার চেষ্টা করেছে , রৌদ্রের প্রতিক্রিয়া না পেয়ে সে নিজেও হাল ছেড়ে দিয়েছে । রৌদ্র নির্বিকারে চোখ ফিরিয়ে নিতেই তপ্ত শ্বাস ফেললো আদ্র । শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে নিচের দিকে পা বাড়ালো । সিঁড়ির দুদিকে দুই ভাই আগ পিছ না করে একসাথে নামছে দৃঢ় পায়ে । রৌদ্র প্যান্টের পকেটে হাত পুরে । আর আদ্র শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে । দুজনের মুখশ্রীর ভঙ্গিমা নিরেট , দূর্বোধ্য । আদ্র কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, রৌদ্রের কপালে বিরক্তি সূচক ভাঁজ । 

নিচে নামতে নামতে টেবিলে ওদের তিন জনকে দেখে মুচকি হাসলো আদ্র । সিঁড়ি পেরিয়ে প্রফুল্ল স্বরে বলল….

” গুড মর্নিং,গাইজ । 

চকিতে হাসি সমেত ফিরলো আহিয়ান , শুভ্র আর মেঘা । রৌদ্র কে না দেখেই প্রত্যুত্তরে এক গাল হেসে খেতে খেতে উত্তর করলো মেঘা….

” গুড মর্নিং ভাইয়া । 

এতেই চোয়াল খিচে আসলো রৌদ্রের । বিরক্তির ভাঁজ রুপান্তরিত হলো ক্রোধের ভাঁজে । হাত মুঠো হলো তৎক্ষণাৎ । কাল ও এই মেয়েটাকে গুড মর্নিং বলেছিলো ,‌ প্রত্যুত্তরে এই মেয়ের থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পায় নি । আর আজ ? আজ আদ্রের সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছায় হাসি সমেত উত্তর করলো এই মেয়ে ? 

ক্রোধে জ্বলে রৌদ্র । দৃষ্টি নামিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে । শ্বাস টেনে ফের তাকায় । বরাবর মেঘার পাশের চেয়ার টা আদ্রের জন্য বরাদ্দ । বসার জন্য নিজের চেয়ারটা টেনে বের করতেই পিছন থেকে গজগজ করে এগিয়ে এসে ওর বের করা চেয়ারটাতে ঠাস করে বসে পড়লো রৌদ্র । আকস্মিক ঘটনায় আদ্র তব্দা খেয়ে গেলো । চেয়ারের পিঠে এখনো ওর হাত । 

নিজের পাশের চেয়ারে আদ্রের জায়গায় রৌদ্র কে দেখে কয়েক পলক খাওয়া থামিয়ে মূ্র্ত বনে চেয়ে রইলো মেঘা । পলক ফেলে দৃষ্টি সরালো । ফের মনযোগ দিলো খাওয়ায় । আদ্র বেশ অনেকটা অবাক হয়েছে । সাথে সাথে শুভ্র আর আহিয়ান । খাওয়া থামিয়ে হা করে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে দুই জোড়া দৃষ্টি । আদ্রের দৃষ্টি সমেত তিন জোড়া । আহিয়ান গলা ঝেড়ে খুক খুক কেশে উঠলো । তিন জনে একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে ভ্রু নাচালো । আদ্র ঘাড় উঁচিয়ে শ্বাস ফেললো ফোঁস করে । 

বেশি কিছু ভাবলো না । অন্যপাশে মেঘার সামন বরাবর আরেকটা চেয়ার টেনে বসলো ও ।

এতক্ষণে রৌদ্র কারোর দিকে তাকায় নি । আদ্র পরোটা, সবজি, সেদ্ধ ডিম , সবটা নিজেই নিজের প্লেটে তুলে চোখ নামিয়ে খেতে আড়ম্ভ করেছে এর মধ্যেই । 

বাকি আছে রৌদ্র । নিজের হাতে এক গ্লাস পানি ঢেলে খায় নি কখনো । সে কি একা একা খাবার বেড়ে খাবে নাকি ? 

বসে থেকেই হুংকার ছাড়লো রৌদ্র..

” মম , খেতে দাও । 

কিচেন থেকে তড়িঘড়ি করে বেরোলেন রুবিনা কাবির । 

ছেলের প্লেটে সবটা বেড়ে দিলেন । শাহিনা কাবির বেরোলেন আর এক মুহূর্ত বাদ । মেঘার জন্য অমলেট করে নিয়ে আসলেন তিনি । মেঘার প্লেটের এক পাশে সেটা রেখে আবার কিচেনের দিকে এগোলেন । খাবার চিবুতে চিবুতে বললো মেঘা….

” থ্যাঙ্ক ইউ মনি । 

রৌদ্র এ বেলায় আড়চোখে তাকালো মেঘার দিকে । পর মূহুর্তে ওর প্লেটের দিকে । ডিম ওর পছন্দ নয় । একেবারেই অপছন্দ । এ বাড়িতে সকালের নাস্তায় সবার পাতে সেদ্ধ ডিম পড়ে । তবে মেঘার ক্ষেত্রে আলাদা দেখে কপাল কুঁচকালো রৌদ্র । এই মেয়ে সেদ্ধ ডিম পছন্দ করে না । এটা রৌদ্রের অজানা । 

মেঘার পাতে অমলেট দেখে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল রৌদ্র । পরোটা দিয়ে একটু খানি ডিম কেটে খেয়েছে মেঘা । বাকিটা আধো করে রেখে দিয়েছে । এমনি এমনি খেতেই ভালো লাগে বেশি । 

রৌদ্র কিছু একটা ভাবলো । হঠাৎই মেঘার প্লেট থেকে আধো খাওয়া অমলেট টা তুলে নিলো নিজের প্লেটে । মেঘা হকচকিয়ে বড় বড় চোখে তাকাতেই তৎক্ষণাৎ রাশভারী গলায় বললো রৌদ্র…..

” এটা আমি খাবো । 

ছলকে রৌদ্রের মুখপানে তাকালো মেঘা । রৌদ্রের কন্ঠস্বরে একে একে বাকিরাও খাওয়া ফেলে তাকালো । রুবিনা কাবির ছেলের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন । তিনি হতবাক হয়ে কিছু বলার আগেই মেঘা দাপুটে গলায় কন্ঠ খিচে বললো….

” এটা আমার ডিম ! 

রৌদ্র সহসা তাকালো মেঘার চোখ পানে । মেঘার রাগান্বিত লালচে দৃষ্টি ।‌ বিপরীতে ফিচেল দৃষ্টি রৌদ্রের । ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে পরিপ্রেক্ষিতে সহসা ভেঙ্গিয়ে বললো রৌদ্র….

” তুই ডিম ও পারিস…? 

বলেই আবারো চোখ নামিয়ে হাসি চাপে রৌদ্র । খাওয়ায় মনযোগ দেয় । 

এদিকে ভ্যাবাচ্যাকা খায় মেঘা । না চাইতেই আকস্মিক রৌদ্রের কথাটা রসিকতা বুঝে ফিক করে হেসে ওঠে হেসে শুভ্র আর আহিয়ান । আদ্র ও বাদ পড়লো না । কেনো যেনো ও নিজেও হাসি আটকাতে পারলো না । রৌদ্রের কথার সাথ সাথ মেঘার হতবাক বোকা বোকা চেহারা খানা দেখতেই ফিক করে হেসে উঠলো আদ্র নিজেও । 

রৌদ্রের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে হাসির ক্ষিন ঝংকার অনুসরণ করে মেঘা একে একে শুভ্র , আহিয়ান আর আদ্রের দিকে তাকালো আহম্মক বনে । অমনি জোর পূর্বক ঠেলে ঠুলে হাসি চাপলো সকলে । বাকিদের কথা বাদ , কিন্তু আদ্র ? আদ্রের হাসিতে ফুঁসে উঠলো মেঘা । বললো অভিযোগী স্বরে…..

” ভাইয়া তুমিও ? 

ঠোঁট আঙ্গুল চাপলো আদ্র । ঘাড় ঝাঁকিয়ে ফিটফাট হয়ে গলা ঝেড়ে বললো…

” কই , আমি কি ? 

নাকের পাটা ফুলিয়ে ফুঁসতে থাকে মেঘা । রুবিনা কাবির রৌদ্রের কান্ডে বললেন ভার গলায়…

” রৌদ্র , ওর পাত থেকে ডিম তুলে নিলি কেনো তুই ? 

” খাবো,তাই । 

” তুই তো ডিম খাস না ? 

” আজ খেতে ইচ্ছে করছে ।

” ওটা মেঘার এঁটো করা ডিম , ওকে ফিরিয়ে দে । আমি তোকে অন্য একটা ভেঁজে এনে দিচ্ছি । 

” এটাই খাবো আমি । 

নাছোড়বান্দা জবাব রৌদ্রের । রুবিনা কাবির বিঘূর্ণিত না হয়ে পারেন না । খানিক দাঁড়িয়ে থেকে ছেলের অভিব্যক্তি বোঝার চেষ্টা করেন ‌। অতঃপর কিচেনের দিকে এগোন জায়গা ত্যাগ করে । এই ছেলের মতিগতি বোঝা বরাবর দূর্বোধ্য ব্যাপার । 

মেঘা আর খেলো না । খানিক লজ্জা জনক অপমানিত বোধ হলো তার । বাকি খাবার ফেলে ফোঁস করে উঠে দাঁড়িয়ে বেসিনের দিকে এগোতেই আদ্র মোলায়েম কন্ঠে ডাকলো….

” মেঘ , সরিই , আর হাসবো না । খেয়ে যা…

” তুমি নিজে খাও । আর ঐ রাইনো মুখো টাকেও খাওয়াও । খাবো না আমি ।

রাইনো মুখো কাকে বলা হলো উপস্থিত কেউ বুঝলো না । 

হাত ধুয়ে ব্যাগ নিতে উপরে উঠেছে মেঘা । ঘরে ঢুকে খানিক সময় নিয়ে আরেকটু পরিপাটি হলো । 

শাফাহ্ এখনো ঘুমিয়ে । মেঘা ওকে এক পলক দেখে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো । নয়টার দোরগোড়ায় ঘন্টার কাঁটা । পিলে চমকে তড়িঘড়ি করে ব্যাগ হাতে বাইরের দিকে দ্রুত পদে ছুটলো মেঘা । দরজা মারিয়ে ঘর হতে বেরোনোর সাথে সাথে মুখোমুখি ঠাস করে ধাক্কা খেলো শক্ত মতো কিছু একটার সাথে । অমনি নরম কোমলাঙ্গ ঝমঝমিয়ে ওঠে মেয়েটার । হুটহাট ব্যাথা পেয়ে মৃদু স্বরে আর্তনাদ করে । অনুচ্চ মেয়েটার কপাল ঠেকেছে কারোর শক্ত উন্নত বক্ষে । না পিছিয়ে চিবুক উঁচিয়ে চোখ তুলে তাকালো মেঘা । নজরে পড়লো শৈলচূড়াসম অটল অবয়ব । নড়চড় হীনা সটান হয়ে দাঁড়িয়ে রৌদ্র । মুখো ভঙ্গিমা বরাবরের ন্যায় নিরেট, অনুভুতি হীন । 

ক্লিন্ন মনে দু পা পিছিয়ে আসলো মেঘা । কপালে বিতৃষ্ণ ভাঁজ ফেলে বাহু ডলতে ডলতে বিরস বদনে বললো….

” শরীর নাকি খাম্বা ? এমনি এমনি রাইনো বলি নি আমি ! মুখের সাথে সাথে চেহারাও পুরো গন্ডারের মতো । যত্তসব..

ফের গন্ডার সম্বেধনে ক্ষুব্ধ হয় রৌদ্র । চোয়াল খিচে দু পা এগোয় মেঘার দিকে । পেছাতে গিয়ে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকে মেঘার । মাঝামাঝি দূরত্ব রেখে ওর দিকে ঝুঁকে আসে রৌদ্র । চাপা স্বরে গর্জে ওঠে….

” ইডিয়ট , এটুকুতে ব্যাথা পেলি ? 

পরবর্তীতে মোকাবেলা করবি কি করে আমায় ? 

মুখ ঝামটালো মেঘা । দেয়াল ঘেঁষেই ডান দিক থেকে সরে আসতে চাইলে ডান দিকের দেয়ালে নিজের বাম হাত ঠেসে মেঘার পথ রোধ করলো রৌদ্র । নাক ফুলিয়ে শ্বাস ফেললো মেঘা । এই লোকের সাথে কথা বলার অভিরুচির সংকট । আর এই লোকটাই এই মুহূর্তে ওর এতো কাছে । ডান দিকে বাঁধা পেয়ে বাঁ দিক থেকে সরে আসতে চাইলেও একই কাজ করলো রৌদ্র । এবার নিজের ডান হাত দেয়ালে ঠেসে মেঘার পথ বন্ধ করলো । আরো একটু ঝুঁকে আসতেই কন্ঠ চিপে খেকিয়ে উঠলো মেঘা….

” প্রবলেম কি আপনার ? 

” তুই আমার প্রবলেম ।

” কাছে আসবেন না আমার , দূরে সরুন ! 

” দূরে সরানোর চেষ্টাও করবি না । 

” আর আপনি আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না । শরীর থেকে রাইনো রাইনো গন্ধ ছাড়ছে । দূরে যান আমার থেকে । 

এতক্ষণে রৌদ্র একটু শিথিল হয়ে এসেছিলো , শিথিলতা টিকলো না আর । ফের চড়াও করে উঠলো মস্তিষ্ক । দপ করে ক্ষিপ্ততা ঠিকড়ে উঠলো । রক্ত বর্ন দৃষ্টি পাত করে রাগ ঠিকড়ে উচ্চারণ করলো….

” ইভারা ? 

এবার রাগের বিপরীতে ঠোঁট ফাঁক করে মেঘা । সেই তখন থেকেই একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে । এবার তাকানোর দৃষ্টি আরো গাঢ় আর প্রখর হলো । মেঘার চোখের দিকে তাকিয়েই রাগ সামলাতে ডান হাতে দেয়ালে পাঞ্চ করে রৌদ্র । তৎক্ষণাৎ বাঁ দিকে ফিরে খানিক চমকায় মেঘা ‌। দাঁতে দাঁত চেপে কর্কশ স্বরে বলে রৌদ্র….

” আমাকে রাগানোর চেষ্টা করবি না । তোর উপর রাগতে চাই না আমি । এখন আমার প্রশ্নের উত্তর দে , খাওয়া ছেড়ে উঠলি কেনো তুই ? আমার উপর রাগ দেখিয়ে , নাকি আদ্র তোর উপর হেসেছে তাই বলে ? বল কার উপর রাগ দেখিয়ে টেবিল ছাড়লি তুই ? 

মেঘা প্রশ্নের মানে বুঝলো না । কুঁচকে ফেললো কপাল । রৌদ্র কে ঝটকা মেরে ঠেলে বললো গমগমে গলায়…

” কিসব বলছেন ? আদ্র ভাইয়ার উপর রাগতে যাবো কেনো আমি ? 

” এক্সাটলি , আদ্রের উপর রাগবি না । 

তোর রাগ থাকবে শুধু আমার উপর ‌। তোর সবকিছু হবে শুধু আমাকে ঘিরে । ভুল করেও যদি আমার অধিকারে কাউকে ভাগ দিস , তাহলে থাপ্পরে চোয়ালের সব দাঁত ফেলে দেবো একদম । 

মেঘা মুখ বাঁকায় । তাচ্ছিল্য করে । বুঝেও অবুঝ সে । গোড় অবধি বুঝেছে তা বোঝানোর ভঙ্গিমা প্রকাশ করে না চেহারায় । রৌদ্র এবার ছাড়ে ওকে । পথ ছেড়ে দেয় । 

মেঘা পা চালিয়ে ধুপধাপ সিঁড়ির দিকে এগোয় গজগজ করতে করতে । কি যেনো বলে হিসহিসিয়ে । 

একেই দেরি হয়ে গেছে । এই লোকের জন্য আরো বেশি দেরি হয়ে গেলো । 

চক্ষু আড়াল না হওয়া অবধি পেছন থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে রইল রৌদ্র । এমন সময় পেছন থেকে সিরাতের চিকন কন্ঠে ডাক ভেসে আসে….

” রৌদ্র …..

#চলবে……

#আসবো_ফিরে_আবারো

#পর্ব_১০ [ শেষাংশ ]

#সুরভী_আক্তার

( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌ )

সিরাতের ঘরের ব্যালকনিতে বুকে আড়াআড়ি হাত ঠেসে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র । চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তি । কপালে বিতৃষ্ণ ভাঁজ । কোনোরূপ কথা না বলে সিরাত ওকে টেনে হিড়হিড়িয়ে নিজের ঘরে নিয়ে আসলো । বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা ছিলো না রৌদ্রের । 

ওকে বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রেখে এই মেয়ে এখন উধাও । বলে তো গেলো এক পা ও না নড়তে । কথা অনুযায়ী নড়ে নি রৌদ্র । বিরক্তি সমেত দাঁড়িয়ে আছে । মিনিট পাঁচেক বাদ সিরাত আসলো । নিচের গিয়েছিলো আহিয়ান কে অফিসের জন্য বিদায় দিতে । রামিশা কে খাইয়ে রুবিনা কাবিরের কাছে দিয়ে ফ্রি হয়ে আসলো সে । 

ঘর পেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে রৌদ্র কে দেখে হন্তদন্ত হয়ে ডাকলো ,,,

” রৌদ্র , আছিস ? আমি ভেবেছিলাম চলে যাবি ? 

বিরক্তির মাত্রা বাড়ে রৌদ্রের । চলে যাবে মানে ? এ কেমন ঠেস দেওয়া কথা ? বিরক্তি গিলে গমগমে স্বরে বললো…

” এখানে কেনো ডাকলে সেটা বলো । বেরোবো আমি । এখানে থাকার সময় নেই । 

” সময় নেই কেনো ? কোথায় বেরোবি ? কি কাজ তোর বাইরে ? সারাটা দিন বাইরে কি করিস তুই ? 

রৌদ্র খানিক জড়িয়ে এলো । কন্ঠ নুইয়ে বললো….

” কাজ আছে ! কি বলবে তাই বলো । 

” তোকে দেখে অবাক হচ্ছি । 

” কেনো ? 

” অবাক না হওয়ার তো কোনো কারণ নেই । শুধু আমি কেনো , বাড়ির সবাই স্তম্ভিত হচ্ছে তোর বিহেভিয়ারে । কেউ প্রকাশ করছে না দেখে সবটা নরমাল আছে এখনো অবধি । তোর কি হয়েছে বলতো ? 

” কি আবার হবে ? 

” সেদিন মেঘা কে মারলি কেনো ? 

” অলরেডি এর জবাব দিয়েছি । আর দিতে পারবো না ।

” আর আজ ? আজ মেঘা কে কিসব বললি তুই ? আমি কিন্তু শুনেছি !

” কি বলেছি ? 

” মনে কর ।

” ভুলে গেছি ! 

” মুখে বলে মনে করাতে পারবো না । বড় বোন আমি তোর । 

” তাহলে বড় বোন হয়ে এসবে ইন্টারফেয়ার করছো কেনো ? হ্যাভ ইউ নো শেম ? 

” রৌদ্র !! 

” বলো ? 

সিরাত খানিক থমকে রইলো । কি গা ছাড়া ছেলেরে বাবা ! না জবাবে গুরুত্ব আছে, আর না লজ্জা । উল্টে ওকেই জিজ্ঞেস করছে সিরাতের লজ্জা আছে না নেই ! শ্বাস ফেললো সিরাত । গলা ভার করে বললো….

” এতো বছর পর ফিরে এসে বউয়ের প্রতি টান অনুভব করছিস ? 

তৎক্ষণাৎ ছলকানো দৃষ্টিতে রৌদ্র তাকায় সিরাতের দিকে । দুই ভাই বোনের চোখাচোখি হয় । রৌদ্র তেঁতে বলে…

” হু দ্যা হেল ইজ দ্যা ওয়াইফ ? 

” মেঘা । 

রৌদ্র চোখ সরায় । রেগে বলে…..

” আমাকে রাগিও না আপু । 

ঐ ইডিয়ট টা আমার বউ ? হুহহহ , হোয়াট এ জোকস ! আই ডোন্ট কনসিডার হার , এ্যাজ মাই ওয়াইফ । সি ইজ জাস্ট এ্যা ফল্ট অফ মাইন । 

” সিরিয়াসলি ? ও শুধুই তোর মিস্টেক ? 

” ইয়াহ , নাথিং বাট এ্যা মিস্টেক ! 

” ভেবে বলছিস ? 

” একদম ? 

সিরাত ভ্রু উঁচায় । শব্দ করে শ্বাস ফেলে ! রৌদ্রের ডান বাহুতে চাপড় মারার ভঙ্গিতে বলে….

” গুড ‌! যদি এটাই হয়ে থাকে , যদি ও শুধুই তোর ফল্ট হয়ে থাকে , যদি ওকে তুই সত্যিই বউ না মেনে থাকিস , তাহলে এটা পরবর্তীর জন্য ভালোই হবে । পরবর্তীতে এই নিয়ে ঝামেলা হবে না আর । মেঘা ওর পথে এগোতে পারবে । নিজের মতো করে ওর জীবন টা সাজাতে পারবে কারোর সাথে ।

এটা ওর জন্যই ভালো হবে বুঝেছিস । আব্বু তো বলছিলো , যদি বিয়ে হয়েই থাকে তাহলে ডিভোর্স হবে । বেকার বেকার অন্যের বউয়ের তকমা লাগবে কেনো মেয়েটার শরীরে ? তোর সাথে ডিভোর্স না হলে তো ,ও আর কাউকে বিয়েও করতে পারবে না । তুই বরং এবার দেশে ফিরে এসে একটা সুযোগ করে দিয়েছিস । এবার আইনি ভাবে তোদের ডিভোর্স টা দিতে হবে । যদিও তোদের এই চাপা বিয়ের ব্যাপারে তেমন কেউ জানে না । এতে ডিভোর্স করানোতে সুবিধাই হবে । ঝামেলা পোহাতে হবে না বেশি । তুই তো ফিরবি আবার ? কি রে , সত্যিই ফিরবি ? তুই তো বেপরোয়া , কারোর কথা শুনিস না , কারোর ধার ধারিস না । ফিরতেও পারিস । তবে হ্যাঁ , ফেরার আগে ডিভোর্স পেপারে সাইন টা করে দিয়ে যাস । নয়তো পরে , এক দেশ থেকে অন্য দেশে এসব পেপার পাঠানো জটিল ব্যাপার হয়ে যাবে । 

অতো জটিলতার চেয়ে এটাই ভালো হবে । যাওয়ার আগে ডিভোর্স পেপারে সাইন……

সিরাত আর কিছু বলতে পারে না । ওকে বলার সুযোগ দেয় না রৌদ্র । আর না শোনার প্রয়োজন বোধ করে । শেষে সিরাতের দিকে এক পলক রোষাবিষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফোঁস করে গজগজ পায়ে বারান্দা ত্যাগ করে সিরাত কে টপকে । সিরাত কথা শেষ না করেই ওকে যেতে দেখে পিছন থেকে ডাকলো….

” রৌদ্র , আরে শোন । আমার কথা এখনো শেষ হয়নি । যাওয়ার আগে ডিভোর্স…..

ব্যাস এটুকুই । এবারো শেষ করতে পারলো না কথা । 

বারান্দা পেরিয়ে ঘর , অতঃপর ঘর পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে ঠাস করে দরজাটায় সজোরে একটা লাথি বসালো রৌদ্র । বিকট শব্দে চোখ খিচে খানিক চমকে চুপসে গেলো সিরাত । কথা টুকু আর শেষ করতে পারলো না । হিসহিসিয়ে নিজের ঘরের দিকে এগোলো রৌদ্র । ও চলে যাওয়ার এক মুহুর্ত বাদ ফিক করে হেসে ওঠে সিরাত । দুদিকে ঘাড় ঝাঁকিয়ে বিড়বিড় করে কিছু একটা । 

★

সন্ধ্যা গড়িয়েছে । আজ ছাদে ওঠা হয় নি টুকটুকির বিরহে । বেচারি হাঁটতে পারছে না । সেই একই ভাবে শুয়ে বসে আছে ‌। খালি গিলছে সারাটা দিন । শুভ্র গাদা গাদা চকলেট , স্ন্যাকস এনে দিয়েছে । ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে আদ্র ও নিয়ে এসেছিলো । সারাটা দিন এসবই গিলে গেছে শাফাহ্ । মুখ বন্ধ রাখে নি এক মুহুর্ত । 

এখনো বসে বসে গিলছে । হাতে বিগ সাইজের একটা ক্যাটবেরি । ওর যা পছন্দ এটা , বলে বোঝানো দায় । মেঘা কিছু না পেয়ে একখানা বই হাতে বসেছে । উপন্যাসের বই । অনেক বই সংগ্রহে আছে । তবে পড়া হয় না তেমন । যখন খুব বোর লাগে , কোন কিছু ভালো লাগে না , তখন মাঝে মাঝে একটা দুটো পৃষ্ঠা খুলে বসা হয় । চোখ বোলানো হয় পাতার ভাঁজে । এখনো তাই করছে মেঘা । বেড বরাবর সামনের সোফাটায় পা তুলে বসে শরীর একটু এলিয়ে দিয়েছে । চুল খোলা । ভেজা এখনো । সোফায় শরীর এলিয়ে দেওয়ায় মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে দীপ্ত কেশরাশী । দীর্ঘক্ষণ পর পর পাতা উল্টাচ্ছে ধীর গতিতে । 

শাফাহ্ খেতে খেতে ওকে পরখ করেছে কয়েকবার । হাতের চকলেট টা প্রায় শেষ । আর দু বাইট নিলেই শেষ হয়ে যাবে । পাশে তাকালো , বিছানায় শুধুই রেপার গুলো পড়ে আছে অবহেলিতের ন্যায় । কতগুলো চকলেট নিয়ে বসেছিলো । সব শেষ ! এতো তাড়াতাড়ি ? 

চকলেটে আরেক কামড় বসিয়ে ডাকলো শাফাহ্….

” মেঘা , টেবিলের ড্রয়ারে কিছু ক্যাটবেরি আছে । দে না প্লিজ । এগুলো শেষ হয়ে গেছে । 

মেঘা তাকালো হা বনে । এই মেয়ে এতো তাড়াতাড়ি সব শেষ করলো । 

” সব শেষ করেছিস ? 

” হু , খেয়ে ফেলেছি । টেবিলের ড্রয়ারে আরো কয়েকটা আছে । আমি দেখেছি কাল । তবে খাই নি । দে না । 

” ওগুলো আমার । আদ্র ভাইয়া সেই কবে এনে দিয়েছিল । এখনো খাই নি আমি । আর তুই এক বসায় এতো এতো চকলেট খেয়ে নিলি ? 

” কি করবো ? ছোঁচা জিভে লোভ সামলাতে পারে না । তুই তো খাবি না জানি । দে না । 

মেঘা বই বন্ধ করে উঠে দাঁড়ালো । ড্রয়ার থেকে চকলেট গুলো বের করে পাশে দাঁড়িয়ে ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো…..

” একটু কম করে খা মা আমার । এতো খেলে ক্ষতি হবে ।

 বুঝিস না কেনো ? 

” কে বোঝে না শুনি ? 

পুরুষালি উচ্ছ্বাসিত ভরাট কন্ঠে দুজনে চকিতে তাকায় দরজার দিকে । ফ্লাওয়ার বুকে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে এক সুদর্শন যুবক । পড়নে তার সাদা শার্ট অর কালো প্যান্ট । ঠোঁটে এক রাশ কুসুমিত হাসি । 

শাফাহ্ দেখেই চেঁচিয়ে ওঠে হতচকিত হয়ে….

” মাই , বাডি !! 

” ইয়েস বাডি !! 

এগিয়ে যায় ছেলেটা । পেছন থেকে শুভ্র ঘরে না ঢুকে থমথমে গলায় বললো….

” আমি ফ্রেশ হতে গেলাম । 

বলেই চলে গেলো সে । 

ছেলেটা এগিয়ে গিয়ে বিছানার পাশে দাঁড়ায় । প্রথমেই নজর দেয় শাফাহ্’র পায়ের দিকে । অমনি হাসি গায়েব হয়ে ঠোঁট থেকে । কপালে ভাঁজ ফেলে দীর্ঘ শ্বাসে বলে….

” পা ভেঙেছে শুনলাম । এখন কেমন আছিস ? 

” উমমম , খুব ভালো ! 

তোমাকে দেখে আরো বেশি ভালো হয়ে গেলাম । লাস্ট সপ্তাহ থেকে পাত্তা মিলছে না তোমার । কোথায় ছিলে বলতো ? দেখি নি কেনো ? 

” শহরে ছিলাম না । আজই আসলাম । 

ছেলেটার হাতের তর তাজা ফুল গুলো ভীষণ টানছে শাফাহ্ কে । হাত কিলবিল করছে ওগুলোকে ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য । ছেলেটা বুঝতে পেরে মৃদু হেসে ফুল গুলো বাড়িয়ে দিলো । অমনি ঝাঁপিয়ে পড়লো শাফাহ্ । নাক ডুবিয়ে ফুলের ঘ্রাণ টেনে নিলো নিজের মাঝে । গদগদ হয়ে বললো…

” থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া ,, 

কপাল কুঁচকে ফেললো ছেলেটা । বাঁধ সাধলো….

” ডোন্ট কল মি ভাইয়া । কল মি বাডি । নয়তো সব ফুল ফিরিয়ে নিয়ে যাবো । 

” এহহ্ , আমি দিলে তবেই তো ? এসব আমার , আর আমার জন্যই এনেছো আমি জানি ! 

মুচকি হাসলো ছেলেটা । মেঘার দিকে তাকালো এ পর্যায়ে ! হাসি চওড়া করে বললো…

” কেমন আছো মেঘা ? 

মুচকি হেসে উত্তর করে মেঘা….

” জ্বি ভাইয়া , ভালো ! আপনি ? 

” ভালো আছি । তবে শুনলাম শাফাহ্ নাকি ভালো নেই । এই , পা ভাঙলি কি করে তুই ? দেখে চলতে পারিস না ? 

” পড়ে গেছিলাম । ভাঙ্গে নি , মচকেছে । 

” হাঁটতে পারছিস ? 

” উঁহু ! কাল থেকে পারবো । 

শ্বাস পড়লো ছেলেটার বুক চিরে । সরু মলিন চোখে পা খানা পরখ করলো শাফাহ্’র । 

কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরলো আদ্র । বেরিয়েছিলো সে । ফ্রেশ হয়ে ঘর হতে বেরোতেই মুখোমুখি হয় শুভ্রর ‌। শুভ্রর সাথে চেনা আরো একটা মুখ দেখে এক চিলতে হেসে বলে….

” আরে সায়ান ভাইয়া ? কখন এলে ? 

হাসলো সায়ান ছেলেটা । উত্তর করলো…

” এইতো একটু আগে । 

” তুমি তো রাজশাহীতে ছিলে , না ? 

” হুম । ফিরেছি আজ ! 

আদ্র হাসি প্রগাঢ় করলো । গলা ঝেড়ে ভনীতা করে বললো…

” আচ্ছা ? ফিরেছো আজই ? শুনেছিলাম বিজনেস পারপোসে গেছিলে । ভাইয়া তো বললো দিন দশেক থাকবে । এতো তাড়াতাড়ি চলে এলে যে ? কাজ হলো ? 

চোখ পাকালো সায়ান । শুভ্রের রাগি ভঙ্গিমা দেখে দাঁত চেপে বললো….

” শালা রাগাস না । আমাকে রাগানোর চেষ্টা করছিস , আর ওদিকে তোর ভাই ফুঁসছে । 

শুভ্র গটগটিয়ে ওদের দুটোকে পাশ কাটিয়ে নিজের ঘরে ঢুকলো । তপ্ত শ্বাস ফেললো সায়ান । আদ্র না বুঝে শুধালো….

” কি হলো ভাইয়ার ? 

” আমি আমার বিজনেস ছেড়ে এসেছি , আর তোর ভাইয়ের জ্বলছে ! লস হলে আমার হয়েছে , ওর কি ? দাঁড়া তো , ওর খবর করছি আমি । 

সায়ান ও গটগটিয়ে শুভ্রের পিছু নিলো । 

ঘরে ঢুকে ফোন নিয়ে বসেছে শুভ্র । পায়ে পা তুলে নিরেট ভঙ্গিতে ফোন স্ক্রল করছে । সায়ান ধপ করে ওর পাশে বসলো । বললো পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে….

” হয়েছে টা কি তোর ? 

এমন ভাব করছিস যেনো তোর বিজনেসে ক্ষতি হয়েছে । ক্ষতি হলে আমার হয়েছে । তোর কি এতে ? 

শুভ্র তৎক্ষণাৎ জ্বলজ্বলে চোখে তাকালো । খ্যাট খ্যাটে স্বরে ঝেড়ে বলল….

” তোর বিজনেস নয় , তোর বাপের বিজনেস । আর তোর বাপ আমার শশুর । আমার শশুরের লাখ লাখ টাকার ডিল ক্যানসেল করে কোন আক্কেলে তিন দিন আগে বাড়ি ফিরলি তুই ? কতগুলো টাকার ব্যাপার আছে এখানে , জানা নেই তোর ? 

আজকের কনফারেন্স মিটিংয়ে এটেন্ড হতে পারিস নি । এর অর্থ কি ? এই পুরো সপ্তাহের সব পরিশ্রম জলে ভাসিয়ে দিলি ? এতো গুলো টাকা ইনভেস্ট হয়েছে ‌। গায়ে লাগে না এতে….

” লাগে তো , ভীষণ গায়ে লাগে । যার জন্য গায়ে লেগেছে , তার জন্যই ছুটে এসেছি আমি । এসব মানি নো ফ্যাক্ট । বেঁচে থাকলে এমন হাজার ডিল হাতে আসবে । এবার না হয় মিস করলাম । আমার কিউটি পাই’য়ের জন্য , এটুকু ছাড় দিতেই পারি । 

শুভ্র দুদিকে মাথা নাড়ালো । এই পাগল কে কিছু বলে লাভ নেই । যে ছেলে একটা ফোন কলে ভালো মতো সবটা না শুনেই এক ছুটে রাজশাহী থেকে রাজধানীতে আসতে পারে লাখ লাখ টাকার এগ্রিমেন্ট ফেলে । সে ছেলেকে আর কি বোঝাবে ও ? বোঝালেও এই পাগল বুঝবে নাকি ? সায়ান সোফার পেছনের দিকে হেলে মাথা এলিয়ে দেয় ‌। চোখ বুজে শ্বাস টেনে মৃদু স্বরে বলে….

” তোর বোনের খুব লেগেছিলো , ইয়ার ? ব্যাথা পেয়েছে ভীষণ ? দেখে রাখতে পারিস না ওকে একটু ? 

” ঐ খচ্চর’কে কতক্ষন চোখে চোখে রাখা যাবে ? ও কি ছোট বাচ্চা ? কতক্ষন দেখে রাখবো ওকে ? 

” যতক্ষণ না ও আমার কাছে আসে ততক্ষণ । যতক্ষণ না ওকে দেখে রাখার জন্য আমি ওকে নিজের কাছে নিয়ে আসি ততক্ষণ । যতক্ষণ না ও পুরোপুরি আমার হয় ততক্ষণ । আমার হয়ে গেলে ওকে দেখে রাখার জন্য আমি একাই যথেষ্ট । আপাতত ওকে দেখে রাখার দায়িত্বটা তোদের । 

পরিপ্রেক্ষিতে শুভ্র কিছু বললো না । দম টানলো সায়ান । 

শুভ্র মনে মনে মুচকি হাসে । এই পাগল কে ও বলতেই চায় নি টুকটুকির ব্যাপারে । পা টা মচকেছে শুধু । মুখ ফসকে বেফাঁস হয়ে বেরিয়ে গেছিলো সিঁড়ি থেকে পড়ার কথা । ব্যাস , এটুকুই যথেষ্ট ছিলো এই পাগলের এখানে ছুটে আসার জন্য । পাগলটা ওর একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড সায়াহ্ন । তবে সবাই ছোট করে সায়ান ডাকে । পুরো নাম #সায়াহ্ন_ইফতেখার  । সেই ছোট্ট কালের স্কুল লাইফ থেকে ফ্রেন্ডশিপ ওদের । সায়ানের একটা ছোট বোন আছে । #মেহরিশ_মেহের । ওর সাথে শুভ্রের বিয়ে । সম্পর্কটা একটু জটিলতা পেরিয়ে নতুন মোর নিতে চলেছে । 

সায়ান একটু ভেবে বললো আবার….

” শুনলাম তোদের বিয়ের ডেট ফাইনাল করার কথা হচ্ছে । 

ছ্যাঁত করে ওঠে শুভ্র । গম্ভীরতা ঠেলে ধড়ফড়িয়ে ওঠে….

” হোয়াট ? সিরিয়াসলি ? মানে আমাদের বিয়ের ডেট ? আমার আর মেহেরের ? 

” তোর আর আমার বোনের ? 

” সিরিয়াসলি ইয়ার ? কে বললো তোকে ? 

ভাবসাব নিয়ে ঘাড় উঁচিয়ে বললো সায়ান….

” শুনলাম ! কেনো ? তুই জানিস না ? বাড়িতে থেকেও খবর রাখিস না এসবের ? 

শুভ্র ছটফটিয়ে বলে…

” আরে , আমার কানে তো এসব কিছু আসে নি । বাড়িতে তো আলোচনা হয় নি এসব নিয়ে । 

” আব্বুর সাথে কথা হয়েছিল । তখন বললো আব্বু । রৌদ্র ফিরেছে , ও থাকতে থাকতেই তোদের বিয়েটা দিয়ে দেবে হয়তো । ও তো ফিরে যাবে । বেশিদিন থাকবে না শুনলাম । এর মানে , তোদের বিয়ের বেশিদিন নেই আর । আঙ্কেল,আন্টি , মানে আমার ফিউচার ফাদার এন্ড মাদার ইন ল , আমার বাপ মায়ের সাথে কথা বলেছে এই নিয়ে । কাল মেবি ডেট ফাইনাল করা হবে । সপ্তাহের মাথায় ডেট ফিক্সট করা হতে পারে । 

🚫 কারেন্ট ছিলো না , তাই এতো দেরি হলো । 

সবাই রেসপন্স করবেন । 🚫

#চলবে……

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply