Golpo আমার আলাদিন কষ্টের গল্প

আমার আলাদিন পর্ব ৩২


#আমার_আলাদিন

#জাবিন_ফোরকান

#পর্বসংখ্যা৩২

এই বাড়িতে ছোট্ট একটা বাগান আছে। কমলা, লেবু, মরিচ, ঢেঁড়স ইত্যাদি সবজির ছোট ছোট গাছগুলো সুন্দর বেড়া দিয়ে একপাশে পোঁতা হয়েছে। অপরদিকটা ফুলের জন্য বরাদ্দ। তার মধ্যে আছে গোলাপ, নয়নতারা। ঔষধি গাছের মধ্যে তুলসী, অ্যালোভেরা ইত্যাদি রয়েছে। এখানে এসে বসলেই কেমন যেন শান্তি শান্তি লাগে। ইট পাথরের শহরে এক টুকরো প্রকৃতির কোল যেন। তাই ইরাম আজ এখানে এসে বসেছে। একটা কাঠের দোলনা আছে। পরিবারের মানুষগুলো সুযোগ পেলে এখানে এসে বসে। সারিকা আর সামিয়া প্রায় ছুটির দিনে এখানে নিজে থেকে কাজ করে। সুগন্ধার সঙ্গে ইরাম নিজেও এসেছে বেশ কয়েকবার গাছগুলোতে পানি দেয়ার জন্য, রান্নার জন্য সবজি সংগ্রহও করেছে। ইরাম বসেছে দোলনার উপর। ইযানকে মাত্রই ঘুম পাড়িয়েছে তাই ছেলের উঠে পড়ার তাড়া নেই। আজ তার একটু শান্তি দরকার।

রাতের প্রকৃতি অনেকটাই প্রশান্ত। মৃদু মন্থর হাওয়া বইছে। ঠান্ডা একটা ঝাঁপটা খেলিয়ে দিচ্ছে শরীরে। ইরামের গায়ের ওড়নাটা দারুণভাবে উড়ছে সেই বাতাসে। খোলা চুলগুলো দোল খাচ্ছে তালে তালে। দোলনার দুলুনির সঙ্গে জগৎটা ঘুরপাক খাচ্ছে। ইরাম কাঠের হেলানে মাথা ঠেকিয়ে নিষ্পলক চেয়ে আছে আকাশের দিকে। আকাশে আজ কোনো মেঘ নেই। একফালি চাঁদ। সেই চাঁদের পাশে জ্বলজ্বল করা তারারা। ইরাম চেয়েই রইল। আজকাল মানুষ বাঁচে কত বছর? অর্ধেক জীবনটাই পেরিয়ে গিয়েছে তার। অথচ জীবনের মাঝামাঝি সময়টায় এসেও সে বুঝতে পারলনা আদৌ এই জীবন সফল নাকি ব্যর্থ। ইরামের জীবন সেই ১৭ বছর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। সেই সময়টায় ছিল না কোনো বাঁধা, মুক্ত পাখির মতন স্বাধীনভাবে উড়েছে সে, তাড়া করেছে নিজের স্বপ্নদের। আচ্ছা, যদি ইরামের বাবা মারা না যেতেন, তবে কি আজ তার জীবনটা অন্যরকম হতে পারত? হ্যাঁ, পারত। বাবাদের কাছে মেয়েরা রাজকন্যা। বাবার মুখটা আজ ভীষণ মনে পড়ছে তার। আজও কি স্পষ্ট! বাবা থাকলে কি রাহাত ইহানকে ভালোভাবে মানুষ করা যেত? বাবা থাকলে কি অরণ্যর সাথে কোনোদিন তার বিয়ে হত? বাবা থাকলে কি ইরামকে এতকিছু সহ্য করতে দিত কোনোদিন? ইরাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ফেলল। অশ্রুফোঁটা চিকচিক করল তার চোখজোড়ায়। অভিমান ভর করল এক সময়কার বাবার রাজকন্যার অভিব্যক্তিতে, আকাশের তারার পানে চেয়ে সে অভিযোগ দায়ের করল,

“তুমি কেন চলে গেলে বাবা? কেন আমায় নিয়ে গেলে না? তোমার বুলবুলির যে অনেক কষ্ট হয় এই পৃথিবীতে। আর কিছুকাল হাতটা ধরে জীবনপথে এগিয়ে দেয়া যেতনা?”

নীরব অশ্রু গড়াল ইরামের দুই গাল বেয়ে। মুছলনা সে। বাতাসের ঝাঁপটায় মুখ শীতল হয়ে উঠল। অথচ পরোয়া করলনা। দুলতে লাগল সে নীরবে। আচ্ছা, সে কি পারলে জীবনটাকে অন্যরকম করে সাজাতে চাইবে? যদি প্রার্থনা কবুল হত, তবে কি এত সংগ্রাম, এত লড়াই, এত যন্ত্রণা সে এড়িয়ে যেত? ইরাম মহা বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করল, জীবন তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিলেও হয়তবা সে পুনরায় একই যাত্রায় সামিল হত। কারণ? ওই ছোট্ট নিষ্পাপ অস্তিত্বটি। ইরামের জীবন যদি অন্যরকম হত, তাহলে ইযান কোনোদিন তার কোলে আসতনা। অথচ, ছেলেকে ছাড়া তো এক দন্ড চলবেনা তার! কান্নার মাঝেও ঠোঁটে মলিন হাসি ফুটল তার, ওই একই তারাদের পাশে জ্বলজ্বল করতে থাকা একফালি চাঁদের দিকে চেয়ে সে ওই ছোট্ট মুখখানি মনে করল। বিড়বিড় করে বলল,

“যদি দ্বিতীয় জন্ম বলে কিছু থাকত, তবে আমি আবারও বিনা দ্বিধায় দ্বিতীয়বার সেই কাঁটায় ভরা চোরাবালিতে ঝাঁপ দিতাম, যা তোমায় আমার কোলে এনে দিয়েছে।”

ইরাম কতক্ষণ নিজের চিন্তায় ডুবেছিল হিসাবে নেই। তার বিশ্রাম ভাঙল মৃদু পদশব্দে। নড়লনা ইরাম, শুধু মাথা হালকা কাত করে তাকাল পাশে। বাগানের ভেতরে ঢুকেছে এক ছায়ামূর্তি। প্রথমটায় স্পষ্ট দেখা গেলনা। বাগানের বাতির নাগালে আসার পরেই পরিষ্কার হলো দৃশ্যটা। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সাইবান। পরনে একটা ঢোলা ফতুয়া, খয়েরী রঙের। বোতামগুলো সব খোলা, বুকের মাঝ অব্দি দৃশ্যমান তাতে। সঙ্গে একটা ঢোলা কালো ট্রাউজার। মাথা তুলছেনা সে, নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে এগোচ্ছে। ইরাম অবাক হয়ে খেয়াল করল, সাইবানের এক হাতে ঝুলছে একটি সরু লাঠি। লম্বা, চিকন বেতের মতন। ছোটবেলায় পড়া না পারলে স্যার ম্যাডামরা এমন বেতের বাড়ি দেবেন বলে ভয় দেখাতেন। ইরাম কত খেয়েছে! পড়ালেখার জন্য অবশ্য নয়, দুষ্টুমি আর অহেতুক হাসাহাসির জন্য। একবার তো একজনের মজার কারণে পুরো দলকে সাজা পেতে হয়েছিল, কায়সানও ছিল সেখানে। নির্লজ্জের মতো বেতের বাড়ি খেতে খেতে ভ্যাকভ্যাক করে হাসছিল তারা সবাই। সে যাক, সাইবান হঠাৎ করে বেত নিয়ে হাজির হয়েছে কেন? পেলই বা কোথায়? এতক্ষণ ছিলই বা কোথায়? বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই তো সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ইরাম ভেবেছিল, মাথা ঠান্ডা করতে হয়ত অনুরাগের কাছে গিয়েছে বা এমন কিছু।

ইরামের সকল জল্পনা কল্পনাকে অতিক্রম করে সাইবান দোলনার কাছে এসে থামল। মাথা তুলে তাকালনা। বরং হাঁটু গেড়ে ইরামের পায়ের কাছে মাটিতেই বসে পড়ল। মাথাটা তখনো ঝুলে আছে নিচের দিকে, বিধায় ইরাম ছেলেটার অভিব্যক্তি দেখতে পারছেনা। কোনো কথা না বলে সাইবান নিঃশব্দে দুহাতের তালুতে বেতটা রেখে উপহার প্রদানের ভঙ্গিতে তুলে ধরল ইরামের সামনে। হতবাক হলো রমণী। দোলনায় সোজা হয়ে বসল।

“কি করছ, আলাদিন?”

বিস্মিত প্রশ্ন ছুঁড়ল ইরাম। সাইবান পিছপা হলনা। বেতটা নামিয়ে সে ইরামের কোলের উপর রেখে দিল। গভীর গলায় বলল,

“আমাকে শাস্তি দিন।”

“শাস্তি? কিসের জন্য?”

ইরামের উরুর উপর ছড়িয়ে থাকা ওড়নার কাপড় নিজের মুঠোয় পাকিয়ে ফেলল সাইবান। এত শক্তিতে যে তার আঙুলগুলো ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। তখনি খেয়াল করল ইরাম, সাইবানের আঙুলের নিচের দিকে ছোট ছোট কাটাছেঁড়া ক্ষতচিহ্ন। সাইবান এগিয়ে এসে ইরামের হাঁটুতে নিজের কপাল ঠেকাল, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,

“আমি নিজের দিকে নিজেই তাকাতে পারছিনা। একেকটা কথা, একেকটা আঘাত, একেকটা অভিযোগ বিষের মত লাগছে। আপনি অবুঝ নন, আমি অবুঝ। আপনি স্বার্থপর কি স্বার্থপর না তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আপনার সবকিছুই আমার কবুল। আপনি আর আপনার ছেলে আমার টাকা পয়সা লুটে নিচ্ছেন না। অথচ আমি সেই কথার খোটাটাই আপনাকে দিয়ে দিলাম। এই একই মুখে আমি আপনাকে আমার সবকিছু বিনা দ্বিধায় খরচ করতে বলেছিলাম। আপনি ঠিক যা যা বলেছেন, তাই তাই হয়েছে। আমি সত্যিই তেমনটাই হয়ে গিয়েছি, যেমনটা আপনি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন। আমি নিজেকে বদলাতে পারলাম না, আলাদা প্রমাণ করতে পারলাম না। কিন্তু বড়াই করে সেদিন বলেছিলাম মায়া বসে গেলে পুরুষ নাকি পুরাতন জামাকেও আগলে রাখে। অথচ আমি ঠিকই সুযোগ পেয়ে আপনাকে কাদায় ঠেলে ফেললাম। এই জঘণ্য অপরাধের জন্য আমায় শাস্তি দিন। প্লীজ, আমায় আঘাত করুন, ক্ষত বিক্ষত করুন, চড় দিন, গালাগাল দিন, কিছু একটা করুন অন্তত করুন। আমি বইতে পারছিনা আর এই গ্লানি, দোহাই লাগে আপনার! আমাকে আঘাত করুন, শাস্তি দিন!”

ইরাম স্তম্ভিত হয়ে থাকল। এহেন সাইবানকে সে কল্পনাও করেনি! হুট করে কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, এই সাইবান বর্তমান সাইবান নয়, এ যেন সেই ছোট আলাদিন, যার প্রতি আজও ইরামের অগাধ মায়া! তাই নড়তে পারলনা সে। নিজের কোলের বেতের দিকে তাকিয়ে থাকল। এই ছেলেটা কি পাগল? সে কি ভেবেছে সে সত্যিই তাকে আঘাত করতে পারবে? ইরাম নড়চড় করছেনা দেখে সাইবান নিজেই বেতটা আঁকড়ে ধরল,

“আপনি না পারলে আমি নিজেই নিজেকে শাস্তি দেব। আমি সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঢুকিয়েছি। এত এত সাইনের পরও আমি অন্ধের মত হাতড়ে বেরিয়েছি আমরা দোষটা কোথায়! আমি আপনার ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের সঙ্গে শেয়ার করেছি আপনার প্রাইভেসির প্রতি এক বিন্দু গুরুত্ব না দিয়েই। আমি… আমি…”

—আমি এক সেকেন্ডের জন্য হলেও আপনার সঙ্গে তিতলিকে তুলনা করেছি!

শেষ কথাটা মুখে বলতে পারলনা সাইবান। কিন্তু তার অন্তরে তা বাজল দামামার মতন। মুখ না তুলেই বেতটা তুলে ধরল সে। নিজের প্রতি তীব্র ঘৃণা আর আক্রোশে শরীর কাঁপল তার। বেতটা দিয়ে নিজের কাঁধেই আঘাত করল সে সজোরে। কিন্তু একটা বেশি আঘাত দেয়া সম্ভব হলনা। ইরামের হাত চেপে ধরে ফেলল তার হাতটা। বেতটা টেনে হিঁচড়ে কেড়ে নিয়ে ঘৃণিত বস্তুর মতন দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল, যেন সাইবান নাগাল না পায়। ধমক দিল জোর গলায়,

“স্টপ ইট, আলাদিন!”

সাইবান তৎক্ষণাৎ মুখ গুঁজে রইল ইরামের হাঁটুতে। সেই তখন থেকে সে এভাবেই বসে আছে, একবারের জন্যও মুখ তোলেনি।

“নিজেকে আঘাত করলেই যেমন অপরাধবোধ মেটে না, তেমন কাউকে শাস্তি দিলেই কৃতকর্ম মুছে যায়না। হোয়াট ইয ডান, ইয ডান!”

দৃঢ় কণ্ঠে বলল ইরাম। সাইবানের পাগলামি তাকে অতি মাত্রায় বিহ্বল করে তুলেছে। এমন সময়েই জিনিসটা টের পেল রমণী। তার হাঁটুর দিকটা কেমন ভেজা ভেজা লাগছে। মনে হচ্ছে, কাপড় ভিজে উঠছে ক্রমশ। থমকাল সে, প্রসারিত দৃষ্টিতে দেখল সাইবানের অত বড় সুঠাম শরীরটা তিরতির করে কাঁপছে। বাতাসের ঝাঁপটায় যেমন গাছের পাতা কাঁপতে থাকে, ঠিক তেমন করে। বুঝতে কিছুই বাকি রইলনা ইরামের। বুকের ভেতর জলোচ্ছ্বাস অনুভব করল সে। দুহাত বাড়িয়ে দিল। আলতো করে নিজের হাতের আঁজলায় তুলে নিল সাইবানের মুখখানি। খানিকটা জোর খাটিয়েই মুখটা উঁচু করে দৃষ্টি মেলালো নিজের সঙ্গে। অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো তার অনুমান।

সাইবানের গভীর কালো দুই চোখ ভর্তি অশ্রু! স্রোতস্বিনীর ন্যায় বয়ে চলেছে দুই গাল বেয়ে। সমস্ত মুখটা ভিজিয়ে তুলেছে অশ্রুর বন্যা। চোখের পাতা কাঁপছে, কালচে পাঁপড়ির ভাঁজে ভাঁজে শিশিরের মতন চিকচিক করছে অশ্রুকণা। একগুচ্ছ চুল লেপ্টে আছে কপালে, ঢেকে ফেলেছে আইব্রো পিয়ার্সিং। পুরু ঠোঁটগুলো লালচে দেখাচ্ছে, যেন অনেকক্ষণ যাবৎ কামড়ানোর ফলে সমস্ত চামড়াই উঠে গিয়েছে। দৃশ্যটা দেখে ইরাম তীব্র বেদনা অনুভব করল। এতটা অসহায়ত্ব ওই চেহারায়, এতটা মায়া, এতটা আবেগ যা এই সুঠাম, শক্তিশালী শরীরের অধিকারী পুরুষটির সঙ্গে একদমই মানায় না। ইরামের মনে হলো সে ১০-১২ বছরের ছোট আলাদিনকে দেখছে, যার কান্নায় অব্দি তারার দেখা পাওয়া যেত। এখনও ঠিক তেমন করেই রাতের আকাশের তারার প্রতিফলন ভাসছে সাইবানের অশ্রুসজল চোখের প্রতিফলনে। নিজের দুই গালে রাখা ইরামের হাতের উপর হাত রাখল সাইবান। মৃদু আর্তনাদ তুলে আশঙ্কা নিয়ে শুধাল,

“আপনি কি আবারও আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন, ইরাম আপু?”

কেন যেন আর সইতে পারলনা ইরাম। সাইবানকে মুখ ধরে টেনে তুলল। দোলনাটা দুলে উঠল যখন সাইবান হাঁটুতে ভর দিয়ে উঁচু হতে বাধ্য হল। দোলনায় বসা ইরাম, আর মাটিতে হাঁটু রেখে টানটান হয়ে থাকা সাইবানের মুখ এখন সমানে সমান আছে, একে অপরের বিপরীতে। নুয়ে নেই সে। ইরামের চোখজোড়া ছলছল করে উঠল, তারপরই সে সাইবানের ঘাড়ে হাত রেখে নিজের অতীব কাছে টেনে নিল। ছেলেটার সঙ্গে তার বহুল শারীরিক পার্থক্য। হাঁটু গেড়ে বসে থাকার পরেও ফোলা বাহু, শক্তিশালী মাংসপেশী এবং ভারী শারীরিক গঠনের কারণে পাতলা, ফিনফিনে ইরাম তার সামনে কিছুই না। তবুও রমণী এক শক্ত ভিত্তির মতন করেই তাকে কাছে টেনে নিল। চিকন দুই বাহু জড়িয়ে ফেলল সাইবানের শরীরে, সোজা আগলে নিল বুকের মাঝে। সাইবান প্রথমটায় বুঝলনা কি হচ্ছে, তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করছেনা। অথচ উষ্ণতাটুকু ঘিরে ধরার সঙ্গে সঙ্গে সে নিজেকে এলিয়ে দিল। ইরামের পাতলা শরীর নিজের পুরুষালী দুই বাহুর মাঝে বেঁধে ফেলল শক্তভাবে। মাথাটা রাখল অর্ধাঙ্গিনীর কাঁধে। টপটপ করে অশ্রু গড়াল তার এই নিরাপদ এবং উষ্ণতম আশ্রয়মাঝে। ইরামের কাঁধের কাপড় ভিজে উঠতে লাগল নতুন ভাবে। অথচ কারোর কোনো পরোয়া নেই। বিলীন তারা একে অপরের আলিঙ্গনে।

ইরামের কাঁধে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে গেল সাইবান,

“আ’ম সরি, আ’ম সো সো সরি, মাই প্রেশিয়াস!”

“আ’ম সরি টু, মাই আলাদিন।”

সাইবানের পিঠে হাত বুলিয়ে দিল ইরাম, তার নিজের চোখজোড়াও কেন যেন ভিজে উঠছে। অপর হাতটা স্বামীর মাথায় ঠেকিয়ে আলতোভাবে চুলে আঙুল বুলিয়ে সে শান্ত করতে চাইল বাঁধ ভাঙা এক অশান্ত সত্তাকে। সাইবানের কানের কাছে মুখ নিয়ে সে বারবার ফিসফিস করে বলে গেল,

“আমারও বোঝা উচিত ছিল। ঐভাবে রেগেমেগে তোমার সাথে কথা বলা উচিত হয়নি। ঠান্ডা মাথায় কথা বললে হয়ত তুমি বুঝতে পারতে। কিন্তু আমি নিজের মেজাজ ঠিক রাখতে পারিনি। ঠিক যেমনটা পারিনি আমার কুচুপু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর। বিশ্বাস করো, ওকে হাসপাতালের বিছানায় দেখে আমি কিছুতেই নিজের মাতৃ অন্তরকে বোঝাতে পারিনি। তোমার মুখটা দেখলেই মনে হত, তুমিই আমার সন্তানের উপর বিপদ বয়ে এনেছ। তোমার আজেবাজে কাজের জন্য আমার বাচ্চা সংকটে পড়েছে। তাই সেদিন ওভাবে সবার সামনে দ্বিতীয় চিন্তা না করেই চড় দিয়েছিলাম। আর আজকেও, তোমার কলার ধরে চিৎকার করেছি। আ’ম সরি।”

“উঁহু। আমাকে ধরে আরও দুইটা চড় দেয়ার দরকার ছিল আপনার।”

ইরামকে দ্বিগুণ শক্তিতে জড়িয়ে ধরল সাইবান। এতটাই দৃঢ় সেই বাঁধন যে রমণীর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু সে সাইবানকে সরালনা। ধরতে দিল। ক্রমাগত হাত বুলিয়ে গেল সমস্ত অস্তিত্বে। সাইবান ফুঁপিয়ে বলল,

“আমাকে চড় দিন, কলার ধরে ঝুলে থাকুন, দরকার হয় কান ধরে উঠবস করান, উঠতে বসতে গালাগাল করুন, সবার সামনে কানমলা দিন, অপমান করুন, তবুও আমাকে ছেড়ে যাবেন না, প্লীজ।”

সাইবান আজ অত্যন্ত আবেগে কথা বলছে। ইরাম তাই বুঝতে পারলনা, সে দীর্ঘ বাস্তবতা ভেবে বলছে নাকি স্রেফ অপরাধবোধ থেকে। বেশি ভাবার চিন্তাও করলনা সে। এমন মুহূর্তগুলো ভীষণ সেনসিটিভ আর অরক্ষিত হয়। তাই সাইবানের মাথায় হাত বুলিয়ে সে মাথা কাত করে আলতোভাবে ভেজা গালে ছুঁয়ে দিল নিজের ঠোঁট। আন্দাজ করে নিল, এখানেই সেইদিন হাসপাতালে চড় মেরেছিল হয়তবা। সাইবান শিউরে উঠল, জমে গেল সম্পূর্ণ। তার ত্বকে ঠোঁট ছুঁয়ে রেখে ইরাম নরম গলায় বলল,

“আমি এখানেই আছি আলাদিন, কোথাও যাচ্ছিনা।”

কিছুক্ষণ নিঃশব্দে ওভাবেই সাইবানকে জড়িয়ে ধরে বসে রইল ইরাম। দোলনা দুললো খুবই আস্তে। তবুও সাইবান নিজের আলিঙ্গন থেকে তাকে মুক্ত করলনা। কিছুক্ষণ সময় পর ইরাম নিজে থেকে নিজেকে একটুখানি ছাড়িয়ে নিজের ওড়না তুলে ধরল,

“দেখি দেখি। এভাবে কেউ কাঁদে নাকি? তুমি কি আমার কুচুপুর মতন বাচ্চা নাকি, হুম?”

সাইবানের ঘাড়ে আলতোভাবে হাত রেখে ওড়নার প্রান্ত দিয়ে ভেজা মুখটা মুছিয়ে দিল ইরাম। চোখ বুঁজে ফেলল সাইবান, নিঃশব্দে অনুভব করল শুধু। ইরাম মুগ্ধ নয়নে দেখল, কেমন বাচ্চার মতন দেখাচ্ছে তাকে। চোখের পাতা অতি যত্নে মুছে নিয়ে অবশেষে ইরাম বলল,

“আর কাঁদবেনা। তোমার গেঞ্জিগিরির সাথে কান্নাকাটি মানায় না।”

এবার ভ্রু কুঁচকে চোখ খুলল সাইবান, এমন অবস্থায়ও প্রতিবাদ করতে ভুললনা,

“জেন জি!”

“হাহাহা…ওই হলো, জেনজি গেঞ্জি একই জিনিস।”

ইরামের মোলায়েম হাসির দিকে একনাগাড়ে চেয়ে রইল সাইবান। তার চোখজোড়া কান্নার কারণে হালকা লাল হয়ে উঠেছে, ঠোঁটজোড়া ফুলিয়ে সে হঠাৎ বলে বসল,

“আপনি আমার এক গালে চুমু দিলেন কেন?”

ইরামের হাসি উবে গেল। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল সে সাইবানের দিকে। উজ্জ্বল শ্যামলা গালে লালিমার পরদ পড়ল। ছেলেটা কি রাগ করল? অথচ তাকে সম্পূর্ণ আহাম্মক প্রমাণ করে সাইবান মুখ ঘুরিয়ে নিজের আরেকটা গাল দেখিয়ে বলল,

“আরেক গালেও দিন। নাহলে বিয়ে হবেনা আমার।”

ভ্রু কপালে উঠে গেল ইরামের,

“এক গালে থাপ্পড় দিলে বিয়ে হয়না শুনেছি, চুমু কবে থেকে? তাছাড়া, তুমি অলরেডি বিবাহিত!”

“তো কি হয়েছে? আমি কোনো রিস্ক নিতে পারবনা। আমার আরেকটা লাগবে। নাহলে যেটা দিয়েছেন সেটা ফেরত নিন!”

মহা বিপাকে পরে গেল ইরাম। চুমু আবার কীভাবে ফেরত নেয়া যায়? মুখ সরিয়ে সে বলল,

“তোমাকে থাপ্পড়ও তো একটা দিয়েছিলাম। আরেকটা দেই?”

“দিন।”

সত্যি সত্যি সাইবান নিজের অপর গালটা এগিয়ে দিল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ইরাম। এতদিন ভাবত ছেলেটা আধপাগল। কিন্তু আজ নিশ্চিত হলো, এটা পুরোটাই পাগল! সাইবানের বাড়িয়ে দেয়া গাল, আর চোখের ওই সুগভীর দৃষ্টি লক্ষ্য করে ইরাম কেন যেন নিজেকে ঠিক নিষ্ঠুর হতে দিতে পারলনা। হাত তুলল সে ঠিকই, কিন্তু থাপ্পড় দেয়ার জন্য নয়। খানিক দ্বিধা নিয়েই সে আস্তে করে ঝুঁকে এলো, সাইবানের মাথার একপাশ ধরে একদম আলতো করে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল গালের মাঝে। শীতল বাতাস ঝাঁপটা দিয়ে গেল শরীরে। খোলা চুলগুলো উড়ে পড়ল সাইবানের চেহারায়। শক্ত একটি ঢোক গিলল ইরাম। এতেই হবে, তাইনা? সরে যেতে চাইল সে, কিন্তু পারলনা। সাইবানের একটি হাত জড়িয়ে গেল ইরামের মাথায় পিছনে, ফিসফিস করে সে বলল,

“এবার আমার পালা।”

তৎক্ষণাৎ মাথা কাত করে ইরামের গালে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে দিল সাইবান। অর্ধাঙ্গিনীর মতন আলতো স্পর্শ নয়, তার অধর ছুঁয়ে গেল অত্যন্ত গভীরভাবে। ইরাম কেঁপে উঠল, অজান্তেই সাইবানের কাঁধ খামচে ধরে ফেলল। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো তার, অনুরণে। সাইবান তার গালে থেমে নেই, ছোট ছোট চুমুর বর্ষণ ঘটিয়ে দিচ্ছে সে ইরামের সমস্ত মুখে। বিশেষ করে কানের নিচে আলতোভাবে কামড় দিতে যেন ভালোবাসে সে। হালকা জ্বলুনি টের পেয়েই হিসিয়ে উঠল ইরাম। শক্তভাবে চোখ বুঁজে ফেলল। ক্ষণিকের জন্য মনে হলো, প্রতিবারের মতো এবারেও সাইবানকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেবে কিনা। অথচ আজ, এই মুহূর্তে, কেন যেন সেই ইচ্ছাটা হলোনা ইরামের। হতবিহ্বল হয়ে তার হৃদয় আবিষ্কার করল, এই ছোঁয়াতে তার আর খারাপ লাগছেনা। অতীতের স্মৃতি তাড়া করছেনা! কেমন যেন পবিত্রতা, স্নিগ্ধতা এবং যত্ন ঘেরা সাইবানের প্রতিটি ছোঁয়ায়। অরণ্যর একেবারেই বিপরীত। জোর খাটাচ্ছেনা সে, তাগিদও দিচ্ছেনা। কিন্তু ইরামের অস্বস্তি হচ্ছেনা, বরং বুকের মাঝে উষ্ণতা ভর করেছে। দূর্বল হয়ে গেল রমণীর শরীর। মন এবং মস্তিষ্কের দোটানায় ভুগল। তবে আজ প্রথমবারের মতন ইরাম মনকে খানিক প্রশ্রয় দিল। কেন, তা নিজেও বলতে পারবেনা।

সাইবানের দুই বাহু ইরামের কোমরে জড়িয়ে গিয়েছে। কাছে টেনে নিতে চাইছে যেন নিজের। ইরাম বাঁধা দিতে পারলনা খুব বেশি। অজান্তেই যেন সে সমর্পণ করে ফেলেছে। সাইবান তার গলায় নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে চিবুকে উঠে এলো, জ্বলজ্বলে চোখে তাকাল ইরামের চোখের দিকে সরাসরি। যেন প্রাণভরে দেখছে তার প্রতিটি ছোঁয়ায় অর্ধাঙ্গিনীর প্রতিক্রিয়া। ইরাম বন্ধ চোখ খুলে তাকাতেই সাইবানকে সরাসরি ঐভাবে চেয়ে থাকতে দেখে লজ্জা পেয়ে গেল। তার সমস্ত মুখে লালিমা ছেয়ে গেল। তার ত্বকের বিপরীতে তীর্যক হাসল সাইবান।

“আপনি জানেন? বাংলার চাইতে সেক্সি কোনো ভাষা দুনিয়ায় নেই?”

ভ্রু কুঁচকে ফেলল ইরাম। বুঝতে পারেনি। সাইবানের সমস্ত চেহারায় সেই চিরায়ত দুষ্টুমিতো ফিরে এলো, সামান্য একটু সরে সে বৃদ্ধাঙ্গুলে ইরামের ঠোঁট স্পর্শ করল, আলতো আঁচে আঙুল বুলিয়ে আবেশিত গলায় বলল,

“ইংরেজিতে এ, বি, সি, ডি, বাংলায় আ, ই, উ, ওহ! আপনার কন্ঠে বাংলাটা দারুণ মানাবে!”

ইরামের মুখ আর লাল আপেলের মধ্যে বর্তমানে কোনো পার্থক্য নেই। দিব্যদৃষ্টি থাকলে হয়ত স্ত্রীর কান বেয়ে ধোঁয়া বেরোতেও দেখতে পেত সাইবান। হেসে ফেলল সে, ঝুঁকে এলো ইরামের ঠোঁটের দিকে। হৃদপিন্ড ঘোড়ার গতিতে ছুটতে শুরু করল তার। ঘাসের মাঝে লেগে থাকা শিশিরের মতন নরম একটুখানি ছোঁয়া অনুভব করতে পারল সে, নিজের ঠোঁটের বিপরীতে ইরামের নরম ঠোঁটের তপ্ততা। তারপর হুট করেই থমকে গেল সে। ইরাম তার চিবুক ধরে এক ঝটকায় দূরে সরিয়ে দিল। হতভম্ব হয়ে রইল সাইবান। ইরামের চোখের দৃষ্টিটা কেমন ধারাল হয়ে উঠেছে।

“তোমার ঠোঁটে কি হয়েছে? জিভ বের করো দেখি!”

এমন মুহূর্তেও মজা নিতে ছাড়লনা সাইবান, বাঁকা হেসে বলল,

“হেহে, নটি গার্ল, স্বামীর জিভ দেখতে চায়!”

বিরক্তি নিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলে নিজেই সাইবানের ঠোঁট চেপে ধরল ইরাম, মুখ খুলতে বাধ্য হলো ছেলেটা। তাতে জিভের ডগায় হালকা ক্ষত স্পষ্ট হলো। হাতের আঙুলেও ক্ষতের দাগ। এই ছেলে ছিলটা কোথায়? দারুণ চিন্তা ভর করল ইরামের মাঝে।

“আগে তোমার ট্রিটমেন্ট দরকার, পরে সব কথা।”

সাইবান বোধ হয় প্রতিবাদস্বরূপ কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু পারলনা। একটি মেয়েলী কন্ঠ ভেসে এলো অদূর থেকে,

“আপা, যা হওয়ার হইসে। ব্যাটা মানুষ মানেই বজ্জাত! বজ্জাতদের জন্য শোক কইরা লাভ নাই। আসেন, আপনি আমি মিলা চা…!”

বাগানের ভেতর হেলেদুলে ঢুকল সুগন্ধা। সে মূলত বেশ অনেকক্ষণ আগে ইরামকে এদিকে আসতে দেখেছিল। আজ বাড়ির ভেতর যা হলো, তারপর মেয়েটার মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক। এতক্ষণ বাদেও যখন ফেরেনি, তখন সুগন্ধা ভাবল একটু ইরামকে সঙ্গ দিয়ে মন ভালো করার চেষ্টা করা যাক। অথচ চোখের সামনের দৃশ্য তাকে বরফখন্ডে পরিণত করল পুরোপুরি। দোলনায় বসে আছে ইরাম, সামনেই হাঁটু গেড়ে বসে আছে সাইবান, তার ঠোঁটের ভেতর ইরামের বৃদ্ধাঙ্গুল, দৃশ্যটা অতি মাত্রায় ব্যক্তিগত। সুগন্ধাকে দেখেই ঝটকা দিয়ে দূরে সরে গেল ইরাম। সাইবান ছিটকে গেল মাটিতে।

“জরিনার আম্মা সকিনাআআআআআ!”

সাইবানের হুংকারে বুঝি জগৎ কেঁপে উঠল।

“হায় ভগবান, রক্ষা করো!”

বিপদ টের পেয়েই সুগন্ধা উল্টো ঘুরে দে ভো দৌঁড়। সাইবান নিজের পায়ের স্যান্ডেল খুলে লাফিয়ে উঠে পিছু নিল মেয়েটার। দূর থেকেই স্যান্ডেলটা নিশানা করে ছুঁড়ে মারল। লাফিয়ে ছিটকে গেল সুগন্ধা।

“আম্মাজান! ভাইজানের উপর অসুর ভর করছে!”

“দুর্গন্ধ! আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন! চুলের মুঠি ধরে এমন পাক্কা মারব, নাগিনের নাগ ছুটে যাবে তোর!”

সুগন্ধার পিছনে তাড়া করে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল সাইবান। ভেতর থেকে ধুপধাপ শব্দ আসতে লাগল। ইরাম দোলনায় থম মেরে বসে থাকল। বুক কাঁপছে তার এখনো। সুগন্ধার সুরেলা একটা চিৎকার ভেসে এলো, তারপরই সাইবানের পৈশাচিক অট্টহাসি। মেয়েটাকে তাহলে বাগে পেয়ে গিয়েছে! ইরাম না পারতে মাথা ঝাঁকিয়ে মুচকি হাসল। দোলনা থেকে উঠে পায়ে পায়ে হেঁটে চলে গেল বাড়ির ভেতর।

***

পরদিন সকাল।

নাস্তা শেষে আহমদ বসেছেন টিভির সামনে। চ্যানেল বদলাতে বদলাতে একটি সংবাদ চ্যানেলে গিয়ে থামলেন তিনি। গমগম কন্ঠস্বরে ভরে উঠল বাড়ির লিভিং রুম।

“গতকাল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকায় একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বি*স্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জানা যায়, রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তারা পরপর কয়েকটি বিকট বি*স্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পান। এই ঘটনায় সমস্ত বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত আগমনের কারণে দুই ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সেই সময়ে বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এখনো নির্ণয় করা যায়নি।”

সংবাদপাঠিকা অনুভূতিহীন যান্ত্রিক কন্ঠে পড়ে যাচ্ছে। সঙ্গে টিভিতে ভাসছে কিছু ধারণকৃত ফুটেজ দৃশ্য। আহমদ টিভির চ্যানেল হুট করে বদলে দিয়ে বললেন,

“আজকাল টিভির সামনে বসলেই শুধু মন্দ নিউজ।”

অপরদিকে টেবিলে বসে সবজি কাটতে থাকা ইরাম ভ্রু কুঁচকে আড়চোখে তাকাল এক প্লেটে তিন তিনটে ডিম আর ইয়া বড় বোতল ভর্তি প্রোটিন শেক নিয়ে বসা সাইবানের দিকে। একটি ডিম চিবুতে চিবুতে সে বলে উঠল,

“সবসময় ভালো লোকের সাথেই মন্দ হয় ব্যাপারটা এমন না বলো? মন্দ লোকের সঙ্গেও মন্দ হওয়া সম্ভব, তাইনা ড্যাড?”

—চলবে—

[ ঈদ মোবারক!!! এবার আগামী এক সপ্তাহ আমাকে যে গল্পের জন্য গুতা দিবে, সে একটা অরণ্য কায়সার! 😒💅🏻]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply