Golpo কষ্টের গল্প পদ্মপ্রিয়া

পদ্মপ্রিয়া পর্ব ১৫


পদ্মপ্রিয়া

#পর্ব_১৫

#ঈশিতা_রহমান_সানজিদা

ঢাকার আকাশে মেঘ থাকলেও নারায়ণগঞ্জ শহরে তেমন আভাস নেই। ঢাকায় আকাশ কাঁপিয়ে বৃষ্টি ঝরলেও নারায়ণগঞ্জের আকাশে হালকা মেঘ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় সম্ভাবনা নেই বলতে গেলে। তবুও সন্ধ্যার কিছুক্ষণ বাদেই সবাই ঘরের দোর দিয়েছে। সাহারা বই খাতা নিয়ে বসেছে। দু’দিন আগে থেকে ভার্সিটি যাওয়া শুরু করেছে। বিয়ের জন্য কতদিন মিস গেল। সামনেই সেমিস্টার পরীক্ষা, নোট জমে আছে অনেক। সেগুলো করছিল সে। শ্বশুর বাড়ির সকলেই খুব আন্তরিক। ভাসুর, জা কেও ভালো মনে হলো তার। যদিও বিয়ের তিনদিন বাদে তারা তাদের কর্মস্থলে ফিরে গেছে। হয়তো বছরে একবার আসতে পারে।

ফোন বেজে উঠল ওর। বই থেকে চোখ সরিয়ে দেখলো অনুপমার ফোন। বিরক্তিতে চোখ কুঁচকে এলো। আবার কোন কারণে ঘ্যানঘ্যান শুরু করবে সে। তবুও ফোন রিসিভ করলো,’কেমন আছিস?’

‘ভালো, তোমরা কেমন আছো?’

‘আমরা সবাই ভালো আছি, তোর তো কোন খোঁজ খবর নেই। জামাই কোথায়?’

‘এখনও ফেরেনি বাসায়।’

‘শোন, জামাইকে সবসময় হাতের মুঠোয় রাখার চেষ্টা করবি। বাড়িতে এলে ওর কখন কি লাগে সব নিজের হাতে দিবি। শ্বাশুড়ি কে করতে দিবি না। তখন দেখবি শুধু তোর কথাই শুনবে।’

সাহারা চটে গেল খুব। গলা চড়িয়ে বলে,’তুমি আর তোমার শ্বাশুড়ির মতো সবাইকে ভেবো না মা। তোমাদের ঝগড়া দেখতে দেখতে চোখ কান দুটোই পচে গেছে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না আমি। দয়া করে আমার মাথা খেও না।’

অনুপমা বুঝলেন মেয়ে তার কথা শুনছে না। সে কথা ঘোরায়,’ভালো বুদ্ধি তো কানে নিবি না। যাই হোক, যে কথা বলতে চাইছিলাম। নূরের জন্য একটা ছেলে দেখেছি, বেশ ভালো। কোরআনের হাফেজ, অবশ্য তোর মামি দেখেছে। এখন তোর দাদুকে রাজি করানোর দায়িত্ব তোর।’

সাহারা নড়েচড়ে বসে। এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে পাত্র ঠিক করতে পারে ওর মা! আশ্চর্যজনক কথাবার্তা শুনে হতভম্ব হয়ে যায় সাহারা। বলে,’এসব কি বলছ মা? এখনই জান্নাতের বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছ কেন? ওর ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপ এটা। একটু সময় দেওয়া উচিত।’

অনুপমা দায়সারা ভাবে বলেন,’আহা, আমি কি ওকে কাজকর্ম করতে না করেছি নাকি? তাছাড়া ধর্ম মতে তো বিয়ের জন্য উপযুক্ত হলেই বিয়ে দেওয়া উচিৎ। একথা তোর দাদুই বারবার বলেছে। এও বলেছিল যে নূরের বিয়ে তাড়াতাড়ি দিবে, তোর বিয়ে তাড়াতাড়ি দিতেও বলেছিল। আমি তখন রাজি হইনি দেখে সে কি কথা!! এখন কেন মেয়ের বিয়ে দেবেন না? এখন এই কথাটা তোকেই দাদুর কানে তুলতে হবে। ছেলে ভালো হলে তো কোন কথা থাকে না।’

‘উপর থেকে ধার্মিক বা হাফেজ যাই বলো, মনটা দেখতে হবে। ধার্মিক হলেই সে মানুষ হয়ে যায়না। আমি দাদুকে বলতে পারি কিন্তু সে যদি জান্নাত কে বিয়ে দিতে না চায় তাহলে আমার কিছু করার নেই।’

‘তোর দাদুর পছন্দ হবে খুব। ছেলে আমিও দেখেছি, খুবই ভালো। ওদের বাড়ি থেকে লোকজন আসবে দেখতে। এখনই ওদের কাজে যেতে হলো। তুই একটু বুঝিয়ে বলিস।’

আর কথা বলতে ইচ্ছে করে না সাহারার, ফোন কেটে স্থির হয়ে বসে থাকে। অনুপমা উগ্র স্বভাবের। ওর কথা না মানলে ইমোশনাল ব্লাকমেইল করে। এজন্য সাহারা কথা বাড়ায় না। চুপচাপ বসে থাকে। ফয়েজ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। এতক্ষণ যাবত সে কথা শুনছিল। সাহারার মনে যে দোটানা তা বুঝতে সক্ষম হলো। এগিয়ে এসে গায়ের কোট এবং ব্যাগটি বিছানার উপর রেখে এগিয়ে গেল সামনে। সাহারার পাশে চেয়ার টেনে বসে বললো,’এনিথিং রং?’

বিয়ে হয়েছে দশ বারো দিন হয়েছে, এখনও মনের সংশয়ের কথা শেয়ার করতে পারছে না সাহারা। কি জানি ছেলেটা কি ভাববে! ফয়েজ ওর হাতের উপর হাত রেখে বলে,’আমাকে বিশ্বাস করতে পারো। তোমার বাড়ির মানুষজন কেমন অদ্ভুত, বিষয়টা আমি খেয়াল করেছি। যার কারণে তোমাকে অন্যরকম লাগে।’

সাহারা মাথা নিচু করে বলে,’তেমন কিছু না, মা জান্নাত কে বিয়ে দিতে চাইছেন।’

‘সে তো ভালো কথা, ভালো ছেলে পেলে বিয়ে দেওয়া তো অন্যায় নয়।’

হতাশ হয় সাহারা,’সমস্যা আছে, জান্নাত কে চোখে দেখতে পারে না মা। আসলে সমস্যা ওর জন্ম থেকেই। অসময়ে জন্ম হওয়ায় জান্নাত কে নিয়ে সবাই হিমশিম খাচ্ছিল। সবার হাসি তামাশা গুলো সহজ ভাবে নিতে পারছিল না মা। সেই তখন থেকে জান্নাত কে কেমন এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। ও মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।’

ফয়েজ চেয়ারে হেলান দিয়ে বলে,’সময়ের সাথে সাথে সবাই মানসিক ভাবে প্রস্তুত হয়ে যায়। তোমাদের ফ্যামিলি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই আমার, নাহলে সমাধান খুঁজতাম।’

তারপর স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,’আজমাঈন আমাদের জন্য হানিমুনের টিকিট গিফট করেছে। এবার তুমি বলো কোথায় যাবে? যে অনুযায়ী টিকিট কাটবে।’

সাহারা চমকে উঠে,’এখন! আমার সামনে সেমিস্টার আছে। এখন গেলে নির্ঘাত ফেইল করব। তখন সবাই আপনাকেই বলবে, কথা শোনাবে।’

ফয়েজ মাথা এলিয়ে দিয়ে হাসলো। মৃদু স্বরে বললো, ‘আচ্ছা!! বউ আমার তার দায়ভার তো আমাকেই নিতে হবে। আমি বলে দেব। সামনের মাসে যাই।’

ফয়েজ উঠে চলে গেল। সাহারা তাকিয়ে দেখলো স্বামীর চলে যাওয়া। ওর কেন যেন মনে হচ্ছে ছেলেটা ওর থেকে পালিয়ে থাকতে চাইছে। কিন্তু কেন তা বুঝতে পারছে না। এই বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলেও স্বর আটকে যায়।

————

ফারিন চাবি দিয়ে দরজা খুললো। নূর ততক্ষণে হাওয়া। ওড়না ওভাবে ফেলে রেখে চলে গেছে, লাগেজ খুলে আরেকটা গায়ে জড়িয়েছে। রুমের দরজটাও বন্ধ। ফারিন খানিকটা অবাক হলো, মেঝে থেকে ওড়না তুলে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো। আজমাঈন তখনও মিটিমিটি হাসছে তবে ফারিনকে ধরতে দিচ্ছে না। নিজেকে প্রাণপণে সংযত রাখার চেষ্টা করছে। ওর আর নূরের কার্যকলাপ এখন পর্যন্ত কারো কাছে প্রকাশ পায়নি। ফারিন নূরের রুমে দুবার টোকা দিয়েও সাঁড়া পেলো না। হয়তো ঘুমিয়ে গেছে।

এজন্য আজমাঈনকে ল্যাপটপ থেকে আজকের প্রজেক্ট গুলো দেখালো। এ বিষয়ে টুকটাক কথাবার্তা চললো। রাশেদ সাহেবের সাথে দেখা সাক্ষাৎ শেষে আজমাঈন তার বাড়িতে ফিরে গেল। আর ওদিকে নূর রুমে বসে আছে অস্থির হয়ে। আরেকটু হলেই ছেলেটার সামনে পড়ে যাচ্ছিল। এছাড়াও বেশ ভয় পেয়েছে সে। দোয়া দরুদ পড়ে বুকে ফুঁ দিলো। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। আজ রাতে সে আর বের হলো না।

রাশেদ সাহেবের ঘুম আসছিল না, ওষুধ খেয়ে রেস্ট নিচ্ছেন। রেহানা বেগমের কল এলো তখন। রিসিভ করে টুকটাক কথাবার্তা শেষ করে আসল কথা তোলেন। কথা হলো নূরের বিয়ের সম্পর্কে। রেহানা স্পষ্ট ভাষায় বলেন,’অনুপমার ভাবি একটা সম্বন্ধ এনেছে নূরের জন্য। বাড়িতে এসে একটু খোঁজখবর নিও।’

রাশেদ সাহেবের কপালে ভাঁজ পড়লো। উনি চান মেয়ের বিয়ে দিতে এবং খুব তাড়াতাড়ি। কিন্তু দেখেশুনে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দিবেন। এতে যত সময় লাগুক। কেননা নূরের ভালো থাকার শেষ ঠিকানা স্বামীর ঘর। ওখানে সুখ না পেলে নূরের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। রেহানা ছেলে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। সব শুনে রাশেদ সাহেব বলেন,’আমার ছেলে বা ছেলের বউকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। বউয়ের ভাবিকে কি করে বিশ্বাস করি বলতো? যাই হোক ওরা পাত্র দেখেছে ভালো কথা। আমিও দেখতে চাই পাত্র কেমন? যেখানে আমার পছন্দ হবে সেখানেই আমার মেয়েকে বিয়ে দেব।’

রেহানা বলেন,’সে তুমি দেখো, নিজেও কয়েকটা ছেলে দেখ তাতেও সমস্যা নাই। পাত্রপক্ষ খুব শীঘ্রই দেখতে আসতে চাইছে। কাজ শেষ করে দ্রুত চলে আসো। সাহারার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে দাওয়াত করতে চাইছে অনুপমা। তাহলে সেদিনই পাত্রপক্ষ এসে দেখে যাক।’

‘আমার মেয়ে সম্পর্কে সব বলেছ তো? একগাদা মানুষের সামনে ওকে যেতে দিব না।’

রেহানা আশ্বস্ত করে বলে,’তা তারাও মানে, ছেলের দেখার অনুমতি আছে তো নাকি। শুধু ছেলে দেখে যাবে মেয়েকে। আর মহিলারা থাকলে দেখবে।’

স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়াতে চান না রাশেদ সাহেব। তাই খুব সুন্দর ভাবে বিষয়টা হ্যান্ডেল করলেন। আপাতত নূরকেও কিছু জানতে দিলেন না। ওদের বাকি কাজগুলো বেশ ভালোভাবেই শেষ হলো। তবে এবার আজমাঈনকে ভীষণ কাছ থেকে খেয়াল করলো নূর। আগে যেমন আশেপাশে চিপকে থাকতো এখন তা করে না। কোন বিষয়ে নূরের অস্বস্তি হলে চট করে বুঝে ফেলে। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সাহায্য করে গেছে ছেলেটা। কখনো কোন ছেলেকে তেমন ভাবে খেয়াল করা হয়নি। এতদিন ধরে একসাথে কাজ করার ফলে হয়তো চোখ পড়ে যাচ্ছে।

সকল প্রজেক্ট শেষ, অর্থাৎ নূরের কাজ শেষ। সে আজ চলে যাবে। রেহানা বেগম আজকেই যেতে বলেছে। কাল বাসায় মেহমান আসবে, নূরকে থাকতে হবে। রাশেদ সাহেব মাঝে একবার বাসায় গিয়ে দু’দিন থেকে এসেছেন। তখনও রেহানা বেগম বারবার করে বলে দিয়েছেন তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে। তবে নূর জানে না যে ওকে দেখতে আসবে বলেই এত তাড়াহুড়া। ওকে বলা হয়েছে সাহারা এসেছে এবং আগামীকাল ওর শ্বশুর বাড়ির লোকজন আসবে। নূর দ্রুত ব্যাগ গোছায়, এতদিন কেমন মুক্ত পাখির মতো ছিলো। বাসায় গিয়ে আবার ঘরবন্দি হবে। তবে এখন থেকে রোজ মাদ্রাসায় যেতে হবে। নাহলে পড়া সব গুলিয়ে যাবে।

ফারিন সহ বাকি দু’জন থাকবে আরো সপ্তাহ খানেক। কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ফিরবে ওরা। হোটেলের রঙের কাজ পুরোপুরি কমপ্লিট হয়নি। এই মাসের মধ্যে সব ঠিক করতে হবে। রাশেদ সাহেব আজমাঈনকে ফোন করে ফ্ল্যাটে ডাকলেন। নিজের চলে যাওয়ার কথা তুলে বলেন,’অনেক দিন থাকলাম তোমাদের শহরে। বেশ ভালো লেগেছে, আমার মেয়েটাও কেমন ফুরফুরে মেজাজে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিন্তু আজ চলে যাচ্ছি, কাজ শেষ হলে আসব একদিন।’

আজমাঈন মাথা নেড়ে বলে,’এভাবে বললে হবে না আঙ্কেল, ওপেনিং এর সময় আপনাকে থাকতে হবে।’

রাশেদ সাহেব হেসে বলেন,’তখন তো বিরাট সেলিব্রিটি দিয়ে ফিতা কাটাবে। আমি বুড়ো মানুষ থেকে কি করব?’ বলতে বলতে হাসি প্রগাঢ় হয়। আজমাঈন বলে,’আমি তা করব না আঙ্কেল, হোটেলের ওপেনিং আমার বাবা করবেন। যার টাকায় এতকিছু করা, তাকে ফেলে ফালতু মানুষজন দিয়ে কিছুতেই ফিতা কাটব না।’

আজমাঈনের চিন্তাভাবনায় মুগ্ধ হলেন রাশেদ সাহেব। আজকালকার যুগে এসব কজন ভাবে! সামান্য একটা সেলুন খুললেও সেলিব্রিটি দিয়ে ওপেনিং অনুষ্ঠান করে। এক্ষেত্রে আজমাঈন আলাদা, অনেকটাই আলাদা। রাশেদ সাহেব বলেন, ‘তুমিও চলো আমাদের বাড়িতে। তোমার বন্ধু এসেছে। গেলে ও খুব খুশি হবে।’

আজমাঈন মাথা নিচু করে হাত ঘড়ি দেখে,’এখন? কাজ চলছে, আমি সব ফেলে রেখে গেলে কেমন হয়?’

রাশেদ সাহেব বলেন,’আমাদের এমপ্লয়িরা আছে। ওদের বিশ্বাস করতে পারো। তাছাড়া একদিনের তো ব্যাপার। চলো ঘুরে আসবে।’

এবার আর না করতে পারে না আজমাঈন। তবে ওর রওনা হতে একটু দেরি হবে। এজন্য রাশেদ সাহেব আগেই বেরিয়ে গেলেন নূরকে নিয়ে। আজমাঈন বিকেলের দিকে বের হলো। কিন্তু রাস্তায় ভয়াবহ অবস্থা, বৃষ্টির সাথে বাতাস বইছে। এবং ক্রমাগত বাতাসের বেগ বাড়ছে। আজমাঈন ভাবলো এখন বের হয়ে বুঝি ভুল করলো। সরাসরি না করতে পারলে যা হয়। এখন যদি ঝড় ওঠে আর গাছপালা ভেঙে গাড়ির উপর পড়ে তাহলে কি হবে? ওর বাপ আজমল শিকদার তো হার্ট অ্যাটাক করবেন। এতগুলো টাকা গেছে গাড়ির পেছনে, এক পয়সা নষ্ট হলে ওনার জান যায় যায় অবস্থা হয়। সেখানে এই ব্ল্যাক মার্সিডিজের কিছু হলে তো অবস্থা আরো খারাপ হবে।

যাই হোক ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে ড্রাইভ করে সে। তবে মাঝপথে গাড়ি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজেই ইঞ্জিনের সমস্যা ঠিক করে নেয়। সন্ধ্যা সাতটায় পৌঁছে যায় সে। গাড়ি থেকে নেমে সদর দরজায় এসে হাত পা ঝাড়ে। ভিজে গেছে পরনের টিশার্ট। কলিং বেল বাজাতেই একজন দরজা খুলে দেয়। ফয়েজ তখন ওর জন্যই অপেক্ষা করছিল। এই অবস্থা দেখে বলে,’এসেছিস গাড়িতে, ভিজেছিস কিভাবে? গাড়ির ছাদ কি ফুটো হয়ে গিয়েছিল?’

‘মাঝপথে স্টার্ট নেওয়া বন্ধ করে দিলো তো। অগত্যা আমাকেই ইঞ্জিন দেখতে হলো। যা বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে, ভিজে একাকার হয়ে গেছি।’

‘আমার শার্ট দিচ্ছি চল।’ বাড়ির সকলে এসে আজমাঈনের সাথে কুশল বিনিময় করে। যেহেতু ভারি বর্ষণ, তাই তাড়াতাড়ি রাতের খাবার শেষ করে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। কালকে মেহমান আসবে কাজ আছে অনেক। সে অনুযায়ী সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে যায় যার রুমে চলে গেল।

আজমাঈন কালো শার্ট প্যান্ট পড়েছে, ফয়েজের সাথে জামাকাপড় শেয়ার করতো আগে। কলেজ, ভার্সিটি লাইফে এমন কত করেছে। আজমাঈন চুলগুলো আঁচড়ে নিলো। অতিরিক্ত ঘন চুল ওর, এজন্য শুকাতে সময় লাগে। এখনও হাল্কা ভেজা রয়েছে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে সিগারেটের প্যাকেট রাখা। ভাগ্যিস ভিজে যায়নি। ঠান্ডা শরীর গরম করতে হলে অন্তত দু’টো সিগারেট খাওয়া দরকার। ফয়েজ কে ডাকবে কিনা ভাবলো। কিন্তু বন্ধু এখন বিবাহিত, রাত দশটায় সিগারেট খেতে ডাকা ঠিক হবে না। তাছাড়া আত্মীয়ের বাসায় এসে ঘটা করে সিগারেট খাওয়া ভালো দেখায় না। তাই ও ঠিক করলো এটা একাই সিগারেট খাবে, রুমে বসে খেলে ধোঁয়ার গন্ধ যাবে না ঠিকমতো। তাই ছাদের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে খাওয়া বেটার অপশন। দরজা খুলে বৃষ্টি দেখতে দেখতে সিগারেট টানা যাবে।

যেই ভাবা সেই কাজ, দরজা খুলে ছাদের উদ্দেশ্য রওনা হলো সে। এ বাড়ির ছাদে অন্য কারো যাওয়া নিষেধ, মানে বাড়ির লোক ব্যতীত কেউ। কেননা নূরের বিশাল বাগান ছাদে, বাসায় থাকলে ওর বেশিরভাগ সময় বাগানে কাটে। কিন্তু এই বৃষ্টির রাতে তো কারো ছাদে থাকার কথা নয়।

ছাদের দরজা হাট করে খোলা দেখে অবাক হলো আজামাঈন। পরমুহূর্তে ভাবলো হয়তো ভুল করে কেউ খুলে রেখে গেছে। সিঁড়ির কাছটা পানির ছিটায় ভিজে ছিপছিপে হয়ে গেছে। বিষয়টা পাত্তা না দিয়ে আজমাঈন সিগারেট ধরায়, বৃষ্টির বাতাসে ধোঁয়া ছাড়তেই মনটা ভালো হয়ে যায়।

একটা সিগারেট শেষ করে দেখলো শরীর গরম হয়নি। আরেকটা ধরায় সে। তখনই পানির অস্বাভাবিক ঝুপঝাপ শব্দ কানে ভেসে এলো। ঘন অন্ধকারে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো কেউ আছে কিনা। কিছুই চোখে পড়ছে না, ভুত হতে পারে। মুখটা বিকৃত করে ফেললো কথাটা ভাবতেই। এই বৃষ্টির রাতে ভুতের খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে বৃষ্টি বিলাস করবে। দরজা থেকে একটু সরে এলো আজমাঈন। মাথার উপর সাদা রঙের বাতি জ্বলছে। চারিদিক স্পষ্ট। হঠাৎ করেই একটা ভেজা হাত এসে ছাদের দরজায় এসে পড়লো। আজমাঈন চমকে দু-কদম পিছিয়ে গেল। সত্যি সত্যি ভুত নাকি!! বুকে কাঁপন ধরলো ওর।

ঠিক তখনই হাতের মালিকের পা পড়লো দরজায়। ঘুটঘুটে অন্ধকার থেকে সে বেরিয়ে এলো। ছাদের দরজা পেরিয়ে এক প্রকার লাফিয়ে দেয়ালে হাত রাখল।

চলবে,,,,,,

আপনারা হয়তো মন ভালো করার জন্য গল্প পড়েন, তবে গল্প লেখার জন্য ভালো মন এবং মানসিকতা দরকার হয়। ভালো পরিবেশও প্রয়োজনীয়। আমি মন যুগিয়ে উঠতে পারছি না। তাই গল্প দিতে দেরি হলে অভিযোগ রাইখেন না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply