Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৩


লামিয়ারহমানমেঘলা

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৩

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
হটাৎ দরজায় টোকা পড়তে কেঁপে ওঠে আদ্রিতা।
দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসে প্রিয়ার কন্ঠ,
“আদ্রিতা আছিস ভেতরে?”

আদ্রিতা উঠে দাঁড়ায় বসা থেকে,
“হ হ্যা আপু এসো৷”

প্রিয়া দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
আদ্রিতাকে কিছুটা চিন্তিত দেখে প্রিয়া এগিয়ে যায়।
“কিরে কি হয়েছে?”

“কিছু না৷”

“কিছু না সিওর?”

“হ্যাঁ আপু।”

“আচ্ছা তোর আর আমার এডমিশন করিয়েছিলো ভাইয়া। মিরা আপুরত হায়ার এডুকেশন। ওর ভার্সিটি আলাদা।
আমি ২ বছর গ্যাপ দিয়ে আবার শুরু করছি তোর সাথে।
আমাদের কাগজ রেডি। কাল থেকে আমরা ভার্সিটিতে যাব।”

কথাটা বলার সময় প্রিয়াকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছিলো।
আদ্রিতাও খুশি হয়েছে কিন্তু তার ভেতরে এখন অন্য চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রিয়া রুম থেকে বেরিয়ে গেলে আদ্রিতা বসে পড়ে বিছনার কোণায়।
মাথায় হাত দিয়ে চুল গুলো শক্ত করে চেপে ধরে।


শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সমুদ্রপাড়ের সেই নির্জন জায়গাটা যেন আলাদা এক জগৎ। দিগন্তে সূর্য ডুবে গেছে কিছুক্ষণ আগে, আকাশে রয়ে গেছে লালচে আর বেগুনি রঙের মিশ্র এক মায়াবী আলো। সেই আলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে গিয়ে চারপাশে নেমে আসছে কোমল অন্ধকার।
সমুদ্রের একদম ধারে ছোট্ট করে সাজানো হয়েছে একটা টেবিল আর দু’টি চেয়ার। টেবিলটার চারপাশে হালকা ফেয়ারি লাইট ঝুলানো, বাতাসে দুলতে দুলতে সেগুলো নরম আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। টেবিলের উপর সাদা কাপড় বিছানো, তার ওপর কয়েকটা ছোট কাঁচের ক্যান্ডেল হোল্ডারে মোমবাতি জ্বলছে,তাদের হলদে আলোয় পরিবেশটা আরও উষ্ণ আর শান্ত লাগছে।
চারদিকে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে কিছু সাদা আর হালকা গোলাপি ফুলের পাপড়ি, যেন বালুর ওপর নরম কোনো রঙিন ছোঁয়া। একটু দূরে ছোট ছোট লাইট দিয়ে একটা আধবৃত্ত বানানো, যা পুরো জায়গাটাকে আলাদা করে চোখে পড়ে এমন করে তুলেছে।
মিরা এসব দেখে থমকে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখে বিস্ময় আর নীরব আনন্দ একসাথে খেলা করে,
যেন সে বিশ্বাসই করতে পারছে না, এত সুন্দর করে কেউ তার জন্য কিছু সাজিয়ে রেখেছে।

“কখন প্লান করেছিলেন এখনে আসবেন?”

“একটু আগেই।”

“মাত্র এতটা সময়ের মাঝে এত কিছু?”

সায়ের, মিরার কোমড় জড়িয়ে ধরে,
“আই ক্যান ডু এনিথিং ফর ইউ৷”

মিরা হাসে গাল ভরে।
সায়ের, মিরার হাত ধরে এগিয়ে যায় সেদিকে।
দু’জন টেবিলে বসে মুখোমুখি।
সায়ের, অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিরার দিকে।
সায়েরের এমন দৃষ্টি দেখে মিরা লজ্জা পাচ্ছে বার বার।
সায়ের গালে হাত দিয়ে মিরার দিকে তাকিয়ে আছে৷
মিরা প্লেট থেকে মাংশের টুকরো নিয়ে সায়েরের গালে তুলে দেয়৷
সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
“এভাবে তাকিয়ে না থেকে খেয়ে ফেলুন৷’

সায়ের বাঁকা হাসে।

দুজন তাদের ডিনার এনজয় করে।
রাত হয়েছে রাশিয়ায়।
অন্ধকার চারিদিকে।
সায়ের ফোনের লাইদ জ্বেলে মিরার হাত শক্ত করে ধরে।
দু’জন সমুদ্র পাড়ে হেঁটে চলেছে৷
মিরা সায়েরের কাঁধে মাথা রেখে বলে,
” আমরা কোথায় যাচ্ছি?”

“সামনে একটা হোটেল আছে সেখানে৷”

মিরা দাঁড়িয়ে যায় কথাটা শুনে। সায়ের ফিরে চায় মিরার দিকে।
“কি?”

“তাহলে এখানে একটু বসি?”

সায়ের মৃদু হাসে,
“ওকে।”

দু’জন বসে বলুর উপর।
দক্ষিণ দিক থেকে আসা তীব্র হাওয়ার ছোঁয়ায় সমুদ্রের বালুচর যেন অদৃশ্য কোনো সুরে কাঁপছে। ঢেউগুলো অন্ধকার জলের বুক চিরে ছুটে এসে ভেঙে পড়ছে নরম বালুর বুকে, একটা দীর্ঘশ্বাসের মতো শব্দ তুলে। চারপাশে জনমানবহীন নির্জনতা, যেন পৃথিবী এই মুহূর্তে শুধু তাদের দু’জনের জন্য থমকে আছে।
মিরার খোলা চুল বাতাসে এলোমেলো হয়ে উড়ছে, কখনো তার মুখ ছুঁয়ে আবার দূরে সরে যাচ্ছে। সে নীরবে মাথা রেখে আছে সায়েরের কাঁধে, একটা নিশ্চুপ আশ্রয়ের মতো। সায়ের স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনে বিস্তৃত অন্ধকার সাগরের দিকে, তার চোখে যেন অনুচ্চারিত বহু ভাবনার ছায়া।
আকাশের গভীর নীলচে কালো পর্দায় একে একে জ্বলে উঠেছে অসংখ্য তারা, মিটিমিটি আলোয় তারা যেন দূর আকাশ থেকে কোনো গোপন গল্প বলছে। তাদের মাঝে আধখানা চাঁদ ঝুলে আছে—অল্প আলো ছড়িয়ে, কিন্তু তবুও পুরো দৃশ্যটাকে এক মায়াবী আবরণে ঢেকে দিচ্ছে।
দু’জনের মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কথা নেই। তবু সেই নীরবতাই যেন সবচেয়ে গভীর ভাষা,
যেখানে শব্দের প্রয়োজন হয় না, শুধু অনুভূতির উপস্থিতিই যথেষ্ট।
এরপর হটাৎ করেই সায়ের মিরার দিকে ঝুঁকে যায়৷
মিরা তা দেখে খানিকটা অবাক হয়।
সায়ের, মিরাকে কিছু বুঝতে না দিয়েই ওর ওষ্ঠদ্বয় আবদ্ধ করে নেয়।
মিরা কোন বাঁধা দিতে পারেনা।
সায়ের যেন সম্পূর্ণটা আওতায় করে নিয়েছে মিরাকে।
কিছুক্ষণ পর সায়ের একটু উঁচু হয়।
মিরা তখনো ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছিলো।
সায়ের তখন বিনা বাক্যে মিরাকে কোলে তুলে নেয়।
তার ভেতরে ঝড় বইছে এই ঝড় মিরাকেই থামাতে হবে।

দু’জন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে প্রবেশ করে।
রিসিপচনিস্ট সায়েরকে দেখে এগিয়ে আসে।
সায়ের এখানে আসলে যে রুমটা বুক করে ওটা খালিই ছিলো৷
সায়ের সেই রুমের চাবিটা নিয়ে মিরার সাথে চলে যায় রুমে।
রুমে এসে মিরার চোখ যায় উত্তর দিকে থাকা বিরাট এক গ্লাস ডোরের দিকে।
গ্লাসের ওপাশে সমুদ্র দেখা যাচ্ছে।
মিরা এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় সেখানে।
পেছনে সায়ের নিজের পরনের কোট খানা খুলে মিরার দিকে এগিয়ে যায়৷
দরজার সামনের পর্দা টেনে দেয় হুট করেই৷
মিরা অবাক হয়ে ফিরে চায়৷
সায়েরের অর্ধনগ্ন শরীর দেখে মিরা লজ্জায় লাল হয়ে যায়৷
সায়ের নিচু হয়ে মিরার ওষ্ঠদ্বয় ফের আঁকড়ে ধরে।
মিরা আর বাঁধা দেয়না৷
তার ইচ্ছে ও নেই বাঁধা দেওয়ার।


টোটো নিজের মেনশনের লিভিং রুমে বসে আছে।
তার সামনে লাড়া বসে৷
লাড়া নিজের হাতের সিগারেট খানা শেষ করে, ওয়াইনের গ্লাস হাতে তুলে টোটোর দিকে তাকায়।
“মিস্টার টোটো কি ভাবলেন তারপর?”

টোরো সোফায় নিজের মাথা এলিয়ে দেয়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“অনেক কিছু৷”

“যেমন?”

“লাড়া যখন কাউকে দেখে হৃৎস্পন্দনের গতি হুট করে বিনা কারণেই বেড়ে যাবে তখন বুঝতে হবে তোমার মনের উপর তোমার নিয়ন্ত্রণ নেই।
এই মুহুর্তে আমি সেটাই অনুভব করছি।
আই ডোন্ট নো হোয়াট ডেস্টিনি রোট ফর মি, বাট আই উইল ট্রায় টু মেক হার মাইন টিল দ্যান মাই লাস্ট ব্রিথ৷”

ওয়াইনের গ্লাসটা চকচক করছে আলোতে।
ভেতরে থাকা লাল তরল পদার্থটা ধিরে ধিরে নড়ছে।
লাড়া এই প্রথম খুবই শান্ত মেজাজে কারোর বলা কথা শুনলো।
কোথাও না কোথাও ভিলেন নামে এই মেয়েটার মনেও টোটোর বলা কথাটার প্রভাব পড়লো৷
নিজেকে দুর্বল হওয়া থেকে বাঁচাতে লাড়া ফের সিগারেটে টান দিলো,
“ডু হোয়াট এভার ইউ ওয়ান্ট ফর হার৷
আমি শুধু সায়ের সুভহান আলভির বরবাদ দেখতে চাই।”

টোটো মৃদু হাসে,
“বুঝলাম আমার হৃদয়কের পোকাটা তোমার হৃদয়ে আরও আগে থেকেই আছে৷”

লাড়া আড় চোখে চায় টোটোর দিকে।
টোটো হেঁসে ফেলে শব্দ করে,
“থ্যাংকস লাড়া, আদ্রিসকে হারানোর দু’টো কারণ দিয়ে দিলে আমাকে।
এখনত যে কোন মূল্যে আমার আদ্রিতাকে লাগবে।
যে কোন মূল্যে।”


রাত ১২ টা।
আদ্রিসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে লিভিং রুমের সোফায় ঘুমিয়ে গিয়েছে আদ্রিতা।
মিসেস মিহু মেয়েকে সোফায় ঘুমাতে দেখে এগিয়ে এলেন।
ঘড়ির কাটায় ১২টা বাজে।
আদ্রিস এখনো এলোনা। মিসেস মিহু হাতে থাকা ফোনটা নিয়ে আদ্রিসের নাম্বার বার করে কল দেওয়ার জন্য।
ঠিক তখনি সদর দরজা খুলে আদ্রিস প্রবেশ করে।
দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে ভীষণ টায়ার্ড।
মিসেস মিহু দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। তার ছেলে দু’টো সত্যি অনেক হার্ড ওয়ার্ক করছে আজকাল।
মিসেস মিহুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আদ্রিস এগিয়ে এলো,
“হোয়াট হ্যাপেন্ড মম?’

মিসেস মিহু আদ্রিসকে জড়িয়ে ধরে। আদ্রিসও জড়িয়ে ধরে মিসেস মিহুকে।
” আর ইউ টায়ার্ড আদ্রিস?”

আদ্রিস, যেন মায়ের ঘ্রাণটা ফিরে পেলো।
সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
“হ্যাঁ মম।”

মিসেস মিহু আদ্রিসের কপালে চুমু খেলেন।
“দ্রুত সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“আই হোপ সো।”

“সায়ের কোথায়?”

“মিরা আপুকে নিয়ে ডেটে গিয়েছে।”

“বাহ আর তুই কাজ করছিস রাত জেগে?’

আদ্রিস টাই লুস করতে করতে বলে,
” ইট’স ওকে মম।”

“দেখ তোর জন্য আদ্রিতা লিভিং রুমেই ঘুমিয়ে গিয়েছে।”

আদ্রিস ভাবে আজ সারাটা দিন মেয়েটাকে সে অনেক বকেছে।
আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে আদ্রিতাকে পাজকোলে তুলে নেয়।

“ওকে মম তুমি ঘুমাও আমি দেখছি৷’

” ওকে। ডিনার করে নিস৷”

“ওকে।”

আদ্রিস, আদ্রিতাকে নিয়ে নিজেদের রুমের দিকে অগ্রসর হয়৷

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply