ডেসটেনি [ ১২_ প্রথম অংশ ]
সুহাসিনি_মিমি
“মজা কই করলাম। আ”ম অলসো ভেরি সিরিয়াস! ভয় তো বেচারা সাপ টা আপনাকে পাচ্ছে। আরেকটু জোরে পা দিয়ে চেপে ধরলেই বেচারা পটল তুলবে হান্ড্রেড পার্সেন্ট!”
ঠোঁটের কোণ থেকে চাপা হাসি সরছেই না লোকটার। প্রিয়ন্তীর ভয়ার্ত মুখটা দেখতেই আরও দিব্যি মজা পাচ্ছে যেন। প্রিয়ন্তী হতভম্বর ন্যায় ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে রইলো শুধু। কতটা হার্টলেস এই লোক ভাবা যায়! কাপুরুষ কোথাকার! ব্যাটা তুই জীবনও বউয়ের সঙ্গ পাবিনা। তোর বউ তোর সামনেই অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে যাবে।টু বউকে জীবনেও স্যাটিসফাইড করতে পারবিনা সালা। মনে মনে আরও বেশ কয়েকটা গালি ছুড়েও শান্ত হতে পারছেনা প্রিয়ন্তী। পায়ের নিচে এমন মর ণ যন্ত্রনা নিয়ে কি শান্তি থাকা যায়?
এইবার ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো মেয়েটা। ওর কান্নায় যেন হুস ফিরে এলো তাজধীরের। গুরুগম্ভীর হয়ে লোকটা এবার বলল,
“একদম নড়বেন না।”
প্রিয়ন্তী এমনিতেই পাথর হয়ে আছে। কথাটা শুনতেই খানিকটা আশার আলো ফিরে পেলো ও। চোখ-মুখ শক্ত করে বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল ওভাবেই। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা এমন জোরে ধুকপুক করছে মনে হচ্ছে আসে পাশের সবাই ও শুনতে পাচ্ছে সেটা।
তাজধীর পকেট হাতড়ে একটা রুমাল বের করল। রুমালটা হাতে পেঁচাতে পেঁচাতে আবার বলল,
“আমি যা-ই করি না কেন, আপনি একচুলও নড়বেন না। গট ইট?”
উপর নিচ মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি জানাল প্রিয়ন্তী। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা পাভেল উত্তেজনায় উঠে আসতে চাইলে হাত দিয়ে ইশারায় আসতে বারণ করে দেয় তাজধীর।
নিচ থেকেই এবার জোরে হাঁক ছাড়ছে পাভেল,
“ভাই একটু জলদি কিছু করুন। আমার বোনটা ভীষণ ভয় পাচ্ছে যে!”
ওদিকে পায়ের নিচে সাপটার নড়াচড়া আরও স্পষ্ট করে অনুভব করছে প্রিয়ন্তী। শরীরের প্রতিটা স্নায়ু টানটান হয়ে আছে ওর। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মিতালী, পাভেল আর হাসিবও নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে শুধু। তাজধীর এবার নিচু হয়ে এলো। রুমালটা শক্ত করে হাতে পেঁচিয়ে সাবধানে সাপটার মাথার দিকে হাত বাড়াল সে। এক লহমায় সাপটার মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে টান দিতেই ফোঁসফোঁস করে শব্দ করে উঠল সরীসৃপটা।নিয়ে এলো হাতের মুঠোয়। তৎক্ষণাৎ সেটাকে একটু দূরের ঝোপের দিকে ছুড়ে ফেলল সে। ঝোপে পড়তেই সাপটা সরসর শব্দ করে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল তৎক্ষণাৎ।
অমনি নিচ থেকে একসাথে কয়েকটা হাঁফ ছাড়ার শব্দ ভেসে এলো,
“উফ! আল্লাহ! বাঁচসে!”
ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে প্রিয়ন্তী বুঝতেই পারল না ঠিক কী হলো।আদৌ সাপটা ওর পায়ের নিচ থেকে সরেছে তো?ততক্ষনে তাজধীর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,
“এখন চোখ খুলতে পারেন।”
প্রিয়ন্তী তখনো মূর্তির মত দাঁড়িয়ে। শরীরটাও কেমন শক্ত হয়ে আছে ভয়ে। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছে এখনো। মনে হচ্ছে একটু নড়লেই বুঝি আবার পায়ের নিচে কিছু নড়বে। এভাবে কেটে গেলো কয়েক সেকেন্ড।
শেষ পর্যন্ত সাহস সঞ্চয় করে প্রিয়ন্তী কিঞ্চিৎ চোখ খুলল। তারপর আবার দ্রুত বন্ধ করে ফেলল। গলা শুকিয়ে কাঠ। দাঁত চেপে, চোখ-মুখ কুঁচকে আতঙ্কিত স্বরে বলল,
“ফে… ফেলেছেন?”
তাজধীর ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে বলল,
“জ্বি। ব্যাটাকে তো প্রায় ভর্তা বানিয়েই ফেলেছিলেন আপনি। আপনি বেঁচে গেলেও ব্যাটা আদৌ বাঁচবে কিনা সন্দেহ!”
প্রিয়ন্তী তাজধীরের অহেতুক কথায় আর পা দিলোনা। আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস ওর নেই। ঝট করে চোখ খুলে চারপাশে একবার তাকাল। সাপটা সত্যিই নেই দেখে আর দেরি করল না। মুহূর্তের মধ্যে সরে গেল তাজধীরের পাশ থেকে।
তারপর প্রায় দৌড়েই নিচে নামতে লাগল ও।
নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মিতালী, পাভেল আর হাসিব তখনও উদ্বিগ্ন মুখে তাকিয়ে আছে উপরের দিকে।
প্রিয়ন্তীকে নেমে আসতে দেখেই মিতালী ছুটে গিয়ে হাত ধরল ওর,
“প্রিয়! তুমি ঠিক আছো তো? আল্লাহ যেই ভয়টাই না পেয়েছিলাম!”
প্রিয়ন্তীর বুক তখনো উঠানামা করছে দ্রুত। ভয়ে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বের হলো না ওর মুখ দিয়ে। হ্যা না কিছুই বললো না উত্তরে। পাভেল দ্রুত এসে জিজ্ঞেস করল,
“কামড়ায়নি তো?”
প্রিয়ন্তী মাথা নাড়ল। হাফ ছাড়ল পাভেল। বোনকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। এরপর বলল,
“এখানে আর থাকা লাগবেনা। সবাই দ্রুত চলো। এখানে আর এক সেকেন্ড ও না!”
তাজধীর ততক্ষনে নেমে এসেছে নিচে। অন্ধকারে গাছপালা, ঝোপঝাড়, সবকিছুই বেশ অস্বস্তিকর লাগছে এখন।মিতালী গলা নামিয়ে বলল,
“চলো, চলো। এখানে আর এক মুহূর্তও থাকতে ইচ্ছা করছে না ভাই!”
হাসিব ও তৎক্ষণাৎ সায় দিল,
“হ্যাঁ, চলো। এমনিতেও দেরি হয়ে গেছে!”
রাতের অন্ধকারে কাঁচা পথটা বেশ পিচ্ছিল লাগছিলো। কোথাও কোথাও শুকনো মাটি, আবার কোথাও কাদামাটির স্তর। সবাই সাবধানে পা ফেলে এগোচ্ছিল সামনে। অটো টা তখনই চলে গেছে। অন্ধকারে উঁচু নিচু পথটায় হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ থমকে দাঁড়াল হাসিব। পায়ের নিচে কেমন নরম, চ্যাপচ্যাপে একটা অনুভূতি হচ্ছে ওর। ভ্রু কুঁচকে নিচের দিকে তাকাল। তারপর তাড়াতাড়ি পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্ল্যাশলাইট অন করল।
আলোটা জুতার দিকে পড়তেই মুখটা সঙ্গে সঙ্গে বিকৃত হয়ে গেল ঘৃণায়।
“উফফ!এইটা আবার কী!”
গলা দিয়ে কয়েকটা বিরক্তির শব্দ বেরিয়ে এল।ওর জুতার উপর পুরোটা জুড়ে লেপ্টে আছে তাজা গরুর গোবর। শুধু ওপরেই নয়, জুতার ফাঁকফোকরেও ঢুকে গিয়ে চ্যাপচ্যাপে হয়ে আছে। গন্ধটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই পাশে থাকা সবাই একসাথে নাক-মুখ কুঁচকে ফেলল। মিতালী তাড়াতাড়ি একটু দূরে সরে গিয়ে বলল,
“ইসস! হাসিব ভাই কিসের উপর পা দিয়েছেন আপনি?”
পাভেলও মুখ বিকৃত করে বলল,
“ভাই, জুতার অবস্থা তো একদম শেষ!”
হাসিব নিজেই বিরক্ত হয়ে জুতার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল,
“ধুর!এখনই এটা হতে হলো? “
তাজধীর হাটছিলো সবার পিছনে। সবাই থেমে দাঁড়াতে থেমে দাঁড়ালো সেও। বন্ধুর পায়ে লক্ষ্য করতেই তৎক্ষণাৎ নাক কুঁচকে বিরক্ত মুখে বলল,
“দ্রুত গিয়ে পরিষ্কার করে আয়। তোর থেকে এমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে পাশে দাঁড়ানোই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।”
হাসিব বিরক্ত হয়ে চারপাশে তাকাল একবার। একটু দূরেই অন্ধকারের মধ্যে একটা ছোট পুকুর চোখে পড়ল। পানির উপর হালকা চাঁদের আলো পড়ছে।
“ওইখানেই ধুয়ে আসি,” বলে সে দ্রুত সেদিকে হাঁটা দিল। পুকুরের ধারে গিয়ে সাবধানে পা নামাতে গেল।
কিন্তু কাদামাখা ঢালু পাড়টা যে কতটা পিচ্ছিল, সেটা বুঝতে পারল না বেচারা। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই—
ধপাস করে পা পিছলে পরে গেল সেই পুকুরেই। পুকুরের পানি ছিটকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল।
নিচ থেকে সঙ্গে সঙ্গে ভেসে এল হাসিবের হাঁকডাক,
“আরে ধুর! ধুর!বাল!”
ওদিকে দাঁড়িয়ে থাকা বাকিরা কয়েক সেকেন্ড হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। আচমকাই হো হো করে হেসে উঠল মিতালী। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা মেয়েটার। পাভেলও হাসি চেপে রাখতে পারল না।প্রিয়ন্তী ও হাসছে ঠোঁট চেপে।
পুকুরের ভেতর থেকে ছপছপ শব্দ ভেসে আসছে। পানির ভেতর হাত-পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে কোনোমতে ব্যালান্স করে স্থির হয়ে দাঁড়াল হাসিব । মাথা থেকে শুরু করে জামাকাপড়—সবকিছু একেবারে ভিজে চুপচুপে। চুলগুলো কপালের উপর লেপ্টে আছে। জামা থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা বাকিরা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে দৃশ্যটা দেখল। হাসিব উঠতেই মিতালী প্রথমেই হেসে কুঁকড়ে যেতে যেতে বলল,
“আল্লাহ! হাসিব ভাই, গোবর ধুতে গিয়ে তো একেবারে নিজেই ধুয়ে-মুছে গেলেন!”
পাভেলও পেট চেপে হাসতে হাসতে বলল,
“ভাই, জুতা কি ধুইতে গেসেন নাকি নিজেকে? “
প্রিয়ন্তীর ভয়ও ততক্ষণে অনেকটাই কেটে গেছে। হাসি চেপে রাখতে না পেরে সে-ও মুখ ঢেকে খিলখিল করে হেসে উঠল। পুকুরের ভেতর থেকে বিরক্ত মুখে তাকাল হাসিব।
“এইটা হাসার কিছু হইল?”
বলতে বলতেই কোনোমতে পাড়ে উঠে এল সে। পুকুরের ধারে দাঁড়িয়ে প্রথমে দু’হাত দিয়ে চুল থেকে পানি ঝাড়ল। তারপর জামা ঝাড়া দিল। চারদিকে আবার পানি ছিটকে পড়ল।মিতালী তাড়াতাড়ি এক পা পিছিয়ে গেল।
পাভেল আবার মজা করে বলল,
“ভাই, সাবধানে ঝাড়েন। না হলে আবার পিছলাইয়া পড়বেন!”
তাজধীর তখন দু’হাত বুকের কাছে গুটিয়ে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখছিল। ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি রেখে
ধীর গলায় বলল,
“তোর জন্য আলাদা করে গোসলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে ভাবছিলাম। দেখছি প্রকৃতি নিজেই সেই দায়িত্ব পালন করে ফেলেছে। আগামী দশদিন অন্তত আমার কাছ থেকে দূরে দূরে থাকবি!”
আরও এক দফা হাসির রোল উঠল।কিন্তু হাসিব?
সে যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব করে দাঁড়িয়ে রইল। মুখটা যতটা সম্ভব গম্ভীর করে বলল,
“হাসা শেষ হইছে? হলে চলো। ঠান্ডা লাগতেছে।”
আরও একচোট হাসি শেষে আবার হাঁটা শুরু করল কাঁচা রাস্তা ধরে।হাসাহাসির রেশ তখনো পুরোপুরি কাটেনি। হাসিব ভেজা জামা গায়ে নিয়েই বিরক্ত মুখে হাঁটছে সামনে। আর বাকিরা মাঝে মাঝেই তাকে নিয়ে খোঁচা দিচ্ছে। কাঁচা রাস্তা ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে সবাই। গভীর রাত না হলেও এখানকার পরিবেশ দেখলে মনে হবে বেশ বেলা গড়িয়ে গেছে। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে তুমুল বেগে। গাছের সারি আর ঝোপঝাড়ে ঘেরা পথটা অন্ধকারে আরও বেশি নির্জন মনে হচ্ছে। ঠিক তখনই হঠাৎ করে এক ঝটকা বাতাস বইল। শোঁ শোঁ শব্দ তুলে বাতাসটা গাছের ডালপালা কাঁপিয়ে গেল।শুকনো পাতাগুলো সড়সড় করে উঠল। মুহূর্তেই চারপাশের পরিবেশটা কেমন যেন অদ্ভুত হয়ে উঠল—গা ছমছম করা এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল বাতাসে।
মিতালী নিজের বাহু দু’টো ঘষে বলল,
“উফ! হঠাৎ এমন ঠান্ডা বাতাস লাগল কেন?”
প্রিয়ন্তীর খোলা চুলগুলো বাতাসে উড়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে । অন্ধকারে চুলগুলো মুখের উপর এসে পড়ছে বারবার। বিরক্ত হয়ে হাত দিয়ে সরাচ্ছে ওগুলো। তাজধীর ওদের সবার পেছনেই হাঁটছিল। হঠাৎ সেই দৃশ্যটা চোখে পড়তেই ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেল তার। একবার সতর্ক চোখে চারোপাশে চোখ বুলিয়ে কিছু একটা ভেবে প্রিয়ন্তীর পাশ কাটিয়ে গিয়ে খুব নিচু স্বরে মিতালীকে বলল,
“তোর ননদকে বল মাথায় ওড়না দিতে।”
কথাটা বলেই আবার আগের মতো হাঁটা দিল সামনে।
মিতালী প্রথমে খানিকটা অবাক হয়ে তাকাল ভাইয়ের দিকে। তারপর বুঝতে পেরে প্রিয়ন্তীর দিকে ফিরল।
“এই প্রিয় মাথায় ওড়না দাও ।”
প্রিয়ন্তী একটু থমকে তাকাল।
“কেন?”
মিতালী কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
“এই রাতে খোলা চুলে থেকোনা। দেখছোনা কেমন বাতাস বইছে। ওড়নাটা মাথায় দাও!”
ভাবীর কথা মতোই জামার ওড়নাটা টেনে মাথায় জড়ালো প্রিয়ন্তী। পিছনে থাকা তাজধীর আড় চোখে একবার লক্ষ্য করে পুনরায় আগের ন্যায় গুরুগম্ভীর ভাবেই হাঁটতে লাগে সামনে।
চলবে….
(কালকের মধ্যে ৪ হাজার রিয়েক্ট আর ৪০০ প্লাস কমেন্ট উঠাতে পারলে আগামীকাল পরবর্তী অংশ পাবেন 🫶)
Share On:
TAGS: ডেসটেনি, সুহাসিনী মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেসটেনি পর্ব ৭
-
ডেসটিনি পর্ব ৫
-
ডেস্টিনি পর্ব ৪
-
ডেসটেনি পর্ব ৮
-
ডেসটেনি পর্ব ৯
-
ডেসটেনি পর্ব ৩
-
ডেসটেনি পর্ব ১
-
ডেসটেনি পর্ব ২
-
ডেসটেনি পর্ব ৬
-
ডেসটেনি পর্ব ১০