Golpo romantic golpo প্রেমবসন্ত প্রেমবসন্ত সিজন ২

প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৮


প্রেমবসন্ত_২ ।৪৮।

হামিদাআক্তারইভা_Hayat

ভোর সকাল বেলায় আজ মাশফিক চৌধুরী হাঁটতে বের হয়েছেন নাতিকে নিয়ে। আগে ব্যস্ততা না থাকলে অবশ্য মেয়েদের নিয়ে বের হওয়া হত। তবে এখন কাজের চাপে সেই সময় টুকু হয় না। আদি আজ সাদা রঙের পাতলা একটা গেঞ্জি পরেছে হাফ কুয়াটার প্যান্টের সাথে। সে নানার হাত ধরে হাঁটছে রাস্তায়। সামনেই বিশাল বড় লম্বা রাস্তা—যার ডান সাইডে সব মরুব্বি মানুষরা এই সাতসকালে দৌঁড়াতে ব্যস্ত। আদি ঘাড় উঁচু করে নানার গম্ভীর মুখ খানা দেখে বলল,
“ও নানা, মামু আমার বউ এনে দেয় না কেন?”

এমন সময় নাতির উদ্ভট কথা শুনে তিনি থমকালেন। এইটুকুনি ছেলে এখন বিয়ের বোঝেই না কি? তিনি কপালে ভাঁজ ফেললেন। দৃষ্টি নত করে বললেন,
“তোমার কোন মামু তোমাকে বউ এনে দেবে?”

“বড় মামু।”

“সে কোত্থেকে বউ আনবে?”

আদি ঠোঁট উল্টাল। বলল,
“মামুর বউয়ের পেটে আমার বউ আছে জানো না তুমি?”

হেসে ফেললেন মাশফিক চৌধুরী। কথা না বাড়িয়ে আবার সামনে হাঁটা ধরলেন। তাদের থেকে একটু দূরে স্বার্থ আর মেহরাব। ওরা হাঁটতে বের হয়েছিল। আদির চোখ গেল সেদিকে। দাদার হাত ছেড়ে “স্বার্থ ভাই” সম্বোধন করল চিৎকার করে। তৎক্ষণাৎ ছুটে গেল সামনে। স্বার্থ ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকালে দেখে আদি দৌঁড়ে আসছে এদিকে। ঠোঁট টেনে হেসে এক টানে কোলে তুলে নিল ওকে। আদি স্বার্থর গালে টুপ করে এক খানা চুমু এঁকে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে বলল,
“তুমি আমাদের বাড়ি যাও না কেন?”

স্বার্থর কোল থেকে মেহরাব ওকে নিজের কাছে টেনে ওর গাল চেপে ধরে বলল,
“তুই কেন আসিস না আমাদের বাড়ি?”

আদি গাল ফুলিয়ে বলল,
“মা বকে। মা কোথাও যেতে দেয় না।”

পেছন থেকে ধীরে ধীরে হেঁটে এলেন মাশফিক চৌধুরী। এসে থামলেন তাদের সামনে। স্বার্থ এক গাল হেসে সব গুলো দাঁত বের করে লম্বা করে সালাম করল। মাশফিক চৌধুরী গম্ভীর হয়ে সালামের উত্তর নিলেন। স্বার্থকে উপেক্ষা করে মেহরাবের দিকে তাকালেন নরম চোখে। মৃদু হেসে বললেন,
“তোমার খবর কী? শুনলাম বিয়ে ঠিক হয়েছে?”

মেহরাব একটু লজ্জা পেল। মাথা চুলকে বলল,
“ঠিক হয়নি আঙ্কেল। ঠিক হলে তো আপনারাই সবার আগে জানতে পারবেন। আম্মু মেয়ে দেখেছে আরকি!”

“মেয়ের বাড়ি কোথায়?”

“গুলশানেই। আমার বাসা থেকে বেশি দূরে নয়।”

“শোনো, মেয়ে পছন্দ হলে বিয়ে করে ফেলো তাড়াতাড়ি। আবার হাঁটুর বয়সী মেয়েকে বিয়ে করো না যেন!”

স্বার্থ থমথমে খেল তার কথায়। কোনো ভাবে কী মাশফিক চৌধুরী তাকে খোঁচা মেরে এই কথাটা বললেন? মেহরাব বলল,
“না আঙ্কেল, মেয়ে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী।”

“বেশ ভালো। সময় করে শেহেরকে নিয়ে বাড়িতে এসে ঘুরে যেয়ো।”

স্বার্থ ফট করে বলে উঠল,
“আমি যাব না? আমাকে কেন যেতে বলছেন না আব্বু?”

মাশফিক চৌধুরী দাঁত চেপে তাকালেন। ধমক দিয়ে বললেন,
“আব্বু কে তোমার? কতবার বলেছি আমাকে আব্বু ডাকবে না?”

স্বার্থ মুখ কালো করে বলে,
“আপনার মেয়েকে বিয়ে করলে আপনি আমার আব্বু হবেন না? আমি তো আপনাকে শ্বশুর বানানোর প্ল্যান করছি সেই ল্যাংটা কাল থেকে। আমার ল্যাংটা কালের ইচ্ছে পূরণ করার সময় হতেই আপনি এমন পল্টি খাচ্ছেন কেন?”

“চড়িয়ে তোমার দাঁত ফেলে দেব বেয়াদব ছেলে। আমি একবারও বলেছি আমার মেয়েকে তোমার মতো লাফাঙ্গা ছেলের সাথে বিয়ে দেব?”

“আপনার অমন ফাজিল মেয়েকে আমি ছাড়া কে বিয়ে করবে? আজ অপমান করছেন কিন্তু কাল ঠিকই তুলুতুলু করে বলবেন আমার মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে যাও। তখন কিন্তু এই স্বার্থ আপনার কথা শুনবে না।”

মাশফিক চৌধুরী রেগে তাকালেন। আদিকে টেনে নিয়ে জোর করে জায়গা প্রস্থান করলেন। স্বার্থ মুখ কালো করে মেহরাবের দিকে ফিরল।
“বুঝলাম না ভাই, দুদিন আগেও এই হিটলার শ্বশুর আমাকে বাবা বাবা বলে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলত, আর এখন ধমকের উপরে রাখে।”

মেহরাব হেসে স্বার্থর কাঁধে হাত রাখে।
“মনেহয় তোর হবুশ্বশুর তোদের প্রেমের ব্যপারে জেনে গেছে।”

“জানলে তো খুশি হওয়ার কথা। আমি কী দেখতে শুনতে খারাপ? নাকি আমার টাকা পয়সা নেই? যে টাকা আছে তাতে উনার মেয়ে আজীবন পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে খেতে পারবে।”

“উনি নিশার বাবা হন। উনার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আশা থাকতেই পারে। হয়তো তিনি আরও বেটার কিংবা আরও সময় নিতে চাইছেন। বুঝতেই পারছিস বড় মেয়ের সাথে একটা ঘটনা ঘটে গেছে, তারপর আবার অন্য কাউকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করা উনার পক্ষে সম্ভব নয়।”

“তাই বলে আমাকে উনি মানতে পারছেন না? আমাকে ল্যাংটা কাল থেকে দেখে আসছেন তিনি। জানেন আমি কেমন ছেলে?”

মেহরাব ওকে নিয়ে উল্টো পথে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“চাপ নিস না। তোর বউও পাগল, ঠিক একটা উপায় বের করে গলায় ঝুলে যাবে।”

•••

কায়নাত অর্ণর ঘরটা সবে পরিষ্কার করেছে। লোকটা কদিন ধরে এত বেশি ছন্নছাড়া হয়েছে যা বলার বাইরে। কায়নাত ওড়না কোমরে বেঁধে অর্ণর ধুইয়ে দেয়া জামা-কাপড় গুলো নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বাইরে এলো। আজ বাইরে মেঘলা মেঘলা ভাব। ক্লাস আছে আজ। যাবে কী? নাকি বাড়িতে থেকে যাবে? কায়নাত ঠোঁট উল্টে অর্ণর কাপড় গুলো ছাদে দিয়ে এসে গোসল করল। নামাজ শেষে নিচে নামল খাওয়ার জন্য। নিচে নেমে দেখল বাড়ির মেয়েরা সবাই মাত্র খেতে বসেছে। বাড়িতে একটা পুরুষ মানুষও নেই আদি ছাড়া। নিধি আড়চোখে কায়নাতকে দেখে মুচকি হেসে ডাকল নিজের কাছে।

“আমার কাছে এসে বোস।”

কায়নাত নিধির পাশে গিয়ে বসলে সাঈমা সবাইকে খাবার বেড়ে দিল। আদি বসেছে কায়নাতের পাশের চেয়ারে। বাচ্চাটা হাত দিয়ে খাবার খায় না, তবু আজ নিজেই হাত দিয়ে খাবার খেতে বসেছে। কায়নাত মুখ বাঁকাল ওকে দেখে। নুসরাত সামনে থেকে বলল,
“আজ একটু বাইরে যাব। কায়নাতের আজ ক্লাস আছে না? যাওয়ার সময় আমাকে নিয়ে যেয়ো।”

কায়নাত নরম স্বরে জবাব দেয়,
“আমি ভাবছি আজ যাব কিনা। বাইরে তো বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব দেখছি। পরে বৃষ্টিতে আঁটকে গেলে তোমার ভাই বকবে।”

বেহরুজ বেগম গম্ভীর গলায় বললেন,
“তোমার কী পড়াশোনা করার ইচ্ছে নেই? অর্ণ যদি বলে পড়ার দরকার নেই তাহলে কী পড়বে না? আমি ড্রাইভারকে বলে দেব নাহলে আয়মান গিয়ে নিয়ে আসবে।”

কায়নাত জবাব দিতে পারল না। এখন তার পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করছ না। দুদিন আগেও মনে হয়েছিল পড়াশোনা করলে ভালো হবে। কিন্তু এখন জামাইকে ছাড়া যেন মাথায় কিছুই ঢোকে না। ওই লোকটা তার মেয়ে খেয়ে ফেলেছে। সবার খাওয়া দাওয়া শেষ হলো। কায়নাত সব বাসন গুলো সাঈমার সাহায্যে রান্না ঘরে নিয়ে গেল। ওসব রেখে ড্রয়িংরুমে সোফায় বসে থাকা আদির দিকে তাকাল। আজ সকালে বিচ্ছুটা যা কাণ্ড করেছে ঘরে গিয়ে! কায়নাত মুখ ফিরিয়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটা ধরল। উদ্দেশ্য নিধির সাথে কথা বলা। আদি বোধহয় দেখল মামুর বউ তাকে উপেক্ষা করে চলে যাচ্ছে। সে কপাল কুঁচকে অর্ণর ভঙ্গি কপি করে বলল,

“ও মামুর বউ! এদিকে আসো একটু।”

কায়নাত হতবুদ্ধির ন্যায় পেছনে তাকাল। দাঁত চেপে বলল,
“তোমার মামুকে বলে কিন্তু খুব মার খাওয়াব। মামুর বউ আবার কী? মামি ডাকতে পারো না?”

আদি বলল,
“তুমি আমার মামুর বউ না?”

“হ্যা।”

“তাহলে হলে না মামুর বউ? কাছে আসো না!”

কায়নাতকে নিকটে আসতে না দেখে সে নিজেই গুটি গুটি পায়ে কাছে এগিয়ে এলো। বলল,
“আমার মামু কোথায় জানো? মামুর কাছে যাব আমি।”

আদি বড্ড বেশি বিরক্ত করছে এখন কায়নাতকে। না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে কিছু করতে। সে আড়চোখে রেগে তাকাল। গুনগুন গলায় বলল,

“আমার জামাইয়ের শরীর চিপকে থাকবে না একদম।”

আদি মুখ গম্ভীর করে বলল,
“তাহলে আমার বউ এনে দাও।”

“তোমার বউ কোত্থেকে আনব আমি?”

“মামু বলেছে আমার বউ তোমার পেটে। তাড়াতাড়ি ওকে বের করো।”

আদির কথা শুনে কায়নাত এবার সত্যিই থতমত খেয়ে গেল। রাগে গজগজ করতে করতে সে আদি’র গাল টেনে দিয়ে বলল,
“তোমার মামু একটা পাগল। আর তুমি হচ্ছ পাগলের চ্যালা! যা তা শিখিয়ে দিচ্ছে তোমাকে। আর তুমিও তো কম নও, দিন দিন ইঁচড়েপাকা হচ্ছ!”

আদি গাল ডলতে ডলতে মুখটা হাঁড়ি করে বলল,
“আমি ইঁচড়েপাকা না! মামু বলেছে ছোট বোন আসবে, সে নাকি আমার বউ হবে। তাড়াতাড়ি আমার বউকে বের করো নাহলে ছুরি দিয়ে তোমার পে’ট কে’’টে আমার বউকে বের করব।”

তখন উপর থেকে নুসরাত গলা ফাটিয়ে আদিকে ডাকছে। আদি দৌঁড়ে গেল উপরে। কায়নাতও হাঁটা ধরল। নিশার ঘরে গিয়ে দেখল নিধি চুপচাপ বিছানায় বসে আছে। বড্ড বিষন্ন মেয়েটার মুখ। সে এগিয়ে গিয়ে বসল। নিশা গেছে নুসরাতের ঘরে। নুসরাত নিশার সাথে কথা বলে না সেদিনের পর থেকে। আজ হয়তো বোনের সাথে একটু কথা বলবে। কায়নাত নিধির পাশে বসতেই নিধি মুচকি হেসে বলল,
“হঠাৎ এই ঘরে এলি যে?”

কায়নাত তার নরম হাত নিধির ডান গালে স্পর্শ করে বলল,
“কে মেরেছে তোমায়? অমন হাতের থাবা পড়ল কী করে?”

নিধি কথা এড়িয়ে আমতা আমটা শুরু করল। কী করে বলবে, এই স্পর্শ প্রেমের? নিধিকে আমতা আমতা করতে দেখে কায়নাত বিছানায় পা উঠিয়ে বসল। নিধির হাত মুঠোয় নিয়ে বলল,
“আমি জানি আমার গুণধর দেবরের সাথে তোমার চক্কর চলে। এখন শুধু এইটুকু বলো, এই হাতের থাবার মালিক কী তোমার ডাক্তার বাবু?”

নিধি একে একে সব খুলে বলল কায়নাতকে। কায়নাতের ছোট্ট মাথা এতেই যেন গরম হলো। প্রেমকে পুরুষ কম কাপুরুষ বেশি মনে হচ্ছে তার। লোকটা কী নিজের ভাইয়ের মতোই পাগল? এক ভাই বউ মানি না বউ মানি না করে এতদিন পুরো বাড়ি মাথায় উঠিয়ে রেখেছিল। আর এখন আরেক ভাই কাহিনী করছে বিয়ে নিয়ে। কায়নাত খানিক্ষণ চুপ থেকে বলে,
“তুমি কী চাও? সোহান ভাইয়ার সাথেই বিয়ে হোক? নাকি উনার ভাইয়ের সাথে বাকি জীবনটা কাটাতে চাও?”

নিধি ধরা গলায় বলল,
“লোকটা আমায় অনেক গুলো বছর ধরে ভালোবাসে কায়নাত। আমার প্রথমে অনুভূতি না থাকলেও এখন মনে হচ্ছে উনাকে ছাড়া আমি মরে যাব।”

“তুমি যদি বলো তাহলে আমি তোমার ভাইয়ের সাথে কথা বলি?”

নিধি ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে বলল,
“তুই কেন বলবি? বিয়ে কী তুই করবি? উনি কেন নিজেকে শক্ত করে নিজের ফ্যামিলিকে কিছু বলতে পারছেন না?”

কায়নাত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ঠিকই তো! কায়নাত বেশ খানিকক্ষণ কথা বলে ঘর থেকে বের হলো।
নিশা নুসরাতের ঘর থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরে এলো কালো মুখ করে। নিধি আড়চোখে ওকে এমন মুখ ফুলিয়ে রাখতে দেখে জিজ্ঞাসা করল,
“কী হলো তোর? আপু কথা বলেনি?”

নিশা বলল,
“ঘর থেকে বের করে দিল আমাকে।”

“তোরা কেন এই আকাম করতে গিয়েছিলি বল তো? সবার একটা আলাদা জীবন আছে, চয়েস আছে। তোদের জন্য আজ এই অবস্থা দুটো মানুষের।”

নিশা কথা বলল না। চুপটি করে বসে রইল।

•••

মাথায় বৃষ্টি নিয়ে নুসরাত বাইরে বেরিয়েছে। শেহেরের সাথে দেখা করাটাই মূলত তার কাজ। সুন্দর একটা রেস্টুরেন্ট। সেখানে লাইটিং দিয়ে পুরো জায়গাটা মুখরিত। নুসরাত ভেজা চুলের পানি ওড়নার কোণা দিয়ে মুছছিল বিরক্ত হয়ে। হঠাৎ চোখের সামনে কেউ রুমাল বাড়িয়ে দিয়ে ভরাট গলায় বলল,
“মিস, এটা নিন।”

নুসরাত চোখ তুলে তাকাল লোকটার দিকে। লম্বা চওড়া একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে গায়ে সাধারণ শার্ট প্যান্ট পরে। নুসরাত কপালে ভাঁজ ফেলল। ভঙ্গিতা না করে বলল,
“আপনি কে?”

লোকটা মুচকি হাসল। বলল,
“এই রেস্টুরেন্টের মেনেজের। আপনাকে বেশ কয়েকবার এখানে দেখেছি। সঙ্গে অবশ্য একটা বাচ্চাও থাকে। সে আসেনি আজ?”

নুসরাতের অস্বস্তি হলো। সে বলল,
“ধন্যবাদ আপনাকে। আমার কিছু লাগবে না।”

“আপনি কী কারোর জন্য অপেক্ষা করছেন?”

নুসরাতের মুখে “আমার হাসব্যান্ড” শব্দটা আঁটকে গেল। শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“আমার ফ্রেন্ড আসবে। আপনার জিজ্ঞাসা বাদ শেষ হলে আমাকে একটু একা ছাড়লে খুশি হব।”

লোকটা বিনাশব্দে প্রস্থান করল। সঙ্গে সঙ্গে শেহের এসে বসল ওর সামনে। দেখে মনে হচ্ছে খুব রেগে আছে যেন। নুসরাত আড়চোখে তাকে দেখে বলল,
“আমায় আজ বাইরে ডাকলে যে?”

শেহের কেমন অদ্ভুত গলায় বলল,
“ডেকেছি বলে খারাপ লাগছে?”

“তা কেন লাগবে? কী এমন দরকার যে এই বৃষ্টির মধ্যে আমাকে আসতে বললে!”

“তোমার সাথে দেখা করার জন্য আমার করণের দরজার আছে নুসরাত?”

নুসরাত হাত কোঁচলে দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাল। শেহের তাকে কখনও নাম ধরে ডাকে না। আজ কেমন অদ্ভুত ব্যবহার করছে তার সাথে। মেয়েটা উত্তর দিল না। শেহের লম্বা শ্বাস টেনে বলল,
“তোমার বাবার সাথে আমি কথা বলতে চাইছি।”

“বলো। তোমার ফ্যামিলিকে নিয়ে তারপর এসো।”

“যদি একা তোমার হাত চাইতে আসি?”

“এটা করতে যেয়ো না।”

শেহের চুপ রইল এবার।
অন্যদিকে কায়নাত আঁটকে গেছে একটা দোকানের সামনে। তার শাশুড়ির উপর ভীষণ রাগ হলো। আজ না আসলে কিছু হত? এই বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা-ঘাটে তেমন মানুষও দেখা যাচ্ছে না আজ। ড্রাইভার কি আদৌ তাকে নিতে এসেছে? মেয়েটার মন ছটফট করল । হঠাৎ সামনে দিয়ে একটা গাড়ি গেল। গাড়িটা অর্ণর মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেই গাড়ির ভেতর এক নারী ছিলো তার সঙ্গে। পেছনে পাশাপাশি বসেছিল বোধহয়। কায়নাত স্তব্ধ হয়ে দাঁড়াল। সে কী ভুল দেখল? মেয়েটা চাতক পাখির মতো বৃষ্টির মধ্যেই শাটারের নিচে নেমে গাড়ির পেছনে দৌঁড়ে গেল। ওইতো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অর্ণর গাড়ির নাম্বার। বোকা মেয়েটা বুঝল না এই ভরা মশুল ধারায় দৌঁড়ে সে কিছুতেই গাড়ির পিছু নিতে পারবে না। মেয়েটা চিৎকার করে ডাকল তার লাটসাহেবকে। সে কী আদৌ শুনেছে অর্ধাঙ্গিনীর চিৎকার? হয়তো শোনেনি!

(অনেকদিন পর গল্প দিলাম। দুঃখিত পাখিরা, রাইটিং ব্লক কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সময় লেগে গেছে। সবাই একটু বেশি বেশি কমেন্ট করুন প্লিজ।রেসপন্সও করবেন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply