Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৮


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:৮

তানিশা সুলতানা

আব্দুল রহমান এবং তারেক রহমান নেপাল গিয়েছিলো বিজনেস ট্রিপে। আজকেই বাসায় ফিরলো। সবেই ড্রয়িং রুমে পা রেখেছে তখুনি অহনা নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বলে
“আব্বু আম্মু আদ্রিতাকে নিয়ে সুইজারল্যান্ড গিয়েছে।

হাফিজুর রহমান ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়ছিলো। আবরার তাসনিন এর বিশাল বড় একখানা ফটো ছাপানো হয়েছে এবং সুন্দর সুন্দর কথা লিখেছে।
মনটা খুশিতে ভরে উঠছিলো ওনার কিন্তু অহনার কথা শুনে আতঙ্কে ওঠে। ছেলের রিয়াকশন কেমন হবে এবার?
থেমে নেই অহনা।
” আমার এক্সাম চলছে। সেটাও খেয়াল নেই আম্মুর। তার ছেলে হলেই হলো। বাদ বাকি সব গোল্লায় যাক।
আমি কি বোঝা হয়ে গিয়েছি? স্পষ্ট ভাষায় বলে দিবা।চুপচাপ তোমাদের লাইফ থেকে চলে যাবো।

নিজের লম্বা ভাষণ শেষ করে নিজ কক্ষের পানে ছোটে। আব্দুল রহমান সোফায় বসে পড়ে টানটান হয়ে। আরিফও পাশে বসেছে। বর্ষা লেবুর শরবত নিয়ে এসে ওনাদের দেয় এবং বলে

“ভাইয়া রাগ করিয়েন না। সেইদিন বাজে স্বপ্ন দেখেছে ভাবি। তারওপর আবরার এক্সিডেন্ট করেছে। অসুস্থ ছেলেটাকে চোখের দেখা না দেখতে পেলে শান্তি পেতেন না। তাই গিয়েছে।

আব্দুল রহমান জবাব দেয় না। শরবতের গ্লাস হাতে তুলে তাতে চুমুক দেয়। ছেলের জন্য মন তারও কাঁদে। কয়েকবার কন্ট্রাক্ট করার চেষ্টাও করে। গত বছর কাজের সূত্রে সুইজারল্যান্ড যেতে হয়েছিলো। তখনও ছেলের সঙ্গে দেখা করেছে।
তবে ছেলের মুখ খানা দেখে কলিজা ঠান্ডা হলেও কথা শুনে মেজাজ বিগড়ে গিয়েছিলো। অদ্ভুত এবং অগ্রহণযোগ্য আবদার করে বসেছে।
যেটা কোনোদিনও সম্ভব নয়।
আব্দুল রহমান যখন বলেছিলেন
” বয়স তো অনেক হলো। এবার দেশে চলো আর বিয়ে করো।

আবরার তাসনিন বাবার চোখে চোখ রেখে জবাব দেয়
“আদ্রিতাকে দিয়ে দিন আমায়। এখুনি দেশে গিয়ে বিয়ে করে নিবো।

আব্দুল রহমান প্রচন্ড রেগে গিয়ে বলেন
” নিজেকে দেখেছো? উগ্র বাঁদর একটা। যার কোনো ফিউচার নেই, ফ্যামেলি নেই। তোমার সাথে দিবো আমায় আদ্রিতার বিয়ে?
অসম্ভব। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও আদ্রিতা তোমার হবে না।

আবরার শান্ত স্বরে জবাব দেয়
“আপনাকে চ্যালেন্স করলাম।
আদ্রিতা চৌধুরী আমারই হবে।
আর তাকে আপনি আমার হাতে তুলে দিবেন।

শরবতের গ্লাসে চুমুক দিতেই টুংটাং আওয়াজে মেসেজ আসে আব্দুল রহমান এর ফোনে। তিনি পকেট থেকে ফোন বের করে স্কিনে তাকায়। হোয়াটসঅ্যাপ এ “আবরার তাসনিন” লিখে সেভ করা নাম্বার থেকে একটা মেসেজ এসেছে
“আদ্রিতা চৌধুরী আমার কাছে। আবরার তাসনিন কখনোই কোনো চ্যালেন্জ এ হারে না”

বিগড়ানো মেজাজ আরও বিগড়ে যায় আব্দুল রহমানের। তিনি ফোন খানা বন্ধ করে টি টেবিলের ওপর রাখে। এক চুমুকে গোটা শরবত শেষ করে গ্লাস খানা বর্ষার হাতে দেয়।
নিজ কক্ষের পানে পা বাড়াতে বাড়াতে বর্ষাকে উদ্দেশ্য করে বলে
“তোমার মেয়েকে যেতে দেওয়া উচিত হয় নি।
__

লং জার্নি করার অভ্যাস নেই আদ্রিতার। তাছাড়া প্লেনে দেওয়া খাবার খেতে পারে নি। এই মুহুর্তে খুধায় পেট জ্বলছে। এসি গাড়িতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় মাথাও ঘোরাচ্ছে। এই মুহুর্তে সুন্দর একটা বেড এবং এক প্লেট বিরিয়ানি হলে আর কিছুই লাগবে না।
এ্যানি বেশ খুশি। নতুন জায়গা তার পছন্দ হয়েছে। আদ্রিতার কোল থেকে নেমে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে।
আতিয়া বেগম একটা কক্ষে ঢুকে পড়েছে ফ্রেশ হতে। আদ্রিতারও ফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন তাই সে অপর কক্ষে ঢুকে পড়ে। লাইট অফ ছিলো বিধায় গোটা কক্ষের সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। বাইরে থেকে আগত আলোতে ঝাপসা দেখাচ্ছে। আদ্রিতা ফ্লোরে নিজের লাগেজ রেখে একটা সাদা টপস এবং স্কার্ট বের করে নেয়।
তারপর ঢুকে পড়ে ওয়াশরুমে। এমনিতেই সাবান শেম্পু নেওয়ার অভ্যাস খুবই কম। মা জোর করে শেম্পু করিয়ে না দিলে ময়লা মাথায় চার পাঁচদিন অনায়াসে কাটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।।
আজকেও সাবান শেম্পুর ধার ধারলো না। ঝড়না ছেড়ে কোনো রকমে চুল এবং শরীর ভিজিয়ে জামাকাপড় খুলে ফেলে। হাতের কাছেই এক খানা টাওয়াল পেয়ে যায়। সেটা দিয়ে মাথা মুছতে যেতেই সুন্দর একটা ঘ্রাণ নাকে লাগে। অদ্ভুত সুন্দর। মন ভরে যাচ্ছে। আদ্রিতার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে। নাক টেনে বেশ কয়েকবার ঘ্রাণ শুকে নেয়। তারপর জামাকাপড় পড়ে টাওয়াল খানা নাকের কাছে ধরেই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে।
” বড়মা জলদি জলদি কিছু রান্না করে আমায় খাওয়াও। নাহলে খুধায় মরেই যাবো আমি
চিল্লিয়ে বলে ওঠে আদ্রিতা। আতিয়া বেগমও ব্যস্ত ভঙ্গিমায় নুডলস সিদ্ধ করতে করতে জবাব দেয়
“আর ২০ মিনিট লাগবে।
তুই বরং একটু শুয়ে থাক।

বড়মার কথায় সায় জানিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় আদ্রিতা। নরম তুলতুলে তোষক। বিছানা দিয়েও সুন্দর ঘ্রাণ। মুহুর্তেই তার ঘুম পেয়ে যায়।
কোনো কিছু না ভেবেই চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। আর তলিয়ে যায় ঘুমের অতল গভীরে।।

আবরার তাসনিন এর গাড়ি থামতেই কোথা থেকে ছোট্ট একটা বিড়াল মিউ মিউ আওয়াজ তুলে গাড়ির চাকার কাছে ঘুর ঘুর করতে থাকে।
সিয়ামদের গাড়ি এসে থামে তখুনি। সিয়াম এক লাফে গাড়ি থেকে নেমে বিড়ালটিকে কোলে তুলে নেয়। টপাটপ কয়েকটা চুমু খেয়ে বলে
” ওহে আমার বিড়াল ছানা
নামটি তোমার কচুরিপানা
খাবে না কি রসগোল্লা
কিনে দিবে আবরার আব্বা

আমান সিয়ামের মাথায় চাটি মেরে বলে
“বলদ তোর কবিতা বন্ধ করে আবরারকে জিজ্ঞেস কর ও কোথায় ছিলো সারা রাত?
আমি ভীষণ রেগে আছি তাই জিজ্ঞেস করছি না।
ও যদি এক্সপ্লেইন দিয়ে স্যরি না বলে তাহলে জীবনেও কথা বলবো না।।
কালা গাড়িতে বসে থাকা ধলা বেডাকে কথাটা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিস।

ইভান বলে
” আমিও কথা বলছি না।

আবরার যেনো সেসব শুনলো না৷ সে গাড়ি থেকে নেমে। গায়ে শার্ট জড়াতে জড়াতে বাড়ির ভেতরে চলে যায়।
সিয়ান খ্যাক খ্যাক করে হেসে ওঠে। বলে
“হালা ও কি তোর গার্লফ্রেন্ড না কি চুমু দিয়ে রাগ ভাঙাবে?
ও হচ্ছে আস্ত একটা নিরামিষ।


বাড়িতে ঢুকে এদিক ওদিক না তাকিয়ে সোজা নিজ কক্ষে চলে যায়।
লাইট অন না করেই ওয়াশরুমে ঢোকে। শার্টের বাটন খুলতে খুলতে আয়নায় তাকায়। কেমন কালো কালো দেখাচ্ছে। দাঁড়ি গুলোও বেশ বড় হয়েছে। একটু কাটশার্ট করাই প্রয়োজন।
ভাবনার মাঝেই খেয়াল করে বাথটাবের ওপরে কালো রংয়ের ইনার পড়ে আছে। এবং ফ্লোরে জামা।
ঝর্ণার ওপরে ওড়না।
আবরার কপাল কুঁচকে ফেলে। ডান হাতের দুই আঙুলে ইনার খানা হাতে তোলে।
এবং বিরবির করে বলে
” ইডিয়েট একটা

তারপর এলোমেলো পড়ে থাকা জামাকাপড় গুছিয়ে এক কোণায় রাখে।
মুড নষ্ট হয়ে গেলো
তাই ঝর্ণা ছেড়ে তাতে মাথা রাখে। আঁখি পল্লব বন্ধ করতেই ভেসে ওঠে এক খানা মায়াবী মুখ।
তাড়াতাড়ি করে চোখ খুলে।।
বিরক্তির স্বরে বলে
“পাখি এতো জ্বালিও না আমায়।
মুড নষ্ট হয়ে গেলে সামলাতে পারবে না। ম/রে যাবে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply