ভালোবাসার_সমরাঙ্গন || ৯ ||
সারিকা_হোসাইন
কোল থেকে আছাড় দিয়ে নামিয়ে মৌনতার গালে ঠাস করে এক শক্ত চড় বসালো রণ।চড়ে মৌনতার গাল ঘুরে গেলো।লাল হলো কিনা অন্ধকারে দেখা গেলো না গুলুপু গালটা।রণ আরেকটা চড় উচাতেই দুই হাতে গাল চেপে ধরে শব্দ করে কাঁদল মৌন।
“আর মারলে মরে যাবো রণ ভাই।তোমার হাত বড্ড শক্ত।এই দ্যাখো আমরা চামড়া উঠে গেছে।
বলেই রণ’র একদম নিকটে এসে শরীর ছুঁইছুঁই দাঁড়ালো মৌনতা।
রণ’র শরীর কেঁপে উঠলো এহেন কাছাকাছি স্পর্শে।মৌনতার কান্না যুক্ত কম্পিত শ্বাস বুকের কাছে খুব লাগছে।কেমন বুকের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে সেই শ্বাস উত্তাপে।রণ হাত গুটিয়ে নিলো এরপর এলোমেলো হওয়া নিজেজে সামলে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো
“তুই তো সাংঘাতিক ভীতু মেয়েরে মৌন ।সকলের অপমানে লজ্জা পেয়ে কোথায় একটু ভালো করে পড়াশোনা করে পাশ করবি তা না করে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিস?তুই চোর?আর পালিয়ে যাবি ই বা কোথায়?রাস্তায় রাস্তায় নষ্টামী করতে?নাকি আগে থেকেই জুটিয়ে রাখা কোনো প্রেমিকের বাড়িতে?
রণ’র কথায় মৌনতা মাথা নিচু করে ঠোঁট কামড়ে কাঁদল।কথাগুলো তার মনে খুব লাগলো।অপমানটা বড্ড শক্ত।হৃদয়হীন গম্ভীর বদরাগী মানুষটা কেমন অকপটে এতগুলো কথা বলে ফেললো।অথচ মৌনতার কোনো ছেলে বন্ধু পর্যন্ত নেই।এবার জেদ হলো মৌনতার।রণ সহ বাড়ির সকলের উপর।সে মাথা নিচু করে ভাবলো
“একদিন স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ভার্সিটিতে উঠবো।এরপর ধবধবে সাদা এক স্মার্ট ছেলেকে বিয়ে করে রণ ভাই এর চোখে গুঁতো মারবো।বলবো তোমার চাইতেও বেস্ট।
কথা গুলো ভেবে মাথা দোলালো মৌনতা।এরপর গায়ের কাথা চেপে ধরে রণকে ফেলেই বাড়ি মুখে হাঁটা ধরলো।পেছনে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে তপ্ত শ্বাস ফেললো রণ।মেয়েটাকে কিভাবে বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন বানাবে রণ জানেনা।এতবড় মেয়ে অথচ ঘটে বুদ্ধি নেই এক বিন্দু।যা আছে তা কেবল শয়তানি আর ছেলে মানুষী।
এদিকে আকাশে মেঘ ডেকে গুড়গুড় শব্দে বাজ পড়তে লাগলো।আক্কাস গভীর ঘুম থেকে হুড়মুড়িয়ে উঠলো সেই শব্দে।বৈদ্যুতিক ঝলকে পুরো কক্ষ আলোকিত হয়ে যাচ্ছে।বিছানা ছেড়ে উঠে কক্ষের জানালার কাছে এলো আক্কাস।কাঠের পাল্লা জোড়া না বন্ধ করলে একটু পর বর্ষণে পুরো ঘর ভেসে যাবে ।তাই ঘুম জড়ানো চোখে বাইরে তাকালো সিদ্দিক এরপর হাত বাড়িয়ে টেনে আনলো জানালার পাল্লা ।বিদ্যুৎ চমকে হঠাৎ আক্কাসের দৃষ্টি গত হলো সফেদ অবয়ব।এরপর সবকিছু অন্ধকার স্বাভাবিক।আক্কাস ধরে নিলো মতিভ্রম।কিন্তু পরক্ষণেই আবারও একই দৃশ্য।এবার ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো আক্কাসের।সে চিৎকার করতে চাইলো আগত অশরীরীর আগমনে।আক্কাস জানালা লাগাতে ভুলে গেল।ঠাঁয় দাঁড়িয়ে বাইরের দৃশ্যে স্থির নজর পেতে রইলো।হঠাতই ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টির ধারা ঝরতে লাগলো।এমন সময় আক্কাস খেয়াল করলো সাদা পোশাকে আবৃত অশরীরী লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে আসছে তার জানালার পানে।এবার আর স্থির থাকতে পারলো না আক্কাস।সে গলা কাঁপিয়ে মির্জা বাড়ি নাড়িয়ে চিৎকার করলো
“ও বাবাগো!আমারে খাইয়া ফালাইলো।কেরা কোন হানে আছেন?আমারে বাঁচান ।নানাজন!চামেলি!
আক্কাসের চিৎকারে মুহূর্তেই আলো জ্বলে উঠলো প্রতিটা কক্ষে কক্ষে।এরপর সকলেই তড়িঘড়ি করে দৌড়ে এলো আক্কাসের ঘরে।চামেলি দরজা ঠক ঠক করে ডেকে উঠলো
“আক্কাস ভাই দরজা খুলেন।কি হইলো আফনের?
দেওয়ান মির্জা গলা উঁচু করে শুধালেন
“দরজা খোল আক্কু,কি হয়েছে তোর?ভয় পেয়েছিস?
দৌড়ে দরজার কাছে এসে আগল খোলে মুহূর্তেই জ্ঞান হারালো আক্কাস।বাকি কথা বলার জন্য অবশিষ্ট রইলো না সে।
এদিকে মৌনতা আর রণ দৌড়ে বাড়ির আঙিনায় এসে দাঁড়ালো।দুজনের শরীর ভিজে জুবুথুবু অবস্থা।শীতল জলের স্পর্শে মৌনতার কাঁপন ধরলো।সে গায়ের কাঁথাটা আরেকটু টেনেটুনে গায়ে দিয়ে উঠোনের কোণে এসে ঘাপটি মেরে দাঁড়ালো। কারন মির্জা বাড়ির চতুর্দিকে জ্বলছে ফকফকে আলো।সেই সাথে মানুষের হাউকাউ।পুরুষ মানুষের চিৎকার চ্যাচামেচি তে মৌনতার বুক থরথর করে কাঁপতে লাগলো।তার মানে ইতোমধ্যে সকলেই জেনে গিয়েছে মৌনতার পালানোর খবর।শায়লা মৌনতা কে আর আস্ত রাখবে না ভেবেই মৌনতার চিৎকার করে কান্না পেলো।এমন সময় বাইরে বেরিয়ে এলো আদনান মির্জা।আক্কাসের মাথায় পানি ঢালার জন্য বালতি নিয়ে এসেছেন তিনি।বালতি বৃষ্টির ধারার নিচে রেখে কিছুক্ষণ বৃষ্টির পানে তাকিয়ে রইলেন আদনান মির্জা।এরপর গলা উঁচিয়ে বললেন
“কে ওখানে?
আদনান মির্জার গলা পেয়ে জেগে উঠলো কুকুর কালু।নাক দিয়ে কিছু শুকে ঘেউঘেউ করে উঠলো সে।বিষয়টা আদনান মির্জার খটকা লাগলো।নিশ্চিত বাড়িতে চোর এসেছে।ভেবেই ঘরের ভেতর ঢুকলেন তিনি।এরপর ফিরলেন মৌনতার বাবাকে নিয়ে।
কালু এলোপাতাড়ি দৌড়ে খুঁজতে লাগলো পরিচিত সেই গন্ধ।
মৌনতার চোখ মুখ ফ্যাকাসে হয়ে এলো ভয়ে।সে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পেছন ফিরতেই রণ’র মুখোমুখি হলো।এরপর ফিসফিস করে চোরা মুখে বলে উঠলো
“এবারের মতো বাঁচাও রণ ভাই।বিনিময়ে যা চাইবে তাই দেবো।কসম।
রণ ঠোঁটে শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে বললো
“যা চাইবো তাই?
ত্বরিত মাথা ঝাঁকালো মৌনতা।
“ভেবে বলছিস তো?দেখিস পরে আবার পস্তাস না।
এবারও ঝটপট মাথা ঝাঁকালো সে।
রণ সুযোগ টা লুফে নিলো।সে মৌনতা কে আড়াল করে দাঁড়ালো।মুখোমুখি হলো রণ আর কালু।কালু গড়গড় শব্দে দাঁত বের করলো।মৌনতা কে প্রটেক্ট করে কমান্ডো স্টাইলে পেছাতে লাগলো রণ।এরপর কুকুরের চোখে চোখ রেখে শান্ত গলায় বলল
“স্ট্যান্ড ডাউন।
কালুর সাথে রণ’র বেশ ভালো কানেকশন আছে।প্রায়ই মিলিটারি ডগ ট্রেনিং খাটায় কালুর উপর সে।তাই আজ আর কালুকে নিয়ে তার ঝামেলা পোহাতে হলো না।কালু শান্ত হলো।সুযোগ বুঝে রণ মাটি খুবলে ভেজা মাটি ছুড়ে ফেললো দূরে।সেই ঝরঝর শব্দ অনুসরণ করে ঘেউঘেউ করতে করতে দৌড়ে গেলো কালু।
পেছন পেছন দৌড়ে এলো দুই ভাই।রণ অন্ধকার মাড়িয়ে মৌনতা কে চেপে ধরে বাড়ির কোণের মোটা জারুল গাছটার পেছনে লুকালো।মৌনতা ফিসফিস করে বলে উঠলো
“ঘরে ঢুকবো কখন?ভিজে গেছি।শীত করছে।
নিজের শীতল হাতের কড়পুতে মৌনতার ঠোঁট চেপে ধরল রণ।এরপর বললো
“কথা বলিস না।ধরা পড়ে যাবো।
মৌনতা মাথা তুলে রণ’র চোখের পানে তাকালো।এরপর ঠোঁট চেপে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো।
“গোসল করিসনা কয়দিন?তোর গন্ধে কুকুরের ঘুম ভেঙে গেলো।প্রতিদিন সাবান শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করবি বুঝেছিস?
মৌনতা চুপচাপ কপাল কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইলো।সব সময়ই মানুষটার বকবকানি ভালো লাগে না।
বাড়ির চারপাশ খোঁজে কিছুই পেলেন না আদনান মির্জা আর সাদনান মির্জা।মনের ভুল ভেবে কালু কে তাড়াতে তাড়াতে ভেজা শরীরে উঠানে চলে এলেন তারা।
বিদ্যুৎ চমকে মৌনতার ভেজা মুখশ্রী দেখে ফাঁকা ঢোক গিললো রণ।ফর্সা মুখ জুড়ে কেমন লহরী তুলেছে সেই বর্ষা জল।বড্ড হিংসে হলো রণ’র।আবার লোভ ও জাগলো।বুকের ছাতি ফেটে উঠলো চরম পিপাসায়।রণ’র করপুটে এখনো মৌনতার মুখ বন্দি।শুধু ফ্যাকাসে গাল আর কালো চোখ জোড়া দেখা যাচ্ছে।কি মায়া তাতে।রণ বেসামাল হয়ে যাচ্ছে এই মায়ায়।নিষিদ্ধ ইচ্ছে জাগতে চাইছে বারংবার।এক পর্যায়ে নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হলো রণ।সে ঘোর ধরা গলায় বলে উঠলো
“কিছুক্ষণ আগেই বলেছিল আমি যা চাইবো তাই দিবি রাইট?
মৌনতা মাথা উপর নিচ করলো।রণ বাধন হারা হিংস্রের ন্যয় হাত সরিয়ে মৌনতার গলার ভাঁজে ঠোঁটের উষ্ণ পরশ ছোয়াল, এরপর কাঁধে সবশেষে ঠোঁট আঁকড়ে ধরলো।চোখ বড় বড় করে জমে দাঁড়িয়ে রইলো মৌনতা।তার শরীর হেলেদুলে কাঁপছে।চোখের সামনের ঘটনা সব দুঃস্বপ্ন লাগছে।মৌনতার যখন সম্বিৎ ফিরলো তখন আশেপাশে রণ নেই।বৃষ্টি থেমে গেছে।
মৌনতা ঠোঁট চেপে ধরে গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে গেলো।এরপর জ্ঞান হারালো।
মির্জা বাড়ির কারোর মাথায় ঢুকলো না বাড়ির পিছের জারুল গাছের নীচে ভেজা শরীরে কাঁথা গায়ে দিয়ে মৌনতার জ্ঞান হারানোর কারন।রেহনুমা অচেতন মৌনতা কে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন।শায়লা অপরাধীর ন্যয় দাঁড়িয়ে রইলেন।দেওয়ান মির্জা বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ কে মুখে যা নয় তাই বলে গালি দিলেন শেষমেশ নিজের লাঠি দিয়ে কয়েক ঘা বসালেন সাদনান মির্জা আর মাহিরের শরীরে।এরপর ক্রুদ্ধ গলায় বলে উঠলেন
“তোদের সকলের কাছে আমার নাতনি বেশি হয়ে গেছে।তোরা সকলেই আমার নাতনীকে যে যেভাবে পারিস সেভাবে অপমান, অপদস্থ,হাসি ঠাট্রা করিস।নে এবার খুশি হয়েছিস?নাকি ওর মৃত্যু তোদের সবাইকে চূড়ান্ত খুশি উপহার দেবে?
দেওয়ান মির্জার কথায় নীরবে কেঁদে ফেললেন শায়লা।সেই দৃশ্যে দেওয়ান মির্জা ধমকে বলে উঠলেন
“কেনো কাঁদছো শায়লা?তুমি খুশি হওনি মা?সারাদিন ই তো বলো ও তোমাদের মেয়েই নয়।তবে এখন চোখের জল ফেলছো যে?কেঁদোনা শায়লা কেঁদো না।অযাচিত ঝামেলার জন্য কেনো কাঁদবে তুমি?উপর ওয়ালার কাছে দোয়া করো যাতে ও মরে যায়।ও মরলেই তুমি খুব বাঁচা বেঁচে যাবে।
এদিকে জ্বরের ঘোরে পৃথিবীর কোনো বিষয়েই ধ্যন জ্ঞান কিচ্ছু নেই মৌনতার।সৌম্য জ্বর পরিমাপ করে দেওয়ান মির্জার উদ্দেশ্যে বলে উঠলো
“জ্বর তো ১০৪ এর উপর দাদু।হসপিটালে না নিলে সত্যিই মরে যাবে এবার।
দেওয়ান মির্জা গলা বাড়িয়ে রণ’কে ডাকলেন
“একবার নীচে এসো রণ।
রেহনুমা ভাঙা গলায় বললেন
“ও বাড়িতে নেই আব্বা।ফজর ওয়াক্তে বেরিয়ে গেছে অফিসের জরুরি কাজে ঢাকায়।ফিরবে দুদিন পর।
দেওয়ান মির্জা দাঁত কটমট করে বলে উঠলেন
“গাড়ি বের করো সৌম্য।উপজেলা হাসপাতালে চলো।সঙ্গে শুধু রেহনুমা এসো।বাকি কাউকে আমি আমার চোখের সামনে দেখতে চাইনা।
বলেই হাত ইশারায় সৌম্য কে অনুরোধ করলেন যাতে কোলে করে মৌনতা কে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসে সৌম্য।
মেয়ের নির্জীব দেহের পানে তাকিয়ে শব্দ করে কেঁদে উঠলেন শায়লা।তিনি মেয়েকে ছুঁতে চাইলেন।কিন্তু দেওয়ান মির্জা ছুঁতে দিলেন না।শুধু সৌম্য আর রেহনুমা কে নিয়ে চললেন উপজেলায়।
রাত বারোটার পর জ্ঞান ফিরলো মৌনতার।জ্বর এখন কমেছে কিছুটা।চোখ মেলে চারপাশে তাকাতেই চোখ মুখ কুচকালো মৌন।জায়গাটা অপরিচিত।হাত নাড়াতে চাইলো মৌন।হাতে স্যালাইনের সুই লাগানো।ব্যথায় হাত নাড়াতে পারলো না মৌন।পাশেই চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছে রেহনুমা।মৌনতা ধীর গলায় ডাকলো
“বড় মা!
রেহনুমা তাৎক্ষণিক চোখ খুলে কপালে হাত ছোয়ালেন।জ্বর নেই এখন।রেহনুমা মমতা ভরা গলায় শুধালেন
” পানি খাবি?
মাথা ঝাঁকালো মৌন।গ্লাসে পানি ভরে মৌনতা কে উঠে বসিয়ে পানি খাওয়ালেন রেহনুমা।গলাটা ভিজতেই আরাম পেলো মৌন।সে শান্ত হয়ে শুধালো
“মা আসেনি?..
“এসেছিলো।আব্বা থাকতে দেয়নি।
“মা’র কোনো দোষ নেই বড় মা।সব দোষ আমার।আমি ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে ভিজেছি।
এরপর কিছুক্ষন চুপ থেকে পুনরায় শুধালো
“রণ ভাই কি বাড়িতে?
রেহনুমা হাই তুলতে তুলতে জবাব দিলেন
“ঢাকায় চলে গেছে।কেনো?
মৌনতা জবাব দিলো না।গত রাতের ঘটনাটা কেমন এলোমেলো হয়ে ধরা দিচ্ছে মস্তিষ্কে।সত্যি নাকি স্বপ্ন বুঝে উঠতে পারছে না সে।যদি স্বপ্ন হয় তবে এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।রণ ওই ধরনের মানুষই নয়।তাছাড়া মৌনতার মতো শত্রুকে কোন দুঃখে সে চুমু খেতে যাবে?নানাবিধ ভেবে চোখ বুঝলো মৌনতা।চোখের পাতা জুড়ে অনেক ঘুম।
দুদিন পর হসপিটাল থেকে ফিরলো মৌন।বাড়িতে আসার পর সকলের আচরণ বেশ পরিবর্তন।কেউ কোনো ধরনের তিরস্কার মূলক আচরণ করছে না তার সাথে।শায়লাও বেশ আদুরে গলায় কথা বলছে।যেই মাহির ধমক ছাড়া কথাও বলে না সেও আজ নরম গলায় শুধাচ্ছে
“বিরিয়ানি খাবি মৌন?এনে দেবো বাজার থেকে?
বাড়ির সকলের কোমল আচরণে মৌনতার চোখ ফেটে জল এলো।সেও যেনো কিচ্ছুটি ঘটেনি এমন ভেবেই সকলের সাথে তাল মেললো।
কিন্তু মনে ঘুরপাক করতে লাগলো বিগত রাতের ঘটনা।
রাতের বেলায় বই নিয়ে বসলো মৌন।একটু মনোযোগী ও হলো বটে।মনোযোগ দিয়ে পড়তেই পড়াটা সহজ ঠেকলো।খাতা কলম বের করে রণ’র শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতি অনুযায়ী পড়তে আরম্ভ করলো।এবার অংক গুলো একদম জলের ন্যয় ঠেকলো।পরপর চারটে অংক করলো মৌন।পরে রণ’র করে দেয়া অংক খাতার সাথে মেলালো।নির্ভুল অংক।আনন্দ হলো মৌনতার মনে।সে আরো ছয় টা অংক করলো।মুহূর্তেই হাসি ফুটলো তার মুখে।মৌনতা বুঝলো পড়াশোনার ক্ষেত্রে শান্ত মস্তিষ্ক আর স্থির চিন্তাভাবনা প্রয়োজন শুধু।অশান্ত মস্তিষ্কে পড়া তো দূর মানুষের সহজ কথাও বোধগম্য হয়না।
চারদিন পর বাড়ি ফিরলো রণ।এবার তার চোখ মুখ আরেকটু কঠিন।ফেরার সময় সৌম্য’র বিয়ে উপলক্ষে কিছু দরকারি জিনিস নিয়েও ফিরলো।বাড়ি ফিরে সেসব জিনিস সবাইকে ডেকে ডেকে নিজ হাতে তুলে দিলো।কিন্তু ডাকলো না মৌনতা কে এমনকি মৌনতার খোঁজ পর্যন্ত নিলো না।
রণ এসেছে শুনে মৌনতা প্রথমে একটু ঘাবড়ে উঠলো।এরপর নিজেকে স্বাভাবিক করলো।
“মানুষটা বাঘ,ভাল্লুক কিচ্ছু নয়।তবে ভয় কিসের?
সন্ধ্যার পর পর রণ’র ঘরে বই খাতা নিয়ে পড়তে গেলো মৌন।কিন্তু কক্ষে রণ নেই।ওয়াশরুমের দরজাও অর্ধ খোলা।হয়তো বাইরে গিয়েছে।টেবিলে বই খাতা রেখে কিছুক্ষণ কলম কামড়ালো সে।এরপর উঠে দাঁড়িয়ে পুরো রুম জুড়ে পায়চারি করলো।হঠাতই কর্নার টেবিলের উপর একটা শোপিস চোখে পড়লো মৌনতার।একটা কাপল পার্টি ড্যান্স এর মত দাঁড়িয়ে রয়েছে।শোপিস টা বেশ ভালো লাগলো মৌনতার।সে উল্টে পাল্টে দেখতেই হাত থেকে পড়ে গেলো তা।ঠুনকো শোপিস হাত থেকে পড়েই ভেঙে গেলো ছেলেটার মাথা এবং সেটা গড়িয়ে চলে গেলো দরজার কাছে।
এমন সময় কক্ষে ঢুকলো রণ।ঝুকে ফ্লোর থেকে ছেলের মাথাটা তুলে থমথমে শক্ত মুখে শুধালো
“এভাবে আছড়ে আমার মাথাটা ভেঙে ফেললি?বউকে চুমু খাবো কি করে এখন?মুন্ডু হীন জামাইএর সাথে কোনো বউ থাকতে চাইবে?এটা তুই কি করলি মৌন?আমার এতবড় সর্বনাশ কি করে করলি তুই?
চলবে….
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০