চেকমেট_২ ||৩||
ঝুরঝুর শব্দে বরফের অবিরত বর্ষণ ঝরে যাচ্ছে নিকোলিনা গোরায়।মস্কোর অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে এখানে সবচাইতে বেশি তুষার ঝরে।কারন জায়গাটা অত্যাধিক শীতল।শহর থেকে খানিক দূরে তবে আভিজাত্য এলাকা।সমাজের উঁচু স্তরের মানুষের বাস এখানে।নিকোলিনা গোরার প্রসিদ্ধ এক স্থানে বিশাল জায়গা জুড়ে ডক্টর রুদ্ররাজ চৌধুরীর দূতলা বিশিষ্ট নয়নাভিরাম বাড়ি।বাড়ির চারপাশ বার্চ ,ম্যাপল,স্প্রুস আর ওক গাছের বেষ্টনীতে ঘেরা।অত্যাধিক শীতের তীব্রতায় বার্চ আর ম্যাপল তাদের রূপ হারিয়েছে।তাদের নগ্ন শুকনো ডাল বরফের স্তূপে নিমজ্জিত। দেখে মনে হচ্ছে সাদা তুলোর মতো মেঘ হাওয়াই মিঠাই এর ন্যয় আকড়ে ধরে আছে ডালগুলো।
চারপাশের সমস্ত গাছ যখন নিজেদের রূপ হারিয়েছে ঠিক তার পাশেই স্প্রুস ট্রি সবুজ সুচালো পাতার বহর নিয়ে সটান দাঁড়িয়ে আছে স্থির আর শান্ত স্বভাবে।তার উপর বরফের স্তুপ যেনো শিল্পীর নরম তুলির আঁচড়ে সদ্য নতুন কোনো জীবন্ত ছবি।
সেই সৌন্দর্য মন্ডিত বাড়িটির নিজ কক্ষে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে রোদ।সঙ্গে বুকে জড়ানো খরগোশ ছানা দুটো।কক্ষ জুড়ে পিনপতন নীরবতা।নিঃশ্বাসের শব্দ কক্ষের কোণে বিলীন হচ্ছে নীরবে।হলুদ রঙের ডিম লাইটে আলোয় মেয়েটির পেলব মুখশ্রী কিছুটা স্পষ্ট।হঠাৎ চোখের পাতা কেঁপে উঠলো তার।হানা দিলো দুঃস্বপ্ন।একই সাদা বিশাল গাউন,নগ্ন পা খোলা চুল আর চোখে ভয়।তাড়া করে বেড়াচ্ছে এক সুপুরুষ।মুখটা স্পষ্ট নয়।তবে তার গলার স্বর আর ঠোঁটের হাসি বুকে কাঁপন তুলে ভয়াবহ ভাবে।রোদ প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে।কিন্তু বেশ লাভ হলো না।ধরাশায়ী হলো শক্তপোক্ত বাহুতে।তার উষ্ণ শ্বাস আছড়ে পড়লো রোদের গলার ভাঁজে।কানে ভেসে এলো রক্ত হীম করা গলার আওয়াজ
“মাই লাভিং সানরাইজ……
ত্বরিত ঘুম ছুটলো রোদের।সে লাফিয়ে উঠে বসলো।এই কঠিন শীতে তার সারা শরীর ঘামে ভিজে একাকার।হাতের উল্টোপিঠে গলার আর মুখের ঘাম মুছে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালালো সে।বুকটা ক্রমাগত ধুকপুক শব্দে কেঁপে যাচ্ছে। কয়েকদিন ধরে একই স্বপ্নে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে তার।বারবার একই অনুভূতি একই ভয়।এই বুঝি মস্তিষ্ক উন্মাদ হয় উঠে সেই পুরুষের তাড়ায় আর রক্ত হীম করা গলার স্বরে।
শরীরের অসহনীয় অস্থিরতা আর মনের ভয় দূর করতে বিছানা থেকে নেমে মেঝেতে দাঁড়ালো রোদ।কক্ষে রুম হিটার চলছে।রোদের এই মুহূর্তে মনে হলো আগ্নেয়গিরির লাভায় দাঁড়িয়ে আছে সে।তৎক্ষণাৎ গায়ের ভারী সোয়েটার ছুড়ে ফেলে হাত বিহীন একটা হাটুসম ফ্রক পরে বারান্দার দরজা খোলে বাইরে বেরিয়ে এলো সে।এক নাগারে তুষার ঝরছে।শীতল হিমবাহ গায়ে কাঁটা তোলার কথা।অথচ রোদ নির্বিকার।রোদের খোলা বাদামি চুল উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে উত্তরীয় সমীরণ।যে কেউ দূর থেকে হুট করে এই নীল চোখের ফর্সা মানবীটিকে দেখলে ভাববে অশরীরি।কিন্তু রোদ আপাতত নিজের চারপাশের কিচ্ছুটির খেয়ালে নেই।কানে শুধু বেজে যাচ্ছে স্বপ্নে দেখা সেই ভয়ানক আওয়াজ খানা।মস্তিষ্ক জানান দিচ্ছে এই স্বর আগেও শোনা হয়েছে।কিন্তু বেখেয়ালি মন সুধাচ্ছে
“কোথায় শুনেছি এই গলা?
মনের অলিতে গলিতে হাত বাড়িয়ে কিচ্ছু পাওয়া গেলো না।রোদ তপ্ত শ্বাস ফেলে গভীর দৃষ্টি ফেললো বাইরে।ঝাপসা চোখ কিছু একটার উপর স্থির হলো।ধীরে ধীরে দৃষ্টি পরিস্কার হতেই কেঁপে উঠলো চোখের পাতা সেই সঙ্গে শক্ত হয়ে এলো হাতের মুঠি।পা জোড়া কেমন দুর্বল ঠেকলো।এই বুঝি পায়ে বেঁধে হুড়মুড়িয়ে নীচে পরে যায় সে।রোদ নিজেকে সামলে নিলো বারান্দার রেলিংয়ে শক্ত করে চেপে ধরে।শ্বাস টান উঠলো তার।শরীর শিউরে উঠলো।ঠোঁট জোড়া ঈষৎ ফাঁক হলো।শতবর্ষী বৃদ্ধার ন্যয় থরথর করে কেঁপে উঠলো চোয়াল।ওপাশের মানুষ তার এই নাজেহাল অবস্থা দেখে কেমন চোখ বন্ধ করে মুখ নিচু করে প্রশস্ত হাসলো।যেনো বেশ আনন্দের কিছু দর্শন হলো এই মুহূর্তে।রোদ গলা উঁচিয়ে শাসাতে চাইলো
“মরতে চাও নাকি?
কিন্তু পারলো না।অনিমেষ তাকিয়ে রইলো ওধারে।
এধারের যুবক পাতা হীন ওক গাছে আয়েশ করে হেলান দিয়ে এক পা গাছে ঠেকিয়ে ভারী জ্যাকেটের পকেটে দুহাত ঢুকিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দূতলার বারান্দায়।সামনে অপার্থিব সৌন্দর্যে আবিস্ট রমণী।যুবকের পুরোটা জুড়ে সেই রমণীর বসবাস।কি এক সমুধুর যন্ত্রণা দগ্ধ অনুভূতি!ইচ্ছে হলো দৌঁড়ে তার কাছে গিয়ে চোয়াল চেপে ধরে জিজ্ঞেস করতে
“কেনো গিয়েছিলে আমাদের বাড়িতে?আমরণ তৃষ্ণায় জরজর করে আমায় মারতে?
কিন্তু বলা হলো না একটা বাক্য ও।কথা হলো দৃষ্টিতে দৃষ্টিতে।রুদ্ররাজ কন্যা নীল চোখের কঠিন ইশারায় ধমকে উঠলো
“কেন এসেছ?
“আমার ইচ্ছে
ভাবলেশহীন জবাব দিলো শাহরানের কালো স্বচ্ছ কাতর চোখ
“আমি পাপাকে ডাকবো।বাঁচতে চাইলে বেরিয়ে যাও
“আমি মরতে চাই।
রোদ অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রইলো শাহরানের দিকে।ছেলেটা নির্ঘাত পাগল।নয়তো এমন তুষারের মধ্যে কেউ এভাবে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে?ইতোমধ্যে তার বুট বরফের স্তূপে ঢাকা পড়েছে।কাঁধে জমেছে খন্ড খন্ড বরফ।চোখের লম্বা পাপড়ি গুলোও বোধ হয় জমে সাদা হয়ে গিয়েছে।রোদের কেমন অস্বস্তি হলো।সে চলে যেতে চাইলো কক্ষের ভেতর।অজানা কোনো সত্তা তাকে সড়তে দিলো না বারান্দা থেকে।সে ওখানেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো।শাহরান একটু এগিয়ে আসতে নিলো।রোদ ঘাবড়ে গেলো সে ফ্রক খামচে ধরে পেছালো দুকদম।তাচ্ছিল্য হাসলো শাহরান।ঘৃণা হলো নিজের উপরই।কত নির্লজ্জ্ব সে অথচ ওপাশের মানবী হৃদয়হীন।
শাহরান পুনরায় এসে ওক গাছে হেলান দিলো অতঃপর গলা উঁচিয়ে বললো
“তুমি আরেকটু আগে এলে আমার কষ্ট কম হতো….
রোদের জবাব দিতে ইচ্ছে করলো।সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে শুধালো
“আমাকে শারীরিক কষ্ট জাহির করা হচ্ছে?আমি তো কাউকে ডাকিনি!
আবারও চোখ বুজে হাসলো শাহরান।বললো
“আমি অন্তরের কষ্টের কথা বলেছি।যদি শরীরের কষ্টের কথা জানতে তবে তোমার রূহ পর্যন্ত চমকে যেত।ওটা ভাগ্যে থাকলে কোনো একদিন জানাবো।বাই।
আর দাঁড়ালো না শাহরান।বরফের সফেদ চাদর মাড়িয়ে ছন্দহীন পায়ে হেটে বেরিয়ে গেলো বাড়ির আঙিনা ছেড়ে।শাহরানের পদচ্ছাপে অবাক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইলো রোদ।মুহূর্তের বরফ বৃষ্টি মুছিয়ে দিলো সেই পদরেখা।ঢেকে দিলো সমস্ত চিহ্ন।যেন এখানে কখনো কেউ পা ই রাখেনি।অথচ যুবকের কেটে গেলো যন্ত্রণাদায়ক এক মুহূর্ত।তার খবর কেউ জানতেই চাইলো না।
শাহরান চলে যাবার পর রোদ নিজ কক্ষে এসে দরজা লাগিয়ে বিছানায় বসলো।ছেলেটির চোখ জোড়া অদ্ভুত সুন্দর।তাকে চম্বুকের মতো আকর্ষণ করে।কিন্তু কেনো?একটা অজানা অচেনা ছেলের জন্য এমন অনুভূতি আসা স্বাভাবিক নাকি সবটাই বয়সের দোষ?
পরক্ষণেই রুদ্রের ভয়ে নিজের অনুভূতি ঝটকা মেরে মন থেকে সরিয়ে দিলো রোদ।আগে থেকেই কঠিন হুঁশিয়ারি দেয়া আছে এসবে।কখনো সে এসব জানতে পারলে মেয়েকে কে টে বরফ চাপা দিতে দুমিনিট সময় নেবে না।
রোদ আর ভাবলো না কিছু।অনুভূতিরা এখানে বোবা।সকালে তার ক্লাস আছে।এখন না ঘুমালে ক্লাসে ঝিমুবে।তখন লেকচারার মনোযোগের কারন জানতে চাইবে,ক্লাসে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করবে।এসব রোদের কাছে অপমানজনক।ক্লাসে সব সময় লেকচারারের দৃষ্টি আটকাতে চায় সে পড়াশোনা দিয়ে ।কোনো জবাবদিহিতা দিয়ে নয়।
ভার্সিটির মাঠের এক কোণে গিটার নিয়ে টুংটাং করছে শাহরান,পাশে বসে মুগ্ধ হয়ে দেখছে নিনাদ আর দুজন রাশিয়ান ফ্রেন্ড।গিটার খানা সারফরাজ কিনে দিয়েছিলো তার একুশতম জন্মদিনে।কারন ছেলের গানের প্রতি তীব্র ঝোঁক।ছোট বেলা থেকেই গায়ক হবার স্বপ্ন তার।ছেলেকে তার জন্য সমস্ত স্পেস দিয়েছে সারফরাজ।ছেলের ইচ্ছের উপর আর কিছু চাপাতে চায়না সে।যদিও রূপকথা এসবে বারণ করেছিলো।কিন্তু সারফরাজ আর সুফিয়ান চৌধুরী শাহরানের পক্ষে সাফাই গেয়েছে।শুনেনি সেসব বারণ।কারন জীবনে বেঁচে থাকার তাগিদে নিজের কোন স্বপ্নই পূরণ করতে পারেনি সে।মনে এখনো সেই আক্ষেপ তাড়া করে বেড়ায় তাকে।ছেলের মনে এহেন আক্ষেপ সে বেঁচে থাকতে সৃষ্টি হবে এটা সারফরাজ কখনোই মানতে পারবে না।
ব্যাস,এরপর নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য জেদ ধরে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে বাবা মা,প্রানপ্রিয় নানাভাই ছেড়ে এখানে এসে দুঃসহ জীবনযাপন করছে শাহরান।
শাহরানের বন্ধ চোখের পানে তাকিয়ে নিনাদ বললো
“গত রাতে ঘুম ভেঙে দেখি তুই নেই।আবার ঘুম থেকে উঠে দেখি পাশেই ঘুমাচ্ছিস!ঘটনা কি বলতো?কোথায় গিয়েছিলি?
শাহরান মুচকি হাসলো।বললো
“যন্ত্রনা বাড়াতে।ক্ষতটা শুকিয়ে যাচ্ছিলো।তাই আরেকটু দগদগে করতে গেছিলাম।
এসব কাব্যিক সাহিত্যিক ভাষা নিনাদ বুঝে না।তাই সে আর জবাব দিলো না।এমন সময় জন নামক ছেলেটি শাহরানের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলে উঠলো
“দিজ ইজ দ্যা বয়…হু হিট মি ইয়েস্টার্ডে।
কথাটি বলেই জন শাহরানের কলার চেপে ধরলো। আকস্মিক এহেন কাণ্ডে স্বচ্ছ চোখ জোড়া মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠলো তার।জনের পেছন থেকে বেরিয়ে এলো প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার বডি বিল্ডার দের মতো দেখতে এক যুবক।যার সারা শরীরে ভয়ানক সব ট্যাটু। নাকে,ভ্রুতে আর ঠোঁটে মেয়েদের মতো ছোট পাইরেসিং গহনা।শাহরান এক পলক ছেলেটিকে দেখে দাঁত পিষে বলে উঠলো
“লিভ মি।
কিন্তু জন শুনলো না।যেন আজ সে গত কালকের বদলা নিয়ে তবেই ক্ষান্ত হবে।জনকে চোখের ইশারায় সরে যেতে বললো ব্রুনো নামের ছেলেটি।অতঃপর জন সড়তেই ব্রুনো এসে চেপে ধরলো শাহরানের সামনের সুন্দর চুলগুলো।এবার শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠলো চব্বিশ বছর বয়সী শাহরানের।নিজের রক্ত জানান দিলো সে কেমন বাপের সন্তান।শাহরান এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করলো।এরপর রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো ব্রুনোর পানে।হাত শক্ত মুঠি পাকিয়ে ছুঁড়লো শক্ত এক ঘুষি।মুহূর্তেই দাঁত নড়ে উঠলো ব্রুনোর।ব্রুনো কিছু ভেবে উঠার আগেই আরেক শক্ত লাথি পরলো হাঁটুতে।ব্রুনো শাহরানের চুল ছেড়ে দিয়ে মাটিতে নতজানু হয়ে বসে পরলো।এবার খ্যাপাটে হলো শাহরান।ঘূর্ণায়মান কিক,ঘুষি, লাথিতে মুহূর্তেই রক্তাক্ত করলো ব্রুনো কে।জন নিজেও এগিয়ে এলো।খেলো বেধড়ক মার।ব্রুনোর সঙ্গে আসা দুটো ছেলে দুপাস থেকে চেপে ধরলো শাহরান কে।জন এসে এলোপাতাড়ি ঘুষি ছুঁড়লো শাহরানকে।ফর্সা মুখশ্রী মুহূর্তেই কদাকার হলো।শাহরান একটা পাল্টা আঘাত পর্যন্ত করছে না।নিনাদ ঘাবড়ে গেলো।জনের প্রতিটি ঘুসিতে ঠোঁট এলিয়ে হাসছে শাহ।নিনাদ ভয় পেল।সে শাহরানের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকালো।জনের পেছন বরাবর তাকাতেই দেখা গেলো রোদ কে।মাঠের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে সে এসব তামাশা দেখে ভয়ে সিটিয়ে রয়েছে।এমন সময় ব্রুনো উঠে দাঁড়ালো।অবরোধ হলো শাহরানের দৃষ্টি।বৃহতাকার ব্রুনোর জন্য রোদ কে আর দেখা যাচ্ছে না।নিমিষেই মুখের আদল বদলে গেলো শাহরানের।হাসি ওয়ালা মুখটা কেমন ক্রুর আর শক্ত হয়ে উঠলো।হ্যাচকা টানে ছেলে দুটোকে ফেলে বেধড়ক পিটিয়ে সামনে যাকে পেলো তাকেই মাটিতে ফেলে দিলো।এরপর হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলো
“ওই চাঁদ মুখ দর্শনে যে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে আমি তাকেই উপড়ে ফেলবো।হোক সে স্বয়ং রুদ্ররাজ নয়তো সারফরাজ।
শাহরান এগিয়ে যেতে চাইলো রোদের দিকে।কিন্তু কেমন তাচ্ছিল্য আর ঘৃণাভরা ভয় যুক্ত দৃষ্টি নিয়ে সরে গেলো রোদ।শাহরান কষ্ট পেলো।সে যা মেয়েটা তা কখনোই দেখে না।অথচ সে যা নয় সেটাই মেয়েটা বারবার দেখে ফেলে।কি নিদারুণ যন্ত্রনা!
নিনাদ টেনে হিচড়ে সরিয়ে নিলো শাহরান কে।ভার্সিটির নার্সের কাছে এখনই নেয়া উচিত শাহরানকে।ঠোঁট আর গালের অবস্থা ভয়াবহ।তাছাড়া প্রিন্সিপাল এই ঘটনা দেখলে হাজারটা কারন দর্শাবে।তখন রোদ কে দেখা তো দূরে থাক তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।
শাহরান নিনাদ আর তাদের বন্ধুরা চলে যেতেই রোদ দ্রুত প্রস্থান নিলো।ঢুকে গেলো ক্লাসে।ক্লাসে একা এক চেয়ার টেবিলে বসলো সে।আপাতত কারোর সাথেই তার পরিচয় হয়নি।আজ তার ওয়েলকাম ক্লাস।
এমন সময় একটা মেয়েলি স্বর ভেসে এলো রোদের কানে
“আমরা বন্ধু হতে পারি?
রোদ মাথা তুলে সামনে তাকালো।হাস্যজল এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।শ্যাম বর্ণের চেহারা কিন্তু দেখতে খুব মিষ্টি।মেয়েটি প্রশস্ত হেসে বলে উঠলো
“আমি প্রিয়ন্তী,ইউ ক্যান কল মি প্রিয়।
মেয়েটির বাড়িয়ে রাখা হাতটা এক পলক দেখে একটু ইতস্তত করলো রোদ।মেয়েটি বুঝলো বোধ হয়।সে হাত গুটিয়ে নিতে চাইলো।রোদ তখনই মেয়েটার হাত চেপে ধরে বলে উঠলো
“রোদসী,রোদ।আমি আজই জয়েন হয়েছি এখানে।
প্রিয় রোদের পাশে বসতে বসতে বলে উঠলো
“নো টেনশন, আমি আছি।আমি এখানে তিন বছর ধরে আছি।আমার কলেজ ও এখানেই ছিলো।আমি হেল্প করবো তোমাকে।
মুহূর্তেই কথায় কথায় সখ্যতা হলো দুজনের।শেষ হলো প্রথম পিরিয়ডের ক্লাস।খুব সুন্দর ভাবে রোদ কে ওয়েলকাম করলো সকলে।
ক্লাস শেষে বাইরে বেরিয়ে এলো রোদ আর প্রিয়।বাইরে বেরুতেই শাহরান কে দেখা গেলো গালে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে নার্সিং রুম থেকে বেরিয়ে আসতে।
শাহরান কে দেখতে পেয়েই প্রিয় বলে উঠলো
“ভার্সিটির সবচাইতে ড্যাঞ্জারাস মানুষ এই ছেলেটি।ওর থেকে সব সময় দশ হাত দূরে থাকবে।
রোদ আনমনে শুধালো
“কেনো?
“দেখলেই কেমন নেশালো হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা মনে হয়।যেনো এক্ষুনি ওই গিটারের সুর বাজিয়ে ভার্সিটির সব কটা মেয়েকে পাগল করে মস্কভা নদীতে ডুবিয়ে মারবে।
রোদ ভ্রু উঁচু করে শুধালো
“সে গান জানে?
প্রিয়ন্তী ফিসফিস করে বলে উঠলো
“ওই জাদুকরী কন্ঠ শুনলে তুমি রাতে ঘুমুতে পারবে না।হি ইজ অ্যা ম্যাজিশিয়ান।ওই জন্যই তো প্রিন্সিপাল শাহরান নামে পাগল।হাজারটা কমপ্লেইন নিয়ে যাও একটাও কানে তুলবে না।উল্টো তোমাকে দোষ দেবে।শুনেছি তার বাবা অনেক প্রভাবশালী।সবাই তাকে ভয় পেয়ে চলে।
রোদ প্রশ্নবোধক জিজ্ঞেস করলো
“এজন্যই এত বেয়াড়া?
“তুমি চিনো একে?
অবাক হয়ে জানতে চাইলো প্রিয়ন্তী।রোদ চোখ সরু করে শাহরান কে দেখতে দেখতে উত্তর করলো
“চিনতে শুরু করেছি।তবে যতটুকু চিনেছি তাতেই অরুচি হচ্ছে।
এমন সময় শাহরান রোদের একদম সন্নিকটে এসে দাড়ালো।অতঃপর গালের ব্যান্ডেজ দেখিয়ে বললো
“তোমাকে দেখতে গিয়ে কত গুলো মার খেলাম দেখেছো?চোখ মুখ ঢেকে ভার্সিটিতে আসতে পারো না?
চলবে….
সারিকা হোসাইন
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন গল্পের লিংক
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০