ডেসটেনি পর্ব ২০
সুহাসিনি_মিমি
ফুটেজ লোডিং দেখাচ্ছে। সময় নিচ্ছে বেশ।স্ক্রিনে ঘুরতে থাকা ছোট্ট আইকনটার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তাজধীর। ঠিক ওই সময়টাতেই আকস্মিক নিচ থেকে চিৎকারের শব্দ শ্রবণ হতেই কান খাড়া করল সে। মায়ের ডাকে তৎক্ষণাৎ ল্যাপটপের শাটার টেনে বন্ধ করে ছুটলো নিচে। দু সিঁড়ি পাড় হতেই চোখে পড়ল মেঝেতে নিথর পড়ে থাকা বোনকে। পায়ের গতি আরও বাড়াল সে। ঝড়ের বেগেই একেকটা সিঁড়ির ধাপ অতিক্রম করল। নিচে তখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মোহনা বেগম। অস্তির হয়ে হাতের উল্টোপিঠে চাপড়াচ্ছেন মেয়ের গাল দুটোয়,
“মিতু, এই মিতু। কি হয়েছে মা? উঠ না? মিতু রে?কথা বলছিস না কেন মা?”
প্রায় কাঁদো কাঁদো গলায় চিৎকার করে ডেকেই যাচ্ছেন মেয়েটাকে। মিতালী নিস্পন্দ, নির্জীব। দেহটা পড়ে আছে ফ্লোরে।
“মিতালী! মিতু! মা, চোখ খুল!”
আতঙ্কে হাত কাঁপছে ভদ্রমহিলার। ততক্ষনে ছেলেকে দেখে শুকিয়ে আসা প্রাণে খানিকটা জল ফিরে পেলেন। তাজধীর ব্যাগ্রো কদমে এগিয়ে এসে থামে বোনের পাশে। হাঁটুভেঙে বসে বোনকে কোলে তুলে শোয়ায় সোফায়।
“পানি আনো আম্মু। কি হয়েছে ওর? এভাবে সেন্স হারাল কিভাবে?”
“জানিনা তো, রে আব্বা। বলল রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসছে। বসা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়াতেই চোখের পলকে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল মেয়েটা।”
তাজধীর তৎক্ষণাৎ মিতালীর কবজি ধরে পালস চেক করল। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে ভ্রু কুঁচকে নরম স্বরে বলল,
“পালস খুব দুর্বল।”
তাজধীর বোনের নিস্তেজ মুখটায় পানির ঝাপ্টা দিলো বেশ কয়েকবার। চোখ পিটপিট করে উঠল মিতালীর। তাতে স্বস্তির শ্বাস ছাড়েন মোহনা বেগম। উদ্বিগ্ন হয়ে এগিয়ে এসে বসলেন মেয়ের পাশে। আদুরে হাতে মেয়েটার মাথাটা তুলে নিলেন নিজের কোলে। তাজধীর অস্তির হয়ে বলছে তখন,
“মিতালী শুনতে পাচ্ছিস?”
“ভাইয়া। কি হয়েছে আমার? “
খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল তাজধীর।কপালে চিন্তার ভাজ অক্ষুন্ন রেখেই বলল,
“আমি শামীমা আন্টি কে কল দিচ্ছি এক্ষুনি।”
মা আর বোন এই দু’জন মানুষই তাজধীরের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ। তাদের ঘিরেই তার সমস্ত দায়বদ্ধতা, সমস্ত দায়িত্ববোধ। বাবা চলে যাওয়ার পর থেকে এই সংসারের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে সে নিজেই।
বহু আগেই সে ডা. শামীমাকে এই বাড়ির পার্সোনাল ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হিসেবে ঠিক করে রেখেছে। নিয়ম করে মাসে একবার এসে মোহনা বেগমের পূর্ণ চেকআপ করে যান তিনি। আর জরুরি পরিস্থিতিতে—এক ফোনেই ছুটে আসেন এখানে। মোহনা বেগম মেয়ের মাথাটা কোলে তুলে বসে আছেন। আঙুল দিয়ে আলতো করে চুলে বিলি কেটে দিতে দিতে বললেন,
“মিতু মা কি হয়েছিল তোর? হঠাৎ পড়ে গেলি কেন এভাবে?শরীর খারাপ লাগছে? বলিসনি কেন?”
মিতালী চোখ আধবোজা রেখে অস্পষ্ট সরে আওড়াল,
“জানি না মা। আজকাল শুধু মাথা ঘুরায়। শরীরটা খুব দুর্বল লাগে। কিছু খেতেও পারি না। রুচি নেই মুখে একদমই। জোরপূর্বক মুখে তুললেও কেমন বমি পায়!”
মোহনা বেগম থামলেন। চোখ ছোট ছোট করে পরখ করলেন মেয়েটার ফ্যাকাসে বদনখানা। গত এক মাসে মেয়েটা তার শুকিয়েছে অনেক। গাল দুটো ও কেমন লেগে গেছে। কিছু একটা মনে পরতেই চট করে প্রশ্ন করে থামলেন তিনি,
“এই মাসে তোর পিরিয়ড হয়েছে?”
সম্পর্কটা মা, মেয়ের থাকলেও মেয়েকে তিনি বড় করেছেন অন্যরকম ভাবে। যেন মেয়ে তার নির্ধিদায় সবকিছু শেয়ার করতে পারেন। এই আদেশটা অবশ্য ছিল তাজধীরের’ই। বোন একটু বড় হতেই মাকে বলেছিলো মিতালীর সঙ্গে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে। তাই মিতালী ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছে সব বলতে অভ্যস্ত। মায়ের চেয়েও বেশি তার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবে। মিতালী মাথা নাড়ল। বলল,
“নাতো আম্মু!”
মনে মনে কিছু একটা মিলিয়ে নিয়ে প্রশান্তির হাসি হাসলেন ভদ্রমহিলা তখন। অমনি এগিয়ে এলো তাজধীর।বলল,
“আন্টি কে ফোন করেছি। আসছেন।”
মোহনা বেগম তাকালেন ছেলের দিকে।বললেন,
“ডাক্তার লাগবে না আপাতত।”
চোখ সরু করে বলে উঠল তাজধীর,
“মানে?”
“তুই বরং পাভেলকে ফোন দে। বল, যেন তাড়াতাড়ি এখানে চলে আসে।”
একটু থেমে আবার বললেন,
“মিতালীর শরীরটা ভালো না। কিছুদিন ও এখানেই থাকবে।”
মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কয়েকপল চুপ করে থেকে গেল তাজধীর। সে অবুঝ নয়। আর নাতো অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো ছেলে। যা বুঝার বুঝে ফেলল মায়ের কথার টোনেই। তারপরও কঠোর গলায় জানাল,
“সে যাই হউক। আন্টি যেহেতু আসছেই, একবার চেক আপটা করেই যাক!”
“ভাইয়া পাভেল কে একটু কল দিয়ে জানিয়ে দাও আসার পথে প্রিয় আর দাদিকেও নিয়ে আসতে!”
মিতালীর কথায় ভ্রু টানটান করে চাইতেই শুনতে পেলো পুনরায় তাজধীর,
“বাড়িতে প্রিয় আর দাদি রাতে একা কিভাবে থাকবেন? বিষয়টা কেমন দেখায় না?”
“হ্যা মিতু ঠিকই বলেছে। আযান তুই বরং জামাইকে কল দিয়ে জানিয়ে দে আসার পথে প্রিয়ন্তীকেও যেন সাথে করে নিয়ে আসে।”
মা, বোনের কথায় মাথা নাড়িয়ে কল দিল পাভেলকে।
ওপাশে রিসিভ হতেই বলল,
“হ্যালো পাভেল? কোথায় আছো তুমি?”
“এইতো ভাইয়া রাস্তায়। বাসার দিকেই আসছি।কিছু হয়েছে কি? “
তাজধীর থামল একটু। এরপর বলল,
“সোজা এখানে চলে এসো।মিতালীর শরীরটা খারাপ।”
ওপাশে উদ্বিগ্ন কণ্ঠ ভেসে এলো সঙ্গে সঙ্গেই,
“কি হয়েছে ভাই? সব ঠিক আছে তো?”
“ বেশি কিছু না। টেনশন করার কিছু নেই।আসার পথে দাদি আর তোমার বোনকেও নিয়ে আসতে বলেছে আম্মু। মিতুর শরীরটা খারাপ হওয়ায় আপাতত কিছুদিন এখানেই রাখতে চাচ্ছি আমরা!”
“কিন্ত আমি তো অলরেডি রওনা দিয়ে দিয়েছি ভাই।চলেও এসেছি প্রায়।আমি ড্রাইভার কে বলে দিচ্ছি দাদি আর প্রিয় কে নিয়ে আসার জন্য? নাকি?”
তাজধীর কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। চোখ দুটো স্থির।মনে যেন কিছু একটা হিসাব করছে সে। তারপর একদম নির্লিপ্ত, শান্ত গলায় বলল,
“আবহাওয়ার অবস্থাটাও ভালো না। এমনিতেও আমার তোমাদের এলাকায় একটু কাজ ছিল। আসার পথে নিয়ে আসলে কোনো প্রবলেম নেইতো তোমার? “
“না, নাহ ভাই কি বলছেন? আপনি কষ্ট করতে যাবেন কেন এত। আমি বরং ড্রাইভারকে কল দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছি!”
“সমস্যা নেই। তুমি টেনশন করোনা। আমিই নিয়ে আসছি গিয়ে।”
“আচ্ছা ভাই। ঠিক আছে।”
কল কাটলো তাজধীর। রাত নেমেছে পুরোপুরি।
আকাশে মেঘের ঘনঘটা দৃশ্যমান। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে দূরে কোথাও। ঘন্টা খানেকের ব্যবধানেই একটি কালো রঙা কার প্রিয়ন্তীদের বাসার সামনে এসে থামল। ইঞ্জিন অফ রাখা। ভেতরে বসে আছে তাজধীর। পরনে সাদা জিন্স আর একটা ডার্ক চকলেট রঙা শার্ট। শার্ট এর হাতা দুটো ফোল্ড করা কনুই পর্যন্ত। হাতে শোভা পাচ্ছে ব্রান্ড এর ঘড়িটি। নাকের মাঝমাঝি থাকা কাঁটা দাগটায় বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে তার। আশ্চর্য গাড়ির এসিটা তো অন করাই। তাহলে এত ঘামছে কেন হঠাৎ? মনে হচ্ছে প্রফেশনাল কাজে সিলেক্ট হওয়ার জন্য কোনো টেস্ট এক্সাম দিতে এসেছে। নিজেকে শক্ত করে হাত স্টিয়ারিংয়ে রাখলেও দৃষ্টি তার সরাসরি গেইটের দিকে আটকে সেই তখন থেকে। মেয়েটা কি এখনই নেমে আসবে? এদিক দিয়েই তো বের হবে।
পাভেলের ফোন পেয়ে আগেই তৈরি হয়ে নিচে নেমে এসেছে প্রিয়ন্তী আর ওর দাদি।মিতালী অসুস্থ—
এই খবরটা শুনে দেরি করেনি কেউ। দাদিকে হাত ধরে নামিয়ে আনল প্রিয়ন্তী। দাদি এগিয়ে গিয়ে বসলেন পিছের সিটে। প্রিয়ন্তীর হাতে ধরা ওর ফোনটা। পূর্ণ মনোযোগে চ্যাটিং করছে কারো সঙ্গে। ফোনের অপর প্রান্তের থাকা ব্যক্তিটি আর কেউ নয়, শ্রেয়া। এতদিন, ভিন্ন ভিন্ন নাম্বার থেকে মেসেজ আসলেও গত পাঁচদিন যাবৎ একই নাম্বার থেকে প্রতিদিন নিয়মমাফিক রাত ১২ টায় একই মেসেজ আসলে বিষয়টা শ্রেয়ার সঙ্গে শেয়ার করে প্রিয়ন্তী। যা শুনে রীতিমতো আশ্চর্য হয়ে উঠে শ্রেয়া। এত বড় একটা বিষয় এতদিন ওর কাছ থেকে হাইড করায় রেগেও যায় ভীষণ। শ্রেয়ার এক বড় ভাইয়ের সাহায্য প্রিয়ন্তী কে আসস্থ করে বিষয়টা সে খুঁটিয়ে দেখবে। নাম্বার টা নিয়েছিল আগামীকাল।
তারপর নিজের বড় ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে নম্বরটা ট্র্যাক করার দায়িত্ব দেয় তাকে।আজ ফলাফল এসেছে।
“তুই যে নাম্বারটা দিয়েছিস, ওই লোকটার পরিচয় বের করেছি। ব্যাটা তো দেখি এক বুড়া আংকেল!”
“কিহ??”
“হ্যা রে! আর সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট কথা—লোকটা তো ছয় মাস আগেই মারা গেছে!”
এক মুহূর্তে জমে গেল প্রিয়ন্তীর আঙুল। চোখ স্থির হয়ে গেল স্ক্রিনে। লিখলো তড়িঘড়ি,
“শ্রেয়া, প্লিজ! এসব ইয়ার্কি করিস না।”
“আমি সিরিয়াস! লোকটার বাড়ি ময়মনসিংহ। বিবাহিত ছিল। দুইটা বাচ্চাও আছে। ছয় মাস আগে রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে।”
মেসেজটা পাঠাতে না পাঠাতেই পুনরায় তৎজলদি টাইপিং করে আবারও লিখল শ্রেয়া,
“এই প্রিয় মৃত মানুষ তোকে মেসেজ দিবে কিভাবে?জীবিতদের পাশাপাশি মৃতরাও দেখি তোর পিছনে হাত ধুয়ে পড়েছে।ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়?”
“বাল! ইয়ার্কি অফ দিবি প্লিজ?”
রেগেমেগে কথাটা বলে প্রিয়ন্তী। এ কি মুসিবতে পড়ল ও? তাহলে কে ওকে প্রতিদিন রাতে একই মেসেজ পাঠায়? সত্যিই কোনো ভুত প্রেত নয়তো?ধেৎ! আজকালকার মেয়ে হয়ে কিসব আজগুবি চিন্তা করিস প্রিয়ন্তী। নিজেকেই নিজে ধমকে উঠল ও। অস্তির, বেখেয়ালি হয়ে উঠে বসল সামনে থাকা ড্রাইভিং সিটের পাশে। অমনি শুনতে পেল,
“বাচ্চার বাবাকে ব্লক করে, এত মনোযোগ দিয়ে ফোনে আবার অন্য কাউকে খোঁজা হচ্ছে নাকি, মিস প্রিয়ন্তী?”
আচানক অতি পরিচিত ভারী পুরুষালি কণ্ঠটা এতটা পাশ থেকে শুনতেই হকচকিয়ে উঠে মেয়েটা। অতীব মাত্রায় আশ্চর্যে হাত ফসকে ফোনটা পড়ে যায় কোলের উপরেই। বিস্ফোরিত চোখ দুটো থামে গিয়ে সেই সুদর্শন লোকটার পানে। যেই লোকটার কারণে বিগত দিনগুলো একাকিত্বে, অস্থিরতায় পাড় করেছে ও।লোকটা এখানে কি করছে? ওর ভাইতো বলল তখন ড্রাইভার আসছে ওদের নিতে? সবচেয়ে বড় কথা লোকটা বাড়িই বা ফিরল কবে? এইজন্যই কি তখন ওর ভাবি এত তাড়াহুড়ায় বাড়ি গিয়েছিলো?
এতসব ভাবনার মাঝেই আকস্মিক প্রিয়ন্তীর মনে পড়ে গেল অতীতের তিক্ত স্মৃতিগুলো। ওকে রিজেক্ট করা, মুখের উপর সরাসরি না বলে দিয়ে চলে যাওয়া। এক একে সবটাই মনে পড়ল ওর। অমনি মেয়েটার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটলো। পারছেনা এক লাফে গাড়ি থেকে নেমে চলে যেতে বাড়িতে। সে যাবেনা এই ব্যক্তির সঙ্গে কোথাও। এক গাড়িতে তো প্রশ্নই উঠেনা। তারউপর আবার একই বাড়িতে থাকতে হবে নাকি?
ওদিকে ভাইয়ের কথার খেলাপ করার সাহসও নেই প্রিয়ন্তীর। মুখের উপর কিভাবে বলবে ভাইকে সে যে যেতে চায়না সেসব? তখন তার ভাই জিজ্ঞেস করলেই বা কি উত্তর দিবে?
“গাড়ি থামান!”
সবেই গাড়ি স্টার্ট করছিলো তাজধীর। মেয়েটার কথায় থেমে গেল সে। প্রিয়ন্তী অপেক্ষা করলনা আর এক সেকেন্ড ও। সোজা গাড়ির দরজা খুলে নেমে পিছনে উঠে বসল দাদির পাশে। ওদিকে তাজধীর এহেন ঘটনায় খানিকটা ভরকেছে বটেই। থ হয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয়ন্তীর বসার জায়গাটায়। কিছু একটা ভেবেই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল তার। এরপর পুনরায় গাড়ির স্টেয়ারিং চেপে স্টার্ট করল সেটা।গন্তব্য আপাতত তো একই। তাদের বাড়ি, সিদ্দিক কুঞ্জ!
:
:
:
চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা কোয়ার্টারে আপাতত তিনবন্ধু একজোট হয়ে আড্ডায় মশগুল। সাম্প্রতিক কোনো একটা বিষয় নিয়ে উপরের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে দ্বিধাদন্ধ। সেসব নিয়ে আলোচনায় বসলেও ঘুরেফিরে আলোচনার মোড় ঘুরেছে অন্যদিকে। সশরীরে উপস্থিত তিনজন থাকলেও আড্ডা দিচ্ছে মূলত দু’জনই। অর্ণব আর ফাহিম। সেহরোজ আপাতত ল্যাপটপ নিয়ে এক কোণে বসে আছে। চোখ দুটো স্ক্রিনে গেঁথে একমনে কাজ করে যাচ্ছে সে। আঙুলগুলো অবিরাম কিবোর্ডে চলাচল করছে।সবসময়ের মত তাজধীরের অনুপুস্থিতে এখানের সবকিছুর দায়ভার এসে পড়ে তার কাঁধে।
ফাহিম হেলান দিয়ে বসে পা দুলাতে দুলাতে ভাঙলো সেই নীরবতা,
“ব্যাপারটা কিন্তু এবার আমি কিছুতেই বুঝলাম না।”
“কোনটা?”
“এই যে তাজধীর। ওকে কখনো এমন দেখছিস আগে? ঘনঘন ছুটি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে? এমনটা হওয়ার কারণটা কি বলতো?”
অর্ণব ততোধিক আগ্রহ নিয়েই উত্তর করল,
“তার উপর এইবার তো একদম স্রেফ অপারেশন শেষে ফিরল। এক মাসও হয়নি। এর মধ্যেই আবার ছুটি নিয়ে চলে গেল! কি এমন ইম্পরট্যান্ট কাজ পরলো হঠাৎ?”
“সেটাই তো আমারও খটকা লাগছে রে!”
চোখ সরু করে যোগ করল অর্ণব,
“কিছু তো একটা আছেই নিশ্চিত।”
ফাহিম সাথে সাথে সোজা হয়ে বসল। বলল,
“তাহলে? এইবার আসলে সরাসরি ওকে জিজ্ঞেস করবো কি বলিস?”
“তুই জিজ্ঞেস করবি, আর ও খটখট করে সব বলে দেবে তাইনা? মূর্খ কোথাকার!”
“চেষ্টা করতে দোষ কি?”
“দোষ নাই, কিন্তু লাভও নাই!”
অর্ণবের ফোনের শব্দে আপাতত কথার ইতি ঘটল ওখানেই। অর্ণব ভ্রু কুঁচকে হাতে তুলে নিল ফোনটা।
স্ক্রিনে তাকাতেই চোখ দুটো স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে এলো খানিকটা। স্ক্রিনে নাম ভাসছে “Rozina Aunty”
নামটা দেখেই তৎক্ষণাৎ চোখ তুলে তাকাল সেহরোজের দিকে। ছেলেটা এখনো ল্যাপটপে ব্যস্ত। হাঁক ছাড়ল বন্ধুর উদ্দেশ্য,
“কিরে সের, আন্টি আমায় ফোন করছে কেন হঠাৎ?”
এতক্ষনে দৃষ্টি তুলে তাকালো সেহরোজ।একবার তাকালো নিজের পাশে অযত্নে সাইলেন্ট হয়ে পড়ে থাকা ফোনটায়। স্কিন টাচ করতেই শো করল মায়ের পরপর ১১ টা মিসড কোলের নোটিফিকেশনে। বিরক্তিতে হতাশ শ্বাস ছাড়ল সেহরোজ। বুঝে নিলো যা বোঝার। অর্ণবের ফোন বেজে যাচ্ছে তখনো। অর্ণব অপেক্ষা করছে বন্ধুর উত্তরের। সেহরোজ চোখ ইশারায় বুঝালো আপাতত রিসিভ না করতে। তবে বেচারা অর্ণব শুনলে তো?
ভ্রু নাচিয়ে বলল অর্ণব,
“ব্যাপার কি রে? আন্টি তোকে ফোন না করে আমাকে কল দিচ্ছে কেন? ব্যাপারটা তো তাহলে খুঁটিয়ে দেখতেই হয় দেখছি!”
ফাহিম আগ্রহ নিয়ে সামনে ঝুঁকল। দাঁত কেলিয়ে বলল,
“কি হইছে? কি হইছে?
অর্ণব আর কিছু না বলে কলটা রিসিভ করে ছুটলো বারান্দায়। এখানে শান্তিতে কথা বলতে পারবেনা জানে। সেহরোজ চোখ বন্ধ করে কপালে হাত ঠেকাল।
সেহরোজ কে একবার বাঁকা চোখে পরখ করে অর্ণবের পিছু পিছু ছুটলো ফাহিম ও।
অর্ণব বারান্দার রেলিংয়ের পাশে এসে দাঁড়াল। রিসিভ করে কানে ঠেকাতেই ধুনতে পেল নম্র, কোমল নারীর কণ্ঠখানা,
“বাবা অর্ণব বলছো?”
“জি আন্টি! আস্সালামুআলাইকুম। কেমন আছেন আন্টি? শরীরটা ভালো তো আপনার?”
“এইতো বাবা আছি আলহামদুলিল্লাহ। তোমাদের কি খবর? কেমন আছো তোমরা?”
“এইতো আন্টি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। তা আন্টি হঠাৎ কল দিলেন যে কিছু হয়েছে?”
“বাবু কে কতবার কল দিলাম, ফোনটাই ধরছেনা ছেলেটা। কোথায় ও জানো বাবা?”
“ওতো একটু ব্যস্ত আন্টি। তাই হয়তো খেয়াল করেনি। ফ্রি হয়ে আপনায় কল দিবোনি। কিছু কি হয়েছে আন্টি? আপনি চাইলে আমাকেও বলতে পারেন
ওপাশ থেকে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস শোনা গেল।এরপর বলতে লাগলেন সেই নারী,
“বাড়িতে তো একাই থাকি বাবা। দরকারে অদরকারে ফোন দিয়েও পাই না ছেলেটাকে।”
অর্ণব ভ্রু কুঁচকে ফেলল সামান্য।বলল,
“ও কি কোনো কারণে রেগে আছে আন্টি আপনার উপর?”
ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো,
“ওর রাগার কি কোনো কারণ লাগে বাবা? তোমরা তো তোমাদের বন্ধুকে চেনোই—এমনিতেই রেগে থাকে সবসময়। এভাবে করলে আর কিভাবে হবে বলো? আমার বয়স হয়েছে, ওরও তো বয়স হয়েছে।”
“কি হয়েছে আন্টি, একটু খুলে বলুন আমাকে।”
“কি বলবো বাবা। ছেলেটার জন্য একটা মেয়ে দেখেছিলাম।মেয়েটা আমারই বান্ধবীর মেয়ে। মেয়েটা খুব লক্ষী জানো তো। দেখতেও খুব মিষ্টি। আজকালকার দিনে এমন সহজ-সরল মেয়ে পাওয়া খুবই টাফ। বাড়িতেও তো একা থাকি আমি। আমাকে দেখভাল করার জন্য তো কাউকে দরকার, তাই না?
কত করে বললাম, বিয়েটা এবার কর। আমার কোনো কথাই তো শুনছে না। অন্তত একবার তো দেখ ছবিটা পাঠাই।দেখুক। পছন্দ না হে বাদ। সেটাও রাজি হচ্ছেনা। সোজা না করে দিল—বিয়ে করবে না বলে!”
“আন্টি আপনি একটু শান্ত হন। আমি দেখছি বিষয়টা।”
অর্ণবের শান্তনায় খানিকটা স্বস্তি পেলেন যেন সেই নারী। বললেন,
“ওকে একটু বুঝাও না বাবা? এভাবে আর কতদিন থাকবে?”
“আমাদের কথা তো ও শুনবে না আন্টি। ও যার কথা শুনবে, আপাতত সে আমাদের মাঝে নেই।”
একটু থেমে সে যোগ করল ফির,
“আপনি এক কাজ করুন,আপনার বান্ধবীর সঙ্গে পাকাপাকি কথা বলে ফেলুন। আমরা বাকিটা ম্যানেজ করছি।”
আকস্মিক আনন্দে গদগদ হয়ে উঠলেন সেই নারীকণ্ঠ,
“তোমরা পারবে বাবা? পারবে ওকে রাজি করাতে?”
“আমরা পারবো কিনা জানি না আন্টি কিন্তু তাজধীর পারবে। জানেন তো, তাজধীরের কথা ফেলার সামর্থ্য কারও নেই। ওর কেন আমাদের কারোই নেই।তাই ও আসা অব্দি অপেক্ষা করতে হবে আন্টি। বাকিটা ওকে বললে ওই মানিয়ে নিবে। নোর প্রবলেম। আপনি রিলাক্স থাকুন।!”
“মেয়েটা খুব লক্ষ্মী জানো তো বাবা না হলে আমি এত রিকোয়েস্ট করতাম না। বয়সটাও অল্প, এইবার মাত্র এসএসসি দেবে। ভাবছিলাম এসএসসি’র পরেই বিয়ের কথাটা পাকাপাকি করে ফেলবো।কি বলো? “
“এ্যা!”
একবার আলগোচ্ছেই শব্দটা বেরিয়ে এলো অর্ণবের গলা হতে। প্রচন্ড ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নিশ্চিত হতে পরপর প্রশ্ন করল,
“কিসে পরে বললেন আন্টি?”
“এসএসসি দেবে বাবা।ইচ্ছে ছিল বড় মেয়েটাকে আনার। কিন্তু হুট্ করেই সেদিন মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে। তাই ছোট জনকেই ভাবছি।”
অর্ণব একদলা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মাথাটা সামান্য পেছনে হেলাল। যেই ছেলে কিনা মেয়েদের বয়সসীমা নিয়ে প্রচুর স্ট্রিক্ট সে কিনা করবে সামান্য এস এস সি পাশ পরীক্ষার্থী কে বিয়ে? তাজধীরের মতোই সেহরোজ ও সবসময় একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেইনটেইন করে চলে এসেছে মেয়েদের থেকে। তবে তাজধীরের মতো নয় বরং —তার ক্ষেত্রে মেয়েরা নিজেরাই উল্টো দূরে দূরে থাকত। সেহরোজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, গম্ভীর চেহারা আর রাগী স্বভাবের জন্য কোনো মেয়ে সহজে তার আশেপাশে ভিড়তে চাইত না।
তবুও মাঝে মাঝে আড্ডার ফাঁকে, একেবারে নির্লিপ্ত গলায় সে নিজের মতামত জানাতো বাকিদের,
“সমবয়সী না হলে সম্পর্কের ব্যালান্স থাকে না। দুজনের মধ্যে যদি বুঝাপড়াটা সমান লেভেলের না হয়, তাহলে ওই সম্পর্ক বেশিদিন টেকে না। কথাগুলো সবসময়ই যুক্তি দিয়ে সাজাতো তাই বন্ধু।অর্ণব তখন মজা করেই বলত,
“এত নাক মুখ কুচকাস না। শেষে দেখবি হাঁটুই বয়সী কাউকেই ঝুলিয়ে দিবে আন্টি তোর গলায়!”
হিহিহিহি কথাটা এভাবে যে অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাবে কল্পনাও করতে পারছেনা অর্ণব। কিছু একটা ভেবে মনে মনে শয়তানি ও হাসল। দুদিন আগেই তো ওকে ধমকেছিল হাঁটুর বয়সী মেয়ের পেছনে পড়ে থাকায়। সেই সুযোগ হাতছাড়া করবে কেন এখন সে?
মহিলাকে আশ্বস্ত করল তৎক্ষণাৎ। জানালো,
“আন্টি, আপনি চিন্তা করবেন না। আমরা বিষয়টা দেখছি।আপনি রিল্যাক্স থাকেন।”
বলে কল কাটলো। বাঁকা হেসে প্রবেশ করল কক্ষে।
সেহরোজ এখনো ল্যাপটপ নিয়েই বসে আছে।
ফাহিম সোফায় আধশোয়া হয়ে আছে রুমে ঢুকে। অর্ণব ঢুকেই কালবিলম্ব না করেই আচানক বলে উঠল,
“বাবু! তোমার জন্য তোমার মা বাচ্চা পালার বয়সে বাচ্চা বউ ঠিক করেছে।”
সেহরোজ মাথা তুলে অগ্নি চোখে চাইলো।ওদিকে ফাহিম কথার মাঝখানে রুমে চলে আসায় পুরোটা শুনতে পায়। ততোধিক আগ্রহী হয়েই পেট ফাটা হাসি চেপে বলল,
“কি বললি?!”
“পাত্রী এবার এসএসসি দেবে। বাবুর জন্য আন্টি বাচ্চা বউ ঠিক করেছে। সমস্যা নেই ভাই তুই টেনশন করিস না। আমার টা আর তোরটা দুইটাকে একসঙ্গে নিয়ে এসে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিবোনে কি বলিস? বাচ্চা পালার বয়সে দুই বন্ধু নাহয় কোলে পিঠে তুলে বাচ্চা বউ বড় করলাম!”
সেহরোজ রাগী চোখ নিঃক্ষেপ করেও দমাতে পারলো না বন্ধুকে। উল্টো অর্ণব গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে বলেই গেল,
“এভাবে রাগ দেখিয়ে লাভ নেই বাবু। বিয়ে আমি কনফার্ম করে দিয়েছি।”
সেহরোজের রাগের মস্তিস্ক বিগড়ে যাচ্ছে যেন। পারলে ওই দুই চোখ দিয়েই ভস্ম করে দিবে বন্ধুকে।
হাতের কাঁচা থাকা ফাইলটা সরাসরি ছুড়ে মারল অর্ণব ke উদ্দেশ্য করে। এক হাত বাড়িয়ে সহজেই ধরে ফেলল অর্ণব ফাইলটা। ফাহিম পেট চেপে হেসেই যাচ্ছে।অর্ণব আবারও বলল,
“রাগ করো না বাবু।তোমার রাগ ভাঙানোর বাচ্চা বউ খুব শীঘ্রই আসতেছে।”
এইবার সেহরোজ উঠে দাঁড়াল বসা হতে।
চোখে তীব্র বিরক্তি নিয়ে দাঁত চেপে হিসহিস করতে করতে বলে গেল,
“ইডিয়ট।”
বলেই হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সে। ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে অর্ণব আড় ফাহিম দুজনেই হেসে কুটিকুটি অবস্থা।
:
:
:
:
প্রায় এক ঘণ্টার লাগাতার গাড়ি চালিয়ে অবশেষে ওদের গাড়িটা এসে থামল গন্তব্যেয়।বাইরের পরিবেশটা আগের তুলনায় আরও ভারী হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তেই ঝোপঝপিয়ে বৃষ্টি নামবে বলে। দূরে কোথাও গর্জনের মতো শব্দও শোনা যাচ্ছে। আর তার মাঝেই টুপটাপ করে দুই-এক ফোঁটা বৃষ্টি নামতে শুরুও করে দিয়েছে। গাড়ি থামতেই প্রথমে নড়েচড়ে বসলেন দাদি। ধীর ভঙ্গিতে তিনি দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। তাজধীর আগে থেকেই গাড়ি পার্ক করে নিয়েছিল।সবার আগে নেমে দাঁড়ালো সে-ই। তারপর দাদির জন্য সামনের দরজাটা খুলে দিল।দাদি নেমেই সোজা এগোলেন বাড়ির অভিমুখে।প্রিয়ন্তী ইচ্ছা করেই শেষে নামল। লোকটা চলে গেলে ও নামবে বলে বসে রইলো ঠাই ধরে। তাজধীর স্বাভাবিক কদমে এগিয়ে যেতেই নেমে এলো প্রিয়ন্তী। ওদিকে তাজধীর হঠাৎ কি মনে করে পিছু ঘুরতেই দেখতে পেল মেয়েটা গাড়ির ভিতর থেকে ওড়না টানছে।
প্রিয়ন্তীর জর্জেটের ওড়নাটা গাড়ির দরজার ফাঁকে আটকে গেছে। দরজা লক হয়ে যাওয়ায় কাপড়টা ভেতরে টানটান হয়ে আছে, আর বাইরে বের করার জন্য মেয়েটা টানাটানি করছে সেটা। চোখে মুখে তখন রাজ্যের বিরক্তি এসে ভর করেছে। বৃষ্টির ফোঁটা ততক্ষনে আরও ঘন হতে শুরু করেছে।
প্রিয়ন্তী প্রচন্ড বিরক্তিতে গজগজ করে টানছেই ওড়নাটা।পিছন ঘুরে এগিয়ে এলো তাজধীর। দাঁড়ালো একদম মেয়েটার গাঁ ঘেঁষেই। দরজার লক খুলে ওড়নাটা একটানে বের করে আনতে আনতে ভারিক্কি ভয়েজে বলল,
“সামান্য একটা ওড়না সামলে রাখতে পারছেন না, সেখানে স্বয়ং তাজধীর সিদ্দিক আযান কে সামলানোর স্বপ্ন দেখেন কিভাবে, মিস প্রিয়ন্তী?”
দুজনের শরীর তখন ছুঁই ছুঁই। কথাটা বলে আর থামল না তাজধীর। যেভাবে এসেছিলো ঠিক সেভাবেই চলে গেল। মাঝ খানে তোলপাড় করে দিয়ে গেল প্রিয়ন্তীর ভিতরটা। লোকটা ওর এত কাছাকাছি কেন আসল আবার? কেনই বা এমন করে কথা বলছে প্রতিবারের মত? এটাকি একটু বেশিই বাড়াবাড়ি নয়? প্রিয়ন্তীর রাগে চোয়াল শক্ত হলো। মানতে নারাজ হলো আকস্মিক লোকটা ওর এত কাছাকাছি আসায় শরীরে উৎপন্ন হওয়া সেই শিরশির অনুভূতি।
“এই লোকের পাল্লায় পড়বি না। পড়বি না তুই বেয়াদব মেয়ে। এই লোক তোকে আবারও একইভাবে ভেঙে দিতে চায়।ভেঙে গুড়িয়ে তছনছ করে দিতে চায়। একদম এইবার এই লোকের পাল্লায় পড়ে গাঁ ভাষাবি না।”
নিজেকে নিজে ধাতস্ত করে গটগট পায়ে নিজের ওড়নাটা ঠিক করে নিয়ে ভেতরের দিকে চলে গেল প্রিয়ন্তী।ড্রয়িংরুমটা তখন অদ্ভুত এক উষ্ণতায় ভরা।
ডাক্তার শামীমা কিছুক্ষণ আগেই নিশ্চিত করে গেছেন মিতালীর প্রেগন্যান্ট হওয়ার বিষয়টা। আর সেই খবর শোনার পর থেকেই পুরো বাড়িটা এক নতুন আলোয় ভরে গেছে যেন। পাভেল একদম স্থির হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়েই ছিল স্ত্রীর পানে। পৃথিবীর সবচাইতে আবেগী আর খুশির মুহূর্তও বোধহয় একটা ছেলের জন্য এটাই। এই আনন্দ মুখে প্রকাশ করার মত নয়। উপলব্ধি করার জিনিস এটা। যার হয় সেই বুঝে। পারছেনা সবার সামনে স্ত্রীকে কোলে তোলে নিয়ে ভাগাভাগি করুক সেই আনন্দের মুহূর্তটুকু।
মিতালীর মা মোহনা বেগম তো এক মুহূর্তও দেরি করেননি। ড্রাইভার কে দিয়ে সেই তখুনি দোকান থেকে মিষ্টি আনিয়েছেন। নানী হবেন তিনি। যদিও খুব শখ ছিল আগে দাদি হওয়ার। তবে নানী হওয়ার খুশিটাই বা কম কিসে। মিতালীর দাদি এলেন। ততক্ষনে তার কানেও পৌঁছে গেছে সেই আনন্দের খবর। একে একে তাজধীর প্রিয়ন্তী সকলেই জানতে পারল তা। প্রিয়ন্তী তো উঠচ্ছাসে গদগদ হয়ে দৌড়ে এসে বসল ভাবীর পাশে। জিজ্ঞেস করল নিশ্চিত হতে,
“সত্যিই ভাবি? আমি ফুপী হতে চলেছি তাহলে?”
মিতালী হেসে মাথা নাড়ল উপর নিচ।প্রিয়ন্তী তৎক্ষণাৎ জড়িয়ে ধরলো ভাবিকে। মুখে একরাশ মুগ্ধতা ঢেলে বলল,
“অভিনন্দন তোমাদের!ইশ! কবে যে আসবে ছোট সোনাটা। আমার তো তরই সইছে না!”
কাজের মেয়েতা ট্রে ভর্তি মিষ্টি নিয়ে ঘুরছে। সবাইকে খাওয়াচ্ছে। সেখান থেকে একখানা মিষ্টি তুলে নিলো প্রিয়ন্তী। খাওয়ালে ভাবিকে। এরপর পাভেল,মোহনা বেগম দাদিকেও খাওয়ালো। মিষ্টির বক্সটা খোলা অবস্থায় রাখা ছিল টেবিলের উপর। তাজধীর সেখানে এসে দাঁড়াল। একটা মিষ্টি তুলে নিল খুব স্বাভাবিকভাবেই। অগত্যা এসে থামল মিতালীর সামনে। বোনকে খাইয়ে পরপর আরেকটা মিষ্টি এনে প্রিয়ন্তীর সামনে দাঁড়ালো সে।তারপর হুট্ করেই একদম অপ্রত্যাশিত ভাবেই মেয়েটার মুখে ঠেসে ঢুকিয়ে দিলো মিষ্টিটা। খানিকটা ঝুকে কানের পাশে এসে হাঁস্কি টোনে বলে উঠল,
“আপনার তো সোজা প্রমোশন হয়ে গেছে, মিস ব্লু হাফমুন! একেবারে সোজা মামি হতে যাচ্ছেন।”
চলবে…..
যত জলদি 5k উঠিয়ে দিবেন, ততো জলদি পরবর্তী পর্ব পাবেন কথা দিচ্ছি 🫶
নিরামিষ সাহেব কে নিয়ে প্রচুর রোমান্টিক আমার কিন্তু দুটো ই বুক আছে। যারা নিরামিষ থেকে আমিষী রূপান্তরিত হওয়া কমান্ডার কে পড়তে চান তারা চাইলে ইবুক দুটো সংগ্রহ করতে পারেন কিন্তু।
Share On:
TAGS: ডেসটেনি, সুহাসিনী মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেসটেনি পর্ব ৭
-
ডেসটেনি পর্ব ৮
-
ডেসটেনি পর্ব ১৫
-
ডেসটেনি পর্ব ১৬
-
ডেসটেনি [ সারপ্রাইজ_পার্ট ]
-
ডেসটেনি পর্ব ১২ (প্রথম অংশ)
-
ডেসটেনি পর্ব ৬
-
ডেস্টিনি পর্ব ৪
-
ডেসটেনি পর্ব ৯
-
ডেসটেনি পর্ব ১৮