পদ্মপ্রিয়া
পর্ব_৪
ঈশিতারহমানসানজিদা
আজমাঈন ভ্রু নাচায়, বিপরীতে আজমল শিকদার ও ভ্রু নাচায়। ইশারায় বসতে বললে ঠাস করে বসে পড়েন। বাপ যে তার ঘরে আজকাল আড়ি পাতছে তা বেশ বুঝতে পারে আজমাঈন। ওর হোটেলের কাজকর্ম কতদূর তা জানার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করছেন। কিন্তু চতুর ছেলে আজমাঈন, কিপটে বাপকে সেও টেক্কা দিতে প্রস্তুত। এমনভাবে খবর লোপাট করেছে যে কাক পক্ষীতেও টের পাবে না। আজমল শিকদার একবার জানতে পারলেই নাচন কোদন শুরু করে দিবে। নিজের ইচ্ছা ফলাতে আসবেন। এজন্য সদা সাবধান আজমাঈন। তবে এই মুহূর্তে মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে আজমাঈনের হাতে থাকা হীরের আংটি। আজমল শিকদার সন্দিহান চোখে বলেন,’কি হে, আমার জমি খেয়ে বুঝি এসব করেছ?’
আজমাঈন বাবার কাঁধে হাত রাখে, গলা জড়িয়ে ধরে,’আরও কত কি করেছি তা তো সময় এলে বুঝবেন শিকদার সাহেব। কথায় আছে না কৃপণের ধনসম্পদ পিঁপড়ায় খায়। কথাটা এবার উল্টে গেছে। কৃপণ বাপের সম্পদ ছেলে খায়।’
‘হাত নামা আমি কি তো বেয়াই লাগি?’
আজমাঈন হাত নামায়। দাঁত বের করে হেঁসে বলে, ‘আপনি আমার মায়ের স্বামী, আমার বোনের বাপ, আমার জন্মদাতা।’
এ ছেলে অভিনয় জানে ভালো, আগেভাগে দেখে শুনে কোন পরিচালকের হাতে তুলে দিলে হয়তো আজ এই দিন দেখতে হত না। সে শান্ত ভাবে বলে, ‘এত গুলো টাকা খেয়ে তোর কি একটুও অনুতপ্ত বোধ হচ্ছে না? মার্সিডিজ কিনতে কত টাকা খরচ হয়েছে হিসেব আছে তোর? তারপর আমি যেই বাড়ি করছি, তখনই তোর হোটেল করার ইচ্ছা জাগলো? চাকরিটাও ছাড়লি, আমার কলিজা ভুনা করে না খাওয়া পর্যন্ত তোমার তো শান্তি হবে না বাপ।’
আজমাঈন দেখলো বাপ তার ঘামছে, এই টাকার কথা উঠলেই প্রেসার হাই হয়ে যায় ওনার। কপাল চাপড়ে বিলাপ করেন মাঝেমধ্যে। তাতে কান দেয় না আজমাঈন। আজ প্রতিত্তোরে আবার কাঁধে হাত রেখে বলে,’দেখুন শিকদার সাহেব, হাইস্কুলে পড়াকালীন আপনাকে বলেছিলাম সাইকেল কিনে দিতে। আপনি বললেন, বাপ আমার তোমাকে তো বাইক কিনে দিব এসব সাইকেল নিয়ে তোমার স্কুলে যাওয়া লাগবে না। অগত্যা দশ মিনিট হেঁটে হেঁটে যেতাম। ভার্সিটিতে উঠার পর বাইকের কথা বলতেই আপনার বিপি হাই হয়ে গেল। বললেন বাপজান তুমি আমার রাজপুত্র, তোমাকে বাইকে মানায় না, তোমাকে তো বড় গাড়িতে মানায়। তুমি আগে গাড়ি চালানো শিখো। আর আপাতত বাসে করে ভার্সিটি যাও। তারপর আমি তাই করলাম, কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর যে আপনার মত বদলাবে তাই আগেভাগেই প্ল্যান করে রেখেছিলাম।’
এই মুহূর্তে চমকে ওঠেন আজমল শিকদার,’কিসের প্ল্যান?’ আতঙ্কিত হয়ে তাকান,’কি করেছিলি?’
‘বেশি কিছু না, আপনার পকেট থেকে কিছু টাকা চুরি করে নার্স আর ডক্টর কে খাইয়ে মিথ্যা অক্কা পাওয়ার নাটক সাজিয়েছিলাম। কথায় আছে না যেমন কুকুর তেমন মুগুর, আপনার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে শিকদার সাহেব।’
আজমল শিকদার বিছানায় টান হয়ে শুয়ে পড়লেন। হাঁসফাঁস করতে লাগলেন। আজমাঈন বললো, ‘বাতাস করব শিকদার সাহেব?’
‘চুপ কর মুখ পোড়া, কোন ভুলের শাস্তি পাচ্ছি আমি আল্লাহ। তুমি কেন এই ছেলেকে আমার ঘরে পাঠিয়েছ?’
‘সে তো তুমি চেয়েছ তাই পাঠিয়েছে।’ এবার আর সহ্য হলো না আজমল শিকদারের। পায়ের জুতো খুলে তাড়া করলেন। কিন্তু আজমাঈন কে আর পায় কে। গাড়ির চাবি হাতেই ছিলো। হাঁটুর ব্যথা নিয়ে বাপ তার আসতে আসতে ততক্ষণে সে গাড়ি নিয়ে হাওয়া। আজমল শিকদার চেঁচিয়ে বললেন,’বাথরুমে গেলেও কি গাড়ি নিয়ে যাওয়া লাগে বুনো শেয়াল, তেল কি তোর বাপের টাকায় আসে?’ অতি সত্য কথাটা মনে পড়ে যাওয়ায় নিজেই নিজেকে সুধায়,’বাপ তো আমিই!’
কোনমতে ঘরে ফিরে এলেন, তাহমিনা দেখলেন স্বামী তার একপায়ের জুতো হাতে নিয়ে আসছেন। একাজ প্রতিদিন ই দেখেন। বাপ ছেলের যুদ্ধ থামবার নয়। এবার দেখেশুনে ছেলেকে বিয়ে করাতে হবে। তবে যদি স্বামী তার একটু থামে।
তবে আজমাঈন যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে, কেননা হীরের আংটির কথা বেমালুম ভুলে গেছে ওর বাপ। মূলত এটাই চেয়েছিল আজমাঈন।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিয়ে বাবার সাথে ফিরেছে নূর। বাইরে যা গরম, এসি অন করে দিয়ে বোরখা চেঞ্জ করলো সে। সাদা সুতির কুর্তি গায়ে জড়িয়ে ওড়না পেচালো মাথায়। রাশেদ সাহেব গরমে হাঁপিয়ে গেছেন। নূর রান্নাঘরের উদ্দেশ্যে বের হলো, ঠান্ডা ঠান্ডা লাচ্ছি বানিয়ে রাশেদ সাহেব কে দিবে। এরই মধ্যে অনুভব এসে হাজির,’কি করো ফুপি?’
‘লাচ্ছি বানাই আব্বু জান, তুমি খাবে?’
অনুভব ফ্রিজ থেকে দই বের করতে করতে বললো, ‘তা খাব, তবে তোমাকে হেল্প করব।’
ভাতিজা তার কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে তা বোঝা যাচ্ছে। নাহলে সাহায্য করতে আসে নাকি! আর এই ভর দুপুর বেলায় পড়ে পড়ে ঘুমানো ছেলেটা তাকে হেল্প করতে এসেছে তা অবিশ্বাস্য। সে ছোট ছোট চোখে জিজ্ঞেস করে,’কি চাই হ্যাঁ?’
কথা শুনতে পেলো না অনুভব। চোখ পাকিয়ে বলে, ‘উফফ ফুপি, তুমি এতো আস্তে কথা বলো!! নিজের কথা তো নিজেই শুনতে পাও না।’
নূর হাসে, সে আস্তে কথা বলতে পছন্দ করে। তাছাড়া ছোটবেলা থেকে কারো সাথে তেমন কথা না বলতে বলতে কন্ঠস্বর যেন নিচু হয়ে গেছে। এবার সে খানিকটা জোর গলায় বললো,’আচ্ছা আচ্ছা, কি চাই তোমার? এমনি এমনি তো বাবুর দেখা পাওয়া যায় না।’
অনুভব আমতা আমতা করে বলে,’আম্মুকে বলেছি টাকা দিতে, আমার একটি ঘড়ি পছন্দ হয়েছে। সে দিলো না। তোমার তো অনেক টাকা, দিবে?’
কিছুক্ষণ স্থির চোখে তাকিয়ে হেসে ফেললো নূর। স্নিগ্ধ হাসি দেখে অনুভব ও হাসলো। গ্লাস হাতে নিয়ে নূর বললো,’তোমাকে টাকা দিলে ভাবি রাগ করবেন, তার থেকে ঘড়িটা কিনে দেই চলো। আজ ফ্রি আছি।’
অনুভব মাথা নাড়ে, নূর লাচ্ছির গ্লাস অনুভব কে দিয়ে দুই গ্লাস নিয়ে রাশেদ সাহেবের ঘরে যায়। রেহানা তার বড় মেয়ে রাহার সাথে কথা বলতেছে। কথা কম খিটমিট করছে বেশি। এই মেয়ের সাথেও তার বনিবনা হয়না সেই কবে থেকে। মেজাজ তার বিগড়ে গেছে নূরের জন্মের পর থেকে। তিন ছেলেমেয়েদের কাউকেই যেন পছন্দ করেছেন না। নূরকে একটু বেশি অপছন্দ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার এই অপছন্দ বাড়ছে। এখন কথা হচ্ছে নূরকে নিয়ে, রাহা ওর নতুন বাড়ির ডেকোরেশন করাবে। ওর ছেলেরা চাইছে তাদের একমাত্র খালামনি কে দিয়ে ডেকোরেশন করাবে। নূরের পছন্দ সম্পর্কে ওদের ধারণা আছে। একথা নিয়েই হম্বিতম্বি করছেন রেহানা। নূরের ওখানে যাওয়ার দরকার নেই। মেয়ে মানুষ দিয়ে কেন কাজ করাবে। মায়ের এই পাগলামি কখনোই গুরুত্ব দেয়নি রাহা। আজও দিলো না, উল্টে রাশেদ সাহেব কে বললো,’বনুকে পাঠিয়ে দিও আব্বু, ও এসে রুমটা দেখে যাক। আমার সাথেও দেখা হবে। কতদিন তো বাসায় যাই না।’
নূর সবে রুমে এসেছে, স্ক্রিনে রাহার মুখটা দেখতেই এগিয়ে এলো,’কেমন আছো আপু?’
এতক্ষণে স্বস্তি মিললো রাহার,’ভালো, তুই কেমন আছিস?’
‘আলহামদুলিল্লাহ, কতদিন এমুখো হও না।’
‘তুই আয় অনুভব কে নিয়ে, ছেলেগুলোর জ্বালায় বাঁচি না। রুমটা কিভাবে ডেকোরেশন করতে হবে এসে দেখিয়ে দিয়ে যা।’
নূর মাথা নাড়ে, বাবার সাথে থেকে থেকে এই অভিজ্ঞতা আয়ত্ত করেছে ভালোভাবে। তবে রাশেদ সাহেবের ইচ্ছে তার এই ব্যাবসা ছোট মেয়ে নূর সামলাবে। যদিও এখনো সেই ঘোষণা দেননি। দিলে সাইমন হয়তো বাড়িতে ঝড় ওঠাবে। এজন্য একটু রয়ে সয়ে কাজ করবেন। আগে মেয়েটা আরেকটু বড় হোক।
কিছুক্ষণ রাহার সাথে কথা বলে ফোন কেটে বলেন,’তাহলে তো একটা কাজ বেড়ে গেল, নতুন যে কাজটা পেয়েছি সেখানে একবার গিয়ে দেখে আসলে ভালো হতো না? ছেলেটা লাক্সারি হোটেল দিচ্ছে। বাড়ির কাজটা ভালো হলে নাকি হোটেলের জন্য বুকিং দিবে। তাই ভাবছিলাম তুই একবার গিয়ে দেখে আসতি।’
নূর খানিকক্ষণ চিন্তা করে বললো,’সাথে তো কাউকে নিয়ে যেতে হবে।’
‘দাদুভাইকে নিয়ে যা, দুই মা ছেলে গল্প করতে করতে চেলে যাবি। তাছাড়া ফারিন তো যাচ্ছে তোর সাথে।’
রাশেদ সাহেবের কর্মচারী ফারিন, সে বেশিরভাগ নূরের সাথে থাকে, বলতে গেলে দূরে কোথাও যেতে হলে সাথে যায়। তবুও মাঝে মাঝে অনুভব সাথে যায়। বেশি দূরের পথ হলে রাশেদ সাহেব নিজেই অনুভব কে সাথে দেন যাতে মেয়ে তার বোরিং ফিল না করে।
নূর খানিক সময় নিয়ে বলে,’আমি ভেবে বলব।’
‘ওহ হ্যাঁ, তোর লাইসেন্স এর রেজাল্ট কালকে দিয়ে দিবে। অনলাইন থেকে কার্ড ডাউনলোড করে দিব। তাহলে তো তুই গাড়ি নিয়ে যেতে পারবি। কোন চিন্তা নেই।’
রেহানা শুধু শুনে গেলেন। তিনি ঠিক করে নিয়েছেন যে আর কোন সন্তানদের কথায় নাক গলাবেন না। তার কথার ধার ধারে না কেউ তাই কথা না বলাই উত্তম। চুপচাপ লাচ্ছিতে চুমুক দিলেন। রাশেদ সাহেব আজমাঈনকে অবগত করলেন নূরের যাওয়ার বিষয়টা। তবে দুয়েক দিন পর। আজমাঈন আশ্বাস দিলো যে সে নিজে এসে নিয়ে যাবে নূরকে। যাতে কোন সমস্যা না হয়।
বিকেলে নূর বের হয় রাহাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে, সঙ্গে রয়েছে অনুভব। কাছে ধারেও রাশেদ সাহেব মেয়েকে কোথাও একা ছাড়েন না। আগে নিজে নিয়ে যেতেন। এখন বয়স হয়েছে তাই ছোট অনুভব কে সাথে পাঠায়। নূরের চেয়ে চার বছরের ছোট অনুভব। ক্লাস নাইনে পড়ে এবার। তবে ফুপির সাথে তার বেশ ভাব, সাহারা কে দমিয়ে রাখা গেলেও অনুভব কে দমাতে পারে না ওর মা। একটু ঘাড়ত্যাড়া কিনা। এইযে নূরের সাথে বের হয়েছে একথা অনুপমা শোনার পর বারন করেছে কিন্তু কে শোনে কার কথা। ঠিকই গাড়িতে গিয়ে হাজির। অনুভবের পছন্দের ঘড়ি কিনে দিয়ে সাহারার জন্য একটা কুর্তি কিনে রাহার বাড়িতে গেল। ভাগ্নে দের জন্য এক গাদা খাবার কিনতে হলো। নাহলে সবগুলো মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে। বড় হয়েছে কিন্তু বাচ্চামো স্বভাব যায়নি কারো। রাহা আর নূরের বয়সের পার্থক্য ঊনিশ বছর পাঁচ মাসের। বোনকে সেই কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে। মায়ের চেয়েও রাহার কাছ থেকে বেশি ভালোবাসা পেয়েছে তাই বোনের শত আবদার মেনে নেয়। সবসময় পাশে থাকে। অল্প সময়ে কাজ শেষ করে দু’জন ফিরে এলো।
কিন্তু আজমাঈনের বাড়ি যাওয়ার কথা শুনে অনুপমা ঘোর বিরোধ করলো। সে কিছুতেই ছেলেকে এতো দূরে যেতে দিবে না। তার উপর নূর ড্রাইভ করবে। তার ভাষ্যমতে শ্বশুর তার টাকা খাইয়ে লাইসেন্স করিয়েছে, নূর ভালো করে ড্রাইভ করতে পারে নাকি।
বাংলাদেশের কালচার তো বিদেশিদের মতো নয়, যে এতটুকু মেয়ে এখনি গাড়ি চালাবে। এজন্য বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। অথচ নূর তিন বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। প্র্যাকটিস কম করেনি, অনুপমা তা বিশ্বাস করছে না। শেষে অনুভব বলে উঠলো,’আমাকে যেতে না দিলে ভাত খাব না আম্মু।’
অনুপমার চোখ জ্বলে উঠলো, এমনটা অনেক বার করেছে ছেলে। টানা দু’দিন রাগ করে ভাত না খাওয়ার রেকর্ড আছে ওর। তারপর অসুস্থ হয়ে পড়লো, এরপর থেকে অনুভবকে রাগায় না কেউ। সাইমন জানতে পারলে ছেলেকে বেধড়ক পেটাবে এই ভয়ে তাকেও বলে না। অতঃপর কোন বাক্য ব্যয় না করে অনুভব কে যেতে দিলো।
আজ প্রথম এতটা পথ ড্রাইভ করবে নূর। সে ভীষণ এক্সাইটেড, গাড়ির কাগজপত্র সব ঠিকঠাক দেখে নিয়ে বিসমিল্লাহ বলে গাড়ি স্টার্ট দিলো। আজ সে সাদা রঙের বোরকা পড়েছে। এই রঙটা গরম কম টানে। দূরের পথ, গরম থেকে বাঁচার জন্য এই পন্থা অবলম্বন করেছে।
রাশেদ সাহেব আগেই অফিসে পৌঁছে গেছেন। নূর যখন পৌঁছায় তখন কালো রঙের মার্সিডিজ দেখে চমকে যায়। চেনা চেনা লাগছে ওর। বিষয়টা পাত্তা না দিয়ে অফিস রুমে ঢুকতেই শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এতো ওই ছেলে দুটো, যার গাড়ির সামনেই আংটি হারিয়েছিল। এদের সাথে যেতে হবে কি!! এ কোন বেড়াজালে পড়লো ও!! তবে আজমাঈন বোধহয় চিনতে পারেনি, ওইদিন কালো বোরকা আর আজ সাদা বোরকা পড়ায়।
রাশেদ সাহেব পরিচয় করিয়ে দিলেন,’ও আমার মেয়ে নূর, ওই তোমাদের বাড়ি দেখতে যাবে।’
আজমাঈন মাথা নাড়ে, আজ ফয়েজ ও যাচ্ছে ওর সাথে। ও ভেবেছিল রাশেদ সাহেবের মেয়ে বুঝি কোন বয়স্ক মহিলার হবে বা ওদের চেয়ে বয়সে বড় হবে। কিন্তু এ তো পিচ্চি মেয়ে। এ মেয়ে ডেকোরেশনের কি বুঝবে!! ওদের দুজনের বিশ্বাস কেমন নড়বড়ে হয়ে গেছে। তবুও একটা সুযোগ দেওয়া যায়। রাশেদ সাহেবের মিটিং থাকায় গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে পারলেন না। নূর কে যেতে বলতেই সে আগে আগে হাঁটা ধরলো। ফয়েজ হাঁটতে হাঁটতে বললো,’এই পুঁচকে মেয়েটার এটিটিউড দেখ, পাত্তাই দিচ্ছে না।’
‘তোর গলায় এসে ঝুলে পড়লে ভালো লাগতো বুঝি?’
‘তা না, একটু কুশল বিনিময় করবে তো।’
‘আমার সাথে যেতে চাইলে মুখ বন্ধ রাখ, আগে আগে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দে, দেখবি মেয়েটা আমাদের ভদ্র ভাববে।’
কিন্তু ফয়েজের তা করতে হলো না, নূর নিজের গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে বসতেই দুজনের চক্ষু চড়কগাছ। ফয়েজ বিস্মিত হয়ে তাকায়,’এটা সেই গাড়ি না? ওহ এবার ব্যাপারটা বুঝতে পারছি।’
আজমাঈন ও বেশ অবাক হয়, তাহলে ওই আংটি এই মেয়েটার। যাক, অবশেষে পাওয়া গেল। ওদের সাথে যাচ্ছে যেহেতু তাই ফেরত দেওয়া যাবে। ওর এমন ভাবনার মাঝে হর্ণ বাজায় নূর। আজমাঈন মুচকি হেসে সানগ্লাস পড়ে গাড়িতে উঠলো। অনুভব গাড়িতে বসে বসে দু’জনকে দেখছিল। একবার ব্যাকসিটে বসা ফারিনকে দেখে নেয়, এখনই কাত হয়ে চোখ বুজেছে। সারা রাস্তা ঘুমানো ছাড়া তার আর কোনো কাজ নেই।
অনুভব প্যাকেট থেকে চিপস মুখে পুরে গমগম স্বরে বলে,’বাহ বেশ হ্যান্ডসাম তো দু’জনেই। আচ্ছা ফুপি, এদের বাড়িতে যাচ্ছি। গেলে কি কি খাওয়াবে বলো তো?’
‘অতো খাওয়ার দরকার নেই বাবু, তোমাকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়াবো। তুমি তো জানো এভাবে অপরিচিতদের বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করতে কমফোর্টেবল ফিল করি না আমি।’
‘কিন্তু আমি তো করি।’
বলতে বলতে হাত বাড়িয়ে হর্ণ বাজিয়ে আজমাঈনকে
সতর্ক বার্তা প্রেরণ করলো। আজমাঈনও তীক্ষ্ণ চোখে লুকিং গ্লাসে পেছনের গাড়িটা দেখে নিয়ে গাড়ির স্পিড বাড়ায়। খোলা রাস্তা, হাইওয়েতে দু’জনে পাল্লা দিয়ে ড্রাইভ করছে। কিছুটা পথ অতিক্রম করার পরেই হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ ওদের গাড়ি থামায়।
চলবে,,,,,
Share On:
TAGS: ঈশিতা রহমান সানজিদা, পদ্মপ্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE