নূরএসাহাবাদ
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ২৩
মেহেরুন্নেসা কাঁপতে কাঁপতে ভিড়ের ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। প্রাসাদের উঠোনের মাঝখানে লোকজন গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কাঁদছে, কেউ মুখে আঁচল চেপে ফিসফিস করছে। সকালের রোদ উঠেছে, কিন্তু আজ সেই আলোও যেন মলিন। চারপাশে কেবল এক অদ্ভুত ভারী নিস্তব্ধতা। ভিড় সরতেই মেহেরুন্নেসার চোখ গিয়ে পড়লো মাটির ওপর।
আর সঙ্গে সঙ্গে তার বুকের ভেতর থেকে একটা চাপা চিৎকার বেরিয়ে এলো।
সাদা কাপড়ে ঢাকা, মুখটা খুলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো তিলোত্তমার ফ্যাকাশে মুখটা। তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মাটিতে ছড়িয়ে আছে। ঠোঁট ফ্যাকাসে। চোখদুটো আধখোলা, যেন শেষ মুহূর্তেও সে ভয়ে কিছু একটা দেখেছিল। কপালের একপাশে কালচে দাগ। গলার কাছে গভীর লালচে চিহ্ন। মেহেরুন্নেসা দুপা পিছিয়ে গেল।
“ না…”
তার ঠোঁট কাঁপছে। তিলোত্তমা তার ভাই মাহবুবের দ্বিতীয় স্ত্রী। রত্নার সংসার ভেঙে উঠেছিল তাদের বাড়ি। মেহের আগেই ভেবেছিল, যেখানে রত্নপ্রভার সাথে দুই বছরের সংসার ভেঙে মাহবুব তিলোত্তমা কে বিয়ে করতে পেরেছে। সেখানে তিলোত্তমা কে ছুড়ে ফেলতে এক মিনিটও লাগবে না। কিন্তু তাই বলে খুন? আবার ভাবে অবিশ্বাসের ই বা কি আছে। সে রত্না কে না বাঁচালে রত্নাকেও মেরে ফেলা হতো।
মেহেরুন্নেসার মনে পড়ে গেল রাতের সেই কান্না, অন্ধকার করিডোর, রক্তমাখা পায়ের ছাপ।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কর্কশ চিৎকার ভেসে এলো।
“ তুই!”
মেহেরুন্নেসা ঘুরে দাঁড়াতেই দেখলো মারজান প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে তার দিকে আসছে। তার চুল এলোমেলো, চোখ দুটো রক্তলাল, মুখে কান্না আর ক্রোধ মিশে গেছে। দুজন দাসী তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু মারজান যেন আজ উন্মাদ।
সে ছুটে এসে মেহেরুন্নেসার হাত চেপে ধরলো।
“আমার মেয়েকে তোদের পরিবার মেরেছে! তোদের জন্যই আমার তিলোত্তমা আজ মাটির নিচে যাবে!”
মেহেরুন্নেসা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো।
“ আম্মা… আপনি কী বলছেন? আমি….?”
“চুপ! একদম চুপ!”
মারজান ঝাঁকিয়ে উঠলো তাকে।
“প্রথমে আমার বড় মেয়ের সর্বনাশ করলি তোরা। তারপর তোর ভাই আর তোদের লোকজন মিলে আমার তিলোত্তমা কেও শেষ করে দিলি! আমি জানি! আমি সব জানি! আমি ছাড়বো না তোকে”
তার গলা কাঁপছে। কান্নায় কথা ভেঙে যাচ্ছে।
“আমার তিলোত্তমা রাতে স্বপ্নে কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এসেছিল… বলেছিল, ওকে মেরে ফেলবে… কেউ ওকে বাঁচাতে পারবে না…”
মেহেরুন্নেসার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল।
“কি বলছেন?”
কিন্তু মারজান যেন শুনতেই পেল না। সে হঠাৎ মেহেরুন্নেসার গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে গেল।
“তুই অশুভ! তুই এই মহলে আসার পর থেকেই একের পর এক সর্বনাশ হচ্ছে!”
চারদিক থেকে সবাই ছুটে এলো। দাসীরা, প্রহরীরা মিলে মারজানকে ধরে সরিয়ে নিল। মারজান এখনও চিৎকার করছে।
“আমি তোকে ছাড়বো না! আমার মেয়ের রক্তের হিসাব আমি নেব!”
মেহেরুন্নেসা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। তার কানে সব শব্দ ঝাপসা লাগছে। ঠিক তখনই তার চোখ আবার গিয়ে পড়লো তিলোত্তমার নিথর হাতের দিকে। আঙুলগুলো শক্ত হয়ে মুঠো পাকানো। আর সেই মুঠোর ভেতর… খুব ছোট্ট করে আটকে আছে একটা ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো।
গাঢ় লাল রঙের। ঠিক রত্নপ্রভার শাড়ির পাড়ের মতো। এরই মধ্যে মারজান দাসীদের ফেলে এসে চেপে ধরলো মেহেরুন্নেসার গলা। গলায় চাপ প্রয়োগে মেহেরুন্নেসার চোখ বুজে আসে দম বন্ধ হয়ে। হঠাৎই এমন এক গর্জন উঠলো যে পুরো অন্দরমহলের দেয়াল পর্যন্ত যেন কেঁপে উঠলো।
“ছাড়ুন বলছি ওকে”
কণ্ঠটা এত প্রবল, এত কঠিন যে চারপাশের সব কান্না, চিৎকার এক মুহূর্তে থেমে গেল। মারজানও থমকে উঠলো। তার আঙুল তখনও মেহেরুন্নেসার বাহুতে শক্ত করে চেপে ছিল। কিন্তু সেই গর্জন শুনেই সে যেন ভয় পেয়ে হাত ছেড়ে ছিটকে সরে এলো।
মেহেরুন্নেসা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। মাথা তখনও ঘুরছে, বুক ধড়ফড় করছে। সে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে। পাথরের ঠাণ্ডা মেঝে গায়ে লাগতেই চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে এলো। আধো আধো বন্ধ চোখে সে শুধু দেখলো, চারপাশের লোকজন হঠাৎ দুদিকে সরে যাচ্ছে। যেন কেউ এসেছে, যার সামনে সবাই পথ ছেড়ে দেয়। আর সেই ফাঁক দিয়ে দেখা গেল সুনেহেরাকে। সে একটু দূরের মোটা কাঠের আরামকেদারায় বসে আছে। কী আশ্চর্য, চারপাশে এত হাহাকার, এত কান্না, অথচ তার মুখে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন নেই।
এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছে। হাতে একটা পেয়ারা। ধীরে ধীরে ছুরি দিয়ে টুকরো করে কেটে খাচ্ছে।
তার গাঢ় সবুজ ঘাগরার পাড় মেঝে ছুঁয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে হালকা, অদ্ভুত এক হাসি। মেহেরুন্নেসার বুক কেঁপে উঠলো। এই মহলে অনেককে ভয় লাগে তার। কিন্তু সুনেহেরাকে দেখলে তার মনে হয়, মানুষটা যেন হাসতে হাসতেও কাউকে শেষ করে দিতে পারে।
সুনেহেরা পেয়ারা থেকে আরেক কামড় নিয়ে ধীরে বললো,
“ মরা মানুষ ফিরে আসে না, আম্মা । কিন্তু যদি আরেকজনকে মরতে চাও, তাহলে এই নাটক চালিয়ে যাও।”
তার গলায় রাগ নেই। চিৎকার নেই। অথচ কথাগুলো শুনে মারজানের মুখ সাদা হয়ে গেল।
সে তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে সরে দাঁড়ালো।
ঠিক তখনই মেহেরুন্নেসা অনুভব করলো, কেউ তাকে খুব সাবধানে তুলে নিচ্ছে। চেনা সেই আতরের গন্ধ। সে এক ঝটকায় মেহেরুন্নেসাকে নিজের দিকে টেনে নিল। এক হাত তার কাঁধের পেছনে, আরেক হাত কোমরে। যেন কাউকে আর এক মুহূর্তের জন্যও তার কাছে আসতে দেবে না।
মেহেরুন্নেসা আধখোলা চোখে তাকালো।
বাইজিদের মুখটা খুব কাছে। চোয়াল শক্ত। চোখদুটো ভয়ানক রকম ঠাণ্ডা।
সে চারপাশে তাকিয়ে নিচু, কিন্তু ধারালো গলায় বললো,
“ আমার স্ত্রীর গায়ে আর একবার কেউ হাত দেবে, তার হাত আমি নিজে কেটে ফেলবো।”
চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। কেউ একটা শব্দও করলো না। তারপর বাইজিদ নিচে তাকালো মেহেরুন্নেসার দিকে। মুহূর্তের জন্য তার চোখের কঠিন ভাবটা নরম হয়ে গেল।
সে খুব আস্তে মেহেরুন্নেসার কপালের পাশে হাত রাখলো।
“ মেহের… চোখ খোলো।”
মেহেরুন্নেসা কাঁপা কাঁপা হাতে তার পোশাক আঁকড়ে ধরলো। এখনও দূরে বসে থাকা সুনেহেরার দিকে তাকাতে ভয় করছে তার। অথচ সুনেহেরা তখনও আগের মতোই নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে পেয়ারা খাচ্ছে। যেন এই মৃত্যু, এই কান্না, এই ভয় সবই তার কাছে বহুবার দেখা পুরনো কোনো দৃশ্য। বাইজিদের বাহুর ভেতর আধশোয়া অবস্থায় বসে ছিল মেহেরুন্নেসা। তার মাথাটা এখনও ঝিমঝিম করছে। চারপাশের শব্দ যেন দূর থেকে ভেসে আসছে।
ঠিক তখনই বাইজিদ হঠাৎ মাথা তুলে উঠোনের মাঝখানে পড়ে থাকা তিলোত্তমার নিথর দেহটার দিকে তাকালো। তার চোখে কোনো দুঃখ নেই। কেবল তীব্র, বরফের মতো কঠিন রাগ।
“এই লাশটা এখান থেকে সরাও।”
তার কণ্ঠে এমন হুংকার ছিল যে উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই কেঁপে উঠলো।
“এখনই বাইরে নিয়ে যাও। কোনো দুশ্চরিত্রা মেয়ের জায়গা এই মহলে নেই। তার মা আমার বাবার স্ত্রী, এতটুকু পরিচয়ের জোরে তার ঠাই জমিদার দের কবরস্থানে হচ্ছে।”
কথাটা শুনে চারদিকে চাপা ফিসফাস শুরু হয়ে গেল। মারজান বুক চাপড়ে কেঁদে উঠলো।
“না! আমার মেয়েকে এভাবে অপমান করো না!”
কয়েকজন প্রহরী ইতস্তত করে সামনে এগিয়ে এলো। কিন্তু ঠিক তখনই আরেকটা গম্ভীর কণ্ঠ উঠলো।
“থামো, বাইজিদ।”
সবাই একসঙ্গে তাকালো। সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন বাকের শাহ। বয়সের ভারে চুলে পাক ধরেছে, কিন্তু তার কণ্ঠ এখনও দৃঢ়। রাজকীয় পোশাকের ওপর গাঢ় রঙের চাদর। চোখদুটো আজ অস্বাভাবিক কঠিন। তিনি ধীরে ধীরে নিচে নেমে এলেন। পুরো উঠোন নিস্তব্ধ। বাইজিদও চোয়াল শক্ত করে তাকিয়ে রইলো, কিন্তু আর কিছু বললো না। বাকের শাহ তিলোত্তমার দেহটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর মারজানের দিকে। মারজান তখন মাটিতে বসে কাঁদছে। চোখমুখ ফুলে গেছে, চুল এলোমেলো।
বাকের শাহ নিচু গলায় বললেন,
“কান্না থামাও, মারজান। তোমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার হবে।”
মারজান কাঁদতে কাঁদতেই তার পায়ের কাছে ঝুঁকে পড়লো।
“শাহ সাহেব… আমার তিলোত্তমাকে যারা মেরেছে, তাদের আমি ছাড়বো না…”
বাকের শাহ ধীরে মাথা নেড়ে বললেন,
“ আমিও না।”
তার গলায় এমন কিছু ছিল যে চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের শরীর কেঁপে উঠলো।
“ খুনির পরিবারের যেই হোক, আমি কাউকে রেহাই দেবো না।”
মেহেরুন্নেসার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।
তার মনে হলো, এই কথাটা যেন শুধু বাতাসে বলা হলো না। কারও দিকে তাকিয়েই বলা হলো।
ঠিক তখনই বাকের শাহ মুখ ফিরিয়ে বাইজিদের দিকে তাকালেন।
“তুমি মেহেরুন্নেসাকে নিয়ে নিজের কক্ষে যাও।”
তার কণ্ঠে আদেশ।
“ মেয়েটা ভয় পেয়েছে।”
বাইজিদ কোনো উত্তর দিল না। শুধু মেহেরুন্নেসাকে আরও শক্ত করে নিজের কাছে টেনে নিল। মেহেরুন্নেসা একবার পেছনে তাকালো। তিলোত্তমার নিথর মুখটা এখনও সাদা কাপড়ের নিচে দেখা যাচ্ছে। পাশে মারজানের কান্না। আর একটু দূরে বসে থাকা সুনেহেরা, যার ঠোঁটে এখনও সেই অদ্ভুত, বোঝা যায় না এমন হাসি।
শরীয়াহ মোতাবেক তিলোত্তমার দাফনের সব ব্যবস্থা হলো। বিকেলের আগেই তাকে সাদা কাফনে জড়িয়ে প্রাসাদের বাইরের পুরোনো কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। উঠোন জুড়ে তখন কান্না, ফিসফাস, শোকের ভারী ছায়া।
মেহেরুন্নেসা দূর থেকে সব দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, সকালের সেই দৃশ্যটা এখনও শেষ হয়নি। তিলোত্তমার নিথর মুখ, মারজানের চিৎকার, আর সেই লাল কাপড়ের টুকরো বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। দাফনের পর পুরো মহল যেন আরও নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
করিডোরে দাসীদের হাঁটার শব্দ নেই। রান্নাঘর থেকেও কোনো কোলাহল ভেসে আসছে না। সবাই নিচু গলায় কথা বলছে, যেন একটু জোরে বললেই মহলের দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অন্ধকার জেগে উঠবে। মেহেরুন্নেসা নিজের কক্ষে বসে থাকতে পারছিল না। বাইজিদ সকাল থেকে কোথাও বেরিয়েছে। যাওয়ার আগে শুধু একবার তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল,
“কক্ষের বাইরে যেও না।”
কিন্তু বিকেলের দিকে অদ্ভুত এক অস্থিরতা তাকে গ্রাস করলো।
শেষ পর্যন্ত সে উঠে দাঁড়ালো। ধীরে ধীরে করিডোর পেরিয়ে সুনেহেরার কক্ষের দিকে গেল।
সুনেহেরার কক্ষটা মহলের অন্যসব কক্ষের মতো নয়। ভারী গাঢ় পর্দা, সুগন্ধি ধূপের গন্ধ, দেয়ালে পুরোনো নকশা। জানালার পাশে বসে ছিল সুনেহেরা। হাতে আবারও একটা পেয়ারা। যেন আজকের দিনেও তার কিছু যায় আসে না।
মেহেরুন্নেসাকে দেখে সে মাথা তুলে তাকালো।
তারপর ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে সেই চেনা রহস্যময় হাসিটা ফুটে উঠলো।
“এসেছো?”
মেহেরুন্নেসা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইলো।
“তুমি এমন কেন আপা?”
সুনেহেরা ভ্রু তুললো।
“ কেমন?”
“তোমার বোনটা এভাবে মারা গেলো। তোমার কষ্ট হচ্ছে না? কে খুন করলো তা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে না? কান্না পাচ্ছে না?”
সুনেহেরা ধীরে ধীরে পেয়ারা থেকে আরেক কামড় নিল। তারপর খুব শান্ত গলায় বললো,
“এই মহলে যারা বেশি কাঁদে, তারা বেশিদিন বাঁচে না”
মেহেরুন্নেসার বুকটা ধক করে উঠলো। সুনেহেরা উঠে দাঁড়ালো। তার চোখে তখন অদ্ভুত এক ঝিলিক।
“আচ্ছা এসবের দায়ভার কোথায় গিয়ে পড়বে জানোই তো। তোমার ভাইয়ের ওপর। তাকে হয়তো হত্যাও করা হতে পারে। তোমার কি একটুও চিন্তা হচ্ছে তাকে নিয়ে?”
মেহেরুন্নেসা চুপ করে গেলো। সুনেহেরাও কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হেসে ফেললো।
“ওর মৃত্যুর জন্য যতটা শোক হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ভয় পাওয়া উচিত তোমার।”
“কেন?”
“কারণ তুমি যেটা খুঁজছো, তিলোত্তমাও সেটা খুঁজতে গিয়েছিল।”
মেহেরুন্নেসার মুখ সাদা হয়ে গেল।
“তুমি… কীভাবে জানলে?
সুনেহেরা উত্তর দিল না। সে ধীরে ধীরে আলমারির দিকে গিয়ে একটা পুরোনো কাপড়ের ওড়না তুলে কাঁধে জড়িয়ে নিল।
তারপর মেহেরুন্নেসার দিকে ফিরে বললো,
“চলো।”
“ কোথায়?”
“উত্তরের প্রাসাদ থেকে আনা বাক্সটার চাবি খুঁজতে হবে।”
মেহেরুন্নেসা স্থির হয়ে গেল। আরে বাক্সে থাকা এই চিহ্নটাই তো ওই কক্ষের তালায় ছিল। দুইটা সাপ, মাঝখানে অর্ধচন্দ্র। যে চিহ্ন সে দেখেছিল রত্নপ্রভার গোপন কক্ষের তালায়। মেহেরুন্নেসার গলা শুকিয়ে এলো।
“ চাবি… কোথায়?”
সুনেহেরা দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে শুধু বললো,
“ যদি ভাগ্য ভালো হয়, তাহলে ভাইজান এর কক্ষের ভেতরের ছোট ঘরটায়।”
তারপর একটু থেমে পেছনে তাকালো। তার ঠোঁটে আবারও সেই রহস্যময় হাসি।
“আর যদি ভাগ্য খারাপ হয়… তাহলে আজ রাতেও কেউ কাঁদবে।”
সুনেহেরার কথা শুনে মেহেরুন্নেসার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে গেলো। দুজন খুব সাবধানে করিডোর পেরিয়ে বাইজিদের কক্ষের দিকে এগিয়ে গেল। সন্ধ্যা নেমে এসেছে। মহলের এই দিকটায় এখন কেউ আসে না। দূরে কোথাও আজানের শেষ ধ্বনি মিলিয়ে যাচ্ছে, আর অন্দরমহলের করিডোরে মশালের হলুদ আলো কাঁপছে। বাইজিদের কক্ষ ফাঁকা। দরজা আধখোলা। মেহেরুন্নেসার বুক ধড়ফড় করে উঠলো। যে কোনো মূহূর্তে বাইজিদ ফিরে আসবে। সে একবার সুনেহেরার দিকে তাকালো। সুনেহেরা কোনো কথা বললো না। শুধু চোখের ইশারায় ভেতরে যেতে বললো।
কক্ষের ভেতর সব আগের মতোই আছে। ভারী পর্দা, আতরের গন্ধ, রাজকীয় পালঙ্ক। কিন্তু মেহেরুন্নেসার চোখ সোজা গিয়ে থামলো দেয়ালের ডানপাশে ছোট্ট কাঠের দরজাটার দিকে।
যে ঘরটায় কাউকে ঢুকতে দেয় না বাইজিদ।
সুনেহেরা ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে খুললো।
ঘরের ভেতরটা অন্ধকার। বহুদিনের পুরোনো কাগজ, ধুলো আর কাঠের গন্ধ। সুনেহেরা একটা ছোট প্রদীপ জ্বালাতেই আলো ছড়িয়ে পড়লো।
মেহেরুন্নেসা স্থির হয়ে গেল। ঘরের এক কোণে রাখা সেই বাক্স। কালচে কাঠের। ওপরজুড়ে খোদাই করা দুইটা সাপ আর মাঝখানে অর্ধচন্দ্র।
একই চিহ্ন। বাক্সটার পাশে আরও অনেক জিনিস। পুরোনো কাগজপত্র, চামড়ার খাতা, ছোট ছোট কাচের শিশি। সেই শিশিগুলোতেই রঙিন তরল। নীল, সবুজ, গাঢ় লাল।
মেহেরুন্নেসার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ঠিক এমন শিশিই তো সে দেখেছিল রত্নপ্রভার চূড়ার ঘরে।
“ চাবিটা কোথায়? খুব আস্তে জিজ্ঞেস করলো সে।?”
সুনেহেরা ধীরে ধীরে ঘরের ভেতর তাকাতে লাগলো। তারপর একটা কাঠের তাকের নিচে হাত ঢুকিয়ে বের করলো ছোট্ট পিতলের চাবি।
“আমি জানতাম, এখানেই থাকবে।”
মেহেরুন্নেসা অবাক হয়ে তাকালো। সুনেহেরা শুধু হালকা হাসলো। তারপর বাক্সটার সামনে বসে চাবিটা ঢুকালো। খট করে শব্দ হলো। দুজনের বুকের ধুকপুকানি যেন আরও জোরে শোনা যেতে লাগলো। ধীরে ধীরে বাক্সের ঢাকনা উঠলো।
ভেতরে প্রথমেই দেখা গেল কয়েকটা পুরোনো কাপড়। তার নিচে চামড়ায় মোড়া একটা পুরনো বই। কোণায় শুকনো রক্তের দাগ। খানিকটা পোড়া ও।
মেহেরুন্নেসা কাঁপা হাতে সেটা তুলে নিল।
প্রথম পাতায় লেখা
“৮৯৯/৫০”
কী বোঝানো হয়েছে এর দ্বারা? সে দ্রুত পাতা উল্টাতে লাগলো।
প্রথম দিকের লেখা এলোমেলো। মেহেরুন্নেসা দ্রুত পাতা উল্টাতে লাগলো। প্রথম দিকের পাতাগুলোতে কোনো লেখা নেই, শুধু আঁকা। কিন্তু সেই আঁকা দেখে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।
একটা বিশাল জাহাজের ছবি। কালো কালি দিয়ে নিখুঁতভাবে আঁকা। জাহাজটার সামনে অদ্ভুত একটা চিহ্ন, ঠিক সেই অর্ধচন্দ্র আর দুই সাপ। জাহাজের নিচে ইংরেজিতে বড় বড় অক্ষরে লেখা—
“BLACK TIDE”
তার নিচে কয়েকটা তারিখ।
১৯৪৭ ১৮৯১ ১৯৫৪
প্রতিটা তারিখের পাশে ইংরেজিতে কিছু নাম। কিছু জায়গার নামও আছে।
London Calcutta Sahabad Port
মেহেরুন্নেসা নামগুলো পড়তে পারলো না পুরোটা। কিন্তু তার মনে হলো এগুলো কোনো যাত্রাপথ। একটা জাহাজ কোথা থেকে কোথায় গেছে, তার হিসেব।
সে আরও একটা পাতা উল্টালো।
এবার আরও কয়েকটা জাহাজের ছবি। কোনোটা ছোট, কোনোটা বড়। একটার পাশে আঁকা রয়েছে খাঁচার মতো অনেকগুলো ছোট ছোট ঘর। ঘরগুলোর ভেতরে শুধু কালো দাগ। মানুষ না ছায়া, বোঝা যায় না। মেহেরুন্নেসার হাত ঠাণ্ডা হয়ে গেলো।
“এগুলো কী?”
সে ফিসফিস করে বললো। সুনেহেরা তার কাঁধের ওপর ঝুঁকে তাকালো। তার মুখের রঙও উধাও হয়ে গেছে।
“আমার মনে হয়… এসব শুধু জাহাজের ছবি না।”
এরপরের পাতাগুলো আরও অদ্ভুত। সাদা পাতাজুড়ে অচেনা সব চিহ্ন, সংখ্যা আর ইংরেজি শব্দ। মাঝেমাঝে বাংলায় দু-একটা কথা লেখা।
“নীল দ্রবণ – ৩ ফোঁটা” “রক্তের সঙ্গে মেশানো যাবে না” “আগুনের কাছে আনিবে না”
তার নিচে অদ্ভুত সব সংকেতের মতো লেখা
C7H— Hg-12 R-9
পুরো ফর্মুলাগুলো মেহেরুন্নেসা বুঝলো না। তার কাছে সেগুলো যেন অন্য কোনো ভাষা। পাতার এক পাশে আবার লাল কালি দিয়ে বড় করে লেখা
“ভুল মাত্রা মৃত্যু ডেকে আনে।”
পরের পাতাগুলো ভর্তি ইংরেজি লেখা। ছোট ছোট হাতের লেখা। এত ঘন করে লেখা যে ঠিকমতো পড়াই কঠিন। তবু কিছু কিছু শব্দ চোখে পড়লো।
“Shipment” “South Room” “Seven scientists ” “Hidden below the west wing”
মেহেরুন্নেসার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। সে পড়তে পারছে না। সুনেনেরা আাইজিদ টর বইঘর ঘাটাঘাটি করে টুকটাক ইংরেজি জানে।
“সাতজন গবেষক…”
সে অস্ফুটে বললো। দ্রুত মেহের এর হাত চেপে ধরলো। আরেকটা পাতা। সেখানে পুরোটা ইংরেজিতে, কিন্তু নিচে বাংলায় কাঁপা হাতে একটা মাত্র লাইন লেখা
দুজন একসাথে স্থির হয়ে গেলো। হঠাৎ করেই করিডোরের বাইরে ভারী পায়ের শব্দ শোনা গেলো। ধুপ। ধুপ। ধুপ।
কেউ একজন ধীরে ধীরে বাইজিদের কক্ষের দিকে এগিয়ে আসছে। মেহেরুন্নেসার হাত থেকে বইটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল। সুনেহেরা মুহূর্তের মধ্যে বইটা আবার বাক্সের ভেতর ঢুকিয়ে দিলো। প্রদীপটা নিভিয়ে দিলো এক ফুঁয়ে। পুরো ঘরটা আবার অন্ধকারে ডুবে গেলো।
পায়ের শব্দ আরও কাছে। এবার একদম দরজার বাইরে। কক্ষের মূল দরজাটা আস্তে করে খুলে গেলো। খট। বাইরের দরজায় শব্দ হলো। দুজন একসঙ্গে চমকে উঠলো। তারপর ধীরে ধীরে শোনা গেল ভারী পায়ের শব্দ। সুনেহেরা এক ঝটকায় প্রদীপটা নিভিয়ে দিল।
ঘর ডুবে গেল অন্ধকারে। মেহেরুন্নেসার হাত চেপে ধরে সে তাকে টেনে নিয়ে গেল বড় আলমারিটার পেছনে। দুজন নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর সেই চেনা, ধীর, ভারী পায়ের শব্দ।
সে ভেতরে ঢুকেছে। মেহেরুন্নেসা অন্ধকারেও বুঝতে পারলো বাইজিদ এসেছে ।
কয়েক মুহূর্ত কোনো শব্দ নেই। তারপর ছোট ঘরের দরজার সামনে এসে সে থেমে গেল।
খোলা বাক্সটার দিকে হয়তো তার চোখ গেছে।
তারপর খুব ধীরে, ভয়ংকর শান্ত গলায় বললো
“বেরিয়ে এসো। আমি জানি, তোমরা এখানে আছো।”
আলমারির পেছনে দাঁড়িয়ে মেহেরুন্নেসার মনে হচ্ছিল তার বুকের ধকধক শব্দটা পুরো ঘরে শোনা যাচ্ছে। সুনেহেরার আঙুল তার কবজিতে শক্ত হয়ে আছে। বাইরে নিস্তব্ধতা। তারপর আবার বাইজিদের গলা।
“আমি দ্বিতীয়বার বলি না।”
অন্ধকারের ভেতর সুনেহেরা খুব আস্তে মেহেরুন্নেসার দিকে তাকালো। তার চোখে প্রথমবারের মতো হালকা উদ্বেগ।
শেষ পর্যন্ত সুনেহেরাই আগে বেরিয়ে এলো।
বাইজিদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে এখনও চামড়ার দস্তানা। তার চোখ প্রথমে সুনেহেরার ওপর থামলো। তারপর ধীরে ধীরে সরে গিয়ে আলমারির আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা মেহেরুন্নেসার ওপর গিয়ে থামলো।
মেহেরুন্নেসা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।
বাইজিদের চোখ সরু হয়ে এলো।
“কি ভেবেছিলে? আমি কিছু বুঝতে পারবো না?”
মেহেরুন্নেসা উত্তর দিতে পারলো না।
বাইজিদ কয়েক পা এগিয়ে এলো। তার মুখে কোনো রাগ নেই। কিন্তু সেই অদ্ভুত শান্ত মুখটাই আরও ভয়ংকর।
“আমার জন্মদিন সুনেরাহ কখনও ভোলে না। আমি জানি আজ যে রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে আমায় শুভেচ্ছা জানাতে কক্ষে লুকিয়ে থাকবে, তোমায় হাত করে তা বেশ টের পেয়েছিলাম আমি।”
মুহূর্তের মধ্যে মেহেরুন্নেসা আর সুনেহেরা দুজনেই অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকালো। যেন এতক্ষণ বুকের ভেতর জমে থাকা ভয়টা এক নিমেষে মিলিয়ে গেল। সুনেহেরা ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেললো। তারপর এগিয়ে গিয়ে বাইজিদের সামনে দাঁড়ালো।
“শুভ জন্মদিন, ভাইজান।”
আলতো করে জড়িয়ে ধরলো ভাইকে। বাইজিদও এক মুহূর্তের জন্য ছোট বোনটার মাথায় হাত রাখলো। তার মুখে সেই বিরল কোমলতা ফুটে উঠলো, যা সে খুব কম মানুষকেই দেখায়।
“তোমার অভিনয় বরাবরই বাজে,”
মৃদু স্বরে বললো সে।
“আর আপনার ভয় দেখানোর অভ্যাসটা বরাবরই অসহ্য,”
সুনেহেরা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলো। বাইজিদের ঠোঁটের কোণে আবার হাসি ফুটলো।
তারপর সুনেহেরা চোখ টিপে মেহেরুন্নেসার দিকে তাকালো।
“এবার ভাবির পালা।”
মেহেরুন্নেসা চমকে মাথা তুললো।
“আমি আসি”
দুষ্টু হেসে বললো সে। বলে সে দ্রুত পায়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল। দরজাটা টেনে বন্ধ করে দিলো পেছন থেকে। ঘরটা আবার নিঃশব্দ হয়ে গেল। মৃদু চাঁদের আলো জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। অন্ধকারে শুধু বাইজিদের দীর্ঘ ছায়াটা দেখা যাচ্ছে। সে ধীরে ধীরে মেহেরুন্নেসার দিকে তাকালো।
মেহেরুন্নেসা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। এতক্ষণকার ভয়, ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জা, আর হঠাৎ করে জন্মদিনের কথা মনে পড়তেই তার ভেতরটা অদ্ভুত এলোমেলো হয়ে গেছে।
মেহেরুন্নেসা কিছু বললো না। শুধু চোখ নামিয়ে ফেললো।
বাইজিদ দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর এক হাত বাড়িয়ে তার থুতনিটা আলতো করে তুলে ধরলো।
“তোমার ভয় পাওয়া মুখটা আমার বড্ড ভালো লাগে নূর।”
তার গলায় সেই আগের কঠিন ভাবটা আর নেই। বরং অদ্ভুত এক কোমলতা।
“আজ আমার জন্মদিন,”
সে নিচু স্বরে বললো।
“আর আজকের রাতে আমি শুধু একটা জিনিস চাই।”
মেহেরুন্নেসার একটু আচ করতে পারলো। মুখে বলল
“কি?”
বাইজিদ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর খুব ধীরে বললো
“যা চাইবো দিবে তো?”
মেহেরুন্নেসার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো। সে মাথা তুললো না, শুধু আঙুলগুলো আঁকড়ে ধরলো নিজের ওড়নার প্রান্ত। বাইজিদ আরও একটু কাছে এলো।
“আজ রাতে… তোমাকে আমার খুব কাছে চাই।”
কথাটা শুনে মেহেরুন্নেসার গাল লাল হয়ে উঠলো। লজ্জায়, সংকোচে তার চোখ নিচু হয়ে এলো। কয়েক মুহূর্ত সে চুপ করে রইলো। তারপর খুব ধীরে, প্রায় অদৃশ্য ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। যেন মনে মনে বলছে
“এটা তো আপনার অধিকার। ইনিয়ে বিনিয়ে বলার কি আছে?”
নীরবতার সেই ছোট্ট উত্তরটাই যথেষ্ট ছিল।
বাইজিদের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটলো। সে আলতো করে মেহেরুন্নেসার হাত ধরলো। তারপর ধীরে ধীরে তাকে নিজের দিকে টেনে নিলো।
মেহেরুন্নেসা এক মুহূর্ত কেঁপে উঠলো, তারপর নিজেই মাথাটা বাইজিদের বুকে রেখে দিলো। তার বুকের ভেতর দ্রুত ধুকপুক শব্দ হচ্ছে। বাইজিদের বাহু তাকে ঘিরে নিলো নরম অথচ দৃঢ় বন্ধনে।
জানালার বাইরে চাঁদের আলো নেমে এসেছে। ঘরের নিস্তব্ধতার মধ্যে তারা দুজন কিছুক্ষণ এভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। একজনের ভেতর আরেকজনকে অনুভব করে।
“আজ রাতটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে উপহার।”
গ্রুপে কনটেস্ট চলছে। আজকের প্রতিযোগী দের মধ্যে থেকে বিজয়ী ঘোষণা করে হবে রাত দশটায়। কেমন হইছে সবাই জানিও। অনেক বড় পর্ব দিয়েছি কিন্তু আজ 😽🫶
Share On:
TAGS: জান্নাতুল ফেরদৌস, নূর এ সাহাবাদ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল ৪০ এর প্রথমাংশ
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ২১ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৬ এর শেষাংশ
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৮ এর প্রথমাংশ