Golpo romantic golpo যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ

যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪৬


পর্ব_৪৬

ইশরাতজাহানজেরিন

করিডোরের আবছা আলোয় থমথম করছে চারপাশ। আব্রাজের ঘরের খাট ভাঙার মহানাটক আর হট্টগোল থামার পর পরিবারের বাকি সদস্যরা একে একে নিজেদের ঘরের দিকে কেটে পড়েছে। সাঁঝও ভেবেছিল, সুযোগ বুঝে ভিড়ের মাঝখান দিয়ে এক লাফে নিজের ঘরে ঢুকে দরজায় খিল তুলে দিয়ে বেঁচে যাবে। কিন্তু তার সেই সুদূরপ্রসারী ভাবনায় এক বালতি ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিল পেছন থেকে ভেসে আসা পরিচিত গলার শব্দ।
“সাঁঝ, এক পা-ও নড়বি না।”
কথাটা কানে পৌঁছানো মাত্রই সাঁঝের শরীরের সমস্ত লোম খাড়া হয়ে গেল। যেন কেউ হঠাৎ মাইনাস দশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বরফপানি তার পিঠের ওপর ঢেলে দিয়েছে! ডান পা-টা ঘরের চৌকাঠের ওপর বাড়ানো অবস্থায় সে একদম স্ট্যাচুর মতো জমে রইল। সাঁঝের হাতের মুঠোয় তখন আরযানের সেই রহস্যময় কালো রঙের সিক্রেট ডায়েরিটা শক্ত করে ধরা। বুকের ভেতর হৎস্পন্দন ৩৫০ স্পিডে দৌড়াচ্ছে, আর মুখ দিয়ে অস্ফুটস্বরে বের হয়ে আসছে অজস্র দুআ আর ইস্তিগফার। সাঁঝ অতি কষ্টে পা দুটো টেনে পেছনের দিকে ঘুরল। দরজার আবছা আলো-আঁধারিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং আরযান মীর! পরনে তার গাঢ় ছাই রঙের ক্যাজুয়াল টি-শার্ট আর ট্রাউজার। চশমাটা ডান হাতে খুলে নিয়ে সে শার্টের পকেটে রাখল। সাঁঝ দুই হাত বুকের সামনে এনে অত্যন্ত ভয়ার্ত আর নিরীহ মুখ বানিয়ে তসবি জপতে জপতে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। সে ভালো করেই জানে, এই লোকটা যখন চশমা খুলে পকেটে রাখে, তখন পৃথিবীর কোনো অলৌকিক শক্তিও সাঁঝকে বকা আর কড়া শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। আরযান ধীর, মাপা কদমে সাঁঝের দিকে এগিয়ে এল। সে সাঁঝের ঠিক এক হাত দূরত্বে এসে থমকে দাঁড়াল। আরযানের লম্বা সুঠাম শরীরের ছায়া সাঁঝের পুরো ক্ষুদ্র অবয়বটাকে একদম ঢেকে ফেলেছে।
“অন্যের ঘরের খাট ভাঙা দেখে খুব আনন্দ হচ্ছিল, তাই না?” আরযান বরফের মতো ধারালো গলায় বলল।
সাঁঝ ঢোক গিলে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল, “না… মানে… আরযান ভাইয়া… চিকু পাখিটা কেমন সুন্দর করে কথা বলছিল তো, তাই একটু…”
আরযান এ পা সামনে বাড়িয়ে সাঁঝের কানের কাছে ঝুঁকলো। সাঁঝ ভয়ে দুই চোখ শক্ত করে বুজে ফেলল। সে নিশ্চিত, এবার হয়তো সোজা কান ধরে টান আসবে, না হয় কপালে একটা জব্বর টোকনা পড়বে। ছোটবেলা থেকে এই এক ধারা চলে আসছে সাঁঝ একটু আধটু দুষ্টুমি করলেই বা পড়ার টেবিলে ফাঁকি দিলেই আরযান ভাইয়ার এই কড়া শাসন নেমে আসে। মাঝখানে কিছুদিন সাঁঝ টি-শার্ট ছেড়ে কামিজ ধরে, দূরবীন লুকিয়ে হাতে তসবি নিয়ে বেশ লক্ষ্মী মেয়ে হওয়ার ড্রামা করেছিল। ভেবেছিল এবার হয়তো হিটলার ভাইয়া তাকে কিছুটা ছাড় দেবে। কিন্তু কোথায় কী! এই লোকের ধমক আর শাসন যেন দিন দিন শেয়ার বাজারের মতো ঊর্ধ্বমুখী! আরযান সত্যি সত্যিই সাঁঝের ডান কানটা নিজের শক্ত দুটি আঙুলের ফাঁকে চেপে ধরল। খুব বেশি জোরে চাপ না দিলেও, সাঁঝের জন্য ওই আলতো চাপই ছিল সাক্ষাৎ কেয়ামতের সমান!
“আহা! উফ! ভাইয়া… লাগছে তো!” সাঁঝ কোঁকাতে কোঁকাতে বাঁ হাতে আরযানের হাত সরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল।
“লাগুক!” আরযান চোখ দুটো সরু করে বলল, “কাল রাত থেকে তুই ঘরের ভেতর কী কান্ড করছিস, আমি সব খেয়াল করছি। আমার স্টাডি টেবিল থেকে আমার পার্সোনাল ডায়েরি চুরি, আরও না জানি কত কি?”
সাঁঝ কানে হাত দিয়েই কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, “আমি সিসিটিভি ফুটেজের কোনো বড় ষড়যন্ত্রের কথা খুঁজতে গিয়েছিলাম! ভেবেছিলাম ভেতরে কড়া প্রেসক্রিপশন কিংবা কোনো গোয়েন্দা ফাইল পাব। আমি কী জানতাম ওখানে আমার ঠ্যাং গুঁড়ো করার কড়া ডায়লগ লেখা আছে!”
আরযান কানটা আরও একটু উঁচুতে টেনে বলল, “তোকে আমি আগেই বলেছি না আমার ঘরে হাত দিবি না? তুই এই বাড়ির সবচেয়ে ছোট আর বেয়াদব মেয়ে। তোর স্বভাব শুধরাবে না, তাই না? গত কালকের নিউজে মিডিয়াকে শান্ত করার জন্য একটা সাময়িক কথা বলেছি বলে তোর কি পাখনা গজিয়ে গেছে? তুই ভেবেছিস তুই আমার হবু স্ত্রী হয়ে গেছিস?”
“না না! তৌবা তৌবা!” সাঁঝ দুই হাত বাতাসে নেড়ে বলল, “আমি তো জানি আপনি আমার রক্তচোষা ভাইয়া! আমি তো এক সেকেন্ডের জন্যও ভাবিনি যে আপনি আমার বর হবেন! আল্লাহ না করুক, আপনার মতো হিটলারকে বর বানালে তো বাসর রাতেই আমাকে ফিজিক্সের সূত্র মুখস্থ করতে হবে!”
আরযান সাঁঝের কানটা ছেড়ে দিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে গেল। তার ঠোঁটের কোণে মুহূর্তের জন্য অতি সূক্ষ্ম এক চিড় দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল। সে অত্যন্ত কড়া নজরে সাঁঝের দিকে তাকিয়ে বলল, “খুব ভালো বুঝতে পেরেছিস। কাল সকালে আটটার মধ্যে যদি তোর ইন্টারমিডিয়েটের কেমিস্ট্রি বইয়ের অর্গানিক পার্টটা আমার স্টাডি টেবিলে মুখস্থ না পাই, তবে ডায়েরিতে যেটা লিখেছি, সেটা কিন্তু আমি একদম বাস্তবে রূপ দেব। ঠ্যাং একটাও আস্ত থাকবে না! এখন সোজা ঘরে যা!”
সাঁঝ আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। আরযানের শেষ বাক্যটা শেষ হতে না হতেই সে জিভ কেটে, ডায়েরিটা বগলে চেপে একদম বুলেটের গতিতে নিজের ঘরে ঢুকে দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিল!
ঘরের ভেতর ঢুকে সাঁঝ দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে ধপাস করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। বুকের ভেতর হাত রেখে বলল, “ওরে বাবারে বাবা! বেঁচে গেলাম! এ তো মানুষ না, সাক্ষাৎ যমদূত! দুই দিন আগে মিডিয়াকে বাঁচানোর জন্য বানিয়ে বানিয়ে বলল আমি নাকি উনার হবু স্ত্রী! আর এখন ঘরে ঢুকে আমাকেই কানের ওপর কানপট্টি দিচ্ছে, আর অর্গানিক কেমিস্ট্রির ভয় দেখাচ্ছে! উফফ… জীবনের প্রথম আর শেষ ইচ্ছে ছিল কড়া লিকারের মতো একটা প্রেম করার। কিন্তু এই রাক্ষস ভাইয়াটা থাকতে আমার কপালে চিনি ছাড়া লিকার চাও জুটবে না! এর চেয়ে তো সোফায় শুয়ে থাকা ওই বেচারি সিয়া আপাই ভালো আছে… অন্তত জামাইটা তো স্যার বলে ডাকলে একটু খাতির করে!”

সাঁঝ খাটের ওপর উঠে বসল। তবে ভয়ে ভয়ে ডায়েরির শেষ পাতাটা আরেকবার উল্টে দেখে নিল। সত্যিই কি আরযান কাল সকালে কোনো সারপ্রাইজ টেস্ট নেবে? কিন্তু না, ডায়েরির প্রতিটা পাতা খালি, কেবল প্রথম পাতায় সেই অভিশপ্ত ধমক। সাঁঝ বালিশটা বুকে জড়িয়ে ধরে ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

দোতলার চার নম্বর বেডরুমে তখন থমথমে নীরবতা। রাত তিনটে বেজে পার হয়ে গেছে। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি এখন একদম বন্ধ, কিন্তু জানালার বাইরে ঠাণ্ডা হাওয়ার একটা সোঁ সোঁ শব্দ ভেসে আসছে। ক্যাপ্টেন তাজের চার পোস্টার দেওয়া বিশাল রাজকীয় খাটের পরম আরামের ডাবল ম্যাট্রেসে তাজ এক হাত মাথার নিচে দিয়ে শান্তিতে ঘুমোচ্ছে। আর ঘরের এক কোণায় রাখা ছোট লাল মখমলের সোফাটিতে দুই হাঁটুর ভেতর মাথা গুঁজে কুঁকড়ে শুয়ে আছে সিয়া।
পরনে এখনো সেই আঠারো কেজি ওজনের গাঢ় লাল ভারী বেনারসি শাড়ি, মাথায় সোনালি জালের ঘোমটা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, আর গলার ভারী জড়োয়ার হারটা সিয়ার ঘাড়ে কাঁটার মতো ফুটছে। সোফার ওপর রাখা চারটে তুলতুলে বালিশ সে কোনোমতে বুকে আর পিঠে গুঁজে দিয়ে ঘুমোনোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে, কিন্তু প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর শাড়ির আঁচল সোফা থেকে খসে নিচে পড়ে যাচ্ছে।
“অসভ্য! জল্লাদ! ককপিটের খেঁকশিয়াল!” সিয়া সোফায় বসেই ফিসফিস করে গালি দিতে লাগল। “মানুষ বাসর রাতে বউকে ফুল দিয়ে বরণ করে, কবিতা শোনায়, আর এই লোকটা আমাকে সোফায় চালান করে দিয়ে নিজে রাজার মতো ঘুমাচ্ছে! আবার বলছে সকালে আটটায় ককপিটের ম্যানুয়াল হিয়ারিং নেবে! দাঁড়াও মীর তাজ… কাল সকালে আপনার চা আর কফিতে যদি আমি ব্লিচিং পাউডার না মিশিয়েছি, তবে আমার নামও সিয়া না!”
সিয়া রাগে দাঁতে দাঁত চেপে সোফার ওপর এপাশ-ওপাশ করতে গিয়ে হঠাৎ ওপর থেকে গড়িয়ে সোজা কার্পেটের ওপর ধুপ করে পড়ে গেল!
“আহহহ!” সিয়া আর্তনাদ করে উঠল।
খাটের ওপর শুয়ে থাকা তাজের চোখ মুহূর্তের মধ্যে খুলে গেল। একজন ক্যাপ্টেনের ঘুম এমনিতেও খুব পাতলা হয়। তাজ বালিশ থেকে মাথা তুলে ধীর শান্ত ভঙ্গিতে সোফার দিকে তাকাল। অন্ধকার ঘরে নাইট ল্যাম্পের আবছা আলোয় সে দেখল, সিয়া মেঝের ওপর বেনারসির জটলায় পেঁচিয়ে গিয়ে ছটফট করছে। তাজ চাদরটা সরিয়ে খাট থেকে নামল। তার খালি পায়ের শব্দে সিয়া একঝটকায় নিজেকে সোফায় তোলার চেষ্টা করে আবার আছাড় খেল।
তাজ গিয়ে সোফার সামনে দাঁড়াল। দু’হাত পকেটে পুরে সে ওপর থেকে সিয়ার এই করুণ দশা দেখতে লাগল।
“কী হলো, মিস সিয়া? বাসর রাতে সোফায় ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং হয়ে গেল নাকি?”
সিয়া মেঝেতে বসেই রাগী চোখে তাজের দিকে তাকাল। তার চোখের কোণে রাগে আর কষ্টে সামান্য পানি জমে উঠেছে। সে নাক টেনে বলল, “আপনি অত্যন্ত নির্দয় একটা মানুষ! আমাকে এইভাবে এই ভারী শাড়ি পরিয়ে সোফায় ফেলে রেখেছেন… আমার কোমর ভেঙে যাচ্ছে! আপনার একটুও মায়াদয়া নেই?”
তাজ এক হাঁটু গেড়ে মেঝের ওপর সিয়ার একদম মুখোমুখি বসল। সে সিয়ার ঘোমটাটা আলতো করে হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল, “মায়াদয়া দেখানোর জন্য তো ককপিটে কুরুক্ষেত্র বানাওনি, তাই না? বিয়ের ফাঁদ পেতে আমার চার স্ট্রাইপের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছ। এখন সোফায় এক রাত শুতেই এত কান্নাকাটি?”
“আমি কান্নাকাটি করছি না!” সিয়া জেদ ধরে বলল, “আমি সিয়া! আমি হার মানতে শিখিনি! আপনার এই সোফাতেই আমি ঘুমাব, কিন্তু কাল সকালে আমি আপনাকে দেখে নেব!”
তাজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে আর কথা না বাড়িয়ে সোজা হাত বাড়িয়ে সিয়াকে একদম পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল!
“ইইই! কী করছেন? ছাড়ুন! আপনি না আমাকে সোফায় ডিপোর্ট করেছিলেন?” সিয়া ভয়ে আর চমকে তাজের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
তাজ কোনো কথা বলল না। সে সিয়াকে সোজা খাটের ওপর নিয়ে গিয়ে পরম যত্নসহকারে শুইয়ে দিল। তারপর ওপর থেকে সিয়ার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলল, “বেশি ছটফট করবে না। খাটের বাঁ পাশটা তোমার। ডান পাশে আমি ঘুমাব। মাঝখানে ওই চারটে বালিশের দেয়াল থাকবে। যদি দেয়াল টপকে ডান পাশে আসার চেষ্টা করো, তবে কাল সত্যি সত্যি তোকে এয়ারপোর্টের রানওয়েতে এক পায়ে খাড়া করে রাখব। বুঝেছ?”
সিয়া খাটের নরম ম্যাট্রেসে পিঠ ঠেকতেই যেন শান্তি পেল। সে বালিশগুলো চটপট টেনে এনে মাঝখানে প্রাচীর বানিয়ে ফেলল। তারপর চাদরটা গলায় পর্যন্ত টেনে দিয়ে তাজের দিকে মুখ ব্যংচিয়ে বলল, “আমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই আপনার ওই খিটখিটে ডান পাশে যাওয়ার! যান, গিয়ে ঘুমান!”

তাজ নিজের জায়গায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। ঘরের আলো নিভে গেল। সিয়া বালিশের দেয়ালে মুখ গুঁজে মনে মনে ভাবল লোকটা যতই মুখে জল্লাদগিরি দেখাক না কেন, ভেতরে ভেতরে একেবারে ফেল মারছে! কাল সকালে এই তাজের অহংকার ভাঙার নতুন প্ল্যান তৈরি করতে করতে একসময়ে সিয়া গভীর ঘুমে ঢলে পড়ল।

পরদিন সকাল সাড়ে সাতটা। মীর বাড়ির বিশাল অট্টালিকায় সকালের রোদ এসে পড়েছে। দোতলার বারান্দায় ভেজা মাটির একটা মিষ্টি সুবাস ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বাড়ির নিচতলার বিশাল ডাইনিং রুমের পরিবেশটা মোটেও শান্ত নয়। ডাইনিং টেবিলের এক প্রান্তে বসে আছেন বড় মা ও সেজো মা। টেবিলের মাঝখানে চা, পরোটা, লুচি আর হালুয়ার বিশাল আয়োজন। আর টেবিলের ঠিক বাঁ কোণে কায়দা করে রাখা হয়েছে একটা বিশাল পিতলের পাখির খাঁচা। খাঁচার ভেতর আরামে বসে আছে চিফ স্টার চিকু পাখি! চিকু সকাল থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। সে পেয়ারা খেতে খেতে ডানাপাখা ঝাপটাচ্ছে আর মাঝে মাঝেই চিৎকার করে উঠছে, “খাট ভাঙছে! আব্রাজ পইড়া গেছে! সাঁঝ পালা! সাঁঝ পালা!”
ঠিক তখনই ডাইনিং রুমে প্রবেশ করল আবরাজ ও নৈশি। আব্রাজের পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। চোখেমুখে রাতের ধকলের সামান্য ছাপ থাকলেও সে তার স্বভাবসুলভ পলিটিক্যাল হাসিটা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। আর তার ঠিক পেছনে নিচু মুখে হেঁটে আসছে নৈশি। নৈশির পরনে একটা সাধারণ সুতির থ্রি-পিস, চুলগুলো পেছনে বেণী করা। তার মুখ লজ্জায় একদম লাল হয়ে আছে। তাদের দুজনকেই একসাথে ঢুকতে দেখে টেবিলের অন্য প্রান্তে বসে থাকা তেজ ও রাজ একসঙ্গে হেসে উঠল।
“আরে! আমাদের নবনির্বাচিত বিজয়ী প্রার্থী আর উনার বিরোধী দল চলে এসেছেন!” তেজ ট্রে থেকে একটা পরোটা তুলে নিয়ে টিপ্পনি কাটল, “কাল রাতে কি শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে হলো, আব্রাজ ভাই? নাকি বাজেট ঘোষণার আগেই খাট ভেঙে আন্দোলন সমাপ্ত হলো?”
রাজ চায়ে চুমুক দিয়ে যোগ করল, “আমরা তো ভেবেছিলাম আবরাজ ভাই রাজনীতির ময়দানেই শুধু ধাক্কাধাক্কি করে, কিন্তু ঘরের ভেতরের ফার্নিচারও যে উনার ধাক্কা সহ্য করতে পারবে না, তা কে জানত!”
বড় মা কপালে হাত দিয়ে বললেন, “আহা রে! তোরা ছেলেটাকে খেপাস না তো! রাত তিনটায় যে ভয়াবহ শব্দ হলো, আমি তো ভাবলাম ভূমিকম্প এলো বুঝি! তোদের দাদি বেঁচে থাকলে এই খাট ভাঙার গল্প শুনে নির্ঘাত আরেকবার হার্ট অ্যাটাক করতেন!”
নৈশি লজ্জায় একদম মাটির সাথে মিশে যাওয়ার উপক্রম হলো। সে চেয়ার টেনে বসে প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইল, যেন প্লেটের নকশাই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়!
আব্রাজ অবশ্য দমার পাত্র নয়। সে চেয়ারে সোজা হয়ে বসে অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে চশমাটা ঠিক করে বলল, “আম্মু, বিষয়টাকে তোমরা রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করছ। ফার্নিচার বা পাবলিক প্রপার্টি ভাঙাটা কোনো পরাজয় নয়। এটা হলো পুরোনো ভঙ্গুর কাঠামো ভেঙে নতুন করে এক শক্ত ভিত্তি গড়ার প্রাথমিক সূচনা!”
চিকু খাঁচা থেকে সঙ্গে সঙ্গে চিল্লিয়ে উঠল, “বক্তৃতা বন্ধ কর! খাট ভাঙছে! আব্রাজ পইড়া গেছে!”
ডাইনিং টেবিলজুড়ে একপ্রস্থ হাসির রোল উঠল। নৈশি এবার টেবিলের নিচ দিয়ে আব্রাজের পায়ে একটা জোরসে লাথি মারল। আব্রাজ সামান্য উফ করে উঠে নৈশির দিকে তাকাল। নৈশি ফিসফিস করে অত্যন্ত রাগী গলায় বলল, “আপনার এই ফালতু পলিটিক্যাল ভাষণ বন্ধ করুন তো! লজ্জা করে না? সবাই কীভাবে হাসাহাসি করছে দেখছেন? আগে মিস্ত্রি ডেকে ঘরে নতুন খাট আনার ব্যবস্থা করুন, নইলে আজ রাতে আপনাকে সোফাতেও জায়গা দেব না!”
আব্রাজ নিচু গলায় জবাব দিল, “বিরোধী দলের এত বড় হুমকি মেনে নেওয়া আমার দলীয় নীতিবিরোধী, নৈশি ম্যাডাম। তবে মিস্ত্রির ব্যাপারটা ভেবে দেখা যেতে পারে।”
ঠিক এই সময়ে ডাইনিং রুমে ঢুকল তাজ। তার পরনে ডার্ক ব্লু রঙের ফুল হাতা শার্ট, চোখে রোদচশমা ঝুলানো, আর মুখে চিরাচরিত কড়া গাম্ভীর্য। তার ঠিক পেছনে থমথমে মুখে হেঁটে আসছে সিয়া। সিয়ার পরনে এখন আর বেনারসি নেই, একটা সাধারণ হালকা গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজ। তবে তার ঘাড় আর পিঠ যে এখনো সোফায় শোয়ার কষ্টে ব্যথায় জমে আছে, তা তার হাঁটাচলা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে! সিয়া ডাইনিং টেবিলে বসেই মনে মনে তার শোধ নেওয়ার ছক কষতে লাগল। সে রান্নাঘরের দিকে গিয়ে ট্রে থেকে তাজের ব্ল্যাক কফির মগটা নিজ হাতে তুলে নিল। রান্নাঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে সে কফির মগে দুই চামচ কড়া লবণ, আধা চামচ লেবুর রস আর সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে দিল!
“এবার বোঝেন, ক্যাপ্টেন তাজ!” সিয়া শয়তানি হেসে বিড়বিড় করল, “ককপিটে অনেক ম্যানুয়াল শুনিয়েছ, এবার এই লোনা কফি গিলে তোমার চার স্ট্রাইপের অহংকার ধুয়ে মুছে সাফ করে নাও!”
সিয়া ট্রে-তে কফির মগটা নিয়ে খুব আদুরে আর মিষ্টি হাসি দিয়ে তাজের সামনে এনে রাখল। “আপনার সকালের স্পেশাল ব্ল্যাক কফি, স্যার!” সিয়া চোখের পাতা পিটপিট করে বলল, “আপনার জন্য একদম স্পেশালি নিজের হাতে বানিয়ে এনেছি।”
সবাই সিয়ার এই হঠাৎ বাধ্যগত আচরণ দেখে একটু অবাক হলো। সাঁঝ ডাইনিংয়ের এক কোণায় বসে কান ডলতে ডলতে এই দৃশ্যটা খুব সাবধানে পর্যবেক্ষণ করছিল। সাঁঝ মনে মনে ভাবল, “সিয়া আপার হাসিটা ভালো ঠেকছে না। নির্ঘাত কফিতে বিষ মিশিয়েছে!”
তাজ সিয়ার দিকে একবার ঠান্ডা চোখে তাকাল। তারপর পেপারটা একহাতে ধরে অন্য হাতে কফির মগটা তুলে নিল। সিয়া বুকের ভেতর উত্তেজনার পারদ গুনে তাজের দিকে তাকিয়ে রইল কখন লোকটা চায়ে চুমুক দেবে আর ওয়াক করে থুতু ফেলবে! তাজ কফির মগটা ঠোঁটে ছোঁয়াল। প্রথম চুমুকটা মুখে নেওয়া মাত্রই তার ভেতরের সমস্ত স্বাদকোরক যেন এক মুহূর্তে বিদ্রোহ করে উঠল! কফি নয়, এ যেন সোজা মৃত সাগরের অতি ঘন লবণাক্ত পানি! কিন্তু তাজ কে? সে পাইলটদের কড়া ট্রেইনিং পাওয়া এক পাথুরে মানব! তাজের মুখের একটা পেশিও নড়ল না। তার চোখের এক্সপ্রেশন এক ফোঁটাও পরিবর্তন হলো না। সে অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে, কোনো রকম বিরক্তি না দেখিয়ে, সোজা এক টানে পুরো এক মগ বিষাক্ত নোনা কফি গিলে ফেললো!
সিয়ার চোখ দুটো গোল গোল হয়ে গেল! সে হা করে তাজের দিকে তাকিয়ে রইল। “কীইই?! লোকটা কি সত্যি মানুষ না লোহা? এত লবণ ও ড্রিঙ্ক করে ফেলল আর কোনো রিয়্যাকশন দিল না?!”
তাজ খালি মগটা কায়দা করে টেবিলে রাখল। তারপর টিস্যু দিয়ে ঠোঁট মুছে সিয়ার একদম কাছাকাছি এসে খুব নিচু আর থমথমে গলায় বলল, “আকাশে ৩৫ হাজার ফুট উঁচুতে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের পর সমুদ্রের লবণাক্ত বাতাসে যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিকে থাকে, মিস সিয়া… তাদের এই সামান্য নোনা কফি দিয়ে কাবু করা যায় না।”
সিয়ার মুখ চুন হয়ে গেল। তাজ উঠে দাঁড়িয়ে তার হাতঘড়িটা ঠিক করে কড়া গলায় বলল, “তবে ক্রু হিসেবে ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনকে নোনা কফি পরিবেশন করে শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে তোমার আজকের শাস্তি নির্ধারণ করা হলো। আজ সারাদিন বড় মায়ের সাথে হেঁশেলে বিরিয়ানি রান্নার ডিউটি! এক চুল এদিক-ওদিক হলে সোজা এয়ারপোর্টে ডিপোর্ট করব!”
তাজ গম্ভীর কদমে ডাইনিং রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
সিয়া নিজের কপাল চাপড়ে চেয়ারে ধুপ করে বসে পড়ল। “ওরে নিষ্ঠুর ককপিটের রোবট! আমার জীবনটাই কয়লা করে দিল!”

সাঁঝ দূর থেকে তা দেখে ফিসফিস করে নিজেকেই বলল, “যাক বাবা! অন্তত এ বাড়িতে আমি একা বকা আর শাস্তি খাই না। সিয়া আপাও অফিশিয়াল ডিউটি পেয়েছে!”

বেলা প্রায় এগারোটা। মীর বাড়ির বিশাল প্রধান ফটকের বাইরে হঠাৎ করেই এক অভাবনীয় তোলপাড় শুরু হলো! গাড়ির হর্ন, রিপোর্টারদের চিল্লাচিল্লি আর ক্যামেরার অনবরত ফ্ল্যাশের শব্দে পুরো শান্ত শান্ত পরিবেশটা এক মুহূর্তে বিষিয়ে উঠল। অন্তত চার-পাঁচটি মূলধারার নিউজ চ্যানেলের ওবি ভ্যান আর জনা পঁচিশেক সাংবাদিক মীর বাড়ির বিশালাকার লোহার গেটের সামনে ভিড় জমিয়েছে।
মিডিয়া জানতে পেরেছে মীর বাড়ির কড়া মেজাজী ব্যবসায়ী ও ফুটবলার আরযান মীর কাল রাতে মিডিয়াকে শান্ত করার জন্য সাঁঝকে তার “হবু স্ত্রী” বলে দাবি করেছিল!
গেটম্যান রহিম মিয়া দৌড়ে এসে দোতলার ড্রয়িং রুমে খবর দিল, “বড় আম্মা! বাইরে তো সাংবাদিকরা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকতে চাইছে! তারা সবাই আরযান স্যার আর সাঁঝ আপার ইন্টারভিউ চায়!”
কথাটা শোনামাত্রই ডাইনিং আর ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সবার চোখ কপালে উঠল! বড় মা কপালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন, “হায় আল্লাহ! এখন আবার মিডিয়া কেন? এখন আবার সাঁঝকে নিয়ে কী শুরু হলো?”
সাঁঝ তখন তিনতলার বারান্দা থেকে উঁকি মেরে নিচে মিডিয়ার ভিড় দেখছিল। নিচে সাংবাদিকদের হাতে থাকা মাইক্রোফোনে সাঁঝের নাম আর আরযান ভাইয়ার নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে!
“মীর পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে সাঁঝের সাথে কি সত্যিই আরযান মীরের বিয়ে হতে যাচ্ছে? নাকি এটি কোনো আইনি জটিলতা ঢাকার পারিবারিক নাটক?” এক রিপোর্টার টিভিতে লাইভ শট দিচ্ছিল।
সাঁঝের বুকের ভেতর তখন কেয়ামতের ঢোল বাজতে শুরু করেছে! সে এক লাফে পিছিয়ে এসে নিজের ঘরে ঢুকে দরজায় খিল দিতে গেল।
“আল্লাহ গো! মিডিয়া তো আমাকে নিয়ে ট্রল বানিয়ে ফেলল!আমি তো শেষ! আরযান ভাইয়া আমাকে এবার আস্ত রাখবে না!”
ঠিক তখনই সাঁঝের ঘরের কাঠের ভারী দরজাটা এক প্রচণ্ড ধাক্কায় খুলে গেল! দরজার মুখে দাঁড়িয়ে স্বয়ং আরযান । তার পরনে এখন ধবধবে সাদা শার্ট আর কালো ট্রাউজার। হাতে তার সেই কড়া রিমলেস চশমা। আরযানের চেহারায় এক ফোঁটাও হাসির লেশমাত্র নেই। সে ঘরে ঢুকে এক ঝটকায় ভেতরের খিল তুলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল! সাঁঝ ভয়ে পিছিয়ে যেতে যেতে একদম পড়ার টেবিলের কাঁচের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে ফেলল। তার হাতের তসবিটা হাত থেকে খসে মেঝেতে পড়ে গেল।
“ভাইয়া… মানে… আরযান ভাইয়া!” সাঁঝ হাত দুটি জোড় করে তোতলাতে তোতলাতে বলল, “বাইরে মিডিয়া এসেছে… কিন্তু আমি কসম কেটে বলছি, আমি বাইরে এক ফোঁটাও যাইনি! আমি কোনো সাক্ষাৎকার দিইনি! আপনি আমাকে বকবেন না, প্লিজ!”
আরযান কোনো কথা না বলে ধীরে ধীরে সাঁঝের দিকে এগিয়ে এল। আরযান সাঁঝের একদম গা ঘেঁষে দাঁড়াল। সে টেবিলের ওপর এক হাত রেখে সাঁঝকে দেয়াল আর নিজের সুঠাম শরীরের মাঝখানে পুরোপুরি ব্লক করে ফেলল। “মিডিয়া বাইরে কী বলছে, তুই শুনেছিস?” আরযানের কণ্ঠটা গভীর।
“হুম… শুনেছি…” সাঁঝ ভয়ে চোখ পিটপিট করে বলল, “ওরা বলছে আমরা নাকি নাটক করছি… মিডিয়া তো আপনাকে নিয়ে কিছু বলছে না, সব আমাকে নিয়ে ট্রল করছে! আপনি সেদিন রাতে মিডিয়াকে কেন বানিয়ে বললেন যে আমি আপনার হবু স্ত্রী? এখন তো আমি মহা বিপদে পড়ে গেলাম!”
আরযান চশমাটা ধীরে ধীরে নিজের চোখে পরল। তারপর চশমার কাঁচের ওপর দিয়ে সাঁঝের চোখের দিকে সোজা তাকাল।
“আমি কাল রাতে মিডিয়াকে যা বলেছি, তার এক বর্ণও মিথ্যা ছিল না, সাঁঝ।” আরযান অত্যন্ত কড়া আর অকম্পিত গলায় বলল।
সাঁঝের মাথার ওপর যেন একসাথে একশোটা বাজ পড়ে ভেঙে পড়ল! সে অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে তাকাল। “কীইই?! আপনি… আপনি কী বলছেন ভাইয়া? আপনি তো আমার আপন চাচাতো ভাই! আর ডায়েরিতে তো লিখেছেন আমার ঠ্যাং গুঁড়ো করবেন! বকা দেন, মারেন… আর এখন বলছেন…”
“চুপ!” আরযান এক আঙুল সাঁঝের ঠোঁটের ওপর চেপে ধরল।
সাঁঝের মুখের সব কথা এক মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেল। আরযানের আঙুলের সেই উষ্ণ ছোঁয়ায় সাঁঝের কানের লতি মুহূর্তের মধ্যে লজ্জায় আর ভয়ে লাল হয়ে উঠল।
“রক্তের সম্পর্ক কিংবা আইনি সমীকরণ তোর বোঝার বয়স এখনো হয়নি, সাঁঝ।” আরযান অত্যন্ত কড়া নজরে তাকিয়ে বলল, “ তুই শুধুই আমার শাসন আর কড়া প্রেসক্রিপশনে থাকবি।”
সাঁঝ হাঁপাচ্ছিল। সে ব্যাকফুটে এক পা-ও সরতে পারছিল না। “কিন্তু ভাইয়া… মিডিয়া যে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে…”
“মিডিয়া বাইরে দাঁড়িয়ে আছে বলেই তোকে এখন নতুন করে শিক্ষা দিতে হবে।” আরযান হঠাৎ এক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে তার পকেট থেকে ডায়েরির একটা কড়া ফাউন্টেন পেন বের করল।
সে টেবিলের ওপর থাকা কেমিস্ট্রি বইটার দিকে নির্দেশ করে কড়া গলায় আদেশ দিল, “মিডিয়ার টেনশন করার মতো কোনো ম্যাচিউরিটি তোর এখনো হয়নি। কাল রাতে তুই যে অর্গানিক কেমিস্ট্রির পড়া ফাঁকি দিয়েছিস আর আমার ডায়েরি চুরি করেছিস এই চরম অপরাধের শাস্তি হিসেবে আজ তোকে ঘরের এক কোণায় এক পায়ে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে! সোজা দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়া!”
সাঁঝ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না! সে চোখ ছানাবড়া করে নিজের কপালে হাত দিল, “কীইইই?! বাইরে এত বড় কেলেঙ্কারী, আর আপনি আমাকে কেমিস্ট্রির জন্য এক পায়ে খাড়া করাচ্ছেন?! আপনি সত্যিই একটা খতরনাক রোবট ভাইয়া!”
আরযান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত শান্ত গলায় বলল, “সময় শুরু হলো এখন থেকে। এক পা-ও নামাবি না, নইলে সময় আরও আধা ঘণ্টা বাড়বে।”
সাঁঝ রাগে, কষ্টে আর চরম হতাশায় এক পায়ে ভর দিয়ে দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে পড়ল। সে মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে ডেকে বলতে লাগল, “আল্লাহ গো! এ কোনো মানুষ না! মিডিয়া বাইরে আমার বিয়ের গুঞ্জন ছড়াচ্ছে, আর উনি আমাকে দিয়ে ঘরের কোণায় জিম করাচ্ছেন! এই স্বৈরাচারী ভাইয়ার হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো!”
জানালার বাইরে তখনও সাংবাদিকদের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ চমকাচ্ছে, আর ঘরের ভেতরে সাঁঝ এক পায়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে আরযানের ১৪ গোষ্ঠীকে গালি দিতে লাগল।
চলবে? See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply