#দ্যা_ব্ল্যাক_মার্ক
#লেখনীতে_আশু_ও_নিশু
#পর্বসংখ্যা_৩৩(প্রথমাংশ)
ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক ১১ টা।এহসান বাড়ির সবাই খাওয়া দাওয়া করে যে যার যার যার রুমে গিয়েছে। কিন্তু আজকের রাতটা বাকি রাতের মতো না!নোভা বেলকনিতে দাড়িয়ে নাম্বার টাইপ করে কল দেয়।কল রিসিভ করার সাথে সাথে ওপাশ থেকে পরিচিত কন্ঠ ভেসে এল,
“হ্যালো নোভা।”
“হ্যা শোন, আজকে রাতে মেইন রোডে অপেক্ষা করিও গাড়ি নিয়ে ২ টার দিকে।আশা করি বুঝতে পারছো কতটা রিস্ক নিয়ে কাজটা করছি।ইচ্ছে ছিলো তিন ভাইকেই ধ্বংস করা কিন্তু আপাতত দুইজনকে করার পরিকল্পনা করেছি।”
“দ্যাটস মাই গার্ল।”
নোভা হেসে চুপচাপ কলটা কেটে দেয়।কারণ নিশান যেকোনো সময় এসে যেতে পারে।নোভা দেখল গেটের কাছের দুটো আলোয় বাগানটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। নোব বাগানটার দিকে তাকিয়ে বলে,
“নিশান এহসান আজকে আপনার খেল খতম। আপনার আগে গুটি আমি চেলে দিয়েছি।আর আমিই জিতব এই খেলায় জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।”
বলেই একটা বাঁকা হাসি দিলো।কিছুক্ষণ পর বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে কিন্তু আজ নোভা তো ঘুমাবে না ঘুমানোর নাটক করবে।হালকা চোখ খুলে দেখল নিশান আসছে সঙ্গে সঙ্গে গভীর ঘুমের ভান করে শুয়ে রইল।নিশান এসে কিছুক্ষণ ফোন স্ক্রল করে শুয়ে পড়ল।
****
অন্যদিকে তুবা অসহায় মুখে বিছানায় বসে আছে।নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কি করবে সে?পরক্ষণেই ভাবল এত ভয় পাচ্ছে কেন নিহানের সাথে তার দেখাটা কোথায় হয়েছিলো তা তো তুবা জানে। নিহান আগেও মেয়েদের সাথে খারাপ কাজ করতো তুবাও ছিলো নিহানের কাছে এমন একজন মেয়ে।কিন্তু হঠাৎ বিয়ে করলোই বা কেন?সে ও তো বাকি চার পাঁচটা মেয়ের মতো!তুবা এসব ভাবছিলো নিহান কখন যে এসে পাশে বসল তা তুবার খেয়াল নেয়।
নিহান নরম কন্ঠে বলে,
“অনেক রাত হয়েছে,ঘুমিয়ে পড়ো।”
তুবা মাথাা নাড়িয়ে শুয়ে পড়ল।কিন্তু ভাবল নিহান ঘুমাবে কখন?আর কতক্ষণ ই তুবা ঘুমের অভিনয় করবে আর ঘুমের অভিনয় করতে করতে যদি সত্যিই ঘুমিয়ে পড়ে।পরে নিজেকে শান্ত করল।গভীর ঘুমের ভান ধরে শুয়ে পড়ল।একটু পর টের পেলো নিহান ও শুয়ে পড়ছে।কিন্তু তারা তো এখন বের হবে না আরো ২ ঘন্টা পর বের হতে হবে।
****
রাত বাজে ২টা।তুবা আস্তে করে চোখ খুলে ওপাশ ফিরে নিহানের দিকে দেখল।বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল অজানা কারণবশত।তুবা আস্তে করে উঠে বসল।নিহানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
”আপনার শহর থেকে বিদায় নিচ্ছি নিহান এহসান।ভালো থাকবেন এই তুবা আর আপনার কাছে ফিরছে না।আপনার পথের কাটা আজ থেকে দূর হলো।আর আপনাকে ডিস্টার্ব করবে না ভালো থাকবেন নিজের নতুন জীবন শুরু করবেন।আপনার কোনো জিনিস ই আমি নিইনি।”
তুবা এই বলেই শুধু একটা বোরকা পরেই বের হয়ে যায় রুম থেকে।বেরিয়ে দেখল লিভিং রুমে দাড়িয়ে আছে নোভা আর চোখেমুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। তুবা নেমে নোভাকে পেছন থেকে বলে,
”নোভা আপু?”
“তুমি এসেছো আমি ভেবেছি আরো ঘুমিয়ে গেছো।”
“আরে না।”
“আচ্ছা যাইহোক আসো।”
নোভা তুবার হাত ধরে বাইরে নিয়ে আসে।তুবার বুক কাঁপছে হাত-পা কাঁপছে থরথর করে।তুবাকে কাঁপতে দেখে বলে,
“মেয়ে হয়েছো ভালো কথা।সাহাসী হবে এরকম ভয় পেলে জীবন চলবে না তুবা।”
”হু..হু।”—কাপা কাঁপা কন্ঠে উত্তর দিলো তুবা।
তুবা দেখল গাড়ি দাড়িয়ে আছে গেটের সামনে।নোবা তাড়াতাড়ি তুবাকে নিয়ে উঠে গেলো গাড়িতে।তুবার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ওই চোখগুলো শুধু চোখের সামনে ভাসছে তুবা চোখের পানি মুছে নিলো হাতের উল্টো পিঠে।নিজেকে শান্ত করে দীর্ঘ একটা শ্বাস নিলো।গাড়ি চলছে নিজ গতিতে পুরো শহরটা নির্জন হয়ে আছে।তুবা নোভাকে বলল,
”আচ্ছা আমরা কোথাই যাবো?”
“চট্টগ্রাম সেখান থেকে তারপর লন্ডন।”
তুবা হালকা ভ্রু কুঁচকে বলল,
”লন্ডনে গিয়ে কি করব?এখানেই তো ভালো।”
“তুবা এখানে হলে তো ওরা আমাদের খুঁজে বের করে ফেলবে।”
তুবা অবাক কন্ঠে বলে,
“ওরা আমাদের খুজঁবেও নাকি?”
নোভ হেসে বলে,
“বোকা মেয়ে।তুমি ওদের তো চিনলেনা।”
তুবা আর কিছু বলল না।ভাবল হয়তো খুজবে পুরো ঢাকা শহর কিন্তু তারা তো চট্টগ্রামে যাবে তাহলে তো আ রপাবেই না লন্ডনে গেলে তো আরো পাবে না।তুবা চোখদুটো বন্ধ করে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকল।বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে কিন্তু কখন যে ঘুমিয়ে গেলো টের ই পেলো না!
****
সারারাত বৃষ্টির পর সকালটা যেন একদম নতুন হয়ে জন্ম নিয়েছে।আকাশে এখনো হালকা ধূসর মেঘের আনাগোনা,তবে তার ফাঁক গলে নরম রোদ এসে ভেজা পৃথিবীর গায়ে আলতো ছোঁয়া দিচ্ছে। গাছের পাতাগুলো ধুয়ে মুছে আরো সবুজ হয়ে উঠেছে,পাতার ডগায় জমে থাকা ছোট্ট ছোট্ট পানির ফোঁটাগুলো রোদের আলোয়া চিকচিক করছে মুক্তর মতো।
চারপাশে এক ধরণের স্নিগ্ধ গন্ধ ছড়িয়ে আছে।ভেজা মাটি,কাদামাখা পথ,আর বৃষ্টিভোজা ঘাসের মিশ্রিত সেই গন্ধটা মনকে একপ্রকার শান্ত করে দেয়।দূরে কোথাও জমে থাকা পানিতে টুপটাপ করে পানি পরার শব্দ ভেসে আসছে।পাখিরাও যেন নতুন উদ্যমে ডাকছে,যেন তারাও বৃষ্টির পরের এই সতেজ সকালটাকে উপভোগ করছে।
রাস্তাঘাট এখনো খানিকটা ভেজা।কোথাও কোথাও ছোট্ট পানির গর্তে আকাশের মেঘের ছায়া পড়ে আছে।
নিহান ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে পাশে দেখল তুবা নেই মাথাটা ম্যাচম্যাচ করছে কেন তাও জানেনা!নিহান ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে দেখল দরজা খোলা ভাবল নিেচ আছে তুবা।নিহান কি মনে করে যেনো নিচে গিয়ে দেখল সেখানেও দেখতে পেলো না রান্নাঘরে আতিয়া রান্না করছে।একে একে ছাঁদ সব রুমে খোঁজা শেষ।নিহান লিভিংরুমে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে,
“ নিশান ভাইয়া কই তুমি?তাড়াতাড়ি নিচে আসো।”
নিহানের ডাকাডাকি শুনে প্রথমে নাহিয়ান নিচে নেমে আসে ঘুমুঘুমু চোখে তারপর পেছনে দেখল নিশান ও আসছে।নিহানের চোখগুলো লাল হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই।নাহিয়ান ঘুমুঘুমু কন্ঠে বলে,
”কি হয়েছে ভাইয়া? এতো চিল্লাচিল্লি করতেছো কেন সকাল সকাল?”
“আমার বা’ল হয়েছে।”—রেগে বলল নিহান।
নিশান পাশ থেকে বলে উঠল,
“এরকম করে কথা বলছিস কেন নিহান?ও তো ঠিক ই বলেছে কেনো সকাল সকাল চিল্লাচ্ছিস আমার মাথা পুরো ব্যাথা করছে পুরো।”
“শাট আপ ভাই তোমাদের এসব ফালতু কথা না বলে বলো তুবা কোথায়?”
“তুবা কোথায় সেটা তুই জানবি আমাদের কেন বলছিস?”—নির্লিপ্ত কন্ঠে জবাব দিলো নিশান।
”সারা বাড়ি, ছাঁদ সবার রুম তন্ন তন্ন করে খুজে ফেলেছি আমি তাহলে কোথাই তুবা?”
নিশান ও নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকালো।নিশান নাহিয়ানকে বলল,
“দেখে আয় তো নোভা কোথায়?”
নাহিয়ান মাথা নেড়ে ভাইয়ের বলা কাজে যায়। পুরো ঘর খুজল তাও দেখতে পেলো না নোভাকে।নাহিয়ানের মন অন্যকিছু বলছে।নাহিয়ান নিচে নেমে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“নোভা কোথাও নেই।”
“তোমরা নোভাকে নিয়ে পড়ে আছো কেন?আমি তুবাকে খুজছি,আই ওয়ান্ট হার।”
নিশান ধমকে উঠে বলে,
“নিহান পা’গলামি বন্ধ কর।মেয়েটা হয়তো পালিয়েছে নোভা সহ যদি আমার সন্দেহ ঠিক হয়।”
নিহান চোখ কপালে উঠে গেলো এতদিন করা সব ঘটনা এক নিমিষে চোখের সামনে ভাসছে। সত্যিই তুবা মেয়েটা বেইমানি করলো?সত্যিই কি তাকে ছেড়ে চলে গেলো তুবা?
#চলবে??
(স্যরি আরো পর্ব দিতে চয়েেছিলাম আসলে লিখতে বসেছি তখন ই খালামণির কল!আম্মু অনেকক্ষণ কতা বলার পর পেলাম।)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৭(১)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৫ এর সকল পর্ব