তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৪
তানিশা সুলতানা
এখানকার ড্রেস গুলো বেশ সুন্দর আর ইউনিক। আদ্রিতার বেশ পছন্দ হয়েছে। তার থেকে বড় কথা এখানে কাজ করা সব গুলো মেয়েই মারাক্তক সুন্দরী এবং স্মার্ট। হাঁটু ওবদি জামা পড়া। হাতের নখ গুলো পর্যন্ত ঝকঝকে ফকফকে।
আদ্রিতা একবার নিজের হাতের পানে তাকালো। ময়লা ঢুকেছে নখে। কেমন কালো কালো হয়ে আছে। মারাক্তক বিশ্রী দেখাচ্ছে।
অগোচরে নিজের হাত খানা ওড়নার আড়ালে লুকিয়ে ফেললো।
তারপর একটা মেয়ের কাছাকাছি গিয়ে বললো
“আপু বাকিতে একটা ড্রেস দিবেন?
কালকেই টাকা দিয়ে দিবো প্রমিজ।
মেয়েটি মিষ্টি হেসে বলে
” ম্যাম সবই আপনার৷ যতগুলো খুশি নিতে পারেন।
বুঝলো না আদ্রিতা তবে খুশি হলো। এক গাল হেসে এক পলক তাকায় আবরার তাসনিন এর পানে। চেয়ারে বসে টেবিলের ওপরে পা রেখে গভীর মনোযোগে ফোন দেখছে। যেনো ফোনের মধ্যে বউকে লুকিয়ে রেখেছে। শালা রোবট।
হাতি কোথাকার
এই রোবটককে যে বিয়ে করবে তার জীবন তামাতামা।
চুমু খেতে যাবে করলার মতো মুখ করে। কলামনা তো করবেই না। উল্টে গম্ভীর স্বরে বলে
“হেই এখন আমি চুমু খাবো। একদমই নরাচরা করবা না”
এটা শুনে ওনার বউ ভয় পেয়ে পটল তুলবে।
ভাবতে ভাবতেই উচ্চস্বরে হেসে ওঠে আদ্রিতা। সব গুলো স্টাফ তাকিয়ে থাকে। তাকায় আবরারও।
সকলের দৃষ্টি খেয়াল করে আদ্রিতা হাসি থামায়। এবং বলে
“ওই আবরার ভাইয়াও ছোট বেলায় ডায়াপার পড়তো। এটা ভেবেই হাসছিলাম।
এখনো উনি ডায়াপার পড়লো কেমন দেখাতো?
বলে আবারও হাসতে শুরু করে। সব গুলো স্টাফ ঠোঁট টিপে হাসে। আবরার কানে হেডফোন গুঁজে নেয়। যেনো সে বেশ বিরক্ত। আদ্রিতা মুখ বাঁকায়। বিরবির করে বলে
” হার্টলেস একটা
অহনার কক্ষের ওয়াশরুমে পানি আসছে না। কোনো একটা সমস্যা হয়েছে মনে হয়। এদিকে অহনার গোসলের সময় হয়ে গেছে।
শেষমেশ বাধ্য হয়ে আদ্রিতার ওয়াশরুমে গোসল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন কেউ বাসায় নেই আম্মু ছাড়া। তো কোনো প্রবলেম হবে না।
যেই ভাবা সেই কাজ।
চটজলদি আদ্রিতার কক্ষে ঢুকে পড়ে এবং গোসল সেরে নেয়।
ঝামেলার ব্যাপার হচ্ছে জামাকাপড় আনতেই ভুলে গিয়েছে।
কি আর করার?
তোয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে আছে। নিজ কক্ষে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই সিয়ামের মুখোমুখি হয়ে যায়। লোকটা সবেই বোধহয় বাসায় ঢুকলো।
চমকালো অহনা। বুকের ওপর হাত রাখে। আঁখি পল্লব ইতিমধ্যেই বড় বড় হয়ে গিয়েছে।
এদিকে সিয়াম স্তব্ধ। হা করে তাকিয়ে আছে। কোনো কথা বলতে পারছে না।
ভেজা চুল, চোখে মুখে বিন্দু বিন্দু পানির কণা, ফর্সা শরীরে সাদা তোয়ালে। হাঁটু থেকে পা পর্যন্ত উন্মুক্ত।
সিয়ামের গলা শুকিয়ে আসে। সে শুকনো ঢোক গিলে বলে
“শোনো অহনা
তোমার প্রতি আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। মনে মনে আমানের চুল ছুঁয়ে বললাম।
অহনা বুঝলো না। তার মাথায় ঢুকলো না।
সে আপাতত পালাতে পারলে বাঁচে। কিন্তু সিয়াম এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে কক্ষে যেতে পারছে না।
হঠাৎ নিচ থেকে আমানের কন্ঠস্বর ভেসে আসে। সিয়াম চট করেই অহনার হাত ধরে ফেলে। এবং এক ধাক্কায় কক্ষে ঢুকিয়ে দেয়।
বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
বিরবির করে বলে
” মেয়ে মানুষ মানেই আস্ত একটা ঝামেলার গোটাউন”
অনেক গুলো জামা নিয়েছে আদ্রিতা। সব গুলোই মন মতো। তাসিন ফ্যাশন হাউস এর পাশেই একটা আইসক্রিম শপ দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকে একটা আইসক্রিম খেতে পারলো ভাল্লাগতো। ভাবতে ভাবতেই অনুভব করে তার সামনে কেউ আইসক্রিম ধরে আছে। তাকাতেই দেখতে পায় চার খানা আইসক্রিম তার সামনে। এনেছে অফিসেরই একজন স্টাফ।
খুশিতে মনটা নেচে ওঠে ওর। চটজলদি আইসক্রিম হাতে নিয়ে খেতে শুরু করে।
এরই মধ্যে খেয়াল করে আবরার নেই শপিং মলে। সে কি তবে আদ্রিতাকে রেখেই চলে গেলো?
বুকটা কেঁপে উঠলো। হাতের আইসক্রিম ফেলে চটজলদি বের হয়। এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজতে থাকে।
কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
কান্না পেয়ে যায় আদ্রিতার। লিফট এর কথা বেমালুম ভুলে সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করে৷
চার তলা পর্যন্ত নেমে চলন্ত সিঁড়িতে উঠে দৌড়াতে থাকে। কাঁদছেও সেই তালে। চিৎকার করে ডাকছে আবরারের নাম ধরে।
আবরার ওয়াশরুম থেকে ফিরি আদ্রিতাকে দেখতে পায় না। পরপর নিজেও দৌড়াতে শুরু করে। সকলেই হা করে তাকিয়ে আছে। উদ্বিগ্ন আবরারকে দেখছে।
আবরার তাসনিন সম্পর্কে সকলেই অবগত। অনেকেরই ড্রিম বয়। ভালোবাসে মনে মনে। তবে কখনো বলার সাহস হয় না। সে মানুষ টাই এমন। শক্ত খোলসে আবৃত্ত।
বরাবরই তাকে গম্ভীর মুডে দেখা যায়৷ তবে আজকে এমন উতলা রূপে দেখে অশ্চর্য হচ্ছে।
আদ্রিতার হাত পা কাঁপছে। সে এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছে। এই অচেনা শহরের অচেনা শপিং মলে হারিয়ে গেলে আর জীবনেও বাড়ি ফিরতে পারবে না।
আবরারকে খুঁজে বের করতে হবে। সে যদি রেখে চলেই যাবে তবে সাথে কেনো আনলো?
আর কিছুটা এগুলোই আদ্রিতা চার তলা থেকে সোজা নিচ তলায় পড়ে যাবে। বাঁচতে পারবে কি না সন্দেহ।।
অনেকেই আদ্রিতাকে থামতে বলছে৷ আর এগুলো না করছে তবে কারো কথা কানে ঢুকছে না। অন্য কেউ ধরার সাহসও পাচ্ছে না। কেনোনা ইতিমধ্যেই সকলেই জেনেছে এই মেয়েটি আবরার তাসনিন এর স্পেশাল কেউ। তাদের গভীর কোনো সম্পর্ক রয়েছে।
আর আবরার তাসনিন এর আদ্রিতাকে টাচ করার সাহস পৃথিবীর কারোর নেই।।
হঠাৎ আদ্রিতা অনুভব করে কেউ তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে। চন্দন কাঠের হালকা সুঘ্রাণ এবং নিঃশ্বাসের শব্দেই আদ্রিতা বুঝতে পেরেছে এটা আবরার তাসনিন।
তাই আর চোখ খোলার প্রয়োজন মনে করলো না। বুকে মাথা ঠেকিয়ে সেভাবেই পড়ে রইলো কিছু মুহুর্ত।
তারপর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলে
“আমি ভেবেছিলাম আমাকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছেন৷ ভয় পেয়ে গেছিলাম।
আবরার খুবই নরম স্বরে জবাব দিলো
” ধুর বোকা
নিজের জানকে কেউ ফেলে রেখে যায় না কি?
শুনলো আদ্রিতা তবে বুঝতে পারলো না। তা বুক থেকে মাথা তুলে মুখের পানে তাকিয়ে শুধায়
“কি বললেন?
আবরার গম্ভীর স্বরে বলে
” তোমার নিয়ে আর কোথাও যাবো না। ডিজগাস্টিং গার্ল।
বলেই আদ্রিতার হাত খানা মুঠো করে ধরে লিফটের পানে এগোয়।
কিছু সংখ্যক মানুষ এই ঘটনা ক্যামেরা বন্দি করে ফেলে। কিছু মুহুর্ত পড়েই ইন্টারনেটে আপলোড দিবে ভুলভাল ক্যপশন দিয়ে।
গাড়িতে বসতেই আদ্রিতা দেখতে পায় আসিফ আদনান দাঁড়িয়ে আছে শপিং মলের বাইরে। নিশ্চয় আদ্রিতার অপেক্ষাতেই। ইসস লোকটা কতো ভালো।
আবরার ইতিমধ্যেই ড্রাইভ করার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।
আদ্রিতা বলে
“ওই যে আসিফ আদনান দাঁড়িয়ে আছে। আমার কলেজের সিনিয়র৷ এখন বয়ফ্রেন্ড লাগে।
আপনি প্লিজজ ওনার কাছে গাড়ি থামাইয়েন।
আবরার ভদ্র ছেলের মতো বলে
” আচ্ছা
তারপর ড্রাইভ করা শুরু করে ফুল স্পিডে। গাড়িটা সোজা গিয়ে ওঠে আসিফের ওপরে। ভাগ্য ভালো ছিলো বিধায় ছিঁটকে খানিকটা দূরে গিয়ে পড়েছিলো। নাহলে চাকার নিচে পড়তো দেহখানা।
আদ্রিতা চোখ দুটো বন্ধ করে চিৎকার দিয়ে ওঠে। আবরার গাড়ি থামায়। র/ক্তা/ক্ত আসিফ ছটফট করছে।
আদ্রিতা রাগান্বিত স্বরে বলে
“কি করলেন এটা?
আবরার ঠোঁট উল্টে জবাব দেয়
” তুমিই তো বললে কাছে গাড়ি থামাতে।
এবার কোটি টাকার গাড়ির বাতাস সইতে না পারলে আমার কি করার?
চলবে
“আবরার তাসনিন” ইবুক কিনুন বইটই থেকে।
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৬
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৬
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৯
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)