Golpo romantic golpo অন্তরালে আগুন

অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৫


অন্তরালে_আগুন

পর্ব:৫৫

তানিশা সুলতানা

জজ এবার নওয়ানকে জিজ্ঞেস করে
“আপনার বিরুদ্ধে অনা অভিযোগগুলো কি সত্যি?

নওয়ান নুপুর শিকদারের মুখ পানে তাকায়৷ পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিছু মুহুর্ত।
” আমি নওয়ান তালুকদার। বাংলাদেশের কিং।
সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম আমার। কোনোদিনও কাউকে পরোয়া করি নি। মদ গাঁজা সিগারেট কোনো নেশাই আমাকে ঘায়েল করতে পারে নি।
খারাপ মানুষ আমি। আমার চাঁদের ভাষায় পাপী।
এই পাপী খুব ভালো ছিলো৷ সারাদিন সিগারেট খাওয়া এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ানো, কাউকে ভালো না লাগলে তাকে মারধর করা, আর বাবার পথে যে বাঁধা হবে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়াই আমার কাজ ছিলো। কারো প্রতি কোনো দুর্বলতা ছিলো না, দিনশেষে ঘরে ফেরার তারা ছিল না। ভালোই যাচ্ছিলো সময় গুলো।
হঠাৎ একদিন দেবেন্দ্র কলেজের মাঠে পূর্ব পাশে মসজিদের সামনে দেখতে পেলাম চাঁদকে। তার ঐ রাগী রাগী চোখ দুটো আমার সর্বনাশ করে দিলো। আমি তাকে আঘাত করেছিলাম। তার ওই ডান গালে যে পোড়ার দাগ রয়েছে না? সেখানে সিগারেটে ঠেঁসে ধরেছিলাম। ওর সুন্দর মুখখানা টকটকে লাল হয়ে গিয়েছিলো।
বিশ্বাস করুন ঐদিন প্রথমবার আমার বুক কেঁপেছিলো। অনুভব করেছিলাম আমার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মানতে পারছিলাম না।
তারপর থেকে তাকে দেখতে ইচ্ছে করতো কিন্তু আমি দেখতে চাইতাম না। তবুও কোনো না কোনো ভাবে দেখা হয়েই যেতো। আমার ভালো লাগতো।
৩০ বছরের জীবনে কোনদিনও কোনো নারীকে ছুঁয়ে দেখি নি। নারীর নেশা ছিলো না আমার।
কিন্তু চাঁদকে দেখার পর থেকে সেই নেশাটাও চরা হয়ে উঠলো।
চেয়েছিলাম তাকে আমার জীবনের সঙ্গে না জড়াতে।
কারন সে পবিত্র। আমার সঙ্গে তার যায় না। কিন্তু তার বাবা আমার বাবার সঙ্গে ঝামেলা করলো।
আমি যদি ওকে বিয়ে না করতাম তাহলে ওর পুরো পরিবারকেই শেষ করে দেওয়া হতো।
না চাইতেও আমার সঙ্গে জড়িয়ে গেলো ও।
শুরু হলো আমাদের গল্প।
নুপুর আর নওয়ানের গল্প।
কতো আঘাত করেছি ওকে। কতো বকেছি, ধমকেছি, মেরেছি।
আমার ভালো লাগতো না। ওকে ভালোবাসে ফেলছি এটা মানতে ইচ্ছে করতো না। কেনো ভালোবাসবো আমি?
আর যদি বাসিই তবে স্নেহাকে ছেড়ে ওকেই কেনো?

আমি চাইতাম ও আমার সঙ্গে কথা বলুক, অভিযোগ করুক, আমার কাছে কিছু চাক।
ওর আবদার পূরণ করতে চাইতাম আমি। ওর সঙ্গে অনেকটা সময় কথা বলতে চাইতাম।
কিন্তু সে সবকিছু হত না। ও আমার কাছে কিছুই চাইতো না।
এটার জন্য আরও বেশি রাগ হত আমার।
অবশেষে একদিন ও আমার কাছে আনুকে ফেরত চাইলো। বলেছিলো “আমি জানি আপনিই পারবেন আমার আনুকে ফেরত আনতে”
আমি গিয়েছিলাম আনু আনতে।
কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি আবির আমার বাবার সন্তান।
আমি আমার বাবাকে খুব ভালোবাসি। মায়ের থেকেও বেশি।
মেনে নিতে পারছিলাম না। নিজেকে সামলে আনুকে নিয়ে ফেরত আসার মতো অবস্থা আমার ছিলো না।
আর না চাঁদকে সত্যিটা বলার অবস্থা ছিলো।।
আমি তামিমকে বলেছিলাম আনুকে ফেরত আনতে। কিন্তু তামিম বেইমানি করলো। আনলো না। উল্টে বাবাকে জানিয়ে দিলো।
বাবা ভয় পেয়ে গেলো। ভাবলো তার ছেলে বদলে গিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেবে।
তাই আমাকেই সরিয়ে দিলো। ঢাকায় থাকতে বাধ্য করলো।
বাবার জন্য আমি সব করতে পারি। নুপুরকেও ছাড়তেও পারি। কিন্তু বাবা বোধহয় আমার জন্য সব করতে পারে না।
তাকে আমি বলেছিলাম “বাবা আমি ঢাকায় থাকবো। আনু আর বাকিদের সঙ্গে কি হবে সেসব নিয়ে ভাববো না। কোনো কিছুতে জড়াবো না। শুধু চাঁদকে আমার কাছে এনে দিও। আর কিচ্ছু চাই না”
বাবা কথা দিয়েছিলো। পরে কথা রাখলো না। প্ল্যানিং করলো চাঁদকে সরিয়ে দেবে।
আমি চলে আসলাম ঢাকা থেকে। শুধুমাত্র চাঁদের জন্য।
কিন্তু আমি আসার পরেই বাবা আমার চাঁদকে সরিয়ে দিলো। বিশাল বড় প্ল্যানিং করে ফেলল তাকে আমার জীবন থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য। সেই তামিম একবার বেইমানি করেছিলো সেই আমাকে বাবার প্ল্যানিং এর ব্যাপারে জানায়।
আল্লাহ সহায় ছিলো বলে আমি চাঁদকে খুঁজে পাই। আর তাকে ফিরিয়ে আনতে পারি।
আর সেখানেই আবিরকে দেখতে পাই। ওই আবির আমার চাঁদকে আঘাত করেছিলো। ওই আমার বাবার জীবনে কাঁটার মতো ঢুকেছিলো।
রাগ কন্ট্রোল করতে পারি নি৷ তাই ওকে মে/রে দেই।
বল্টু দেখেছে সব আমিই মে/রে/ছি আবিরকে।

একটুখানি থামে নওয়ান৷ ঘাড় বাঁকিয়ে বাবার মুখ পানে তাকায়।
পরপরই মায়ের পানে। অসুস্থতায় মুখ খানা শুকিয়ে গিয়েছে। বসে থাকতে খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারছে নওয়ান।

“নুপুর চায় আমার শাস্তি হোক।
আমিও চাই আমার শাস্তি হোক।
কিন্তু আমার মা চায় না। সে অসুস্থ। আমাকে ছাড়া সে টিটমেন্ট নিবে না৷
তাই আমি দুটোদিন সময় চাই।
এই দুইদিনে আমি আমার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করবো। আর তার সঙ্গে থাকবো।

” ঠিক আছে
অনুমতি দেওয়া হলো।
তবে বাকি গল্পটা?

নওয়ান সিগারেট চায় পুলিশের কাছে। সিগারেটে দীর্ঘ টান দিয়ে নাক মুখে ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে বলে
“চাঁদ চায় আমার শাস্তি হোক
আমি চাই চাঁদের মনের আশা পূরণ হোক।
ইনোসেন্ট নই আমি। আবার এখন পর্যন্ত কোন নির্দোষ আর প্রাণ নেই নি।
এবার আমার চাঁদকে জিজ্ঞেস করুন সে কি শাস্তি চায়।
যদি বলে আমার ফাঁসি হোক তবে ২০ তারিখ আমার ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হোক।

” ২০ তারিখ কেনো?

“২০শে মার্চ আমার চাঁদের জন্মদিন। বার্থডে গিফট হিসেবে তাকে আমি আমার জানটা উৎসর্গ করতে চাই।

নুপুর বলার মতো কোনো কথা খুঁজে পায় না। অথচ তার অনেক কিছু বলার ছিলো। অনেক অভিমান অভিযোগ জমিয়ে রেখেছিল মনে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply