জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫২
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৫২
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
পুরো কেবিনে তখন পিনপিন নিরবতা।
আদ্রিসের রাগান্বিত রূপ দেখে আদ্রিতা কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।
সে বসে আছে সোফায়।
আদ্রিস তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতাকে অবাক করে দিয়ে আদ্রিস ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে।
আদ্রিতার পায়ের কাছে। আদ্রিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয় সেদিকে।
আদ্রিস নিজের মাথাটা আদ্রিতার কোলে রাখে।
আদ্রিতার কোমল হাত নিজের মাথায় দেয়,
“আই এম টায়ার্ড আদ্রিতা৷”
রুক্ষ, গুরুগম্ভীর প্রকৃতির মানুষটার কন্ঠের হটাৎ পরিবর্তন দেখে আদ্রিতা বেশ বিভ্রান্ত হয়।
তবে সে আদ্রিসের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগে।
আদ্রিস হুট করেই মাথা তুলে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
আদ্রিতার ঘাড়ে চুমু খায় বেশ কয়েকটা।
আদ্রিতা কোন বাঁধা দেয়না।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস ওই অবস্থায় থেকেই বলে,
“কেন জ্বালাস এত? তোর কি আমাকে শান্তি দিতে মন চায় না? আমি তোর জন্য এত দুর্বল কেন নিজেও জানিনা।
কিন্তু আমি দুর্বল। তোর জন্য দুর্বল। ভীষণ দুর্বল আদ্রিতা। আমার দিকটা একটু বোঝ। আমি যেটা বলি সেটা কর। আমাকে রাগাস না৷”
আদ্রিসের কথায় লুকিয়ে থাকা মায়া আর ওর কাঁপা কন্ঠ শুনে আদ্রিতার মনটা নরম হয়ে যায়৷
সে আদ্রিসের পিঠে হাত রেখে বলে,
“সরি, আমি চেয়েছিলাম আপনাকে সারপ্রাইজ দিব। কিন্তু ভাবিনি আমি নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে যাব।
এরপর আপনার থেকে পারমিশন না নিয়ে আমি কোথাও যাবনা৷”
আদ্রিস মৃদু হেসে আদ্রিতার গালে চুমু খায়,
“সরি জান, একটু চিল্লিয়ে ফেলেছি যে৷”
আদ্রিতা, দু হাতে আদ্রিসের হাতটা ধরে সেখানে চুমু খায়।
“ইট’স ওকে৷”
আদ্রিস হাসে। আদ্রিতাও বদলে হাসে।
এমন সময় কেবিনের দরকায় কেউ নক করে।
আদ্রিস ফিরে তাকায়,
“কম ইন৷”
আদ্রিসের পারমিশন পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে সায়ের এবং মিরা।
আদ্রিতা উঠে দাঁড়ায়।
মিরা এগিয়ে যায়।
“কিরে আদ্রিতা এখানে কিভাবে এলি? আমিত তোকে না পেয়ে ভয় পেয়ে গেছিলাম।”
মিরার প্রশ্নের প্রতিত্তোরে আদ্রিস বলে,
“আপু এরপর থেকে কোথাও নিয়ে গেলে একা ছাড়বে না প্লিজ। ও যেখানে যায় সেখানেই কোন কোন ঝামেলা করে।”
“ও মাহ এখানে আবার কি ঝামেলা করেছিস আদ্রিতা?”
“তেমন কিছুই করিনি৷”
আদ্রিস আড় চোখে তাকায় আদ্রিতার দিকে।
সায়ের ওদের সবাইকে থামিয়ে বলে,
“আচ্ছা আচ্ছা হয়েছে। প্লিজ আমরা কি খাবারটা খেতে পারি লাঞ্চ ব্রেক শেষের পথে।”
“ওকে৷”
সবাই এক সাথে বসে লাঞ্চ শেষ করে।
সায়ের, লাঞ্চ শেষে হাত ধুয়ে এসে বসে,
“আদ্রিস একটা আবদার করব?”
সায়েরের থেকে আবদারের কথা শুনে আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়। সায়েরত এত সহজ নয়৷
সায়ের, আদ্রিসকে ভ্রু কুঁচকে তাকাতে দেখে গলা পরিষ্কার করে,
“খুহুম। এভাবে তাকাচ্ছিস কেন? আমিত ভালো করেই বললাম৷’
” কি বলো!”
“মিরাকে নিয়ে আমি একটু বের হতে চাই। বেশি না ২ ঘন্টা সময় দে আমি ফিরে আসব৷”
আদ্রিস দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বড় ভাই আবদার করেছে না মেনেও কোন উপায় নেই।
“ওকে যাও৷ আর এই বিচুটি পাতাকে ড্রাইভারের সাথে পাঠিয়ে দাও।”
আদ্রিতা রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকায় আদ্রিসের দিকে,
“কিহ আমি বিচুটি পাতা?”
আদ্রিস পানির গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলে,
“তার থেকেও ভয়ানক।”
আদ্রিতা নাক ফুলিয়ে সায়েরের দিকে হেঁটে যায় বাচ্চা দের মত করে,
“ভাইয়া দেখেছো কি বলল?’
সায়ের হাসতে হাসতে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
” বকে দেব বাড়িতে গিয়ে৷’
“বেশি করে বকবা ওকে?’
” ওকে৷”
এরপর সায়ের এবং মিরা, আদ্রিতাকে গাড়িতে উঠিয়ে দেয়।
আর ওরা দু’জন চলে যায় ঘুরতে।
আদ্রিস অফিসে বসেই নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
আদ্রিতার গাড়িটা খুব সাবধানে এগোচ্ছিলো।
রাশিয়া আদ্রিতার চেনা নয়। সেই দিন যে এয়ারপোর্ট থেকে মেনশনে গেছিলো এরপর আর বের হওয়া হয়নি।
রাস্তা চেনারত প্রশ্নই ওঠেনা।
তবে বাড়িতে যেতে একটা রাস্তা আছে যেটা দু দিকে বিভক্ত হয়ে যায়।
সে রাস্তার দু পাশে দু’টো কটন ক্যান্ডির দোকান।
আদ্রিতার মনে আছে তাই রাস্তাটা৷
মিরা বলেছিলো ফেরার সময় তারা কটন ক্যান্ডি কিনবে।
কিন্তু এই দু রাস্তার মোড়ে এসে ড্রাইভার উল্টো রাস্তায় গাড়ি প্রবেশ করায়।
যা দেখে আদ্রিতা প্যানিক করে ওঠে,
“কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে? এটাত বাড়ির রাস্তা৷”
আর কিছু বলতে পারলো না আদ্রিতা তার আগেই তার সামনে লোকটা একটা ধারালো চা*কু সোজা করলো।
আদ্রিতার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। ড্রাইভার গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“চুপ, চুপ না হলে এখনি মেরে ফেলব কেউ টেরও পাবেনা৷”
আদ্রিতা ভয় পেয়ে যায় ভীষণ।
সে কি করবে তাড়াহুড়ো করে ফোনও আনেনি সাথে করে।
কিছুই বুঝতে পারছে না সে। ড্রাইভার গাড়িটা ঘুরিয়ে একটা বিশাল মেশিনের সামনে এনে দাঁড় করায়।
আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
গাড়ি থামতে একজন গার্ড এসে দরজা খুলে বলে,
“বাহিরে আসুন ম্যাম।”
আদ্রিতা কিছুই বুঝতে পারছে না।
সে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“এটা কোথায়? আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?”
“বসের অর্ডার ছিলো ম্যাম প্লিজ ভেতরে আসুন।”
আদ্রিতা লোক গুলোর হাতের ধারালো অস্ত্র দেখে বেশি প্রশ্ন না করে নেমে দাঁড়ায়।
অনেক গুলো গার্ড থাকলেও কেউ তাকে স্পর্শ করেনি। সবাই তার থেকে অনেকটা দুরত্ব বজায় রাখছে।
আদ্রিতা সাহস পায়। কিছু একটা করা যাবে। আদ্রিতার মনে এখন জোর আছে। সে কোন সাধারণ মেয়ে নয়। আদ্রিসের স্ত্রী। সায়েরের বোন।
আদ্রিতা হেটের ভেতরে চলে যায়।
লিভিং রুমের কাউচে বসার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে।
সে নির্দেশ মত কাউচের উপর বসে।
এরপর গার্ড’স সেখান থেকে চলে যায়৷
আদ্রিতা ঘাড় ঘুরিয়ে চারিদিকে পর্যবেক্ষণ করে।
বেশ সৌখিন মানুষের মেনশন এটা।
প্রতিটা জিনিস নিখুঁত। একে অন্যের পরিপূরক বলে মনে হচ্ছে।
আদ্রিতা এসব ভাবছিলোই এমন সময় ফ্লোরে কারোর পদধ্বনি শোনা গেলো।
ঠক ঠক করে বাজতে লাগলো সেই শব্দ।
আদ্রিতা আওয়াজ অনুসারণ করে সেদিকে তাকায়।
প্রাপ্তবয়স্ক, লম্বা আর সুঠাম গড়নের এক পুরুষ।
ঘাড়ে আর হাতের পিঠে খোদাই করা ট্যাটু।
পরনে কালো শার্টের ওপর কালো কোট, আর ফরমাল ট্রাউজার।
লোকটা এগিয়ে এসে আদ্রিতার সামনে দাঁড়ায়।
আদ্রিতা ছোট ছোট চোখ করে তাকায় লোকটার দিকে।
“ডু ইউ নো হু আই এম?”
প্রশ্নটা শুনে আদ্রিতা খানিকটা অবাক নয়নে তাকায়। তার মুখভঙ্গিতে বিভ্রান্তি স্পষ্ট। গোলাকার বিস্তৃত চোখদুটি, ভীষণ মায়াবী দেখাচ্ছে।
টোটোর চাহনিতে নেশা স্পষ্ট। ওই মায়াবী চোখ দু’টো তাকে টানছে। ভয়ঙ্কর ভাবে কেপে উঠছে বুকের ভেতরটা। এতটা ধুকপুকানি তার হৃদয়ে আগে কখনো অনুভব করেনি।
টোটো জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজায়,
“আহ, ডোন্ট লুক এট মি লাইক দিস৷”
আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে নেয়।
টোটো আদ্রিতার সানে ফ্লোরে হাঁটু ভাজ করে বসে,
“আদ্রিস, তোমার হাসবেন্ড? “
“জি!”
আদ্রিতার জি কথাটা শুনে টোটো বুকের পা পাশে হাত রাখে। ব্যথা পাবার মত মৃদু আওয়াজ করে ওঠে,
“আউচ।”
আদ্রিতা তখনো বোঝার চেষ্টা করছে পরিস্থিতি। এমন সনয় টোটো আবার বলে ওঠে,
“আমার নাম টোটো। হয়ত আমার করা কর্ম কান্ডে তুমি ভয় পেয়ে গেছো। তার জন্য দুঃখিত।
আমি আমার ড্রাইভার কে দিয়ে তোমায় তোমার মেনশনে পৌঁছে দিয়ে আসছি৷
প্লিজ আমাকে ভুল বুঝো না।”
কথাটা বলে টোটো উঠে দাঁড়ায়।
“ইউ ক্যান গো মিসেস আদ্রিতা। বাট আই প্রমিজ ভেরি সুন, উই উইল মিট এগেইন, এন্ড এগেইন।”
আদ্রিতা ভেতরে ভেতরে ভয় পেলেও সেটা নিজের চেহারার হাব ভাবে বুঝতে দেয়নি।
আদ্রিতা যখন বেরিয়ে আসে তখন দেখতে পায় সেই ড্রাইভার টা আর নেই। অন্য একজন ড্রাইভার।
আদ্রিতা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভাবে তার কি করা উচিত।
অনেক ভাবার পর সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতে উঠে বসে।
আদ্রিতার সমস্ত কর্মকাণ্ড ভেতর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলো টোটো।
আদ্রিতার গাড়িটা ছেড়ে দিলে সে বাঁকা হাসে,
“ইউ মেড মি ক্রেজি ডার্লিং। আমি শুধু তোমাকে কাছ থেকে দেখতে চেয়েছিলাম। তবে তৈরি থাকো পরবর্তীতে এর থেকেও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করব আমি।”
মিনিট ১৫ ড্রাইভ করার পর আদ্রিতা পৌঁছে যায় মেনশনে।
আদ্রিতা গাড়ি থেকে নেমে এক সেকেন্ডও দেরি না করে ভেতরে চলে যায় দৌড়ে।
আদ্রিতা চলে গেলে ড্রাইভার টোটোকে কল করে। দুই রিং হতে টোটো কল তুলে নেয়,
“হ্যালো৷”
“বস ম্যাম চলে গিয়েছে।”
“ওকে ফিরে আয়। আদ্রিসের ক্যামেরা হতে সাবধান।”
“ওকে বস৷”
ড্রাইভার কল কেটে গাড়ি ঘোরায়।
আদ্রিতা ভেতরে গিয়ে দ্রুত নিজের রুমে চলে যায়। মিসেস মিহু তখন নিজের রুমে রেস্ট করছিলেন। তাই আদ্রিতা এসেছে কি না সেটা তিনি খেয়লা করেন নি।
আদ্রিতা রুমে গিয়ে দেখে বিছনার উপর থাকা ফোনটা ক্রমশ ভাইব্রেট করছে।
আদ্রিতা দ্রুত এগিয়ে যায়।
ফোনের স্ক্রিনে আদ্রিসের নাম্বার ফ্লাস হচ্ছে।
আদ্রিতা কাপা হাতে ফোনটা তুলে নেয়। ফোন তুলতেই অপর দিক থেকে ভয়ঙ্কর এক হুঙ্কার ভেসে এলো,
“কুত্তার বাচ্চা। কতক্ষণ যাবত কল করছি তোকে? ১৫ মিনিট আগে তোর বাড়িতে পৌছানোর কথা।
কোথায় গেছিলি ফোন রেখে? ফোন তুলবি না যখন রেখেছিস কেন? ডাস্টবিনে ফেল।”
আদ্রিতার অন্তত কেঁপে ওঠে আদ্রিসের হুঙ্কার শুনে।
ভয়ে তার সাথে ঘটা ঘটনা সম্পর্কে বলতে পারেনা।
সে কিছু বলবে তার আগেই আদ্রিস ফের বলে,
“কথা বলছিস না কেন? বোবা হয়ে গেছিস নাকি?”
“স সরি ওয়াসরুমে ছিলাম।”
“তোর ওয়াসরুমে গুলি মারি হারামি। জানিস আমার কি পরিমাণ চিন্তা হচ্ছিলো? আর একবার ফেন না তুললে আমি নিজেই চলে আসতাম বাড়িতে।’
” সরি ভুল হয়ে গেছে।”
আদ্রিস শান্ত হয়। সত্যি সে ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিলো। মাথার ভেতর হরেকরকম উল্টো পাল্টা খেয়াল আসছিলো।
ফ্রাস্ট্রেশনের ঠেলায় সমস্ত রাগ আদ্রিতার উপর ঝেড়ে দিলো।
খানিকটা শান্ত হয়ে আদ্রিস বলে,
“যা করবি করবি আদ্রিতা। আমাকে ইনফর্ম করিস। আই এম ওয়ারিড এবাউট ইউ৷
ইউ আর মাই পিস আদ্রিতা।
ইউ আর মাই বিগেস্ট উইকনেস।
আমার শত্রুর নজর শুধু তোর উপর।”
“সরি। আর হবেনা৷”
“ওকে।”
আদ্রিস কল কেটে দেয়।
আদ্রিতা বসে পড়ে ফ্লোরে। হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়েছে অস্বাভাবিক ভাবে। এই মুহুর্তে তার কি করা উচিত।
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২০
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৮
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩১