অ্যারেঞ্জম্যারেজ২ — ৬ পর্ব
অবন্তিকা_তৃপ্তি
শোয়েব সায়মার রুমে আছে এইমুহূর্তে। সায়মা বিছানার উপর বসে কাকে কল লাগাচ্ছে, হন্তদন্ত হয়ে রীতিমত। শোয়েব সেই কখন থেকে হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে সোফার উপর মাথাটা নিচু করে কঠিন মুখে বসে আছে। রাগে হঠাৎ কিরমির করে মাথা তুলে সায়মাকে দেখেই অসহায় হয়ে যাচ্ছে আবার, পরপর আবার মাথাটা নামিয়ে বসে থাকছে। সায়মা শেষঅব্দি রিহাদকে ভয়েজ নোট পাঠালো,
-রিহাদ; আমি আশা করেছিলাম এক্স ওয়াইফ হিসেবে মিনিমাম রেসপেক্ট তুমি আমাকে দিবে। অথচ তোমার মতো নোংরা, জঘন্য একটা মানুষের কাছে এটুকু আশাও বেশি হয়ে গেছে বোধহয়। তোমার কাছে আমি খারাপ নাহয় মানলাম। শোয়েব তো না? ওর লাইফ কেন নষ্ট করে দিচ্ছো? তুমি কি উল্টাপালটা বলে এসেছ ওদের কাছে আমি জানিনা। তবে নেক্সট টাইম আমি এসব শুনলে পুলিশে কেস করব অবশ্যই, এবং করবই। তখন আমি আমার ভাইয়ের বোন হিসেবে তোমার বিপক্ষে থাকব,তোমার এক্স ওয়াইফ নয়। মনে রেখো কথাটা।
সায়মা ভয়েজ নোটটা সিন হলেও, রিহাদের পক্ষ থেকে সাথেসাথে সায়মাকে ব্লক করে দেওয়া হলো। সায়মা ফোনটা ছুড়ে ফেলে রাগে বিছানার উপর। শোয়েবের দিকে চেয়ে দেখে একবার। শোয়েব মাথাটা নামিয়ে শুনে যাচ্ছে। সায়মা ভয় পাচ্ছে, কোনোরকম কথা বলতে চাইল—-
‘তুই. .শোয়েব. . তিতলির সাথে একবার ডিসকাস কর এ ব্যাপারে নাহয়। মেয়েটা বুঝদার, বুঝবে আমাদের পরিস্থিতি।’
শোয়েব মাথাটা তুলে তাকাল এতক্ষণে। সায়মা অবাক হয়— শোয়েবের দুই চোখ মারাত্মক লাল। শোয়েব উঠে দাঁড়াল সোফা থেকে, সায়মার দিকে চেয়ে ধীর পায়ে কিছু না বলে এগিয়ে এলো। মেডিসিন বক্স বের করে সায়মার ঔষুধ বের করে দিল সায়মার দিকে। সায়মা মাথা তুলে লম্বা-উঁচু ওর ভাইটাকে দেখল। পরপর খেলো ঔষুধ চুপচাপ। শোয়েব বাতি নেভাল; সায়মার বালিশ ঠিক করে দিয়ে স্থবির কণ্ঠে বলল———‘ঘুমাও আপু। প্রেশার হাই হচ্ছে তোমার।’
সায়মা বলতে চায়—-‘তুই একবার কথা বলে দেখনা শোয়েব।’
শোয়েব সায়মাকে বালিশে শুইয়ে দিতে দিতে বলল——-‘কথা বলার আর কিছু নেই আপু।ওরা ওদের সিদ্ধান্ত আমাদের দুজনের কথা বলাতে চেঞ্জ করবে না। আর বিয়ে হলে হবে না হলে না হবে। আমার কপালে তিতলি থাকলে; ও আসবে। ঘুমাও তুমি। রাতে মনে অশান্তি করলে আমাকে ডাকবে।’
সায়মাকে ঘুমাতে দিয়ে শোয়েব আলগোছে দরজা আটকে বেরিয়ে নিজের রুমে এলো।
——
পায়রানিবাসে
এইমুহূর্তে অনেক অশান্তি হচ্ছে। পায়রা বেগম অস্থির হয়ে এ-ওকে কল দিয়ে শোয়েব ও তার বোনের ব্যাপারে যতটুকু পারছেন আরও গভীরে গয়ে খোঁজ করছেন। ওদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে বলে কথা— এভাবে এগুলো শুনে তো আর দিয়ে দেওয়া যায়না।
তিতলি এক কোণে এতক্ষণ ধরে চুপ করে দাড়িয়ে ছিলো। পায়রা বেগমের অস্থিরতা আর ওর বাবার একের পর এক কল দেখে তিতলির খুব বিতৃষ্ণা লাগছে। তেতো হয়ে আসছে মুখের ভেতরটা। তিতলি দাড়িয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ ওর ফোনে শোয়েবের কল এলো। তিতলি কলটা একবার দেখেই আলগোছে মা-বাবার রুম থেকে বের হয়ে নিজের রুমে এলো। কলটা কেটে গেছে ততক্ষণে।
তিতলি কল ঘুরানোর আগেই মেসেজ পেল শোয়েবের,
~ খবরদার তিতলি, এনগেজমেন্টের রিং খুলে ফেলার আগে , We can talk! So recieve my damn call, titli…’
তিতলি হতাশ শ্বাস ফেলে কলটা ব্যাক করল। শোয়েব ওপাশ থেকে কল রিসিভ করেই শুরুতে কঠিন কণ্ঠে বলল——‘আংটি খুলে ফেলেছ?’
তিতলি ভ্রু কুচকায়, পরপর শান্ত স্বরে জবাব দিল——‘না।’
শোয়েবকে একটু হলেও এখন শান্ত হতে দেখা গেল। শোয়েব এবার একটু স্থির হয়ে বসে বিছানায়। তারপর প্রশ্ন করে——‘বাসায় ঝামেলা হচ্ছে তোমাদের মেইবি?’
তিতলি শান্ত কণ্ঠে, ——‘হু। আম্মু খুব প্যানিক করছে।’
শোয়েব বুঝে——-‘করাটাই স্বাভাবিক। একমাত্র মেয়ে তুমি উনাদের। আর ওই বাস্টার্ড যেভাবে তোমাদের মাথা ওয়াশ করেছে. .প্যানিক করবেই, নরমাল।’
তিতলি চোখ বুজে শ্বাস ফেলে——-‘গালি দিবেন না প্লিজ, আপনার মুখে গালি শুনে আমি অভ্যস্ত নই।’
শোয়েব সাথেসাথে রুড় কণ্ঠে বলে উঠে———‘আই সয়ার তিতলি, .আমি আমার লাইফ এই একটা মানুষকেই দুনিয়ার সবরকম গালি দিয়েছি। যতপ্রকার নোংরা গালি আমি শিখেছি সব এই ওটাকেই দিয়েছি। ওই ফালতু. . কুত্তার বাচ্চা আমাদের দুই ভাই-বোনের লাইফ হেল করে এখন আসছে ভিকটিম প্লে করতে না? আমার আম্মু অব্দি এর জ্বালা দেখে মরেছে। আমিও এভাবেই মরব। ব্লাডি. **!’
তিতলি থামায় অস্থির শোয়েবকে——‘থামুন। প্লিজ! আমার কানে বাজছে এগুলো গালি।’
শোয়েব থামে, একপল থেমে শোয়েব কাপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে———-‘হোয়াট এবাউট ইউ তিতলি?’
‘কি?’
‘তুমি . .তুমি. .তোমার কি ধারণা? আমরা দুই ভাই-বোন জংলি? যেমনটা তোমার মামা বলেছে?’
শোয়েব জিজ্ঞেস করে থামে। তিতলি বলল———-‘আমি জানিনা আসলে! আমি কাকে বিশ্বাস করবো। আপনাকেও বা চিনি কদ. . .!’
‘ফাইন। রিং খুলে ফেলিও তাহলে।’ —— শোয়েব সাথেসাথে কল কেটে দিল।
ওদিকে তিতলি আহাম্মক হয়ে ফোনের দিকে তাকাল। পুরো কথা না শুনেই কল কেটে দিল। এতবড় সাহস? তিতলিকে ইগো দেখাচ্ছে? ইগো বের করবে তিতলি এই লোকের. ফালতু একটা। তিতলি মেসেজ করে,
~ দুই সেকেন্ডের ভেতরে আপনি আমাকে কল ব্যাক না করলে আমি আপনার সাধের রিং খুলে আপনার বাসায় আপনারই মুখের উপরে ছুড়ে ফেলব। চিনেন না আমাকে।
শোয়েবের কল এরপরই এলো। শোয়েব কল দিয়ে চুপ করে বসে থাকল। তিতলি কঠিন মুখে জিজ্ঞেস করে———-‘কলটা কেটেছিলেন কেন? কথা বলছিলাম না আমি?’
শোয়েবও উত্তর দিল———‘কি বলবে বোঝা আছে আমার। গাধা না আমি।’
তিতলি এবার চেঁচিয়ে উঠে———-‘আপনি একটা গাধাই। এমবিবিএস পড়া ব্রেইনওয়ালা গাধা। আজকে এই লাস্টবার, নেক্সট টাইম মুখের উপর কল কাটলে আমি আপনার খবর করে দিব একদম।’
শোয়েব অবাক হলো———‘এই মেয়ে? তুমি আমাকে চেনো কদিন? এত উঁচু গলায় চেচাচ্ছ? আমরা কিন্তু বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম না। তুমি এভাবে আমার উপর চেচাতে পারো না। আমি বড় হই তোমার।’
তিতলি রেগে যায়, আবার চেচালো———‘চেচাবই। একশবার চেচাবো।কি করবেন আপনি?হ্যাঁ? বিয়ে করছি আমরা। আর আমার বর আমার উপর এসব গাধামি-ফাদামি করবে এসব আমি টলারেট করব না একদমই, স্ট্রিক্ট হব নেক্সট টাইম।’
শোয়েব মিইয়ে যায়——-‘বিয়ে করবে মানে?’
তিতলি নিজেকে শান্ত করে———‘হ্যাঁ করব বিয়ে।’
—-‘কেন? বিয়েটা ভেঙ্গে দেওয়ার জন্যে কত ট্রাই করলে। এখন তো ভালোই অজুহাত পাচ্ছো এখন, তিতলি! ভেঙেই দাও এবার বিয়েটা।’
শোয়েবের কণ্ঠে প্রচণ্ড রাগ! তবুও ও ঠান্ডা কণ্ঠে কথাগুলো বলল। তিতলি ঢোক গিলে। চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস ফেলে ডাকল অতিষ্ট কণ্ঠে, নাম ধরে প্রথমবারের মতো,
‘শোয়েব. .! আমি বলি কিছু? প্লিজ একটু শুনেন, আমার খুব ক্লান্ত লাগছে এসবে।’
শোয়েব থামে একপল! ওর বুকটা কাঁপছে! তিতলি ওকে নাম ধরে ডাকল?
শোয়েব একহাতে বালিশ নখ দিয়ে খামচে বড্ড স্থির কন্ঠ ওর ——-‘ওকেহ, শোনাও।’
তিতলি শান্ত কণ্ঠে বলে যায়———‘আপনি আসুন আমাদের বাড়ি। আম্মু-বাবার সাথে নিজে আপনার আর আপুর প্রবলেম নিয়ে কথা বলুন। আর আমি আছি তো, ব্যাকআপ হিসেবে আপনার সাথে থাকবো আমি।’
শোয়েব শোনে। তিতলি জিজ্ঞেস করল আবার——‘উত্তর দিন, আসবেন?’
শোয়েব হঠাৎ এটার উত্তর না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করে——-‘কি ব্যাপার বলো তো তিতলি? আজ হঠাৎ বিয়ে ভাঙার বদলে বিয়ে করার চেষ্টা চালাচ্ছো? আমি তো ইয়াং হয়ে যাইনি, তোমার মতে বুড়োই আছি এখনো। বিয়েতে এত আগ্রহ তোমার? আশ্চর্য হচ্ছি আমি, তিতলি।’
তিতলি থেমে গেল। শোয়েবও থামে: দুজনের কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। দুজন স্রেফ দুজনের নিঃশ্বাস শুনে। শোয়েব ফোনটা কানে নিয়ে বারান্দায় গেল। বাতাস গায়ে মাখতে মাখতে একদম আচমকা বলে উঠে————‘তুমি আমাকে পছন্দ করা শুরু করে দিয়েছ, তিতলি।’
তিতলি থামে; হঠাৎ আয়নায় ও নিজেকে দেখে। অস্ফুটে বলে বসে———-‘এত তাড়াতাড়ি? অ. .অসম্ভব!’
শোয়েব হাসে———-‘কিন্তু আমি শোয়েব আর তুমি তিতলি বলেই এই অসম্ভবটা সম্ভব হয়ে গেছে।’
তিতলি আর কথা বলতে পারেনা। চুপচাপ বাই বলে ফোনটা কেটে দিল।
চলবে
প্লিজ সবাই একটু মন খুলে রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন আজকে। পেইজের রিচ একদমই নেই।
নেক্সট পর্ব পরশু আসবে।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩
-
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ১৩
-
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৩
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১
-
অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ গল্পের লিংক
-
ডেনিম জ্যাকেট গল্পের সকল পর্বের লিংক