#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৯০]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
[দ্বিতীয় খন্ড]
রাত তখন বারোটা ছুঁই ছুঁই। কৃষ্ণবর্ণের অন্ধকারের গাঢ় আবরণে সমগ্র পৃথিবী নিমজ্জিত। তমসার নিবিড় বিস্তার চারিদিকে গ্রাস করে নিচ্ছে। সমগ্র এহসান মঞ্জিল যেন সেই অন্ধকারে স্তব্ধ , নিশ্চুপ। গোপন পায়ের ক্ষীণ আওয়াজে, শুধুমাত্র ফোনের মৃদু আলোকরেখাকে পথপ্রদর্শক করে কিচেনে এসে দাঁড়িয়েছে রমণী। অনুসন্ধিৎসু স্পর্শে খুঁজে সুইচ টিপে আলো জ্বা’লায় ।
প্রকৃতি তখন উন্মা’দ। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। টুপ টুপ শব্দ তুলছে। কিচেনের আলো জ্বলে উঠতেই ভরা পেট চেপে ফ্রিজের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো রমণী। হাতড়ে হাতড়ে বের করে আনে পছন্দের খাবারটি। চক্ষু জোড়া জ্বলজ্বল করছে কন্যার।
বিছানা হাতড়ে পাশের মানুষটিকে না পেয়ে চট করে উঠে বসলো আফরিদ। চারি দ্বারে দৃষ্টি বুলিয়ে ন্যান্সির কোনো সন্ধান না পেয়ে অন্তরের অন্তঃস্থলে অজ্ঞাত আতংকের বিষ দাঁত গেঁথে বসল। হৃদপিন্ড যেন অস্বাভাবিক তালে কাঁপছে তার।
“অ্যাঞ্জু? অ্যাঁই আঞ্জু কোথায় তুই?”
নিস্তব্ধ, নিঃসাড়, উত্তরহীন কেউ টু শব্দটি করলো না। বিছানা ছেড়ে সর্বপ্রথম ওয়াশ রুমে হানা দিলো আফরিদ। না নেই মেয়েটা ওখানে। কপাল বেয়ে নোনা জলের ক্ষুদ্র কণা জমেছে। আফরিদ ত্রস্ত পায়ে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে এলো। করিডোর পার করার সময় হঠাৎ দৃষ্টি পড়ল নিচতলায় প্রজ্বলিত আলোর দিকে। এক মূহুর্ত বিলম্ব না করে দ্রুত সেদিকটায় ছুটল আফরিদ।
কিচেনে আসতেই উৎকন্ঠিত প্রাণে একটুকরো প্রশান্তির স্রোত বয়ে গেল। মন স্বস্তি পেলো। প্রাণপাখিটা যেনো ফিরে পেলো।
ভয়ের রেশ কেটে গিয়ে চোখের তারায় দেখা দিলো মুগ্ধতা।
চামচের মৃদু নাড়াচাড়ায় নিমগ্ন রমণী, প্রিয় চকোলেট আইসক্রিমের প্রতিটি গ্রাসে আবেশমগ্ন। তৃপ্তির অপার্থিব ছোঁয়ায় তার পল্লব ভারী হয়ে আসছে, যেন প্রতিটি স্বাদে সে ডুবে যাচ্ছে এক নিভৃত আনন্দলোকে। নিজের অজান্তেই যে সে কারো হৃদয়ে মুহূর্তের জন্য তুফান তুলে দিয়েছিল, সে বিষয়ে তার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তার উদর স্ফীত সেই ক্ষুদ্র পরিসরে ধারণ করে আছে নতুন জীবনের সূচনা, আফরিদের অস্তিত্বের এক অংশ, যা ধীরে ধীরে পরিণতির দিকে অগ্রসরমান।
আফরিদ ধীর, মেপে রাখা পদক্ষেপে এগিয়ে এসে নিম্নস্বরে প্রশ্ন করল, “
“কি করছিস?”
অপ্রত্যাশিত উপস্থিতিতে চমকে উঠল ন্যান্সি। আতঙ্কের আকস্মিক অভিঘাতে তার হাত থেকে চামচটি ছিটকে পড়ল মেঝেতে, আর নিস্তব্ধ রাতের বুকে সেই ক্ষুদ্র শব্দটিও অস্বাভাবিক তীব্রতায় প্রতিধ্বনিত হলো।
অতর্কিতে বলে ওঠে,
“আসলে আমি… আমার আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছিল,তাই আর কি! সরি।”
ওই আদুরে মুখটার দিকে যে ঠিক কতক্ষন আফরিদ চেয়ে ছিলো জানা নেই তার। ভেতরে ভেতরে প্রশান্তি বয়ে যায় তার। খোদা তায়ালার কাছে আজ পর্যন্ত কিছুই চায়নি সে। হয়তো রবের উপর কোনো কারণে খুব অভিমান করেছে সে। শেষবার কেঁদেছিল একজনকে চেয়ে কিন্তু সেও রইল না। আজ আফরিদ এহসান রবের নিকটে মনে মনে হাজারবার শুকরিয়া আদায় করে চলেছে। এমন একটি নারী তার জীবনে তোওফা দেওয়ার জন্য।
নীরব আবেগে আবিষ্ট হয়ে সে এগিয়ে এল কিচেন কাউন্টারের কাছে। গ্রীবা সামান্য নত করে, অকস্মাৎ কোমল স্পর্শে ন্যান্সির গালে এঁকে দিল এক স্নিগ্ধ ।
ওমনি আঁতকে উঠে ন্যান্সি। ন্যান্সি কে ওমন ভাবে পেট চেপে ধরতে দেখে অস্থির হয়ে উঠে আফরিদ। অতর্কিত ভাবে বলল,
“এই এই কি হয়েছে তোর? কষ্ট হচ্ছে জান?”
“আপনার সন্তান কিক মারছে!”
আফরিদের মতো শক্তপোক্ত পুরুষ কেঁপে উঠলো, ন্যান্সির পেটে হাত স্পর্শ করায়। বিদ্যুতের ন্যায় কম্পিত হলো পুরুষটির দেহ। এসব তার জন্য সত্যি নতুন। এসবের সঙ্গে পরিচয় ঘটছে আজ।
আফরিদ জড়ানো কন্ঠে বলে,
“আমার অংশ।”
ন্যান্সি মুচকি হাসলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে হাতের উপর দৃঢ় চাপ প্রয়োগ করে বলল,
“আমাদের অংশ।”
আফরিদ হাঁটু গেড়ে বসে ন্যান্সির সামনে। পরপর ওই স্ফীত উদরের দিকে চেয়ে বলল,
“ক্যান আই কিস হার?”
ন্যান্সি ছলছল চোখে তাকায় আফরিদের মুখপানে।
“ইয়েস।”
আফরিদ ন্যান্সির ভরা পেটে ঠোঁট ছোঁয়ায়। এটা তার অস্তিত্ব,তার অংশ। তার ভালোবাসার প্রতীক। সে আসলে তাকে পাপা বলে সম্বোধন করবে।
দ্বিতীয় বারের মতো সন্তান কিক করলো।
ন্যান্সি শব্দ করে হেসে উঠল,
“আপনার ছেলে কিক করছে একটু পরপর।”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো, ফিসফিসিয়ে বললো।
“দেখতে হবে না কার ছেলে?”
ন্যান্সি চোখ পাকিয়ে তাকালো, আফরিদ উঠে দাঁড়ালো, ন্যান্সির কপালে অসংখ্য চুমু খেলো।
এবেলায় তার গোলাপী রঙা ঠোঁট জোড়া টানছে আফরিদ কে।
“জান,শ্যাল আই?”
ন্যান্সি পিঠ বাঁকায়।
“মোটেও না।”
আলতো স্পর্শে ওই গালটা ছুঁয়ে বলে,
“প্লিজ জানকি বাচ্চা।”
অদূরে আঁধারে লুকানো আরো একটি মেয়েলি অস্তিত্ব তাদের দিকে চেয়ে আছে। ভয়ংকর তার চাহনি।
___________________
অসহ্য যন্ত্রণা দহনজ্বা’লায় ছটফট করছে ন্যান্সি যেন প্রতিটি শ্বাস তার অস্তিত্বকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অস্থির পদচারণায় দিশেহারা আফরিদ; বুকের অন্তঃস্থলে এক অজ্ঞাত শূলবিদ্ধ ব্যথা ক্রমেই তীব্রতর হয়ে উঠছে। সন্তান না, সে সন্তানের প্রত্যাশী নয়; তার সমস্ত আকাঙ্ক্ষা একমাত্র তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে ঘিরেই। সেই খ্রিস্টান রমণীটিকে ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচার কথা সে কল্পনাও করতে পারে না। তার অনুপস্থিতি মানেই উন্ম’ত্ততার অতল গহ্বরে নিমজ্জন।
অপারেশন থিয়েটারের অভ্যন্তর থেকে ভেসে আসা প্রতিটি আর্তচিৎকার যেন আফরিদের হৃদপিণ্ডকে পাঁজর ভেদ করে বেরিয়ে আসতে উদগ্রীব করে
তোলে।
শ্বাসরুদ্ধকর এক যন্ত্রণার আবর্তে সে বন্দী। তার এই অস্থিরতা লক্ষ্য করে মাইমুনা এহসান ধীরপদে এগিয়ে এলেন; স্নিগ্ধ স্পর্শে ছেলের কাঁধে হাত রেখে মৃদুস্বরে উচ্চারণ করলেন,
“কাম ডাউন, আফরিদ। এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।”
কিন্তু অন্তর্লীন যন্ত্রণার সেই অব্যক্ত অভিঘা’ত সে কিভাবে প্রকাশ করবে? সেই ভোঁতা, অথচ সর্বগ্রাসী বেদনা তার সমগ্র সত্ত্বাকে গ্রাস করে নিচ্ছে।
ঈশান, তিতলি, স্মাইলি, ইদ্রান প্রত্যেকেই উদ্বেগের ভারে ন্যুব্জ, নিঃশব্দ উৎকণ্ঠায় স্থির হয়ে আছে।
হঠাৎই নিস্তব্ধতা ভেঙে নবজাতকের তীক্ষ্ণ কান্নাধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো চারিদিকে যেন জীবনের নতুন ঘোষণা। সফেদ চাদরে ঢেকে এক নার্স শিশুটিকে বক্ষে আগলে বাইরে এসে দাঁড়ায়।
সঙ্কোচমিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
“কনগ্র্যাচুলেশনস, স্যার আপনার পুত্র সন্তান হয়েছে।”
কিন্তু পিতৃত্বের সেই প্রথম আহ্বানেও আফরিদের দৃষ্টি একবারের জন্যও সন্তানের দিকে নিবদ্ধ হলো না। সমস্ত তাড়না উপেক্ষা করে সে ছুটে গেল ভেতরে তার একমাত্র উদ্দেশ্য, ন্যান্সিকে দেখা; তাকে না দেখা পর্যন্ত তার আত্মা যেন স্থিরতা খুঁজে পায় না।
বেডে উপর নিস্তেজ দেহে অচেতন হয়ে শুয়ে আছে ন্যান্সি। তার রক্তিম, ক্লান্ত মুখশ্রী দেখে আফরিদের অন্তর বিদীর্ণ হয়ে যায়। মাতৃত্ব এ কি তবে এমনই অসহনীয় বেদনার অপর নাম? যদি এই ধারণা তার আগে হতো তবে সে কখনো চাইতো না এই সন্তান।
ডক্টর আফরিদের উদ্দেশ্যে বলল,
“স্যার,ম্যাম ঠিক আছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরবে।”
আফরিদ শুনলো তবে কোনোরূপ প্রত্যুত্তর করল না। মাইমুনা এহসান ততক্ষনে ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে ভেতরে এলো।
“আফরিদ বেটা,দেখো ও একদম তোমার মতো দেখতে। “
সকলে হৈ হৈ করে উঠল। তিতলি, স্মাইলি একত্রে হুড়োহুড়ি করছে তাকে কোলে নেওয়ার জন্য। ঈশান অদূরেই দাঁড়িয়ে আছে। তার নিজেরও তো ইচ্ছে করছে বাচ্চাটাকে কোলে নেওয়ার জন্য।
কখনো কোনোরূপ শিশু কোলে নেওয়ার হয়নি মাফিয়া কিংয়ের। আজ প্রথম দ্বিধায় ভুগছে সে। দুহাত গুটিয়ে নিলো। গম্ভীর স্বরে বলল,
“এখন না। অ্যাঞ্জেলিনা উঠুক তারপর।”
স্তব্ধ প্রতিটি ব্যক্তি। পিতারা যে সন্তান পাওয়ার পর স্ত্রীর কথা স্মরণে রাখে তা সম্পর্কে কেউই জানতো না। সমাজের আর পাঁচটা পুরুষের মতো আফরিদ সন্তান পেয়ে তাকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যায়নি। সে অপেক্ষায় আছে পরাণ তার সুস্থ হোক,চোখ খুলে তাকাক তবেই সে এই শিশুকে জড়িয়ে নেবে।
_____________
সাঁঝের গোধূলি লগ্ন। আকাশ পটে বিস্তৃত লাভ করছে কমলাভ আভা ধীরে ধীরে নিজস্ব সত্তা বিসর্জন দিয়ে গাঢ় তমসার অতল গহ্বরে নিজেকে বিলীন করে দিচ্ছে। ধরনী যেন নিঃশব্দে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে এক অতল আঁধারের অতলস্পর্শী গভীরতায় । মৃদু হাওয়ায় দেহ মন উভয় ক্রমে শৈত্যমন্ডিত হয়ে আসে। এক অবশ, স্থবির অনূভুতিতে আচ্ছন্ন।
দীর্ঘক্ষণ যাবৎ ক্ষুদ্র শিশুটিকে পালাক্রমে কোলে নিচ্ছিল দুই রমণী কখনো স্মাইলি, কখনো তিতলি। এক ফাঁকে কল্পনাও স্নেহ-স্পর্শে আবদ্ধ করেছে তাকে। আজ যদি নীলাদ্রী জীবিত থাকত, তবে সেও হয়তো এমন এক সন্তানের জননী হতো। মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণের পূর্বেই বিধবার নিদারুণ তকমা তার কপালে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
ন্যান্সির আঁখিপল্লব ধীর উন্মীলিত হলো। অন্তর্লীন ভোঁতা যন্ত্রণা গলিত লা’ভার ন্যায় সমগ্র সত্ত্বা গ্রাস করে চলেছে। এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসে চেতনাকে সংহত করার প্রয়াস নিল সে। কারো মৃদু কণ্ঠস্বর কর্ণপটে আ’ঘাত হানছে বারংবার। কষ্টেসৃষ্টে গ্রীবা ঘুরিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই এক অপূর্ব দৃশ্য প্রতিভাত হলো।
আফরিদ নিবিড় দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তার অংশের দিকে। স্নিগ্ধ আদুরে স্বরে উচ্চারণ করল,
“তুমি ভীষণ সুন্দর। একেবারে আমার প্রতিরূপ। তোমার নীলাভ আঁখিদ্বয় যেন আমারই প্রতিবিম্ব।”
ন্যান্সি বিস্ময়-সম্ভ্র’মে অবলোকন করছিল দৃশ্যখানি। শুষ্ক কণ্ঠে ঢোক গিলে, ওষ্ঠকোণে ফুটিয়ে তুলল স্নিগ্ধ, ম্লান হাসি।
“তুমি এত ছোট কেন? আরেকটু বড় হয়ে এলে না?”
শিশুটি আঁখি নিবদ্ধ রেখেই ক্ষণেক্ষণে হামি তুলছে। পিতার স্নেহময় স্পর্শ আঙুলে লেগে থাকলেও তার তা বোধগম্য হওয়ার অবকাশ নেই।
“আফরিদ।”
মৃদু, ক্লান্ত নারীকণ্ঠ শ্রুতিমাত্রেই আফরিদ দৃষ্টি স্থানান্তর করল প্রিয়তমার দিকে। গাঢ় নীল আঁখিদ্বয়ে ভাসমান অব্যক্ত বেদনার রেখা। ন্যান্সি সেই দৃষ্টিতে নিজের জন্য সঞ্চিত ব্যথার ছায়া প্রত্যক্ষ করে এক ম্লান হাসিতে সাড়া দিল। আফরিদ শিয়রে উপবিষ্ট হয়ে স্নিগ্ধ স্পর্শে কপাল স্পর্শ করল।
“খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে কি, জানকি বাচ্চা?”
ন্যান্সি মৃদু ইশারায় অস্বীকার করল । না, তার কোনো যন্ত্রণা অবশিষ্ট নেই; সমস্ত বেদনাই যেন এই মানুষটি নিজের মধ্যে ধারণ করে নিয়েছে। আফরিদ নত হয়ে তার শুষ্ক ওষ্ঠে স্নিগ্ধ সিক্ততা এঁকে দিল।
ন্যান্সি ক্ষীণ স্বরে উচ্চারণ করল,
“আমাদের সন্তান।”
আফরিদ পাশের নবজাতকের দিকে চেয়ে মৃদু হাসে,
“হ্যাঁ, আমাদেরই ছেলে।”
ন্যান্সি উজ্জ্বল হাসিতে বলে উঠল,
“আফরিদ এহসানের সন্তান আয়াশ এহসান।”
এতক্ষণ নামহীন অবস্থায় থাকা নবজাতকের পরিচয় নির্ধারিত হলো আয়াশ এহসান। আফরিদের অধরে তৃপ্তির হাসি প্রস্ফুটিত হলো। পরপর গ্রীবা অবনত করে মা ও সন্তানের উপর স্নেহ-সিক্ত আদর বর্ষণ করল সে।
“ভালোবাসি আমার খ্রিস্টান রমণী।”
নাকের ডগা ক্রমশ স্ফীত হচ্ছে কন্যার। আবারো সেই কটাক্ষের ডাকটি তাকে ক্রোধিত করে দিচ্ছে। কন্যা কপট রাগ দেখিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। সে দৃশ্য অবলোকন করে ঠোঁটের কোণে হাস্যছটা প্রস্ফুটিত হয়। সস্নেহে হাত বাড়িয়ে ওই রক্তিম চিবুক ছুঁয়ে নিজের দিকে ফেরায় অভিমানী রমণীকে। দ্বিতীয় দফায় গ্রীবা ঝুঁকিয়ে নাকে নাক ঘষে চুম্বন আঁকে ওই স্ফীত ডগায়।
___________________
রিসার্চ সেন্টার (হল নং–১)
জনশ্রুতি আছে মৃ’ত্যুপথযাত্রী মানুষের চেতনা প্রবাহে অতীতের কৃত পাপ ও অপকর্মসমূহ পুনঃপুনঃ প্রতিভাত হতে থাকে। অপরাধবোধের তীব্র অভিঘাতে স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে প্রতিটি নিষ্ঠুরতার দৃশ্যপট, যেন এক অনবরত চলমান সিনেমার ফ্ল্যাশব্যাক। সেই পাপের ভারই ধীরে ধীরে তাকে অনিবার্য পরিণতির দিকে ধাবিত করে। মিস্টার আলবার্টের ক্ষেত্রেও ঘটছে তদ্রূপ নির্মম বাস্তবায়ন।
অতীতে সংঘটিত নৃ’,শংস পা’পকর্মগুলো এখন তাকে অন্তর্লীনভাবে ক্ষয়িষ্ণু করে তুলছে; এক অদৃশ্য দহন তার সমগ্র সত্ত্বাকে গ্রাস করছে। যে যন্ত্র’ণাগুলো সে অন্যদের উপর আরোপ করেছিল, সেগুলোই আজ প্রতিহিংসাপরায়ণ ছায়ার ন্যায় তার নিকট প্রত্যাবর্তন করছে। প্রবাদসিদ্ধ সত্য যেন পুনরায় প্রতিফলিত ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্ত করছে।
প্রতিক্ষণে, প্রতিনিয়ত সে নিজ ঈশ্বরের নিকট মুক্তির প্রার্থনা নিবেদন করে চলেছে মৃ’ত্যুই যেন তার একমাত্র পরিত্রাণ। বারোটি দীর্ঘ বছর অবহেলনীয় নয়। তবুও, তার পাষাণ হৃদয় প্রশমিত করার নিমিত্তে যে নিষ্পাপ ক্ষুদ্র প্রাণটির অস্তিত্ব ছিল, তাকেও সে নির্মমভাবে রেহাই দেয়নি। এমনকি সেই নারীকেও নয়, যার সাথে পবিত্র গির্জায় ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করে সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। সেই পবিত্র অঙ্গীকার, সেই প্রতিজ্ঞাবাক্য সবকিছুই আজ তার স্মৃতির অন্তঃস্থলে অভিশাপের মতো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। অসহ্য এই যন্ত্রনা হতে মু’ক্তি চায় মিস্টার আলবার্ট। কেন তাকে মৃত্যু দেওয়া হচ্ছে না?
চলবে…………..।
(কংগ্র্যাচুলেশন আফরিদের না হওয়া জানেমানদের। আপনারা খালা ফুপি হয়ে গেছেন জানি মাম্মা হতে পারেননি বলে কষ্ট পাচ্ছেন।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮ {প্রথম অর্ধেক}
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ শেষাংশ
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮০