[পর্ব ৬৭]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
ফোনের তীক্ষ্ণ টুং টুং ধ্বনি কানে বাজতেই ন্যান্সি অনিচ্ছাসত্ত্বেও রিসিভার তুলে নিল। প্রভাতকালীন এই অচেনা নম্বরটি তার অন্তর্জগতে সূক্ষ্ম সন্দেহের রেখা টেনে দিল; কপালের মধ্যভাগে উদ্ভূত হলো হালকা ভাঁজ।
“হ্যালো?”
অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এলো ক্ষীণ অথচ তাড়াহুড়ো, ভরাক্রান্ত কণ্ঠ,
“হ্যালো ইলহাম? আমি পৃথ্বী বলছি।”
দীর্ঘ সাত মাসের নিস্তব্ধতা ভেদ করে পরিচিত কণ্ঠস্বর শ্রবণে ন্যান্সি মুহূর্তমাত্র স্তব্ধ হয়ে গেল। বিস্ময়াবিষ্ট স্বরে জিজ্ঞাসা করল,
“পৃথ্বী? হঠাৎ তুমি?”
পৃথ্বীর কণ্ঠ তখনো শ্বাসপ্রশ্বাসে ভারাক্রান্ত, যেন সে দীর্ঘ দৌড়ের পর কথা বলছে,
“ইলহাম, তোমাকে অত্যন্ত জরুরি কিছু জানাতে হবে এবং একটি বস্তু দিতে হবে।”
ন্যান্সির দৃষ্টিতে দ্বিধার মেঘ ঘনীভূত হলো।
“কী জরুরি কথা? কী বলছ তুমি? আমি কিছুই অনুধাবন করতে পারছি না।”
পৃথ্বী কিছুক্ষণ নীরব থেকে শুকনো কণ্ঠে বলল,
“তুমি কি আমার সঙ্গে দেখা করতে পারবে? প্লিজ দয়া করে?”
ন্যান্সি বিভ্রান্তির গভীর আবর্তে নিমজ্জিত হলো। সাক্ষাৎ? কীভাবে? আফরিদের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে তার প্রতিটি পদক্ষেপই যেন শৃঙ্খলাবদ্ধ।
“প্লিজ, ইলহাম দেখা করো। আমি এমন কিছু প্রকাশ করতে চাই, যা জানলে তুমি তোমার পরিবারের হত্যা’কারীদের সনাক্ত করতে পারবে।”
এই বাক্য শ্রবণে ন্যান্সির অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। সত্যিই কি পৃথ্বী কোনো সূত্র ধারণ করে? নাকি এও এক জটিল ভ্রান্তি?
“তুমি কোথায় আছ? বলো আমাকে!”
পৃথ্বী আর এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি বার্তা প্রেরণ করল। ন্যান্সির আঙুল কাঁপছিল; যেন বহু প্রতীক্ষিত সত্যের দ্বার অচিরেই উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে তার দৃষ্টি স্বতঃস্ফূর্তভাবে দরজার দিকে নিবদ্ধ হলো। এবং সে স্তব্ধ। গোধূলির রক্তিম আভা যেন স্বয়ং আকাশ থেকে নেমে এসে এক পুরুষের অবয়বে লেপ্টে গেছে। দরজার কাছে আলগোছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আফরিদ এহসান। সফেদ পাঞ্জাবি পরিহিত সেই পুরুষের বাহুতে গুটানো হাতা, ঠোঁটের কোণে অলস অথচ চিরচেনা দুষ্টু হাসির রেখা। ন্যান্সির দৃষ্টি তার উপর স্থির হতে না হতেই এক অদ্ভুত মোহমুগ্ধতা গ্রাস করল তাকে। আফরিদ ধীর কণ্ঠে বলল
“হয় তুই নিজের দৃষ্টি সংযত কর, নয়তো আমি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাবো। এভাবে তাকাস না শক লাগে।”
ন্যান্সির ভেতর ক্ষণিকের জন্যও ক্রোধ জন্মাল না; বরং এক অব্যাখ্যেয় হাসি তার অধরে এসে ভিড় করল।
সে উঠে দাঁড়াল, তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
“ধনী বংশের সন্তান হঠাৎ পাঞ্জাবিতে?”
আফরিদ দুই পা অগ্রসর হয়ে এলো, দৃষ্টি একমুখী ন্যান্সির মুখাবয়বে স্থির।
“ধনী বংশের সন্তানের জন্যই গরিবের নিতা আম্বানি এই পাঞ্জাবিটা পছন্দ হলো, তাই পরেছি।”
ন্যান্সি চোখ কুঁচকে তাকাল।
“মোটেও মানাচ্ছে না। এই অবস্থা একেবারেই বিশ্রী। ফর্মালই আপনাকে মানায় এটা খুলে ফেলুন।”
আফরিদের ভেতরকার কঠোরতা যেন মুহূর্তে কোমল হয়ে এলো। তার চাহনি পুনরায় পাঞ্জাবিটির দিকে ঘুরে গেল; তৃতীয়বারের মতো পর্যবেক্ষণ করল। তারপর হালকা বাঁকা হাসি টেনে বলল,
“তুই বললি বলেই হয়তো এটাই আমার শ্রেষ্ঠ পোশাক হয়ে গেল।”
ঠিক তখনই ন্যান্সি মুখ ফিরিয়ে নিতেই বিদ্যুৎগতিতে আফরিদ তাকে পেছন থেকে বেষ্টন করল। দুই বাহুতে দৃঢ় আবদ্ধতায় তার কোমল দেহ নিজের বক্ষস্থলে টেনে নিল।
ন্যান্সি ক্ষণিক চমকে উঠল। আফরিদের নিঃশ্বাস তার চুলের ভাঁজে স্পর্শ করে ফিসফিস করল,
“চল কিছু করি।”
এই ‘কিছু করি’ শব্দযুগল আফরিদের ক্ষেত্রে সর্বদাই এক অনিশ্চিত অথচ তীব্র অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত।
ন্যান্সি ক্ষোভ ও লজ্জার মিশ্র আবরণে কণ্ঠ কঠোর করে বলল,
“নাউজুবিল্লাহ! আপনার কি কোনো সীমা নেই? সবসময়ই কিছু না কিছু করার অদম্য প্রবণতা কেন?”
আফরিদ হালকা হাসল; সেই হাসিতে এক অদ্ভুত মায়াবী নিষ্ঠুরতা মিশে আছে। ন্যান্সির মনে হলো এই পুরুষ হাসলে পৃথিবীর নিয়মও যেন বিকৃত হয়ে যায়। আফরিদ নত হয়ে তার কপালের কাছাকাছি এসে ফিসফিস করল,
“তুই জানিস বউ, তোর কাছে এলে নিজেকে অদ্ভুতভাবে শুদ্ধ মনে হয়।”
ন্যান্সি দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
“আপনি যদি সাধারণ মানুষ হতেন, তবে হয়তো সবকিছু অন্যরকম হতো।”
তার কণ্ঠে লুকিয়ে ছিল গোপন যন্ত্রণা। এই সম্পর্কের জটিল জালে সে আর দীর্ঘকাল আবদ্ধ থাকতে চায় না।
আফরিদ পুনরায় তাকে পেছন থেকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করল। তার কণ্ঠ নিচু, গভীর,
“তবুও আমার এই অন্ধকার সত্তা চায় তার এক ক্ষুদ্র অংশও যেন তোর মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখে।”
ন্যান্সি স্থির হয়ে গেল।সে ধীরে ধীরে বলল,
“আপনার অন্ধকারের অংশ কোনোদিনই আলো পেতে পারে না, আফরিদ এহসান। সেই আলোয় জন্ম নিলে সে শুধু ধ্বংসই বয়ে আনবে।”
আফরিদ নীরব রইল। কিছুক্ষণ পর আলগোছে তাকে ছেড়ে দিল। নরম স্পর্শে তার কপালে এক ক্ষণিক চুম্বন রেখে সে রুম ত্যাগ করল। ন্যান্সি স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখ বেয়ে অশ্রু নেমে আসছে অকারণ নয়, কিন্তু ব্যাখ্যাতীত বেদনায় ভারাক্রান্ত। বুকের ভেতর যেন অদৃশ্য শূন্যতা বিস্ফারিত হচ্ছে। সে বুঝতে পারছে এই ভালোবাসা, এই অন্ধকার, এই অজানা সত্য সবকিছুই তাকে ধীরে ধীরে ভাঙনের দিকে টেনে নিচ্ছে।
___________________
নিস্তব্ধ গোডাউনের ভেতর ঘন অন্ধকার যেন শ্বাসরোধী এক আবহ সৃষ্টি করেছে। চারদিকে ভারী নীরবতা, মাঝে মাঝে কেবল গার্ডদের বুটের খসখসে শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কংক্রিটের দেয়ালে। শীতল বাতাসেও যেন এক অদৃশ্য আতঙ্ক জমাট বেঁধে আছে।
নীলাদ্রি হাত-পা দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ, মুখমণ্ডলে আতঙ্কের সুস্পষ্ট ছাপ অবিচল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। তার সামনে-পেছনে অস্ত্রধারী প্রহরীদের অটল অবস্থান, আর তাদের মাঝখানে ঈশান নীরব কিন্তু সতর্ক দৃষ্টিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণরত।
কিছুক্ষণ পর জুতোর কর্কশ শব্দ ভেঙে দিল সেই নীরবতা।
ধীর, আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে প্রবেশ করল আফরিদ এহসান। পরণে তার সাদা পাঞ্জাবি যা এই অন্ধকার পরিবেশেও এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
তার উপস্থিতিতেই বাতাসের ভার যেন আরও বেড়ে গেল।
নীলাদ্রি কাঁপা কণ্ঠে বলল
“ভাই, আমাকে কেন এখানে আটকে রেখেছো?’
আফরিদের দৃষ্টিতে মুহূর্তে নেমে এলো রক্তিম কঠোরতা। সে আঙুল তুলে নির্দেশ করল,
“হুঁশ, কোনো শব্দ না।”
এই স্বরেই নীলাদ্রির শরীর শিউরে উঠল। ঘামের নোনা স্রোত তার কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে; শিরদাঁড়া পর্যন্ত ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।
আফরিদ ধীরপায়ে এগিয়ে একটি চেয়ার টেনে নিল। বসে পড়ল অনায়াস ভঙ্গিতে দুই হাত ঘাড়ের পেছনে রেখে, যেন সে কোনো বিচার-আসনের রাজা।
তার দৃষ্টি স্থির নীলাদ্রির দিকে।
“তুই নাকি আমার ভাই? ব্রো তোর বুদ্ধির মান এত নিচে কীভাবে নামল? মাফিয়া কিংয়ের র’ক্তে এমন বোকামি আসে কীভাবে?”
নীলাদ্রি কেবল কাঁপছে উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা যেন তার কণ্ঠনালি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আফরিদ ধীর, ঠাণ্ডা স্বরে বলল
“অ্যাঞ্জেলিনা স্পেনে আছে এই তথ্যটা মারকোকে কে দিল? তারপর মারকো স্মাইলি আর অ্যাঞ্জেলিনার উপর হামলা চালালো। ভাগ্য ভালো ঈশান ছিল। না হলে,,
আফরিদ থামল। চোখে জমে উঠল তীব্র ক্ষোভ।
“তুই জানিস, অ্যাঞ্জেলিনা আমার দুর্বলতা। সেই দুর্বলতাকে লক্ষ্য করে তুই ওকে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিস।”
নীলাদ্রির ভেতরটা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি তথ্য যেন তার বিরুদ্ধে একেকটি শিকল হয়ে নামছে।সে জানে সব সত্যিই তারই করা।কিন্তু এখন স্বীকার মানেই মৃত্যু, আর অস্বীকার মানেই আরও ভয়ংকর পরিণতি।
আফরিদ হালকা হাসল,একটা শীতল, হিসেবি হাসি।
“প্ল্যানটা খারাপ ছিল না, কিন্তু একটা ভুল করেছিস, ব্রো। অ্যাঞ্জেলিনাকে টার্গেট করা এটাই তোর শেষ ভুল।”
নীলাদ্রি ফিসফিস করে বলল,
“তুমি কি সত্যিই ভাবো, আমি স্বীকার করলে ন্যান্সি আমাকে ছাড়বে?”
আফরিদ চোখ কুঁচকে তাকাল।
“তোর বাঁচা-মরা আমি ঠিক করব। ন্যান্সি নয়।”
নীলাদ্রির শ্বাস দ্রুত হয়ে এলো। আফরিদ আবার ধীরে ধীরে বলল,
“তুই স্বীকার করবি তুই ন্যান্সির পরিবারকে হ’ত্যা করেছিস।”
নীলাদ্রি বিস্ফোরিত স্বরে বলল,
“না! তুমি আমাকে ব্যবহার করছ নিজের পাপ ঢাকতে!”
আফরিদ হঠাৎ হেসে উঠল উন্মত্ত নয়, বরং শীতল আত্মবিশ্বাসে ভরা হাসি।
“পাপ ঢাকার প্রয়োজন আমার নেই। আমি চাই তুই স্বীকার করবি, কারণ তুই এখন আমার দরকার। স্বীকার করলেই তোকে আমি বাঁচাব। বিলাসবহুল জীবন দেব। কিন্তু অস্বীকার করলে তোর জায়গা হবে আলিয়াজের পাশে।”
এই নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে নীলাদ্রির চোখে ভয়ের বিস্ফোরণ ঘটল। কণ্ঠ ভেঙে পড়ল পুরুষটির।
“না, না! আমি রাজি! আমি স্বীকার করব ,কিন্তু তুমি কথা দাও আমাকে বাঁচাবে!”
আফরিদ ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে ঈশানের দিকে তাকাল।
ঈশান বুঝে গেল চাহনির ভেতরের নির্দেশ।
গোডাউনের অন্ধকারে তখনও নীরবতা ভারী হয়ে ঝুলে আছে, কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেই শুরু হয়ে গেছে আরেকটি বিপজ্জনক অধ্যায়ের সূচনা।
________________
সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। আকাশের রং ঠিক যেন কারও গোপন অভিমান ছড়িয়ে দিয়েছে দিগন্তজুড়ে। পশ্চিমের কোণে রোদটা ধীরে ধীরে গলে গিয়ে লালচে সোনালি আভা ছড়াচ্ছে। বাতাসের গায়ে হালকা শীতলতা, যেন দিনের ক্লান্তি নামিয়ে আনে কোমল পরশে। দূরে কোথাও অজান্তে পাখিরা শেষবারের মতো ডাকছে দিনের বিদায় গান যেন।
গাছেদের ছায়া লম্বা হতে হতে পথের গায়ে গিয়ে থেমে আছে। চারপাশে এক অদ্ভুত শান্তি, তবুও অদ্ভুত এক অস্থিরতাও যেন সন্ধ্যা নামার আগমুহূর্তে প্রকৃতি নিঃশ্বাস আটকে আছে। আলো আর অন্ধকারের মাঝামাঝি এই ক্ষণগুলোতে পৃথিবী এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।
মঞ্জিল থেকে বেরুনো এতটা সহজ নয়, কিন্তু আশ্চর্য আজকে গেইটের কাছে কোনো গার্ড ছিলোনা কেন? ন্যান্সি গভীর ভাবে ভেবে দেখলো আফরিদ ন্যান্সি কে মঞ্জিলে একা ছেড়ে যাওয়ার মানুষ মোটেও নয়। তাহলে কি হলো?
নির্জন স্থানে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে। এহসান মঞ্জিল থেকে আনুমানিক বিশ মিনিট দূরত্বে এই পরিত্যক্ত অঞ্চল চারদিকে নীরবতার ঘন আবরণ, কোথাও কোনো মানবসাড়া নেই। যেন এই ভূখণ্ড নিজেই অঘোষিতভাবে কোনো অন্ধকার সাম্রাজ্যের সীমারেখায় বন্দি।
ন্যান্সি স্থির দাঁড়িয়ে ছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ডান দিক থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ,
“ইলহাম!”
ন্যান্সি ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। তার দৃষ্টিতে যে দৃশ্য ধরা পড়ল, তা যেন বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এক ধাক্কা। ময়লা, ধূলিধূসর পোশাকে আচ্ছাদিত এক তরুণ চেহারায় ক্লান্তি, অবসাদ এবং ভাঙনের ছাপ। সেই পৃথ্বী যাকে সে সর্বদা পরিপাটি, আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষ হিসেবে দেখেছে আজ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।
ন্যান্সির কণ্ঠে বিস্ময় ও উদ্বেগ একসাথে জড়ো হলো,
“পৃথ্বী, তোমার এই অবস্থা কেন?”
পৃথ্বী চারপাশে একবার দ্রুত দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। তার চোখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছায়া যেন সে জানে, প্রতিটি মুহূর্তে তার ওপর অদৃশ্য নজরদারি চলছে। সে আস্তে করে বলল,
“এখান থেকে বের হতে হবে ইলহাম, আমি বেশি সময় নেই।”
ন্যান্সি আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল।
“ফোনে তুমি বলেছিলে, তুমি আমার পরিবারের হ’ত্যাকারী সম্পর্কে কিছু জানো।”
পৃথ্বী শুকনো ঢোক গিলল। কণ্ঠ কাঁপছে, তবু বলল,
“সে এমন একজন যাকে তুমি সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করো।”
এই বাক্যটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ন্যান্সির ভেতরে এক অদৃশ্য বিস্ফোরণ ঘটল। বুকের ভেতর চাপা আতঙ্ক ধীরে ধীরে নামতে লাগল গলার কাছে। তার চিন্তার পর্দায় একটাই নাম ঘুরপাক খেতে শুরু করল একটি নাম, যেটি তার জীবনকে বারবার জড়িয়ে ফেলেছে রহস্য, ভয় আর অদ্ভুত টানাপোড়েনে। ন্যান্সির ঠোঁট কাঁপল।
শেষে প্রায় নিঃশ্বাসের মতো করে উচ্চারিত হলো,
“আফরিদ এহসান?”
পৃথ্বী মাথা নিচু করল। আর সেই নীরব সম্মতি যেন এই নির্জনতার ভেতর আরও গভীর এক অন্ধকারের দরজা খুলে দিল।
চলবে……….।
(সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন। ধীরে ধীরে সব খোলাসা করে দেব তারপর গল্প শেষ।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ প্রথম অর্ধেক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৫ (প্রথম অর্ধেক)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬৯+৭০