#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৬৯+৭০]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
(দ্বিতীয় খন্ড)
প্রকৃতি আজ এক অদ্ভুত প্রফুল্ল মেজাজে অধিষ্ঠিত। রাতব্যাপী অবিরাম বর্ষণের পর যেন সে ক্লান্তির ভার ঝেড়ে ফেলে স্বাভাবিক সৌম্য-স্নিগ্ধ রূপে পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে। দূরাকাশে মেঘপুঞ্জের সূক্ষ্ম স্তর এখনো অলস ভঙ্গিতে ভাসমান, আর সমগ্র পরিবেশে বিস্তৃত হয়েছে ধোয়া-ধোয়া স্নিগ্ধ আলোকচ্ছটা।
গাছপালার পত্রলতার শীর্ষদেশ থেকে অনবরত টুপটাপ শব্দে নিঃসৃত হচ্ছে অবশিষ্ট বৃষ্টিকণা কখনো ধীর, কখনো কোমল প্রতিধ্বনিতে। মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজের সিক্ত আঁচল ঝেড়ে নতুন প্রভাতকে পুনর্গঠন করছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ভেজা মৃত্তিকার উষ্ণ সুবাস, যা পরিবেশকে আরও প্রশান্ত, আরও অন্তরঙ্গ করে তুলেছে।
ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এই মনোরম দৃশ্য অবলোকন করছে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা। আবেশে তার নয়নযুগল ধীরে বন্ধ হয়ে আসে। দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস ফেলে সে, যেন অন্তর্গত সমস্ত ক্লান্তি নিঃশেষে নির্গত করে দিচ্ছে। হৃদয়ে নেমে এসেছে অদ্ভুত প্রশান্তি।
“ইলহাম আপু, খাবেন না? দ্রুত আসুন!”
তিতলির উচ্চস্বরে আহ্বানে ধ্যানভঙ্গ হলো ন্যান্সির। সে ঘুরে দাঁড়াল। পরনে তার বাদামি রঙের থ্রি-কোয়ার্টার হাতা বিশিষ্ট ঢিলেঢালা গাউন, সাথে ওড়না যা বাতাসে মনোমুগ্ধকর ভঙ্গিতে দোল খাচ্ছে। ধীর, সুশৃঙ্খল পদক্ষেপে সে অভ্যন্তরের দিকে অগ্রসর হলো।
টেবিলের নিকটে পৌঁছে দেখে, সকলে ইতোমধ্যে উপস্থিত। স্মাইলি দ্রুত এসে তার সামনে দাঁড়াল।
“লুক ইলহাম, আজ আমি রান্না করেছি!”
স্মাইলির কথায় ন্যান্সির কৌতূহল বৃদ্ধি পেল।
“সত্যি?”
তিতলি মৃদু হাসিতে বলল,
“হ্যাঁ, আজ স্মাইলি আপু রান্না করেছেন। আমি সহায়তা করেছি।”
ন্যান্সি ঠোঁটে আঙুল চেপে মৃদু হেসে উঠল।
“আচ্ছা, তাই নাকি?”
তিতলি মাথা নাড়ল। স্মাইলি হালকা ধাক্কায় তিতলির পিঠে স্পর্শ করল।
“স্টুপিড গার্ল।”
তিতলি উচ্চস্বরে হেসে উঠল। সেই মুহূর্তে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল কল্পনা। তিনজনকে একত্রে দেখে সে মন্তব্য করল,
“ওহ, দেখা যাচ্ছে সবাই গল্পে ব্যস্ত!”
সাব্বির বেডে জেল মাখাতে মাখাতে উদাসীন ভঙ্গিতে বলল,
“আর কী করবে? ওদের কাজই তো এসব।”
ন্যান্সি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সাব্বিরের দিকে তাকাল। সাব্বির নির্বিকার রইল।
অল্প সময়ের মধ্যেই মাইমুনা এহসান দ্রুত পদক্ষেপে ব্রেকফাস্ট টেবিলে উপস্থিত হলেন। তিনি যথারীতি স্লিভলেস ব্লাউজ ও শিফন শাড়ি পরিহিত, আধুনিক , অভিজাত এক উপস্থিতি।
টেবিলে চোখ বুলিয়ে বড় ছেলের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে তিনি বললেন,
“হোয়াট ইজ দিস? আফরিদ কোথায়?”
ন্যান্সি দ্বিধান্বিত স্বরে বলল,
“আসলে উনি…”
মাইমুনা এহসান কঠোর কণ্ঠে তাকে থামিয়ে দিলেন,
“আমি কোনো অজুহাত শুনতে আগ্রহী নই।”
আভিজাত্যের গম্ভীর ছায়ায় আচ্ছন্ন সমগ্র কক্ষটি। কৃষ্ণবর্ণ ও গাঢ় সবুজের সমন্বয়ে বিন্যস্ত সেই প্রাসাদোপম কক্ষটি যেন আধুনিক নীরব রাজদরবারের প্রতিচ্ছবি। প্রাচীরের একপ্রান্তে নিবিড় কালো পর্দা, যার উপর সবুজ কৃত্রিম পত্রপল্লবের সূক্ষ্ম নকশা বিস্তৃত অন্ধকারের বুক চিরে ক্ষীণ বাগান-সদৃশ আভাস সৃষ্টি করেছে।
শাওয়াররুমের কাচের দরজা ঠেলে ধীরপায়ে আবির্ভূত হলো পুরুষটি। সদ্যস্নাত দেহে শার্টটি তাড়াহুড়োয় গলানো, বোতামগুলো তখনও অর্ধউন্মুক্ত। ভেজা কোঁকড়ানো কেশগুচ্ছ থেকে টপটপ করে জলঝরা অবিরাম।
স্থির, নিঃশব্দ পদক্ষেপে অগ্রসর হয়ে সে এগোল ড্রেসিং টেবিলের দিকে। কক্ষের আলোয় শার্টের ফাঁক গলে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে তার বক্ষস্থলের বিশাল সূর্য-ট্যাটু এক নির্মম , প্রভাবশালী প্রতীক, অহংকার ও পুরুষত্বের এক অদ্ভুত দ্যোতনা। ট্যাটুর প্রান্তদেশ মৃদু আলোয় যেন দীপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক যেমন অন্ধকার ভেদ করে ভোরের প্রথম সূর্য উদিত হয়।
দরজার আড়াল থেকে নিঃশব্দে উঁকি দিল রমণী। কৌতূহলভরা দৃষ্টিতে সে ভেতরের দৃশ্য অবলোকন করছিল। পুরুষটির অর্ধউন্মুক্ত শার্ট, ভেজা চুল, আর বক্ষজুড়ে বিস্তৃত ট্যাটুসবকিছুতেই তার দৃষ্টি থমকে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই তার নজর আটকে পড়ে অন্য এক দৃশ্যে বাহুর গভীর ক্ষ’,তচিহ্নে। কাঁচের আঘাতে সৃষ্ট সেই ক্ষ’ত এখনো সুস্পষ্ট, নিষ্ঠুর ও বেদনাবহ।
সদ্য নেওয়া শাওয়ারের পর ব্যান্ডেজ ভিজে ভারী হয়ে উঠেছে। জলকণা ধীরে ধীরে ক্ষতের প্রান্ত বেয়ে নেমে যাচ্ছে, রক্তাক্ত দাগটিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। পুরুষটি নির্বিকার ভঙ্গিতে সেদিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আছে।
দরজার আড়ালে থাকা রমণীর হৃদকম্পন তীব্রতর হয়ে উঠল। হঠাৎই কক্ষের নিস্তব্ধতা ভেঙে পুরুষটির গম্ভীর কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হলো,
“পুরো দৃশ্যই যদি উপভোগ করতে চাইলে ভেতরে আয়। খুলাখুলি দেখাবো।”
মুহূর্তেই লজ্জা ও বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল সে। ধরা পড়ে গেল নাকি? ইশ্ আরেকটু সাবধানে উঁকি দিলে ভালো হতো।
ন্যান্সি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে কক্ষে প্রবেশ করল। আফরিদকে অর্ধউন্মুক্ত শার্টে দেখে অজান্তেই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল।
ব্যান্ডেজের অবস্থা দেখে তার মনে অস্বস্তির ঢেউ উঠল। এ ব্যান্ডেজ তো সে-ই করেছিল কাঁচের টুকরো ঢুকে যাওয়ার পর। সেই ঘটনার স্মৃতি মুহূর্তেই ভেসে উঠল তার মনে। সেই রাত্রির পর ন্যান্সি প্রায় দুদিন অচেতন ছিল। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে সে এহসান মঞ্জিলেই আবিষ্কার করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, আফরিদ তাকে আঘাত করেনি যে নারী তাকে হ’ত্যা করার চেষ্টা করেছিল, তাকেই সে জীবিত রেখেছিল।
ন্যান্সিকে দেখে আফরিদ ঘুরে দাঁড়াল। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে ন্যান্সির মুখাবয়বে নিবদ্ধ। নীলাভ দৃষ্টির সেই স্থিরতা ন্যান্সিকে অস্থির করে তোলে। ভয় ও দ্বিধা তার ভেতরে একসঙ্গে উথলে ওঠে।
“কি? উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছিস কেন, শালী?”
ন্যান্সির কপালে ভাঁজ পড়ল। কঠোর কণ্ঠে জবাব দিল,
“আমার কোনো বোনকে বিয়ে করছেন আপনি?”
“বোন কেন? তোকে-ই বিয়ে করছি।”
উক্তিতে ন্যান্সির ভেতর ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠল। “তাহলে আমাকে শালী বলছেন কোন সাহসে? ভুলে গেছেন আঘা’তের কথা?”
আফরিদ নীরব। ড্রেসিং টেবিলের পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, শার্টের বোতাম অগোছালোই রয়ে গেছে।
ন্যান্সি কাছে এগিয়ে এসে তার বাহু আঁকড়ে ধরল।
“ব্যথা লাগে?”
আফরিদ নির্বিকার। তার নীরবতায় বিরক্ত হয়ে উঠল ন্যান্সি।
“সর সামনে থেকে গাদ্দার নারী। তোর তো হারপিক খেয়ে ম’রে যাওয়া উচিত।
ন্যান্সি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো, হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে বিছানায়।
“আপনি হারপিক খেয়ে নিন।”
আফরিদ ব্যান্ডেজ টা টেনে খুলে ফেলল। নতুন ব্যান্ডেজ করা প্রয়োজন। ন্যান্সি আফরিদের নিকটে যায় আবারো, উশখুশ করছে কিছু বলার জন্য।
শেষমেষ দ্বিধা কাটিয়ে বলে।
“দিন আমি করে দিচ্ছি ব্যান্ডেজ!”
“জুতো মেরে গরু দান?”
ন্যান্সি ভেঙ্গালো।
“দিবেন কিনা? আপনি সত্যিই এক অদ্ভুত মানুষ গণ্ডারের মতো। ব্যথা-টথা কিছুই বোঝেন না!”
“শুনো।”
ন্যান্সি কাজ করতে করতেই বলল,
“কি?”
আফরিদ ঠোঁট ভিজিয়ে ধীর স্বরে বলল,
“তোর ওইটা সুন্দর।”
ন্যান্সি চমকে উঠল।
“কোনটা?”
আফরিদ হালকা বাঁকা হাসল।
“তোর বুকের তিলটা।”
মুহূর্তেই ন্যান্সির মুখমণ্ডলে বিস্ময় ও ক্রোধ একসঙ্গে ফুটে উঠল। সে সজোরে আফরিদের বাহুতে আঘাত করল।
“অসভ্য! আপনি একেবারে অসভ্য!”
তবে ততক্ষণে ব্যান্ডেজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। আফরিদ উচ্চস্বরে হেসে উঠল তার হাসিতে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি, এক নির্মম প্রশান্তি।
___________________
রাশিয়া মস্কো….
শীতের বরফে মোড়া শহরটাকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার মতো নিস্তব্ধতা আজ অদ্ভুতভাবে ভারী। সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই মিখাইল পেত্রোভিচ নভিকভ পৌঁছে গেছে তার বহু বছরের প্রতীক্ষার গন্তব্যে এক গোপন ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সের স্টিল ঢাকা চেম্বার, যেখানে লুকিয়ে আনা হয়েছে ভয়ংকর জারা বোম্বা।
তার চোখে আজ অদ্ভুত উন্মাদ ,দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আজ পূর্ণতার দিকে এগোচ্ছে। সে জন্মগতভাবেই অন্ধকারের মানুষ, ধ্বংসই যার একমাত্র ধর্ম। আর সেই ধ্বংসের সর্বোচ্চ হাতিয়ার আজ তার নাগালের মধ্যে।
মিখাইল লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল। ঠান্ডা বাতাসে তার নিঃশ্বাস ভাসমান কুয়াশার মতো উঠে গেল।
লিফটের সামনে এসে সে ধাতব বোতামে একবার চাপ দিল।
টিং শব্দে লিফটের দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল। অন্ধকার লিফটের ভেতরটা যেন তাকে গিলে নিতে উদ্যত।
সে ভেতরে পা রাখল। আঙ্গুল ছুঁয়ে দিল সর্বোচ্চ ফ্লোরতার কেবিন থাকা সেই গোপন ঘরটিকে।
সংখ্যাগুলো এক এক করে আলোকিত হতে লাগল ২১… ২২…. ২৩..
লিফটের ভিতর তার হৃদস্পন্দনও যেন সংখ্যাগুলোর সাথে সিঙ্ক হয়ে উঠল। উপরে উঠছে লিফট।
মিখাইলের ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি ফুটল।
“খুব শিগগিরই।”
কেবিনে প্রবেশ করেই সেই প্রাইভেট নাম্বারে কল করলো মিখাইল।
আফরিদ এহসানের নিকট দুইটি পৃথক মোবাইল ফোন সংরক্ষিত। একটি সর্বদা তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকে সমস্ত গোপন আলাপ-আলোচনা, কৌশলগত নির্দেশনা ও অপরাধমূলক সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত। অপরটি এমন এক স্তরে সংরক্ষিত, যেখানে ন্যান্সিরও স্পর্শাধিকার সীমাবদ্ধ; সেটি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য বরাদ্দ।
আফরিদ বর্তমানে নিজস্ব কর্পোরেট কেবিনে উপবিষ্ট। চেয়ারে অবলীলায় হেলান দিয়ে তিনি এক ধরনের নির্লিপ্ত স্বাচ্ছন্দ্যে সময় অতিবাহিত করছিলেন।
হঠাৎ ফোনের রিংটোন কেটে কক্ষের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হলো। স্ক্রিনে প্রদর্শিত নাম দেখে তার ঠোঁটে এক প্রকার বাঁকা, রহস্যময় হাসির রেখা ফুটে উঠল।
“হ্যালো মাই ফ্রেন্ড, মিখাইল! হাউ আর ইউ?”
অন্য প্রান্ত থেকে মিখাইলের কণ্ঠ ভেসে এলো, শীতল ও নিষ্ঠুর হাসিতে আচ্ছাদিত,
“আই অ্যাম, মাই সিক্রেট ফ্রেন্ড।”
আফরিদ হালকা হেসে উঠলেন। বহুবারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তাকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই মিখাইলের উপস্থিতি তার কাছে এক প্রকার কৌতুকস্বরূপ।
“সো, কেমন অনূভুতি হচ্ছে?”
কাঁচের টেবিলের উপর আঙুল ঘুরাতে ঘুরাতে মিখাইল প্রশ্ন করল। আফরিদ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। কণ্ঠে দৃঢ়তা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার ক্লান্ত বিজয় মিশ্রিত।
“এক্সট্রিমলি গুড, মাই ফ্রেন্ড। দ্য লং ওয়েট হ্যাজ ফাইনালি কাম টু অ্যান এন্ড। ইউ হ্যাভ কিপ্ট ইয়োর ওয়ার্ড।”
অন্য প্রান্তে মিখাইল আত্মতৃপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“অফকোর্স, মাই ফ্রেন্ড।”
আফরিদ নির্বিকার রইলেন। কয়েক মুহূর্ত নীরবতার পর মিখাইল আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,
“বাট হু ইজ দিস সিক্রেট পার্সন? আইজ় দেয়ার নো ফরচুন ফর মি টু সি হিম?”
এই প্রশ্নেই আফরিদের ঠোঁটে বিদ্রূপাত্মক হাসি ফুটে উঠল। তিনি হালকা হেসে বললেন,
“তুমি কি নিজেকে খুব বুদ্ধিমান ভাবো, মিখাইল? তুমি কি সত্যিই ভেবেছিলে আমি তোমার সামনে এসে দাঁড়াবো? হাউ স্টুপিড।”
তার কণ্ঠে ছিল তাচ্ছিল্যের চরম রূপ। অতঃপর ধীর স্বরে, দৃঢ় উচ্চারণে যোগ করল
“সরি, মাই ফ্রেন্ড। দ্য সিক্রেট পারসন উইল নেভার রিভিল হিমসেল্ফ সো ইজিলি। ইনস্টেড অফ ওয়েস্টিং টাইম অন দিস, ডু হোয়াট ইউ আর সাপোজড টু ডু।”
এই বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো। অন্য প্রান্তে মিখাইল নিঃশব্দ হয়ে গেল। তার পরিকল্পিত চতুরতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে বারবার চেষ্টা করেও সে এই রহস্যময় ব্যক্তির অস্তিত্ব পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারেনি।
রাশিয়ার এক কুখ্যাত স’ন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকেও, সে আজ পর্যন্ত সেই মানুষটিকে খুঁজে বের করতে ব্যর্থ যাকে অনেকেই অপরাধ জগতের অদৃশ্য ছায়া হিসেবে জানে।
***********************
স্পেন, বার্সেলোনা।
দীর্ঘ দুই দিন ধরে রাইসাকে আবারও টর্চার সেলের অন্ধকারে ফেলে রাখা হয়েছে। লোহার দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে থাকা মেয়েটির চোখে কোনো আলোর ছাপ নেই তবুও একবারও সে মুখ খোলেনি। বিশ্বাসঘাতকতা শব্দটা তার অভিধানে নেই। ইদ্রান কিংবা আফরিদ এহসানের বিরুদ্ধে কিছু বলবে এটা যেন তার র”ক্তের সাথেই বেমানান। যে মানুষটার জন্য আজ সে বেঁচে আছে তাকেই ফাঁসিয়ে দেবে? উঁহু কখনোই না!
আজ ভোরে ইস্ক্রিয়াস এসেছে। তার পেছনে ছায়ার মতো নীরবে দাঁড়িয়ে আছে দুই লেডি কনস্টেবল। তাদের আগমনে সেলের ভেতরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠেছে। আজ রাইসাকে এ সেল থেকে অন্য জেলে পাঠানো হবে যেখানে উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসীদের স্থানান্তর করা হয়, সেই “হাই-সিকিউরিটি ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি” শহরের উপকণ্ঠে পাহাড়ঘেরা কোল্ড স্টোন প্রিজন। সেখানে পাঠানো মানে জীবন্ত মানুষকে বরফে আটকে রাখা দিনরাত নজরদারি, আলাদা কোয়ারেন্টাইন সেল, আর বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা।
এতদিনের নি’র্যাতনে রাইসার চেহারা পুরো বদলে গেছে। চোখের নিচে গভীর কালি, ঠোঁট ফেটে রক্তের দাগ শুকিয়েও উঠতে পারেনি। গাল বসে গেছে, মুখ ফ্যাকাশে হয়ে মাটির মতো ঠাণ্ডা। রাতে সে এতটাই কেঁদেছে যে চোখ দুটো লালচে আর ফুলে আছে তবুও তার দৃষ্টি কঠোর, নত নয়।
ইস্ক্রিয়াস সেলের দরজা খুলতেই শিকল নড়ার শব্দে থরথর করে উঠল ভেতরের নিস্তব্ধতা। রাইসা ধীরে ধীরে মাথা তোলে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত, কিন্তু ভাঙেনি। তার চোখে যেন চাপা জেদ, গোপন কোনো আ’গুন জ্বলছে।
রাইসা কে ওমন অবস্থায় দেখে পুরুষ্ট বক্ষঃস্থল কম্পিত হয় ইস্ক্রিয়াসের। কেন করছে মেয়েটা এমন? সবকিছু বলে দিলে সে বাঁচিয়ে নেবে। একটুখানি স্বার্থপর হয়ে না হয় তার কিউটিপাই কে বাচিয়ে নেবে!
ইস্ক্রিয়াস তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল।
“এখনো সময় আছে রাইসা, সবকিছু স্বীকার করে নাও!”
রাইসা একপলক দেখলো ইস্ক্রিয়াসকে। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে ছেলেটা কিন্তু আফসোস সে তাকেও ঠকিয়েছে। ভালোবাসার নামে ছলনা করেছে!
রাইসা শুকনো হেসে বলল।
“ওরকম ভালোবাসতে নেই ইন্সপেক্টর।”
ইস্ক্রিয়াস ভরাট স্বরে আওড়াল।
“কি করার, ভুলটা যে মন করে বসেছে!”
রাইসা নিশ্চুপ, সুদর্শন ইস্ক্রিয়াস কে আরো একটিবার মন ভরে দেখলো। সেও করেছে ভুল। সে ভালোবেসে ফেলেছে এই ইন্সপেক্টর কে। কিন্তু স্বীকার করার মতো দুঃসাহসী সে নয়।
“মন আর মস্তিষ্কের খেলায় সর্বদা কে জিতে ইন্সপেক্টর?”
ইস্ক্রিয়াস রাইসার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বলল।
“আমি মস্তিষ্ক দিয়ে ভাবতেই পছন্দ করি, মনের কথা শুনতে নয়!”
রাইসা এ বেলায় চওড়া হাসলো।
“অথচ আজ সেই কঠোর হৃদয়ের তুমি মনের কথা শুনতে বাধ্য হচ্ছো!”
ইস্ক্রিয়াস আর কিছু বলল না। দরজাটা শব্দ করে আ’ঘাত করলো
সামান্য শব্দেও শরীর কেঁপে উঠে, তবুও সে উঠে দাঁড়ায়। হাতদুটো ধরা লোহার রিং থেকে মুক্ত করতেই মনে হলো একটা পাখি ডানা ছেঁড়া অবস্থায় খাঁচা ছাড়ছে।
তাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই অন্ধকারের পরে তাকে আরেক অন্ধকারেই ফেলা হবে, তবুও রাইসার ভিতরের প্রতিরোধের শিখা নিভে যায় না।
বার্সেলোনার শীতল সকালের পরিবেশ কাঁপতে কাঁপতে বাহিরে অপেক্ষা করছে কালো আর্মার্ড ভ্যানটি যেখানে উঠলেই রাইসা চলে যাবে সেই ভয়াল কোল্ড স্টোন প্রিজনের দিকে।
****************
“আপনি কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেন না তো চার্ম? আমার কিন্তু আপনি ছাড়া কেউ নেই!”
স্মাইলি কে বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছে ইদ্রান। সে তো নিজেও অসহায় এই কন্যার কাছে। তাকে ছাড়া এক মূহূর্ত ভাবতে পারে না!
স্মাইলির চুলের ভাঁজে হাত গলিয়ে তাকে আরো কাছে টানল ইদ্রান।
“উঁহু কখনো না প্রিন্সেস! তুমি শুধু আমার আর আমার। সবসময় আমার কাছে, আমার সাথে থাকবে!”
স্মাইলি মুখ নামিয়ে চুমু খেলো ইদ্রানের কপালে। ইদ্রান দুষ্টু ভঙ্গিতে হাসলো।
“নট ব্যাড প্রিন্সেস। তুমি আমাকে সিডিউস করছো!”
স্মাইলি হেসে ফেলল,গলা জড়িয়ে ধরে ইদ্রানের।
“যদি বলি হ্যাঁ তাহলে?”
ইদ্রান কোমড় টেনে নিজের সাথে খুব করে মিশিয়ে নিলো স্মাইলি কে।
“শুনুন মিসেস স্মাইলি প্রিন্সেস দ্রিশা,ইউ আর মাইন। এভাবে সিডিউস করলে কিন্তু তোমারই ক্ষতি হবে!”
স্মাইলি আজ বেসামাল হলো! ইদ্রানের কানের লতিতে হাল্কা করে কামড় বসিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো।
“তাতে ক্ষতি কি?”
ইদ্রান চট করে উপরে চলে এলো স্মাইলির। হাস্কিটুনে বলে উঠে।
“তাহলে আজ অন্য কিছু হোক।”
স্মাইলি কিছু বলার সুযোগ পেলো না। ইদ্রান নিজের সম্পূর্ণ ভার ছেড়ে দিলো স্মাইলির তুলতুলে শরীরের উপর। আদুরে স্পর্শে মুচড়ে যায় রমণী। ইদ্রান আজ বড় বেসামাল স্মাইলির নিজ থেকে কাছে আসাটা আরো উন্মাদ করে তুলেছে! ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে ইদ্রান। শুষে নিতে যায় মধু সুধা।
বিছানায় শুয়ে আছে কল্পনা। মনটা উশখুশ করছে তার। আজ গুনে গুনে কতগুলো দিন হলো নীলাদ্রির খোঁজ নেই, অথচ আফরিদ কে জিজ্ঞেস করলেই বলে তাকে জরুরি কাজে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কল্পনা? সে তো চিন্তামুক্ত হতেই পারছে না। এই নীলাদ্রি তো সর্বদা তাকে ফোন করে কোথাও গেলে! অবশ্য সে যদি ভুলেও যায় কল্পনা নিজ থেকে কল করে, কিন্তু এবারে তো তার ফোনটা পর্যন্ত রিসিভ করছে না নীলাদ্রি!
চতুর্থ বারের মতো কল লাগালো নীলাদ্রির নাম্বারে অথচ ফোন বন্ধ আসছে। কল্পনা আশ্চর্য না হয়ে পারছে না,বাড়ির কারোই কি নীলাদ্রি কে নিয়ে চিন্তা নেই?
“নীলাদ্রি! কোথায় আছো তুমি?”
কল্পনা নিজের সাথেই বিড়বিড় করলো।
রাত্রি তখন প্রায় এগারোটার ঘনত্ব অতিক্রম করতে চলেছে। সমগ্র পরিবেশ নিস্তব্ধতার ভারে আচ্ছন্ন, যেন সময় নিজেই নিঃশব্দে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। ন্যান্সির মন অবিরামভাবে আকৃষ্ট হয়ে আছে একটিমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে আফরিদ এহসান। তার উপস্থিতি ছাড়া যেন নিজের অস্তিত্বও অস্পষ্ট মনে হয় ন্যান্সির কাছে; মনে হয়, তাকে না দেখলে শ্বাস-প্রশ্বাসও অনিয়মিত হয়ে পড়বে।
কিছুক্ষণ পূর্বেই ফিরে এসেছে আফরিদ। ক্লান্ত পদচারণার শব্দটুকু পর্যন্ত ন্যান্সির শ্রবণেন্দ্রিয় এড়ায়নি। সে তখনো সম্পূর্ণভাবে ফ্রেশ হয়নি যেভাবে এসেছে, ঠিক সেই অবস্থাতেই শুয়ে পড়েছে। জুতো পর্যন্ত খোলা হয়নি, আহারও গ্রহণ করেনি। এই অবস্থা দেখে ন্যান্সির মনে উদ্বেগের সঞ্চার ঘটে, তার শরীরিক অবস্থা নিয়ে অস্থিরতা তাকে গ্রাস করে।
এখন সে শায়িত অবস্থায় রয়েছে বিছানায়। কক্ষের বাতি নিভানো, কেবল মৃদু ডিম-লাইটের আবছা আলো তার মুখাবয়বকে আধো অন্ধকারে ভাসিয়ে তুলেছে। সেই আলোতে তার কঠোর মুখাবয়ব কিছুটা কোমল, কিছুটা প্রশান্ত দেখাচ্ছে যেন কোনো অচেনা নীরবতার প্রতিমূর্তি।
ন্যান্সি দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তবু তার অনুভূতি যেন সমগ্র ঘর জুড়ে বিস্তৃত। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত শান্তি এই মানুষের নিঃশ্বাসে নিহিত, আর সমস্ত অস্থিরতার সমাধান লুকিয়ে আছে তার চোখের পলকে। বাইরে গভীর রাত্রি, ভেতরে ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস সব মিলিয়ে ন্যান্সির কাছে মনে হয়, আফরিদ এহসান পাশে থাকলে পৃথিবী থেমে যায়, দূরে গেলে অস্থিরতা দ্বিগুণ গতিতে ছুটে চলে।
ধীরে ধীরে, অনিচ্ছাসত্ত্বেও ন্যান্সি এগিয়ে যায়। দরজার লক অটোমেটিকভাবে সক্রিয় হয়ে যায় তার প্রবেশের সাথে সাথেই।
সে বিছানার পাশে এসে বসে। তার দৃষ্টি স্থির হয়ে যায় আফরিদের দিকে। অদ্ভুত এক মোহে আবদ্ধ হয়ে পড়ে সে কখনো এত গভীরভাবে এই মানুষটিকে পর্যবেক্ষণ করেনি সে। অতীত স্মৃতিতে ভেসে ওঠে সেই প্রথম মুহূর্ত, যখন আফরিদ নিজেকে তার সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেছিল, যা ন্যান্সির চেতনায় গভীর ছাপ ফেলেছিল।
তার দৃষ্টি আলতোভাবে নেমে যায় আফরিদের বাহুর দিকে। ব্যান্ডেজটি বিবর্ণ ও অগোছালো হয়ে গেছে। সে আলতো হাতে ফার্স্ট এইড বক্স এনে নতুন করে ব্যান্ডেজ পরিবর্তন করতে শুরু করে। এই ক্ষত তারই সৃষ্ট ইচ্ছাকৃতভাবে সে কাঁচের আঘা’ত করেছিল। সেই স্মৃতি মনে পড়তেই তার অন্তরে এক জটিল অনুভূতির সঞ্চার হয়।
কাজ শেষ করে সে হঠাৎ নিচু হয়ে ক্ষতস্থানে আলতো একটি চুম্বন রাখে। এরপর উঠে এসে সে আফরিদের পায়ের পাশে বসে। জুতো ও মোজা আলগোছে খুলে দেয়। এক অদ্ভুত মনোযোগে সে বারবার তাকে পর্যবেক্ষণ করে যেন তার অস্তিত্বকে নতুনভাবে বুঝতে চাইছে।
হঠাৎই আফরিদ তীক্ষ্ণ গতিতে উঠে বসে। আচমকা তার নিকটবর্তী অবস্থান দেখে ন্যান্সি চমকে পেছনে সরে যায়। কিন্তু মুহূর্তেই আফরিদ তাকে কোমর থেকে আকড়ে ধরে নিজের দিকে টেনে আনে, বুকে চেপে ধরে।
“কি ব্যাপার? এমন মুচকি মুচকি হাসছিস কেন? ব্যান্ডেজ বদলাচ্ছিস, চুমু দিচ্ছিস, জুতো খুলে দিচ্ছিস বিষয়টা কী?”
ন্যান্সি ধরা পড়ার ভঙ্গিতে স্থির হয়ে যায়। তার কণ্ঠে কৃত্রিম রাগ ফুটে ওঠে।
‘আমি সবসময়ই কথা বলতে বলতে মুখের দিকে তাকাই। আর আপনি কী এমন রাজপুত্র যে তাকিয়ে থাকব আপনার সাথে হাসার কী আছে? আপনি তো একজন অসভ্য মাফিয়া!”
আফরিদ তাকে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে। তার ঠোঁটে ক্ষীণ বিদ্রূপাত্মক হাসি।
“প্রেমে পড়েছিস নাকি?”
ন্যান্সি এক মুহূর্ত স্থির থাকে। তারপর দৃঢ়ভাবে বলে,
“না। কখনোই না।”
এই কথার পরপরই আফরিদ হঠাৎ তার ঠোঁটে আলতোভাবে স্পর্শ করে।
“তুই কিছু অনুভব করিস না?”
ন্যান্সি আতঙ্কিত ভঙ্গিতে জবাব দেয়,
“না, একদম না।”
আফরিদের শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুততর হয়। সে নিচু স্বরে বলে,
“তাহলে চল, এখন কিছু করি। তোর অনুভূতি তখনই আসবে।”
সে ন্যান্সিকে আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। ন্যান্সি অস্বস্তিতে কুঁকড়ে যায়।
“ছাড়ুন, ফ্রেশ হয়ে খানিকটা বিশ্রাম নিন।”
সে উঠে যেতে চায়, কিন্তু আফরিদ পুনরায় তাকে টেনে আনে।
“উত্তর দে। তুই এমন কেন হচ্ছিস?”
ন্যান্সি বিরক্ত কণ্ঠে বলে,
“আমাকে ছাড়ছেন না কেন?”
“আনসার মি রাইট নাও, অর আই’ল ফাক ইউ।”
ন্যান্সি চোখ বড়বড় করে তাকালো আফরিদের দিকে। শুকনো ঢোক গিলে বলল।
“কি অসভ্যতা আপনার! সবসময় এমন করেন? ছাড়ুন,আর হ্যাঁ ব্যান্ডেজ এত নোংরা হয় কেন? একদিনেই এই অবস্থা?”
আফরিদ ছাড়ে না, ন্যান্সি সরু কটিদেশ খামচে ধরে।
ব্যাথায় অস্ফুট স্বরে শব্দ তুললো ন্যান্সি।
“উত্তর দে। তুই কিন্তু কথা ঘুরাচ্ছিস! আমার কিন্তু জোরাজুরি ভালো লাগছে না! জোরাজুরিতে অভ্যস্ত নই।”
ন্যান্সি শুকনো ঠোঁট জোড়া ভিজিয়ে নিলো, অসহায় কন্ঠে বলে।
“ছেড়ে দিন প্লিজ!”
আফরিদ ন্যান্সি সহ এগুতে এগুতে ক্লোজেটের সাথে চেপে ধরে।
“বল না।”
ন্যান্সি বুঝলো এই ধূর্ত লোকটা জেনেই ছাড়বে ন্যান্সি তার প্রেমে পড়েছে।
“না বললে?”
আফরিদ হাত নামিয়ে আনে, ন্যান্সির পেট বরাবর নিয়ে যায়। ন্যান্সি কব্জি চেপে ধরে আফরিদের। আফরিদ নেশালো কন্ঠে বলে।
“ফ্রেঞ্চ কিস দে তাহলেই বিশ্বাস করব।”
ন্যান্সি কটমট দৃষ্টিতে তাকালো, হাপুসহুপুস করছে এক প্রকার।বাজে অশ্লীল এওয়ার্ড পাওয়া উচিত আফরিদের। আফরিদ এহসান মানেই চল কিছু করি!
ন্যান্সি এবারে হুমকি স্বরূপ চেঁচালো।
“ছাড়বেন আপনি?”
আফরিদ দুষ্টু হাসলো,মুখ এগিয়ে কানের দিকে চুল সরিয়ে ঠোঁট ছোঁয়ায় সেখানে।
“ফ্রেঞ্চ কিস দে। যতক্ষণ না আমি বলব ততক্ষণ অবধি। না দেওয়া পর্যন্ত ছাড়ব না।”
ন্যান্সি কিছুই ভাবলো না, আফরিদের গলা জড়িয়ে ধরে,ঘাড় বাঁকিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায়। আফরিদ মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। সে ভাবতে পারেনি এই মেয়ে এত দ্রুত তাকে চুমু খাবে।
ঠোঁটে ঠোঁট স্পর্শ চলেছে, ঠোঁটের এই দংশন সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে ন্যান্সি। গুনে গুনে দুই মিনিট পর ছেড়ে দিলো । এক পলক তাকলো না পর্যন্ত আফরিদের দিকে। চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়ে কম্ফোর্ট টা জড়িয়ে নিলো। মুখ ঢেকে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস টানছে। বুক কাঁপছে তার!
আফরিদ স্থির নেত্রে তার পরাণের দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা তাকে নিজ থেকে চুমু দিলো? আচ্ছা এত লজ্জা আসে কোথা থেকে? এই লজ্জার ঠেলায় চোখের দিকে তাকায় নি পর্যন্ত।
ঠিক পাশ থেকে কাইট্যান ম্যাও ম্যাও করে উঠে। আফরিদ তার দিকে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলে।
“তোর বাপ মা রোম্যান্স করছে,তুই কি জেলাস কাইট্যান?”
কম্ফোর্টের ভেতরেই ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হাসলো ন্যান্সি।
চলবে………।
( একদিন পরপর দিয়ে গল্পটা শেষ করে দেওয়ার টার্গেট আমার। যতটুকু বুঝলাম পাঠক অপেক্ষা করতে রাজী নয়।ওরা চায় সবকিছু সহজে মিটমাট হয়ে যাক এবং গল্প শেষ। রেসপন্স করবেন পরবর্তী পর্ব দ্রুত আসবে।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৭