#অসম্ভব_রকম_ভালোবাসি_তোমায়
#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
#পর্ব ৫৮
রাত দশটার দিকে শুভ্র আর ঈশান বাড়ি ফিরল। রাস্তায় হুট করে নামা বৃষ্টিতে দুজনেই একদম ভিজে একাকার হয়ে গেছে। বাড়ির সবাই ড্রয়িংরুমে ওদের জন্যই অপেক্ষা করছিল রাতের খাবারের জন্য। ওদের দুজনকে ওই অবস্থায় দেখে রাবেয়া এহসান কপালে হাত দিয়ে বললেন।
“দুজনেই তো ভিজে গেছিস।”
ঈশান শার্ট থেকে পানি ঝাড়তে ঝাড়তে বেশ অস্বস্তি নিয়ে বলল।
“আন্টি আমি বরং চলে যাই। ভেজা শরীরে বেশিক্ষণ আমি থাকতে পারি না।”
রাবেয়া এহসান কড়া সুরে বললেন।
“একদম নয়। না খেয়ে আমি তোমাকে ছাড়ছি না। তোমরা দাঁড়াও আমি রিদির আব্বুর লুঙ্গি দিচ্ছি। দুজনেই আপাতত শার্ট চেঞ্জ করে লুঙ্গি পরে নাও।”
লুঙ্গির নাম শুনেই শুভ্র নাক কুঁচকে ফেলল।
“লুঙ্গি?”
ঈশান দাঁত বের করে হেসে বলল।
“হ্যাঁ বস। লুঙ্গি।”
রাবেয়া এহসান দুটো নতুন লুঙ্গি এনে শুভ্র আর ঈশানের হাতে ধরিয়ে দিলেন। ঈশানকে তিনি ড্রয়িংরুমের কাছের ওয়াশরুমে নিয়ে গেলেন। শুভ্র ঈশানের সাথে না গিয়ে সোজা রিদির রুমে ঢুকল। সেখানে গিয়ে দেখে রিদি আর শুভ্রা বিছানায় শুয়ে আড্ডা দিচ্ছে। শুভ্রকে কাকভেজা হয়ে আসতে দেখে শুভ্রা হো হো করে হেসে উঠল।
“তুমি তো একদম ভিজে গেছো। আর হাতে ওটা কী। লুঙ্গি মনে হচ্ছে। সিরিয়াসলি ভাইয়া তুমি লুঙ্গি পরবে?”
শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে গজগজ করে বলল।
“দাঁত কেলাবি না,চড়িয়ে দাঁত ফেলে দিবো।”
বলেই শুভ্র হাতের একটা শপিং ব্যাগ টেবিলের ওপর রাখল। রিদির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল।
“তোর তোয়ালে কই?”
রিদি হাতের ইশারায় ব্যালকনি দেখিয়ে দিল। শুভ্র ব্যালকনি থেকে তোয়ালেটা নিয়ে গটগট করে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। শুভ্রাও রুম থেকে বেরিয়ে এল। করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ শুভ্রা থমকে দাঁড়াল। তার চোখ তো চড়কগাছ। সামনেই ঈশান দাঁড়িয়ে। কোমরে লুঙ্গি কিন্তু গিঁট দিতে গিয়ে বেচারা হিমশিম খাচ্ছে। একবার গিঁট দেয় তো পরক্ষণেই সেটা আলগা হয়ে ঝুলে পড়ে। ঈশানের মতো লম্বাচওড়া সুঠাম দেহের মানুষ যখন লুঙ্গি সামলাতে না পেরে কুঁজো হয়ে বারবার গিঁট দিচ্ছে তখন দৃশ্যটা মহাকাব্যিক লাগছে। শুভ্রা নিজের হাসি আর চেপে রাখতে পারল না। সে খিলখিল করে শব্দ করে হেসে দিল।হঠাৎ কোনো মায়াবী হাসির শব্দ শুনে ঈশান মুখ তুলে তাকাল। শুভ্রার সেই বাঁধভাঙা হাসি দেখে ঈশানের রাগ হওয়া তো দূরের কথা সে অপলক তাকিয়ে রইল। কী সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। হাসলে গালে টোল পড়ছে আর চোখের মণি দুটো ঝিলিক দিচ্ছে। ঈশানের বুকের ভেতর যেন শত সহস্র প্রজাপতি ডানা ঝাপটাতে শুরু করল। এক প্রকার মুগ্ধতা আর অদ্ভূত উত্তেজনায় ঈশান জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। সে ভুলে গেছে সে লুঙ্গি পরতে পারছে না। ওই মুগ্ধতায় ডুবে থাকা অবস্থায় তার হাত কখন যে শীতল হয়ে লুঙ্গি ছেড়ে দিয়েছে সে টেরই পায়নি।
এদিকে শুভ্রা হাসতে হাসতে খেয়াল করল ঈশান একদম মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো ঈশানের কোমরে যে লুঙ্গিটা এতক্ষণ লড়াই করছিল সেটা এখন আর সেখানে নেই। অভিকর্ষ বলের নিয়মে সেটা এখন ঈশানের পায়ের নিচে ফ্লোরে লুটোপুটি খাচ্ছে। অর্থাৎ ঈশান এখন কেবল আন্ডারওয়্যার পরে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্রা হাসির চোটে এক মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারল না কী হয়েছে। কিন্তু যখনই বুঝল ঈশানের কী অবস্থা তখন তার হাসির বাঁধ যেন ভেঙে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই লজ্জা আর চরম ধাক্কায় তার মাথাটা কেমন ঘুরে উঠল।
“ধপপপপপ।”
শুভ্রা জ্ঞান হারিয়ে ঠাস করে ওখানেই পড়ে গেল। এত বড় একটা আওয়াজ শুনে ঈশানের ঘোর কাটল। সে অবাক হয়ে দেখল শুভ্রা কেন হঠাৎ এভাবে বেহুঁশ হয়ে গেল। সে হন্তদন্ত হয়ে শুভ্রার দিকে পা বাড়াতে যাবে ঠিক তখনই ফ্লোরের দিকে চোখ গেল তার। সে দেখল তার সাধের লুঙ্গিটা পায়ের দু ফাঁক দিয়ে একদম মাটির সাথে মিশে আছে। মানে লুঙ্গি থাকার কথা কোমরে অথচ ওটা এখন মেঝেতে বিশ্রাম নিচ্ছে। নিজের দিকে তাকিয়ে যখন সে দেখল কোমরের অংশটা পুরোই খালি তখন তার কলিজা একদম শুকিয়ে গেল।
“ওহহহহহহ শিট। লুঙ্গি খুলে গেছে।”
ঈশান তাড়াহুড়ো করে লুঙ্গিটা কোমরে এমনভাবে প্যাঁচাল যেন ওটা কোনো জাদুকরী গিঁট। তারপর এক দৌড়ে শুভ্রার কাছে এসে দেখল মেয়েটা সত্যিই জ্ঞান হারিয়ে কাঠ হয়ে পড়ে আছে। সে একবার চারপাশটা দেখে নিল। কেউ আসার আগেই শুভ্রাকে ঠিক করতে হবে, নাহলে লুঙ্গি কেলেঙ্কারি জানাজানি হলে তার মান-সম্মানও বঙ্গোপসাগরে ভেসে যাবে।সে তড়িঘড়ি করে শুভ্রাকে পাজাকোলে তুলে নিল। পা বাড়াতেই অনুভব করল তার পায়ের নিচের শত্রু মানে লুঙ্গিটা আবার বিদ্রোহ শুরু করেছে। গিঁটটা আলগা হয়ে আসছে। ঈশান দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে লুঙ্গির উদ্দেশ্যে বলল।
“দেখ খবিস, একদম তেজ দেখাবি না। এখন যদি আবার খুলিস, তবে তোকে সুতো ছিঁড়ে নাটাই ছাড়া ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেবো। তোর মান সম্মান তো যাবেই। সাথেআমারটাও যাবে।,একদম লাইনে থাক বলছি।”
কষ্টে সৃষ্টে শুভ্রাকে পাশের রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দিল সে। তারপর শুভ্রার গালে হালকা টোকা দিতে দিতে ফিসফিস করে ডাকতে লাগল।
“এই শুভ্রা। শুনছো গো। প্লিজ চোখ খোলো। এই দেখো, আমি এবার স্টিলের গিঁট দিয়ে লুঙ্গি পরে ফেলেছি। এখন আর খোলার কোনো চান্স নেই। দেখো না একবার।”
কিন্তু শুভ্রার কোনো নড়াচড়া নেই। ডাকতে ডাকতেই হঠাৎ ঈশানের চোখ গেল শুভ্রার মুখের দিকে। আহা কী অপূর্ব মায়াবী এক দৃশ্য। চোখ বন্ধ অবস্থায় শুভ্রাকে যেন স্বর্গের কোনো অপ্সরী মনে হচ্ছে। ঈশানের ভেতরের জবরদস্ত তখন কোন দেশে উধাও হয়ে গেছে সে নিজেও জানে না। সে এক অদ্ভুত ঘোরের বশবর্তী হয়ে ধীরে ধীরে নিজের মুখটা শুভ্রার মুখের কাছে নিয়ে এল। তার তপ্ত নিশ্বাস তখন শুভ্রার নাকে আছড়ে পড়ছে।ঈশান একদম আবেশে শুভ্রার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। তারপর সেই ছোঁয়া নামিয়ে আনল শুভ্রার গোলাপের পাপড়ির মতো পাতলা ঠোঁটে। এক মুহূর্তের সেই উষ্ণ ছোঁয়ায় ঈশানের হৃদপিণ্ডটা যেন লাফালাফি শুরু করল। ঈশান নিজেকে সামলে নিয়ে এক সেকেন্ডও দেরি করল না। দ্রুত ওয়াশরুম থেকে অঞ্জলি ভরে পানি এনে শুভ্রার মুখে ছিটা দিল।পানির ঝাপটা লাগতেই শুভ্রা কপাল কুঁচকে পিটপিট করে চোখ খুলল। সামনে ঈশানকে দেখতেই তার সেই লুঙ্গি পতনের দৃশ্যটা চোখের সামনে মুভির মতো ভেসে উঠল। সে একবার ঈশানের মুখের দিকে তাকাল আর একবার ওর কোমরের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হলো যে জিনিসটা এবার জায়গামতো আছে কি না। শুভ্রার গাল দুটো মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে ঈশানের দিকে তাকিয়ে রইল।ঈশান একদম গম্ভীর মুখে দম্ভের সাথে বলল।
“তাকানোর কিছু নেই। দেখার সুযোগ বার বার আসে না। একবার যেটা দেখেছ নেক্সট টাইম দেখার আশা করো না। এটাকে বোনাস হিসেবে ধরে নাও।”
শুভ্রা লজ্জায় আর রাগে একদম অস্থির হয়ে উঠল। সে বিছানায় উঠে বসে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“ছিঃ। কী অসভ্য আপনি। কী বলছেন এসব। আমি কেন দেখতে যাবো। বরং আপনার লজ্জা থাকা উচিত। এতকিছুর পরেও আপনি আমার সামনে কিভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।
ঈশান এবার বুক টান টান করে এক পা এগিয়ে দিয়ে বেশ ভাব নিয়ে বলল।
“এই যে পা দিয়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি দেখতে পাচ্ছো না। আর রইল লুঙ্গি খোলা। এতে আমার কী করার বলো। লুঙ্গি কি আর ব্রেক কষা গাড়ি যে আমি কন্ট্রোল করব। আমি লুঙ্গি পরে অভ্যস্ত না। হুট করে পরেছি তাই ওটা নিজের রাস্তা মেপে নিচে নেমে গেছে।”
শুভ্রা এবার ঠোঁট কামড়ে ধরে কোনোমতে নিজের হাসি সামলানোর চেষ্টা করল। সে হাসতে হাসতে বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল।
“আমার সামনে না খুলে যদি মাঝরাস্তায় এই কান্ড হতো তখন। তখনও কি আপনি লুঙ্গি মাটিতে ফেলে রেখেই পাবলিককে ভাষণ দিতেন আমার কী করার বলেন ভাই। লুঙ্গি পরে আমি অভ্যস্ত না। এটা কি আমার দোষ?”
ঈশান এবার একটু কাঁচুমাচু হয়ে গেল। সে মনে মনে ভাবল মাঝরাস্তায় এমন হলে তো পাবলিক তাকে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে ফেলত। সে তবুও ইজ্জত বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করে বলল।
“আরে রাস্তায় খুললে তো অন্য ব্যাপার। ওখানে তো পাবলিক থাকবে। তখন লুঙ্গি কান্ধে নিয়ে দৌড় দিতাম। কিন্তু এখানে তো তুমি আর আমি। ভাবলাম দেখেই যখন ফেলেছ তখন আর তাড়াহুড়ো করে ইজ্জত টানার কী দরকার। যা গেছে তা তো গেছেই।”
শুভ্রা দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে হাসি থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে করতে বলল।
“আপনি যান এখান থেকে। প্লিজ দয়া করে যান এখান থেকে।”
ঈশান বেশ একটা ভাব নিয়ে বলল।
“আচ্ছা।”
বলেই ঈশান বীর দর্পে ঘুরে দরজার দিকে হাঁটা দিল। কিন্তু দুই কদম যেতে না যেতেই বেইমান লুঙ্গিটা আবারো পিছলে নিচের দিকে নামতে শুরু করল। একদম শেষ মুহূর্তে ঈশান কোনোমতে খপ করে ওটা ধরে ফেলল। পেছন থেকে শুভ্রা পুরো দৃশ্যটা দেখে এবার হাসতে হাসতে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল। হাসির চোটে তার দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়।ঈশান লুঙ্গিটা কোমরে শক্ত করে খামচে ধরে রাগে আর অপমানে নীল হয়ে বিড়বিড় করতে লাগল।
“আরে কুলাঙ্গার। তোর কি ইজ্জতের কোনোই দাম নাই। তুই কি আমাকে আজ সবার সামনে উলঙ্গ করেই ছাড়বি। এই তুই কি কোনো কাপড়ের গুদাম থেকে জন্ম নিছিস নাকি বেইমানদের বস্তা থেকে। তোকে দিয়ে কি আমি শেষে ঘর মোছার ন্যাকড়া বানাবো। পিসাস লুঙ্গি।ছিঃ ছিঃ। তোকে পরার চেয়ে কচুর পাতায় লজ্জা ঢাকাও অনেক ভালো ছিল।”
_______
শুভ্র ভেজা কাপড় চেঞ্জ করে লুঙ্গি পরে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। রিদি তখন ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। দরজার শব্দ পেয়ে সে রুমে আসতেই একদম থমকে গেল। শুভ্রর পরনে কেবল একটা নীল রঙের লুঙ্গি আর উদাম গা। সুঠাম সেই শরীরের খাঁজে খাঁজে বৃষ্টির পানি চিকচিক করছে। চুল থেকে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে বুকের ওপর দিয়ে নিচে নামছে। শুভ্রকে এমন ঘরোয়া আর তীব্র পুরুষালি রূপে দেখে রিদি যেন পাথরের মতো জমে গেল। তাকে ওভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুভ্র তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নায় রিদির প্রতিচ্ছবি দেখে সে ঠোঁটে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল।
“মাছি ঢুকে যাবে । মাউথ ক্লোজ কর।”
রিদি সম্বিৎ ফিরে পেয়ে দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিল। লজ্জায় তার গাল দুটো মুহূর্তেই আপেলের মতো লাল হয়ে উঠল। সে কোনো কথা না বলে পা বাড়িয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলে শুভ্র পেছন থেকে ভারী গলায় বলল।
“কই যাস।”
রিদি দাঁড়িয়ে পড়ল কিন্তু পেছন ফিরল না। সে মাথা নিচু করে ধরা গলায় বলল।
“নিচে।”
শুভ্র এবার রিদির একদম পেছনে এসে দাঁড়াল। শুভ্রের শরীরের সেই ভেজা সোঁদা ঘ্রাণ আর বৃষ্টির শীতল আবেশ রিদির স্নায়ুতে নেশার মতো আছড়ে পড়ল। শুভ্র রিদির খুব কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“টেবিলের ওপর শপিং ব্যাগ রেখেছি। ওইটা সকালে খুলিস।”
রিদি কৌতূহলী হয়ে টেবিলের দিকে তাকাল। দেখল সত্যি টিয়া কালারের একটা শপিং ব্যাগ রাখা। সে মৃদু স্বরে বলল।
“এখন খুলি?”
শুভ্র একটা ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
“নো। সকালে। এখন আমার মাথা ব্যথা করছে। টিপে দে?”
রিদি আমতা আমতা করে কাঁপা গলায় বলল।
“আমি?”
শুভ্র এবার রিদির দিকে ঘুরে সরাসরি ওর চোখের গভীরে তাকাল। তার চোখে তখন এক আবেশ মাখা কর্তৃত্ব। সে রিদির চুলের ঘ্রাণ নিয়ে একটু নেশাতুর গলায় বলল।
“ইয়েস ম্যাডাম আপনি। বেশি কথা না বলে একদম চুপচাপ বিছানায় আয়।”
শুভ্র বিছানায় গিয়ে চিত হয়ে শুলো। রিদির দিকে তাকিয়ে তার গম্ভীর আবেশ মাখা গলায় বলল।
“কাম হেয়ার।”
রিদি কোনো কথা না বলে চুপচাপ বিছানার কাছে এসে শুভ্রের পাশে বসল। সে নিজের ভেতরের অস্থিরতা সামলে নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে শুভ্রের চওড়া কপালে দুই হাত রাখল। তারপর খুব নরম ভাবে টিপতে শুরু করল। শুভ্র এক বুক প্রশান্তি নিয়ে আরামে চোখ বন্ধ করল। রুমের ভেতর এসি চলার মৃদু শব্দ আর রিদির হাতের সেই মায়াবী ছোঁয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভ্রের নিশ্বাস ভারী আর গভীর হতে থাকল। বোঝা যাচ্ছে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছে।বেশ কিছুক্ষণ টিপে দেওয়ার পর রিদি হাত থামিয়ে শুভ্রের মুখের দিকে তাকাল। শুভ্র ততক্ষণে অঘোরে ঘুমিয়ে পড়েছে। রিদি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মানুষটার দিকে। ইশ। ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষটাকে ঠিক কত বাচ্চার মতো লাগে। একদম যেন দুধেভাতে কোনো শিশু। অথচ জেগে থাকলে এই লোকটাই ঝাল একদম বিন্দু মরিচ। রিদির মনে আবারও সেই অবাধ্য ইচ্ছাটা জেগে উঠল। তার খুব ইচ্ছে করছে শুভ্রের কপালে একটা চুমু খেতে। নাকটা একটু ছুঁয়ে দিতে।সে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। খুব সাবধানে মুখটা নামিয়ে অতি যত্নে শুভ্রের কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। তারপর পিচ্চি বাচ্চাদের মতো শুভ্রের নাকটা আলতো করে টিপে দিয়ে আদুরে গলায় বলতে লাগল।
“ওলে বাবুটা। তুমি এখন ঘুমাচ্ছো। ইস কী ঘুম। ঘুমালে তোমাকে আলো কত কিউট লাগে তুমি কি জানো। পুচকু একটা।”
রিদি নিজের মনেই মুচকি হাসল। তারপর শুভ্রের কানের একদম কাছে মুখ নিয়ে খুব সন্তর্পণে ফিসফিস করে বলল।
“এই যে মিস্টার ঘুমন্ত রাজকুমার। শুনছেন। ভালোবাসি। আই লাভ ইউ।”
বলেই রিদি চোরের মতো দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে চাইল ঠিক তখনই ঘটল অঘটন। শুভ্র যেন ওত পেতেই ছিল। রিদি এক পা বাড়াতেই শুভ্র বিদ্যুতের গতিতে রিদির ওড়না ধরে এক হেঁচকা টান দিল। রিদি সামলাতে না পেরে ছিটকে এসে সোজা শুভ্রের প্রশস্ত বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। শুভ্র শক্ত দু হাতে রিদির কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলল।রিদি ভয়ে আর বিস্ময়ে থরথর করে কাঁপছে। শুভ্র চোখ খুলে তাকাতেই দেখল রিদির সেই লজ্জায় রাঙা মুখটা। শুভ্র বাঁকা হাসি দিয়ে নেশাতুর গলায় বলল।
“ওলে বাবুটা বুঝি এখন ধরা খেয়ে গেল। আই হার্ড এভরিথিং সুইটহার্ট, পাগল করে দিলি তুই আমাকে,এখন আমি বাসর না করে তোকে ছাড়ছি না।”
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৯
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি পর্ব ৪৭ ( সারপ্রাইজ পর্ব)
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৭
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৫
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫