অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৩৫
রিদির কনুইয়ের ব্যথাটা শুভ্রের কন্ঠ শুনে যেন মুহূর্তেই উবে গেল। ও চমকে মাথা তুলে তাকাল। ছাদের আবছা অন্ধকারে রেলিংয়ের ধারে দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে, ঠোঁটে এক চিলতে সেই চেনা বাঁকা হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওর নবাব সাইফান শুভ্র চৌধুরী। শুভ্রের সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সরাসরি রিদির চোখের ওপর নিবদ্ধ।
শুভ্রকে এভাবে শান্ত আর হাসিমুখে দেখতেই রিদির মনের ভেতর অভিমানটা আরও চাড়া দিয়ে উঠল। একটু আগেই শুভ্র ওর ওপর কতটা রাগ দেখাল, আর এখন যেন কিছুই হয়নি! রিদি একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে গাল ফুলিয়ে উঠে দাঁড়াল। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটা শুরু করতেই পিছন থেকে শুভ্রের সেই ভরাট কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
“এইই, শোন?”
রিদি মনে মনে ঠিক করেছিল আর ওর কোনো কথায় কান দেবে না, কিন্তু ওই যে শুভ্রের কণ্ঠস্বর শুনলে ওর পা দুটো যেন আর নিজের বশে থাকে না। ও না চাইতেও থমকে দাঁড়িয়ে গেল। ধীর পায়ে ঘাড় ঘুরিয়ে শুভ্রের দিকে তাকাল। শুভ্র তখনো একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে, চোখে এক অদ্ভুত মায়া আর জেদ। শুভ্র এবার সোজা রিদির চোখের মণি বরাবর তাকিয়ে খুব নিচু কিন্তু স্পষ্ট স্বরে বলল।
“রাতে ছাদে আসিস?”
কথাটা শুনেই রিদির ভেতরটা একবার কেঁপে উঠল। এই তো কিছুক্ষণ আগে কী তুলকালাম হয়ে গেল, আর এখন ও রাতে ছাদে আসার কথা বলছে! রিদির রাগটা এবার জেদে রূপ নিল। ও ভ্রু কুঁচকে, গলাটা একটু শক্ত করে সোজাসুজি উত্তর দিল।
“পারব না।”
এই বলে ও আবার হনহন করে হাঁটা শুরু করল। ও আর এক মুহূর্তও এখানে থাকতে চায় না, শুভ্রের এই মায়াবী চাউনি ওকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কিন্তু শুভ্র তো হার মানার পাত্র নয়। ও রিদির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা আত্মবিশ্বাসী হাসি হাসল। তারপর একটু জোর গলায় বলল।
“আমি জানি তুই আসবি। কারণ আমি ডেকেছি তোকে, তোকে আসতেই হবে। আমিও দেখব তুই না এসে থাকতে পারিস কি না।”
শুভ্রের এই দাপুটে কথা শুনে রিদির রাগে গা জ্বলে উঠল। ও কি ওর হাতের পুতুল নাকি যে ডাকলেই যেতে হবে? রিদি আর পিছন ফিরে তাকাল না, বেশি করে মুখ বাঁকিয়ে দ্রুত ছাদের সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল। নামতে নামতে ও দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে নিজেকে নিজে শাসাতে লাগল।
“যাব না আমি, ম.রে গেলেও যাব না। ও মনে করে কী নিজেকে? আমিও দেখব আমি যাই কি না। হুহ!”
বাড়ির উঠোনে একলা দাঁড়িয়ে শুভ্রা একমনে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। সারাদিন হইহুল্লোড় আর টুকটাক হাসাহাসিতে কাটলেও, এই নিঝুম সন্ধ্যায় নিজের ভেতরটা কেমন জানি ফাঁকা লাগছে। খুব একা একা বোধ করছে ও। হঠাৎ স্তব্ধতা ভেঙে পেছন থেকে এক পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
“শুভ্রা।”
শুভ্রা ধীরলয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল ঈশান দাঁড়িয়ে আছে। আজ সারাদিন ঈশানের সাথে ওর একটা কথাও হয়নি। অথচ অন্যদিন হলে ঈশানকে ও জ্বালিয়ে মারত, আর আজ দুজনেই কেমন চুপচাপ। শুভ্রার এই অস্বাভাবিক শান্ত থাকাটা ঈশানেরও একদম পছন্দ হচ্ছে না। শুভ্রা নির্লিপ্ত গলায় বলল।
“হুম, কিছু বলবেন?”
ঈশান একটু এগিয়ে এসে নরম সুরে জিজ্ঞেস করল।
“কী হয়েছে তোমার? মন খারাপ?”
শুভ্রা আবার আকাশের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল। উদাস গলায় বলল।
“না, এমনি।”
ঈশান এবার সরাসরি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল।
“আজ সারাদিন আমার সাথে একটা কথাও বলোনি। আচ্ছা, তুমি কি আমার ওপর কোনো কারণে রাগ করেছ?”
শুভ্রা ম্লান হেসে জবাব দিল।
“না, রাগ করিনি।”
ঈশান একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল।
“রাগ না করলেই ভালো।”
শুভ্রা শুধু ছোট করে উত্তর দিল।
“হুম।”
ঈশান আর কথা বাড়াল না, এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে গেল। শুভ্রা অনেকক্ষণ ওর চলে যাওয়ার পথের দিকে বিষণ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল। ঈশানের এই হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়াটা যেন শুভ্রার মনের মেঘটাকে আরও ঘন করে তুলল। মনটা কেন জানি আগের চেয়েও বেশি ভারী হয়ে এল।
চারদিকে এখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক আর দূরে শেয়ালের হুক্কাহুয়া শব্দ মিলে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা তৈরি করেছে। বাড়ির সবাই রাতের খাওয়া শেষ করে যার যার ঘরে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। শুধু ঘুম নেই রিদির চোখে। সে একা ব্যালকনির গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ওর অবাধ্য মনটা প্রতি সেকেন্ডে ওকে খোঁচা দিচ্ছে— “একবার ছাদে যা, ও তোকে ডেকেছে।”
কিন্তু রিদি জেদ ধরেছে, সে কিছুতেই যাবে না। বড় পাজি এই মনটা! থাকে নিজের শরীরে, অথচ সারাক্ষণ চাতক পাখির মতো ধ্যানে থাকে অন্য একজনের। রিদি নিজের নখ কামড়াতে কামড়াতে ভাবল, “না, কিছুতেই যাব না। ও মনে করে কী নিজেকে? ডাকলেই যেতে হবে?”
হঠাৎ রিদির কাঁধে কেউ আলতো করে হাত রাখল। নিস্তব্ধতায় চমকে উঠে রিদি পেছনে তাকিয়ে দেখল শুভ্রা দাঁড়িয়ে। শুভ্রার চোখেও ঘুমের লেশমাত্র নেই। ও নরম গলায় বলল।
“এভাবে একা দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ঘুমাবি না?”
রিদি নিজেকে সামলে নিয়ে একটু ম্লান হেসে বলল।
“ঘুম আসছে না রে, তাই এখানে এসে দাঁড়ালাম। একটু ঝিরঝিরে বাতাস লাগছে, ভালোই লাগছে। কিন্তু তুই কেন জেগে? তোর চোখেও কি ঘুম নেই?”
শুভ্রা রিদির পাশে এসে রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়াল। আকাশের এক কোণে একফালি চাঁদের দিকে তাকিয়ে উদাস স্বরে বলল।
“নারে, আমারও একই দশা। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছিলাম, কিন্তু চোখে একদমই ঘুম ধরা দিচ্ছে না।”
রিদি একটু কৌতুক মেশানো গলায় ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল।
“কেন রে? লক্ষণ তো ভালো ঠেকছে না। প্রেমে পড়েছিস নাকি?”
শুভ্রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর মনের জমানো অস্থিরতাটুকু প্রকাশ করে ফেলল।
“প্রেমে পড়েছি কি না জানি না। কিন্তু জানিস, একজনের মুখটা সারাক্ষণ চোখের সামনে ভাসছে। তাকে অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখলে বা অন্য কারও পাশে দেখলে আমার ভেতরটা কেমন জানি জ্বলে ওঠে। একদম সহ্য করতে পারছি না তাকে অন্য কারও সাথে।”
রিদি অবাক হয়ে চোখ কপালে তুলে বলল।
“বলিস কী! তার মানে তুই নির্ঘাত প্রেমে পড়েছিস। কে রে সেই জন? আমাদের চেনা কেউ?”
শুভ্রা একটু ম্লান হাসল। ওর চোখে এক বুক আকুতি। ও ধীর গলায় বলল।
“আমাকে আর একটু সময় দে। আমি আগে নিজের মনের কাছে নিশ্চিত হই, তারপর সবটা তোকে খুলে বলব। কথা দিচ্ছি।”
শুভ্রা কিছুক্ষণ এলোমেলো গল্প করে নিজের রুমে চলে গেল। রিদি আবার একা হয়ে আকাশের দিকে তাকাল। রাত যত গভীর হচ্ছে, ওর বুকের ভেতরের ছটফটানি যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। প্রতিটা মুহূর্ত যেন ওকে খোঁচা দিচ্ছে, বারবার কানে কানে বলছে— “ছাদে যা রিদি, শুভ্র নির্ঘাত তোর জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছে।”
রিদি দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে নিজের অবাধ্য মনকে একচোট গালি দিয়ে উঠল।
“বা’লের মন! আমার শরীরে, আমার র-ক্তে-গন্ধে মিশে আছিস তুই, অথচ নিজের চেয়ে আমার ওই পাষাণ জামাইয়ের কথা ভাবছিস বেশি? সাহস কত দেখ! আর ওই নবাব? একটু শান্তিতে থাকতে দিল না আমাকে? নিজেও ছাড়বে না, আবার ধরবেও না একদম মাঝ আকাশে ঝুলিয়ে রেখেছে আমাকে। তুই খালি একবার বাগে আয়, তারপর তোকে কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় তা আমার খুব ভালো করে জানা আছে।”
নিজে নিজে একগাদা বকবক করে নিজেকে শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করল রিদি। কিন্তু লাভ হলো না। ওই যে অবাধ্য মন, সেখানে শুভ্র আগে থেকেই এমনভাবে শিকড় গেড়ে বসে আছে যে, নিজের যুক্তির চেয়ে শুভ্রের ওই হুকুমটাই ওর কাছে এখন বেশি দামি মনে হচ্ছে। বুকের ভেতর ধকধকানিটা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শেষ পর্যন্ত রিদি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। একরাশ জেদ আর এক বুক দুরুদুরু কাঁপন নিয়ে বিড়ালের মতো পা ফেলে চুপিচুপি রুম থেকে বের হলো। অন্ধকার করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে সোজা ছাদে উঠে এল ও। ছাদের দরজার কাছে আসতেই ওর হৃৎপিণ্ডটা যেন গলার কাছে উঠে এল।
অন্ধকার ছাদ। রিদি পা রাখতেই বুকটা ধক করে উঠল। চারদিকে জনমানুষের চিহ্ন নেই। তবে কি পাষাণ লোকটা আসেনি? নাকি রিদির আসতে দেরি হয়েছে দেখে বিরক্ত হয়ে চলে গেছে? এই একটা মানুষের জন্য এতক্ষণ ধরে ভেতরে ভেতরে ছটফট করছিল ও? একরাশ হতাশায় রিদির দুচোখ ভিজে আসতে চাইল। গা ছমছমে অন্ধকার আর একাকীত্বের ভয়ে ও যেই না উল্টো ঘুরে দৌড় দিতে চাইল, ঠিক তখনি বাতাসের চাদর চিরে কানে ভেসে এল গিটারের সেই পরিচিত টুংটাং সুর।
রিদি পাথরের মতো থমকে দাঁড়িয়ে গেল। ধীরলয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, ছাদের এক কোণে দেয়ালের ছায়ায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র। এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে অদ্ভুত এক ভঙ্গিতে ও গিটার বাজাচ্ছে। চাঁদের আবছা আলোয় শুভ্রের অবয়বটা যেন আরও রহস্যময় আর মায়াবী লাগছে। রিদির ঘোর কাটবার আগেই শুভ্র সেই নিঝুম অন্ধকারে সুর তুলল।
“Wo..O…Wo…O…O”
শুভ্রের ভরাট আর মাদকতাময় কণ্ঠস্বর কানে আসতেই রিদির হৃদস্পন্দন কয়েক গুণ বেড়ে গেল। ও যেন নিজের হৃৎপিণ্ডের ধকধকানি নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছে। শুভ্র গিটারের তারে আঙুল বুলিয়ে দরদ দিয়ে গাইতে শুরু করল।
“Maine chhaani ishq gali,
Bas teri aahatein mili…
Maine chaahun na tujhe,
Par meri ek na chali.”
শুভ্র গাইতে গাইতে ধীর পায়ে রিদির দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। ওর চাউনিটা আজ অন্যরকম, যেন সবটুকু অধিকার দিয়ে ও রিদিকে গিলে ফেলছে। সুরের মূর্ছনায় ও আবার ধরল।
“Ishq mein nigaahon ko
milti hai baarishein…
Phir bhi kyun kar raha
dil teri khwahishein.”
গাইতে গাইতে শুভ্র একদম রিদির গা ঘেঁষে দাঁড়াল। রিদির নিশ্বাসের তপ্ত হাওয়া শুভ্র অনুভব করতে পারছে। ও রিদির চোখের গভীর অতলে নিজের দৃষ্টি ডুবিয়ে দিয়ে চূড়ান্ত আকুতি নিয়ে গেয়ে উঠল।
“Dil meri na sune,
Dil ki main na sunun…
Dil meri na sune,
Dil ka main kya karun.”
শুভ্রের গানের রেশটুকু রাতের নিস্তব্ধ বাতাসে মিলিয়ে গেল, রিদি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ওর মুখে কোনো কথা নেই, এমনকি পলক ফেলার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে। আজ ওর জীবনের সবথেকে প্রিয় গানটি ওর সবথেকে প্রিয় মানুষটির কণ্ঠে শুনে ও যেন অন্য কোনো এক মায়াবী জগতে হারিয়ে গিয়েছে। শুভ্র গিটার বাজাতে বাজাতে রিদির চারপাশ ঘুরে ঘুরে যখন গানটা গাইছিল, রিদির মনে হচ্ছিল সময়টা যেন ওখানেই থমকে যাক।
গান শেষ হতেই শুভ্র ধীরপায়ে রিদির একদম কাছে এসে দাঁড়াল। ওদের মাঝের দূরত্ব এখন এতটাই কম যে, রিদি শুভ্রের শরীরের তপ্ত ঘ্রাণ আর ওর হৃদস্পন্দনের তাল স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে। শুভ্র গিটারটা একপাশে রেখে রিদির চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বাঁকা হাসিটা ফুটিয়ে তুলল। তারপর নিচু স্বরে বলল।
“বলেছিলাম না ম্যাডাম, আপনি না এসে থাকতে পারবেন না? পারলেন কই? শেষমেশ তো সেই আসতেই হলো। অবশ্য কোনো প্রেমিক যখন তার প্রেমিকাকে গভীর রাতে এভাবে ডাকে, সেই প্রেমিকার না এসে থাকার মতো সাধ্য বা ক্ষমতা কোনোটাই আসলে থাকে না।”
শুভ্রের এই আত্মবিশ্বাসী আর কিছুটা দাপুটে কথায় রিদির ঘোরটা মুহূর্তেই চট করে ভেঙে গেল। ওর বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে একরাশ অভিমান আর জেদ দানা পাকিয়ে উঠল। নিজেকে সামলে নিয়ে ও ঝট করে মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিল। গাল ফুলিয়ে অভিমানে একদম পাল্লা দিয়ে ও তড়িৎ উত্তর দিল।
“বেশি বুঝবেন না তো! এখানে আমি কারও হুকুম মেনে বা কারও কথায় আসিনি। আমার নিজের ঘরে দম বন্ধ লাগছিল, ভালো লাগছিল না তাই একটু হাওয়া খেতে এসেছি। আপনি এখানে আছেন কি নেই, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। হুহ!”
শুভ্র রিদির অভিমানী কথা শুনে এক মুহূর্ত থামল না। সে পকেটে হাত ঢুকিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল।
“তাই? তাহলে মিছিমিছি এখানে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার তো কোনো দরকার নেই। চলে যান?”
রিদি অপমানে আর রাগে রি রি করে উঠল। ও ঝট করে শুভ্রের চোখের দিকে তাকিয়ে চ্যালেঞ্জের সুরে বলল।
“চ্যালেঞ্জ করছেন আমাকে?”
শুভ্র ঠোঁটের কোণে সেই বাঁকা হাসিটা ধরে রেখেই শান্ত গলায় জবাব দিল।
“মোটেই না। আমি কেন চ্যালেঞ্জ করতে যাব? আপনার ভালো লাগছে না, তাই আপনি চলে যাবেন এটাই তো স্বাভাবিক।”
রিদি দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“ঠিক আছে, যাচ্ছি!”
এই বলে ও আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। গটগট করে হেঁটে ছাদ থেকে নামার জন্য পা বাড়াল। ওর ভেতরে তখন দাউদাউ করে জেদ জ্বলছে। ও দেখাতে চায় যে ও শুভ্রের কোনো তোয়াক্কা করে না। কিন্তু ছাদের দরজার ঠিক চৌকাঠে পা রাখতেই পেছন থেকে আবারো শুভ্রের সেই মাদকতাময় সুর ভেসে এল। যেন বাতাসের ঝাপটার মতো এসে রিদির পিঠে আছড়ে পড়ল। রিদির পা দুটো যেন কেউ শিকল দিয়ে মাটির সাথে আটকে দিল। ওর মনে হলো, সামনের দিকে আর এক ইঞ্চি জমিও এগোনোর মতো ক্ষমতা বা শক্তি ওর শরীরে অবশিষ্ট নেই। ও সেখানেই পাথরের মূর্তির মতো থমকে দাঁড়িয়ে রইল, বুকটা তখন কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছে। ও জানে, ও হেরে গেছে শুভ্র নামক পুরুষটার কাছে সে হারছে, প্রতিবার হারছে।
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৯
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব সারপ্রাইজ
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২০
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২২