অন্তরালে_আগুন
পর্ব:৫৯
তানিশা সুলতানা
তালুকদার বাড়ির সকলেই আজকে ঢাকা চলে যাবে। সেখানেই থাকবে। সকাল থেকেই প্যাকিং করার ব্যস্ত সকলেই। সিনথিয়ার ফ্ল্যাইট সন্ধ্যায়। তবে নওয়ান বলেছে “কিছুদিন থেকে যাও”
বড় ভাইয়ের কথা অমান্য করার স্পর্ধা সিনথিয়ার নেই। অগত্য টিকিট বাতিল করেছে। নায়েব তালুকদার ইতিমধ্যেই ঢাকা চলে গিয়েছে। আমিনার ঘুম ভাঙার আগেই হাসপাতালে উপস্থিত হবে। যাতে সে চোখ খুলেই নায়েবকে দেখতে পায়।
রাতে রাশেদুল এসেছিলো মীরাকে নিতে। হাসপাতালে তো অনেক নার্স ডাক্তার রয়েছেই সে বাসায় গিয়ে একটু রেস্ট করুক।।
কিন্তু মীরা যায় নি। তার রেস্ট এর দরকার নেই। এতে রাশেদুলের মেজাজ চটে যায়। রাগারাগি করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
আমিনাকে ঘুমের ঔষধ দেওয়া হয়েছিলো। যার ফলে সারা রাত বেঘোরে ঘুমিয়েছে। সকালে চোখ খুলতেই দেখতে পায় তার পাশে নায়েব তালুকদার বসে আছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
শুকনো ঠোঁট মেলে একটুখানি হাসে আমিনা। বসে যাওয়া স্বরে বলে
“আপনি এসেছেন?
নায়েব সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়
” হ্যাঁ
এখন কেমন আছো?
“অনেক ভালো।।
” দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠো। তোমাকে আমার বড্ড প্রয়োজন।
“আপনি এভাবে কথা বললে আমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হবো। দেখিয়েন।
এ যাত্রায় নায়েব জবাব দেয় না। হাতে তার অনেক কাজ। সংসদে যেতে হবে আজকে। তার প্রস্তুতি নিতে হতো। তাছাড়া আশার খোঁজ নেওয়া হয় না অনেল দিন৷ তার কাছেও যেতে হতো। সেসব ফেলে হাসপাতালে এসে বসে আছে।
মানুষ অসুস্থ হয়ে কেনো পড়ে থাকে? ম/রে গেলেই তো পারে। ঝামেলা মিটে গেলো।
শুধু শুধু অসুস্থ হয়ে আশেপাশের সব মানুষদের বিরক্তির কারণ হয়৷
আমিনা মানুষের মন পড়তে পারে। এই মুহুর্তে সে বুঝতে পারছে নায়েব তালুকদার বিরক্ত হচ্ছে। এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না তার।
তবে আমিনার তাকে ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। ইচ্ছে করছে মানুষটার সঙ্গে আরও কিছু মুহুর্ত কাটাতে। অনেক কথা বলতে।
একটা গান আছে না?
” তোমার যাব যাব মন
ধরে রাখবো কতক্ষণ?
মানুষটার চলে যাওয়ার তারা।।তাকে কি আর বেঁধে রাখা যাবে? কখনোই না।
“পুরুষ আসলে কিসে আটকায়?
পুরুষকে বেঁধে রাখার উপায় কি?
একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজন পুরুষকে কাছ থেকে দেখে আমিনা।
প্রথম পুরুষ তার শশুর। যে পরকীয়া করে নিজের স্ত্রীকে খুন করেছিলো।
তারপর দ্বিতীয় নারীকে নিয়েই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলো।
দ্বিতীয় পুরুষ তার স্বামী। যে বহু নারীকে ভোগ করেছে কিন্তু কাউকেই ভালোবাসে নি।
কোন নারী তাকে বাধতে পারে নি৷ হয়ত সবগুলো নারীই তাকে অসম্ভব ভালোবাসতো। অথচ কারো সৌভাগ্য হয়নি তার থেকে একটু ভালোবাসা পাওয়ার।
তৃতীয় পুরুষটি হচ্ছে আমিনা তালুকদারের সন্তান নওয়ান তালুকদার।
নিঃসন্দেহে সে একজন সুপুরুষ। একটা নারীর মাঝে আটকে আছে। ওই একটা নারীর জন্য সে জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত।
এমন অসম্ভব ভালোবাসতে সে শিখলো কোথায়?
তার শরীরের তো বইছে বহু নারীর হৃদয় ভাঙা নায়েব তালুকদারের র/ক্ত।
তবে কি গোবরে পদ্ম ফুল জন্মানোর ঘটনা সত্যি?
বুক চিঁড়ে দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসে আমিনার।
সে নায়েব তালুকদারের চোখে চোখ রেখে বলে
“আপনি এখন যেতে পারেন
জোর করে আমার পাশে থাকতে হবে না। এতগুলো বছর তো ছিলেন না আমি কি ম/রে/ছি?
এখনো ম/র/বো না।
নায়েব তালুকদার কিছু বলে না।
আমিনা আবারও বলে
” আমার পরম সৌভাগ্য যে আপনার বউ হতে পেরেছিলাম।
তার থেকেই বড় সৌভাগ্য যে আপনার আগে পৃথিবীতে ছাড়তে পারবো।
আমার মৃ/ত্যুর পরে এতো ব্যস্ততা দেখিয়েন না। প্রতিদিন সময় বের করে আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে একটু দোয়া করিয়েন।
বেঁচে থাকতে তো আর ভালোবাসা পেলাম না। মরার পরে একটু ভালোবাসিয়েন।
মনে রাখিয়েন অভাগা এই নারীর কথা।
নায়েব তালুকদার আর এক মুহুর্তও সেখানে দাঁড়ায় না। বড় বড় পা ফেলে চলে যায়। পথিমধ্যে আয়াশ এবং মিরা সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। আয়াশ বাবা বলে ডাকলেও তার কথার জবাব দেয় না। ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকে।
ডাক্তার আতিফ ইকবাল নায়েব তালুকদারকে দেখে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়।
উনি সালামের জবাব না দিয়েই প্রশ্ন করে
“আমার ওয়াইফের বেঁচে থাকার শিওরিটি কতো %?
” ৫০%
“যা করতে হয় করুন
যত টাকা লাগে আমি দেবো। তবে উনাকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে এট এনি কষ্ট।
আতিফ আলতো হেসে বলে
“বাঁচা ম/রা তো সৃষ্টিকর্তার হাতে।
আমরা ডক্টররা শুধু একটু চেষ্টা করতে পারি। তবে আপনাকে কথা দিচ্ছি আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখবো না।
বাকিটা ইষ্টিকতার হাতে।
নায়েব রেগে গেলো। সে টেবিলে থাপ্পড় মেরে বলে
” ননসেন্স কথাবার্তা বন্ধ করুন।
প্রয়োজনের বিদেশে নিয়ে যাবো আমি।
“ওয়াইফ কে এতো ভালোবাসেন?
” মাই ফুট
ওর ওপর ডিপেন্ড করছে আমার ফিউচার।
বলেই নায়েব তালুকদার বেরিয়ে যায়। আতিফ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
আমিনা এখনো দরজার পানে তাকিয়ে আছে। বিরবির করে বলে
“যদি ভাগ্যক্রমে কখনো তোমার ভালোবাসা পেয়ে যেতাম।
তবে সেইদিন নিজেকে ভাগ্যবতী বলে স্বীকৃতি দিতাম।।
নুপুর মহারানীর মতো বসে আছে পায়ের ওপর পা তুলে। কিছুক্ষণ আগে বল্টু এসেছিল তাদের বাসায়।
নুপুর তখন সুইমিং পুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো।
বল্টুকে একা পেয়ে সে ডেকে নিয়ে যায়।
এবং প্রশ্ন করে
“তোমার ভাই আমাকে কতটা ভালোবাসে?
বল্টু দুই হাত প্রসারিত করে বলে
“দুই হাত মেলে দিলে যত দূর যায় তার থেকেও বেশি। আপনার এক কথায় ভাই ম/রতেও পারে আবার মা/রতেও পারে।
নুপুর হাসে।
বল্টুর এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করে দেয়। শর্টের তিনটে বোতাম খোলা ছিলো নুপুর নিজ উদ্যোগে দুটো বোতাম লাগিয়ে দিয়ে বলে
“একদম ভাইয়ের মতো নেতা হওয়ার চেষ্টা করবে না। ভদ্র বাচ্চা হতে হবে।
ওকে?
” তাহলে আপনি আমার ভাইকে ভালোবাসবেন?
“হুমম ভেবে দেখবো।
তখন বল্টুর চোখে মুখে যে খুশিটা দেখা গিয়েছিলো সেটা দেখার মতোন।
এই মুহূর্তে নুপুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সত্যতা যাচাই করবে। নওয়ান সত্যি সত্যি তার কথা শোনে কিনা এটাই দেখবে।
তাই খাটের উপর আরাম করে বসেছে। নেতা সাহেব বেলকনিতে পুশ আপ দিচ্ছে। পরনে শুধু ছোট্ট একটা প্যান্ট। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা।
“এই যে মিস্টার বেয়াদব এখানে আসুন।
নুপুর কপাল কুঁচকে ডাকে। নওয়ান টাওয়াল দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে নুপুরের সামনে এসে দাঁড়ায়।
বলে
” বলো চাঁদ
কিছু লাগবে?
“ঢাকা যাবো না আমরা?
লাগেজ গোছাতে হবে৷ গোছান।
নওয়ান পাল্টা প্রশ্ন করে না। আলমারির ওপর থেকে দুটো লাগেজ নামিয়ে জামাকাপড় গোছানো শুরু করে।
এরই মধ্যে নুপুর বলে
আমি ওয়াশরুম যাবো। হেঁটে যেতে ইচ্ছে করছে না।
ব্যাসস আর কিছু বলতে হয় না। নওয়ান কোলে তুলে নেয়। এবং ওয়াশরুমের দরজার সামনে নামিয়ে দেয়।
” এখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন।
এক পা ও নরবেন না।
বলেই দরজা বন্ধ করে। ইচ্ছে করেই অনেকটা সময় কাটায়।
তারপর দরজা খুলে দেখে নওয়ান ঠিক সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। নুপুর খুশি হলেও চোখ মুখ শক্ত করেই বলে
“দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? লাজেগ কে গোছাবে? যাওয়ার সময় হয়ে যাচ্ছে না?
নওয়ান ফট করে কোলে তুলে নেয় নুপুরকে৷
” আমি কি বলেছি কোলে নিতে? পা নেই? হাঁটতে পারি না?
নওয়ান চুমু খেতে যায় নুপুরের নাকে। চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে ও
“উমমম সিগারেট এর গন্ধ।
একদম চুমু খাবেন না আমায়।
নওয়ান ঠোঁট বাঁকায়। নুপুরকে বিছানায় শুয়িয়ে দিয়ে নিজেও আধশোয়া হয় ওর ওপরে। এক হাতে ওর দুই হাত মুঠো করে ধরে বলে
” খাই নি সিগারেট।
নুপুর নাক ফুলিয়ে বলে
“খান নি তো কি?
আগে খেয়েছেন তার গন্ধ যায় নি।
নওয়ান এবার নিজের পুরু ওষ্ঠের ভাজে নুপুরের মরম কোমল ওষ্ঠ দ্বয় পুরে নেয়। সেই সঙ্গে হাতও ছেড়ে দেয়।
প্রথমে সফটলি চুমু খেতে শুরু করে। তখনই নুপুর দুই হাতে নওয়ান এর চুল গুলো মুঠো করে ধরে। আশকারা পেয়ে যেনো পাগল হয়ে উঠলো নওয়ান। দুই হাত বেহায়া হয়ে চলে যায় বক্ষদেশে। পুরু ওষ্ঠের সংঘর্ষণ এবং হাতের বেসামাল ছোঁয়ায় পাগল হয়ে ওঠে নুপুর। ছটফট করতে শুরু করে।
এই প্রথম মিলন নয় তাদের তবুও কাঁপছে মেয়েটা। তবে কেনো কাঁপছে নওয়ান এর জানা নেই।
কিছু মুহুর্ত পরে মৃদু স্বরে গুঙিয়ে উঠতেই নওয়ান শান্ত হয়। ওষ্ঠ ছাড়ে না তবে হাত সরিয়ে নেয়।
তখুনি বাইরে থেকে সিনথিয়ার আওয়ান ভেসে আসছে। অনবরত ডেকে চলেছে নওয়ানকে।
“আমরা সবাই রেডি
তোমাদের আর কতোক্ষণ?
নওয়ান নুপুরের ওষ্ঠ ছাড়ে। জোরে শ্বাস টেনে সিনথিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে
” পাঁচ মিনিটে আসছি
বলেই নুপুরের ওপর থেকে উঠতে নিলে নুপুর নওয়ান এর হাত টেনে ধরে। কাঁপা-কাঁপা ঠোঁট নেরে বলে
“আ…..আই লা…ভ ই..উ
প্লিজজজজ
নওয়ান হাসলো একটু। সঙ্গে সঙ্গে সিনথিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে
” আধ ঘন্টা লেট হবে। তোমরা চলে যা। আমরা পরে আসছি।
বলে আবারও নুপুরের মাঝে ডুব দিতে শুরু করে।
বেপরোয়া অত্যাচারে মেয়েটিকে অতিষ্ঠ করে তোলে। অদ্ভুত মিষ্টি যন্ত্রণায় কাঁদিয়ে ফেলে।
চরম ঘনিষ্ঠ মুহুর্তে হাঁপাতে হাঁপাতে নুপুরকে বলে
“কষ্ট হচ্ছে চাঁদ?
নুপুর জবাব দেয় নি। বরং নওয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে।
চলবে
Share On:
TAGS: অন্তরালে আগুন, তানিশা সুলতানা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৭
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৪
-
তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব ৫
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৭
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১ (১ম অংশ+ শেষ অংশ)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৯