Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩০


তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩০

#পর্ব:৩০

#তানিশা সুলতানা

সেকেন্ডে সেকেন্ড এ রং বদলানোর জন্য যদি নোবেল দেওয়া হতো। তবে সেটা আবরার তাসনিন পেতো।

এই লোকটার মতিগতি কিছুই সুবিধার না। কখনো ভালোবেসে উল্টায় ফেলে তো কখনো ইগনোর করে। কাল কি সুন্দর ভালোবাসা দেখালো। চুমু টুমু খেলো। আদ্রিতার ছোট্ট মন তো ভেবেই নিয়েছিলো সে সুধরে গেছে। এখন থেকে আদ্রিতাকে চোখে হারাবে। কারণে অকারণে ওর কাছে আসবে। এখুনি বিয়ে করে নিবো। আরও কতো কি ভাবলো

কিন্তু নাহহ

লোকটা পুরোপুরি ইগনোর করছে আদ্রিতাকে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে অনুভব করলো গলা ৯৯% ঠিক হয়ে গেছে। সেই খুশিতে বড় মায়ের সাথে রান্না করলো।

ভাবলো আজকে নিজে হাতে আবরারকে খাবার পরিবেশন করে খাওয়াবে।

কোথাও একটা শুনেছিলো “পুরুষ মানুষকে বশ করতে হলে মজাদার খাবার রান্না করে খাওয়াত”

কিন্তু এই হাতি মার্কা পুরুষ কি আর রান্না খেয়ে বস হবে?

সে তো পাত্তাই দিচ্ছে না।

আদ্রিতা সকাল সকাল রান্নাবান্না শেষ করে টেবিলে খাবার সাজিয়ে মুচকি হেসে এগিয়ে যায় আবরারের কক্ষের পানে। তার পেছনে ছোটে এ্যানি৷ সুইজারল্যান্ড আসার পর থেকে বাচ্চাটাকে একদমই সময় দেওয়া হচ্ছে না।

অহনাই তার সব দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে এবার থেকে আদ্রিতাকে একটু খেয়াল রাখতে হবে। আর যাই হোক নিজের সন্তান তার অন্য কারো ভরসায় ফেলে রাখা যায় না।

এসব ভাবতে ভাবতেই আবরারের কক্ষের সামনে চলে আসে। প্রথমেই চেক করে দেখে যে দরজা খোলা।

গোলাপি রঙের পর্দা খানা একটুখানি ফাঁকা করে মাথা ঢুকিয়ে দেয়। এদিক-ওদিক দৃষ্টি ঘুরিয়ে খুঁজতে থাকে মানুষটিকে।

দেখতে পায় সবে ওয়াশরুম থেকে বেরুচ্ছে। খালি গা কোমরে পেঁচানো সাদা রংয়ের টাওয়াল।

পেটানো ফর্সা শরীর।

আহা দেখলেই ছুঁয়ে দিতে মন চায়। তার উপর আজকে আবার বিন্দু বিন্দু পানি লেগে আছে গায়ে।

ঠিকঠাক শরীরটাও মুছেনি।

যাক গে

এরপর থেকে আদ্রিতা আদর করে মুছে দেবে।

এরপর থেকে কেনো?

কালকে যে জেলাস হলো হাতি। তার মানে তো ভালোবাসে। তাছাড়া চুমুও খেয়েছে। দুই দিন চুমু খেলো।

আজকে থেকেই গা মুছিয়ে দিবে।

অধিকার রয়েছেই তো।

মনে একরাশ সাহস নিয়ে কক্ষে ঢুকে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিচে তাকিয়ে দেখে এ্যানি টা আছে কি না।

নেই।

দেখতে পায় চুপচাপ কক্ষে ঢুকে পড়েছে সে।

এবং আবরার তাসনিন এর বেডের ওপর বসে আরাম করে বেডা মানুষের বডি দেখছে।

হতাশ হলো আদ্রিতা।

বিরবির করে বলে

“মায়ের মতো নির্লজ্জ কিভাবে হইলি সোনা?

মুখ বাঁকিয়ে কক্ষে ঢুকতে যায় আদ্রিতা। তখনই আবরার গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে

” কি চাই এখানে?

পা থেমে যায় আদ্রিতার। এটা কেমন প্রশ্ন হলো?

প্রেমিকাকে দেখলে মিষ্টি করে হেসে বলবে “প্রিয়তমা তোমাকেই মিস করছিলাম”

কিন্তু তা না বলে “কি চাই এখানে?”

অপমানজনক প্রশ্ন।

রাগ হলো আদ্রিতার। ঠোঁট বাঁকিয়ে বিরবির করে বলে

“জল্লাদ হাতি

আর জীবনেও আসবো না আপনার কাছে।

যদি আসি তো নিজের জিভ কেটে ফেলবো।

বলেই চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। ভেবেছিলো আবরার থামাবে। যেতে বারণ করবে। কিন্তু সেসব কিছুই হলো না৷ উল্টে লোকটা চেঞ্জ করতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। যেনো এখানে আর কেউ নেই ই।

রাগটা তরতর করে বাড়লো।

” এ্যানি চলে এসো

যার তার কক্ষে দ্বিতীয় বার ঢুকবে না।

বাধ্য এ্যানি মায়ের পেছন পেছন ছুটলো। একবার পিছু ফিরেও তাকালো না।

___

সিয়াম খেতে বসেছে। ইদানীং সে খেয়াল করছে ভুড়িটা বেশ বেড়েছে। ভেবেছিলো ডায়েট করবে। কম কম খাবে। জিম করা সম্ভব হয় না। শরীর ঠিকঠাক রাখার জন্য কষ্ট করার এনার্জি তার নেই। আমান আহাদ ইভান আবরার ওরা নিয়মিত জিম করে।

করুক

সিয়ামের অতো শখ নেই।

কালকে রাতে ভেবেছিলো আজকে থেকেই ডায়েট করবে।

কিন্তু আজকে এই মুহুর্তে সিদ্ধান্ত নিলো “আজকের মতো খাই। কালকে থেকে ডায়েট করবোনি”

ভাবতে ভাবতেই নিজে নিজে খাবার বেড়ে নেয়।

এবং খেতে শুরু করে। অহনা এলো তখনই। একদম সাজুগুজু করে তৈরি হয়েই এসেছে সে। যেনো কোথাও বেরুবে।

সিয়াম এক পলক দেখলো তবে ভালো করে তাকালো না।

এই মুহুর্তে তার কাছে খাবার গেলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অহনা সিয়ামের মুখোমুখি বসলো। নিজে প্লেটে খাবার নিতে নিতে বলে

“একটু শপিং মলে যেতে চাচ্ছিলাম।

মুখ ভর্তি খাবার নিয়ে সিয়াম বলে ওঠে

” হ্যাঁ

আমার থেকে পারমিশন নিতে হবে না।

“আপনাকে সাথে যেতে বলছি।

“আচ্ছা নিয়ে যাবোনি।

অহনা বিরক্ত হলো। এমন রাক্ষসের মতো খাওয়ার কি আছে? জীবনে কি খাবার চোখে দেখে নি?

তখনই আদ্রিতা আসলো। রাগের জন্য গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে আছে। সে এসে সিয়ামের পাশে বসলো। টেবিল থেকে একটা চাকু নিয়ে সেটা তাক করে সিয়ামের গলা বরাবর। তারপর হিসহিসিয়ে বলে

” এতো ভাব দেখানোর কি আছে?

কোথাকার রাজপুত্র রে তুই?

দেখতে তো আস্ত হাতির মতো।

নিরীহ একটা মেয়ের চরিত্রে কলঙ্কের দাগ লাগিয়ে এখন সাধু সেজে ঘুরে বেড়ানো হচ্ছে?

তোর কলিজা কেটে লবন দিয়ে খাবো আমি।

সিয়াম শুকনো ঢোক গিলে একটু পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। আমান আর আহাদও চলে এসেছে।

সিয়ামের গলায় চাকু দেখে ওরা ঘাবড়ালো।

আহাদ দৌড়ে যায় আদ্রিতাকে সরানোর উদ্দেশ্যে।

কিন্তু গিয়েই যেনো ফেঁসে গেলো।

কেনোনা আদ্রিতা এবার আহাদের গলায় চা/কু ধরে

“আপনাদের আমি ওয়ার্নিং দিচ্ছি।

এই আস্ত হাতির সাথে থাকা যাবে না।

কোনো মতেই না। ওই খাচ্চর হাতিকে একা করে দিয়ে আপনারা অন্য কোথাও চলে যাব

বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার তাসনিন এর কন্ঠস্বর আদ্রিতার কানে লাগে।

ব্যস্ত ভঙ্গিমায় সিঁড়ি বেয়ে নামছে আর “আম্মু আম্মু” বলে ডাকছে।

আতিয়া বেগম নিজ কক্ষে ছিলো। আবরারের ডাক শুনে দৌড়ে বেরিয়ে আসলো।

“কি হয়েঢ়ে আব্বা ডাকছো কেনো?

আবরার চলে যেতে যেতে বলে

” তোমার হাজব্যান্ড নিতে আসছে তোমাদের।

আর দেখা হবে না।

সাবধানে যেয়ো

ব্যাসস চলে গেলো আবরার। একবার পেছন ফিরে তাকালোও না।

অথচ আদ্রিতার হাত থেকে চাকু খানা পড়ে গেলো। সে অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে আবরারের চলে যাওয়ার পানে। কানে বাজছে একটা কথাই “আর দেখা হবে না”

মুহুর্তের মধ্যেই চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে।

প্রতিবারই আদ্রিতার সঙ্গে এমনটা কেনো হয়?

কেনো আবরার আসে, হৃদয়ে ভালোবাসা জাগায়, এবং পরমুহূর্তে চলে যায়।

থেকে যাওয়ার জন্য কেনো আসে না?

কেনো ওর লাভ স্টোরি হ্যাপি হয় না?

কোনো?

অহনা সঙ্গে সঙ্গে কল করে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ এ। কিন্তু কল ঢোকে না।

আদ্রিতার হুশ ফেরে। সে দৌড়ে বেরিয়ে যায়।

উদ্দেশ্য আবরারকে কিছু বলবে। কিন্তু আদ্রিতা বাইরে বের হতে হতেই দেখতে পায় আবরার তাসনিন তার কালো রংয়ের গাড়ি খানা নিয়ে চলে যাচ্ছে।

এবার আর কান্না আটকাতে পারলো না আদ্রিতা। ঠোঁট উল্টে কাঁদলো।

“আমায় আঘাত করুন সহ্য করে নিবো

মা/রু/ন কোনো অভিযোগ করবো না।

তবুও আমাকে আপনার সঙ্গে রেখে দিন।

আপনাকে না দেখে থাকতে পারবো না আমি। সত্যি বলছি।

চলবে

Share On:

TAGS: , ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply