জলতরঙ্গেরপ্রেম
পর্ব সংখ্যা;৪১ ( প্রথম অংশ)
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
পুরোদস্তুর দমে শীত হানা দিয়েছে ধরনীতে। সন্ধ্যা না থামতেই হিম শীতল বাতাসে অস্থির হয়ে আসে জনজীবন।
গাজীপুর শহরে ও শীতের আমেজ বাড়ছে। এতে রাস্তার পাশের বাড়ি – ঘর হীন মানুষ গুলোর সাথে তরী তরঙ্গকে ও বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। প্রথম মাসের বেতন দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি জিনিসপত্র, তরীর জন্য পোশাক কেনার পাশাপাশি ভাড়া চুকিয়ে, টাকা শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাকি অল্প কিছু টাকা দিয়ে দুজনের জন্য একটা কম্বল কিনে ছিলো তরঙ্গ। সেই কম্বল দুজনের জন্য হলে ও তরঙ্গের পায়ের দিকে উঠে থাকে। শরীরের উপরের অংশে কম্বলের অস্তিত্ব থাকলে পায়ের কাছে থাকে না। তরী অবশ্য তা জানে না। নিজের সমস্যা গুলোকে খুব গোপনেই তরীর নিকট থেকে লুকিয়ে রাখে সে।
প্রতিদিনের ন্যায় আজ ও দুপুরের খাবার শেষে ভাত ঘুম দিয়ে ছিলো তরী। আসরের আজান পড়তেই সেই ঘুম ভেঙে গেলো তার। একেবারে চাদর টান, টান করে বিছানা ছাড়ালো সে। আসরের নামাজ আদায় করে; তালা চাবি নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বেরোলো তরী। উদ্দেশ্যে ছাদে যাওয়া। দুপুরে নিজের আর তরঙ্গের ভেজা পোশাক গুলো ছাদে শুকোতে দিয়ে ছিলো। সেগুলো এখন রোদ থাকতেই এনে ওয়ারড্রবে তুলে রাখবে। গুটি গুটি পায়ে ছাদের উঠে এলো তরী। কাপড় গুলো না তুলেই ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াল সে। বিকেলের কমলা আভায় ভেসে থাকা সূর্যের আলো দূরের সুউচ্চ ভবন গুলোর গায়ে সোনালি রঙ মেখে দিয়েছে। চারপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা অট্টালিকা গুলোকে এই ছাদ থেকে দেখতে তরীর ভীষণ ভালো লাগে।
এত উঁচু ভবন সে আগে কখনো কাছ থেকে দেখেনি। তাদের বাড়ির আশপাশে বড়জোর তিন-চারতলা দালানই ছিল; আর এখানে একের পর এক আকাশ ছোঁয়া ভবন, মেঘ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে একটার পর একটা ভবন দেখ ছিল তরী। হঠাৎ ই, তার চোখ গিয়ে থামল সামনের একটি ভবনের বারান্দায়। সেখানে একজোড়া দম্পতি পরস্পরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অস্তগামী সূর্যের কোমল আলো তাদের অবয়বকে আর ও স্নিগ্ধ করে তুলেছে। মেয়েটির পরণে শাড়ি। ছেলেটি র্টি-শার্ট পরহিত। মেয়েটাকে আলিঙ্গন করে আকাশ দেখতে ব্যস্ত। দৃশ্যটা সাধারণ, তবুও তরীর মন ছুঁয়ে গেলো। দ্রুত নিজের কাজ সেরে নেমে পড়লো সে।
কপালে লাল টিপটা দিয়ে বেসিনের আয়নার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ালো তরী।
লজ্জায় লাল নীল হয়ে নিজেকে পরোখ করলো আয়নায়। কি সুন্দর লাগছে সামান্য লিপস্টিক, আর টিপে। চুলে তেমন কিছু করেনি সে। আজ ই শ্যাম্পু করে ছিলো। যারপরনাই মাথার মাঝ বরাবর সিঁথি কেঁটে চুল ছেড়ে দিয়েছে। চুল গুলো সারা পিঠময় টেউ খেলছে। মাথা নামিয়ে নিজের হাতের দিকে তাকালো তরী। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হাতের চিকন সোনালী চুড়ি জোড়া উল্টে পাল্টে দেখলো। সে এতো সুন্দর? নাকি তরঙ্গের ভালোবাসা সুন্দর বলে তার সংস্পর্শে এসে প্রতিটি মূহুর্ত এতো সুন্দর, আর আনন্দময় হয়ে উঠছে।
শাড়ি সামলে ছোট্ট শরীর নিয়ে; দ্রুত পায়ে নিজেদের বেড রুমে ছুটে এলো তরী। তরঙ্গের কিনে দেওয়া বাটন ফোনটা বুকের সাথে জড়িয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো সে। এখন রাত সাড়ে আটটা। তরঙ্গকে একটা কল দেওয়া যায়। সে ফিরবে কখন? মিটিমিটি হেসে, তরঙ্গের নাম্বারে কল দিলো মেয়েটা। প্রথমবার রিং হতেই রিসিভ হলো।
–” হ্যালো?”
–” আসসালামু অলাইকুম।”
–” ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো?”
উত্তেজনায় তরীর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো। আমতা আমতা করে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো সে। তরঙ্গের সাথে সকালেই দেখা হয়েছে। তবুও কলে কথা বলতেই এতো জড়তা কাজ করছে। মনে হচ্ছে ছেলেটা তার মনের সব ভাবনা জেনে ফেলছে। বুঝে যাচ্ছে তরী তার প্রতি কতটা দুর্বল। তরঙ্গ ও চুপ করে রইলো। তরী তাকে নিজে থেকে কল দিয়েছে। এর থেকে বড় পাওয়া কি হতে পারে? নীরবতা ভেঙে তরী সুধালো;-
–” আপনি কেমন আছেন তরঙ্গ?”
–” আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি?”
–” ভা…লো,, ফিরবেন কখন?”
তরীকে কলে রেখে; রিকশা ভাড়া টা মিটিয়ে দিয়ে তড়িৎ গতিতে তিন তলায় উঠে এলো তরঙ্গ। আচমকা দরজায় নক পড়তেই চমকে উঠলো তরী। বারান্দা থেকেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সে। ফোনে থাকা তরঙ্গকে পুনরায় ডাকলো সে।
–” তরঙ্গ?”
–” হুমম?”
–” আপনি এসেছেন?”
–” দরজা খুলেই দেখুন।”
ইশারা ইঙ্গিতে যে হ্যাঁ বুঝিয়েছে ছেলেটা তরী তা ঢের বুঝলো। কল কেঁটে দিয়ে আরেকবার নিজেকে আয়নায় দেখে পরিপাটি করে নিলো। দরজার দিকে এক পা, এক পা করে এগিয়ে আসতেই তরীর হৃদপিন্ড দ্রুত হয়ে উঠলো। লজ্জায় জড়সড় হয়ে দরজা খুলতেই তরঙ্গের হাসৌজ্জ্বল মুখশ্রী ভেসে উঠলো। দরজা থেকে দু’পা পিছিয়ে তরঙ্গ কে ভেতরে প্রবেশ করতে পথ দিলো।
বিস্ময়াভিভূত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করল তরঙ্গ। দরজার পাশে জুতো জোড়া খুলে রেখে ছিটকিনি এঁটে নিল সে। অতঃপর, একরাশ মুগ্ধতা মেখে অপলক দৃষ্টিতে চাইলো তরীর নিকট।
–” হঠাৎ, শাড়ি পরেছিস কেন তুই?”
তরঙ্গের প্রশ্নে, নতজানু হয়ে জবাব দিলো তরী;-
–” এমনিই, ইচ্ছে হলো। কেন? সুন্দর লাগছে না আমাকে?”
–” কালো মানুষ কে শাড়িতে সুন্দর লাগে!”
তরঙ্গের এমন কথায় আচানক মুখ তুলে তার মুখের পানে তাকালো তরী। নিমিষেই একরাশ অভিমান এসে ভিড় করলো তার নাকের ডগায়। মূহুর্তেই অভিমানেরা অশ্রু কণায় রূপান্তরিত হয়ে তরীর কোমল মুখশ্রীময় বেয়ে নিজেদের বিস্তীর্ণ পথ একে গড়িয়ে পড়লো গলায়। মুচকি হেসে, চুলে হাত বুলালো তরঙ্গ। তার বউটা একেবারেই বাচ্চা। বাচ্চা না হলে পুরো কথা না শুনে কেউ কাঁদে? সে নিজেদের দূরত্ব গোছালো। তরীর শাড়ির আচঁলের ভাঁজ গলিয়ে উন্মুক্ত কোমর জড়িয়ে ধরে কপালের সাথে কপাল ঠেকালো। ক্ষণিকের মাঝেই দুজনের শ্বাস মিশে একাকার হয়ে গেলো। তরঙ্গের উত্তপ্ত শ্বাস তরীকে কাঁপিয়ে তুলছে। উষ্ণ কপালের স্পর্শে মেয়েটা নুইয়ে যাচ্ছে।
–” আমার হার্টবিট অচল করে দেওয়ার মতো সুন্দর লাগছে আপনাকে তরী জান। শুধু সুন্দর তো অন্যদের লাগে। আপনাকে আমার চোখ ঝলসে দেবার অনুরূপ সৌন্দর্যের অধিকারীণী করেছেন উপওয়ালা। এবার বলুন, শুধু সুন্দর আপনাকে বলি কীভাবে? খোদাতালা যে পাপ দিবেন।”
তরঙ্গের ফিসফিসে স্বর কানে পৌঁছাতেই তরীর গাল দু’টো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। পরমুহূর্তেই অভিমানী ভঙ্গিতে হাত মুঠোতে রূপান্তরিত করে, তরঙ্গের বুকে অনবরত কিল বসাতে শুরু করল সে।
–” আপনি খুব বাজে। একদম ভালো না। একটু ও না। আমি আপনাকে ভালোবাসি না তরঙ্গ। বাসি না।”
তরঙ্গ জোর পূর্বক নিজের প্রশস্ত হৃদমাঝারের মাঝে আগলে ধরলো তার প্রাণ প্রেয়সীকে। অনবরত চুমু খেলো তার সারা মাথাময়। তরঙ্গের চুমুতে তরীর শ্যাম্পু করা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে গেলো। মেয়েটা এখনো কাঁদছে।
–” আমি তো বাসি। আর সারাজীবন বাসবো। আমি একাই যথেষ্ট এই সম্পর্কে ভালোবাসা বাসির জন্য। তুমি কেবল ভালোবাসা টুকু উপভোগ করতে থেকে যেও।”
তরীকে বুকের সঙ্গে আগলে রুমে ঢুকলো তরঙ্গ। ভেতরটা অন্ধকার থাকায় লাইটের সুইচে আঙুল চাপতেই; চোখে পড়ল বিছানার মাঝখানে রাখা রেড ভেলভেট হার্ট-শেপ ছোট্ট একটা কেক। দৃশ্যটা দেখে খানিকটা চমকে উঠলো সে। তরীকে আলতো করে ছেড়ে, বিছানার ধারে গিয়ে আধ শুয়ে পড়ল সে।
–” আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী নাকি? এতো জলদি এক বছর হয়ে গেলো?”
–” না।”
–” বিশেষ কোনো দিন? তোমার বার্থডে?”
–” না।”
–” তাহলে আমার?”
বিরক্ত হলো তরী। এই ছেলেটা এত বোকা কেন? সব বুঝে ও না বোঝার ভান করছে, নাকি সত্যিই কিছুই বুঝতে পারছে না? তরীকে চুপ করে থাকতে দেখে এগিয়ে এলো তরঙ্গ। আলতো করে দুই আঙুলে তার থুতনি ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফেরাল। পরমুহূর্তেই এক টানে নিজের বাহুতে টেনে নিল তাকে। গলায় মুখ ডুবাতেই তরী, আঁতকে উঠল। তরঙ্গের গা যেন আগুনের মতো পুড়ছে। বিস্মিত চোখে সে দ্রুত কপালে হাত রাখতেই অবাক হলো।
–” আপনার গা গরম কেন তরঙ্গ? জ্বর এসেছে নাকি? কখন?”
চলবে
( প্রিয় চড়ুই মহল,
মন দিল খুবই খারাপ। লিখতেই ইচ্ছে করে না। লিখে লিখে ও কেঁটে দিচ্ছি। তবুও আপনারা হতাশ হবেন বলে গল্প দিলাম। একটু রেসপন্স করবেন প্লিজ। পেইজের রিচ একেবারে ডাউন।) See less
জলতরঙ্গেরপ্রেম
পর্ব সংখ্যা;৪১ ( শেষ অংশ)
লেখনীতেনবনীতাচৌধুরি
১৮+ এলার্ট!
রোজকার নিয়মে মেঝেতে মাদুর পেতে খেতে বসেছে তরী – তরঙ্গ দু’জনে। আজ আবার লুঙ্গি পরেছে ছেলেটা। লুঙ্গি পরিহিত তরঙ্গ; উদোম শরীরেই খেতে বসেছে।
যার দরুন পিঠে বার বার মশা কামড় বসাচ্ছে। বিরক্ত ভঙ্গিতে বাম হাতে মশা তাড়াচ্ছে সে। তরী ভাত বাড়ছে প্লেটে। মাথা নামিয়ে আড় চোখে শাড়ি পরিহিত তরীকে দেখতে ব্যস্ত তরঙ্গ। প্রতিদিনের তুলনায় আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। একদম চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে তরঙ্গের। ইচ্ছে থাকা স্বত্বে ও দৃষ্টি ফেরাতে পারছে না সে। তরী ভাতের প্লেট এগিয়ে দিতেই, নিজের সামনে প্লেট টেনে নিলো তরঙ্গ। ভাতে হাত চালানোর মাঝে ও বার বার মাথা তুলে মেয়েটাকে দেখছে সে। বিষয়টা টের পেলে ও না জানার ভান করে নির্বিকার মুখে খেয়ে চলেছে তরী। কারণ, সে একবার কিছু বললেই তরঙ্গের লাগামহীন মুখটা যে আর থামবে না; তা তার অজানা নয়।
তরঙ্গের সহ্য হলো না এই নীরবতা। খাওয়ার মাঝেই ঘাড় নামিয়ে রেখে মুখ খুললো সে।
–” আজ শাড়ি পরেছিস কেন?”
তরঙ্গের প্রশ্নে হাত থেমে গেলো তরীর। ব্যস্ত হয়ে তরকারির পাতিলের ঢাকনা সরিয়ে মেয়েটা বললো।
–” তরকারি দিবো আপনাকে? নাকি ভাত দিবো?”
–” কিচ্ছু লাগবে না। আগে উত্তর দে। শাড়ি পরেছিস কেন?”
–” এমনিই।”
–” তরকারি দে।”
তড়িঘড়ি করে তরঙ্গের প্লেটে আরেক চামচ তরকারি তুলে দিয়ে উঠে দাঁড়াল তরী। তার খাওয়া শেষ। এবার কোনো রকমে ঘরে গিয়ে শাড়িটা বদলাতে পারলেই বাঁচে। ছেলেটার দৃষ্টি এমন ভাবে তার ওপর আটকে আছে, যেন চোখ দিয়েই তার ভেতরটা পড়ে ফেলতে চাইছে। বুঝে ফেলছে তরী শাড়ি পরেছে কেন! তরঙ্গের সেই তীক্ষ্ণ চাহনি তরীর বুকের ভেতর অকারণে অস্বস্তির ঢেউ তুলছে। তরী উঠে যেতেই বাকি ভাতটুকু শেষ করে হাড়ি পাতিল গুছিয়ে কিচেনে চলে এলো তরঙ্গ। প্লেট, আর পাতিল গুলো ধুয়ে ড্রয়িং রুমে পাতা মাদুরটা তুলে রাখলো সে।
প্রতিদিন খাওয়া শেষে এভাবেই সব গুছিয়ে রাখে ছেলেটা। তরী সাহায্য করতে চাইলে ও তাকে সুযোগ দেয় না।
রুমে ফিরেই বারান্দায় গিয়েছিল তরী। চাঁদের আলোয় এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে মন্দ লাগে না। যদি ও শীত শীত করছে। আশে পাশের ভবন গুলোর বারান্দায় রঙিন বাতি জ্বলছে। মাথার উপর প্রকাণ্ড চাঁদ। সব মিলিয়ে দারুণ সময়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে রুমে ফিরেই তরঙ্গকে দেখে চমকালো তরী। তার পাশ কাটিয়ে পোশাক নিতে ওয়ারড্রবের পাশে চলে গেলো। পোশাক নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিতেই তরঙ্গ পথ আটকে দাঁড়ালো তার।
–” এই শীতের রাতে শাওয়ার নিবি কেন?”
–” এমনিই।”
–” কাছে আয়, শাওয়ার নেওয়ার জন্য অজুহাত তৈরি করে দেই।”
লাফিয়ে তরঙ্গের কাছ থেকে সরে গেলো সে।
–” শাওয়ার নিবো না। শাড়ি পাল্টাবো।”
–” রাশিতে ভালো ফল চাইলে শাড়ি চেন্জ করিস না। এতো হুইল পাউডার পাবি কোথায়? দিনে যদি এতোবার জামা কাপড় পাল্টাস। আমি তো ফকির হয়ে যাবো। দেখিস না? দিনে একটার বেশি র্টি-শার্ট আমি ধুই না।”
তরঙ্গের কথায় থ হয়ে গেলো তরী। তরঙ্গ তাকে হুইল পাউডার নিয়ে খোঁটা দিচ্ছে? প্রতিদিন তো একবার ই পোশাক ধোয়। আজ একটা বাড়তি শাড়ি ধুলে ছেলেটা ফকির হয়ে যাবে? নিজে তো সারাদিন বাসায় র্টি-শার্ট ছাড়া থাকে। তার আবার দুটো র্টি-শার্ট আসবে কোথা থেকে? রেগে গিয়ে পুনরায় জামা কাপড় গুলো ওয়ারড্রবে তুলে রেখে শাড়ি পরেই শুয়ে পড়লো তরী। তরীকে রাগ করে শুয়ে পড়তে দেখে মিটি মিটি হাসলো তরঙ্গ। বারান্দার দরজায় ছিটকিনি দিয়ে ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে সেও শুয়ে পড়লো।
হুইল পাউডারের খোঁটা না দিলে তরী শাড়ি পাল্টাতোই। আর তরঙ্গের তা সহ্য হতো না। মেয়েটা নিজে ও জানে না। তাকে শাড়িতে কতোটা সিগন্ধ লাগছে। কতোটা বউ, বউ লাগছে।
মাঝ রাতে তরঙ্গের শরীরের সাথে তরীর শরীর লাগতেই মেয়েটা জেগে গেলো। জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে তরঙ্গের।
আঁতকে উঠে বসলো তরী। তরঙ্গের কপালে হাত চাপতেই বুক কেঁপে উঠলো তার। ইশশ, এতো জ্বর কীভাবে এলো তরঙ্গের? শাড়ির আচঁলে টান বসাতেই সে বুঝলো। তার শাড়ির আচঁল তরঙ্গের পিঠের নিচে। কোনো মতে আচঁল ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে পড়লো তরী। কিচেন থেকে বল ভর্তি করে পানি আর রুমাল নিয়ে ফিরে এলো তরী। কপালের ঠান্ডা কিছুর স্পর্শ পেতেই জেগে গেলো তরঙ্গ। চোখ খুলতে গিয়ে পুনরায় বুঁজে নিলো সে। সাদা আলো চোখে পড়তেই চোখে জ্বালা ধরেছে। পাতা খোলা কষ্টকর হয়ে উঠছে।
দু’হাতে চোখের পাতা ডলে চোখ মেললো তরঙ্গ। শিউরে বসে থাকা শাড়ি পরিহিত তরীকে দেখেই তার ওষ্ঠ শুকিয়ে এলো। রুমালের বাড়তি পানি চিপে তরঙ্গের কপালে দিতেই তরঙ্গ তার হাতের কব্জি চেপে ধরলো। হেঁচকা টানে নিজের বুকের উপর এনে ফেললো তরীকে। একহাতে তরীর কোমর জড়িয়ে ধরে। অন্য হাতে তার কপালে পড়ে থাকা চুল গুলো সরিয়ে দিলো।
–” কি দরকার ছিলো আমার জ্বরের সময় আমার কাছে ঘেঁষার?”
তরঙ্গের প্রশস্ত বক্ষের আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যাকুল হয়ে উঠল তরী। অস্থির দেহখানি তার ছটফটিয়ে উঠল মুক্তির আকুল প্রয়াসে। তরঙ্গের বাঁধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হলো। শ্বাস দ্বিগুণ গাড়ো হলো। তার উত্তপ্ত শ্বাস তরীর গলায় আছড়ে পড়ছে।
–” আপনার জ্বর বলেই তো এলাম!”
লাল চোখ জোড়া বন্ধ করে নিলো তরঙ্গ। মাথা ব্যথায় তাকিয়ে থাকা দায়। তবুও কণ্ঠের জোর কমছে না তার।
–” এখন আমার সর্বনাশ হলে এর দায়ভার নিবে কে? তুই? তুই তো ঠিক ই বেঁচে যাবি! আমার ইজ্জত!”
অবাকের তোপে হা হয়ে গেলো তরী। নিজের পিঠের কাছে যতোটা হাত পৌঁছাতে পারলো। তরঙ্গের হাত টেনে ধরলো সে।
–” কি? মেয়ে আমি না আপনি?”
–” ছেলেদের কি ইজ্জত নেই?”
–” ভুল ভাল বকা বন্ধ করুন। আর আমাকে ছাড়ুন তো!”
–” সম্ভব না জান। হরমোনেরা আমার কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে। ওদের আর আটকাতে পারবো না আমি। আটকাতে চাই ও না। এনাফ ইজ এনাফ! আমি আর পারবো না নিজেকে কন্ট্রোল করতে।”
–” ত..র..ঙ্গ ,”
–” বি অ্যা জেন্টলম্যান, জান। ডোন্ট ওয়ারি। আই’ল ডু মাই বেস্ট।”
আতঙ্কে তরী জমে গেলো। তরঙ্গ মুখ বাড়িয়ে তরীর গলার মাঝ বরাবর চুমু খেলো। একটা, দুটো অতঃপর অনেক গুলো চুমু। অদ্ভুত অনুভূতির দোলাচলে শরীরে শিহরণ বয়ে গেলো তরীর। তলপেট শির শির করে উঠলো তার। লজ্জায় মর মর দশা মেয়েটার। তরঙ্গের সে সবে খেয়াল নেই। মূহুর্তের মাঝে তরীকে পাশে শুইয়ে দিয়ে তার উপর আধ শোয়া হয়ে শুয়ে পড়লো তরঙ্গ। জ্বরের ঘোরে লাল হয়ে উঠা চোখ জোড়া মেলে সাদা বাতির আলোয় তরীকে পরোখ করলো সে। পর পর লোভাতুর ভঙ্গিতে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো।
তরীর গলার মাঝ বরাবর জ্বল জ্বল করা কালো তিলটাতে চুমু খেলো তরঙ্গ। চুমু খাওয়ার মাঝেই আলতো কামড় বসালো সেখানে। ব্যথায় কুঁকিয়ে উঠলো তরী। অনাকাঙিক্ষত ভাবেই আঁকড়ে ধরলো তরঙ্গের পিঠ। নিজের হাতের নিচে তরঙ্গের পিঠে কলঙ্কের ন্যায় অস্তিত্ব মান কালো তিলটার অস্তিত্ব বুঝতেই লাজুক হাসলো তরী। তরঙ্গ তখনো এলো মেলো চুমু খাচ্ছে মেয়েটার গলায়, ঘাড়ে। চুমুতে থিতিয়ে উঠেছে সে। তার গলা ভিজে একাকার। মাথা উঠিয়ে তরীর আচঁলটা এক ঝটকায় বুকের উপর থেকে ফেলে দিলো তরঙ্গ। বুকের উপর থেকে আঁচল সরে যেতেই, চোখ খিঁচে দু’হাতে আচঁল টেনে ধরলো তরী। নিভে আসা গলায় সুধালো সে।
–” তরঙ্গ লাইট অফ করুন, প্লিজ।”
তরীর কথায় আধো হুঁশ ফিরলো তরঙ্গের। টলতে থাকা পায়ে বিছানো থেকে নেমে এলো সে। হেলতে দুলতে লাইটের সুইচের কাছে এগিয়ে এসে লাইটের সুইচে হাত রেখেই গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলো ছেলেটা।
–” তুমি দিও না গো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া।
আমি অন্ধকারে বন্ধ ঘরে যাবো মরিয়া।”
গান শেষ করে লাইট অফ করে দিলো তরঙ্গ। রুম অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার আগে পর্দা গলিয়ে বাইরে থেকে একরাশ শুভ্র আলো এসে অন্ধকার কে গিলে নিলো। পুনরায় আগের মতোই দুলতে দুলতে বিছানায় এসে বসলো সে। ঝুঁকে এসে তরীকে কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তার; কোমল ওষ্ঠের ভাঁজে পুরে নিলো নিজের পুরুষালি ওষ্ঠ জোড়া। অবাধ্য হাত জোড়া তরীর শরীরময় বিচরণে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আলতো ভালোবাসার পরশে ছুঁয়ে দিলো অপ্রত্যাশিত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। অনুভূতির তারতম্যে, তরী ও আর বাঁধা দিলো না। স্বামী রুপের পুরুষটির নিকট বিলিয়ে দিলো নিজের মূল্যবান সম্ভ্রম।
সাধারণ এক নিশুথী রাত হয়ে উঠলো; তরী আর তরঙ্গের জীবনের সবচেয়ে মধুময় এবং স্মরণীয় রাত। নিজের পুরুষালি আদরে আদরে তরীর কোমল কায়া বিষিয়ে তুলে ছিলো তরঙ্গ। এতো উন্মাদনার মাঝে ও তরীর যত্নে একটু ও অবহেলা করলো না সে। ফিসফিসিয়ে সুধালো ছেলটা;-
–” ব্যথা লাগছে জান? স্পিড কমাবো?”
তরঙ্গের এহেন লাগামহীন কথায় লজ্জায় চোখ বুঝে নিলো তরী। বিরক্ত হয়ে, আলগোছে আঁচড় বসালো তার পিঠে।
–” অসভ্য।”
চলবে
( প্রিয় পাঠক মহল,
আপনাদের জ্বালায় শান্তি মতো মরতে ও পারবো না। শালা আজকের পর্ব লিখতে গিয়ে একশো বার আমি ফোন রেখে দিয়েছি। আনমনে চুল টেনে চিৎকার করে উঠেছে। কি যে লিখবো! আমার মতো সিঙ্গেল মানুষ কে বাসর পর্ব লিখতে বলেন। আল্লাহ্ আপনাদের হেদায়াত করুক। আর আমাকে রক্ষা করুক। রিচেক দেইনি! বাই দ্য ওয়ে, কেমন হয়েছে জানাবেন কিন্তু!)
See less
Share On:
TAGS: জল তরঙ্গের প্রেম, নবনীতা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
She is my Obsession পর্ব ১৫
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ২৭
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ২
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ৯
-
She is my Obsession পর্ব ৩
-
She is my Obsession পর্ব ১১
-
She is my Obsession golper link
-
জল তরঙ্গের প্রেম পর্ব ৪০
-
She is my Obsession পর্ব ১৩
-
She is my Obsession পর্ব ২৭