Golpo romantic golpo প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে

প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৮


#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে

#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী

(০৮)

নৌমি সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাজের মুখের পানে চেয়ে আছে। আন্নি মৃদুস্বরে বলল,

“ভাইয়া, উঠো।”

তাজ উঠে হাত দিয়ে প্যান্ট ঝেড়ে অবচেতন মনে হাঁটতে শুরু করেছে। নৌমি আর আর আন্নিও পেছন পেছন হাঁটছে। নৌমি অকস্মাৎ বলে উঠল,

“এইরে ঝালমুড়ির টাকা দেয়া হয় নি।”

তাজ পেছনে ঘুরে শান্ত গলায় বলল,

“তোরা দাঁড়া, আমি টাকা দিয়ে আসি।”

তাজের এমন ঠান্ডা ব্যবহার দেখে নৌমির বিস্ময় যেন কমছেই না। নৌমি আন্নিকে জিজ্ঞেস করল,

” কি হয়েছে বল তো”

“আমি কি জানি!”

তাজ আসতেই নৌমি বলল,

” ভাইয়া, একটা কথা বলবা।”

“কি?”

” তুমি না মা*রপিট পছন্দ করো না। তাহলে আজ ছেলেগুলোকে কেনো মারলে? ওরা তোমার কি ক্ষতি করেছিল?”

” মা*রপিট পছন্দ করি না মানে এই না যে চোখের সামনে কোনো বখাটে ছেলে তোদের গা ছুঁয়ে যাবে আর আমি সেটা চুপচাপ সহ্য করব।”

নৌমি নিরেট দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

” ঐ ছেলেগুলোই কি আমার পিঠ ছুঁয়েছিল?”

“হুম।”

নৌমি ফোঁস করে উঠল,

” আমাকে আগে বললে না কেনো?”

“বাদ দে। ওরা ভবিষ্যতে কোনো মেয়ের গা ছোঁয়ার আগে অন্ততপক্ষে একবার ভাববে।”

আন্নি, নৌমি আর তাজ টুকিটাকি কেনাকাটা করে বাসায় আসছে। নৌমি বাসায় গিয়ে কোনোরকমে ফ্রেশ হয়েই তাজদের বাসায় ছুটলো। আজকের দুর্দান্ত ঘটনা রাফি আর রাদকে না বলে থাকতেই পারছে না। ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই তাজের আব্বুর সাথে দেখা। ওনি সোফায় চুপচাপ বসে আছেন। নৌমি একটু থেমে ধীর গতিতে এগিয়ে আসলো। শান্ত কন্ঠে ডাকল,

“মেজো মামা।”

তাজের আব্বু নৌমিকে দেখেই মৃদু হাসলেন, মলিন গলায় বললেন,

“বস এখানে।”

নৌমি পাশের সোফায় বসে ঠান্ডা কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,

” কি হয়েছে তোমার?”

“শরীর টা একটু খারাপ। “

“ডাক্তারের কাছে যাবে? তামজিদ ভাইয়াকে বলবো?”

“না। তার প্রয়োজন নেই।”

” ঠিকমতো ঔষধ খাচ্ছো?”

তাজের আব্বু হেসে বললেন,

” ঔষধের জোরেই তো বেঁচে আছি।”

নৌমি চুপ করে বসে রইলো। তাজের আব্বু কয়েক মুহুর্ত নিরব থেকে আস্তে করে ডাকলেন,

“নৌমি।”

“জ্বি মামা।”

“তুই এখন যেমন আছিস সবসময় এরকমটায় থাকিস, কেমন?”

” আমি সবসময় এমনই থাকবো, তুমি কোনো চিন্তা করো না৷”

” তাজের প্রতি খেয়াল রাখিস!”

” মেজো মামা, তুমি কেনো শুধু শুধু চিন্তা করছো বলো তো! আমি থাকতে তোমার আবার কিসের চিন্তা? তাছাড়া আমার তামজিদ ভাইয়াকে দেখে রাখতে হবে না। ভাইয়ায় উল্টো আমাদের দেখে রাখবে।”

” তোরা সবাই মিলেমিশে থাকিস।”

“ইশশ! মামা তুমি এমনভাবে কথা বলছো কেনো? আমার কিন্তু এসব একদম ই ভালো লাগছে না। আমাদের সবার মধ্যে কত মিল তুমি দেখো নি? আন্নি, আমি, রাদ, রাফি, তামজিদ ভাইয়া, সুমী, শুভ্র ভাইয়া আমাদের মধ্যেকার মিল কেউ ভাঙতে পারবে না। আমরা সবসময় এমনই থাকবো।”

” তাজটা চাকরির জন্য একটু বেশিই চিন্তা করছে। “

নৌমি ঠাট্টার স্বরে বলল,

” ওমা, চাকরি না হলে বিয়ে করবে কিভাবে?”

তাজের আব্বু হেসে বললেন,

” হ্যাঁ রে মা, তাজকে বিয়ে করতে তোর আপত্তি নেই তো?”

নৌমি এবার চোখ বড় করে তাকালো, আড়ালে হালকা করে ঢোকও গিলে নিল। নৌমি কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না! তাজকে নিয়ে কোনোদিন ঐরকম কিছু ভাবেই নি নৌমি। ছোট থেকে একসঙ্গে বড় হওয়া দেখে এ যাবৎ কালে অনেকেই নৌমিকে প্রশ্ন করেছে,

“তুই কি তাজকে ভালোবাসিস?”

উত্তরে নৌমি বরাবরই গর্দভের মতো হেসে বলেছে,

” ব্যাঙের নানির মাথা।”

সেসব বলেছিল বন্ধুত্বের সম্পর্কে মানুষজনকে। কিন্তু তাজের আব্বুর এমন প্রশ্নে নৌমি কি উত্তর দিবে! সত্যি আর মিথ্যের মাঝখানে আঁটকে আছে নৌমি। পরিস্থিতির চাপে পড়ে মিথ্যেটাকেই আপন করে নিতে হলো। নৌমি এক গাল হেসে বলল,

” আমার কোনো আপত্তি নেই।”

নৌমি ঢোক গিলে মনে মনে বলতে শুরু করল,

” আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও, নিলু ভাবি আমাকে ক্ষমা করো। তামজিদ ভাইয়া আমি তোমাকে বিয়ে করবো না কিন্তু বাধ্য হয়ে মিথ্যে টা বলতে হলো। প্লিজ মাফ করে দিও। “

তাজের আব্বু ভারী কন্ঠে বললেন,

“আর কয়েকটা দিন যাক, শুভ্ররাও দেশে আসুক। তারপর তোদের বিয়ের চিন্তাভাবনা করবো।”

নৌমি থমথমে কন্ঠে বলল,

“এত তাড়াহুড়ো করার কি আছে! আমরা তো পালিয়ে যাচ্ছি না। “

“আমার শরীরের অবস্থা বেশি ভালো না, কখন কি হয় বলা যায় না।”

“বিয়ে নিয়ে পরেও ভাবা যাবে, এখন বলো তুমি কি খাবে।”

“আমি কিছু খাবো না। তুই কিছুক্ষণ আমার কাছে বস।”

“ঠিক আছে বসলাম। কিন্তু বার বার বিয়ের কথা বলবে না।”

“আচ্ছা। “

কিছুক্ষণ পর নৌমির বড় মামার ছেলে কল দিয়েছেন। তাজের আব্বুর সাথে কথা বলে নৌমির সাথেও অল্প কথা বলেছে। তারা সবসময় বাসায় না থাকলেও একমাস বা দুইমাস পর পর বাসায় এসে ঘুরে যায়, সবার সাথেই মোটামুটি ভালো সম্পর্ক। তাজের আব্বুর সাথে কিছুক্ষণ গল্প করে নৌমি রাদ আর রাফির সাথে আড্ডা দিতে চলে গেছে। রাফিদের রুম তাজের রুমের পাশেই। নৌমি একনাগাড়ে মাইরের বিস্তারিত বর্ণনা করে চলেছে৷কিছুক্ষণ পরেই তাজ আসছে। তাজ আসতেই রাদ নৌমিকে ইশারা দিল, নৌমি তখনও অনর্গল কথা বলেই যাচ্ছে। তাজ কপাল কুঁচকে এগিয়ে এসে নৌমির চেয়ারের পাশে টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো। আড়চোখে তাজকে দেখেই নৌমি দু’হাতে নিজের মুখ চেপে ধরে বড় বড় চোখ করে তাজের দিকে তাকালো। তাজ ভ্রু নাচিয়ে রাগী স্বরে বলল,

” তোদের বাঁচিয়ে ভুল করে ফেললাম নাকি?”

নৌমি বেকুবের মতো হেসে বলল,

” আমি তোমার প্রশংসা করছিলাম আর কিছুই না।”

” তোদের মুখে প্রশংসা শুনলেও ভয় লাগে আমার৷ “

“কেনো?”

” একে চাকরি হচ্ছে না। বাই চান্স চাকরি একটা হয়ে গেলে, পুলিশ ভেরিফিকেশন আসবে। আর যদি ভুল করেও তোদের সামনে আমার কথা জিজ্ঞেস করে ফেলে তখন তো তোরা আমার জীবন বরবাদ করে ছেড়ে দিবি। চাকরি হওয়ার আগেই শেষ করে দিবি। “

“মোটেই না। আমরা চাই তুমি অনেক বড় চাকরি করো। তোমার মনের সব আশা পূরণ হোক আর সবচেয়ে বড় কথা নিল..”

তাজ অকস্মাৎ নৌমির মুখ চেপে ধরে হাসতে হাসতে বলল,

” নীল আকাশে ঘুরার জন্য প্রয়োজনে তোকে দুটা ডানা কিনে দিব তবুও এখন মুখ টা খুলিস না। “

রাফি উদ্বিগ্ন কন্ঠে প্রশ্ন করল,

” তুমি ভাবির মুখ চেপে ধরেছো কেন ভাইয়া?”

তাজ নৌমির মুখ থেকে হাত সরিয়ে চেঁচিয়ে উঠল,

” এই, কিসের ভাবি?”

“তোমার হবু বউ, আমাদের ভাবি।”

তাজ রাগী স্বরে বলল,

” কোন এঙ্গেল থেকে নৌমিকে আমার সাথে যায়? “

রাদ নৌমির দিকে তাকিয়ে বলল,

” দেখেছো ভাবি, বুঝাচ্ছে তুমি দেখতে সুন্দর না।”

নৌমি বসা থেকে উঠে কোমড়ে হাত দিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে প্রশ্ন করল,

” তুমি আমাকে কি বললে?”

“বইন আমি তোকে কিছু বলি নি৷ বলছি আমি সুন্দর না। আমার সাথে তোকে মানায় না, তোর সাথে আরও সুন্দর কাউকে মানাবে। “

নৌমি লাজুক হেসে বলল,

” ঠিক আছে, এখন আমি যাই।”

“কোথায় যাচ্ছিস?”

“সুন্দর কাউকে খোঁজতে।”

তাজ, রাফি আর রাদ একসঙ্গে বলে উঠল,

” অ্যাহ।”

নৌমি ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,

” অ্যাহ নয় হ্যাঁ।”

নৌমি ওড়না উড়িয়ে হেলে দুলে চলে যাচ্ছে। রাফি কিঞ্চিৎ ভাব নিয়ে বলল,

” ভাইয়া, তোমার বউ গেল।”

তাজ ব্যস্ত হাতে পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বলল,

” যাক, ওর দৌড় জানা আছে আমার।”

শুভ্র কল দিচ্ছে। তাজ রিসিভ করে কথা বলতে বলতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেছে। শুভ্রর এক কাজিনের বিয়ে সামনের সপ্তাহে, বিয়েতে না আসলেই নয় তাই এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে সবাই দেশে ফিরবে। বাসার মধ্যে শুধু তাজকেই জানিয়েছে, বাকিদের সারপ্রাইজ দিবে ভেবে কিছুই জানায় নি। তাজ ও সেই অনুসারে প্ল্যান করছে। তাজ আর শুভ্রর বয়সের খুব বেশি পার্থক্য নেই। তাজ শুভ্রর থেকে ৫-৬ মাসের বড়, দুই ভাই বড় হয়েছে একসাথে। দু’জন দু’জনকে তুই বলেই সম্বোধন করে সবসময়। তারপরও ভদ্রতার খাতিরে তাজকে মাঝে মাঝে ভাই বলে সম্বোধন করে শুভ্র। শুভ্ররা কানাডা চলে গেলেও তাজের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয় নি। দু’জন দু’জনের মনের সব কথা জানে। নিলুর ব্যাপারেও শুভ্র মোটামুটি জানে৷ বছর তিনেক আগে, তাজ আর নিলুর সম্পর্কের শুরুর দিকে শুভ্র দেশে আসছিলো। দুই এক মাস দেশেই ছিল। সর্বক্ষণ তাজের সাথে ঘুরেছে, তাজও নিলুর সাথে দেখা করিয়েছিল। ঐদিন নিলু তার এক পরিচিত ছোট বোনকে নিয়ে তাজদের সাথে দেখা করতে আসছিলো। মেয়েটার নাম ছিল শোভা৷ শুভ্র আর শোভা নাম কাছাকাছি দেখে তাজ আর নিলুও খুব মজা নিয়েছিল৷ দুজনের অল্পস্বল্প কথা হয়, ফেসবুকে এডও হয়েছিল। তার কিছুদিন পর শুভ্র আবার কানাডায় চলে যায়। শোভার সাথে কিছুদিন কথা বলার পর দু’জনে সম্পর্কে জরিয়েছিল। এই কথা তাজ বা নিলু কাউকেই জানায় নি তারা। বছর খানেক পর হুট করেই শোভার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় শুভ্রর। আইডি চালায় না, ফোন নাম্বার বন্ধ করে শোভা নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে তাজের কাছে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে৷ তাজ নিলুর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে ঐ মেয়ে নিলুদের পাশের বাসায় ভাড়া থাকতো, মাস দুয়েক আগে বাসা ছেড়ে কোথায় চলে গেছে৷ তাকে নিলুও খুব একটা চিনে না। তারপর থেকে বেশ কয়েক মাস শুভ্র ডিপ্রেশনে ছিল। তাজকে যতবার কল দিয়েছে তাজও ইচ্ছেমতো ঝেড়েছে। সময়ের সাথে সাথে নৌমি কিছুটা বড় হয়েছে, ভিডিও কলে মামা-মামি আর সুমীর সাথে কথা বলা শুরু করেছে। নৌমির বাচ্চামি আর বেহিসাবি কথা শুনে শুভ্রর নৌমিকে ভালো লাগতে শুরু করেছে। মনে মনে ভেবে রেখেছে, দেশে ফিরলে নৌমিকে প্রপোজ করবে। নৌমি রাজি হলেই বাসায় জানাবে। এ ব্যাপারেও তাজকে কিছু বলে নি কারণ শুভ্রের জীবনের সব গল্প ই তাজের জানা। নৌমি ছোট থেকে তাজের সঙ্গে বড় হয়েছে, নৌমির পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে তাজের থেকে ভালো কেউ জানে না। নৌমি ম*রে গেলেও কখনো নিজের দেশের বাহিরে থাকতে রাজি হবে না। তাছাড়া নৌমির ব্যাপারে তাজের মনে অন্যরকম সফট কর্ণার কাজ করে। কেউ যেন ইচ্ছে করে নৌমির জীবনে এসে নৌমির চাঞ্চল্যকর জীবনটা নষ্ট করতে না পারে তারজন্য তাজ সবসময় নৌমিকে আগলে রাখে৷

তাজ টিউশন পড়াচ্ছে, আচমকা নিলুর নাম্বার থেকে কল আসছে। ইদানীং নিলুর নাম্বার থেকে কল না আসতে আসতে হঠাৎ কল আসলে তাজ অবাক চোখে তাকায়। কল রিসিভ করে ধীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,

” কিছু বলবে?”

” হ্যাঁ।”

“বলো।”

“কি করো?”

“টিউশনে”

” শেষ হলে কল দিও।”

“আচ্ছা।”

টিউশন শেষ হওয়ামাত্র বাসা থেকে কল আসছে। রাদ ভীতিকর কন্ঠে বলছে,

” ভাইয়া, তাড়াতাড়ি বাসায় আসো।”

“কি হয়েছে?”

“চাচ্চুর শরীর বেশি খারাপ। তুমি তাড়াতাড়ি আসো “

“আসতেছি।”

তাজ ঝটপট বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ততক্ষণে তাজের ছোট চাচ্চু এম্বুলেন্স রেডি করে ফেলেছে। তাজের আম্মু, নৌমির আম্মু, নৌমিরা এম্বুলেন্সে বসা। তাজ আসতেই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছাতে ঘন্টা দুয়েক সময় লেগেছে। ডাক্তার কতগুলো টেস্ট দিয়েছেন, সেগুলো করানো হয়েছে। এখন রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে সবাই। নৌমি হাসপাতালে বেলকনিতে বসে বসে কান্না করছে। তাজ সবার জন্য খাবার আনতে গিয়েছিল, খাবার নিয়ে এসে নৌমিকে দেখে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,

” এভাবে কাঁদছিস কেনো?”

নৌমি কাঁদতে কাঁদতে বলল,

” মেজো মামা বিকেল থেকে বলছিলো শরীর খারাপ, আমি কেনো তোমাদের বললাম না। আমার এখন নিজের উপর রাগ লাগছে।”

তাজ নৌমির মাথায় হাত বুলিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,

” কাঁদিস না। তুই যখন আব্বুর সাথে কথা বলছিলি তখন আমি উপর থেকে শুনেছি। আব্বুর শরীরের অবস্থা দেখে হাসপাতালে আসার কথাও বলেছি। কিন্তু আব্বু আমার কথা গুরুত্ব দেন নি উল্টো আমাকে টিউশনে চলে যেতে বলেছেন।”

নৌমি কান্নারত অবস্থায় তাজের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

” সত্যি বলছো?”

” আমি তোর সাথে মিথ্যা বলেছি কখনো?”

” না।”

“তাহলে? এখন চোখ মুছে ভেতরে চল। তুই এভাবে কাঁদলে আব্বুর শরীর আরও বেশি খারাপ হবে। “

নৌমি ওড়না দিয়ে চোখ মুছে শান্ত গলায় বলল,

” ঠিক আছে৷ আর কাঁদবো না।”

“গুড, খাবার গুলো নিয়ে যা।”

“তুমি কোথায় যাবে?”

” দুটা রিপোর্ট দেয়ার সময় হয়ে যাচ্ছে। নিয়ে আসি।”

“তাড়াতাড়ি এসো।”

“আচ্ছা। “

তিনদিন হাসপাতালে থাকার পর আজ ই তাজের আব্বুকে বাসায় আনা হয়েছে। শরীরের অবস্থা এখন কিছুটা স্বাভাবিক। দৌড়াদৌড়ির কারণে তাজ সময় করে নিলুর সাথে কথা বলতে পারে নি। নিলু দুই তিনবার কল দিয়েছিল কিন্তু তাজ ব্যস্ত থাকার কারণে ঠিকমতো কথা বলতে পারে নি। ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে নিলুকে কল দিল। নিলু কল রিসিভ করে রাগী স্বরে বলল,

“কি চাই?”

” চাওয়ার কিছু নেই। আব্বু অসুস্থ তাই ব্যস্ত ছিলাম।”

” ওহ।”

“কি বলতে চেয়েছিলে বলো।”

“আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।”

” আর কিছু?”

নিলু জিজ্ঞেস করল,

“বিশ্বাস করো না?”

“অবিশ্বাস করছি না।”

“এভাবে কথা বলছো কেনো?”

” কিভাবে বলবো?”

“মন খারাপ?”

তাজ মলিন হেসে বলল,

” মন ভালো থাকার কথা ছিল বুঝি!”

“আংকেলের শরীর কেমন?”

” শুধু আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারি। বিয়ে কবে?”

” কে জানে।”

“মজা নিচ্ছো?”

“হয়তো বা।”

“আমার এখন মজা করার মুড নেই। আল্লাহ হাফেজ”

তাজ কল কেটে যেই ঘুরতে যাবে ওমনি দেখে দরজায় নৌমি দাঁড়িয়ে আছে। নৌমিকে দেখে ঢোক গিলে শান্ত কন্ঠে বলল,

” তুই?”

” ভাবির সাথে এভাবে কথা বলছিলে কেনো তুমি?”

“এমনি”

“কি হয়েছে বলো আমাকে।”

“কিছু হয় নি। তুই যা”

“বলো।”

তাজ রাগী স্বরে বলল,

” যেতে বলছি তোকে।”

” যাচ্ছি৷ খেতে ডাকছে তোমাকে এটায় বলতে আসছিলাম। ছেলে হয়ে জন্মেছো ধৈর্য ধরতে শিখো। কথায় কথায় মেয়েদের উপর চেঁচানো ভালো লক্ষণ না, আসছি।”

তাজ ফের ডাকল,

” মুসকান “

নৌমি রুমে চলে গিয়েছিল। তাজের ডাক শুনে দরজায় হাত রেখে বেলকনিতে ঝুঁকল। ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইল,

” কিছু বলবে?”

তাজ মৃদুস্বরে বলল,

” তুই এত ভালো কেনো? সবাই তোর মতো বুঝলে, জীবন কত সুন্দর হতো। “

নৌমি নিঃশব্দে হেসে বলল,

” নৌমি এক পিস আছে ব্রো। হাজারে নয় লাখে একটা৷ এখন খেতে চলো।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply