ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ২৩
#লেখনীতে_সাদিয়া
#পর্ব_২৩
দয়া করে সবাই পোস্টটায় একটু রেসপন্স করে যাবেন।
পার্কিং লট থেকে ভিহান বাইকটা বের করে রাহার সামনে নিয়ে এলো। পিছন থেকে ওয়েটার তখন অনেক বড়সড় একটা শপিং এগিয়ে দিয়েছে। মিষ্টি হেসে ভদ্রতার সহিত সালাম দিয়ে আবার চলেও গেলো। ভিহান সেটা গাড়িতে রাখতে গেলে কৌতূহল বশত প্রশ্ন করে বসল রাহা,
“এটায় কি আছে ভিহান ভাই?”
ভিহান চোখ তুলে তাকালো। স্পষ্টত স্বরে জানালো, “পেটুকের জন্য খিচুড়ি। মাঝরাতে খিদে লাগলে তখন খিচুড়ির কথা মনে পড়ে নখরা করবে। ড্রামার ড্রাম কিনা!”
“ড্রামার ড্রাম?” ওই যে পানি তেল রাখে যে ইয়া বড়বড় ড্রাম সেগুলি? সেগুলি নাকি অন্য কিছু? যাক গে ওসব কথা গায়ে মাখলো না রাহা। সে শুধু মনে নিলো ভিহান ভাই খিচুড়ি নিয়েছে এটুকই। বাদবাকি দুইটা কড়া কথা কিংবা বকা এসব তার জন্যে কিছুই না। ওসব তার গায়ে লাগাবে নাকি সে? রাহা খুশিখুশি মনে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানালো,
“সত্যি ভিহান ভাই? খিচুড়ি পার্সেল করেছেন? ইশশ রাতে বৃষ্টির মাঝে মজা করে খাওয়া যাবে। আপনি অনেক ভালো ভিহান ভাই।”
অথচ ভিহান টু শব্দটাও করলো না। ইশারায় বুঝিয়ে দিলো গাড়িতে ওঠার কথা। রাহা নিজের ওড়না ঠিক করতে করতে গাড়িতে ওঠতে গেলো। তখন ভিহান বাঁধ সেঁধে বলল, “আগে চুল বাঁধ।”
রাহা অসহায় মুখে তাকালো ভিহান ভাই এর দিকে।
“আমি তো কোনো কিছু আনিনি চুল আটকানোর জন্য।”
মেজাজটা যেন একটু খারাপই হলো ভিহানের। চিবিয়ে একটা বকা দিলো, “ইডিয়েট।”
“হাত দিয়েই কোনো রকম করে বেঁধে নে।”
“ওসব হাত খোঁপা টোপা করতে পারি না আমি।”
“তাহলে পারিস টা কি বলদ?”
রাহার মুখটা অপমানে থমথমে হয়ে গেলো। ঠোঁট উল্টে সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থেকে মিনমিনে গলায় জবাব দিলো, “আমি ওভাবে চুল বেঁধেছি কখনো? আমার কাছে তো সবসময় হেয়ার ব্যান্ড নয়তো ক্ল থাকে।”
ভিহান আর ধমকালো না ওটাকে। ধমকে কোনো লাভ আছে? গরুটা কি কখনো মানুষ হবে? নিজের প্যান্টের পিছন পকেটে হাত দিয়ে সেদিন রাহার ফেরত দেওয়া পরিষ্কার রুমালটা বের করলো। ওটা অবশ্য কখনো হাত ছাড়া করে না সে।
বাইক থেকে নেমে গিয়ে সেই রুমালাটা নিয়ে রাহার সামনে দাঁড়ালো। রুক্ষ আদেশ স্বরে বলল, “পিছন ঘুর।”
রাহা মাথা নিচু রেখে চোখ উপরে তুলে দেখল ভিহান ভাই কে। মানে সে বুঝার চেষ্টা করলো হয়তো কিছু। তা দেখে ভিহান কটমট করে বলল আবারও, “কি বলেছি তোকে স্টুপিড?”
অগত্যা রাহা কথা না বাড়িয়ে পিছন ঘুরলো। ভিহান কোনো রকম নিজের রুমালটা কোণাকুণি করে রাহার চুলে হাত দিলো। কিছুটা সময় আর অনেকটা যত্ন নিয়ে রুমালটা চুলে বেঁধে দিলো। মেয়েটা পাথরের মতো জমে গেলো এমন কান্ডে। বাহিরে তখন বকবকিয়ে ঠান্ডা বাতাস বইছে। একদম গুড়িগুড়ি পিটপিট করে বৃষ্টির কণা ঝরছে আকাশ থেকে। লাইটের হলদে সাদা মিশ্রিত আলোতে দেখলে মনে হবে যেন স্নো ফল হচ্ছে। প্রকৃতির হিমেল হাওয়াই নাকি ভিহান ভাই এর কান্ডে রাহা রীতিমত বরফের মতো জমে যাচ্ছে তা সে জানে না। চুপচাপ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকল শুধু।
ভিহান নরম হাতে রুমালটা দিয়ে রাহার সবগুলি চুল বেঁধে দিয়ে এক পলক দেখল ওর কোমর ছাড়ানো চুল গুলির দিকে। খানিক কাছে বিধায় মেয়েটার গা থেকে একটা প্রাকৃতিক সাফরানের সুভাস ভেসে আসছে। সেই সাথে চুলের মিষ্টি একটা শুধা ভিহানের ভেতরকে তোলপাড় করে দিচ্ছিলো। আনছান করতে লাগলো ওর হৃদয়টা ব্যাকুল ভঙ্গিতে। নিজের ভেতরের বেসামাল অনুভূতি টা দাঁতে দাঁত পিষে হজম করতে চাইল হাত মুঠোমেয় করে। মেয়েটার আড়ালেই ঠোঁটে ফুটল অস্থিরতার সেই মিষ্টি যন্ত্রণা মেশানো তার নিগূঢ় হাসি।
অবশেষে নিজেকে স্বাভাবিক করে ভিহান বাইকে ওঠে বসল। রাহা কে শক্ত গলায় জানিয়ে দিলো দ্রুত গাড়ি ওঠতে। এমন স্বরে বলল যেন কিছুই হয়নি। যান্ত্রিক কোনো বস্তু।
এতক্ষণ পর মনে হলো রাহা নিশ্বাস নিতে পারছে। ঢোক গিলে পরপর কয়েক পলক ফেলে নিজেকে স্থির করলো। বুকের ভেতর থেকে ক্ষীণ ঢিপঢিপ শব্দ এখনো তাকে কেমন জমিয়ে দিতে চাইছিলো। ভিহান ভাই এর ধমকে তাই তাড়াতাড়ি করে বাইকে বসতে গেলে ভিহান কঠোর রাশভারী গলায় বলল,
“ওভাবে বসতে পারবি?”
রাহা থমকালো। অবাক নয়নে তাকালো ভিহান ভাই এর দিকে।
“দুই পাশে পা দিয়ে বসতে সমস্যা হবে?”
রাহা যেন কিছুই বুঝল না। সবসময় “আমার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বসবি” বলা মানুষটা বলছে দুই পাশে পা দিয়ে বসার কথা?
রাহার কৌতূহল কিংবা মনের প্রশ্নটা টের পেয়ে ভিহান নিজ থেকেই জবাব দিলো, “ফাঁকা রাস্ত। তারউপর একটু পর ভারি বৃষ্টি নামতে পারে। দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে।”
রাহা বুঝলো বিষয়টা। ভিহান ভাইকে ধরে রাখলে উনি স্প্রিডে টানবেন তাই ওভাবে বলছে। আর রাহা জানে ভিহান ভাই এর গাড়ির গতি ঠিক কতটা উপরে ওঠতে পারে। তাই মাথা টা নাড়িয়ে ওভাবেই বসল। ভিহান ভাই কে ধরার জন্যে রাহার হাতদুটো ইতস্তত করলেও ভিহান শান্ত গলায় বলল,
“ভালো করে ধরে বোস। নয়তো পড়ে যাবি।”
আশ্বস্ত পেয়ে রাহা পিছন থেকে ভিহান ভাই এর বুকটা শক্ত করে ঝাপটে ধরল। রাহার তুলতুলে হাত দুটি অশান্ত বুকে পড়তেই ভিহান এক মুহূর্তের জন্যে থমকে গেলো। এক শীতল দমকা হাওয়া অন্তঃকরণে বকবক করে ঢুকে গেলো যেন। ওর স্পর্শ তড়িতে যেন ভেতরটা উত্থলিত করতে চাইলো। কিন্তু ভিহান নিজের সংযম টেনে ধরলো। এসব অনুভূতি কে দূরে ছুড়ে ফেলল পরিস্থিতি বিবেচনা করে। আকাশে তখনো বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। গুড়গুড় করে দিন ডাকছে। সেই সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির কণা তো পড়ছেই। রাত বাজে ৭ টার উপরে। পথটা যেতে ২ ঘন্টার উপরে লাগবে। ১০ টার আগে যে করেই হোক বাড়ি ফিরতে হবে। তাছাড়া রাস্তাঘাটও এখন ফাঁকা থাকবে। মেয়েটাকে এনেই যেন বিপদে পড়েছে। নয়তো তাকে নিয়ে আর কি চিন্তা ছিল? এখন নিজের উপরই যেন বিরক্ত আর রাগান্বিত হচ্ছে ভিহান।
বাইক স্টার্ট দিয়ে সাই করে এক টান দিলো ভিহান। সঙ্গেসঙ্গে চোখ খিঁচে মেয়েটা ভিহানের শার্ট টা খামছে ধরেছে। মাথাটা ওর পিঠে একদম শিটিয়ে রেখেছে। বাইক আস্তেআস্তে নিজের গতি বাড়াচ্ছে। রাহাও যেন ভিহানের শার্ট তত বেগে খামছে ধরেছে। ভিহান এক ফাঁকে নিজের বুকের উপর রাহার ছোট্টছোট্ট হাত দুটির দিকে একপল তাকিয়ে মুচকি হাসল। পরক্ষণে ভেতরে অনুভূতি কিংবা চিন্তা সব বাদ দিয়ে সবটুক মনোযোগ দিলো বাইকে।
“রাহা রে এই শক্তপোক্ত পাথর দেহের মানবটাকে কেন এত উন্মাদ আর অশান্ত করতে যাস তুই?”
হালকা বৃষ্টিতে ভেজা বাইপাসের রাস্তটা ছিল ঘণ শান্ত আর নিরিবিলি। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো ভেজা কালো রাস্তায় চিকচিক করছিল। মাঝে মাঝে মিনিট দশ বিশ পরপর দূর থেকে গাড়ির আলো এসে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। হিমেল হাওয়া ও বৃষ্টির মিষ্টি সুধা শরীরে মৃদু ভাবে দুল দিয়ে যাচ্ছে। রাহা পিছন থেকে ঝাপটে ধরে রেখেছে ভিহান ভাই কে। শার্ট টা শক্ত করে আঁকড়ে ধরে পিঠে মাথাটা ঠেকিয়ে রেখেছে। ভিহানের বাইক তখন ৮০+ এ চলছিল। মেয়েটা বোধহয় ভয়ে ভয়ে আছে। ভিহান একটু গাড়ির গতিটা কমিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করল,
“আদুরী?”
পিঠ থেকে মাথা তুলল না রাহা। ওভাবেই নাক মুখে শুধু বলল, “হু?”
“ঘুমিয়ে গিয়েছিস?”
“না।”
“শক্ত করে ধরে রাখ। ভয় নেই আমি আছি না? তোর জন্যে জান কুরবান মঞ্জুর মাই বাটারফ্লাই।”
শেষের কথাটা খুব ক্ষীণ আওয়াজে বলল ভিহান যেন মেয়েটা শুনতেও না পায় সেভাবেই। রাহা জবাব দিতে পারলো না ও কথার। ভিহান হুট করে আবারও গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। গাড়ি ৮০/৮৫ তে চলছে। বাইক টানতে টানতে ভিহান হঠাৎ খেয়াল করল তিন রাস্তার মোড়ে থেকে একটা বাইক তাদের পিছু পিছু আসছে। তীব্র হর্ন বাজিয়ে সমান তালে এগিয়ে আসছে। বিষয়টা একদমই স্বাভাবিক নিয়ে ভিহান গতি অক্ষুণ্ণ রেখেই সাইড দিলো। অথচ মিররে দেখতে পেলো আরেকটা বাইক। দুটোই সমানে হর্ন বাজাতে বাজাতে এগিয়ে আসছে। ভিহান রাস্তার এক পাশ দিয়ে গাড়ি টানলেও দেখা গেলো বাইক গুলি না তার পিছনে গেলো আর না তো সামনে এগিয়ে এলো।
এই পর্যায়ে ভিহানের টনক নড়ল। বিষয়টা যে মোটেও স্বাভাবিক নয় তা বেশ আন্দাজে নিয়ে নিয়েছে সে। উপরন্তু বাইকের গতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বুকে অনুভব করে রাহা একেবারে নখ খামছে ধরেছে। ভিহান না পারতেও বলল,
“ভয় নেই জান। শান্ত থাক।”
তীব্র দমকা হাওয়ায় সেই শব্দ কোথাও মিলিয়ে গেলো। তা যে রাহার কর্ণকুহরে পৌঁছাবে না সাই সাই বাতাসের বেগে তা ভিহানের বেশ জানা। তবে অশনি বিপদের ইঙ্গিত ওর মস্তিষ্ক তপ্ত করে দিল। নিউরনে নিউরনে শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে “আমার বাটারফ্লাই টা আমার সাথে।” এই ভাবনা যেন তাকে আর উদগ্রীব করে তুলল। হাতের শিরা আরো ফুলে ওঠল বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী ছেলেটার। চোয়াল ইস্পাতের মতো ধারালো হয়ে ওঠল। চোখ দুটি দিয়ে যেন আ*গুনের লেলিহান বের হতে লাগল।
এই পর্যায়ে দেখলো বাইক দুটো তাকে ঘিরে নিয়েছে। বিশাল বড় রাস্তায় দুই পাশে ওই দুইটা বাইক আর মাঝে তার নিশীথের আঁধার কালো রঙ এর Yamaha টা। দুটো বাইকের ছেলেই যে দারুণ কৌশল জানে তা ওদের স্কেল দেখেই বুঝা যাচ্ছে। কিন্তু চতুর ভিহান এখনো বুঝলো না ওটা তার কেমন শত্রু। প্রোফেশনাল নাকি অজানা? এই মুহূর্তে শুধু তার মাথায় এটাই খেলছে বড়সড় একটা বিপদে হয়তো পড়তে যাচ্ছে এই নীরব নিশীথি রাতে। তার ভয়ের একমাত্র কারণই তো রাহা। তার জানের টুকরা।
পিছন থেকে রাহা হয়তো কিছু বলছে। কিন্তু অতিরিক্ত বাতাসে সেই ধ্বনি হাওয়ার মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। কানে এসে পৌঁছানোর আগেই তা প্রবল বাতাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটাও বোধহয় আসন্ন বিপদ টের পেয়েছে। দুই হাত এবং আঙ্গুলের বন্ধন আরো দৃঢ় করছে ও। নখের আছড় গাঢ় ভাবে টের পাচ্ছে নিজের বুকে। পারছে না শুধু ওর ভেতরে ঢুকে যেতে মেয়েটা।
ভিহান এত কিছুর পরও বাইকের গতি কমালো না। সামনের একটা ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোয় একপলক চোখ ঘুড়িয়ে দেখে নিলো দুইটা বাইকে ৩ জন লোক আছে। ছেলে গুলি হর্ন আর সিটি বাজিয়ে চিৎকার করছে। চালচলনে বুঝা যাচ্ছে বখে যাওয়া।
ভিহান ঠান্ডা মাথায় ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে কেবল গাড়ি টেনে নিচ্ছে। মস্তিষ্কে সুচালো ভাবে ফুটছে শুধু একটা প্রশ্নই, “কারা এরা? কোন শত্রু?” বুকের ভেতরে কেবল ভয় কাজ করছে পিছনে বসা মেয়েটার কারণে। যে তার প্রাণ পাখি। আর ছোট্ট প্রজাপতি। নিজের উপর বড্ড বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে কেন ওকে নিয়ে আসতে গেলো? ভালো মন্দ যদি একটা কিছু হয় তার কলিজা এফারওফার হয়ে যাবে। ম*রে যাবে সে। ভয় দলা পাকিয়ে আসতে চাইছে নিজের প্রাণ ঝুঁকিতে নিয়েও সবসময় সব অভিযান সামাল দেওয়া দৃঢ় সাহসী উদ্যম পুরুষটারও। ঢোক গিলতেও কাঁপছে ভিহান।
দুই পাশে তীব্র গতিতে ছুটে চলা বাইকের মাঝে ভিহান কেবল পিছনে থাকা একটা ভয়ার্ত মেয়ের কারণে নিজেও যেন কলিজা হাতে নিয়ে প্রাণপণে রাস্তা পাড় হওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে কোনো কিছুই হলো না। বাইক দুটিও সমান তালে তালে এগিয়ে এলো।
কিন্তু স্বভাব তো আর পিছু ছাড়ে না। প্যান্টে গুঁজা পেটের সাথে থাকা রিভেলভারটার অবস্থা চিন্তা করে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যে প্রস্তুত হলো ও। ভয় কে ছোটবেলা থেকে পরাজয় করা শিখেছে ও। ভয়ের পিছনে যত ছুটবে ততই পথ আরো কঠিন এবং দীর্ঘ হবে। উপরন্তু কোনো লাভ হবে না বরং বিপদ আরো বাড়বে। সুযোগ বুঝে একটা লেমপোস্টের থেকে একটু দূরে নিজের বাইকটা আচমকা থামালো সে।
ক্ষিপ্ত বেগে ছুটে চলা গাড়িটা হঠাৎ ব্রেক কষায় পিছনে বসা রাহা প্রায় ছিটকে চলে আসতে চাইলো সামনের দিকে। নিজেকে সামলানোর জন্যে দেহের সবটুক শক্তি দিয়ে খামছে ধরল ভিহান ভাই কে। ছেলেটাও সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে দাঁত কাটল। বুকের উপর থেকে চামড়া ছিলে গিয়েছে মেয়েটার নখের আছড়ে। বোধহয় শোণিতের কণাও দৃশ্যপাত হয়েছে। সেটাকে সেকেন্ড দুই একও প্রশ্রয় দিলো না। ও ঝটপট তাকালো। চাবিটা ঘুরিয়ে বাইকটা অফ করলো।
নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে ভয়ে কম্পিত রাহা আরো জড়সড় হয়ে গেলো। মেয়েটার মুখ আতঙ্কে এইটুক হয়ে গিয়েছে সেটা ঘাড় খানিক ঘুরিয়েই দেখতে পেলো ভিহান।
রাহার হৃদয় কাঁপছে ভয়ে। শ্বাস টানতে পারছে না ঠিক করে। থুতনি টা কেঁপে ওঠছে সামান্য কথাটা বলতেও। তবুও তীব্র ভয় নিয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল রাহা, “ভিহ.. ভিহান ভাই।” বোধহয় ঢোক গিলল। লেগে আসা দাঁত কপাটি ফাঁক করে পুনরায় উচ্চারণ করলো, “আ..আপনি গা..গাড়ি থামালেন… ওরা..”
আর পারলো না মেয়েটা। গলা কাঁপছে। হাত পা কাঁপছে মনে হচ্ছে এখুনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে ও। শরীরটা অস্বাভাবিক ভাবে শীতল হয়ে গিয়েছে। যেন রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। ভিহান সবটা বুঝে নিয়ে দ্রুত করে নামলো। বাইকটা ডাবল স্ট্যান্ডে বসিয়ে এগিয়ে গেলো রাহার কাছে। ভীত মুখটা দুই হাতের আঁজলায় তুলে নিয়ে শুধালো,
“ভয় করছে?”
মেয়েটা কোনো জবাব দিতে পারলো না। থরথর করে কাঁপলো শুধু। ওর আতঙ্কিত ছলছল নয়ন গুলি বেশ মনোযোগ দিয়ে পরখ করল ভিহান।
“আমি আছি না? আমি থাকতে তোর কিছু হতে দিবো? আছড়ও লাগতে দিবো না। কথা দিচ্ছি। ভরসা রাখ সোনা। আর চুপচাপ বসে থাক।”
পরক্ষণে রাহারকে অবাক করে দিয়ে একেবারে আচমকা অযাচিত ভাবে ওর কপালে চুমু বসিয়ে দিয়ে মৃদু ফিসফিস স্বরে বলল, “ডোন্ট ওরি জান। আমি তোর ছায়ার মতো আছি।”
কথা শেষ করে ভিহান গাড়ি থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলো।
এমন অতর্কিত ভাবে গাড়ি থামাবে ছেলে গুলি হয়তো ভাবেনি। তাই গতির সাথে তাল মিলিয়ে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলো। এখন আবার ফিরে এসেছে। ভিহানের সামনেই দুটো বাইক থামিয়েছে ওরা। ভিহান ঠোঁটে চেঁপে ধরা সিগারেট টায় আ*গুন জ্বালালো। সরু তীক্ষ্ণ চোখে দেখতে পেলো ছেলে তিনটা নেমে একটা বিশ্রী হাসি দিলো। একটা ছেলে গলা বাড়িয়ে দিয়ে আবছা আলোয় বাইকে বসা রাহার পানে তাকিয়ে বিশ্রী হাসতে লাগল ঠোঁটে জিহ্ব ঘঁষে।
ভিহানের কাঁধটা একটু ডান দিকে বাঁকানো, ঠোঁটে সিগারেট, চোখ দুটি বন্ধ। ওভাবেই ঘাড় কাত করে হাত বাড়িয়ে তর্জনী আর মধ্যমা আঙ্গুল দুটি উপরে তুলে বলতে লাগল,
“উঁহু, ওদিকে নয়। ওখানে তোর আম্মা বসে আছে। আগে বাপকে দেখ বাবু।”
ভিহানের কথা ছেলে তিনটা অট্টহাসি তে উড়িয়ে দিলো।
“মাল তো খাসা আছে।”
একটা ছেলের কথায় ভিহানও কেমন স্বরে বলল, “তোর বাপের আদরের জিনিস বলে কথা।”
এদের মাঝে একটা ছেলে ভীষণ ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে বলে উঠল, “মাদার*, তোর বাপের নাম ভুলাই দিমু। মুখ থেঁইতলা দিমু। সর এইখান থেইকা।”
ভিহান সিগারেট টা দুই আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট থেকে সরালো। ওর চোখ দুটি কেমন ঘোলাটে তবে বিক্ষিপ্ত। নিভুনিভু তেজ পিটপিট করে জ্ব*লছে যেন এই রাতের আঁধারে। ভেতরের নিকোটিনের ধূসর ধোয়া ঠোঁট গোল করে ছাড়তে ছাড়তে জবাব দিলো সে,
“সাহস থাকলে কাছে এসে দেখ বাইন*”
ওপাশের ছেলে গুলি রাগলো বোধহয়। একটা ছেলে হাতে কিছু নিয়ে ভীষণ তেড়ে আসতে চাইলো।
“সর আগে এই শালা রে মায়ের গর্তে ভইরা দিয়া আসি। পরে মজমস্তি হইবো।”
ওই ছেলেটাকে আটকে বলল আরেকটা ছেলে, “আরে বেটা থাম তুই। শুধুশুধু ঝামেলা করার দরকার আছে। রাত হইছে। ওমন টসটসা জিনিসের লোভ সামলাতে পারতাছি না আমি। জিহ্বে পানি চলে এলো। ইশশ রসালো মিষ্টি।”
“আজকে এক্কেবারে মজ্জা হবে মামা। লোভনীয় খাবার।”
বলেই পাশে থাকা একটা ছেলে লালসার বিশ্রী হাসি হাসলো।
ওসব কথা ভিহানের রাগ কে যেন দ্বিগুণ করছিলো। ওর ভেতর থাকা নিভু আ*গুনটাকে একটু একটু করে জ্বালাচ্ছিলো। মস্তিষ্ক বারবার সংকেত দিচ্ছিলো ওরা তার প্রোফেশনাল কোনো শত্রু নয়। কেবল রাস্তাঘাটের কিছু ক্ষুধার্ত কুকুর। নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখা হিংস্র নেকড়ে টা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ভিহানের।
শান্ত তেজস্বী চাউনিতে সে ভালো করে পরক্ষ করে ছেলে তিনটাকে। হাতে কিছু জিনিস আছে। ধারালো চা*কু পেননা*ইফ এমন কিছু।
ওদের মাঝে একটা ছেলে বলে উঠলো, “শালা আমাদের মজা করতে দেওয়ার জন্যে মেয়েটাকে রেখে কেটে পড়বি নাকি ম*রবি?”
ভিহান দুই আঙ্গুলে ধরা সিগারেট টা প্রাণ ভরে টেনে নিলো ভেতরে। অতঃপর সেটা ঠোঁট থেকে নামিয়ে এক টোকা দিয়ে ফেলে দিলো কোথাও। ঠোঁটে ক্রুর হাসি টেনে মৃদু আওয়াজে বলল, “তোদেরকে এখানে গেড়ে রেখে যাবো।”
“ন* ম*রার লাইগা ফাল পারতাছে। খান* লা…”
ছু*ড়ি নিয়ে প্রথমে এগিয়ে আসতে চাওয়া ছেলেটা ক্ষিপ্র হয়ে এবার তেড়েই এলো। এক বিশ্রী গালি দিয়ে ভিহানের দিকে সেটা এগিয়ে দিতেই বাঘের থাবার মতো ওর কব্জিটা মুঠো ভরে নিলো ও। বিক্ষিপ্ত রাগে দাঁত কটমট করে আরেকটু জোড়ে চেঁপে ধরল ওই কব্জিটা। সবসময় ব্যায়াম করা বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত লোকটার সাথে ওই বড়সড় দেহের আকৃতির ছেলেটাও হার স্বীকার করলো যেন। কব্জিতে তীব্র ব্যথায় একটুও নড়তে পারলো না। বেশ কায়দা করে ধরেছে। একটু এদিকসেদিক হলেই হাতটা ভেঙ্গে যাবে। ভিহান বাঁকা হেসে ওর হাত থেকে ছু ড়িটা নিয়ে চোখের পলকে বুকের উপর আড়াআড়ি ভাবে দুইটা টান বসিয়ে দিলো। ছেলেটা চিৎকার করে ওঠল। রাতের আঁধারে সেই চিৎকার খোলামেলা জায়গায় বিকট আওয়াজ শুনালো যেন। খোলা আবহাওয়ায় ম*র্মান্তিক আর্তনাদ ভুতুরে হাওয়ার মতো শরীর শিউড়ে তুলছে। গা ছমছমে ভাবটা কাটা দেওয়ার মতোই।
দূরে বসে থাকা রাহা চোখমুখ খিঁচে একটা আর্তনাদ করে ওঠল। ভিহান থমকালো। ঘাড় বাঁকিয়ে রাহার পানে তাকিয়ে ছুড়ি ধরা হাতটার তর্জনী আঙ্গুল তুলে বলল কেবল,
“হুশশশ।”
আর কোনো শব্দ করলো না। আবারও ফিরে ছেলেটাকে ল্যাং মে*রে ফেলে দিলো ভিহান। পরক্ষণে হাটু দিয়ে ওর মুখ পরপর কয়েকটা আঘাত বসিয়ে দিলো। বুক থেকে কলকল করে র ক্ত বের হচ্ছে সেই সাথে নাকমুখ দিয়েও র ক্ত ঝড়ছে ছেলেটার।
ওর এমন বিধ্বংসী রূপ দেখে বাকি দুইটা ছেলে কিছুটা বোধহয় থমথমে হয়ে গেলো। সামনে থাকা ছেলেটা স্থির বিস্মিত নজরে তাকিয়ে দেখলেও পিছনের ছেলেটা যে ভড়কে গিয়েছে তা বুঝল ভিহান। ওরাও বোধহয় ভাবতে পারেনি ও এমন কিছু করবে। বা করতে পারে।
“বাপের দোয়া নিবি আয় চান্দু মনা।”
পিছনের ছেলেটাকে ইশারা করলো ও। তবে কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল ছেলেটা। সামনে থাকা ছেলেটা ভীষণ রেগে বলল, “ন* *ত তোরে আজকে ভ*ইরা দিমু।”
নিজের হাতের ছু*ড়িটা ফেলে এগিয়ে এলো সে। পাশে পড়ে থাকা একটা মোটা ডাল দেখতে পেলো ভিহান অনেকটা পুলিশের রুলের মতো। বোধহয় রাস্তার গাছ কাটা হয়েছে আজ। সেটাই তুলে নিলো সে। ছেলেটা এগিয়ে এসে ওর দিকে বাড়িয়ে দেওয়া হাতটার উপরই ভিহান আগে একটা বাড়ি দিলো। হাতে থাকা ছু*ড়িটা ছিটকে দূরে পড়লো। সেই সাথে ব্যথায় চেঁচিয়ে ওঠল ছেলেটা। ভিহান আর থামলো না। ডালটা দিয়ে একেরপর এক আ ঘাত করতে লাগলো পুরো শরীর জুড়ে। অসূরে এক শক্তির বলে ক্ষিপ্র ভাবে একেকটা বা*ড়ি দিতে লাগলো শরীর জুড়ে। কানে লাভার মতো গলে পড়ছিল একটু আগের বলা কথা গুলি। তাতেই আরো হিংস্র ভাব ফুটে উঠছিল যেন তার একেকটা আ ঘাতে। ওদের আ*র্তনাদ জায়গাটা কেমন ভারি করে তুলল। গা ছমছমে ভুতুড়ে এক পরিবেশ তৈরি হলো।
বাইকের সামনে থাকা ছেলেটাও পালানোর সুযোগ পেলো না। তার আগেই ভিহান ও কেও দানবীয় শক্তির বলে আ ঘাত করে কাবু করে গেলো। এক পর্যায়ে ওর নারকীয় তাণ্ডবে যখন ওরা ধরাশায়ী হলো তখন ভিহান ফিসফিস করে বলল,
“ওখানে যে বসে আছে না ও আমার হৃদপিন্ড। আমার জান। ওকে ছাড়া আমার নিশ্বাস চলবে না বান্দির বাচ্চারা। আর ওর গায়ে আছড় লাগতে দিবো আমি?”
বলেই মুখ বরাবর আরেকটা ঘু ষি বসিয়ে দিলো। মুখে যেন টগবগ করে ফুটতে থাকা অশনি রাগ দেখা গেলো। দাঁতে দাঁত কেটে কটমট সুরে একটা ছেলের মাথার চুল ধরে বলে উঠল,
“আমার আদুরী টা যদি আজ এখানে না থাকতো তাহলে তোদের মুখ আমি থেঁতলে পরেই যেতাম এখান থেকে। ও বড্ড ছোট। আমার ছোট্ট প্রজাপতি টা ভয় পাবে বিধায় তোদের ছুরত টা ঠিক থাকলো।”
ভিহান পরপর আরো কয়েকটা ঘু ষি বসিয়ে দিলো। যে ছেলেটা “টসটসা” বলেছিলো, ওর চুলের মুঠি বিক্ষিপ্ত মুঠোয় ভরে নিয়ে খানিক ঝুঁকল ছেলেটার দিকে। আগুন ঝড়া চোখ নিয়ে ক্ষোভান্বীত স্বরে বলতে লাগল, “ওখানে যে বসে আছে? ওটা শুধু আলাদা একটা মানুষ নয়। আমার আত্মা। আমার অক্সিজেন হয়, জানোয়ারের বাচ্চা। ওর যখন পাঁচ বছর বয়স? তখন আমি সবে ১৫ তে পা দিয়েছি। ঠিক তখন থেকে এইখানে ওকে খুব যত্ন করে আদর করে লুকিয়ে রেখেছি।” তর্জনী আঙ্গুল টা হৃদপিন্ড বরাবর ঠেসে রেখে বলল ভিহান, “আজ পর্যন্ত কোনোদিন ওর দিকে কু নজরে তাকায়নি। কোনোদিন ওকে খারাপ মনোভাব নিয়ে ছুঁয়ে দেখিনি বুকে এক সমুদ্র ভালোবাসা নিয়েও। আর তুই কুত্তারবাচ্চা কি বলেছিস আমার হার্টবিট টা কে?”
কথাটা শেষ করেই হাতটা মুঠোভরে নিয়ে এক সর্বনাশী ঘু ষি বসিয়ে দিলো। টস করে ক্ষীণ একটা আওয়াজ হলো। বোধহয় ক্ষুদ্র কিছু রাস্তায় পড়েছে। সেটা কি তা আবছা আলোয় দেখা গেলো না। তবে ছেলেটার ঠোঁট বেয়ে কলকল করে র ক্তের বন্যা বইতে লাগলো। বোধহয় দাঁতটাত পড়ে গিয়েছে। নিজের ভাবনায় বাঁকা হাসল ও। তখুনি ক্ষীণ ভীতু একটা কন্ঠ স্বর ভেসে এলো,
“ভি..ভিহান ভাই।”
ভিহানের অগ্রাসী ক্ষিপ্ত অগ্নিঝড়া নজর আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে এলো। নরম চোখে সে তড়িতে তাকালো ঘাড় উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাহার পানে। ভয়ে মেয়েটার নিশ্বাস থেমে থেমে আসছে। আবছা আলোয় ভিহান দেখতে পাচ্ছে মেয়েটার কোমল ঠোঁট গুলি তড়তড় করে কাঁপছে। শরীরটাও মৃদু ছন্দে কেঁপে ওঠছে। মেয়েটার ওই ভীতু শঙ্কিত মুখটা দেখে ধক করে ওঠল ভিহানের হৃদয়। বড্ড মায়া হলো। ইশশ রে তার একটু অসতর্কতার কারণে মেয়েটা কতটা ভয় পেলো। ভিহান চট করে বসা থেকে ওঠে দাঁড়ালো। অস্থির হয়ে এগিয়ে গিয়ে গালে হাত রাখলো ওর। আদুরে সুরে বলল,
“ঠিক আছিস আদুরী?”
রাহা জবাব দিতে পারলো না। কাঁপা কাঁপা হাতে ভিহান ভাই এর হাতটা ধরার চেষ্টা করলো। সেটা বুঝতে পেরেই ভিহান নিজেই রাহার হাতটা ধরলো। বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে গালটা আলতো করে স্লাইড করতে করতে কোমল আওয়াজ তুলল,
“এখানে আসলি কেন স্টুপিড? আমি না বললাম ওখান থেকে নড়বি না।”
রাহা কিছু বলতে চাইছে কিন্তু পারছে না। ছলছল নয়নে কেমন করে শুধু ভিহান ভাই এর দিকে তাকিয়ে আছে। যেন ঠোঁট গুলি নড়ছে কিছু বলতে শুধু গলা বেয়ে কন্ঠটা আসছে না। এই ধকল টা বুঝি মেয়েটাকে একেবারে বাকহারা করে দিয়েছে। সামলে ওঠতে পারছে না এখনো। বুকটা খাঁখাঁ করে ওঠল ভিহানের। কলিজাটা কামড়ে ধরল নিছক অপরাধ বোধে। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে ঝাপটে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো মেয়েটাকে। এক হাত পিঠে গলিয়ে দিয়ে অন্য হাতটা আলতো করে মাথার ছুঁয়ে দিলো। বুকটা শান্ত হওয়ার বদলে আরো অস্থির হলো ওর। মেয়েটার শরীরের কাঁপুনি আর অস্বাভাবিক চলা হৃদপিন্ডের উঠানামা তাকে ব্যগ্র করে দিলো।
“আমি সরি আদুরী। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। তোকে নিয়ে আসা উচিৎ হয়নি। তোর ভিহান ভাই খুব করে সরি। জান আমার প্লিজ শান্ত হো। বি নরমাল বেবি। দেখ কিচ্ছু হয়নি। সব ঠিক আছে। ভয় পাসটা প্লিজ লক্ষ্মী টা আমার।”
কাঁপাকাঁপা ভঙ্গুর কন্ঠে কোনো রকম আওয়াজ তুলল রাহা, “আ..আমি বাড়ি যা..যাবো ভিহান ভাই।”
“যাচ্ছি। এখুনি নিয়ে যাচ্ছি। প্লিজ সোনা তুই আগে শান্ত হো। স্বাভাবিক হো। আমার লক্ষ্মী জান দেখ এভরিথিংক ইজ ফাইন।”
রাহা আর কিছু বলতে পারলো না। ভিহান ভাই এর শক্ত কোমল বাহুবন্ধনে জড় বস্তুর মতো দাঁড়িয়ে রইল। ভেতর কুঁকড় ওঠল ভিহানের। বুঝল তার করা ভুলের মাত্রা কতটা বিশাল। নিজের উপর এত রাগ হলো যে নিজেই নিজেকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ইচ্ছা জাগল ওর। মেয়েটা এত পরিমাণ শকড পেয়েছে যে এখনো এটা থেকে বের হতে পারেনি। যত দ্রুত সম্ভব ওকে এখান থেকে নিয়ে যেতে হবে। ভিহান চটজলদি নিজের হাতের বন্ধন আলগা করে দিলো। দুই হাতে মেয়েটার মুখের পাশের চুল গুলি সরিয়ে দিয়ে আলতো করে মুখটা হাতের তালুতে তুলে নিলো।
“তুই না আমার স্ট্রং বেবি? ভেরি স্ট্রং আমার রাহা, হুমম? কিচ্ছু হয়নি। সব কিছু ভুলে যা। শুধু মনে কর আমরা রেস্টুরেন্ট থেকে বাড়ির পথে রওনা রয়েছি। এর বেশি কিছু না। সব ঠিক ঠিক আছে। ইভরি থিংক ইজ নরমাল। ওকে?”
রাহা জবাব দিতে পারলো না। ভেতর থেকে মেয়েটা অদৃশ্য ভাবে যেন ফুপাচ্ছে। ওকে আরেকটু শান্ত করতে আশ্বাস দিতেই ভিহান নিজের শুষ্ক ঠোঁট গুলি আলতো করে ছুঁয়ে দিলো রাহার ললাটে। পরক্ষণে মুখে কিঞ্চিৎ মেকি হাসি টেনে বলল,
“হেই লিটল বেবি, লুক, নাথিংস রং। এভরিথিং ইজ স্মুথ। আমরা এখন বাড়ি ফিরবো।”
কথা শেষ করে ভিহান ওর হাতের কব্জি মুঠোয় ভরে নিলো যাওয়ার উদ্দেশ্যে। ঠিক তখুনি অশনি এক বিপদ তীব্র গতিতে ঘনিয়ে এলো যেন রাহার পানে।
চলমান…..
আশা করছি পোস্টায় রেসপন্স করতে কৃপণতা করবেন না।
Share On:
TAGS: ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ, সাদিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২৬
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১১
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ২৪
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৪
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২৩
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ২২
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ৮
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২১
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১২
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ১