Golpo romantic golpo দুইজনাতেই

দুইজনাতেই পর্ব ৩৬


দুইজনাতেই

পর্ব_৩৬

লেখনীতেঃ অলকানন্দা ঐন্দ্রি
মাঝখানে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় ওভাবেই গেল। দ্বিতী সাক্ষ্যর সম্পর্কের সমীকরণ ঠিক একই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে।
দ্বিতী তখন ভার্সিটিতে। বন্ধুবান্ধবদের সাথে গল্পগুজব করতে করতে মাঠ দিয়ে হেঁটে যাওয়া সাক্ষ্যকে পরখ করছিল। মুখচোখ কি গম্ভীর। যেন আশপাশে তাকালে ক্ষতি হয়ে যায়। সাক্ষ্য ঠিক আগের মতোই ভার্সিটিতে এমন একটা ভং ধরে যেন দ্বিতী তার কিছুই হয় না। অথচ কাছাকাছি থাকলেই মহাশয়ের বউয়ের প্রতি প্রেম ঠিকই উতলে পড়ে। ঢং!দ্বিতী চাইল। তাকাতে তাকাতেই খেয়াকে বলে উঠল,
“ এই ছাগলকে বিয়ে করেছে কে বলতো? মানে কে? কে সে মহিয়সী নারী বল? ”
খেয়া বিরক্ত হয়ে বলল,
“ তোদের কাছে কি সাক্ষ্য স্যার ছাড়া আলোচনার কিছু নেই? ”
দ্বিতী সরু চাহনিতে চাইল। বলল,
“ থাকবে কিভাবে বল? চোখের সামনে সারাক্ষণ ইনাকেই দেখছি আর রাগ উঠতেছে। না জানি এর বউটায় কি ধৈর্য্যশীল। আমি শিওর, তার বউটা নিশ্চয়ই একটা আধাপাগলি, নয়তো একে অন্তত বিয়ে করত না। ”
নিজেকেই নিজে আধাপাগলি বলার পর দ্বিতীর হুশ এল। ফের সংশোধন করে বলল,
“ না না, আধাপাগলি নয়। আমি নিশ্চিত তার বউ অতিরিক্ত পরিমাণে ভালো। তাই হয়তো দয়্ করে বিয়ে করেছে একে। ”
পাশ থেকে কিয়ান তাল মিলিয়ে বলে উঠল,
“ না জানি এই লোক বউয়ের সাথে কেমন করে। নিশ্চয় বউয়ের সামনেও এমন মুখ গম্ভীর করে রাগ রাগ মুখ করে থাকে? ”
দ্বিতী চাইল। বউয়ের সামনে রাগ রাগ মুখ? মোটেও নয়। বউয়ের কাছে এলেই তো এই লোকের ঢং বেড়ে যায়। তখন রাগ রাগ ভাব উড়ে গিয়ে প্রেমপ্রেম ভাব এর উদয় হয়। অথচ এমনি সময়ে ভার্সিটিতে তাকে চিনেই না। দ্বিতী মুখ কুঁচকাল। মিহু ততক্ষনে বলে উঠল,
“ আরেহ নাহ নাহ কিয়ান।দেখ গিয়ে যা রাগ আমাদের উপরই মেটায় হয়তো কিন্তু পুরুষ মানুষ বউয়ের কাছে কিছুই না। দেখ গিয়ে আমাদের সামনে সিংহ হলেও বউয়ের সামনে ঠিকই মিও মিও করে।”
কথাটা বলতে হলো কিন্তু সবার সমস্বরে হেসে উঠতে দেরি হলো না দ্বিতী নিজেও হেসে উঠল। আর ভাবল, ঠিক বউ য়ের সামনে মিও মিও করা পুরুষ নয় ঠিক। তবে সিংহও নয়!
.
দ্বিতী ফিরল বিকাল বেলায়। বন্ধুদের সাথে টই টই করে ঘরে ফেরার পে সর্বপ্রথম দেখা হলো সাক্ষ্যর নানীর সাথেই। ভদ্রমহিলা দ্বিতীকে সহ্য করে উঠতে পারেন না। আর না তে সহ্য করতে পারে দ্বিতীর চঞ্চলতা, উড়নচন্ডী স্বভাব। তাই তো এতোটা সময় দ্বিতীকে ফিরতে দেখে মুখ বাঁকালেন। শোনাল,
“ এতক্ষনে ফেরার সময় হলো তোমাোর নাত বউ?সারাদিন তো শ্বশুড় শ্বাশুড়ির এক আনাও সেবা যত্ন করতে দেখি না তোমারে। রান্না বান্নাটাও তো পারো না। পারো শুধু টই টই করে বেড়াতে।”
দ্বিতী আচমকা শুনেই থম মেরে দাঁড়াল। এতোটা সময় পর বাসায় ফিরে এমনিতেই ক্ষিধেতে তার পেট চৌচির। গলা শুকনো। দপ করে একটা ঘুম দিতে পারলেও ভালো হতো। দ্বিতী ছোটশ্বাস ফেলে নানীকে একটা হাসি উপহার দিয়ে পা বাড়াল। অতঃপর রুমে গিয়েই লম্বা একটা গোসল দিল। তারপর পরই ভেজা চুল গুলো তোয়ালেতে মুড়িয়ে নিতেই পেছন থেকে সাক্ষ্য এল। গলা ঝেড়ে বলল,
“ আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে এত কি আলোচনা করেন ম্যাম? নাকি বন্ধুবান্ধবদের সর্বক্ষণ এটা বলেন যে আপনার বর অনেক সুন্দর। অনেককক!”
দ্বিতী না ফিরেই হেসে ফেলল। পরমুহূর্তেই চেয়ে বলল,
“ আমার বরের বউটাও সুন্দর স্যার। ”
“ অফকোর্স, অফকোর্স। আপনার বরের বউটা সবচাইতে সুন্দর। একদম পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর রমণী। ”
এইটুকু বলেই সাক্ষ্য দ্বিতীর ভেজা চুলগুলো তোয়ালে ছাড়িয়ে নিয়ে মেলে দিল। মুখটা আলতো করে দ্বিতীর ভেজা চুলে গুঁজেই বলল,
“ আপনার বরের বউটা বড্ড মিষ্টি মিসেস দ্বিতীকা তাসনিম। আমার আজকাল কেবল তার দিকেই তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়। ইচ্ছে হয়, সারাটা দিন তার আশ পাশে ঘুরঘুর করি। বুঝতে পারছেন আপনার বরের অবস্থাটা?”
দ্বিতী হেসে ফেলল যেন। ভ্রু বাঁকিয়ে বলল,
“ না তো বুঝতে পারছি না। বুঝার চেষ্টা ও করছি না। তার অবস্থা সেই বুঝুক। আপাতত আমার ক্ষিধে পেয়েছে। ”
এইটুকু বলেই পা বাড়াল দ্বিতী। সাক্ষ্য নিজেও টাউজারের পকেটে হাত রেখে পা বাড়াল। বলল,
“ আমারও। আপনার ফেরার জন্য খাওয়া হয়ে উঠে নি আমার। ”
“ খান নি কেন?”
“ বউ সহ একসাথে খাবার খেলে ভালোবাসা বাড়ে। ”
দ্বিতী এক পলক চাইল। খাবার টেবিলে যেতেই দেখা গেল কণা চেয়ার টেনে বসেছে ইতোমধ্যেই। দ্বিতীর কেন জানি এই বাচ্চা মতো চেহারার মেয়েটাকে সহ্য হয় না। একদমই না। কেন তা বোধহয় সে নিজেও জানে না। দ্বিতী টেবিলে তাকাতেই দেখল ইতোমধ্যেই দুই প্লেট খাবার বেড়েছে সাজিয়া আফরোজ। একটা প্লেট কণার দিকে এগিয়ে দিয়েই চাইল দ্বিতীর দিকে। ব্যস্ত হয়ে বলল
“ দ্বিতী, এসেছিস আম্মু? বস, বস। খাবার বাড়ছি আমি। ”
দ্বিতী ছোটশ্বাস ফেলল। বুঝল যে যে দুটো প্লেট খাবার বাড়া হয়েছে তা হয়তো সাক্ষ্য আর কণার জন্য। দ্বিতী মৃদু হেসে শুধাল,
“ তুমি বসো সাজি আম্মু। আমি আমার খাবার বেড়ে নিচ্ছি ।”
“ বেড়ে দিচ্ছি যখন তিনজনকেই দিই। তুই বস। ”
দ্বিতী হেসে বসল। সাক্ষ্যও বসল পাশাপাশি। দ্বিতী ততোটা সময়ে হাত ধুঁয়ে অপেক্ষা করতে করতেই মাথায় চাপল দুষ্টু বুদ্ধি। বাঁকা হেসে সাক্ষ্যর দিকে চেয়েই ওর মাথার বুদ্ধিটা পাকাপোক্ত হলো। সেদিনকার দ্বিতীকে খাবার টেবিলের বিরক্ত করার কথাটা মনে করেই আকস্মিক খাবার টেবিলে সবাই থাকা স্বত্ত্বেও নিজের পা টা রাখল সাক্ষ্যর পায়ের উপর। সাক্ষ্যর পায়ে স্লাইড করতে করতে মজা নিয়ে সরু চাহনিতে পরখ করল সাক্ষ্যর হাবভাব। বেচারা তার আম্মু আব্বুর সামনে খুবই ভদ্র মানুষ। তাই বোধহয় দ্বিতীর এমন আচরণের পরিবর্তে পাল্টা উত্তর হিসেবে সে কিছুই করল না। শুধু চুপচাপ সহ্য করে গেল বউয়ের পাগলামো। দ্বিতীর জন্য খাবার বাড়া হলো। অতঃপর দ্বিতী আর সাক্ষ্য দুইজনই ওভাবে খাওয়া শুরু করল। একে একে তরকারি দিতে দিতে যখন মাছের পিস দেওয়ার সময় হলো তখন সাক্ষ্যর পাতে দেওয়া হলো বড় মাছের পিসটাই। এর পরপরই কণার প্লেটেও দেওয়ার হলো বড় পিসটা। অপরদিকে সাজিয়া আফরোজ হেসে তখন দ্বিতীর প্লেটে দিলেন মাছের মাথাটা। বড়মতো মাথাটা দ্বিতীর প্লেটে দিয়েই হেসে জিজ্ঞেস করলেন,
“ দ্বিতী, মাছের মাথা তো খাস হুহ?নাকি খাস না?”
দ্বিতী মাছের মাথা খায় না এটা বলতে পারল না। পাতে দিয়ে দেওয়ার পর এই উত্তর করাটা বেমানান। তা ছাড়া তার আম্মু শিখিয়েছে তাকে শ্বশুড়বাড়িতে সব তার চাওয়া মতো হবে না। শ্বশুড়বাড়িতে তার ইচ্ছারও অগ্রাধিকার থাবে এমন নাও হতে পারে। ওখানে যা দিবে তাকে তাতেই মানাতে হবে। এইটুকু ভেবেই দ্বিতী হাসল। হেসে উত্তর করল,
“খাই। ”
সাক্ষ্য ততক্ষনে নিজের প্লেটে একবার চাইল, দ্বিতীর প্লেটে একবার চাইল। ফোঁস করে শ্বাস তুলে বলল,
“ মাছের পিস আর নেই আম্মু? কম কম রান্না করেছো? ”
সাজিয়া আফরোজ উত্তর করলেন,
“ না, কম রান্না হয়নি। দুপুরে তোর ফুফুরা এল তাই। আর কণাটা তো অতিথি। দুপুরে খায়নি আমার মেয়েটা। তাই ওর জন্য বড় মাছের পিসটাই রেখেছিলাম। ”
দ্বিতী শুনল। শুনে মৃদু হাসল। কণাকে সবাই ই খুব স্নেহ করেন। ভালোবাসেন। ঠিক যেমনটা দ্বিতীকে তার আম্মু আব্বু বাসত। আম্মু তার জন্য মাছের বড় পিসটাই রাখত। মুরগির লেগপিসটাই রাখত। ঠিক এমনই তার জন্য সবার প্রথমে চিন্তা করত। আব্বুও তো তাকে কম ভালোবাসত না। সপ্তাহে কিংবা মাসে যখন বাসায় আসত দ্বিতীর জন্য ব্যাগভর্তি জিনিস আনত। যেমন চুড়ি, নুপূর, কাপড় আরো কত কি! দ্বিতী দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই মুহূর্তে তার আম্মুকে খুব করর মনে পড়ছে তার। খুব করে! ইশশ, দ্বিতী যদি এখনো নিজের আম্মুর কাছে থাকত? আম্মু তো না খেয়েও তার জন্যই আগে ভাবত। ভালো খাবারটা আগে তার পাতেই দিত। দ্বিতী ভেবে শুকনো হাসে। সাক্ষ্য ততক্ষনে নিজের পিসটা তুলে দিল দ্বিতীর প্লেটে। বলে উঠল,
“ দেখি এই মাছটা কাঁটা বেছে খেতে পারেন কিনা। আমি শিওর পারবেন না। ”
দ্বিতী চাইল সাক্ষ্যর দিকে। সাক্ষ্য যে ত্যাড়ামো করে কথা বলে তাকে দিয়ে বহু কিছু করিয়ে নেয় কৌশলে তা এখন তার বুঝতে বাকি নেই৷ এই যে মাছটা কাটা বেঁছে খেতে পারবে কিনা বলে আসলে তাকে দিয়ে মাছটা খাইয়ে নেওয়াতে চাচ্ছে তা সে জানে। মাছটা বাড়িয়ে সাক্ষ্যর প্লেটে রেখেই বলল,
” হু, পারব না। আপনার মাছ আপনি নিন।”
সাক্ষ্য কপাল কুঁচকে চাইল। এক পলক মায়ের দিকে চেয়েই বলে উঠল,
“ আম্মু, তোমার বান্ধবীর মেয়ে নাকি মাছের কাটাও বেছে খেতে পারে না। ছিহ ছিহ! শুনুন, আজ নাহয় আমার থেকে শিখে নিন। বেছে দিচ্ছি কাঁটা দেখুন।”
শেষের কথাগুলো দ্বিতীকেই বলল সাক্ষ্য। বলতে বলতে কাঁটা বেছে নিয়ে দিল দ্বিতীর প্লেটে। পুরোটা মাছ বেছে দিতে দিতে গলা ঝেড়ে বলল,
“ সত্যি বলছি, দ্বিতীকা তাসনিমকে এতোটাও বলদ ভাবিনি আমি যে কাটা বেছে খেতে পারে না। ”
দ্বিতী চাইল শুধু। জবাব দিল না। আদরে আদরে বড় হলেও সে অবশ্যই মাছের কাঁটা বেছে খেতে পারে। এতোটাও অকর্মন্য নয় সে। হাত চালিয়ে খেতে খেতে একবার চোখ পড়ল কণার দিকেও। কেমন রুষ্ট হয়ে চেয়ে আছে সাক্ষ্য আর দ্বিতীর দিকেই।
.
সাক্ষ্য রুমে এল একটু পর। দ্বিতী তখন ভেজা চুল থেকে পানি ঝাড়ছিল। সাক্ষ্য এসেই দাঁড়াল দ্বিতীর পেছনে। অতঃপর ঠোঁটজোড়া গোল করে দ্বিতীর কাঁধের মসৃণ ত্বকটায় ফু দিতেই দ্বিতী শিউরে উঠে ঘুরল। সাক্ষ্যর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কিছু বলতে নিতেই সাক্ষ্য পা বাড়াল। দ্বিতীকে দেওয়ালে ঠেকিয়ে দুই হাত রাখল দ্বিতীর দুই পাশ দিয়ে দেওয়ালে। পরপরই ঝুঁকে গিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে উ়ঠল,
“ খাবার টেবিলে তো বহু জ্বালাতন করে ফেলেছেন ম্যাম। আমি জ্বালাতন করলে আবার দূরে সরবেন না তো? ”
দ্বিতী চাইল সূক্ষ্ম চাহনিতে। সাক্ষ্যর হাসিটা কেন জানি গা ছুঁয়ে যায় যেন। সহ্য হয় না এই হাসি । দ্বিতী সে শিরশিরে অনুভূতি নিয়ে তাকাতেই সাক্ষ্যর ঠোঁটজোড়া যখন তার মিহি পাতলা ঠোঁটজোড়ার দিকে একটু একটু করে এগোতে নিল দ্বিতী তখন একদম আচমকাই বলে উঠল,
” সাজি আম্মুউউউ…’
সবার সামনে ভদ্র সভ্য ভান ধরা সাক্ষ্য মুহূর্তেই লাফিয়ে উঠল। এক লাফে বউয়ের থেকে দূরত্ব টেনে দাঁড়াল দুয়েক হাত পাশে। চোখ খিচে নিজেকে স্বাভাবিক করে চাইতেই দেখল তার আম্মু নেই। না, নেই। এই দ্বিতীটা তার সাথে মজা করেছে। কি বিচ্ছু!
.
সাম্য নিজের ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে সিঙ্গারায় কামড় বসাল। বাম হাতে চায়ের কাপ। নিহাল ততক্ষণে এসে বসেছে সাম্যর পাশেই। কথাকে সে প্রোপোজ করেছে। বাংলা ভাষায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। অথচ এই সাধারণ মেয়েটা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে এটা মানতে পারল না নিহাল। তাই তো বন্ধবান্ধবদের সাথে আলোচনায় মেতে উঠল। সাম্য আর যায় হোক কথাকে নিয়ে কারোর কাছে সমালোচনা -আলোচনার আসর সাজায় না। যা বলে কথাকে সরাসরিই বলে। সাম্য ভ্রু কুঁচকে চাইল। নিহাল ততক্ষনে হাতের কফির কাপটায় চুমুক দিয়ে বলল,
“ সাম্য, তোর কি মনে হয় তোর বোন খুব সুন্দরী? আসলেই সুন্দরী লাগে? তোর বোনকে নিয়ে আলোচনায় তোর এত চেতে উঠার কারণটা কি? যদি বিশ্বসুন্দরী হতো তাও নাহয় একটা কথা ছিল। ”
কথাটায় যে স্পষ্টই কথাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হলো তা বুঝতে বাকি রইল না সাম্যর। ভ্রু বাঁকিয়ে বলে উঠল,
“ ও বিশ্বসুন্দরী না হলে তোদেরকে ওর সম্পর্কে কথা বলার রাইট কে দিয়েছে? কে দিয়েছে? ও দিয়েছে? নাকি আমি দিয়েছি? ”
“ অনুমতি নিয়ে কাউকে নিয়ে কথা বলতে হবে নাকি এবার থেকে? আমার মনে হয়েছে ওকে নিয়ে উপহাস করব করেছি। আমার মনে হবে ডিপার্টমেন্টে কালু সাগরকে নিয়ে আলোচনার করার করব। এতে অনুমতি নিব কেন হুহ? আমার নিজের কথা বলার রাইট আছে।”
সাম্য দাঁতে দাঁত চাপল। রাগটা অতিরিক্ত তার। তাই তো চোয়াল শক্ত করে বলে উঠল,
“ তোর কথা বলার রাইট থাকলেও আর পাঁচজন ছেলেকে নিয়ে কথার বিষয়ে বিশ্রীর আলাপের রাইট তোর নেই। নেই মানে নেই। ভুলে যাবি না, ও আমার বাড়ির মেয়ে। ”
নিহাল ফের ব্যঙ্গ করে বলল,
” ওরে, আমার বাড়ির মেয়েরে ! নিজেই তো দিনরাত অপমান করিস ওকে। মজা নিস উপহাস করে। অন্য কেউ করলেই দোষ? ”
সাম্য এই পর্যায়ে দাঁতে দাঁত চেপে রক্তলাল চক্ষু নিয়ে চাইল। আচমকাই নিজের হাতেন সিঙ্গারা ফেলে দুই হাতে চেপে ধরল নিহালের কলার। গলা শক্ত করে বলে উঠল,
“ আলবাত দোষ। ওকে যা বলব আমি বলব। যা করব আমি করব। তুই কে? তুই কোথাকার কে যে ওকে নিয়ে কথা বলবি? ওকে কষ্ট দিব আমি, মোটা বলব আমি, যা ইচ্ছে তাই বলব আমি। কিন্তু তোদের মতো জানোয়ারদের ওর সম্পর্কে এক অক্ষর বলারও অধিকার নেই। ওকে? নেক্সটাইম কিছু বললে তোকে আমি সোজা আলবিদা জানাব পৃথিবীর হয়ে। নেহাৎ বন্ধু বলে আজ ছাড় দিচ্ছি নিহাল। ”
কথাগুলো বলেই ছুড়ে ফেলল নিহালকে। তারপর ধুপধাপ পা ফেলে এগোল নিজের মতোই। রাগে কাঁপছে ছেলেটা। চোখমুখ লাল হয়ে এসেছে। অথচ যাকে সে ছোটবেলা থেকে সহ্যই করতে পারে না তাকে কেউ কিছু বললে সে কেন রাগবে? কেন?

চলবে….

[ কেমন হয়েছে জানাবেন হুহ? আর হ্যাঁ, রেসপন্স করিয়েন কেমন? কাল হয়তো গল্প আসবে না। তবে শুক্রবানে বড় একটা পর্ব পাবেন। ধন্যবাদ।] See less

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply