Golpo Love or hate romantic golpo

Love or Hate পর্ব ৪২


Love or Hate পর্ব ৪২

|#পর্ব_৪২|

ইভেলিনা_তূর্জ

⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে

আইল্যান্ডের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের তুষার বড় মনিটরের সামনে দাঁড়িয়ে ক্যাটরিনার সাবমেরিন আর স্পিডবোটের সিগন্যাল ট্র্যাকিং করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ডাটা এনক্রিপশন ডিকোড করছে।তখনি স্ক্রিনে ভেসে উঠে ‘Darknet Layer-7 Protocol’ আর ‘Satellite Ghosting’ এর মতো জটিল সব তথ্য। ক্যাটরিনা নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তুষার দাঁতে দাঁত চেপে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাহার দিকে না তাকিয়েই প্রশ্ন করলো।
​”ড্যাম গড!তুমি তো সাথে ছিলে ইনায়া তাহলে??”

“আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন সব দোষ এখন আমার??না আপনার চোখে তো শুধু আমার দোষগুলোই পড়ে তাই তো?”

“আমরা কি দোষগুনের বিচার করতে বসেছি??”

“ওহহ গড!আমি কেন যে আপনার সাথে কথা বলছি!”__রাহা চোখ উল্টিয়ে মুখ ফিরিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইলো।
​তুষার চোখজোড়া খানিক বন্ধকরে গভীর শ্বাস নিলো।রাহাকে কিছু বলে কোনো কালে লাভ হয় নি আর হবেও না।তুষার ভালো করেই বুঝতে পারছে তার উপর রাহার ক্ষোভের কারণ,দু’দিন যাবৎ কথা না বলার কারণ।তবে আপাতত চুপ রইলো। তুষার কানে থাকা ইয়ারপিসে অনবরত গার্ডদের পজিশন চেক করতে লাগলো। তবে রাহা লক্ষ করলো তুষার একটা ‘Encryption Key’ মেলাতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এটা রাহা খুব ভালো করেই পারে তাই রাহা ড্রয়ার থেকে একটা হার্ড ড্রাইভ বের করে কিবোর্ডে আঙুল ছোঁয়াতেই তুষারের হাতের সাথে তার হাতের স্পর্শ লেগে যায়।তবে রাহা তড়িঘড়ি করে হাত সরিয়ে নিলো। তুষার এক পলক রাহার বিভ্রান্ত চোখের দিকে তাকিয়েই আবার স্ক্রিনে মনোনিবেশ করলো।তবে রাহা পাশে থাকায় তুষার কাজে মন দিতে পারছে না।
​ঠিক সেই মুহূর্তে ঝড়ের বেগে রুমে প্রবেশ করলো ইউভান। রুমের তাপমাত্রা যেনো হিমাঙ্কে নামিয়ে দিলো। কোনো কথা না বলেই ইউভান যে কি-না আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘ডিজিটাল ঘোস্ট’সে এসেই তুষারকে সরিয়ে দিয়ে চেয়ারে টেনে বসলো কানে হেডফোন লাগিয়ে তড়িঘড়ি করে কিবোর্ডে আঙুল চালাতে শুরু করলো।ইউভানের সামনে থাকা সাতটা মনিটরে তখন গ্লোবাল নেটওয়ার্কে সব তথ্যে ভেসে উঠলো। হ্যাকিং এক্সপার্ট যার কোডের সামনে পেন্টাগনও কাঁপতে থাকে। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ‘Brute Force Attack’ আর ‘Global IP Scrambler’।ইউভান ক্যাটরিনার লোকেশন ট্র্যাক করার জন্য ডার্ক ওয়েবের গভীর স্তরে প্রবেশ করেই ফেললো। কিন্তু ক্যাটরিনা অসম্ভব ধূর্ত চাল চেলেই রেখেছে। প্রতি সেকেন্ডে আইপি অ্যাড্রেস বদলাচ্ছে।

​ ইউভান হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হাতের কাছে থাকা স্ক্যানার আর কফি মগটা আছড়ে মেঝেতে চূর্ণ করলো।এক ঘন্টা পেরিয়ে গিয়েছে রোজ নেই।অতিরিক্ত ক্রোধ জমা হলে ইউভানের হাত কাঁপতে থাকে। হলোও তা। এক মুহূর্ত মাথায় হাত দিয়ে স্থির হয়ে বসে রইলো।মাথা ঠান্ডা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।কিন্তু না তাগড়া শরীরের রক্তগুলো টগবগিয়ে ফুটতে লাগলো।তুষার বলল-

“কোল ডাউন।আই থিঙ্ক ক্যাটরিনা আইল্যান্ডেই নেই।কউজ এখানের সব কিছু তো আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিলো।”

“জানি না। কিচ্ছু জানি না আমি।বান্দীর বাচ্চার জন্মই হয়েছে আমাকে শেষ করার জন্যে। বান্দীর গায়ে যদি একটা আচঁও লাগে।আই রিপিট অনলি ওয়ান টাচ্, আকাশ,পাতাল,জমি সব জ্বালিয়ে দিবো।ক্যাটরিনার কলিজাটা ঠিক কতটুকু বড় হয়েছে তা মেপে দেখার সময় এসেছে।What a bullsh*it she is!”

“আমি আগেই বলেছিলাম।রোজ মেয়েটার জীবনটা ডেঞ্জারজোনে চলে যাবে।যদি এতোই ভাবিস ওকে নিয়ে তাহলে বাংলাদেশে কেন পাঠিয়ে দিচ্ছিস না।বলেছিলাম নিজের জীবনের সাথে জড়াস না ফেঁসে যাবি।বিয়ে করতেই নিষেধ করেছিলাম।কি লাভ হলো রিক??যা করার করেছিস এখন সহ্য করতে পারিস না!”

“যাস্ট সাট আপ তাই!ডার্ক রোজকে পেইন দেয়ার অধিকার শুধু আমার আছে।এই রিকের।অন্যে কারোর টাচ সহ্য করতে পারি না আমি।আই কান্ট।ওর কিছু হলে মনে হয় আমার নিঃস্বাস টাই বন্ধ হয়ে আসবে।_ইউভান সজোরে হাত আঘাত করলো দেয়ালে।

” হাইপার হোস না।আমি যা করার করছি।রিলাক্স থাক।তুই জানিস না অতিরিক্ত হাইপার হলে তোর হার্টরেট কমে আসে??”

“হচ্ছে! পেইন হচ্ছে। “

“ওয়েট বেশি??ডক্টর ওয়ার্লস তো ডেনমার্কে আসতেও পারবেন না!তুই যাস্ট রিলাক্স হ। যাস্ট ব্রেথ এন্ড কোল ডাউন।”

“রোজকে খুঁজে বের কর।ক্যাটরিনার যম কি তার দৌড় গড়ায় কড়া নাড়ছে??শালী বাস্টার্ড।রিককে চিনে না??চিনে না আমায়?ফা*কিং উইমেন!”

রাহা চুপ থাকতে চেয়েও আর পারলো না, রাগ আজ রোজের থেকেও বেশি নিজের ভাইয়ের উপর হলো।কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস ও করলো না আগের ন্যায়!ইউভানের রাগের মাঝেও রাহা এক প্রকার তাচ্ছিল্যেতার সহিত বলল_”আফটার অল ক্যাটরিনা তোমারই ফিয়্যান্স বুলশিট তো হবেই!এখন আবার বলো না যে রোজ তোমার ওয়াইফ, তোমার কাছে বিয়ে ফিয়ে কোনো কিছু ম্যাটার করে না!যতটুকু আমি জানি!”রাহা একবার তুষারের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ক্রোর হাসলো।
“আই মিন তোমাদের কারোর কাছেই না!বাঈ দ্যা ওয়ে।ক্যাটের কোনো ভুল দেখছি না আমি।ওর জায়গায় আমি হলে এর থেকে বেশি কিছুই করে বসতাম।তোমার আর ক্যাটের বিয়ে যদি চাইল্ডহোড থেকে ঠিক হয়েই থাকে তাহলে রোজই তোমাদের মাঝে এসেছে,ক্যাট না!”

তুষার দ্রুত এসেই রাহার হাত শক্ত করে ধরে ঠোঁটে আঙুল রেখে হিসহিসিয়ে উঠলো।
“আর ইউ ম্যাড??শাস্তি পেতে চাও??”

“ইয়েস আই ওয়ান্ট! এতো সুখ শান্তি সহ্য হচ্ছে না উফফ!আর আমাকে শান্তি দেয়ার হলে আমার ভাই দিবে।তাতে আপনার কি??অনুমতি বিহীন আমার হাত ধরতে খুব ভালো লাগে বুঝি??”

তুষার এক ঝটকায় ছেড়ে দিলো রাহার হাত।রাহা আর তুষারের কোনো কথাতেই মন নেই ইউভানের। নিজের ভেতরের আগ্নেয়গিরিটাকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। পরক্ষণেই আবার পাগলের মতো কিবোর্ডে টাইপ করতে করতে হেডসেটের মাউথপিসটা ঠোঁটের কাছে টেনে নিয়ে স্পাইডার আর স্নাইপার টিমকে উদ্দেশ্য করে হুঙ্কার দিলো-
​”লিসেন্ট! লিসেন্ট!লিসেন্ট!যাস্ট ফোকাস অন মি, আকাশ থেকে পাতাল আইল্যান্ডের এক ইঞ্চি জমিও যেনো আমার নজরদারি থেকে বাদ না যায়।পুরো দ্বীপে আমার যত হেলিকপ্টার আর নেকড়ের দল [Wolf Squad]আছে, সব নামিয়ে দে!যদি আজকের রাতের মধ্যে রোজকে খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে কাল সকালে এই আইল্যান্ডের সূর্য উদয় দেখবে না একটা শুয়ো*রের জাতও!ক্যাটরিনা যদি ভেবে থাকে নর্দমার আড়ালে লুকিয়ে বাঁচবে, তবে আমি পুরো নর্দমা খুঁড়েই টেনে বের করে আনবো!টু আওয়ার্স! আই ওয়ান্ট হার ইন টু আওয়ার্স!বাট…..বাট”

ইউভানের গলা বুঁজে এলো।ক্ষিপ্রতায় খানিক আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাতে জ্বলা অক্ষীপল বুঝে গভীর শ্বাস টানলো।ভিতরটা শূন্য শূন্য লাগছে।কিছু তো একটা আছে যান্ত্রিক হৃদযন্ত্রে আচমকাই ব্যথা অনুভব হতে লাগলো।জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ইউভান বললো।
“বাট!আমার রোজের গায়ে যেনো একটা আঁচড়ও না লাগে।একটাও না!আই ওয়ান্ট হার।আই ওয়ান্ট হার এনি কস্ট।”

​ইউভানের হুঙ্কারের সাথে সাথেই মনিটরে একের পর এক Red Alert সিগন্যাল জ্বলতে শুরু করলো।আইল্যান্ডের নিস্তব্ধতা তেইশটি হেলিকপ্টারের রোটরের শব্দে আকাশ প্রকম্পিত হয়ে উঠলো। জঙ্গলের গহীন অন্ধকার থেকে বের হয়ে এলো মাফিয়া বসের প্রশিক্ষিত উনিশটা ঘাতক বাহিনী যাদের বলা হয় ‘উল্ফ স্কয়ার্ড।পুরো আইল্যান্ড ঘেরাও করা হলো ইন্টেলিজেন্স টিম,এয়ার ফোর্স ইউনিট দ্বারা!
​ইউভান আবারও কিবোর্ডে ঝুঁকে পড়লো।ক্যাটরিনার সাবমেরিনের ‘Sonic Signature’ ধরার জন্য সমুদ্রের অতল গভীরের সেন্সরগুলো হ্যাক করতে শুরু করলো।


রাত্রির অন্ধকারে ঢাকা পুরো আইল্যান্ড।আন্ডারওয়ার্ল্ডের একচ্ছত্র সম্রাট আদ্রিয়ান শাহ ভোলকভ, যার নামের ভারে রাশিয়ার তুষারঝড়ও দিক পরিবর্তন করে।ক্যাটরিনা ক্ল্যান রুশ কন্যা রাশিয়ান মাফিয়া যেমন তেমন আদ্রিয়ানও রাশিয়ার গ্যাংস্টার।বছরের পর বছর যে নিজের পরিচয়কে গোপন করে রেখেছিলো,আদ্রিয়ান তার ভলকভ পরিচয়ের আড়াল থেকে বেরিয়ে আজ স্বরূপে আবির্ভূত হওয়ার কারণ ছিলো রোজ।যে মেয়ের কারণে এত বছর পর নিজের ‘ভলকভ’ পরিচয় জনসমক্ষে আনতে হলো, সেই রোজের শরীরে একটা আঘাত আদ্রিয়ান কখনোই সহ্য করবে না। রোজের চোখের এক ফোঁটা জল আদ্রিয়ানের শরীরে তপ্ত সিসা ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো যন্ত্রণা দেয়। যে নারীর জন্য আদ্রিয়ান জান দিতে পারে, তার জন্য সে অনায়াসেই জান নিতেও পারবে।ক্যাটরিনার সাথে আদ্রিয়ানের শত্রুতা ছিলো না কোনো কালেই,তবে আজ নতুন করে ক্যাটরিনা ভোলকভের শত্রু শিবিরের খাতায় নাম শিলমোহর দিয়ে দিলো।

ইউভান রোজকে মারবে না এ সত্যে আদ্রিয়ান জানতো,তবে ক্যাটরিনা রোজকে মেরে দিতে দুবারও ভাববে না,তা ভেবেই আদ্রিয়ানের চোয়াল মটমট করে শক্ত হতে লাগলো।​ইউসুফ পাশে দাঁড়িয়ে আদ্রিয়ানকে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থা দেখে বিচলিত হয়ে বললো-
​”বস! এভাবে উতলা হবেন না। আমাদের পুরো টিম আইল্যান্ড ঘিরে ফেলেছে অলরেডি। ওই ‘মনস্টার ক্যাট’ এর একটা পোষা কুকুরও যদি সামনে পড়ে, তবে জীবন্ত খাদিয়ে দেয়া হবে! কিন্তু আপনি যদি এভাবে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, তবে আমরা লড়ব কার জন্য?”
​আদ্রিয়ান ইউসুফের কলার সজোরে চেপে ধরে চোখের মণি লাল করে গর্জে উঠলো।
​”তোমরা কোত্থেকে রেড রোজকে এনে দিবে আমি জানি না! তুমি কি বুঝতে পারছো ইউসুফ? যদি রোজের কিছু হয়ে যায়, তবে আমি নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব না। জাহান্নামের আগুনে পুড়ে মরার মতো যন্ত্রণা হচ্ছে এই বুকে!”

​ইউসুফ অবাক হয়ে চেয়ে রইল তার বসের দিকে। অস্ফুট স্বরে বললো।
​”আমি সত্যিই অবাক হচ্ছি বস! রোজ ম্যাম সেই মনস্টার রিকের স্ত্রী জানার পরেও আপনি এভাবে লড়ছেন? যেখানে রোজকে শিকার করে আপনি মনস্টার বিচকে খুব সহজেই হারাতে পারতেন, সেখানে আপনি নিজেই নিজের ধ্বংসের পথে হাঁটছেন?রোজকে চাইলে আপনি এভাবে নিজের শিকার বানাতে পারতেন!”

​আদ্রিয়ান এক যন্ত্রণাকাতর হাসি হাসলো। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের দিকে চেয়ে শান্ত কিন্তু কঠিন স্বরে জবাব দিলো।
​”চুপ করো! আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা একদিকে আর রোজ একদিকে! সে কার বউ, কী তার জন্ম পরিচয় তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না ইউসুফ!কিছুই না! তার শরীরে মিসক্যারেজের ব্লিডিং দেখেছিলাম যেদিন সেদিনও এই আদ্রিয়ানের মন থেকে একবিন্দুতে পরিমাণ মায়া কমেনি তার রেড রোজের জন্যে।
তুমি কেন বুঝতে চাইছো না? আমার কাছে রোজ শুধুই আমার রেড রোজ,আমার শুকঁতারা!নাথিং এলস্।সে না চাইলেও সে আমার রেড রোজ হয়েই থাকবে সারাজীবন।”

​আদ্রিয়ানের নির্দেশে ইউসুফ মুহূর্তেই তাদের বিশেষ কমান্ডো বাহিনীকে চূড়ান্ত অ্যাকশন কোড পাঠিয়ে দিলো।আদ্রিয়ানের বলায় সমুদ্রের বুকে ভেসে উঠলো ভলকভ সাম্রাজ্যের দশটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। আকাশে চক্কর কাটতে লাগলো ইনফ্রারেড সেন্সরযুক্ত কয়েকশ ঘাতক ড্রোন। আদ্রিয়ান তার কোমর থেকে হীরের প্রলেপ দেওয়া রিভলভারটা বের করে আকাশের দিকে তাক করে গর্জে উঠতেই। আইল্যান্ডের দক্ষিণ এবং পূর্ব সীমান্ত মুহূর্তেই অবরুদ্ধ হয়ে গেলো।আদ্রিয়ান স্পাইডার টিমকে বাঁধা দিলো না।আর না ইউভান লায়ন টিমকে বাঁধা দিলো।পুরো আইল্যান্ড ঘেরাও করা হলো প্রশিক্ষিত স্নাইপারদের দিয়ে।আগে রোজকে খোঁজে বের করা দরকার যেকোনো মূল্যে।

মাস্টারের কক্ষের বিশাল সেগুন কাঠের দরজাটা কোনো সঙ্কেত ছাড়াই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলো। ইউভান ভেতরে প্রবেশ করলো এক জ্যান্ত আগ্নেয়গিরির মতো।কক্ষের নিস্তব্ধতা মাঝে ইউভানের বজ্রকণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হলো-
​”রোজ কোথায়? কোথায় আমার রোজ?”

​মাস্টার তার রাজকীয় চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে একটা প্রাচীন ম্যাপ দেখছিলেন। ইউভানের এমন উন্ম*ত্ততায় তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না।কারণ ইউভানের কাজ হলো রাগেরবশে এসে মাস্টারের কক্ষের জিনিসপত্র ভাংচুর করা।আর মাস্টারের কাছে এখন এসব স্বাভাবিক লাগে।তিনি শান্ত স্বরে বললেন।
“চিল্লাচ্ছো কেনো রিক?ভলচর আইল্যান্ডের মাস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে কণ্ঠস্বর নিচু রাখতে হয় জানো না।”

“ক্যাটরিনা কোথায় আমি শুধু সেটা জানতে এসেছি ব্যাস্।”

​” মাস্টারের কারোর সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে না!তাহলে কিভাবে তুমি আমাকে এমন প্রশ্ন করার স্পর্ধা দেখাও??”

ইউভান বন্দুকের নল সরাসরি মাস্টারের কপাল বরাবর স্থির করলো।ইউভান দেখতে পাচ্ছে মাস্টারের পুরো মুখাবয়ব।ইউভান দেখতে পায়ও। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে মাফিয়া বসের।

“রিয়েলি??স্পর্ধার?? রিক আলবার্ট তার ডার্ক রোজের জন্য প্রলয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারে! ক্যাটরিনা রোজকে নিয়ে কোথায় লুকিয়েছে, আপনি জানেন না??”
​মাস্টার এক মুহূর্তের জন্য ইউভানের অক্ষীপলে দিকে তাকালেন। তারপর ধীর লয়ে বললেন, “তোমার মনে হয় না তুমি বাড়াবাড়ির চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছো রিক?”

​”ফা’ক! ফা’ক! ফা’ক!” ইউভান গর্জাতে গর্জাতে পাশের একটি দামী কাঁচের ফুলদানি লাথি মেরে গুঁড়িয়ে দিলো। “বাড়াবাড়ির কিছুই দেখেননি গড ফাদার! দেখবেন অবশ্যই দেখবেন! যদি রোজের গায়ে এক বিন্দু পরিমাণ আঘাত লাগে তবে!”

​মাস্টার দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ালেন। জানালার ওপাশে উত্তাল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ক্যাটরিনা কোথায় আমিও জানি না ইউভান। আমি নিজেই ওর এমন কাণ্ডে বিরক্ত। কিন্তু ভুল তো তোমার! বিয়ে করেছো! ক্যাটরিনা তোমার বাগদত্তা জানা সত্ত্বেও। ইট’স যাস্ট হরিবল! তাও কাকে করেছো?নিজের মায়ের বংশের মেয়েকে?যেই মা..মাকে তুমি এতো ঘৃণা করো।যাকে কখনো মা বলে ডাকোও নি!”

​মুহূর্তের মধ্যে ইউভানের ট্রিগারে থাকা আঙুলগুলো শিথিল হয়ে এলো। এক হাড়হিম করা স্তব্ধতা নেমে এল রুমে। অস্ফুট স্বরে ইউভান বললো-
​”তাহলে… তাহলে আপনি জানতেন? আপনি জানতেন রোজের আসল পরিচয়?”

​”ভুলে যেও না তোমাকে গড়েছি আমি!” মাস্টার ঘুরে দাঁড়ালেন
“যদি আমি আগেই টের পেতাম, তবে কখনোই এমন কিছু হতে দিতাম না।”

​ইউভান রাগের বশে রুমের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে শুরু করলো। ল্যাপটপ, ফাইলপত্র, মদের বোতল সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। তার আক্রোশ সীমানা ছাড়িয়ে সপ্তমে গিয়েছে। মাস্টারের দিকে ফিরে চিৎকার করে উঠলো।
​”আমার আর রোজের মাঝে আসবেন না! আসবেন না! যে আসবে তাকেই আমি মে*রে ফেলতে দু’বার ভাববো না! যদি গড ফাদার আপনি হোন তো আপনাকেও!”

​মাস্টার এক পৈশাচিক শান্তিতে হাসলেন। তিনি ইউভানকে এমন এক অবিনশ্বর ধাতু দিয়ে গড়েছেন যার হৃদয়ে দয়ামায়ার কোনো স্থান নেই। এমনকি স্বয়ং মাস্টারের জন্যেও না।তিনি ধরলয়ে ইউভানের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলেন। অন্ধকার কক্ষের টিমটিমে আলোয় মুখোমুখি দাঁড়ালো আলবার্ট বংশের দুই রক্তধারা-ইউভান রিক আলবার্ট এবং নিক আলবার্ট। হ্যাঁ, নিক আলবার্ট, যাকে বহিঃবিশ্ব বহু বছর আগে মৃত বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন, এক অশুভ ছায়ার মতো। মুখাবয়বে বয়সের কোনো ছাপ পড়েনি।সেই তীক্ষ্ণ চোয়াল আর গ্রিক গডের মতো ক্ল্যাসিক সৌন্দর্য এখনো অটুট।দেখে যে কেউ দ্বিধায় পড়ে যাবে ইউভান কি তার হুবহু প্রতিচ্ছবি? নিক আলবার্টই বছরের পর বছর ধরে ‘মাস্টার’ পরিচয়ে এই ভলচার আইল্যান্ডে নিজের একচ্ছত্র রাজত্ব বিস্তার করে চলেছেন।

“তুমি এখন পর্যন্ত যা যা করেছো সব জানি আমি!তোমার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর একেকটা চাল যদি আমি ধরতেই না পারি, তবে আমি কিসের গডফাদার হলাম বলো? পিতৃতুল্য তো আমি তোমার!”

​ইউভান ক্রোর হাসলো। পায়ের কাছে থাকা একটা দামী কাঠের চেয়ার সজোরে ঠেলে দিলো নিক আলবার্টের দিকে, তারপর সরাসরি তার মুখোমুখি হয়ে বসলো।হাতে একটা লাইটার ঘোরাতে ঘোরাতে চোখে চোখ রেখে ইউভান বুঝিয়ে দিলো, সে আজ আর কোনো আজ্ঞাবহ ভৃত্য নয়।

​মাস্টার ধীরলয়ে বললেন, “এড্র্যামকে তোমার পিঠে মেডিসিন লাগিয়ে দিতে বলেছিলাম, দিয়েছিলো?”

​ইউভান নির্বিকার চিত্তে জবাব দিলো, “রোজকে পেয়ে গেলে,মেডিসিনের প্রয়োজন পড়বে না।

​মাস্টারের চোখে এক কুটিল জিজ্ঞাসা জেগে উঠলো। “কী আছে ওই রোজের মধ্যে? কেনো এত উন্মা*দনা দেখাচ্ছো রিক?”

​”বিশেষ কিছু নেই!” ইউভান একটা সিগারেট বের করে জ্বালাতে জ্বালাতে বললো, “শালীকে কাছে রাখলে শান্তি লাগে, এইটুকুই জানি। এক নম্বরের ছলনাময়ী! তবে ওর ছলনাগুলো আমি বেশ এনজয় করি।”

​নিক আলবার্ট এবার একটু ঝুঁকে বসলেন। “ভলকভও তো রোজকে চায়। ডিভোর্স দিয়ে দাও ওকে। ভালোভাবেই বলছি রিক, ওই মেয়ে তোমার জীবনে না থাকাই ভালো।”

​”রিক তো খারাপ!” ইউভান ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে হাসলো। “রিকের জীবনে ভালো কিছুর কী দরকার? কেড়ে নেয়া, ছিনিয়ে নেয়া এসব তো ফাদার নিক আমায় শিখিয়েছেন!”

​নিক আলবার্ট ক্ষণিকের জন্য চোখ বন্ধ করলেন। তার ধমনিতে রাগ চড়চড় করে বাড়লেও তিনি তা নিয়ন্ত্রণে আনলেন। তিনি জানেন, এই মুহূর্তে রাগ দেখালে ইউভান আবারও প্রলয় শুরু করবে। শান্ত স্বরে তিনি বললেন, “আমি তো এটাও শিখিয়েছিলাম যে কখনো কাউকে নিজের দুর্বলতা বানাতে নেই। মাফিয়াদের কোনো দুর্বলতা থাকতে নেই, রিক।”

​”থামুন!এসব বা*ল শুনতে আসিনি আমি!” ইউভান গর্জাতে গর্জাতে উঠে দাঁড়ালো।
“আমি রোজকে চাই। আর যদি না পাই, তবে তার পরিণাম যে কত ভয়াবহ হবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না!” আমাকে যেহেতু শয়তান বানিয়েছেন, তবে শয়তানের আলামত তো দেখতেই হবে। আর আপনি আমার কিচ্ছু করতে পারবেন না!”

​ঠিক সেই মুহূর্তে ইউভানের হাতে থাকা অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ডিভাইসে একটি তীক্ষ্ণ সিগন্যাল বেজে উঠল। স্ক্রিন জুড়ে রক্তবর্ণের একটা সংকেত জ্বলে উঠল।
‘Trace Confirmed: North Atlantic[নর্থ আটল্যান্টিক] Sector 4’।

সিগন্যালটি আসছিল সমুদ্রের এক নিষিদ্ধ কোণ থেকে। ইউভান অত্যন্ত ধূর্ত।তার উপরে ইউভান আগেই রোজের কোমরে থাকা ‘Obsidian’ শিরার সাথে একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাইক্রো-ট্র্যাকার ইনজেক্ট করে দিয়েছিলো। জ্যামারের কারণে সেটি সংকেত না দিলেও, এখন সেটিও সচল হয়েছে ট্র্যাকিং ডিভাইসের সাথে।

ওদিকে রাহা আর তুষার মনিটরগুলোর সামনেই দাঁড়িয়েছিলো।সেখানেও লাল বাত্তি জ্বলে উঠলো। ইউভান কীভাবে একা এক লহমায় পুরো পৃথিবীর গ্লোবাল নেটওয়ার্ককে নিজের ব্যক্তিগত শিকারী কুকুরে পরিণত করেছে।যা কেবল হ্যাকিং না,ছিলো এক Digital Apocalypse, যার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে এক উ*ন্মাদ ঘাতক।হ্যাকিং এর কিছু আংশিক অংশ ক্যাটরিনা ইউভান থেকেই শিখেছিলো।আর ইউভানের সাথেই চাল চাললো।

অপরদিকে আদ্রিয়ানের হাতে থাকা ড্রোন কন্ট্রোলারের স্ক্রিনে হঠাৎ একটি ‘Thermal Anomalies’ ধরা পড়লো। নর্থ আটল্যান্টিকের সেক্টর ৪-এর Abandoned Lighthouse [পরিত্যক্ত লাইটহাউস]।জ্যামারও এক ধরণের এনার্জি সিগন্যাল তৈরি করে।যা লায়ন ‘সনিক রাডার’ সেই জ্যামারের কম্পন ধরে ফেলেছে অলরেডি। আদ্রিয়ানের তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক মুহূর্তেই হিসাব কষলো এমন নিষিদ্ধ জলসীমায় কোনো সাধারণ জাহাজ বা মানুষের থাকার কথা নয়।

সেক্টর ৪-এর সেই র*ক্তবর্ণ সংকেত দেখা মাত্র ইউভানের হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত হলো। কোনো হেলিকাপ্টার বা বিশাল জাহাজের অপেক্ষা করলো না।
​ভলচার আইল্যান্ডের গোপন ডকইয়ার্ডে রাখা ‘Thunderbolt’ নামের সাদা কালো, কার্বন-ফাইবার দিয়ে তৈরি রেসিং স্পিডবোট নামালো সমুদ্রে। ইউভান এক লাফে চালকের আসনে বসলো। ​স্পিডবোটটি সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ তীরের বেগে ছুটে চললো। গতি বাড়ার সাথে সাথে বাতাসের তীব্রতাও বাড়লো। ইউভানের খোলা শার্ট বাতাসের ঝাপটায় ডানার মতো উড়তে শুরু করলো।গলার ট্রেডমার্ক সিলভার চেইনটাও।

মাথার ওপর থেকে হেলিকপ্টারের পাইলটরা রেডিওতে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলো ইউভানের সাথে , কিন্তু ইউভান সবকিছু ‘মিউট’ করে দিয়ে স্পিডবোডের স্পিড বাড়িয়ে ছুটে চলেছে।


.
.
মাঝসমুদ্রের বুকে একাকী দাঁড়িয়ে আছে বিশাল প্রস্তরখণ্ডের ওপর নির্মিত একটা লাইট হাউস। বহু বছর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমার বিরোধে পরিত্যক্ত হওয়া একটা স্থাপনা। ক্যাটরিনা তার ব্ল্যাক-সাবমেরিন থেকে রোজকে অচৈতন্য করে রমণীর তাম্বী দেহ একপ্রকার টেনেহিঁচড়ে করে এই পচা লোনা গন্ধে ভরা এই অন্ধকার মিনারে নিয়ে এসেছে।
​লাইট হাউসের ভেতরে দেয়াল বেয়ে অনবরত চুইয়ে পড়ছে সমুদ্রের নোনা জল। শেওলা ধরা পিচ্ছিল সিঁড়ি,খাঁড়া খাঁড়া সিঁড়ি যদি সাবধানতার সাথে পাঁ না রাখে তবে পড়ে মরার সম্ভাবনা বেশি। ক্যাটরিনা সমেত কয়েকজন রক্ষীরা উপরে উঠছে,লাইটহাউজের বাহিরেও পাহাড়ার জন্যে তেমন গার্ড নেই।ক্যাটরিনা জানে এই জায়গার কথা কল্পনাতেও আসবে না কারোর।মিনারের একদম চূড়ায়, যেখানে একসময় প্রকাণ্ড আলো জ্বলতো,বিভিন্ন জাহাজকে দিক নির্দেশনা দেয়া হতো সেখানে রোজকে একটা লোহার চেয়ারে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে।ব্লাউজের হাতার অংশ ছিঁড়ে গিয়েছে।হাতে গালে আঁচড়ে দাগ পড়ে গিয়েছে।ক্যাটরিনার ইশারায় কয়েকজন রক্ষী যারা ছিলো তাদের ক্যাটরিনা নিচে পাঠিয়ে দিলো।একজন নারী গার্ডকে ক্যাটরিনা ধমকের স্বরে জিজ্ঞেস করলো।
“কে বেশি সুন্দর। আমি নাকি এই মেয়ে??”

নারী গার্ডটার নাম এলজা।ক্যাটরিনার এমন প্রশ্নে অবাক হলো এলজা।সামান্যে একটা মেয়ের রূপের সাথে মাফিয়া উইমেন মন্সটার ক্যাট তূলনামূলক প্রশ্ন করে বসলো??শুকনো ঢুক গিলে এলজা বলল।
“আপনি ম্যাম”!

” তাহলে কি বলতে চাইছো এই মেয়ে অসুন্দর??”

এলজা ভীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ে কি বলবে বুঝতে পারছে না।তাও এক পলক রোজের মুখোশ্রীরপানে দৃষ্টি নিবারন করলো।এলজা মুগ্ধ হলো।অতি সাধারণ মুখশ্রী নেই কোনো চাকচিক্যময়।তাও কতো স্নিগ্ধতা।রোজের পড়নের শাড়িটা চিনলো না এলজা। কি বলে এই পোশাককে তাও জানে না।মেয়েটার চুলও কতো বড়। এলজা রোজের দিকে তাকিয়ে নিষ্পলক চাহনিতে বলল।
“না অসুন্দর নয় ম্যাম।যদি দশ এর মধ্যে রেটিং করতে বলেন আমি অনায়াসে একশো দিবো।”

“তাই??__ক্যাটরিনার দিকে দৃষ্টি ফেলতেই এলজার আত্মা শুকিয়ে এলো।ভয়ে হাত পাঁ কাঁপতে লাগলো।তোতলিয়ে বলল।
” কি..ন্তুু ম্যাম আপনি বেশি সুন্দর। স..সে মানে রোজ Volshebnaya (জাদুকরী fairy-like beauty)আ….আর আপনি frighteningly beautiful(ভয়ংকর সুন্দর)।

“ভালোবাসা পেতে কোনটার গুরুত্ব অপরিসীম?”

“ভালোবাসায় সৌন্দর্যের প্রয়োজন পড়ে না ম্যাম।”

“তুমি কখনো কারোর প্রেমে পড়েছো এলজা??”

“নাহ!”

“তাহলে কি করে জানলে?”

“জানি না ম্যাম,সুযোগ পেলাম কই।তবে এইটুকু জানি,
মানুষ প্রেমে পড়ে সৌন্দর্যের তবে ভালোবাসা হয় নিঃস্বার্থ। ভালোবাসা কখনো ভালো-মন্দ, জাত-কূল,ধর্ম কিংবা সৌন্দর্যে আটকে থাকে না!ভালোবাসতে কোনো কারণের প্রয়োজন পড়ে না!হয়ে যায় চোখের পলকে।উপলব্ধি করাও মুশকিল কখন হলো আর কিভাবে!”__এলজা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্যাটরিনার হাতের সিলভার প্লেটেড রিভলভারটা গর্জে উঠলো। নিস্তব্ধ লাইটহাউসের চূড়ায় বারুদের শব্দ যেনো সহস্র প্রতিধ্বনি তৈরি করলো।​বুলেটার নিখুঁত নিশানা এলজার কপাল বরাবর এফোঁড়-ওফোঁড় করে বেরিয়ে গেলো। এলজার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়েই স্থির হয়ে গেলো। রক্তিম রুধিরধারা তার কপাল বেয়ে গড়িয়ে নামল স্নিগ্ধ মেঝেতে। এক মুহূর্ত আগেও যেখানে প্রাণস্পন্দন ছিলো, তা এখন এক নিথর মাংসপিণ্ড হয়ে লুটিয়ে পড়ল নোনা জলের সিক্ত মেঝেতে।
​ক্যাটরিনা রিভলভারের নল থেকে উড়তে থাকা নীলচে ধোঁয়ায় আলতো করে এক পৈশাচিক ফুঁ দিয়ে শীতল কণ্ঠে বললো
​”আর সুযোগ পেলেও না এলজা! কারণ মরা মানুষের প্রেমে পড়ার সাধ জাগে না।”
​ এলজার লাশের দিকে একবারও না তাকিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো বন্দি রোজের দিকে। লোহার চেয়ারে রোজ তখনো অচৈতন্য, তার ফ্যাকাশে মুখাবয়ব চাঁদের আলোয় আরও বেশি মায়াবী লাগছে। ক্যাটরিনা রোজের বড় বড় চুলে আঙুল জড়িয়ে ধরলো, এক হ্যাঁচকা টানে রোজের মাথাটা পেছনে হেলিয়ে দিয়ে তার নিজের মুখটা রোজের কানের কাছে নিয়ে এলো।একটা পবিত্র শব্দকে বিকৃতির চরম পর্যায় নিয়ে গিয়ে বললো।

​”ভালোবাসা? ওই এলজা কী বুঝবে ভালোবাসার সংজ্ঞা? ভালোবাসা কোনো স্নিগ্ধতা না।ভালোবাসা হলো রক্ত আর লালার এক বীভৎস সংমিশ্রণ।ভালোবাসা হলো এক বিবর্ণ আসক্তি [Psychopathic Obsession]। ভালোবাসা হলো এক ধরণের রোগ, যা শিরায় শিরায় বিষের মতো চড়ে।সেই বি*ষ!যা পান করার তৃষ্ণায় কাতরাতে লাগে!যেখানে থাকে শুধু দংশন!”

​ক্যাটরিনা একটা ম্লান মোমবাতি জ্বালিয়ে রোজের ফ্যাকাশে মুখের সামনে ধরলো।
“তোর মুখটা যদি এখনি আমি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দি কেমন লাগবে??বীভ*ৎস মুখটা দেখলে কি যে শান্তি পাবো আমি।_ক্যাটরিনা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।

বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে মোমবাতির শিখা থরথর করে কাঁপছে, যেনো সেও এই আসন্ন ধ্বংসের আতঙ্কে অস্থির। ক্যাটরিনা এক পৈশাচিক শান্তিতে হাসলো। সে জানতো, এই পরিত্যক্ত লাইট হাউসে আসা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিষিদ্ধ। মাস্টার-এর কড়া নির্দেশ ছিলো এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দূরে থাকার, কারণ এটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসতে পারে। কিন্তু ক্যাটরিনা আজ সমস্ত নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখানে এসেছে।

ক্যাটরিনা হঠাৎ এক আদিম হিংস্রতায় রোজের দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরলো।অমানিশার আঁধার রাণীর ধারালো নখগুলো রোজের নরম চামড়া ভেদ করে মাংসের গভীরে বসে যেতে লাগলো।টপটপ করে হাত বেয়ে গড়াতে লাগলো তাজা রক্ত। যন্ত্রণায় রোজের শরীরটা একবার ধনুকের মতো বেঁকে কেঁপে উঠলো। তীব্র দহন আর লোনা বাতাসের ঝাপটায় রোজের জ্ঞান ফিরে এলো। শুকনো কেঁশে চোখ মেলতেই দেখলো সামনে ক্যাটরিনার বিষাক্ত ভয়ানক মুখাবয়ব। রোজ বুঝতে পারলো সে কোথায় আর কিভাবে এলো মনে করতে পারলো না। মনে পড়লো শুধু পেছন থেকে কেউ তার মুখ চেপে ধরেছিলো। ​”কোথায়… কোথায় আমি?” রোজের অস্ফুট, যন্ত্রণায় জড়িত কন্ঠস্বরে বলল। ​ক্যাটরিনা এক বীভৎস অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো।রোজের চুলের মুঠি চেপে পরপর দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দিলো, ঠোঁট ফেটে র’ক্ত গড়াতে লাগলো রোজের।ক্যাট রোজের মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে ক্ষোভে হিসহিসিয়ে বললো, “কিভাবে ফাঁসালি আমার রিককে, বল? কতবার ওর সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিস,ইন্টিমেট হয়েছিস? কতবার স্পর্শ করেছিস আমার অধিকারকে?”
​রোজ যন্ত্রণার মাঝেও নিজের আত্মসম্মানটুকু কুড়িয়ে নিয়ে স্থির কণ্ঠে হাসলো।হাত পাঁ নাড়ার সক্ষমতাও হয়ে উঠলো না তার।
“আপনার অধিকার??তা আপনার অধিকারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করছেন না কেনো!যদি আপনার হয় আমার কাছে কেনো আসবে??”

​”ইউ ফাকিং হোর! বিচ! নষ্ট নারী!” ক্যাটরিনার বিষাক্ত চিৎকারে লাইটহাউসের দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হলো।
“রিক আর ভলকভ আর কতজনের বিছানায় শুয়েছিস তুই?”

​”মুখ সামলে কথা বলুন!আপনার সাথে কথা বলতেও আমার ঘেন্নায় গাঁ গুলিয়ে উঠে। নিজের পিশাচীয় মুখটা নিয়ে দূরে সরুন আমার থেকে।”
​ক্যাটরিনা মুহূর্তেই রোজের চুলের মুঠি ধরে হ্যাঁচকা টানে তার মাথাটা পেছনে হেলিয়ে দিলো। ব্যথায় চোখমুখ বুজে এলো। “আমি ভালোবাসি রিককে!রিক আমার ছিলো আছে আর থাকবেও!কোন সাহসে হাত দিস??তোর হাত দুটো আজ আমি কেটে টুকরো টুকরো করবো!”

​রোজ ঘৃণায় উগ্রে দিয়ে বলল “একে ভালোবাসা বলে নাকি বিকৃত কামনা??”
​ক্যাটরিনার ভিতরে পোষা অভিলাষ পশুস্ত্তা এবার পূর্ণরূপে জেগে উঠলো। রোজের ব্লাউজের সামনের অংশ খামচে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো, “কোথায় কোথায় ছুঁয়েছে আমার রিক? দেখা আমাকে! প্রতিটা অংশ আমি আজ নিজের হাতে কেটে ফেলবো! কোনো চিহ্ন রাখব না ওর ছোঁয়ার!”
​রোজ ঘৃণায় শিউরে উঠলো,এভাবে শরীরে স্পর্শ করায় শারীরিক যন্ত্রণা থেকে ঘৃণাই হচ্ছে। ক্যাটরিনা পাশ থেকে একটা ধারালো ছুড়ি তুলে নিয়ে রোজের মসৃণ গ্রীবাদেশে হালকা চেপে ধরলো। ধারালো ফলার ছোঁয়ায় রোজের ফর্সা গলায় একটা সরু রেখা তৈরি হলো, যেখান থেকে তাজা রুধিরধারা গড়িয়ে মেয়েটার কলারবোন ভিজিয়ে দিলো। যন্ত্রণায় রোজের চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এলো,এখনি যদি ক্যাটরিনা চাপ প্রয়োগ করে হয়তো-বা এটাই হবে রোজের জীবনের অন্তিম অধ্যায়। কিন্তু রোজ ক্যাটরিনার চোখের মণির গভীরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখলো।

“আপনি আসলেই ভিষণ বোকা।রিক তো আপনারই বাগদত্তা ছিলেন। আপনাকে বিয়েও করতেন। তবে আমায় মেরে আপনার লাভ কী হবে??আপনার এতো ক্ষমতা এতো জৌলুস আর দেখুন আমার মতো সাধারণ মেয়েকে ভয় পাচ্ছেন!আমি তো আপনাদের কিছুই করতে পারবো না,আমার কাছে সেই ক্ষমতাটুকুও নেই।আপনারা চাইলে যা পারবেন আমি তা কখনোই পারবো না।তাহলে কি ধরে নিবো ক্যাটরিনা ক্ল্যান একটা সাধারণ মেয়েকে ভয় পেয়ে তাকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে??”

রোজের কথায় ​ক্যাটরিনা উন্ম*ত্তের মতো মাথা ঝাঁকালো। পৈশাচিক দম্ভে লাইটহাউজ যেনো কাঁপতে শুরু করলো।ছুড়িটা রোজের গলার আরও গভীরে চেপে ধরতে চেয়েও নিজেকে সংবরন করলো।এই মেয়ের সাহস কি করে হলো মাফিয়া লেডিকে বোকা বলার??মন চাচ্ছে এখনি মাটিতে পিষিয়ে দিতে তবে এতো সহজ মৃত্যু ক্যাটরিনা দেয় না।তাও রোজকে??কখনোই না।ক্যাটরিনা একটা সিগারেট ধরালো।দুআঙুলের ফাঁকে নিয়ে দুটো টান মেরে শয়তানি হাসি হাসতে লাগলো।যে হাসিতে ছিলো বহুদিনের ক্রোধ জমা।দু’হাত শূন্যে তুলে, কোনো এক প্রাচীন অশুভ শক্তির আরাধনা করার মতো স্বরে হুঙ্কার দিয়ে উঠলো ক্যাট-

​”রক্তস্নাত শ্বেতপদ্ম আমি, আমার কামনার অনলে যে জন ছুঁইবে কায়া,ছিঁড়ে খাবো তার অস্তিত্বের তন্তু, বিলাইবো না একবিন্দুও মায়া!”

ক্যাটরিনার উন্মত্ত হুঙ্কার যখন স্তিমিত হয়ে এলো, রোজ তখন ধীর লয়ে তার নেত্রপল্লব স্থির করলো ক্যাটের দিকে।দুই নয়নে জমে উঠেছে নোনা জল।পেশিশক্তি গায়ের জোর দিয়ে এই দানবীকে রোখা অসম্ভব, তবে সামনে থাকা এক অসহায়ত্ব দুর্দিনের মাঝে যে আছে কারোর স্নায়বিক সাম্রাজ্যে মধ্যে ঢুকার মতো শক্তি।রোজের ওষ্ঠাধরে বিদ্রূপাত্মক হাসি ফুটে উঠলো।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।
​রোজের নেত্রপল্লবে এমন এক অতল গহ্বর, যেখানে তাকিয়ে থাকলে দিকভ্রান্ত হতে বাধ্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কোনো বীরও।রমণীর চাউনি যেনো এক অদৃশ্য তন্তুর জাল বুনে দিচ্ছিলো ক্যাটরিনার চারধারে।করুনাপ্রার্থি চাহনিতে প্রতিধ্বনিত হলো-

​”বিষাক্ত কুহেলিকা, যাতে গুমরে মরে দম্ভ আর অহঙ্কারের বেলা,মায়াজালে বন্দি হয়ে সাঙ্গ হউক ওই সকল রাজকীয় রুধির-খেলা!”

​​লাইটহাউসের ভেতরে মোমবাতির শেষ শিখাটাও নিভে গেলো। বাইরে সমুদ্রের প্রলয় গর্জনের সুর,বড় বড় বিশালাকৃতির সমুদ্র ঢেউ আঁচড়ে পড়লো লাইটহাউজের শ্যাঁত শ্যাঁতে দেয়ালে।

ক্যাটরিনা হঠাৎ এক হিংস্রতায় ধারালো ছুরি দিয়ে রোজের হাতে আঘাত করলো। মুহূর্তেই রোজের ফর্সা চামড়া মাং/স আলাদা হয়ে ফাঁক হয়ে যায় , যেখান দিয়ে গলগল করে র*ক্ত চুপসে পরতে লাগলো।যন্ত্রণায় রোজের কণ্ঠ অস্ফুট চিৎকার বেরিয়ে এলো”আহ্!”

​ক্যাটরিনা রোজের কানের কাছে মুখ নিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো।মুহূর্তেই রোজের মাথাটা ঝিনিয়ে উঠলো।

“রিক তো কোনো নারীর কাছে যায় না! তোর কাছে কেন গেলো? তোর মধ্যে কী আছে আর আমার মধ্যে কী নেই,দেখতেই হবে আমার!”

​রোজ বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলো। যন্ত্রণায় তার কপাল ঘামতে শুরু করেছে।তবে অদ্ভুত শীতল হাসিতে ক্যাটরিনার দিকে তাকিয়ে রইলো।ব্যাথা আর ঘৃণার এক মিশ্র অভিব্যক্তি। রোজ ধরা গলায় বলল, “কে আসে আমার কাছে? রিক আলবার্ট আমাকে যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। আমি তাকে ঘৃণা করি! আমি মুক্তি চাই তার থেকে! আপনি আমাকে কেন ধরে এনেছেন?”

​রোজের নেত্রপল্লব একবার বুজে এলো, আবার খুলে গেলো। “আপনার উচিত ছিলো আর একটু খোঁজ নেওয়া। আমি রিক আলবার্টকে ঘৃণা করি। যেখানে ভলকভের সাথে আপনার এনগেজমেন্টের কথা, সেখানে আপনি আমাকে ভয় পাচ্ছেন কেনো? আপনি তো ওনার সাথে লিভিং করেন… ? উনি কি…

রোজ দম নিয়ে পুনঃরায় বললো-
“আপনাকে ভালোবাসেন ওনি বলেছেন সে কথা ?”

​ক্যাটরিনা হঠাৎ রোজের কথায় অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। সে তার ঘাড় পর্যন্ত ছোট করা চুলগুলো অবহেলার সাথে পেছনে ঠেলে দিয়ে রোজের দিকে বন্দুক তাক করলো। পরক্ষণেই আবার নামিয়ে নিয়ে বিকৃত হেসে বলল, “এই মেয়ে, তোমার কি আমায় ভয় লাগছে না?”

​রোজ যন্ত্রণার মাঝেও হাসলো। ক্রন্দনরত অবস্থায় মনে মনে ভাবলো ‘ভয় না, ঘৃণা করি। আমার দম আটকে আসছে। মরে যেতে পারলে শান্তি পেতাম, তবে আপনার মতো পিশাচিনীর হাতে একদমি নয়।’

​রোজ নিজেকে সামলে নিয়ে আকুতি মেশানো স্বরে বললো, “আপনার মতো শক্তিশালী নারী ব্যক্তিত্ব আমাকে এভাবে বেঁধে রাখা শোভা পায় না! আমার কাছে কী আছে? কে আছে আমার? আমার তো কিছুই নেই। এখান থেকে পালানোর পথও তো বন্ধ, গভীর সমুদ্রের মাঝে আছি, তাই না?”

​ক্যাটরিনা ভ্রু কুঁচকে তাকালো। “কীভাবে বুঝলে?”

​”সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ.!”

​ক্যাটরিনা জানালার বাইরে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল। “অপেক্ষা কী জিনিস জানো? রিক বছরে মাত্র একটা মাস আইল্যান্ডে আসতো, আর আমি সারা বছর সেই একটা মাসের অপেক্ষায় প্রহর গুনতাম। তুমি কী বুঝবে সেই অপেক্ষার জ্বালা?”

​ক্যাটরিনা হঠাৎ আবার সেই পৈশাচিক হাসিতে ফিরে এলো। রোজ কাতর কণ্ঠে বলল, “আমাকে একটু পানি দিন!”

​”না!” ক্যাটরিনা পাগলের মতো রোজের চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরলো। “আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমার রিকের নারী নেশা নেই। সে কারো কাছে যাবে না তা ভেবেই আমি সারাজীবন তার অপেক্ষায় থাকতে রাজি ছিলাম।”

​রোজের অধর তিরতির করে কাঁপছে।ধীরলয়ে বলল, “উনি তো আপনারই ছিলেন। আর দেখুন, এখন তো আপনাদের বিয়েও ঠিক হয়েছে…”

​”ঠিক এইটাই আমাকে অবাক করেছে!”নিজের মাথার চুল দুহাতে টেনে টেনে ক্যাটরিনা চিৎকার করে উঠলো। “যে রিক বিয়েতে রাজি হয়ে গেলো!”

​”হয়েছে তো করে নিন!বেড শেয়ার করে নিন! করেছেন নিশ্চয়ই? ভালো লাগেনি?”

​”ইউ ফুল গার্ল!” ক্যাটরিনা রোজের ওপর ঝুঁকে পড়লো। তার মুখাবয়ব এক জ্যান্ত দানবীর মতো,একজন নারীর মুখাবয়ব এতোটা ভয়ানক কি করে হতে পারে তা রোজ ক্যাটকে না দেখলে জানতো না।

“একটা সিক্রেট বলি শোন। আমি ফিফটি ম্যান এর সাথে ইনটিমেট হয়েছি। আমি ফিফটি শেডস অফ গ্রে!”

কিন্তু প্রতিবারই আমার চোখের সামনে রিকের মুখ ভেসে উঠতো। হ্যালুসিনেশন হতো আমার যে আমি রিকের সাথেই আছি।”

কথাটা শুনতেই রোজের ঘৃণায় বমি উগ্রে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।পরক্ষণেই রোজ খেয়াল করলো।​ক্যাটরিনা রোজকে ছেড়ে দিয়ে এক গ্লাস মদ এক চুমুকে শেষ করলো। তার মুখাবয়ব মদের নেশায় আর আক্রোশে কালো হয়ে এসেছে। শিশুসুলভ মুখ করে ঠোঁট উল্টে বললো,

“কিন্তু কখনো রিক থাকতো না বেডে!তবে হ্যালুসিনেশনে আমি রিকের সাথে ইনটিমেট হতাম।চারদিকে শুধু রিককেই দেখতাম”

​রোজ ঘৃণায় চোখ বুজে ফেললো।শোনার আর ক্ষমতা হয়ে উঠলো না। মন চাইলো কান চেপে ধরতে,একটা পুরুষকে নিয়ে একজন নারীর মধ্যে এতো বিকৃত কামনার এতো জঘন্য রূপ।তাও নিজের স্বামীকে নিয়ে!এসব শুনার ছেয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয়।কান চেপে ধরতে গিয়ে রোজ দেখলো হাত দুটো লোহার চেয়ারে বন্দি যে। তবে ক্যাটরিনার এমন মানসিক বিকার দোখে রোজ বলল।
“ভারী অন্যায় হয়েছে আপনার সাথে। কিন্তু আমাকে মেরে আপনি কিছুই পাবেন না। আপনার রিক আপনারই থাকবে। আপনার কাছে যত ক্ষমতা আছে, আমার কাছে তার কানাকড়িও নেই। আমার হাতটা খুলে দিন, দেখুন আমি নিরস্ত্র!”

ক্যাটরিনা রোজের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। সে মনে মনে ভাবল, ঠিকই তো এই মেয়ের কাছে কী আছে? কিছুই না! পালানোর কোনো পথ নেই, চারদিকে শুধু অথৈ জল। এখান থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিলে মৃ*ত্যু নিশ্চিত। আর রোজ যদি ঝাঁপ দিয়ে মরে, তবে ক্যাটরিনার কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে। ক্যাটরিনা এগিয়ে এসে টেনে হাতের বাঁধন খোলতে লাগলো।এতো জোরে যে রোজের হাত ছিলে গিয়েছে।

তবে রোজ ভাবতে পারে নি ক্যাটরিনা এতো সহজে তার বাঁধন খুলে দিতে রাজি হয়ে যাবে।হলোও তাই ক্যাটরিনা খুলে দিলো রোজের বাঁধন।

চলবে??

[‼️নোট:নিক আলবার্ট কে কিংবা আলবার্ট বংশে কে কে ছিলো।পারিবারিক দিকগুলো অবশ্যই আপনারা পাবেন যখন দু-তিন পর্বের একটা অতীত দেখানো হবে,গল্পের শেষের দিকে।নিজেদের মতো করে বেশি কিছু ভাবলেই গল্প প্যাচিয়ে যাবে।তাই আমি যা দি যতটুকু দি তা নিয়েই ভাবুন।আর হ্যাঁ ইউভানকে অতি চালাক বানিয়েছি বলে ভাববেন না যে সে সব জানে তার অজানা কিছু নেই।গল্পের অতীত দেয়া হবে। তাই পারিবারিক ট্রেজিডি খোলাসা করছি না কেনো তা নিয়ে জোর খাটাবেন না।]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply