Golpo romantic golpo ডেনিম জ্যাকেট

ডেনিম জ্যাকেট অন্তিম পর্ব


ডেনিম_জ্যাকেট — অন্তিম পর্ব

অবন্তিকা_তৃপ্তি

সেদিনের পর. .
জীবনের কয়েকটা বসন্ত কাটিয়েছে সিদ্দিক মহলের সব সদস্য। সবার জীবনে উত্থাল-পাতাল বাঁক পেরিয়ে আজও ওরা একসাথে। এই সময়ের মধ্যে, কখনও যে সম্পর্কে বিরক্তি আসেনি, টানাপোড়ন আসেনি, তা কিন্তু নয়। এসেছে, তবে কাব্য-কুহু, কায়া-স্নিগ্ধ দুই জোড়া দম্পত্তি অত্যন্ত সাহস, ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছে একে অন্যকে।

আর আজ?
আজ ওরা সবাই পুরিপূর্ণ। এইমুহূর্তে স্নিগ্ধ থেকে শুরু করে সিদ্দিক বাড়ির প্রতিটা সদস্য কাব্যদের ড্রইং রুমে বসে আছে। সবার তীব্র মনোযোগ টিভির দিকে। আজ টিভিতে একজন সদ্য বাংলাদেশের হয়ে ইন্টারন্যাশনাল ট্রফি আনা খেলোয়ারকে দেখানো হবে. .যে অল্প সময়ে ন্যাশনাল ফুটবল টিমের প্রধান ক্যাপ্টেন হয়েছে, আজ তাকে ক্যাপ্ট্যান্সি দেওয়া হবে বেশ ঝাঁক-ঝমকভাবে।

কুহু পপকর্ন নিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসেছে। পাশে কায়া বসে আছে ও রিল বানাবে, সেজন্যে টেমপ্লেট সিলেক্ট করছে ক্যাপকাট থেকে। স্নিগ্ধ কায়ার পাশে বসে দাত দিয়ে নখ কামড়াতে কামড়াতে টিভির দিকে চেয়ে আছে, বেচারা আর অপেক্ষাও করতে পারছেনা ।

শামিমা মাত্রই রান্নাঘরের বাতি নিভিয়ে এসে বসলেন। কবিতা-সাদাত একসাথে বসেছেন; সাদাত খবরের কাগজ রেখে স্ত্রীর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে আবার মেয়ের মুখের দিকে তাকান। কুহুর চোখে-মুখে আজ যেন খুশি ধরছে না, স্বামীর উন্নতি দুই চোখে দেখেও হয়তোবা মেয়েদের নারীত্বের শান্তি।

মেয়েকে দেখতে দেখতে একসময় সাদাতের চোখ জুড়িয়ে আসে, উনি নরম কণ্ঠে ডাকেন———‘কুহু এত পপকর্ন খেলে পেটে অসুখ হবে না? আজকেও কয়েকবার বমি করেছ, তারপরও খাচ্ছো কেন এটা?’

কুহু টিভি থেকে চোখ সরিয়ে বলল——-‘জানিনা; অপেক্ষা করতে করতে খালি মুখে বসে থাকতে ভালো লাগছে না। আটটার প্রোগ্রাম আটটা পাঁচ বেজে গেল, শুরু করবে কখন? ধুর!’

কবিতা মেয়ের অধৈর্য ব্যবহার দেখে এক ধমক দিলেন——-‘এই চুপ করে বস, বেশি কথা বলে শুধু। আর বাবা নে বললো শুনিস নি? পপকর্ণটা রাখ, আর খাইস না। ফল আছে না? ওগুলা খা।’

কুহু মায়ের ধমকে চুপচাপ গোমড়া মুখে পপকর্ন রেখে দিল। পাশ থেকে শামিমা বললেন———-‘ওর আজকাল কি যে হয়েছে। দুপুরেও খেলো না ঠিকঠাক। আগে তো চা খেত, এখন ওটাও খাচ্ছে না। আর খালি পেটে পপকর্ন গিলছে।’

কুহু মা-শাশুড়ির রাগারাগি পাশ কাটিয়ে আবার টিভির দিকে চেয়ে রইল হা করে। কায়া পাশ থেকে হঠাৎ কি মনে করে কুহুর কানের কাছে বিড়বিড় করে বলল———-‘কুহুপু, তুমি কি বাই চান্স প্রেগন্যান্ট?’

কুহু এ যাত্রায় মহা বিরক্ত হয়ে তাকাল কায়ার; কায়া নিজেও থতমত ভঙ্গিতে তাকাল কুহুর দিকে। কুহু চুড়ান্ত বিরক্ত হয়ে বলে—-‘সিরিয়াসলি? এখন এসব বলার সময়? চুপ করে বসে থাক। খালি আছে উল্টো চিন্তায়, ফাজিল।’

কুহুর এক ধমকে কায়া রীতিমত চুপসে গেল।বাকিটাক্ষণ কুহুকে আর বিরক্ত করলো না, আলগোছে চুপ করে স্নিগ্ধের গায়ের সাথে মিশে এসে বসলো। ও কি মন্দ বলেছে কিছু? ভালো কথাই তো বলেছে। খাওয়ার রুচি নেই: বমি হওয়া এসব তো ওটারই লক্ষ্মণ! শুধুশুধু কুহুপু বকলো ওকে।

প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। অন্য খেলোয়ারদের বক্তব্য নেওয়া শেষ হলে— এবার কাব্যের দিকে ক্যামেরা ঘুরানো হলো। কাব্য দাড়িয়ে আছে, পেছনে হরেক রকম ব্র্যান্ডের প্রমোশনাল ড্যাশবোর্ড। কাব্য সেটার সামনে মাথাটা নিচু করে দাড়িয়ে আছে, পাশেই মেয়ে উপস্থাপিকা মাইক হাতে উচ্ছল কণ্ঠে বলছেন————-‘কাব্য, বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিমের ক্যাপ্টেন্সি পেয়ে কেমন বোধ করছেন? যদি দর্শকদের একটু নিজের অনুভূতি সম্পর্কে বলতেন?’

কাব্য মাইক হাতে নিয়ে, একবারও মেয়েটার দিকে তাকালো না। ওভাবেই মাথা নিচু করে বলা শুরু করলো————-‘রিয়েলি..ইটস এ গ্রেট এচিভমেন্ট ফর মি। আমার মনে হয়, আমার দায়িত্ব বেড়েছে আরও। বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্যে আরও পরিশ্রম; হার্ড ওয়ার্ক করতে হবে। এটা যতটা না খুশির তার থেকেও অনেক বেশি রেসপন্সিবিলিটির কাজ।এন্ড আমি চেষ্টা করব নিজের বেস্টটা দেওয়ার।’

মেয়ে উপস্থাপিকা ওয়েস্টার্ন ড্রেস পড়া ছিলো দেখে কুহুর শুরুতে বড্ড কেমন-কেমন লাগছিলো । কিন্তু কাব্য একবারের জন্যেও ওই উপস্থাপিকার দিকে তাকায়নি দেখে কুহুর হঠাৎ সব ভালো লাগতে শুরু করে। ইচ্ছে করছিল— কাব্যকে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে। এত ভালো কেন ওর স্বামী কাব্য? এত লয়াল ওর প্রতি!

উপস্থাপিকা আবার প্রশ্ন করেন———-‘দ্যাটস গ্রেট, আমরাও আপনার থেকে চমৎকার সব পারফরম্যান্স আশা করছি। এবার কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি, যদি কিছু মনে না করেন।’

কাব্য কথাটা নিচু করে হাসল স্রেফ। উপস্থাপিকা আশ্বাস পেয়ে প্রশ্ন করেন————-‘আপনার ম্যারেড লাইফ কেমন যাচ্ছে? স্ত্রী নিশ্চয়ই এই প্রোগ্রাম দেখছেন; কি মনে হয় তিনি কেমন বোধ করছেন?’

কাব্য লাজুক হাসল মাথাটা নিচু করে। শামিমা, থেকে শুরু করে বড়রা নিজেরাও লজ্জা পেয়ে হাসলেন। কাব্য ওভাবেই বলে—————‘শি উইল বি হ্যাপি। বাসায় গেলে বুঝতে পারব যে হ্যাপির মাত্রা কতটা ছিলো। ওসব আমাদের বেডরুম অব্দি থাকুক।’

উপস্থাপিকা হাসলেন পাল্টা। কুহু স্বস্তি পেল, চোরা চোখে একবার বাবা-মায়ের দিকে চেয়ে আবার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে ফেলো। উপস্থাপিকা আবার প্রশ্ন করেন————‘আপনি নিজেকে প্রেমিক হিসেবে কত দিবেন?’

কাব্য আবার মাথাটা নামিয়ে হাসল; মাইক হাতে আবার জবাব দিল———‘প্রেমিক হিসেবে জিরো, কিন্তু হাজবেন্ড হিসেবে আই গেস হান্ড্রেড।’

উপস্থাপিকা এবার আগ্রহ দেখালেন———‘প্রেমিক হিসেবে জিরো কেন?’

কাব্য জবাব দিল———-‘প্রেমিক হিসেবে আমি লুজার ছিলাম অনেক। হাজবেন্ড হিসেবে আমি একটা মেয়ের জন্যে অনেক বেহায়া হয়েছি। আজ যে আমার স্ত্রী. . সে আমার জীবনের সবচেয়ে ফার্স্ট ট্রফি: যে ট্রফি আমি চুড়ান্ত কষ্ট করে জিতেছি।’

‘আপনাদের কি লাভ ম্যারেজ?’ —- উপস্থাপিকা জানতে চাইলেন।

কাব্য হাসলো, মাথাটা নামিয়ে আবার জবাব দিল——-‘অমনি কিছু একটা। আমার স্ত্রী আমার কাজিন ছিলো।’

‘কে আগে ভালোবেসেছে?’ —— উপস্থাপিকা আবার জিজ্ঞেস করলেন।

কাব্য এইবার ঠিক সোজা ক্যামেরার দিকে তাকাল, ও জানে কুহু এখন টিভির সামনেই বসে আছে: আর বসে ঠিক ওকেই দেখে যাচ্ছে। কাব্য সামান্য হেসে কুহুর উদ্দেশ্যই জবাবটা ছুড়ল————‘she fall first, but I fall harder।’

উপস্সাপিকা হেসে বললেন———‘শুভকামনা রইল আপনাদের দাম্পত্ত জীবনের জন্যে, কাব্য। ভালো থাকবেন; আর আমাদের ফুটবল টিমকে পুরো ওয়ার্ল্ডওয়াইড রিপ্রেজেন্ট করবেন আশা রাখছি।’

কাব্য মাথাটা নামিয়ে ছোট করে বলল——‘ধন্যবাদ।’

প্রোগ্রাম শেষ হয়ে গেল। টিভি অফ করে সবাই এবার হা করে কুহুর দিকে তাকিয়ে আছে। কাব্যের একেকটা কথা কারোরই মাথায় ঠিকঠাক ঢুকেনি। সবাই সন্দেহের চোখে কুহুর দিকে তাকাতেই কুহু থতমত খেয়ে গেল। কোনরকমে সোফা থেকে উঠে দাড়িয়ে বলল———-‘আমার না. . আসলে . .পড়া আছে। আমি যাই হ্যাঁ? ওকে বাই।’

কুহু এক দৌড়ে পপকর্ন নিয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল। ও যেতেই কায়ার দিকে সবাই প্রশ্নবিদ্ধ চোখে তাকাতেই কায়া আমতা আমতা করে বলল———‘আমি . . আমি সবার জন্যে চা বানিয়ে নিয়ে আসি? হ্যাঁ?’

কায়া রান্নাঘরে ছুটল। স্নিগ্ধের দিকে তাকাতেই স্নিগ্ধ দ্রুত উঠে দাঁড়াল। সোফাতে কিছু একটা খুঁজতে খুঁজতে বলল—-‘চার্জার. . আমি আমার চার্জারটা পাচ্ছি না। কই যে রাখলাম। রুমে মেবি? খুঁজে আসি আমি, বাই।’

স্নিগ্ধ নিজের রুমে ঢুকে গেল। বাকিরা ওদের এসব টানা হিচড়ে দেখে ছোট একটা শ্বাস ফেললেন। অথচ ওদের মধ্যে কবিতা বড্ড আমোদে আছেন, কারণ?
কারণ উনি সব জানেন শুরু থেকে এখন অব্দি। মেয়েটা চোখের সামনে তারই নাকের নিচে প্রেমে পড়বে: ভালোবাসবে: ভাঙবে আর উনি জানবেন না— হয় নাকি তা।

একটা মাত্র মেয়ে. . পুতুলের মতো উনি সবটাসময় চোখে চোখে রেখেছেন! কবিতা সব জানেন, সব! মনেমনে কুহুর প্রতি মন থেকে দোয়া আসলো কবিতার। সব পেরিয়ে মেয়েটা আজ সুখী. . স্বামী সংসার নিয়ে আনন্দে আছে— এর বেশি আর কি চাওয়ার থাকতে পারে কবিতার।

———————-
রাতটা বেড়েছে, সবাই খেয়ে-দেয়ে নিজেদের রুমে ঘুমাতে গেছে। শুধু কুহু-ই জেগে আছে। কাব্য আসেনি এখনো। কাব্য না এলে কুহুর গলা দিয়ে খাবার নামে না; তাই যত রাতই হোক দুজন একসাথে খেতে বসে দিনশেষে।

কুহু নিজের রুমে বসে আছে। হাতে ফোন— ফোনটা কিছুদিন আগে কাব্য স্যালারি পেয়ে কিনে দিয়েছিল। আইফোন লেটেস্ট মডেল— তাও নিজের স্যালারির প্রথম ইনকামের টাকায়। কুহুর আজকাল কাব্যের সাথে বাইরে বেরোতে খুব ভালো লাগে। কাব্য সাথে থাকলেই সবাই কুহুকে হিংস্যার নজরে দেখে- কুহু তো বোকা না; বুঝে ও।
সেলিব্রিটি কাব্যের বউ ও—- ইস! কুহুর দুহাতে মুখ ঢেকে লজ্জা পেয়ে হাসে।

কুহু এইমুহুর্তে বসেবসে ইনস্টাতে বিভিন্ন এডিট দেখছে। আজকে কাব্যের ইন্টারভিউ অনেক ভাইরাল হয়েছে ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে। সবাই কাব্য আর কুহুর ছবি দিয়ে রোমান্টিক এডিট বানাচ্ছে। ক্যাপশন নানা রোমাঞ্চকর ভালোবাসার নাম দেওয়া।

একটা দারুণ ব্যাপার হচ্ছে,
কাব্য কখনও কোনোদিন মিডিয়ার সামনে কুহুকে লুকিয়ে রাখেনি। শুরু থেকেই নিজের আইডিতে কাব্য কুহুর সাথে নিজের কাপল ছবি পোস্ট করত— সেলিব্রিটি হবার পরও সেটার একচুলও নড়চড় হয়নি। এখনো কাব্য কুহুর সাথে কাপল ছবি আপলোড দেয়। কাব্যের আইডিতে কুহুর আইডি ম্যারেড স্টেটাস দিয়ে এড করা এখনো। কাব্য নিজেও চায়—- কুহুকে সবাই ওর স্ত্রী হিসেবে চিনুক।

কুহুর এই ব্যাপারটা বড্ড ভালো লাগে। কাব্য এতকিছুর পরেও একচুলও পরিবর্তন হয়নি। এখনো কুহুকে একটা পুতুলের মতো আগলে রাখে, কুহুর সমস্ত কথা একবাক্যে শুনে— এত ব্যস্ততার মধ্যেও যখনই সময় পায় সবটুকু সময়ই কুহুকে ও দেয়। কুহুর এক জীববে আর কি পাওয়ার ছিলো? কিছু না; কিচ্ছু না— স্রেফ এটুকুই!

কুহু এডিট দেখছিল বসেবসে। হঠাৎ দেখতে দেখতে একটা মেয়ের এডিট সামনে এলো, মেয়েটা কুহুর সাথে নিজের তুলনা করে লিখেছি—

‘আজ ফুটবলার কাব্য আমাকে নিয়েও ওসব কথা বলতে পারতেন। এই মেয়ের চাইতে আমি সুন্দর বেশি। আফসোস খেলোয়ার কাব্য চোখ থাকতেও অন্ধ।’

—- কুহুর এই ক্যাপশন পড়ে মাথাটা গরম হয়ে গেল রীতিমত। এই মেয়ে সুন্দর? অন্যের বরের দিকে নজর দেওয়া ফালতু, ফাতরা মেয়ে কোথাকার!

কুহু ফোনটা বিছানার উপর ফেলে ফুসতে লাগল। কাব্য ওভাবে বলার পরেও কেউ কেন এগুলা বলবে? কি জঘন্য মানসিকতা এদের।

কাব্য রুমে এলো খানিক পর, ঘেমে একাকার পুরো। কুহুকে রুমে দেখে ক্লান্ত কণ্ঠে বলল———-‘সরি দেরি হয়ে গেল অনেক। খেয়েছিস তুই?’

কুহু নিজেকে শান্ত করলো কোনরকম, জবাব দিল——-‘না, গোসল করে আসুন, একসাথে খাব।’

কাব্য আর কথা বাড়াল না, গোসল করে নিলো। গোসল থেকে এসে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রুমে আসলো দুজন।

কুহুর মুখটা তখনও ভার। কাব্য সেটা হয়তো লক্ষ করলো। ও বিছানায় হেলান দিয়ে বসে দুহাত ছড়িয়ে দিয়ে কুহুকে ডাকে ————‘এদিকে আয়।’

কুহু গোমড়া মুখে চুপচাপ এগিয়ে গেল। কাব্য ওকে বুকে টেনে চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল———-‘মনটা খারাপ কেন? ইন্টারভিউ কি খারাপ দিয়েছি? আমি তো ওই মেয়ের দিকে তাকাইওনি তুই বলার পরে। তাও ?’

কুহু কাব্যের বুকের টিশার্টের উপর আকিবুকি করতে করতে গোমড়া মুখে বলল————‘আমি সেটা নিয়ে মন খারাপ করিনি। মেয়েরা আমাকে অনেক হিংসা করে। আমি কি . .আচ্ছা, আমাকে আপনার পাশে কি মানায় না কাব্য ভাই?’

কুহুর কণ্ঠে ইনসিকিউরিটি। কাব্য ভ্রু কুচকাল সাথেসাথেই———‘আজকে কে আবার মাথাটা উস্কেছে? সারাদিন অবসর বসে মাথাটাকে শয়তানের কারাগার বানাচ্ছিস— সারাক্ষণ এসব আউল-ফাউল ভাবনা শুধু।’

কুহু জবাব দিল না। কাব্য কুহুর নীরবতায় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কুহুর মুখটা থুতনি ধরে নিজের দিকে তুলল, ভীষণ নম্র সফ্ট ভয়েজে জানতে চাইলো এইবার——-‘কি হয়েছে? হু? রিজন না বললে বুঝব কিভাবে?’

কুহু ছোট শ্বাস ফেলে বলল সবটা। কাব্য হাসে এইবার, হাসতে হাসতে কুহুর কপালে চুমু খেলো। কুহু রেগে গেল———‘আপনি হাসছেন? হাসি আসছে এটা শুনে? এদিকে রাগে আমার মাথাটা ফেটে যাচ্ছে।’

কাব্য অত্যন্ত নরম কণ্ঠে বোকা কুহুকে বোঝাল———‘কারণ এটা হাসিরই কথা। এসব একটা দুটো পাগল ছাগল মেয়ে থাকলে কি হয়, কুহু? কিছু না। আমরা ম্যারেড লাইফে ভীষণ ভীষণ সুখী কুহু। এসবে কে কি বলল, কে আমার পাশে কাকে, কাকে মানাচ্ছে না ওরা ঠিক করে দিবে এটা?যেখানে আমরা দুজন জানি আমাদের একজনকে আরেকজনের পাশে চমৎকার মানিয়ে যাচ্ছে। এন্ড আমার কাছে তো মনে হয় আমাদের মতো পারফেক্ট জুটি আর হতেই পারেনা।আমরা এটা ভাবছি: এটাই কি যথেষ্ট নাই তোর জন্যে?’

কুহু মুখটায় হাসি ফুটে এবার। কাব্য ভ্রু উচায়——-‘মন ভরেছে? হু? এবার দেখা।’

কুহু ভ্রু বাকায়——-‘কি দেখাবো?’

‘কি না বললি রাতে দেখাবি।’ —- কাব্য মনে করিয়ে দিল।

কুহুর মনে পরে এখন। ও কাব্যের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। তারপর বিছানা থেকে উঠে এসে আলমারি উপর থেকে একটা বিশাল লাগেজ বের করে এনে বিছানার উপর রাখল। কাব্যের ভ্রু তো রীতিমত কুঁচকে এল——‘এটা কি আবার? লাগেজে কি?’

কুহু মৃদু হাসল, চোখ টিপে বলল———‘দেখবেন? খুলি আগে, চমকাবেন না কিন্ত হু?’

কাব্য ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে শুধু। কুহু হাসছে, শয়তানি হেসে লাগেজ খুলে কাব্যের সামনে মেলে ধরে।

লাগেজ খুললো কুহি; আর কাব্য এবার হা হয়ে গেল পুরোপুরি। হা হয়ে একবার লাগেজ ভর্তি জিনিসের দিকে তাকিয়ে আবার কুহুর দিকে তাকাল। কুহু হাসছে শুধু, ওদিকে কাব্য আহাম্মক পুরো।

লাগেজ থেকে সবার আগে ওর পছন্দের আমেরিকা থেকে কেনা ডেনিম জ্যাকেটটা বের করে অবাক হয়ে বলল———-‘এটা না চুরি হয়ে গেছিল? তোর কাছে কি করে এলো?’

কুহু হাসে শুধু। কাব্য এবার পাশ থেকে একটা ব্লু শার্ট বের করে———‘ইয়া খোদা, আমার ফ্রেভরেট শার্ট! কত খুঁজলাম, তোর কাছে কি করে এটা?’

কাব্য একের পর এক জিনিস বের করছে। একটা কিউব বের করে বলল———-‘এটা? এটা তো নানু দিয়েছিল আমাকে। আমি অবসেসড ছিলাম এটাতে। এটা . .এটা এই লাগেজে কি করে!’

কাব্য একটার পর একটা দেখছে। কুহু পাশে বসে শুধু কাব্যের রিঅ্যাকশন দেখে যাচ্ছে— ওর বড্ড মজা লাগছে কাব্যকে এমন হতবম্ব হতে দেখে। কাব্য হঠাৎ একটা পারফিউম বোতল পেল———-‘ইয়া আল্লাহ! আমার পনেরো হাজার টাকার পারফিউম। এটা. . এটাও! আমার এসব এই লাগেজে কেন? তোর কাছেইবা এলো কি করে?’

কুহু পাশ থেকে এইবার উত্তর দিল————‘এসব চুরি করা হয়েছে। চোর হচ্ছেন. . মিসেস কাব্য।’

‘মিসেস. .. . মানে? এটা তুই? আমার এসব তুই চুরি করেছিস?’ ———কাব্যের হা হয়ে যায় একদমই এ যাত্রায়।

কুহু হাসতে হাসতে কাব্যের গায়ের উপর পরে গেল এইবার। কাব্য পরপর ওকে ধরে ফেলে, বেচারার হজম হচ্ছে না এসব।হা হয়ে কুহুকে দেখে যাচ্ছে শুধু।

কুহু এবার কাব্যের ডেনিম জ্যাকেটটা নিয়ে শাড়ির উপরেই নিজের গায়ে পড়ে নিলো। দাড়িয়ে থেকে হেঁটে হেঁটে কাব্যকে নড়েচড়ে দেখিয়ে বলল————-‘দেখুন তো. . আমার ক্রাশ বয়ের জ্যাকেটে আমাকে কেমন লাগছে? লুকিং নাইস না?’

কাব্য হা হয়ে এখনও কুহুকে দেখছে। কুহু জ্যাকেটটা টেনে নিজের নাকে ঘ্রাণ শুকলো: কাব্যকে দেখিয়ে অবেশিত কণ্ঠে বললি ——-‘স্মেল. . একদম পাগলকরা। আমার ক্রাশের চয়েজ আছে বলতে হবে, রাইট কাব্য?’

কাব্য ভ্রু কুচকে এইবার তাকালো ———‘ক্রাশ বয় মানে? আমিই তো তখন তোর. . !’

পরপর কাব্য থেমে গেল। কুহুর দিকে সন্দিহান চোখে চেয়ে পরপর উঠে আসে বিছানা থেকে———-‘তবে রে. . ঘরের মধ্যেই চোর হাঁটছিল আর আমি কিনা পুরা দুনিয়া খুঁজেছি। দাড়া তুই।’

কুহু দৌড়াচ্ছে পুরো রুমে। কাব্য ওকে ধরার জন্যে চেষ্টা চালাচ্ছে। একসময় কাব্য লাফিয়ে কুহুর শাড়ির আঁচল ধরে ফেলতেই কুহু থেমে গেল। আঁচল বুকের কাছে ধরে রেখে আলগোছে পেছন ফিরে কাব্যকে দেখল এক নজর।

কাব্য সম্মোহিত চোখে ধীরে-ধীরে আঁচলটা ধরে টানে: কুহু পেছায়। পিছিয়ে আসতে আসতে কুহু এগিয়ে আসে— কাব্যের বুকের সাথে ওর পিঠ লাগতেই কুহু কেপে উঠে চোখ বন্ধ করে।

কাব্য কুহুর গায়ের ডেনিম জ্যাকেটটা আস্তে করে ঘাড়ের দিকে সরিয়ে দিল, কুহু হাপড়ের মতো একটা বড় শ্বাস নিলো। কাব্য ওর ঘাড়ের উন্মুক্ত অংশে নাক ডুবিয়ে চুমু খেলো পরপর কয়েকটা। কুহু জোরে শ্বাস ফেলে কাব্যের হাত চেপে ধরে।

কাব্যের অবাধ্য হাত কুহুর পেটের উপর ঘুরঘুর করতে থাকে, কুহু তো জমেই আছে প্রায়— অস্থির ওর শ্বাস-প্রশ্বাস।

কাব্য ঘাড়ে মুখ-নাক ডুবিয়ে দিল; মিহি স্বর ওর———-‘তোর ক্রাশ বয়ের এই ডেনিম জ্যাকেটটার মতো আজ আমি তোর গায়ের আবরণ হব, কুহু। আজ আমি তোর আবরণ; আর তুই. .নিরা. .!’

বাকিটা কুহু আর শুনতে পারে না। আবেশে নাস্তানাবুদ কুহু সাথেসাথে কাব্যকে পেছন ফিরে জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ে মুখ ডুবায়। কাব্য নেশায় পড়ে গেছে একদম; কুহুর শরীরের পাগল করা স্মেল নাকে এসে ঠেকছে বারবার— সম্মোহিত হচ্ছে বেচারা।

কাব্য কুহুকে কোলে তুলে নিল সাথেসাথেই। বিছানার দিকে যেতে যেতে বলল—————‘একটা বাচ্চার আবদার করেছিলি না সেদিন? রেজাল্ট তো পেলাম না। আই গেস আমার পরিশ্রম ঠিকঠাক হচ্ছে না।’

কুহু লজ্জায় দুহাতে কাব্যের ঘাড় জড়িয়ে ধরে ওর বুকে মুখ লুকালো;কাব্য শুনতে পেল বিড়বিড়——‘অসভ্যের জাত, ছি!’

পাত্তা দিল না কাব্য, বরং মৃদু হেসে ওকে বিছানায় শুইয়ে দিতেই কুহুর হঠাৎ কেমন কেমন যেন একটা লাগতে শুরু করল। মনে হচ্ছে পেট থেকে সব খাবার বেরিয়ে আসতে চাইছে। সকাল থেকে এটা হচ্ছে কদিন ধরে, কাব্যকে বলা হয়নি এসবের কথা।

কাব্য ততক্ষণে কুহুর গলায় চুমুর ঝড় বইয়ে দিচ্ছে।কুহু একবার কাব্যকে থামতে বলতে চাইল। কিন্তু পরপর কাব্যের ঝড়ের গতিতে একের পর এক ছোয়া ওর মুখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

কাব্য ঠোঁটের দিকে আসতেই কুহুর আর না পেরে হঠাৎ চোখ-মুখ খিছে পেট চেপে ধরে চেঁচায়———-‘বমি. . বমি . বমি করব। স. .সরেন. .!’

‘কি?মানে. .ব!’ —- কাব্য মাথা তুলে ভ্রু কুচকে কিছু বোঝার আগেই কুহু ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দ্রুতগতিতে বাথরুমে ঢুকে গেল। হরহরিতে বমি করতেই কাব্য নিজেকে সামলে দ্রুত বাথরুমে এসে ওকে ধরল।

কুহু বমি করে প্রায় নেতিয়েই গেছে। ক্লান্ত হয়ে কাব্যের বুকের উপর পিঠে এলিয়ে দিতেই কাব্য চিন্তিত কণ্ঠে বলল——-‘আমার চুমুতে . . আই মিন বমি করলি কেন? সিক তুই? কবে থেকে এসব বমি হচ্ছে? আমাকে বললি না কেন?’

কুহু কোনরকম বলল———-‘আম. .আমাকে রুমে ন. .নিন প্লিজ।’

কাব্য কথাটা শোনামাত্রই কুহুকে পাজোকোলে তুলে রুমে নিয়ে ঢুকল। বিছানায় শুইয়ে ওর পাশে বসে চিন্তিত ভঙ্গিতে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল———‘কালকে ডক্টর আন্টিকে আসতে বলি। তোর লক্ষণ আমার সুবিধার লাগছে না।’

কুহু চুপচাপ কাব্যের হাতের উপর মাথা এলিয়ে শুয়ে থাকে। শরীর কাপছে বাবড়ার। কাব্য একসময় থামল, হঠাৎ কি মনে করে কচুমাচু কণ্ঠে কুহুকে ডাকল———-‘কুহু . .!’

কুহু জবাব দিল চোখ বুজে রেখেই———‘হু?’

কাব্য অপ্রস্তুত হয়ে বলল————‘তোর কি এই মান্থে. .আই মিন মান্থলি সাইকেল মিস গেছে?’

কুহু সাথেসাথে চোখ খুলে কাব্যের দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকালো। একের পর এক হিসাব মেলাল চোখে চোখ রেখেই। কুহু কিছু বললো না এরপর: স্রেফ কাব্যের বুকের সাথে মিশে গেল—- কাব্যের বুকে নাক ঘষতেই কাব্য অনুভব করে; কুহুর শরীর কাপছে থরথর করে। কাব্য আর ঘাটালো না; জবাব চাইলো না। শুধু দুহাতে শক্ত করে কুহুকে আকড়ে ধরে রাখল শক্ত করে—- কেন যেন কাব্যের নিজের চোখ-দুটোও টলমল করে উঠলো তখন। মনে মধ্যে বয়ে গেল অজানা অশান্ত-অস্থির কোনো উত্থাল ঝড়!

———————————-
সকাল সোমাল চমৎকার একটা খবর পাওয়া হলো. .

কুহু আবার মা হবে—- এত দারুণ খবরটা শুনে সিদ্দিক মহলের সবার চোখে আনন্দ ঝলমল করছিল রীতিমত। শামিমা তো সাথেসাথেই ছাগল সদকা মানলেন। কবিতা শুনেই এক হাজার টাকা তাৎক্ষণিক মসজিদে দিয়ে দিলেন। বাকিদের অবস্থাও একই. . সবাই যে যেভাবে পারছে কুহুর যত্ন আত্তির কথা ভাবছে।

আনোয়ার তো বলেই দিলেন—- আগামী কয়েক মাস কুহু এক তলা থেকে নামবেই না, উপরেও উঠবে না। কবিতা-সাদাতের দেখার হলে যেন ঘরে এসে দেখে যায়। আগেরবার যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটা যেন আরেকবার না হয়—- আনোয়ার বিশেষভাবে শামীমাকে সেটা দেখতে বললেন।

শামিমা নিজেও দিশেহারা, সাথেসাথেই পায়েস ছড়ালেন চুলায়। মিষ্টি মুখ করবে সবাই এখন . .ঘরের জিনিস দিয়ে করুক নাহয়। কুহুটাও নাহয় একটু খেলো . বাইরের জিনিস তো আর দেওয়া যাবে না এখন থেকে।

সবাই কুহুকে নিয়ে যখন মাতামাতি করছে.. . পাশ থেকে কায়া গম্ভীর মুখে বসে আছে ঘরের এক কোনাতে।

স্নিগ্ধ হয়তো সেটা দেখেছে. . ও আশপাশে সবাইকে দেখে একসময় চুপচাপ এগিয়ে এলো কায়ার কাছে। কায়ার গায়ে গুতো দিয়ে জানতে চাইল———‘কি ব্যাপার?এত খুশির দিনে কারোর মুখে এত অমাবস্যা কেন দেখা যাচ্ছে?’

কায়া স্নিগ্ধের দিকে তাকাল; ফুসে উঠে বলল————‘আমি বাচ্চা চাইলাম আমাকে দিলেন না। কুহুপুর বেবি হচ্ছে . . আমার কি মন চায়না বেবি নিতে?’

স্নিগ্ধ আশ্চর্য হলো। ঘরের সবাইকে একবার দেখে নিয়ে পরপর কায়াকে সবার অলক্ষ্যে টেনে নিয়ে গেল নিজের রুমে। দরজাটা আটকে কায়ার দিকে ফিরল; গম্ভীর স্বরে বলল———-‘তুই বেবি নিবি, হ্যাঁ? এই বয়স কত তোর? তুই নিজেই তো বাচ্চা।’

কায়া ফুসে উঠে————‘আমি আমি মোটেও বাচ্চা না। বয়স হয়েছে আমার। কতবার বললাম একটা বেবি নেই। আপনি এত ঘাড়ত্যাড়া কেন স্নিগ্ধ?’

স্নিগ্ধ চুপচাপ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। পরপর গম্ভীর স্বরে বললো———-‘বেবি নিব বলেছি তো। তোর অনার্সটা শেষ হোক; নিয়ে নেব তখন।’

‘কুহুপুর তো অনার্স শেষ হলো না। ও নিলো তো।’ —- কায়া এ কথা বলতেই স্নিগ্ধের ইচ্ছে হলো নিজেরই নিজের চুলটা ছিঁড়তে।

ও নিজেকে কোনরকমে শান্ত করে জবাব দিল————‘কারণ ভাই-ভাবির পরিস্থিতি আলাদা। আমার যতদূর ধারণা, একবার বেবি নষ্ট হওয়ায় ভাবির খুব ফোর্স করাতেই ভাইয়া এবার বেবিটা নিয়েছে। ওদের সিচুয়েশন একরকম, তোর আর-আমার তো এটা না। তাহলে তোর আবার কিসের মন ভাঙা? সময় হলে এমনি আসবে বেবি।’

স্নিগ্ধ কথাটা বলে শার্ট খুলার চেষ্টা করতেই কায়া সাথেসাথে চোখ-মুখ কুচকে বললো————-‘এই. . শার্ট খুলতেসো কেন এখন? বাইরে মানুষ আছে কিন্তু। নির্লজ্জতা এখন না।’

স্নিগ্ধ চুড়ান্ত হতাশ: শার্টের বোতাম থেকে হাত সরিয়ে কায়ার দিকে বাঁকা নজরে চেয়ে বলল———-‘ঘামছি তাই খুলতেসি। তুই হর্নি হইয়া যাইতেসস কেন? রাতে তো কাছে আসলেই চেচাস। তখন এসব ডার্টি মাইন্ড কই থাকে তোর? ফাজিল কোথাকার।’

কায়া লজ্জা পেয়ে গেল এবার। ইস. .আগে আগে এসব ভেবে নিয়েছে ,এতটা ডার্ক মাইন্ড ওর। ও কোনরকমে ‘সরি’ —-বলে স্নিগ্ধকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে—- পাশ থেকে স্নিগ্ধ হাত চেপে আটকে দিল ওকে। পরপর কায়া কিচি বোঝার আগেই, কায়াকে টেনে এনে দরজার সাথে মিশিয়ে নিয়ে দুহাতে ওকে আটকে দিল।

কায়া হঠাৎ করে এমনটা করায় সম্ভবত চমকে উঠেছে, কোনরকমে স্নিগ্ধের দিকে চেয়ে কিছু বলবে, তার আগে স্নিগ্ধ কায়ার হাতটা নিয়ে ওর শার্টের বোতামে রাখলো। লো ভয়েজে ফিসফিসালো————‘স্বামীর সামনে মাইন্ড ডার্টি হওয়াটা ভালো লক্ষণ। নাও আনবাটন মাই শার্ট; ডার্লিং।’

কায়ার বুক কাঁপছে; অস্বাভাবিক ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। ও বাধা দিল না কেন যেন। চুপচাপ মাথাটা নিচু করে স্নিগ্ধের শার্ট এর সবগুলো বোতাম খুলে দিতেই স্নিগ্ধ শার্ট ছুড়ে ফেলল ওপাশের মেঝেতে। কায়া স্নিগ্ধের ম্যানলি বডি শেইপ দেখে শুকনো ঢোক গিলে একটা। পরপর চোখ-দুটো টেনে সরিয়ে নিলো লজ্জায়।

স্নিগ্ধের সফ্ট কণ্ঠ শোনা যায়——-‘কায়া, জান!’

কায়া জবাব দিতে পারে না, স্রেফ শ্বাস ফেলে মাটির দিকে চোখ রেখে। স্নিগ্ধ কায়ার গালে হাতটা রাখলো আলতো করে। লো ভয়েজে শোনাল—————‘দিনের বেলাতেও হর্ণি হলে দোষ নেই আই গেইজ। বিবাহিতদের কিস করতে খুব সম্ভবত কেউ বাধা-টাধা দিবে না, কি বলিস?’

কায়া কেপে উঠে: কোনরকমে বলতে চাইল———‘এখন . না।’

বাকিটা বলতে আর পারল না: স্নিগ্ধ রীতিমত হামলে পড়ল কায়ার মিষ্টি অধরে। কায়া বেচারি আচমকা এমন হামলায় থরথরিয়ে কেপে দরজার সাথে মিশে যেতেই স্নিগ্ধ ওর কোমর টেনে ওকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো।

কায়ার সর্বাঙ্গ কাঁপছে, আবেশে বেচারি স্থান-কাল ভুলে স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরল দুহাতে। একসময় স্বামী স্নিগ্ধও ভুলে গেল আশপাশ।

সেদিন সূর্য আকাশেই ছিলো, অথচ দিনের বেলায় রাত নেমে এলো স্নিগ্ধের পুরুষ মনে।

ও কায়াকে ছেড়ে অশান্ত-অস্থির শ্বাস ফেলতে ফেলতে কায়াকে পাজোকোলে তুলে বিছানায় ছুড়ে ফেলল একপ্রকার। বাকিটাক্ষণ কায়ার গাই-গুই আর একদমই শুনল না এই পাষণ্ড স্বামী।

——————————-
দিন বাড়ি যায়, চড়ে পাখির ডানায়
যদি না হয় কথা, জমে নিরবতা
তুমি চোখে রাখো চোখ, চোখে চোখে কথা হোক
যেতে পথে আজ এইটুক বলি. . .

কায়ার নতুন কেনা সাউন্ড বক্স থেকে গুনগুন করে গানের গলা ভাসছে। সংসারে পা দেওয়ার পর কেটেছে কটা বছর!
কাব্য-কুহু বাচ্চার সবে চার বছরে পা দিয়েছে। হাটতে শিখেছে, তুরতুর করে পুরোটা বাড়ি হেটে বেড়ায় ওদের ছোট বাচ্চাটা।
নামও তার বেশ সুন্দর; কথা! কথা আবার ভীষন কথা বলতে পছন্দ করে, বাড়ির সবাইকে নাকানি-চুবানি খাওয়া রীতিমত কথা দিয়ে।
আর কাব্য-কুহু আদর করে ডাকে ওকে তুতুন!

নাদুস-নুদুস মেয়েটা আজকাল পুরোটা সিদ্দিক বাড়ির সবার প্রাণ! নানা-নানু থেকে শুরু করে কারোর আদর পাওয়া বাকি নেই ওর আর। তাই মাঝেমধ্যে কুহু বড্ড রাগ দেখায়— ওর মতে এই বাঁদর-বাচাল মেয়েটাকে আদর করে করে বাড়ির সবাই মাথায় উঠাচ্ছে। অথচ কুহুর এই রাগ কাব্য কেন, কেউই পাত্তা অব্দি দিচ্ছে না।

কুহু-কাব্য আজ ঘুরতে বেরুবে। কুহু সুন্দর একটা জামদানি শাড়ি পড়েছে, সফ্ট পিঙ্ক রঙের। আয়নার সামনে রেডি হচ্ছে, মেকআপ বলতে কাজল আর লিপস্টিক দিবে। কুহু আয়নার সামনে দাড়িয়ে সাজছে, পাশ থেকে কথা ওর ছোট-ছোট গোলগাল হাত দিয়ে লিপস্টিক টেনে এনে সেটার ক্যাপ খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কখন থেকে।

কুহু ভেবেছিল—বাচ্চা মেয়ে, ক্যাপ খুলতে-টুলতে পারবে না। তবে মেয়ে তো কাব্যের, দারুণ চালাক। ঠিক খুলে ফেলল একসময়। ঠোঁটে বিশ্রী করে লেপটে লাগানোর পর কুহুকে ডাকে————-‘ও আম্মু! দেখো, দেখো। আমি মেখআপ করেছি। দেখো না গো।’

কুহুর শাড়ির আঁচলে টান পড়তেই ও কাজল রেখে মেয়ের দিকে ফিরে তাকালো। মেয়ের ঠোঁটের অবস্থা তখন বারোটা। কুহু চুড়ান্ত বিরক্ত হয়ে টান দিয়ে ওর থেকে লিপস্টিক নিয়ে রেখে দিয়ে চোখ পাকালো————‘তুতুন, মা মানা করেছিলাম না, এসব ধরতে। কত ক্যামিকেল থাকে এসবে জানো? কেন ধরলে? আর এভাবে ঠোঁটে লাগিয়েছ; লেপটে গেছে না?’

কথা লেপটে গেছে শুনে বাচ্চা-বাচ্চা পায়ে উকি দিয়ে উঁচিয়ে আয়না দেখার চেষ্টা করে————‘ওমা. . লেপ্টে গেছে? আমাকে কি বাজে দেখাচ্ছে? ইস।’

কথা আয়নাতে নিজের মুখ দেখে ঠোঁট উল্টে ফেলল———-‘ইয়াক। মুছে দাও না আম্মু। বাজে দেখাচ্ছে; ভূত।’

কুহু মেয়ের ঠোট উলটানো দেখে হেসে উঠল শব্দ করে। মেয়েকে টেনে এনে ফট করে কোলে তুলে ঠোঁটের উপর মিষ্টি এক চুমু খেলো, আহ্লাদ দেখিয়ে বললো————-‘না আম্মু, আমার মেয়েটাকে আদর আদর দেখাচ্ছে, মোটেও বিশ্রী দেখাচ্ছে না আমার আম্মুটাকে। দাও, আম্মু টিস‍্যু দিয়ে মুছে দিচ্ছি।’

কুহু টিস‍্যু এনে সুন্দর করে ঠোঁটের আশপাশ মুছে দিল। পরে একটা লিপগ্লোস এনে কথা ঠোঁটে লাগিয়ে দিতে দিতে বলল———‘বাবা তোমাকে এতোগুলো লিপগ্লোস এনে দিয়েছে না, বলো? এগুলা না দিয়ে এসব দিবে কেন? আর এগুলা লিপস্টিক দিবে না। সাজতে চাইলে লিপগ্লোস দিবে; হু আম্মু?’

কথা মায়ের ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে শাড়ির আঁচল খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জবাব দিল——‘আচ্ছা।’

‘গুড গার্ল। এখন নামো; আম্মু মেকআপ শেষ করি?’ ——কুহু বলতেই কথা ভদ্র বাচ্চার মতো মায়ের কোল থেকে নেমে বিছানায় পা উঠিয়ে বসে, পা নাড়িয়ে নাড়িয়ে হেসে বললো————‘আমি দেখি আম্মু? একটু ডিসটার্ব করব না আমি।’

কুহু হাসল———-‘ওকে আম্মু। দেখো; ধরবে না কিছু ওকে?’

‘অক্কে মাদার বাংলাদেশ —— কথা থামভস আপ দেখিয়ে ফোকলা দাতে হাসলো। কুহু অবাক, বললো—————-‘এই ডাক কে শেখাল তোমাকে?’

‘বাবা। বাবা বলেছে তুমি মাদার বাংলাদেশ: আর বাবা মিস্টার বাংলাদেশ।’ ——- কথা বলে কুটকুট করে হেসে উঠে মুখে হাত চেপে ধরে, কুহুও হেসে ফেলল মেয়ের হাসি দেখে।

কাব্য ওয়াশরুমে; কুহু কাজল চোখে দিতে দিতে এবার কাব্যকে ডাকল———-‘এই. .শেষ হয়েছে তোমার? আর কতক্ষণ লাগবে?’

কাব্য জবাব দিল না। খানিক পর দরজা খোলার আওয়াজ পেলে কুহু কাজলে পুরো মনোযোগ রেখেই ইশারায় কথাকে দেখিয়ে বলল————‘মেয়েটাকে একটু দেখো তো। ওর দুধটা গরম করা আছে: কষ্ট করে খাইয়ে দাও প্লিজ।’

বলা-বাহুল্য, কুহুর ‘আপনি’ ডাক অনেক আগেই ‘তুমিতে’ নেমে এসেছে। তার কারণ, মেয়ে হওয়ার পরে কুহুর মধ্যে পুরো আগাগোড়া গিন্নি ভাব এসেছে। রোজ বাসায় শাড়ি পড়ে; মেয়েকে নিয়ে মেতে থাকে; রান্নাও করে, নিয়ম করে স্বামীকে সময় দিচ্ছে—- বলতে গেলে এইবার পুরোদস্তুর গৃহিণী হয়েছে ছয় বছর আগের সেই বোকা, ইম্মাচিউর কুহেলিকা সিদ্দিক কুহু।

ওদিকে কুহুর প্রশ্নে কাব্য একটাও উত্তর দিল না, বরং কুহুর সামনে দেয়ালে হেলান দিয়ে ডাকল————-‘ম্যাডামের সাজা শেষ হলে, দেখ তো আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?’

কথা এতক্ষণ হা করে বাবাকে দেখছিল, তারর তো বিছানা থেকে একলাফে কাব্যের কাছে দৌড়ে এগিয়ে এলো। কাব্যের পায়ের কাছে দাড়িয়ে মাথা উঁচিয়ে কাব্যের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।আশ্চর্য হয়ে চোখ ঝাপটে ঝাপটে বলল————-‘বাবা, তুমি মায়ের ফোনের ওই ছবির মতো সেজেছো কেন?’

কাব্য মেয়েটাকে কোলে তুলে নিলো, কুহু কথার, কথা শুনে কেন যেন কাজলটা রেখে কাব্যের দিকে ফিরে তাকালো অন্যমনস্ক হয়ে। সাথেসাথেই কুহু একদম স্থির হয়ে হা করে কাব্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। কাব্যকে পা থেকে মাথা অব্দি দেখে ভ্রু বাঁকায় সাথেসাথেই।

কাব্য কুহুর এমন হতবম্ব চেহারা দেখে বাকা হাসে, মেয়েকে কোলে নিয়ে ভ্রু উঁচিয়ে চোখ টিপলেই, কুহু অবাক হয়ে বললো—————-‘এটা. . ডেনিম জ্যাকেট. . তোমাকে . . হঠাৎ এই ড্রেসআপ কেন?’

কাব্য মেয়েকে কোলে রেখেই এগুলো। কুহুর সামনে দাড়িয়ে মেয়েকে ড্রেসিং টেবিলের উপর বসিয়ে দিল। কুহু তখনও কাব্যের দিকেই তাকিয়ে আছে।

কাব্য মডেলদের মতো ডেনিম জ্যাকেটটা টেনে টেনে কুহুকে দেখিয়ে বলল———-‘চমকেছিস? এটা তোর চুরি করা সেই ডেনিম জ্যাকেট বাই দ্য ওয়ে।’

কুহু তখনও আহাম্মক। পাশ থেকে কথা আবারও আশ্চর্য কণ্ঠে বললো————‘ আম্মু. . বাবার এমন একটা ছবি তোমার মোবাইলে আছে না? বলো না আম্মু। দেখো বাবা আজ দাড়িও ছবির মতো করেছে। বাবাকে দেখতে বা আজ ছোট বাবা লাগছে দেখতে।’

তিতলি কুটকুট করে হেসে উঠে। কুহু লজ্জা পেয়ে গেল এইবার: মিনমিন করে কাব্যকে বলল————-‘পাগল একটা।বুড়ো বয়সে ভীমরতি। এই ড্রেসআপে আমাকে এখন পাগল করার কি ছিলো?’

কাব্য ভ্রু উচালো, মেয়ের অগোচরে কুহুর কোমরের পাশটায় চিমটি কাটতেই কুহু ফুসে উঠে ওর দিকে তাকাল। কাব্য ওই চোখ পাকানো-কে দু আনার পাত্তা না দিয়ে বরং ফিসফিস করে বললো—————-‘ভাবলাম মেয়ে হবার পর হয়তো তোর আকর্ষণ কমেছে, আজকাল তো টাইম-ফাইম দিস না আমাকে। তাই . . একটু মাথা ঘুরালাম ম্যাডামের।’

কাব্য কথাটা বলে কুহুর কানের কাছে এসে ফিসফিস করে————‘এবং আমি অত্যন্ত আশা রাখছি; আজকে রাতে মেয়েটাকে আম্মুর ঘরে রেখে আসা হবে।’

কুহু লজ্জায় মাথা নামিয়ে হেসে উঠে নিঃশব্দে, কাব্য পরপর বলল————-‘আপনার হাজবেন্ড তার স্ত্রীর সাথে একটা কোয়ালিটি টাইম কাটানোর জন্যে ক্র্যাব করছে রীতিমত। সো যদি একটু মেহেরবানি করতেন।’

কাব্য কথাটা বলে এগুতেই: কুহু ওকে এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। কাব্য সরে গিয়ে হেসে উঠে মেয়েকে নিজের দিকে টেনে এনে কোলে তুলে নিলো। কথা কাব্যের ডেনিম জ্যাকেটটা নেড়েচেরে দেখছে শুধু। কুহুকে একসময় কথা চমকে উঠে বলল———‘আম্মু . .তুমি কিন্তু আমার বাবাকে কমপ্লিমেন্ট করো নি। কেন করো নি? আমাকে তো সুন্দর জামা পড়লে নাইস বলো, আদুরে লাগছে বলো। আজ বাবাকে এত হ্যান্ডসাম লাগছে কমপ্লিমেন্ট দাওনি কেন? ভেরি ব্যাড আম্মু।’

কুহু হা হয়ে মেয়ের পাকনামি শুনে। কাব্য মেয়ের কথাই লাই দিয়ে বলল———-‘ইয়াহ, দেখেছিস আমার মেয়েই একমাত্র বাপের দুঃখ বুঝে। বাকিরা তো বুড়ো বলে দিলে চোট দেয় আজকাল।’

কুহু চোখ পাকালো———-‘মেয়ে পাশে আছে না? শুধু বেফাঁস কথা।’

কাব্য ভ্রু কুচকে তাকাল; পাশ থেকে কথা আবার বলল———-‘আম্মু বলো না, বলো না গো, ও আম্মু।’

কুহু মেয়ের এমন নাছোড়বান্দা আবদারে ছোট করে শ্বাস ফেললো। কাব্য মুখ লুকিয়ে হাসছে মেয়ের অগোচরে। নিজেও মেয়ের মতো আবদার করে সফ্ট কণ্ঠে বলল———-‘বলেন না তুতুনের আম্মু।’

কুহু হেসে ফেললো। পরপর কি যেন হলো—- ও ধীরে কাব্যের দিকে এগুলো।

কাব্য কেন যেন শ্বাসটা আটকে আসে। ও অপলক স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কুহু এবার মেয়েকে একহাতে ধরে মেয়ের গা-লে চুমু খেলো আস্তে করে; চুমুটা কাব্যের দিকে চেয়েই খেলো— কেন যেন কাব্যের মনে হলো কুহু চুমুটা যেন কাব্যের গালেই দিচ্ছে। কুহু পরপর মেয়ের গালে চুমু খাওয়া অবস্থায় নিষ্পলক কাব্যের দিকে ওভাবেই চেয়ে থেকে আস্তে করে বললো,

প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস–
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ

~ সমাপ্ত ~

শেষ? সত্যি শেষ? ওহ, আসলেই শেষ।
আপনারা প্লিজ অন্তত আজকে মন থেকে মন্তব্য করবেন। কমেন্ট সেকশন যেন আজ ঝড় উঠে যায়। আমি আজ, লিট্রেলি, সবার কমেন্টের রিপ্লাই দিব। আজ ইচ্ছেমতো কমেন্ট সেকশনে গল্প করব আপনাদের সাথে। এতটা সময় এতটা ধৈর্য নিয়ে পাশে ছিলেন আপনারা, গল্প-গুজব করাই যায় আপনাদের সাথে, রাইট?

যাই হোক— দীর্ঘ একটা বছর সম্ভবত; এই গল্পটা চলেছিল। আমি এই এক গোলো প্রচুর এক্সপেরিয়েন্স গেইন করেছি, অনেককিছু শিখেছি; অনেক অনেক পাঠক অর্জন করেছি— যারা এতটা ভালো মানসিকতার; সবসময় আমার ভুলটা নমনীয় ভাবে আমাকে ধরিয়ে দিয়েছেন। আপনাদেরকে আমার ভালোবাসা বললেই কম হয় মনে হবে। আই জাস্ট লাভ ইউ গাইজ জাস্ট লাভ ইউ।

আজ বলছি, অবন্তিকা তৃপ্তি আপনারা ছাড়া সে কিচ্ছু না, নাথিং! ইউ গাইজ ইজ দ্য বেস্ট ফর হার।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply