Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটেনি পর্ব ৯


ডেসটেনি [ ৯ ]

সুহাসিনি_মিমি

“হোটেল নুরজাহান গ্রান্ড”

রুমের মধ্যেই অস্থির হয়ে পায়চারি করছে প্রিয়ন্তী। হাতে ধরা ওর ফোন। একটু আগেই বান্ধবীর সঙ্গে মেসেজ আদান প্রদানে জানিয়েছে ওর বান্ধবী ওকে ভিডিও কল করবে। একটু অপেক্ষা করতে। এই মেয়েটা ওর কমফোর্ট জোন বলা চলে। কোনো কিছু হলে এর সঙ্গে বিষয়টা শেয়ার না করা পর্যন্ত গলা দিয়ে খাবার নামেনা ওর। মাথার ভেতর শুধু একটাই নাম ঘুরপাক খাচ্ছে প্রিয়ন্তীর। তাজধীর! লোকটার হুটহাট করে এরকম বলা কথাবার্তায় নিজেই আশ্চর্য হয়ে পরে মাঝেমধ্যে। আসলে লোকটা আদৌ চায় কি?

ওর এসব ভাবনার মাঝেই ফোনটা কেঁপে উঠল ভাইব্রেট হয়ে। ভিডিও কল এসেছে। সঙ্গে সঙ্গেই রিসিভ করে সামনে তুলে ধরলো ফোনটা। মুখের উপর ফেইসমার্ক বসিয়ে শসা কামড়াচ্ছে শ্রেয়া। অমনি চাবানো থামিয়ে আচমকাই ওকে কটাক্ষ করে বলে উঠল,

“হ্যালোওও, তো মিস প্রিয়ন্তী! কি খবর আপনার? হঠাৎ এত জরুরি তলব?”

প্রিয়ন্তী মুখ বাঁকালো। ঢের বুঝল মেয়েটা ওর সঙ্গে মজা নিতে সুযোগ হাতছাড়া করছে না। ধমকে উঠে বলল তাই,

“চুপ কর তো।”

শ্রেয়া চোখ মুখ কুঁচকে একটা অট্টহাসি দিয়ে বলল,

“ওমা কেন? আমার মুখ থেকে শুনলে বুঝি ভালো লাগেনা? তা কোথায় তোর কমান্ডার সাহেব?”

প্রিয়ন্তী ভান করল স্বাভাবিক থাকার।বলল ওভাবেই,

“সেটা আমি কিভাবে বলবো? ওনি কি আমার সঙ্গে আমার রুমে থাকে নাকি? আজিব! “

শ্রেয়া নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,

“থাকতেই পারে!”

“শ্রেয়া!”

“না মানে এখন থাকেনা। তবে দুইদিন পরতো থাকতেই পারে তাইনা?”

প্রিয়ন্তীর গাল দুটো কেমন যেন ফুলে ফেঁপে উঠল। লাল হলো লজ্জায়। লাজুক আভা ছড়িয়ে পড়লো মুখটায়,

“ইশ কি লজ্জায় না পাচ্ছে মেয়েটা!”

“একদম মিথ্যা বলবি না!”

“মিথ্যা আমি না তুই বলছিস। এখন কি হয়েছে সেটা বল!”

প্রিয়ন্তী চমকে উঠল। আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকাল। সত্যিই কি ও লজ্জা পাচ্ছে তাহলে? শ্রেয়া মুচকি হেসে আবারও বলল,

“কিরে বল, কী হয়েছে?”

প্রিয়ন্তী একটু থামল। তারপর বিছানায় বসল গিয়ে।বলল,

“আজকে একটা অদ্ভুত ব্যাপার ঘটেছে!”

“বল।”

প্রিয়ন্তী পুরো ঘটনা খুলে বলল। ফোন পরে যাওয়া থেকে শুরু করে তাজধীরের ফোন কিনে দেয়া, রেস্টুরেন্ট, এসপি, ‘ভাবি’ শব্দটা পরে বাইরে দাঁড়িয়ে তাজধীরের ফিসফিস কথাবলা টুকু। সবটুকু বলেই থেমেছে ও। শ্রেয়াও মন দিয়ে শুনছিল সবটা। তারপর হঠাৎ বলল,

“তুই লোকটাকে পছন্দ করিস?”

প্রশ্নটা যেন সরাসরি এসে ধাক্কা মারল মেয়েটার নাজুক অন্তকরণে,

“না!”

খুব দ্রুত বলে থামল প্রিয়ন্তী।

“এত তাড়াতাড়ি উত্তর দিলি কেন?”

“কারণ… না মানে না।”

শ্রেয়া ঠোঁট কামড়াল।বলল,

“তুই না করছিস উপরে উপরে। কিন্তু তোর চোখ তো বলছে অন্য কথা।”

“আমি এখনো শিওর না উনি আমাকে পছন্দ করেন কিনা, শ্রেয়া । আর উনার মতো এমন একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ… আমাকে কেন পছন্দ করতে যাবে?”

শ্রেয়া হেসে উঠল। বলল,

“ও মাই গড! তুই সিরিয়াসলি এটা ভাবছিস?”

“ভাববো না? উনি কত বড় একজন অফিসার দেখেছিস? কতশত মেয়ে লাইন ধরে পড়ে আছে কে জানে!”

“শোন গাধী! ওনি যদি তোকে পছন্দ না করতো, তাহলে এভাবে রিঅ্যাক্ট করতো? তোর দিকে এভাবে খেয়াল রাখতো? ওইভাবে বারবার নিজের মনে করে কথা বলতো?”

প্রিয়ন্তী চুপ করে শুনলো শুধু।শ্রেয়া আবার বলল,

“আর ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ফোন কিনে দিয়েছে তোকে—এটা কি এমনি এমনি?”

“ওটা হয়তো রিমোর্স থেকে করেছে!”

“হ্যাঁ হ্যাঁ,খুউব রিমোর্স ফিল করেছে সে ! ভাগ্গিস আমাদের এরকম রিমোর্স ফিল করা একটা কমান্ডার সাহেব থাকতো।ইশ কপাল কপাল।সবই কপাল বুঝেছিস!”

“কিন্ত আমি যে ওনার সঙ্গে খুব বাজে ব্যবহার করে ফেলেছি সেদিন। রুফটপে। হয়তো তাই উনি দূরে থাকছেন।”

শ্রেয়া এবার গম্ভীর হলো। বদলালো ওর মুখোভঙ্গি,

“দেখ বইন পুরুষ মানুষগুলো এমনই। সহজে কিন্ত ওরা হার্ট হয়না। তবে একবার যদি ব্যাটাগো ইগো তে গিয়ে কোনো কথা লাগে। তাহলে ধরে নে সবশেষ!

প্রিয়ন্তী উৎসুক হয়ে জানতে চাইলো,

“তো এখন কী করবো?”

“ম্যানেজ করতে হয় ম্যাডাম।শোন,কালকে বের হবি সুন্দর করে রেডি হয়ে। একদম পরিপাটি হয়ে। চোখে চোখ রেখে কথা বলবি। এখন এসবও তোকে আমার শিখিয়ে দিতে হবে?”

প্রিয়ন্তী ধীরে বলল,

“আমি ভয় পাই।”

“কিসের?”

“যদি আমি বেশি ভাবি। আর উনি কিছুই না ভাবেন?”

শ্রেয়া নরম গলায় বলল,

“ঝুঁকি না নিলে ভালোবাসা হয়না, ভালোথাকাও হয়না। আর শোন—যে পুরুষ কথায় কথায় তোকে নিজের ‘আমার বাচ্চা মা” বলে দাবি করে সে কিছু না কিছু ভাবেই।”

প্রিয়ন্তী বিছানায় শুয়ে পড়ল। ফোনটা মুখের ওপর ধরে রেখেছে। বলল,

“আমি কি সত্যিই উনাকে পছন্দ করি?”

“পছন্দ নয় গাধী, ভালোবেসে ফেলেছিস।শুধু স্বীকার করছিস না এই যা!”

নীরবতা নেমে এলো কয়েক সেকেন্ড। প্রিয়ন্তীর মনে ভেসে উঠল তাজধীরের চোখ। তার গম্ভীর মুখ। লোকটার কথা বলার ধরণ, স্টাইল, চালচলন। সবই কেমন যেন ঘোর লাগানো । আর সবথেকে বেশি ঘোর লাগানো নাকের উপরে থাকা সেই কাঁ টা দাগটা। এরপর ওদের মধ্যে আরও টুকটাক কিছু কথাবার্তা চলল। কথা শেষে ফোন রেখে উঠে দাঁড়ালো প্রিয়ন্তী। গিয়ে দাঁড়ালো বেলকনি তে। ওর পিছনের বেলকনিটা তাজধীরের মনে মনে ভাবল হয়তো এক পলক দেখতে পাবে। তবে হতাশ হলো যখন দেখল বেলকনির দরজা বন্ধ। একটু ঝুকে উঁকি ঝুকি মারল প্রিয়ন্তী। রুমের লাইটটাও অফ করা দেখতে পেয়ে উদাস চিত্তে ঘরের ভিতরে হাঁটা ধরল পুনরায়। আজ রাতটায় আর সহজে ঘুম আসবে না ওর। কারণ ওর হৃদয়ে এই প্রথমবারের মতো একটা নাম স্থায়ী ঠিকানা বানাতে শুরু করেছে যে!


জাফলং যাওয়ার উদ্দেশ্যে আজ ভোরবেলাই ঘুম থেকে উঠেছে সকলে। প্রিয়ন্তীর গভীর ঘুম ভাঙার নয়। তাই পাভেল আগেভাগেই এসে উঠিয়ে দিয়ে গেছে বোনকে। ঘুমু ঘুমু চোখে ঢুলু মুলু পায়ে কোনোরকম ফ্রেশ হয়ে সী ব্লু কালারের একটি পাকিস্তানি সিম্পল কাজের লং থ্রি-পিস জড়িয়েছে গায়ে। সঙ্গে ম্যাচিং করা জুতো আর ঝুমকো ও পড়েছে। ঝুমকোর প্রতি প্রিয়ন্তীর আলাদা একটা দুর্বলতা আছে বলা চলে। ড্রেসের সঙ্গে আগেভাগে ম্যাচিং করে ঝুমকো কিনতে ভুলেনা ও কখনোই । চুলগুলো ব্যান্ড দিয়ে পিছনে টেনে বেঁধেছে। এই সকাল বেলা ওর চুল ছেড়ে রাখতে মন চাচ্ছেনা মোটেও। রেডি হওয়া শেষে ওরা সবাই রেস্টুরেন্টের এসে বাইরে দাঁড়াল। হাসিব নিজের গাড়ি নিয়ে এসে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে সেখানে। প্রিয়ন্তী, মিতালী আর পাভেলকে দেখে সে জিজ্ঞেস করল,

“তাজধীর নামেনি?”

উত্তর করল মিতালী,

“ভাইয়া আসছে।”

প্রিয়ন্তী কে বেধ করে পিছনে তাকালো হাসিব। দেখতে পেলো তাজধীর কে। ওদিকে দৃষ্টি রেখেই বলল,

“ঐযে এসে পড়েছে আমাদের কমান্ডার সাহেব!”

হাসিবের কথার সূত্রে পিছন ঘুরে তাকালো প্রিয়ন্তী। একেবারে চুম্বকের মতো আকৃষ্ট হল যেন মেয়েটা এইবার। হৃৎপিন্ড-টাও লাফাতে লাগলো প্রবল বেগে। হোয়াইট জিন্সের সঙ্গে স্কাই-কালারের মধ্যে সাদা সাদা দাগ কাঁ টা শার্টটায় লোকটাকে মারাত্মক লাগছে দেখতে। হাতের কালো ঘড়িটা ঝলমল করছে একদম। শার্টের হাতা দুটো ফোল্ড করে কনুই পর্যন্ত উঠিয়ে রেখেছে। বুকের কাছের দুটো বোতাম খোলা। চুলগুলো জেল দিয়ে পেছনে সুন্দরভাবে সেট করেছে।

প্রিয়ন্তী অপলক তাকিয়েই রইলো সেদিকে। আশেপাশে লোকটা ছাড়া বাকি সবকিছুই যেন ঝাঁপসা, আবছা। এদিকে পাভেল আর মিতালী গাড়ির ভিতরে উঠে বসেছে। তাজধীর এসে প্রিয়ন্তী কে পেরিয়েই গিয়ে বসল ড্রাইভিং সিটে। লোকটা প্রিয়ন্তীকে পাশ কাটিয়ে যেতেই আচমকা একটা সফ্ট টোনের মিষ্টি ঘ্রান এসে ভারি খেল ওর নাকে। চোখ বুঝে শ্বাস টেনে সেই ঘ্রান নিলো প্রিয়ন্তী। এইরকম সফ্ট ঘ্রান এর আগে কখনোই পায়নি প্রিয়ন্তী। কেমন ঠান্ডা ঠান্ডা একটা অনুভূতি হচ্ছে যেন। গাড়িতে বসা মিতালী বারকয়েক ডেকেছে প্রিয়ন্তীকে।তবুও মেয়েটার নড়চড় না দেখে পিছন থেকে প্রিয়ন্তীর ওড়না টেনে ধরল সে,

“এই প্রিয়, উঠছো না কেন? যাবেনা?”

আকাশ থেকে নিচে পড়ার মত করে চমকে উঠলো প্রিয়ন্তী,

“হ্যাঁ হ্যাঁ, কী হয়েছে?”

মিতালী কপাল চাপড়ে বলল,

“গাড়িতে বসবে না? “

প্রিয়ন্তী লজ্জা পেল। ইতস্ততায় তড়িঘড়ি গিয়ে বসল গাড়িতে। তাজধীরের পাশে বসেছে হাসিব। পিছনে একপাশে পাভেল আর প্রিয়ন্তী বসেছে। মাঝখানে বসেছে মিতালী।

সকালের ফাঁকা রাস্তায় দিব্যি আরামসে গাড়ি চালাচ্ছে তাজধীর। পিছনে বসা প্রিয়ন্তীর চোখ দুটো বারবার ঘুরেফিরে গিয়ে আটকাচ্ছে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা ব্যক্তিতে।বুকের ভিতরে অদ্ভুত এক উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে। ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা তাজধীরের কাঁধের একাংশ দেখা যাচ্ছে তাতে। আচ্ছা লোকটার শোল্ডার আর বুকের ভঙ্গি এতটা ম্যানলি, এতটা আকর্ষণীয় হতে হবে কেন? কেন লোকটার সবকিছুই এমন নিখুঁত? একটু খুঁত থাকলে কি এমন হতো? নাকি ওর চোখেই লোকটাকে এতটা নিখুঁত লাগে?

প্রিয়ন্তী চোখ সরিয়ে নিতেই হঠাৎ ফ্রন্ট মীররে চোখ আটকালো ওর। তাজধীর ঠিক ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। চোখাচোখে হতেই প্রিয়ন্তী অস্বস্তিতে চোখ নামাল দ্রুত।


চলন্ত গাড়ির ফাঁকেই হঠাৎ হাসিব ইশারায় গাড়ি থামাতে বলল।

” সামনে একটা চায়ের দোকান আছে। এখানে সিলেটের সবথেকে বেস্ট এন্ড ফ্রেশ চা – টা পাওয়া।এখানের এক কাপ চা খেলে শরীর, মন দুটোয় একদম ফুরফুরে হয়ে যাবে দেখিস!”

হাসিবের কথামতোই প্রিয়ন্তী মিতালী আর পাভেল নামল গাড়ি হতে। ছোট্ট একটি টিনের দোকান।দুই পাশে দুটো বেঞ্চ পাতা। ভিতরে বসে বয়স্ক লোকেরা চা খাচ্ছে, আর নিত্যদিনের আড্ডা দিচ্ছে। তাজধীর গাড়ি সাইড করে সবার শেষে নামল। ওই সময় হাসিবের ফোনটা ভাইব্রেট শব্দে কেঁপে উঠলে ফোন বের করতেই দেখতে পেলো হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল এসেছে। এই নিয়ে চার পাঁচ বারেরও বেশি কল এসেছে পড়েছে। বিরক্ত হয়ে এইবার রিসিভ করল সেটা হাসিব। তাজধীরের উদ্দেশ্য বলল,

“দেখ ভাই! তোকে বলেছিলাম না? দেখছিস আবার শুরু হয়ে গেছে। একটু কথা বলতো। না হলে আমাকে আজকে সারাদিন পাগল করে ফেলবে এরা!”

ফোন রিসিভ করেই সরাসরি তাজধীর কেন ধরিয়ে দিলো হাসিব। অপর পাশ থেকে ফোন ধরল এক অর্থবয়সী ভদ্রমহিলা। সৌজন্যেতায় সালাম জানাল তাজধীর,

“আস্সালামুআলাইকুম আন্টি, কেমন আছেন?”

“ওয়ালাইকুম আস্সালাম। এইতো বাবা আছি আলহামদুলিল্লাহ। তা তুমি কেমন আছো ? আর তুমি নাকি সেই পরশু এসেছ, এখনো আমাদের বাড়িতে এলে না কেন? তোমার সঙ্গে আমি রাগ করেছি কিন্ত!”

তাজধীর হেসে বলল,

“এইতো, আন্টি, হুট করে চলে আসলাম।”

ভদ্রমহিলা অল্প ঝুঁকে এগিয়ে বলল,

“শোনলাম তোমার বোনকেও নিয়ে এসেছ। সবাইকে নিয়ে হোটেলে কেন উঠলে? আমরা কি তোমার পর?”

“আমাদের জন্য শুধু শুধু আপনারা কেন কষ্ট করতে যাবেন আন্টি? এখানে আমরা ঠিক আছি।”

ভদ্রমহিলা ক্ষীণ হাসি হেসে বলল,

“বুঝেছি তুমি আমাদের মোটেও আপন মানুষ মনে করো না। যদি আপন মনে করতে তাহলে অবশ্যই আমাদের বাসায় এসে উঠতে। নাতো হোটেলে!”

“ভুল হয়ে গেছে আন্টি মাফ করে দিন।”

“আগে বলো আজকে তোমরা আমাদের বাড়িতে আসবে? সবাইকে নিয়ে একেবারে এখনই চলে আসবে।”

“আজ তো সম্ভব না আন্টি। আজকে আমরা সবাই মিলে একটু জাফলং যাচ্ছি।”

“তাহলে রাতেই চলে আসো?”

“আন্টি কাল আসি?”

“আচ্ছা মনে থেকে থাকে যেন? কাল সকাল সকাল উঠে কিন্তু চলে আসবে। সকালে নাস্তা এখানে এসে করবে কেমন? মনে থাকবে তো?”

“জি জি মনে থাকবে। তো আমার ইয়ং বউটা কোথায়? তাকে তো দেখতে পাচ্ছিনা। কোথায় সে?”

“আর বলো না, এইতো পাশেই বসে আছে। সেই তখন থেকে বলে যাচ্ছে তোমার সঙ্গে কথা বলবে বলে!”

“দিন দিন আমার মিসেসকে। আমি এতদিন খুব বেশি মিস করেছি তাকে!”

এতক্ষণ আস্তে ধীরে চা খাচ্ছিল প্রিয়ন্তী। দৃষ্টি সরাসরি এখানটায় না থাকলেও মনোযোগ দিয়েই শুনছিলো প্রত্যেকটা কথোপকথন। তবে যেইনা লোকটা নিজের বউ বলে কাউকে সম্বোধন করে ডাকলো অমনি গরম চা টুকো কখন যে এক টানে মুখে নিয়ে জিভহা পুড়িয়ে ফেলেছে নিজেও জানেনা। ফট করে চা টুকু ফেলে হাপুত্তাস করছে ও। পিছন থেকে মিতালী এগিয়ে এলো দ্রুত। কাঁধে হাত চেপে আসস্থ করল,

” প্রিয় আস্তে খাবে তো । বেশি পুড়েছে?”

পাভেল তড়িঘড়ি একটা ঠান্ডা পানির বোতল এনে এগিয়ে দিলো বোনকে। তাজধীরের দিকে তাকিয়েই দুই ঢুক পানি খেল প্রিয়ন্তী। তখনই সত্তুরের ঘরে থাকা এক পৌরার বয়স্ক চেহারাটা ভেসে উঠল ফোনের স্ক্রিনে।

” কই, কই দাও দাও আমার হাজব্যান্ডকে দেখি!”

বলেই ফোনের স্ক্রিনে এসে হাজির হলেন তিনি। বললেন তাজধীর কে উদ্দেশ্য করে,

“ইস” আমার হ্যান্ডসাম টা দেখি দিন দিন আরো বেশি ইয়াং হচ্ছে। তোমার এই হ্যান্ডসাম হওয়ার পেছনের আসল রহস্যটা কিন্তু এইবার এসে আমাকে জানিয়ে যাবে।”

ততাজধীর হেসে উঠল আলতো করে।

“আর আমার ওয়াইফটাও কিন্তু আগের থেকে আরো বেশি সুইট হয়ে যাচ্ছে। তোমার রূপের রহস্য কি বুড়ি হ্যাঁ?”

“হয়েছে আর পাম দিতে হবে না!”

“পাম না সত্যিই। দাদাজান না থাকলে কিন্তু তোমাকে আমি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসতাম।”

“তোমার দাদা জান এমনি ও তোমাকে আটকাতে পারবেনা। তুমি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেলে আমি কিন্তু এক পায়ে রাজি আছি হ্যান্ডসাম!”

অমনি হাসিব এসে যোগ করল,

” এই বুড়ি! বুড়া বয়সেও তোমার কয়টা লাগে হ্যাঁ? আজ সকালেও তো তুমি আমাকে বললে আমাকে ছাড়া নাকি তোমার মনে আর কেউ নেই? যেইনা এখন আমার হ্যান্ডসাম বন্ধুকে দেখেছো ওমনি ডিসিশন পাল্টে গেল?লুচু বুড়ি কোথাকার!”

ওপাশ থেকে বৃদ্ধ মহিলা তখন হেসে বললেন,

“তোমার দাদার মতো তুমিও সেকেন্ড হ্যান্ড হয়ে গেছো। এখন তো আমার এই হ্যান্ডসাম কমান্ডারকেই চাই!”

এরপর আবার বললেন,

“কাল আসবে তো হ্যান্ডসাম?”

“যদি আমার বউ চায়?”

“আলববাত চাই। এইবার আসলে সত্যি সত্যি আমাদের এখান থেকে একটা বউ জুটিয়ে দিবো বলে দিলাম!”

“তুমি থাকতে আরেকটা দিয়ে কি করবো? তুমিই এনাফ আমার জন্য। তোমার ওই বুড়া বরটাকে রেখে আমার কাছে চলে আসো তো। তোমাকে নিয়ে সমুদ্রে সমুদ্রে ট্যুর দিবো আমি!”

“না বাপু! তোমার ওই জাহাজ দেখলেই আমার ভয় লাগে। আমাকে দিয়ে ওসব হবেনা।”

**

গাড়িতে অল্প স্বল্প কথাবার্তা চলল এরপর। কথার সূত্র হলো সবার ড্রিম প্লেইস নিয়ে। প্রথমে হাসিব এরপর পাভেল থেকে জানার পর আগ্রহ নিয়ে একপর্যায়ে পাভেল জানতে চাইলো তাজধীরের পছন্দের জায়গায় সম্পর্কে। তবে প্রথমবার চুপ থাকতে দেখে পরবর্তীতে পুনরায় প্রশ্নঃ করে উঠল পাভেল,

“আচ্ছা তাজধীর ভাই, আপনার ড্রিম প্লেইস কোনটা? বললেন না তো?”

গাড়ির স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে সামনে তাকিয়ে আছে তাজধীর। পাশে বসা হাসিব একবার বন্ধুর মুখপানে তাকাল। অভ্যাসমতো নিশ্চুপ, নিয়ন্ত্রিত চোখদুটো সোজা রাস্তায় নিবদ্ধ। হাসিব বেশ উৎসুক হলো এবার। ঘাড় উল্টে তাকাতেই দেখতে পেলো পিছন থেকে তিন জোড়া চোখ একসঙ্গে ঝুঁকে আছে উত্তরের অপেক্ষায়। হাসিব কপাল টানটান করে বলল,

“ওর ড্রিম প্লেইস শুনলে তোমাদের মাথা ঘুরে যাবে, পাভেল। ব্যাটা নিজে যেমন অদ্ভুত, ওর ড্রিম প্লেইসও ঠিক তেমনই অদ্ভুত।”

“বুঝলাম না ভাই!”

পাভেলের সরল গলায় স্বীকারোক্তি। হাসিব এবার সিটে আধা ঘুরে বসল। গলাটা একটু নামিয়ে বলল,

“ওর ড্রিম প্লেইস হচ্ছে একটা লাইটহাউস! সেখানে স্টে করা। বলতে পারো একেবারে সেটেল হয়ে যাওয়ারও প্ল্যান আছে ওর।”

“লাইটহাউস?”

আপনাপানি বেরিয়ে এলো পাভেলের মুখ থেকে শব্দটা। এর সঙ্গে পূর্ব পরিচিত নয় যে পাভেল!কপাল কুঁচকে কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইল,

“মানে কোন রিসোর্ট-টিসোর্ট নাকি? নাকি কোনো দেশ?”

হাসিব কপাল চাপড়াল। মজাও পেল বেশ। বলল,

“লাইটহাউস কোনো রিসোর্ট না। কোনো দেশের নামও নয়। এটা এমন একটা জায়গা—যেখানে একবার গেলে মানুষকে জীবনের মায়া ত্যাগ করে থাকতে হয়।”

“মানে?”

হাসিব এবার গলা ভারী করল,

“ঝড়ের রাতে যখন সমুদ্র উন্মত্ত হয়ে ওঠে, যখন চারদিকে শুধু অন্ধকার আর গা হিম ধরা সামুদ্রিক গর্জন ভেসে বেড়ায়, তখন যে একটুখানি আলো জাহাজকে পথ দেখায়, সেই আলোটাই মূলত থাকে লাইটহাউসে। সেখানে যারা কাজ করে, তারা প্রায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবকিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন। বলতে পারো মানব সভ্যতা থেকেও টোটাললি বিচ্ছিন্ন। তাও আবার যেই-সেই লাইটহাউস না! সোজা “ফ্রান্সের লা জুম লাইটহাউজ”! পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল, গভীর, নির্মম সেই মহাসাগর! যেখানে বেশিরভাগ জাহাজ গেলেও আর ফিরে আসেনা। খোজ পাওয়া যায়না কারও।”

“তাহলে ওখানে মানুষ কেন থাকে?”

পাভেলের অবুঝ গলার প্রশ্ন শুনে হাসিব ফির বলতে লাগল,

“কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মান্থলি সেলারি পায় ওখানে থাকা লোকটা!তবে আমাদের কমান্ডার সাহেব কিন্ত টাকার জন্য নয়, বরং ফেন্টাসি উপভোগ করতে যেতে চায় সেখানে!’

পাভেল এবার সত্যিই থ হয়ে গেল। ওদিকে পাভেলের পাশে বসে থামা প্রিয়ন্তীর হাতে তখনও ফোন। অজান্তেই সে গুগলে সার্চ করল “লা জুম লাইটহাউস” নামে। কয়েক সেকেন্ড পর স্ক্রিনে একের পর এক ছবি ভেসে উঠল।অমনি বেচারির প্রিয়ন্তীর চোখ যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে। বুকের ভেতর কেমন ঠকঠক করে উঠল আতঙ্কে।
মনে মনে বিড়বিড় করল,

“ব্যাটা পাগল ছাগলের দল! ঘরবাড়ি ছেড়ে সোজা সমুদ্রের সন্ন্যাসী হতে উঠে পড়ে লেগেছে। সুখে থাকতে ভুতে কিলায়!এর কপালে যে লিখা আছে নাজানি তার কি অবস্থা করে ছাড়ে!”


ঐতিহাসিক চা বাগানের সামনে এসে গাড়ি থামাল তাজধীর। এই বাগানটা এখানের সবথেকে পুরোনো। হাসিবের বাবা অর্ধেকটা পার্টনারশিপে আছেন এখানে। বাকিটা তার আরেক বন্ধুর। প্রিয়ন্তী, মিতালী আর পাভেল গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে চায়ের বাগানের দিকে এগোল। নেমে দাঁড়াল হাসিব আর তাজধীর ও। হাসিবকে প্রহরীরা দেখতেই সালাম জানাল তৎক্ষণাৎ। ওরা সবাই ভিতরে ঢুকলেই অনড় দাঁড়িয়ে রইলো হাসিব। গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

“আমি এখানেই থাকছি। তোরা ঘুরে আয় কেমন? “

তাজধীর বলল,

“কেন তুই যাবিনা?”

হাসিব কাঁধ উঁচু করে বলল,

“এলাকা আমাদের। বাগান ও আমাদের। নতুন করে কি দেখার আছে? অনেকবার এসেছি এখানে। তোরা যা আমি এখানেই আছি!”

তাজধীরের চোখ হাসিবের দিকে গেল। সামান্য ভ্রু কুঁচকে বলল,

“আমাদের সঙ্গে তো আসিস নি? চল!”

হাসিব নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তখনো। তাজধীর ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল,

“কি ব্যাপার? নিশ্চই কিছু আছে তাই যেতে চাচ্ছিস না। এখনো তুই ঐসব কে ভয়…

“মোটেও না। এখনো কি আগের মত বাচ্চা আছি নাকি? চল চল। ব্যাটা তোর এই কথায় কথায় সন্দেহ করার বদঅভ্যাসটা গেলোনা আর!”

ফ্যাকাসে মুখটা নিয়েই বন্ধুকে নিয়ে বাগানের ভিতরে পা বাড়াল হাসিব। চা বাগানের ধূসর ধাপে ধাপে উঁচু নিচু, আঁকাবাঁকা পথ ধরে উপরের দিকে উঠতে লাগল ওর সকলে।

পাভেল আর মিতালী সবার আগে উঠছে। পিছনেই প্রিয়ন্তী। আস্তে ধীরে ভারসাম্য রেখে উপরে উঠছে ও। বারকয়েক হোঁচট ও খেয়েছে ইতিমধ্যে। তবে পরোক্ষণেই সামলে নিয়েছে নিজেকে। প্রিয়ন্তীর পিছনেই তাজধীর আর হাসিব। হাপাতে হাপাতে অবশেষে উপরে উঠল ওরা। উপরের দিকে ওঠার সাথে সাথে হাওয়ার তীব্রতা বাড়ছে যেন।

উপরে পৌঁছাতেই মিতালী চা বাগানের সৌন্দর্যয় বিমহিত হয়ে হয়ে চেঁচিয়ে উঠল আগেভাগে। পাভেল কেন উদ্দেশ্য করে বো,

“পাভেল,তাড়াতাড়ি আমার ছবি তোলে দাও তো! এইযে এখানে দাঁড়াবো। এই এঙ্গেলে তুলবে!”

“শুভর কর, সবকিছু শেষ হয়ে যাচ্ছেনা!”

বিরক্তিতে বলে সাথে সাথে ফোনের ক্যামেরা বের করল পাভেল । প্রিয়ন্তীও পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে। তবে সেটা ওর নিজের নয়। আশেপাশের। মুগ্ধ নয়নে দেখছে আর অপরূপ এই প্রাকৃতিক সুন্দর্য টুকু ক্যামেরা বন্ধি করছে। ছবি তুলতে তুলতেই আকস্মিক ওর ফোনের ক্যামেরাটা গিয়ে আটকালো সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশি রঙা শার্ট গায়ের পুরুষেতে। সবুজের মাঝে এই উজ্জ্বফর্সা বর্ণের লোকটাকে কি মারাত্মক লাগছে দেখতে! নাকি ওর ফোনের ক্যামেরাতেই এমন লাগছে? লোভ সামলাতে না পেরে গটাগট লোকটার অগোচরেই কয়েকটা ছবি তুলে নিলো প্রিয়ন্তী। মোবাইলের এঙ্গেল বিভিন্ন ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ওই একজনেরই ছবি তুলতে ব্যস্ত ও।

হঠাৎ তাজধীর এপাশ হয়ে ঘুরতেই তৎক্ষণাৎ ঝটকা মেরে ফোন নামিয়ে নিলো ও। ভাবখানা এমন করল যে কিছুই জানেনা। করেনি কিছুও। হাসিব এসে একটা খোলামেলা জায়গায় উঠে দাঁড়িয়েছে। দাঁড়িয়েছে তো দাঁড়িয়েছেই নড়াচড়ার নামও নেই। তাজধীর সেসব দেখে হাসল অল্প। অমন সময় আকস্মিক সবার ধ্যান ভাঙলো কারো চিৎকারে। চিৎকারের উৎস ধরে সবাই ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেল চোখ মুখ খিচে লাফাচ্ছে পাভেল। পায়ে সেন্ডেল পেরিয়ে ফাঁকা জায়গাটায় বেশ মোটা সোটা একটা জোক গেথে আছে সেখানে। চগলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠল এইবার পাভেল,

“মিতু কিছু করো জলদি। ইয়াক! ইয়া আল্লাহ! তাড়াতাড়ি কিছু করো মিতু! এটাকে সরাও বইন!”

প্রচন্ড আতঙ্কে বউকে বোন কে ডেকে উঠেছে বেচারা পাভেল। ওদিকে মিতালীও হতভম্ব। যেখানে ছেলে হয়েও এসব ভয় পাচ্ছে সেখানে সেতো মেয়ে মানুষ! দেখা তো দূর নাম শুনলেই তো গা ঘিন ঘিন করে উঠে। যথেষ্ট দূরে থেকেই মিতালী চেঁচাল এইবার স্বামীর উদ্দেশ্য,

“আমায় ডেকোনা ভাই। তুমি তো ছেলে মানুষ! পুরুষ মানুষরা এসব ভয় পায় নাকি? তুমি হাত দিয়ে টেনে সরিয়ে ফেলনা।”

ভাবীর সঙ্গে নাক মুখ কুঁচকে সায় মিলালো প্রিয়ন্তী ও। বলল,

“হ্যা হ্যা ভাইয়া। পা ঝাকাও জোরে জোরে। পরে যাবে দেখো।”

ওদিকে হাসিব শুষ্ক গলায় ঢুক গিলছে। দ্রুত এগিয়ে এসে তাজধীর কে অতিক্রম করে নামতে নামতে বলল,

“আমি এদিকে নাই ভাই! আল্লাহ হাফেজ!”

পিছন থেকে টি শার্ট খপ করে চেপে ধরল তাজধীর। বলল,

“কই যাচ্ছিস ব্যাটা? কাল রাতেই না আমার কাছে এলি বোনকে কিভাবে ইমপ্রেস করা যায় সেসব জানতে? বোনের আগে ভাইকে ইমপ্রেস কর। ভাই পটলে দেখবি বোন এমনিতেই পটে যাবে। এই সুযোগ হাতছাড়া করছিস কেন?”

“লাগবে না ভাই আমার কাউকে ইমপ্রেস করা। আমি গেলাম। এইজন্যই এখানে উঠতে চাইনি। আল্লাহ হাফেজ!”

বলেই এলোপাথারি হয়ে নেমে গেল হাসিব। পাভেলের চিৎকার শুনে ওখানের একজন স্থানীয় লোক এসে পাভেলের পায়ের কাছ থেকে জোক টা টেনে সরালো। পাভেল খুশি হয়ে লোকটাকে কিছু টাকা দিতে চাইলে নেয়না সেই ভদ্রলোক। পাভেল আর এক মুহূর্ত ও সেখানে থাকার দুসাহস করেনা। ত্রস্ত নেমে যায় সেখান থেকে। পিছন থেকে ডেকে উঠে মিতালী,

“আরেহ আমাকে ও নিয়ে যাও। একা কিভাবে নামবো আমি?”

মিতালীর পিছু পিছু নামছে প্রিয়ন্তী ও। ব্যাগটা শক্ত করে চেপে ধরে চোখ মুখ খিচে যেইনা নামতে যাবে অমনি ওর থেকে কিঞ্চিৎ দূরে থাকা তাজধীর আকস্মিক বলে উঠল,

“আরেহ মিস প্রিয়ন্তী, আপনার পায়ে ওটা কালো কালো কি দেখা যাচ্ছে?”

ব্যাস! কথাটা শুনতেই ঝড়ের গতিতে পাশে থাকা তাজধীরের বুঁকের উপর এসে হামলে পড়ল বেচারি প্রিয়ন্তী। চোখ মুখ বন্ধ করে চেঁচিয়ে উঠল কাঁপতে কাঁপতে,

“ক ক কই। কোথায়। প্লিজ স সরান ওটা। প্লিজ!”

বলেই তাজধীরের শার্ট এর কলার খামচে ধরল হাতের মুঠোয়। আতঙ্কে দিকবেদিকশূন্য হয়ে পরে রইল অমনি। হঠাৎ এত কাছে কোনো মেয়ের উপস্তিতিতে শুষ্ক গলায় ঢুকে গিলল তাজধীর। সেতো মজার ছলে বলেছিলো কথাটা। বুঝতে পারেনি মেয়েটা এতটা সিরিয়াসলি নিয়ে নিবে। নিজেকে শুধরে নিয়ে বলল,

“বোধহয় চলে গেছে। আপনার শরীরের রক্ত খেয়ে বোধহয় মজা পায়নি বেচারারা। তাইতো নিজের ইচ্ছেয় ত্যাগ করেছে আপনাকে। চোখ মেলতে পারেন এবার!”

এতক্ষনে হুসে ফিরল প্রিয়ন্তী। তড়িৎ বেগে সরিয়ে নিলো নিজেকে। নিজের কাণ্ডে নিজেই আহাম্মক। ইশ! কি করে বসল ও সেটা। তাজধীরের শার্ট এর কলার টা কুঁচকে গেছে অভাবে ধরার কারণে। নিচু মাথায় বিড়বিড় করল কিছু একটা। পরবর্তীতে নিজেকে ঠিকঠাক করে নামতে উদ্যোত হতেই পিছন থেকে শুনতে পেল ভারি পুরুষালি এক কণ্ঠস্বর,

“মিস প্রিয়ন্তী! এইভাবে এতটাও কাছে আসবেন না যে নিজেকে কন্ট্রোল করতে হিমশিম খেতে হয়।”

চলবে….

( রিচেক দিতে পারিনি। একবারে রাতে ঘুমানোর আগে দিয়ে দিবো। ভুলত্রুটি হলে মানিয়ে নিয়েন কেমন?)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply