Golpo romantic golpo বাঁধন রূপের অধিকারী

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫৮


#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী

[৫৮]

‎ধরা পড়ে বেচারা আকাশের মুখখানি মলিন হয়ে যায়। না পারে রাগ ঝাড়তে, না পারে মুখ খুলতে। লজ্জা আর বিরক্তিতে চুপসে বসে থাকে।

‎

‎অখিল তখন মাথা চুলকায়। এমন সময় ধীরে ধীরে তার দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকায় বাঁধন। ঠোঁটে বিদ্রূপের রেখা টেনে বলে,

‎

‎” কী বলছিলি যেন? আমাকে অ্যারেস্ট করবি? “

‎

‎ভয়ে অখিলের কণ্ঠ শুকিয়ে আসে। ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলে,

‎

‎” ভা-ভাই, বিশ্বাস কর। আমি জানতাম না বোরকার নিচে আকাশ। আমি তো ভেবেছিলাম মেয়ে। কিন্তু তুই আগে থেকেই বুঝে গিয়েছিলি তাই না? “

‎

‎বাঁধন এবার দৃষ্টি ফেরায় আকাশের দিকে। বেচারা আকাশ নীরবে বসে আছে। মুখজুড়ে রাজ্যের বিরক্তি। বাঁধন মৃদু হেসে বলে,

‎

‎” তুই ভাবলি কী করে, তোকে আমি চিনতে পারব না? শুধু নেকাব কেন, পুরো পর্দা করে এলেও তোকে ঠিকই ধরে ফেলতাম। “

‎

‎আকাশ অভিমানে ঠোঁট উল্টে দেয়। বিরক্তির সুরে বলে,

‎

‎” শালার জিন্দেগি। তুই আর কথা বলিস না। একেবারে মুডটাই নষ্ট করে দিলি। ইসস, কত আশা নিয়ে এসেছিলাম। গায়ে হলুদের সাজে বউটাকে একটু দেখব। “

‎

‎ওমর হাসির দমক সামলে বলে,

‎

‎” তার মানে বৃষ্টিকে একনজর দেখতেই এত ছদ্মবেশের আয়োজন? “

‎

‎নীরবে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে আকাশ। ওমর বাঁধনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,

‎

‎” যা ভাই। নিয়ে গিয়ে বউটাকে একটু দেখিয়ে আয়। বেচারা এত সাধ করে এসেছে। অন্তত একনজর দেখার সুযোগটুকু পাক। “

‎

‎

‎—

‎

‎বোরকার আবরণে আকাশকে সঙ্গী করে অন্দরমহলে প্রবেশ করে বাঁধন। কৌতূহলী কেউ পরিচয় জানতে চাইলে বন্ধুর পরিচয় দিয়েই এড়িয়ে যায়। একে একে সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে দোতলায় পৌঁছায় দুজন। বৃষ্টির কক্ষের সম্মুখে এসে থামে তাদের পদযুগল।বাঁধন মৃদু স্বরে বলে,

‎

‎” এখানেই ওরা সাজছে। “

‎

‎কথাটি কানে পৌঁছাতেই দরজার ফাঁক গলে উঁকি দেয় আকাশ।কক্ষের অভ্যন্তরে আয়নার সম্মুখে দাঁড়িয়ে রূপসজ্জা পরখ করছে রূপা ও বৃষ্টি। হলুদের স্নিগ্ধ আভায় উদ্ভাসিত তাদের অবয়ব। ফুলের অলংকারে সুশোভিত সাজ। অপরদিকে বাকিরা মেতে আছে আলোকচিত্র ধারণের আনন্দে।দৃশ্যটি দেখেই বাঁধনের কানে ফিসফিসিয়ে বলে আকাশ,

‎

‎” ওই দেখ। আমাদের পাবনা পাঠানোর আয়োজন চলছে।”

‎

‎আকাশের এহেন বাক্যে কুঞ্চিত হয় বাঁধনের ভ্রুযুগল। সেও দরজার ফাঁক গলে দৃষ্টি মেলে।

‎পরক্ষণেই স্থির হয়ে যায় তার দৃষ্টি।হলুদ শাড়ির মায়াবী আবরণে আবৃত রূপা। কেশপাশে পুষ্পসজ্জা। অঙ্গে ফুলের অলংকার। হলুদের সোনালি আভায় যেন অপরূপা এক মায়াবিনী।নিমেষেই থমকে যায় বাঁধনের হৃদস্পন্দন। বক্ষজুড়ে জাগে অদ্ভুত শিহরণ। দৃষ্টির সমস্ত ব্যাকুলতা গিয়ে থামে একটি মুখে। মুহূর্তেই যেন স্তব্ধ হয়ে আসে চারপাশ। পরক্ষণেই আকাশের পিঠে সজোরে চাপড় বসায়। ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির হাসি টেনে বলে,

‎

‎” আমার আকাশে উড়তে ইচ্ছে করছে। ডানা নেই তো কী হয়েছে? ইচ্ছে তো আছে। “

‎

‎ভ্রুযুগল কুঞ্চিত করে আকাশ শুধালো,

‎

‎” মানে? “

‎

‎বাঁধন কথাটির মর্মার্থ স্পষ্ট করে বলে,

‎

‎” মানে, এত অপরূপ সৌন্দর্য দর্শন করেও লাভ নেই। সান্নিধ্যে যাওয়ার উপায় নেই। গেলেই বিপত্তি। তবু আকাঙ্ক্ষা আছে। স্বপ্ন আছে। একদিন না একদিন সেই স্বপ্ন পূর্ণ হবেই। “

‎

‎বাঁধনের কথা শুনে মুচকি হেসে ফেলে আকাশ।

‎ইতিমধ্যে কক্ষের দ্বার পেরিয়ে বাইরে আসে রূপা, বৃষ্টি, শান্তা, অ্যান্সি ও নিক্সি। আকাশও নিজেকে স্বাভাবিক করে বাঁধনের পাশে এসে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ।বাঁধনের পাশে বোরকা পরিহিত অপরিচিতাকে দেখে বিস্ময়ে ভ্রু উঁচিয়ে তাকায় রূপা। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই কৌতূহলে অধীর বৃষ্টি বাঁধনের উদ্দেশে বলে ওঠে,

‎

‎” ভাইয়া, আপনার পাশে এই মেয়েটি কে? “

‎

‎মনে মনে বাঁধন উচ্চারণ করে,

‎

‎”তোমার হবু জামাই।”

‎

‎কিন্তু মনের কথাটি ঠোঁট অবধি পৌঁছায় না। বরং দৃষ্টির কোণে রূপার মুখখানি খুঁজে নেয় সে। মেয়েটি বিস্ফারিত নয়নে তাদের দুজনকে পরখ করছে। সেই দৃষ্টি দেখেই বাঁধনের মনে জেগে ওঠে দুষ্টুমির দুরন্ত বাসনা। প্রিয়তমাকে একটু জ্বালানোর লোভ সামলাতে পারে না সে।ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে অবশেষে জবাব দেয়,

‎

‎” ও হচ্ছে আমার জান। “

‎

‎

‎”আমার জান” শব্দযুগল যেন তীরের মতো এসে বিঁধল রূপার হৃদয়পটে। আর কোনো বাক্যের প্রয়োজন পড়ল না। একটি শব্দেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল মেয়েটির অন্তর। বুকের ভেতর জমে উঠল অসহনীয় ভার। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আসে। আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না সে। অশ্রুসজল চোখে ছুটে ফিরে যায় রুমে।পেছন থেকে বৃষ্টি ডেকে ওঠে,

‎

‎”রূপা।”

‎

‎কিন্তু কোনো সাড়া মেলে না। অভিমানে মেয়েটি ততক্ষণে আড়াল হয়েছে।এদিকে ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে বাঁধনের। মনে মনে ভাবে, সর্বনাশ। আজ তো বউয়ের হাতে আমার রক্ষা নেই।অন্যদিকে আকাশের কোনো হেলদোল নেই। নিশ্চুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে গায়ে হলুদের সাজে সজ্জিত বৃষ্টির মুখপানে। বাঁধন কী বলল, কী করল৷ সেদিকে তার বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। তার সমস্ত মনোযোগজুড়ে কেবলই তার চাঁদপরী।অ্যান্সি বিস্মিত নয়নে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে বলে,

‎

‎”তোর জান মানে? এসব কী বলছিস? ফাজলামি করছিস আমাদের সাথে?”

‎

‎তার কথা শেষ হতে না হতেই বৃষ্টি উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলে,

‎

‎”দেখুন ভাইয়া। একদম ফাজলামি করবেন না। রূপা অনেক কষ্ট পেয়েছে। মেয়েটি আপনার কে হয়? “

‎

‎বাঁধন কোনো উত্তর দেয় না। বরং আকাশের হাতখানি ধরে বলে,

‎

‎”তোমরা নিচে যাও। পরে সব বলছি। “

‎

‎কথা শেষ করেই আকাশকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে বাঁধন। অতঃপর বন্ধ করে দেয় দরজা।আকাশ কিছু বলার অবকাশ পাওয়ার আগেই কক্ষজুড়ে দৃষ্টি বুলিয়ে নেয় সে। কোথাও রূপার দেখা মেলে না। মুহূর্তেই অনুমান করে নেয় তার অবস্থান। আকাশকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যায় বারান্দায়।বারান্দার রেলিং আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে রূপা। নীরব অশ্রুধারায় ভিজছে তার অধর। আকাশের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে মেয়েটি।পেছনে এসে নিঃশব্দে দাঁড়ায় বাঁধন। কারও উপস্থিতি অনুভব করতেই ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় রূপা। পেছনে বাঁধনকে দেখে অভিমানে জ্বলে ওঠে তার চোখজোড়া। এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে চলে যেতে উদ্যত হয় সে।সহসাই তার হাত টেনে ধরে বাঁধন৷ নিমিষে ক্ষোভে ফেটে পড়ে রূপা। চিৎকার করে বলে,

‎

‎”ছাড় আমাকে। “

‎

‎বাঁধনের চোখজোড়া বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। অবাক স্বরে বলে,

‎

‎”বাপরে। তুই করে ডাকছো আমাকে? “

‎

‎রূপা দাঁত চেপে ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলে,

‎

‎”ছাড় কইতাছি শ/য়/তান। নাহলে তোর মাথা ফাটিয়ে ফেলমু আমি। “

‎

‎বউয়ের অগ্নিমূর্তি দেখে মনে মনে বেজায় আমোদ পায় বাঁধন। ঠোঁটের কোণে হাসির ঢেউ উঁকি দিলেও তা সযত্নে আড়াল করে। নিজেকে সামলে কোমল স্বরে বলে,

‎

‎” জান, আমার কথাটা একটু শোনো। “

‎

‎রূপা অশ্রুসিক্ত নয়নে ক্রোধের দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলে,

‎

‎” আরেকবার তোর ওই ঠোঁট দিয়ে আমাকে জান বললে ঠোঁট কেটে সেলাই করে দেব। আমি তোর জান নই। তোর জান ওই বোরকা পরা মেয়েটা। ওকে গিয়ে জান ডাক। “

‎

‎বাঁধন এবার আঙুল তুলে আকাশকে দেখিয়ে নিরীহ মুখে বলে,

‎

‎” তুমি কি আমার ওই জানের কথা বলছো হার্টওয়াইফ? “

‎

‎বাঁধনের ইশারা অনুসরণ করে দৃষ্টি ফেরায় রূপা। এতক্ষণে চোখে পড়ে বোরকাবৃত মেয়েটিকে। রাগের ঘোরে এতক্ষণ তার অস্তিত্বই খেয়াল করেনি সে।

‎

‎পরক্ষণেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। অভিমানের আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়ের আনাচকানাচে। মনে মনে ফুঁসে ওঠে রূপা।এই কালনাগিনীর এত বড় সাহস। তার স্বামীর দিকে নজর দেয়!বাঁধনের হিসাব পরে হবে। আগে এই বোরকাধারীর উপযুক্ত শিক্ষা চাই।মুহূর্তেই বাঁধনের হাত ছাড়িয়ে আকাশের দিকে তেড়ে যেতে উদ্যত হয় সে। কিন্তু তার আগেই পেছন থেকে কোমর জড়িয়ে ধরে বাঁধন। আটকে যায় রূপার অগ্রযাত্রা।তবু ক্রোধের দাবানল থামে না। বোরকাবৃত আকাশের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে ওঠে সে,

‎

‎” ছাড় কইতাছি শ/য়/তা/ন। আজ তোর ওই জানকে মেরেই ফেলব। আগে ওকে শেষ করি। তারপর তোর কাছ থেকে একে একে সব হিসাব বুঝে নিয়ে তোকে মারব। তোদের দুজনকে খুন করে জেলে যাব আমি। ছাড় বলতেছি, কু/ত্তা/র বাচ্চা। “

‎

‎

‎রূপার উন্মত্ত আচরণে বারান্দার বাতাসও যেন থমকে যায়। বাঁধনের বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত হতে মরিয়া হয়ে ওঠে সে। এমনই উগ্র তার ক্ষোভ, যেন একবার নাগাল পেলেই সত্যি সত্যি আকাশের প্রাণ নিয়ে তবেই ক্ষান্ত হবে।

‎

‎এদিকে আকাশের গলা শুকিয়ে কাঠ। আশপাশে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে দেখে। কোথাও কেউ নেই। এই সুযোগে দ্রুত মুখের নেকাব সরিয়ে ফেলে সে। নিমেষেই উন্মোচিত হয় পরিচিত মুখশ্রী।

‎

‎আর সেই মুখ দেখামাত্রই রূপার সমস্ত ক্রোধ যেন এক নিমেষে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। যে মেয়েকে এতক্ষণ বধ করার সংকল্প করেছিল, সে যে স্বয়ং আকাশ ভাইয়া। মুহূর্তেই তার সমস্ত হম্বিতম্বি নিভে যায়। বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে থাকে আকাশের পানে। মুখখানি হাঁ হয়ে আসে। যেন কেউ এক ঝটকায় তার সমস্ত বাকশক্তি কেড়ে নিয়েছে।

‎আকাশ মৃদু হেসে রূপার দিকে তাকিয়ে বলে,

‎

‎” আমি তোর জামাইয়ের জান। আই, মারবি আমাকে? “

‎

‎বাঁধন ঠোঁট কামড়ে হাসি সংবরণ করে। তারপর রূপার কোমরের বাঁধন আলগা করে দুষ্টুমিমাখা কণ্ঠে বলে,

‎

‎” চুপ করে আছো কেন, জান? যাও, ছেড়ে দিলাম। এবার গিয়ে ওকে মেরে ফেলো। “

‎

‎কথা শেষ করেই রূপাকে ছেড়ে দেয় সে।রূপা তখনো বিস্ময়ের ঘোরে আচ্ছন্ন। অবিশ্বাসভরা কণ্ঠে বলে,

‎

‎” আকাশ ভাইয়া, তুমি বোরকা পরে এসেছ? “

‎

‎বাঁধন হেসে জবাব দেয়,

‎

‎” জ্বি ম্যাডাম। বউকে একনজর দেখার জন্য এই ছদ্মবেশ। আর তোমাকে জ্বালানোর জন্য আমার এই অভিনয়। “

‎

‎এবার ধীরে ধীরে সমস্ত রহস্যের জট খুলে যায় রূপার কাছে। বোরকার আড়ালে থাকা মানুষটি যে আকাশ, তা বুঝতে বাকি থাকে না। বৃষ্টিকে একনজর দেখতেই তার এই বিচিত্র ছদ্মবেশ। আর বাঁধন? এতক্ষণ ধরে নিছক দুষ্টুমির ছলে তাকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাইয়েছে।রাগ, অভিমান আর লজ্জা মিলেমিশে রূপার মুখখানি মুহূর্তেই অন্য রূপ ধারণ করে।কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বাঁধনের পানে তাকিয়ে বলে,

‎

‎” তুমি এতক্ষণ মজা করছিলে? “

‎

‎উত্তরে সম্মতিসূচক ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে বাঁধন। আর তাতেই রূপার যত রাগ গিয়ে পড়ে তার বুকের ওপর। এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি চালাতে শুরু করে সে। রূপার এমন কাণ্ডে হেসে ফেলে বাঁধন।ওদিকে আকাশ দুজনের কাণ্ডকারখানা দেখে বিরক্তির সুরে বলে,

‎

‎” তোদের নাটক তোরা কর। আমি গেলাম। “

‎

‎কথা শেষ করেই বোরকা পরিহিত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে যায় সে৷ তার চলে যেতেই হাসতে হাসতে বাঁধনের বুকে লুটিয়ে পড়ে রূপা। দুহাতে তাকে জড়িয়ে ধরে। বাঁধন মৃদু হেসে দুষ্টুমিমাখা কণ্ঠে বলে,

‎

‎” কন্ট্রোল হার্টওয়াইফ। কন্ট্রোল। শাড়ি খুলে যাবে তো। “

‎

‎সহসা হাসির রেশ সংবরণ করে নেয় রূপা। অধরপ্রান্তের মৃদু হাসি ক্রমে ম্লান হয়ে সেখানে ঘনিয়ে আসে অভিমানের ছায়া। আর্দ্র চোখে বাঁধনের পানে চেয়ে মৃদু কম্পিত কণ্ঠে বলে,

‎

‎” আর কখনো এমন করবে না। আমার কষ্ট হয় তো। “

‎

‎কথাটি শ্রবণমাত্রই বাঁধনের দৃষ্টিতে দুষ্টুমির আভা স্তিমিত হয়ে আসে। পরক্ষণেই রূপার সুকোমল কোমর জড়িয়ে তাকে নিজের সান্নিধ্যে টেনে নেয়। বারান্দার রেলিংয়ে তার পিঠ ঠেকিয়ে গভীর দৃষ্টিতে প্রশ্ন করে,

‎

‎” ভালোবাসো? “

‎

‎লজ্জানত নয়নে দৃষ্টি অবনত করে রূপা। অধরপ্রান্তে মৃদু হাসির আভাস ফুটিয়ে ধীর কণ্ঠে বলে,

‎

‎” তা জানি না। তবে একদিন বলব। “

‎

‎বাঁধনের অধরে খেলে যায় মৃদু হাসি। তার মুখের কাছে মুখ এনে বলে,

‎

‎” তার আগে যদি আমি মরে— “

‎

‎কথাটুকু সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই রূপার কোমল হাত এসে তার অধর রুদ্ধ করে দেয়। রক্তিম চোখে শাসনের সুরে বলে,

‎

‎” একদম এসব উল্টাপাল্টা কথা বলবে না। বললে দা দিয়ে ঠোঁট কেটে সেলাই করে দেব। “

‎

‎প্রিয়তমার কঠোর শাসনে নীরবে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে বাঁধন। অধরে মৃদু হাসি ছড়িয়ে বলে,

‎

‎” ওকে হার্টওয়াইফ। “

‎

‎লজ্জার রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে রূপার গণ্ডে। শাড়ির আঁচল আঙুলে পেঁচিয়ে কিছুটা ইতস্তত স্বরে জানতে চায়,

‎

‎” কেমন লাগছে আমাকে? “

‎

‎রূপার কর্ণকুহরের কাছে মুখ নামিয়ে আনে বাঁধন। নিকট নিঃশ্বাসের উষ্ণতায় নেশাতুর কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,

‎

‎” সুন্দর। “

‎

‎লজ্জার আভা গালে ছড়িয়ে পড়ে রূপার। মৃদু কণ্ঠে জানতে চায়,

‎

‎” শুধুই কি সুন্দর? “

‎

‎বাঁধনের চোখের পাতায় নেমে আসে স্নিগ্ধ আবেশ। প্রায় অস্ফুট স্বরে বলে,

‎

‎” উঁহু। নেশাময়ী। “

‎

‎কথাটি স্পষ্ট শুনতে পায় না রূপা। সামান্য কৌতূহলে প্রশ্ন করে,

‎

‎” মানে কী? “

‎

‎” কিছু না। “

‎

‎কথার ফাঁকে বারবার নাক টানছে বাঁধন। বিষয়টি লক্ষ করে রূপার মুখে উদ্বেগের ছায়া নামে। চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে,

‎

‎” তোমার কি ঠান্ডা লেগেছে? “

‎

‎ক্লান্ত মুখে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে বাঁধন। তারপর রূপার পানে চেয়ে অনুযোগমাখা স্বরে বলে,

‎

‎” হুম। লেগেছে একটু। তুমি একটু আদর করলেই ভালো হয়ে যাবে। “

‎

‎বাঁধনের বুকে আলতো করে একটি কিল বসিয়ে রূপা অভিমানমাখা স্বরে বলে,

‎

‎” তুমি ভীষণ অসভ্য। “

‎

‎রূপার অভিমান দেখে হেসে ফেলে বাঁধন। স্নেহমাখা কণ্ঠে জবাব দেয়,

‎

‎” কেবলই তোমার জন্য, হার্টওয়াইফ। “

‎

‎আর কোনো প্রত্যুত্তর করে না রূপা। নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে বাঁধনের সান্নিধ্যে। তার মুখপানে অপলক চেয়ে থাকে পুরুষটি। সময়ের স্রোতে কত প্রহর গড়িয়ে যায়, তার হিসাব কারও জানা নেই।হঠাৎই রূপার দৃষ্টি গিয়ে থামে ঊর্ধ্বাকাশে। নিশীথের নীলিমায় অজস্র তারার মিটিমিটি দীপ্তি। মুগ্ধ নয়নে সেদিকে চেয়ে বিস্ময়মাখা কণ্ঠে বলে,

‎

‎” তারাগুলো সুন্দর না? “

‎

‎একবারও আকাশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করে না বাঁধন। তার দৃষ্টি তখনো নিবদ্ধ রূপার মুখশ্রীতে। নির্বিকার কণ্ঠে জবাব দেয়,

‎

‎” না। “

‎

‎বাঁধনের উত্তর শুনে বিস্ময়ে ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকায় রূপা। কৌতূহলী স্বরে জানতে চায়,

‎

‎” কেন? “

‎

‎রূপার প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন তার চোখের গভীরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। অধরপ্রান্তে স্নিগ্ধ হাসির রেখা টেনে গভীর আবেগে বলে,

‎

‎” আমার চোখে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী নারী তুমি। তোমার রূপের সঙ্গে তুলনা করার মতো কিছু এই ধরণিতে আছে বলে আমার মনে হয় না। চাঁদও যদি একদিন আকাশ ছেড়ে ধরাধামে নেমে এসে প্রশ্ন করে, বলো তো, কে বেশি সুন্দর? আমি, নাকি তোমার হার্টওয়াইফ? তবে এক মুহূর্তও না ভেবে বলব, আমার হার্টওয়াইফ। “

‎

‎প্রশংসার প্রতিটি শব্দ রূপার হৃদয়ে যেন মৃদু ঢেউ তোলে। লজ্জার রক্তিম আভায় রাঙা হয়ে ওঠে তার গণ্ডদেশ। সেই লাজুক মুখশ্রী দেখে বাঁধন মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করে,

‎

‎” লজ্জা পাচ্ছো? “

‎

‎অধরপ্রান্তে ক্ষীণ হাসি নিয়ে রূপা ইতস্তত স্বরে বলে,

‎

‎” একটা কথা বলব? “

‎

‎সস্নেহ দৃষ্টিতে তার মুখপানে চেয়ে বাঁধন বলে,

‎

‎” একটা নয়। হাজারটা বলো। “

‎

‎কিছুক্ষণ নীরব থেকে সাহস সঞ্চয় করে রূপা। তারপর দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে জানতে চায়,

‎

‎” আমি তোমাকে কাছে আসতে দিই না। তোমার রাগ হয় না? “

‎

‎বাঁধনের উত্তর আসে অকপটে,

‎

‎” হয় তো। “

‎

‎সহসা বিস্ময়ে চোখ তুলে তাকায় রূপা। এতটা সহজ স্বীকারোক্তি যেন প্রত্যাশা করেনি। কৌতূহলী দৃষ্টিতে প্রশ্ন করে,

‎

‎” তাহলে প্রকাশ করো না কেন? “

‎

‎রূপার কর্ণলতির কাছে মুখ নামিয়ে আনে বাঁধন। তার কণ্ঠে মিশে থাকে গভীর আবেশ আর চাপা আকুলতা। নিভৃতে ফিসফিসিয়ে বলে,

‎

‎” সব পাওনা হিসেবে জমিয়ে রাখছি। যেদিন কাছে আসতে দেবে, সেদিন সুদে-আসলে আদায় করে নেব। “

‎

‎______

‎

‎নিস্তব্ধ মুহূর্তে বৃষ্টির মুঠোফোনে টুং করে বেজে ওঠে বার্তার সুর। পর্দায় ভেসে ওঠা আকাশের নামটি দেখেই কৌতূহলী হয়ে ওঠে সে। বার্তাটি খুলতেই চোখে পড়ে কয়েকটি শব্দ,

‎

‎” চাঁদপুরী। একটু বাড়ির পিছনে আসবা? “

‎

‎বার্তাটি পড়ে বিস্ময়ে ভ্রু কুঁচকে যায় বৃষ্টির। বাড়ির পেছনে কেন যেতে বলছে? পরক্ষণেই মনে উঁকি দেয় অন্য এক ভাবনা। লোকটা আসেনি তো আবার?কৌতূহলের বাঁধ আর ধরে রাখতে পারে না সে। সবার অলক্ষ্যে নিঃশব্দ পায়ে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। আড়াল-আবডাল পেরিয়ে পৌঁছে যায় বাড়ির পেছনে। চারদিকে সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে দেখে। কিন্তু কোথাও কারও অস্তিত্ব চোখে পড়ে না।কেউ নেই দেখে ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় বৃষ্টি। ঠিক সেই মুহূর্তেই আচমকা একটি শক্ত হাত এসে তার হাত মুঠোয় পুরে নেয়। আকস্মিক টানে ভারসাম্য হারিয়ে সোজা গিয়ে আছড়ে পড়ে এক প্রশস্ত, দৃঢ় বক্ষে।হঠাৎ এমন ঘটনায় বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় তার। সামনের মানুষটির মুখের দিকে তাকাতেই চমকে ওঠে। এ যে সেই বোরকা পরিহিতা মেয়েটি।বিস্ময়ভরা চোখে তার দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,

‎

‎” আপনি। “

‎

‎কোনো কথা বলার অবকাশ না দিয়েই বৃষ্টির মুখে হাত চেপে ধরে তাকে আরও গভীর আড়ালে টেনে নেয় আকাশ। তার এমন আকস্মিক কাণ্ডে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে বৃষ্টি। কিছুটা সামলে নিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে,

‎

‎” কী হচ্ছে, আপু? আপনি আমাকে এখানে কেন নিয়ে… “

‎

‎কথার অবশিষ্টাংশ ঠোঁটেই থেমে যায়। আকাশ দ্রুত তার ঠোঁটের ওপর আঙুল রেখে ফিসফিসিয়ে বলে,

‎

‎” হুশ। “

‎

‎পরিচিত পুরুষালি কণ্ঠস্বর কানে পৌঁছাতেই মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় বৃষ্টি। কণ্ঠটি ভীষণ চেনা। ভীষণ আপন। অথচ বোরকার আড়ালে থাকা মেয়েটির মুখ থেকে এমন পুরুষালি স্বর শুনে বিস্ময়ের সীমা থাকে না তার। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই আকাশ নিজ হাতে নেকাব সরিয়ে ফেলে।আর নেকাবের আড়াল থেকে পরিচিত মুখটি উন্মোচিত হতেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় বৃষ্টি। চোখের পলক পড়তেও যেন ভুলে যায়। বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে অবিশ্বাসভরা কণ্ঠে বলে,

‎

‎” স্যার, আপনি? “

‎

‎বৃষ্টির বিস্ময় দেখে আকাশ ফের তার মুখে হাত চাপা দেয়। সতর্ক দৃষ্টিতে চারপাশ দেখে নিচু স্বরে বলে,

‎

‎” কী করছো? আস্তে কথা বলো। কেউ শুনতে পাবে। “

‎

‎কথা শেষ করে মুখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নেয় সে। বৃষ্টি তখনো বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আমতা আমতা করে বলে,

‎

‎” কিন্তু স্যার, আপনি এইভাবে বোরকা পরে? না মানে… ইয়ে, মানে… “

‎

‎বৃষ্টির অসমাপ্ত কথার মাঝেই আকাশ নিজেই জবাব দেয়।,

‎

‎” ইয়ে-টিয়ে কিছু না। বউটাকে একটু দেখতে ইচ্ছে হলো। তাই এই বেশেই চলে এলাম। নইলে আসল রূপে এলে তো জীবনেও তোমার সামনে আসতে দিতে না। “

‎

‎

‎আকাশের কথায় মুহূর্তেই লজ্জার রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির গণ্ডদেশে। লজ্জায় অবনত হয় তার দৃষ্টি। তবে পরক্ষণেই মনে পড়ে যায় বাঁধনের সেই পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মুহূর্তটি। রূপার সামনে আকাশকে নিজের জান বলে পরিচয় দিয়েছিল সে। তার অর্থ, এতক্ষণ ধরে বাঁধন নিছকই পরিহাস করেছে। ভাবতেই লজ্জার সঙ্গে মিশে যায় একরাশ অভিমান।

‎

‎আকাশের মুখপানে তাকিয়ে বিস্মিত কণ্ঠে বলে,

‎

‎” তার মানে বাঁধন ভাইয়া তখন আমাদের সঙ্গে মজা করছিলেন? “

‎

‎আকাশ সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে। তারপর বৃষ্টির মুখশ্রীতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে থাকে। যেন বহু প্রতীক্ষার পর প্রিয়তমাকে এভাবে একান্তে দেখার সুযোগ পেয়েছে। মুগ্ধতা মেশানো কণ্ঠে বলে,

‎

‎” এখন আর কোনো কথা নয়। একটু আমার চোখের তৃষ্ণা মেটাতে দাও। অনেক সুন্দর লাগছে তোমাকে। একেবারে নেশার মতো। সিগারেটের মতো টেনে নিতে ইচ্ছে করছে। নিজেকে সামলানোই কঠিন হয়ে পড়ছে। “

‎

‎সিগারেটের প্রসঙ্গ শুনে বৃষ্টির কপালে বিস্ময়ের ভাঁজ পড়ে। মুগ্ধতা মুহূর্তেই রূপ নেয় সংশয়ে। অবাক চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,

‎

‎” কী? সিগারেট? আপনি সিগারেট খান? “

‎

‎আকাশের অধরে চাপা হাসি ফুটে ওঠে। গম্ভীর থাকার ভান করে ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে বলে,

‎

‎” আই অ্যাম নট সিগারেট খান। আই অ্যাম আকাশ রহমান। “

‎

‎প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে বৃষ্টি ফের জানতে চায়,

‎

‎” আমি সেটা বলিনি। বলছি, আপনি কি সিগারেট খান? “

‎

‎পরক্ষণেই আকাশ তাকে নিজের কাছে টেনে নেয়। এক বাহুতে কোমর জড়িয়ে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে। বৃষ্টির মুখশ্রী থেকে মাত্র কয়েক আঙুল দূরে নিজের মুখখানি এনে আকুল দৃষ্টিতে তাকায়। অধীর কণ্ঠে বলে,

‎

‎” এসব প্রশ্নের উত্তর পরে দেব। আগে বলো, কী করব আমি? তোমার কাছে এলেই নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। পাগল হয়ে যাচ্ছি, চাঁদপুরী। “

‎

‎আকাশের নিবিড় সান্নিধ্যে বৃষ্টির গণ্ডদেশ মুহূর্তেই রক্তিম হয়ে ওঠে। লজ্জায় দৃষ্টি অবনত করে নীরব দাঁড়িয়ে থাকে সে। কোনো প্রত্যুত্তর মেলে না তার অধর থেকে।বৃষ্টির নীরবতায় আকাশের সংযমের বাঁধ ক্রমেই আলগা হয়ে আসে। ধীরে ধীরে তার অধর এগিয়ে যায় বৃষ্টির অধরের দিকে। দুজনের ঠোঁটের মধ্যবর্তী দূরত্ব যখন প্রায় নিঃশেষ, ঠিক তখনই বৃষ্টির কোমল আঙুল এসে থামিয়ে দেয় তার অধরযুগল। সংকোচমাখা স্বরে বলে,

‎

‎” বিয়ের আগে আমি এসব চাইছি না। “

‎

‎দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নেয় আকাশ। তারপর তাকে ঘুরিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। মুখ নামিয়ে রাখে তার ঘাড়ের কাছে। পরপর কয়েকটি গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে নিচু স্বরে বলে,

‎

‎” এতদিন যখন নিজেকে সংযত রাখতে পেরেছি, আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করাও অসম্ভব নয়। তবে চাঁদপুরী, কাল রাতে কিন্তু তোমাকে ছাড় দিচ্ছি না। কাল তুমি বারণ করলেও আমি শুনবো না।”

‎

চলবে…!

বিয়ে বাড়ি আছি৷ রিচেক দেওয়ার সময় পাইনি৷ পরে দিবো৷ ভুল হলে মানিয়ে নিও৷

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply