Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫০


দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৫০

পর্ব : ৫০

লেখক_Jahirul_islam_mahir

🌿
“আজ ইনায়া আরশিয়া চৌধুরীর জন্মদিন। আজ তার এক বছর পূর্ণ হলো। ইনায়া আরশিয়া চৌধুরী হচ্ছে সামির আর তূবার একমাত্র মেয়ে।
“আরশিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কমিউনিটি সেন্টারে বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। পুরো হল সাজানো হয়েছে নীল-সাদা বেলুন আর ফুল দিয়ে। ইনায়ার পছন্দের কার্টুন থিমে কেক, আলাদা কিডস কর্নার, সব আছে।”
“আদনান আর রায়হানের ফ্যামিলিকেও ইনভাইট করা হয়েছিল। তারাও সবাই এসেছে। আদনানের ওয়াইফ আদ্রিয়ানা, রায়হানের ওয়াইফ আদ্রিজা—সবাই মিলে জমজমাট অবস্থা।”
“সামির আরশিয়া কে কোলে নিয়ে ঘুরছে, আর তূবা গেস্ট সামলাচ্ছে। ছোট্ট ইনায়া আজ প্রিন্সেসের মতো সেজেছে। সবার আদরে, উপহারে ভরে উঠছে আরশিয়ার প্রথম জন্মদিন।”

“ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৭টার ঘরে পৌঁছে গেছে। কমিউনিটি সেন্টারের লাইটগুলো ডিম করে দেওয়া হলো। মাঝখানে রাখা বিশাল টেবিলে আনা হলো আরশিয়ার প্রথম বছরের বার্থডে কেক। নীল-সাদা থিমের উপর ছোট্ট পরীর ডানা, মাঝখানে লেখা—”Happy Birthday Inaya Arshiya”।

“সামির আরশিয়া কে কোলে নিয়ে কেকের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। পাশে তূবা ও এসে দাঁড়ায়। আরশিয়া অবাক চোখে কেকের উপর মোমবাতিগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। সামির আর তূবা একসাথে আরশিয়ার ছোট্ট হাতটা ধরে ছুরিতে রাখলো। তাঁর পর কেক কাটলো।”

“হ্যাপি বার্থডে টু ইউ…” সবাই একসাথে গেয়ে উঠলো। কেক কাটা শেষ হতেই সামির প্রথমে এক টুকরো কেক আরশিয়ার মুখে তুলে দিলো, তারপর আরশিয়ার গালে আলতো করে লাগিয়ে দিলো। আরশিয়া খিলখিল করে হেসে উঠলো।”

“আদনান, রায়হান ও আরশিয়া কে কেক খাইয়ে দেয় এবং গিফট দেয়।”

“কেক কাঁটার পর্ব শেষ হতেই সামির মাইক্রোফোন হাতে নিলো। আরশিয়া কে কোলে নিয়েই বললো”..

“আজকের এই দিনে আমাদের পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আর স্পেশালি থ্যাংকস আদনান ভাইয়া আর রায়হানকে। তোমাদের ছাড়া এই আনন্দটা অসম্পূর্ণ।”

“আরশ, আধীর, অর্ণি আর ইনায়া—চারজন বেবিকে একসাথে দাঁড় করিয়ে ছবি তুললো সবাই। সামির তাকিয়ে দেখলো, তার মেয়ের চারপাশে ভালোবাসার মানুষগুলো। চোখের কোণটা ভিজে উঠলো তূবার”
“আয়োজন চললো রাত ১০টা পর্যন্ত। খাওয়া-দাওয়া, গান-বাজনা, বাচ্চাদের হৈচৈ—সব মিলিয়ে ইনায়া আরশিয়ার জন্মদিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকলো সবার কাছে।”

🌿
“কেটে গেছে এক সপ্তাহ পর। আদনান ঠিক করলো তার সানফ্লাওয়ার আদ্রিয়ানা আর প্রিন্স, প্রিন্সেস আধীর-অর্ণিকে নিয়ে মালদ্বীপ ঘুরে আসবে। সারাদিন অফিস, বিজনেসের প্রেশার—একটু ব্রেক দরকার।”

“তারিখ: ২০/০৪/২০২৬ | সময়: সকাল ৮:৩০
হযরত শাহজালাল এয়ারপোর্ট থেকে মালদিভিয়ানের ফ্লাইট। ইমিগ্রেশন, বোর্ডিং শেষ করে সকাল ১০টায় টেকঅফ করলো প্লেন। আধীর বাবার কোলে বসে জানালা দিয়ে মেঘ দেখছে, আর অর্ণি আদ্রিয়ানার কোলে ঘুম।
৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট। দুপুর ২:২০ মিনিটে ভেলানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, মালে-তে ল্যান্ড করলো। ইমিগ্রেশন শেষ করে স্পিডবোটে উঠলো ওরা। রিসোর্টে পৌঁছাতে লাগলো আরও ৪৫ মিনিট। রিসোর্টে পৌঁছে আদনান আর আদ্রিয়ানা মিলে প্রথমে বেবিদের কে ফ্রেশ দেয়। তাঁর পর নিজেরা ফ্রেশ হয়ে নেয়। রুমে থাকা ফোন থেকে খাবার অর্ডার দিয়ে দেয় আদনান। মিনিট দশেকের মধ্যে খাবার চলে আসে। প্রথমে বেবিদের কে খাইয়ে দিয়ে তাঁর পর নিজেরা খেয়ে নেয়। খাওয়া দাওয়া শেষে কিছুক্ষণ রেস্ট নেয় সবাই।”

“বিকেল ৪টায় ওয়াটার ভিলায় চেক-ইন। রুমের কাঁচের মেঝের নিচে স্বচ্ছ নীল পানি, রঙিন মাছ খেলা করছে। অর্ণি ঘুম থেকে উঠে এই দৃশ্য দেখে হাততালি দিয়ে উঠলো।

“বিকেল ৫:৩০ মিনিট | সমুদ্রের পাড়ে
রোদ পড়ে এসেছে। আকাশে কমলা আভা। আদনান, আদ্রিয়ানা হাত ধরে হাঁটছে। সামনে আধীর আর অর্ণি ছোট্ট পায়ে দৌড়াচ্ছে, ঢেউ এসে পা ভিজিয়ে দিচ্ছে।
“আদনান হঠাৎ থেমে গেল। আদ্রিয়ানার কোমর জড়িয়ে কাছে টেনে নিলো। “মনে আছে আদ্রিয়ানা, বিয়ের আগে বলেছিলাম একদিন তোমাকে নিয়ে সমুদ্রের পাড়ে সংসার পাতবো?”

“আদ্রিয়ানা লজ্জায় আদনানের বুকে মুখ লুকালো। “আপনি এখনো সেই পাগলটাই রয়ে গেছেন।”

“আদনান হাসলো। আধীর আর অর্ণিকে ডাকলো”

“মাই ডিয়ার প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস পাপার কাছে আসো তো।”

“প্রিন্স এন্ড প্রিন্সেস কে কোলে নিয়ে সমুদ্রের ভেজা বালিতে বসলো আদনান। পাশে আদ্রিয়ানা ও বসলো। আদ্রিয়ানা দিকে এক পলক তাকিয়ে আদনান আঙুল দিয়ে বালিতে বড় একটা হার্ট আঁকলো , হার্টের মাঝখানে ধীরে ধীরে লিখলো:
“আদনানের সানফ্লাওয়ার আদ্রিয়ানা”

“লেখা শেষ করে আদ্রিয়ানার দিকে তাকালো আদনান ।
“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার তুমি আমার সানফ্লাওয়ার। তোমাকে দেখলেই আমার সারাদিন আলোকিত হয়ে যায়।”

“মিস্টার সাদা কালা পান্ডা সমুদ্রের টেউ এসে তো লিখা টা মুছে দিয়ে যাবে তাঁর চেয়ে বরং আপনি বিলবোর্ডে লিখে শহরের অলিতে গলিতে টাঙিয়ে দিন।”

–“গুড আইডিয়া। এটাই করবো।

“ওও আচ্ছা আচ্ছা তাই বুঝি?”

“আদ্রিয়ানা কথা টা বলে শেষ করতে না করতেই ঢেউ এসে আস্তে আস্তে লেখাটা মুছে দিতে লাগলো। আদ্রিয়ানার চোখ ছলছল করে উঠলো, তা দেখে আদ্রিয়ানার হাত ধরে আদনান বলে”..

“মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার ঢেউ এসে মুছে দিলেও আমার মনে এই নামটা কখনো মুছবে না।”

“তবু ও যে আপনাকে হারানোর ভয় হয় মিস্টার পান্ডা সাহেব। হঠাৎ যদি কোন ঝড় এসে সব কিছু এলোমেলো করে দেয়?”

“আদনান এক মুহূর্ত চুপ করে থাকলো। সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে শুধু আদ্রিয়ানার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে। তারপর আলতো করে আদ্রিয়ানার কপালে কপাল ঠেকালো।”

“ফিসফিস করে আদনান বললো”..
“শোনো সানফ্লাওয়ার,”ঝড় আসবেই জীবনে। দূঃখ কষ্ট সুখ মিলিয়েই তো জীবন,আমি তোমার পান্ডা সাহেব কখনোই কোন ঝড় কে তোমার আর বেবিদের কাছে ঘেঁষতে দিবো না।
আর পান্ডারা কিন্তু শক্ত করে গাছ আঁকড়ে ধরে থাকতে জানে।

“আদ্রিয়ানার চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো বালিতে। আদনান বুড়ো আঙুল দিয়ে সেটা মুছে দিলো।”

“তুমি আমার গাছ, আদ্রিয়ানা। আর আমি তোমাকে আঁকড়ে ধরে থাকবো। ঝড় যত বড়ই হোক, তোমার হাত ছাড়বে না। প্রমিস।”

“এই বলে আদনান তার কনিষ্ঠ আঙুল বাড়িয়ে দিলো। আদ্রিয়ানা কাঁপা হাতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুল জড়ালো আদনানের সাথে।”

“পিংকি প্রমিস, মাই ডিয়ার সানফ্লাওয়ার।

“পিংকি প্রমিস,”

“আদনান হাসলো। “আর পান্ডা সাহেবরা কিন্তু প্রমিস ভাঙে না।”

“আদ্রিয়ানা আদনানের কাঁধে রাখে। আদনানের বাহু জড়িয়ে ধরে। আদনান ও আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে।”

“অপরদিকে আদনানের দেখাদেখি আধীর আর অর্ণি ও বালিতে আঁকিবুঁকি করছে, কিছুক্ষণ পর আধীর এসে আদ্রিয়ানা কোলে বসে, আর অর্ণি আদনানের কোলে। সূর্যটা তখন সমুদ্রে ডুব দিচ্ছে। একটা পারফেক্ট ফ্রেম।”

🌿
“আদনানরা মালদ্বীপ যাওয়ার পর রায়হানও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করলো। অফিসের সব কাজ ফেলে রেখে আদ্রিজা আর এক বছরের ছেলে আরশকে নিয়ে কক্সবাজার চলে গেল রায়হান।”

“চার ঘণ্টার ড্রাইভ শেষে বিকেল ৪টায় কলাতলী বিচের একটা রিসোর্টে উঠলো ওরা। রুমের বারান্দা থেকেই সমুদ্র দেখা যায়।

“সন্ধ্যা ৬টা | বিচে আরশকে কোলে নিয়ে রায়হান আর আদ্রিজা বিচে নামলো। আরশ প্রথমবার সমুদ্র দেখে ভয় পেয়ে বাবার শার্ট খামচে ধরলো।”

“আদ্রিজা হাসলো। “দেখন বেয়াই আপনার ছেলে একদম আপনার মতো হয়েছে। নতুন কিছু দেখলেই ভয় পায়।”

“ছেলে আমার মতো হয় নিই হয়েছে তাঁর মায়ের মতো।”

“রায়হান আরশের কপালে চুমু খেলো। “আমার ছেলে আমার মতো সাহসী হবে। তাঁর মায়ের মতো ভিতু নয়।”

“এই কথা বলে রায়হান আদ্রিজার হাত ধরলো। তিনজন একসাথে বালিতে বসলো। আরশকে মাঝখানে বসিয়ে রায়হান আর আদ্রিজা দুপাশ থেকে জড়িয়ে ধরলো। দূরে সূর্য ডুবছে, আকাশ লাল।

আদ্রিজা ফিসফিস করে বললো, “থ্যাংক ইউ বেয়াই। আমার লাইফে আপনি আর আরশ আমার সব।”

“রায়হান আদ্রিজার কপালে আলতো চুমু খেলো। “আর তোমরা দুজন আমার বেঁচে থাকার কারণ।”

“আরশ ততক্ষণে বালি নিয়ে খেলতে শুরু করেছে। তার ছোট্ট হাতে বালি আর মুখে হাসি। রায়হান-আদ্রিজা দুজনেই তাকিয়ে থাকলো ছেলের দিকে। জীবনটা এই তো, আর কিছু লাগে না।”

🌿

“সামির-তূবা চট্টগ্রামে তাদের রাজকন্যা ইনায়াকে নিয়ে, আদনান-আদ্রিয়ানা মালদ্বীপে তাদের বেবি আধীর-অর্ণিকে নিয়ে, আর রায়হান-আদ্রিজা কক্সবাজারে তাদের আরশকে নিয়ে—তিনটা পরিবার, তিনটা ভালোবাসার গল্প।”

“দিনশেষে সবাই যার যার সংসারে সুখী। বাচ্চাদের হাসি, পার্টনারের ভালোবাসা আর সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই চলতে থাকলো তাদের জীবন।

“অবশেষে ‘দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ’ গল্পটার ইতি টানলাম।

“জানেন, এই গল্পের চরিত্রগুলো তো শুধু কালির আঁচড় না, তারা আমার মনের ভেতর বেঁচে থাকে। জাহির আদনানের ভালোবাসা, আদ্রিয়ানা আদ্রির ভরসা।

সামিরের শান্ত নীরব ভালোবাসা, ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে তূবার নতুন করে বাঁচতে শিখা। জাবির রায়হান চৌধুরী পাগলামি, আদ্রিজার নীরব ভালোবাসা, এদের ছেড়ে দিতে কষ্ট হয়।

“ভালোবাসা কখনো প্রেডিক্টেবল হয় না। কখনো দশ বছর অপেক্ষা করায়, কখনো সমুদ্রের বালিতে নাম লিখে হারিয়ে যায়, আবার কখনো ছোট্ট একটা বাচ্চার হাসিতে পুরো জীবনের মানে খুঁজে পায়। এই গল্পটা সেই আনপ্রেডিক্টেবল ভালোবাসারই গল্প।”

“যারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে ছিলেন, চরিত্রগুলোকে ভালোবেসেছেন—আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভালোবাসা না পেলে ইনায়া, আধীর, অর্ণি, আরশ ওরা কখনো প্রাণ পেত না।

গল্প শেষ, কিন্তু ভালোবাসা শেষ হয় না। হয়তো কোনো সমুদ্রের পাড়ে, কোনো কমিউনিটি সেন্টারের জন্মদিনে, কিংবা আপনার আমার ঘরের কোণেই ওরা বেঁচে থাকবে।

কেমন লাগলো গল্পটা অবশ্যই জানাবেন। আজকে তো গল্পটা শেষ, আজকে অন্তত দুইটা লাইন হলেও বলে যান। আপনাদের একটা মন্তব্যই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

সমাপ্ত

গল্পের জগতে আমি নতুন, নতুন লিখা শুরু করছি, লিখার হাত কাঁচা। তাই অনেক ভুল ক্রুটি থাকতে পারে এবং অগোছালো লাগতে পারে। ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply