দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
আশুওনিশুর_গল্পগাথা
পর্বসংখ্যা_২৭(১)
আজ হুট করেই নিশান, নোভা আর নাহিয়ান রাতের ফ্লাইটে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ যাত্রার পর এখন দেশের সকাল ১১টা। হঠাৎ আসার পেছনে অবশ্য কারণও আছে—আজ বিকেলেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, যেখানে তিন ভাইয়েরই উপস্থিত থাকা জরুরি।
নিহান যখন বিষয়টা নিশানকে জানায়, নিশান সিদ্ধান্ত নেয় আজকের জন্য সোজা তার ফ্ল্যাটেই উঠবে। ভ্রমণের ক্লান্তি তাদের চোখে-মুখে স্পষ্ট।
কয়েকজন গার্ড দ্রুত তাদের লাগেজ ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। এহসান বাড়িতে প্রবেশ করতেই নিহান সোফা থেকে উঠে মৃদু হাসল। নাহিয়ান এসে পাশে বসে কানে কানে ফিসফিস করে বলল—
“কি ভাইয়া? তোমার নামে এসব কি শুনছি? তুমি নাকি শুভ কাজ সেরে ফেলেছো?”
নিহান ভ্রু কুঁচকে তাকাল—
“তোরে কে বললো?”
“আরেহ, ভাবি কই সেটা বলো।”
“এত ভাবি ভাবি করিস না। আগে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে।”
হেসে নাহিয়ান উপরে উঠে গেল।নিহানের রুমের সামনে এসে থমকে দাঁড়াল সে। ভেতরে তাকিয়ে দেখে, তুবা খাটের এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। দরজায় হালকা টোকা দিয়ে বলল—
“আসব ভাবি?”
তুবা পিলে চমকে উঠল। চোখ তুলে নাহিয়ানকে দেখে আরও অবাক হয়ে গেল। ওরা আজ আসবে—এটা তার জানা ছিল না।
“কেমন আছেন ভাইয়া?”—শুকনো হেসে বলল তুবা।
“ভালো। তুমি কেমন আছো?”
“আমিও ভালো।”
“বিয়েতে দাওয়াত দিলে না যে?”
তুবা ভ্রু কুঁচকালো। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
“বিয়ে তো করিনি।”
নাহিয়ান হালকা হেসে বলল—
“আমার ভাইকে তো করেছো।”
তুবা অস্বস্তিতে হালকা হাসল। আর কথা না বাড়িয়ে নাহিয়ান সেখান থেকে সরে গেল।
নিশান আর নিহান বসে আছে নিশানের রুমে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং তাই আলোচনা চলছে সিরিয়াসভাবে। হঠাৎ কথার মাঝেই নিশান বলল,
“নাহিয়ান অনেক প্রেশারে আছে। কানাডায় থাকতেও ওর মন ভালো ছিল না। একটা নারী ওর জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে… আর এখন তুইও নিজের জীবন শেষ করার জন্য আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করেছিস।”
নিহান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। মুখটা গম্ভীর। তারপর ধীরে বলল—
“মেয়েটা বেইমান না।”
নিশান ঠান্ডা স্বরে বলল—
“সব নারীই বেইমান।
”
নিহান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
“বাদ দাও। আগে লাঞ্চ করে রেডি হতে হবে।”
বলেই উঠে চলে গেল।
কিন্তু তারা কেউই খেয়াল করলো না দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে একজন নারী কান পেতে সবকিছু শুনছিল।
নিজের বিশাল রুমে ঢুকে নিহান দেখল, তুবা আগের জায়গাতেই বসে আছে। গভীর চিন্তায় ডুবে আছে যেন। কাছে গিয়ে চোখের সামনে চুটকি বাজাতেই তুবা চমকে উঠল।
নিহান পাশে বসে মুচকি হেসে বলল—
“আসো, একটু কিছুমিছু করি।”
তুবা রেগে উঠল—
“সরুন। এসব কথা মাথায় আনার চিন্তাও করবেন না।”
নিহান দুষ্টু হেসে বলল—
“কালকে তো—”
এর আগেই তুবা হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরল। নিহান ঠোঁট টিপে হাসল।ঠিক তখনই দরজায় নোভার আগমন।
তুবা তাড়াহুড়ো করে উঠে দাঁড়াল। নোভা অন্যদিকে তাকিয়ে বলল—
“আমি কিছু দেখিনি।”
তুবা লজ্জায় জড়িয়ে গেল—
“নোভা আপু… আমরা তো এমনি বসেছিলাম…”
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত বলল—
“আপু, কেমন আছো? ঘুরে কেমন কাটল?”
নোভা হালকা হেসে বলল—
“ভালোই। কোনোমতে কেটে গেছে দিনগুলো।”
“কিছু খেয়েছো?”
“না। সবাই মিলে লাঞ্চ করার জন্য ডাকতে এসেছি। চল, নিচে যাই।”
তুবা নোভার সাথে নিচে চলে গেল।তাকে যেতে দেখে নিহান বিরক্ত হয়ে বলল,
“শালা, বউটার কাছেও ঠিকমতো বসতে পারি না!”
এই মুহূর্তে নিজের চেয়ে বেশি অসহায় আর কাউকে মনে হলো না তার।
নিচে ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসেছে।পরিবেশটা স্বাভাবিক। তুবা চুপচাপ বসে আছে।হঠাৎ সিঁড়ির দিকে তাকাতেই নিহানকে দেখতে পেল,না চাইতেও চোখ চলে গেলো সেদিকটাই।নিহান সিঁড়ি থেকে নেমে বসা পর্যন্ত তুবা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো।নোভা বিষয়টা খেয়াল করে মুচকি হাসল।হঠাৎ সবার চোখ গেল দরজার দিকে।একটা মেয়ে,হাতে লাগেজ।মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী।ফর্সা গায়ের রং,চুলগুলো কাধ পর্যন্ত,চোখগুলো টানা টানা,আর গোলাপী ঠোঁটজোড়া।পড়নে ওয়েস্টার্ন ড্রেস।ডাইনিং টেবিলে বসা সকলে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।হঠাৎ নিহান উঠে দাড়ালো।মেয়েটা দৌড়ে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল নিহানকে।পুরো ঘর স্তব্ধ।তুবা না চাইতেও তাকিয়ে আছে সেদিকটাই।মেয়েটা ঝাপটে জড়িয়ে ধরে আছে নিহানকে।তুবার হাতে থাকা গ্লাসটা কাঁপছে।নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আর নিশানের চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।মেয়েটা নরম স্বরে বলে,
“আই মিসড ইউ…।”
নিহান আস্তে আস্তে নিজেকে আলাদা করল আরু থেকে।পুরো নাম আরিবা চৌধুরী আরু।নিহানের বেস্টফ্রেন্ড ছিলো কানাডায় থাকতে।আরু এবার ডাইনিং টেবিলে থাকা সবার দিকে তাকালো।এখানে দুইজন কে চিনলেও নোভা আর তুবার মধ্যে কাওকেই চিনে না সে।আরু প্রশ্ন ছুড়ল,
“ওরা কে?”
নিহান চুপ।যেনো এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই তার!আরু এবার নিহানের হাত ধরে বলে,
“আমি নিজের বাসায় ও যাইনি তোর বাসায় চলে এসেছি।তোকে অনেকদিন দেখিনা।চল কোথাও ঘুরতে যাই।”
“না আজকে সম্ভব না।আমার অফিসে ইমপোর্টেন্ট মিটিং আছে।”
“কালকে যাবো কিন্তু।আচ্ছা বললি না তো ওরা কারা?”
“বাদ দে এসব।লাঞ্চ কর।”
হঠাৎ এসবের মাঝেই তুবার হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে ভেঙে যায়।এরপর একটুও অপেক্ষা করলো না তুবা দৌড়ে চলে গেলো তুবা।নিহান তাকালো সেদিকটাই।
চলবে?
(জানিনা কেমন হয়েছে।বুকটা ভারী হয়ে আছে কষ্টে।🫠কান্না পাচ্ছে খালি।🙂
অনেক ছোট্ট জানি তাও কষ্ট করে আজকে পড়ে নেন।)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪